কুরআন থেকে
অস্বীকারকারীরা বলে, "এ ব্যক্তির কাছে সমগ্র কুরআন একই সাথে নাযিল করা হলো না কেন?” হ্যাঁ, এমন করা হয়েছে এজন্য,...

হাদিস থেকে
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।
নির্বাচিত বইসমূহ
ইসলামে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও ক্ষমতায়ন
লিখেছেন শাহ আব্দুল হান্নান   
সমাজে নারীর অবস্থান এবং অধিকার নিয়ে আমরা নানা কথা শুনে থাকি৷ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা বিষয়ে বর্তমানে যে কথাগুলো বলা হয় , তার মধ্যে অনেকগুলোই গ্রহণযোগ্য৷ আবার কিছু কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করার অবকাশ আছে৷ নারী-পুরুষ সকলেরই অধিকার প্রতিষ্ঠা হওয়া অনস্বীকার্য৷ কারণ সমাজ দিনে দিনে সামনে এগুচ্ছে৷ তাই শুধু নারী বা পুরুষের নয়, বরং সকল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে৷

গত পঞ্চাশ বছরে সমাজ অনেকটা এগিয়েছে৷ এ সময়ে পুরুষের সাথে নারীরাও সমান-সমান না হলেও, এগিয়ে এসেছে৷ বেগম রোকেয়ার সময়ে যে সমাজ ছিল , সে সমাজকে আমরা অনেক পেছনে ফেলে এসেছি৷ তিনি দেখেছিলেন যে, সে সময়ে মেয়েরা লেখাপড়ার কোন সুযোগই পেতনা৷ সে সময়ে বেগম রোকেয়া জন্ম না নিলে এবং নারী শিক্ষার ব্যাপারে সাহসী উদ্যোগ না নিলে আজ আপনারা, নারীরা কেউই কিন্তু পড়ালেখা শিখতে পারতেন না৷ অবশ্য আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই তখন অন্য কোন নারীকে পৃথিবীতে পাঠাতেন যিনি এই কাজটি করতেন৷ যা হোক, আমি সেদিকে গেলাম না৷ কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমার আলোচনা শেষ করতে চাই৷

বিস্তারিত ...
 
ইসলামের নৈতিক দৃষ্টিকোণ
লিখেছেন সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী   

[১৯৪৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ার ইসলামিয়া কলেজে মাওলানা এ প্রবন্ধটি পাঠ করেন।]

স্বাভাবিক অবস্থায় জীবন-নদী যখন ধীর-স্থীর-মন্থর গতিতে প্রবাহিত হয়, তখন মানুষ এক ধরণের নিশ্চিন্ততা অনুভব করে। কেননা উপরিভাগটা হয়ে যায় স্বচ্ছ আবরণের মতো। ময়লা, আবর্জনা ও দূষিত পদার্থ এর নীচে স্তরে স্তরে জমা হয়ে আত্মগোপন করে থাকে। আবরণের উপরের স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতায় মানুষ ভেতরের দিকে দৃষ্টি দেবার এবং আবরণের নীচের স্তরগুলোর মধ্যে আত্মগোপনকারী বস্তুকে গভীর অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে নিরীক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা খুব কমই অনুভব করে। কিন্তু যখন এই নদীতে তুফান আসে এবং নিচের আত্মগোপনকারী সমস্ত আবর্জনা ও দূষিত পদার্থ আচানক ভেসে উঠে নদীর উপরিভাগে প্রবাহিত হতে থকে, তখন একমাত্র অন্ধ ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তিই যার চোখে ক্ষীণতম দৃষ্টিশক্তিও আছে নির্বিঘ্নে স্পষ্ট এবং পরিষ্কার দেখতে পায় যে, জীবন নদী কতো সব আবর্জনা বুকে নিয়ে সামনের দিকে ছুটে চলছে। অনুরূপ পরিস্থিতিতেই সাধারণ লোক জীবন নদীতে প্রবাহিত এই আবর্জনার উৎস অনুসন্ধানের প্রয়োজন অনুভব করতে পারে। একে আবর্জনামুক্ত করার এবং বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার রাখার উপায় উদ্‌ভাবনের চিন্তা করার সুযোগও তারা পায়। সত্যি বলতে কি, এমন উল্লেখ্য মুহূর্তেও যদি মানুষের মনে এ প্রয়োজনের অনুভূতি জাগ্রত না হয়, তাহলে বুঝতে হবে যে, মানব জাতি গাফলতির নেশায় বিভোর হয়ে লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে। আজ আমরা ঠিক এ ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। জীবন-নদীতে বান ডেকেছে। বিভিন্ন দেশ ও জাতির মধ্যে ভীষণ দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হয়েছে। এ সংঘর্ষ এতো গভীরে অনুপ্রবেশ করেছে যে, বড় বড় সমাজ-সমষ্টির সীমা পেরিয়ে ব্যক্তিকেও এর মধ্যে টেনে এনেছে। এভাবে মানবজগতের বিভিন্ন অংশ তাদের সমস্ত নৈতিক গুণাবলী যেগুলোকে তারা দীর্ঘকাল থেকে ভেতরে ভেতরে জিইয়ে রেখেছিল যেগুলোকে উদগীরণ করে জনসমক্ষে রেখে দিয়েছে।

বিস্তারিত ...