আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইসলামের দন্ডবিধি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. আব্দুলহামিদ আহমদ আবুসোলাইমান   
Thursday, 19 June 2008
আর্টিকেল সূচি
ইসলামের দন্ডবিধি
ইসলামের স্হায়ী ও পরিবর্তনশীল বিধানের সমকালীন সংস্কার : ইসলামের দন্ডবিধি-একটি নমুনা
পদ্ধতিগত সমস্যা
ইসলামী দন্ডবিধির ক্ষেত্রে ছাত্রাবাস কক্ষে ছাত্র সংখ্যা নির্ধারণের সমস্যার সমাধানে আধুনিক দৃস্টিভঙ্গি
চারজন সাক্ষীর সামাজিক প্রমাণ
ইসলামিক দন্ডবিধির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাকরণ
শাস্তি প্রয়োগের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অপরাধ দমন, প্রতিশোধ গ্রহণ নয়
কারিকুলামগত আলোচনা

ইসলামী দন্ডবিধির ক্ষেত্রে ছাত্রাবাস কক্ষে ছাত্র সংখ্যা নির্ধারণের সমস্যার সমাধানে আধুনিক দৃস্টিভঙ্গি

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে গুমবাক উপকন্ঠে বিশ্ববিদ্যালয় শহরে অবস্হিত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উন্নয়ন এবং নুতন ক্যাম্পাস তৈরির পরিকল্পনা প্রণয়নের একমাএ কারণ ছিল সাধারণ ছাত্রাবাস ও বিশেষ ভাবে মুসলিম ছাত্রাবাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যাবদানে ছাত্রদের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ, স্বভাব-চরিএর সংশোধন, সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিস্ঠার মাধ্যমে সহজভাবে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকরা।

আর এরই বাস্তবায়ন ও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গিয়ে দেখা যায় যে, ইসলামী শরীয়তের নির্দেশনার প্রতি এবং বিশেষ করে ইসলামী দন্ডবিধি যেমন-ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর অকাট্য সাক্ষের শর্তারোপ এবং চারজনের কম হলে বা অকাট্যভাবে সাক্ষ্য না দিলে সাক্ষীদের উপর শাস্তি প্রয়োগ এবং চুরি, ডাকাতি, হত্যা, রক্তাপাত ইত্যাদি অপরাধ প্রমাণের জন্য মাএ দু’জন সাক্ষীর সাক্ষী গ্রহণ এবং ধর্ষণ, ব্যভিচারের শাস্তি ও সাক্ষী এবং চুরি ডাকাতি, হত্যা ও রক্তপাতের শাস্তি ও সাক্ষীর মধ্যে পার্থক্যকরণ ইত্যাদি বিষয়ে আধুনিক দৃস্টি ও সঠিক রহস্য উদ্‌ঘাটন ছাড়া ছাএদের ব্যক্তিগত, সমস্টিগত ও স্বভাবগত সমস্যার সমাধান সস্ভব নয়। তেমনিভাবে মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান সহ আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান অধ্যয়নের ফলে যে নতুন জ্ঞান ও নতুন দিক উম্মোচনের মাধ্যমে যে সকল আধুনিক প্রশ্ন ও সমস্যার সৃস্টি হয় তার সঠিক সমাধান ইসলামী শরীয়তের ঊদ্বৃতি সমূহের শাব্দিক ও বাহ্যিক অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে দেয়া সম্ভব নয়। কারণ ইসলামী শরীয়ত শুধুমাএ অর্থ গ্রহণ করে শুধু শুধু আতঙ্ক সৃস্টি ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের জন্য আসেনি। বরং ইসলামী শরীয়ত এসেছে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিস্ঠার জন্য। আর তা তখনই সম্ভব হবে যখন ইসলামী শরীয়তের নির্দেশাবলীর ভাব অর্থ, মহাত্ম রহস্য ও হেকমত ইত্যাদি উদ্‌ঘাটন করা যাবে। আর রহস্য ও হেকমত তখনই উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে যখন ইসলামী শরীয়তের দিক নির্দেশগুলো মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, প্রকৃতিবিজ্ঞান ও আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সমন্বয়ে সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত ভাবে গবেষণা করা যাবে। আর তখনই সকল প্রশ্ন ও সমস্যার সমাধান দেয়া যাবে। আর এটিই হচ্ছে ইল্‌মে ওহী, জ্ঞান ও প্রকৃতির পরিপূর্ণতা ও সমন্বয় সাধন এবং এটিই হচ্ছে জ্ঞানের ইসলামীকরণ।

আর ছাত্রাবাসের সমস্যাবলীর মধ্যে সর্ব প্রথম যে সমস্যাটির সম্মুখীন হতে হয় তা হচ্ছে ছাএদের আবাসন সমস্যা অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের এক একটি কক্ষে সর্বোচ্চ কতজনের আবাসন ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেখানে মালয়েশিয়ার মত দেশে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন বয়সের একাধিক ছাএদের আবাসন ব্যবস্থা একটি কক্ষে করা হয়। যা অনেক সময় মতনৈক্য ও বিবাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং এ সমস্যা নিরসণের জন্য ছাএদের স্বভাবগত, ব্যক্তিগত, সমস্টিগত ও সমাজগত দিকগুলো বিবেচনা করে একটি কক্ষে সর্বোচ্চ কতজন ছাত্রের আবাসনের ব্যবস্থা করা যায় তার পরিপূর্ন সমাধানের পথ খুঁজে বের করা উচিৎ।

সুতরাং আমি যখন ছাত্রদের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে এর সঠিক সমাধানের পথ খুঁজতে লাগলাম তখন আমার কাছে প্রথমে মনে হলো যে, ছাত্রাবাসের এক একটি কক্ষে একজন ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা করাই ভাল ও উপযোগী হবে। কিন্তু পরবর্তীতে যখন আমি অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করলাম তখন আমি দেখলাম যে, সেখানে মালয়েশিয়ার মতো দেশে সীমিত পরিমাণ অর্থ দিয়ে অধিক সংখ্যক ছাএদের শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হচ্ছে এবং একটি কক্ষে একাধিক ছাত্রের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। সেখানে একটি কক্ষে একজন ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা করা অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সম্ভব নয়। তেমনিভাবে যখন আমি ছাএদের স্বভাবগত, ব্যক্তিগত ও সমাজগত দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করলাম তখনও আমার কাছে মনে হলো যে, একটি কক্ষে একজন ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা করা উচিৎ হবে না।

কারণ সাধারণত ইন্টারমিডিয়েট ও অনার্স লেবেলের ছাএদেরকে অল্প বয়সে জীবনের সর্বপ্রথমেই বাবা-মা, ভাই-বোন আত্মীয় স্বজনের ভালবাস, স্নেহ-মমতা থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ নতুন স্হান ও নতুন পরিবেশে আসতে হয় যার সম্পর্কে তাদের পূর্বের কোন ধারণা ও অভিজ্ঞতা ছিল না। এমতাবস্হায় যদি তাদেরকে একটি কক্ষে সম্পূর্ণ একা একা থাকতে দেয়া হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তাদেরকে দৈনন্দিন কাজ, আহার বিহার ও বাসস্হান ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এবং নিজেকে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবে না।

অতএব, এ সকল যৌক্তিকতার আলোকে একটি কক্ষে একজন ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা করা যাবে না। বরং যৌথভাবে একাধিক ছাত্রের আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে একে অন্যের সহযোগিতায় নতুন ছাএরা পারিবারিক আদর যন্ত, স্নেহ-মমতা ভুলে গিয়ে নিজেকে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে এবং নিজের কাজ নিজেই করতে পাবে।

অতএব উপর্যুক্ত দিক বিবেচনায় একটি কক্ষে একাদিক ছাএদের আবাসন ব্যবস্থা করতে হয়। কিন্তু এক কক্ষে কতজনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে, তখন দু’জনের ব্যাপারে চিন্তা করলাম। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো যে দুױজনের ব্যবস্থাও করা যাবে না। কারণ এত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও চারিএক দিক বিবেচনায় এজন্য সম্ভব নয় যে, সীমিত অর্থ দিয়ে অধিক সংখ্যক ছাএর শিক্ষার ব্যবস্হা করতে হয়। তেমনি ভাবে চারিএক দিক বিবেচনায় দুױজন ছাএ একসাথে থাকবে তখন তাদের মধ্যে চারিএক অবনতি হতেই পারে। তেমনিভাবে ব্যক্তিগত ও স্বভাবগত কারনে এ জন্য সম্ভব নয় যে, তাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি, কথাকাটাকাটি ও মনোমালিন্যতা হতেই পারে। তখন তৃতীয় আরেকজন ছাড়া তাদের মধ্যে সমঝোতা ও বিভেদ মিমাংসা সম্ভব নয়।

অতএব উপর্যুক্ত কারণ বিবেচনায় একটি কক্ষে দু’জনের আবাসন ব্যবস্থা করা যাবে না। তারপর আমি তিনজনের কথা চিন্তা করলাম। তখনও আমার কাছে মনে হলো যে, তাও করা যাবে না। কারণ এতেও এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যার সমাধান সম্ভব নয়। যেমন, মানুষের স্বভাবই হচ্ছে পক্ষপাতিত্ব অবলম্বন করা এবং কোন এক পক্ষে ঝুকে পড়া। আর যখন কোন একটি কক্ষে তিন ছাএর আবাস হবে, তখন একে অপরের সাথে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে ফিস ফিস, কানাকানী, সংগোপনে আলাপ ও কথাবার্তা বলতেই পারে। তখন তৃতীয় জনের মনে দুর্বলতা, সংশয় সন্দেহ আসাটাই স্বাভাবিক। এজন্যই রাসূল (সাঃ) তৃতীয় জনের অনুপস্হিতিতে দুױজনে ফিসফিস ও সংগোপনের আলাপ করা থেকে নিষেধ করেছেন। এতে তাদের মধ্যে সংশয় সন্দেহ ইত্যাদির জন্ম নিয়ে এক সময় বড় আকারের বিভেদ বেধে যাওয়ার সস্ভাবনা থাকে। অতএব উপর্যুক্ত বিবেচনায় একটি কক্ষে তিনজনের আবাসন ব্যবস্থা করা সস্ভব নয়। সুতরাং আমাকে চারজনের আবাসনের ব্যাপারে চিন্তা ও বিবেচনা করতে হলো। অবশেষে আমার কাছে মনে হলো একটি কক্ষে চাজনের আবাসন ব্যবস্থা করাটাই অধক যুক্তিযুক্ত। কারণ চার সংখ্যাটি এমন একটি সংখ্যা যার মাধ্যমে স্বভাবত, ব্যক্তিগত ও সমস্টিগত ভাবে পরস্পর পরস্পরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। এবং তাদের মাঝে মানবিক ও সামাজিক ভারসাম্যতা বজায় থাকে। তেমনিভাবে চারজনের মাধ্যমে এমন একটি দল বা জামাত গঠিত হয় যা উপরে বর্ণিত অর্থাৎ একজন, দু’জন ও তিনজনের আবাসনে যে সকল নেতিবাচক প্রভাব রয়েচে তা থেকে মুক্ত থাকে। এমনকি চারজনের আবাসনের অনেকটা ইতিবাচক প্রভাব ও কল্যাণ রয়েছে। যেমনঃ আমরা দেখতে পাই যে, যখন কোন বিষয়ে চারজনে দুױজন অথবা তিনজন এক অপরকে সমর্থন করে বা ঐক্যমত পোষণ করে তখন অনায়াসে অপরজন তাদের কে সমর্থন করবে। এবং তাদের মধ্যে মানবিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পর্কের উন্নতি হবে এবং একে অন্যের সহযোগী হিসেবে কাজ করবে।

তেমনি ভাবে তাদের দুױজনের মাঝে কোন ধরণের মনোমালিন্য বা বিবাদ সৃস্টি হলে অপর দুজন তাদের মধ্যে মিমাংসা করার চেস্টা করবে এবং তাদের মাঝে শান্তি ও শালীনতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে। অতএব এ সকল ইতিবাচক প্রভাবের কারণে একটি কক্ষে চারজনের আবাসন ব্যবস্থা করাটাই অধিক যুক্তিযুক্ত।

আর ছাত্রাবাসের এই সমস্যা সমাধানের চেস্টার মধ্য দিয়ে আমার আরেকটি বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা অর্জন হলো যে, চারজনের মাধ্যমে গঠিত দল বা জামাতের মানবিক এবং সামাজিক বিশেষ দিক নির্দেশ রয়েছে। আর তারই মধ্যে দিয়ে আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আকস্মিকভাবে দিবালোকের নায় আরেকটি বিষয় পরিস্কার হয়ে যায় যে, ধর্ষণ ও ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর অকাট্য সাক্ষের শর্তারোপ নিছক কোন খামখেয়ালির বিষয় নয়। আর তা হতেও পারে না। বরং স্বাভাবিক, মানবিক ও সামাজিক দিক থেকে তার বিশেষ দিক নির্দেশনা ও বিশেষ গুরুত্ত্ব রয়েছে।

তেমনিভাবে ধর্ষণের ব্যাপারে চারজন সাক্ষির শর্তারোপের উপর যে সকল প্রশ্ন ও সংশয়ের উদ্ভব হয়েছিল তার সঠিক সমাধান হয়ে গেছে। এমনিভাবে চারজন সাক্ষীর হয়ে তার চেয়ে কম সংখ্যা সাক্ষীর মাধ্যমে এমন কি তিনজন হলেও এবং তারা অকাট্য সাক্ষ্য দিলেও ধর্ষণকারী বা ব্যভিচারীর উপর শাস্তি প্রয়োগ করা যাবে না বরং তার বিপরীতে যাদের উপর ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী শাস্তি প্রয়োগ করার কারণও আমার কাছে পরিস্কার।

আর তা হচ্ছে সমাজে আশ্লীলতা, বেহায়পনার প্রচার-প্রসার এবং ফেৎনা ফাসাদ রোধ করা। মানুষের সস্মান, মর্যাদা আক্ষুন্ন রেখে সামাজিক অধিকার প্রতিজ্ঞা করা এবং যথাসাধ্য আশ্লীলতার ও বেহায়াপনার গোপনীয়তা রক্ষা করা। কারণ ইসলামী শরীয়ত মানুষের স্বভাগত ও মানবিক দুর্বলতা এবং জৈবিক তাড়ণার বশবর্তী হয়ে যে সকল অপরাধ করে তার শাস্তি শুধুমাএ তাদের এ গর্হিত কাজের জন্য নির্ধারণ করেনি বরং এ শাস্তি নির্ধারণ করেছে তাদের গোপনীয়তা ফাস বেহায়াপনা প্রচার ও প্রসারের কারণে।

অতএব, তাদের গোপনীয়তা ফাঁস না করে তাদের মানবিক দুর্বলতা ও স্বভাবকে নিয়ন্ত্রনের পথ খুঁজে দেয়া উচিৎ। আর মানুষের স্বভাব, মানবিক দুর্বলতা ও জৈবিক কামনা বাসনা নিয়ন্ত্রণের উপায় হচ্ছে তা’লীম তারবিয়াত ও আত্নশুদ্ধির মাধ্যমে নেতিবাচক মানবিক স্বভাব সমূহকে নিয়ন্ত্রণ করা।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )