আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইসলামের দন্ডবিধি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. আব্দুলহামিদ আহমদ আবুসোলাইমান   
Thursday, 19 June 2008
আর্টিকেল সূচি
ইসলামের দন্ডবিধি
ইসলামের স্হায়ী ও পরিবর্তনশীল বিধানের সমকালীন সংস্কার : ইসলামের দন্ডবিধি-একটি নমুনা
পদ্ধতিগত সমস্যা
ইসলামী দন্ডবিধির ক্ষেত্রে ছাত্রাবাস কক্ষে ছাত্র সংখ্যা নির্ধারণের সমস্যার সমাধানে আধুনিক দৃস্টিভঙ্গি
চারজন সাক্ষীর সামাজিক প্রমাণ
ইসলামিক দন্ডবিধির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠাকরণ
শাস্তি প্রয়োগের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অপরাধ দমন, প্রতিশোধ গ্রহণ নয়
কারিকুলামগত আলোচনা

চারজন সাক্ষীর সামাজিক প্রমাণ

বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শহরে ছাত্রাবাসে অবস্হানকালে আমি যখন পর্যায়ক্রমে ছাত্রাবাসের মানবিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করছিলাম, তখন আমার কাছে এ সকল ফলাফল বেরিয়ে আসলো যে, চারজন সাক্ষী নির্ধারণের ক্ষেত্রে চার সংখ্যাটির মানবিক এবং সামাজিক বিশেষ গুরুত্ব ও দিকনির্দেশনা রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে যে, এ চারজনের মধ্যে মানবিক প্রয়োগ পূরণ এবং সামাজিক/সামস্টিক ভারসাম্যতার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণভাবে একে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। অর্থাৎ চার সংখ্যাটি হচ্ছে সর্বনিম্ন সংখ্যা যার মাধ্যমে সামাজিক ইতিবাচক ভারসাম্য রক্ষা করে পূর্ন একটি জামাত বা দল গঠন করা যায়।

এ জন্যই ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণ ও সাব্যস্তের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষীর অকাট্য সাক্ষ্যের শর্তারোপ করা হয়েছে। আর চারজন একসাথে অকাট্য সাক্ষ্য দেওয়ার মানেই হচ্ছে এ চারজনের সামনে প্রকাশ্যে এ কাজটি ঘটেছে। আর চারজনের কাজ জওয়ার মানেই হচ্ছে পুরো একটি জামাতের সামনে কাশ্যে কাজটি ঘটেছে। এ জন্যই ইসলামী শরীয়ত সর্বনিম্ন জামাত নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিন অথবা পাঁচ নির্ধারণ না করে চার সংখ্যাটি নির্ধারণ করেছে।

অতএব, এ চারজন সাক্ষীর সংখ্যা নির্ধারণের রহস্য ও দিক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে বুঝতে পাললাম যে, চার সংখ্যাটি নিছক খামখেয়ালী বা ঊদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়নি বরং তার বিশেষ ধরনের গুরুত্ব রয়েছে। আর তা হচ্ছে সমাজকে এ কথা বুঝানো যে, ত্র ধরনের সমাজে প্রকাশ্যভাবে হয়েছে।

আর এ ধরনের অশ্লীল কাজগুলো যখন সমাজে প্রকাশ্যভাবে ঘটতে থাকবে, তখন সমাজে ফিতনা ফাসাদ সৃস্টি হবে। মানুষের স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকার নস্ট হবে। নতুন প্রজন্মের আখলাক চরিত্র ধ্বংস করে বিপদের দিকে ঠেলে দেবে। এ জন্য মহান আল্লাহ কুরআনে এরশাদ করেন, ׂআল্লাহ কোন মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না।׃ (সুরা আল্‌ নীসা:১৪৮) এবং রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ׂযখন তোমরা কোন পাপ কাজ করে ফেল তখন তা গোপন রাখ׃

আর যদি সাক্ষীর সংখ্যা চারজনের কম হয় এমনকি তিনজনও হয় আর তারা অকাট্যভাবে সাক্ষী দেয় অথবা চারই হয়। কিন্তু অকাট্যভাবে সাবক্ষী না দেয় তাহলে তাদেরকে ইসলামী শরীয়তে শাস্তি দেয়ার বিধান রেখেছে। আর তাদের এ শাস্তির বিধান শুধুমাত্র তাদের এ অপরাধের জন্য নয় বরং তাদের শাস্তির বিধান এ জন্যই করা হয়েছে যে, তা একজন মানুষের মানবিক দুর্বলতার কারণে আবেগের বশবর্তী হয়ে অত্যন্ত গোপনে কৃত অপরাধকে তারা গোপন রাখার বদলে এবং তাকে নসিহত ও তাওবার প্রতি আহবান ও সঠিক পথে ফিরে আসার উপদেশ দেওয়ার পরিবর্তে তাকে লজ্জিত, অপমাণিত এবং সামাজিক ও মানসিকভাবে তার মর্যাদা ক্ষুন্ন করার জন্যই তারা এ কাজটি করেছে এবং এরই মধ্যে দিয়ে তারা সমাজে ফেৎনা ফাসাদ সৃস্টি করেছে এবং অশ্লীলতার ও বেহায়পনার প্রসার ঘটিয়েছে। এজন্যই ইসলামী শরীয়ত তাদের শাস্তির বিধান রেখেছে। যাতে সমাজে ফিৎনার সৃস্টি না হয়।

সুতরাং আমাদের উচিৎ যে, আমরা যে, আমরা যে ইসলামী শরীয়তের চারজন সাক্ষীর অকাট্য সাক্ষ্যর শর্তারোপের প্রতি সজাগ দৃস্টি রাখব যে ইসলামী শরীয়ত শুধু মাত্র তাদের অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি সাব্যস্তের জন্য এ শর্তারোপ করেনি বরং সামনে অশ্লীলতা ও বেহায়পনার প্রসার রোধ এবং ফিৎনা ফাসাদ সৃস্টি বন্ধ করার জন্য করেছে। কারণ ইসলামী শরীয়ত যদি শুধুমাত্র অপারাধ প্রমাণ ও শাস্তির সাব্যস্তের কারণে করত তাহলে চুরি, ডাকাতি, হত্যা ইত্যাদির অপরাধসমূহের ন্যায় শুধুমাত্র দু’জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে ‘রজস” অথবা ‘বেত্রাঘাতের” হুকুম দিয়ে দিত। কিন্তু ইসলামী শরীয়ত তা করেনি বরং অকাট্যভাবে চারজনের সাক্ষীর শর্ত দিয়েছে যাতে মুসলামান সমাজে অশ্লীলতা বেহায়াপনার প্রসার ও ফিৎনা ফাসাদের সৃস্টি না হয়। এ জন্যই মহান আল্লাহ কুরআনে এরশাদ করেন, ׂযারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে׃ (সূরা আল নূর:১৯)।

আল্লাহ আরো এরশাদ করেন, ׂযারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃপর তাদের স্বপক্ষে চারজন সাক্ষী উপস্হিত করে না তাদের কে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না। এরাই নাফারমান। কিন্তু অত:পর যারা তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম মেহেরবান׃ (সূরা আন নূর:৪-৫)।

আল্লাহ আরো এরশাদ করেন,যারা কখনও কোন অশ্লীল করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃত কর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনেশুনে তাই করে না। তাদের জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবন যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান׃ সূরা আল-ইমরান:১৩৫-১৩৬)।

প্রশ্ন: আমরা এ ধরনের গর্হিত কাজ সম্পর্কে কি বলব? কিভাবে আমরা তার প্রতিরোধ করব? এবং কিভাবে সমাজ তার প্রতিরোধ করবে?

যাতে করে আমরা ইসলামী শরীয়তের বিধান সমূহের মূল লক্ষ্য ঊদ্দেশ্য সমূহ ভালভাবে বুঝতে পারি। কেননা আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, এ ধরণের নিকৃস্ট অণ্যায় ও গর্হিত কাজগুলো মানুষের স্বভাবগত ভাবে মানসিক দুর্বলতা ও জৈবিক তাড়নার সাথে সম্পর্কিত। আর ঐ সকল কাজ মানুষ চারিত্রিক, সামাজিভাবে তালিম তারবিয়াত না থাকার কারণে এবং কিভাবে নিজের সতীত্ব রক্ষা করবে এবং এ ধরণের পাপ কাজ থেকে বিরত রাখার একমাত্র উপায় হচ্ছে তাদেরকে এবং বিশেষ করে যুবসমাজকে আখলাক-চরিত্র শিক্ষা দিয়ে তাদের মধ্যে মানুবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মধ্য দিয়ে তাদেরকে লালন পালন ও প্রতিস্ঠা করা।

আর এ বিষয়টি আমরা রাসূল (সা:) এর ঊত্তম আদর্শ ও শিক্ষা থেকে গ্রহণ করতে পারি যে, রাসূল (সা:) কিভাবে একজন টগবগে যুবককে হেকমত অবলম্বন করে উপদেশ ও স্বচরিত্র শিক্ষাদানের মাধ্যমে এ ধরণের অপমানজনক গর্হিত কাজ থেকে বিরত রেখেছেন।

একদিন রাসূল (সা:) এর খেদমতে একজন টগবগে যুবক উপস্হিত হয়ে যেনা করার অনুমতি চাইল। রাসূল (সা:) তখন তাকে কোন ধরণের ধমক বা কঠোরতা অবলম্বন না করে তার এ যৌন শক্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে এ ধরণের গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য হেকমতের পথ অবলম্বন করলেন। তিনি তাকে তাড়িয়ে না দিয়ে ভালবাসা ও দয়ার নজরে তাকে কছে টেনে নিলেন এবং প্রথমেই তাকে এ ধরণের কাজের শাস্তির কথা না জানিয়ে একজন মানুষের মর্যাদা ও একজন যুবকের করণীয় সম্পর্কে উপদেশবাণী তুলে ধরলেন। আর বললেন, দুনিয়ার নারী সমাজ হয়তোবা কারো মা হবে, না হয় কারো বোন হবে, না হয় কারো ফুফু বা খালা অথবা ফুফু? অতএব কিভাবে সে অন্যের ইজ্জতকে কলুষিত করতে পছন্দ করবে। আর তোমার জন্য যা পছন্দ করা না তা অন্যের জন্য কিভাবে পছন্দ করতে পাবে। তখন যুবকটির অন্তরে মানবিক মূল্যবোধ ও সচ্চরিত্রের অনুভুতি জাগ্রত হয় এবং একজন মানুষের মর্যাদা ও একজন যুবকের করণীয় বিষয়ে অবগত হয়। আর এ ধরণের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকে। অতএব একজন প্রকৃত মানুষ সে নিজের জন্য যা পছন্দ করে না তা অন্যের জন্য কখনও পছন্দ করতে পারে না। রাসূল (সা:) শুধুমাত্র একজন যুবককেই এ ধরণের নিকৃস্ট কাজ থেকে বিরত রেখেই শেষ করেননি বা থেমে জাননি বরং গোটা জাতিকে তাদের যৈবিক কামনা বাসনা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে তাদের সতীত্ব রক্ষা এবং অশ্লীলতা থেকে বাঁচার সহজ উপায় বের করে দিয়েছেন। তিনি মুসলিম জাতিকে নিজেদেরকে পূত পবিত্র রাখার জন্য বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। রাসূল (সা:) এরশাদ করেন, ׂহে যুবসমাজ তোমাদের মধ্যে যারা সার্বিক ভাবে বিবাহের সামর্থ রাখ তারা যেন বিয়ে কর। আর যারা বিয়ে করার সামর্থ রাখ না তারা যেন রোজা রাখ। কেননা রোজা যৌনশক্তি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে׃ (আল হাদিস)।

আললাহ কুরআনে এরশাদ করেন, ׂআর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ׃ (সূরা বনি ইসরাঈল: ৩২)। আল্লাহ আরো এরশাদ করেন, ׂহে ঈমানদারগণ তোমরা শয়াতনের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখনতো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে׃ (সূরা আন নূর: ২১)।

আল্লাহ আরো এরশাদ করেন, (হে রাসূল) ׂমুমিনদেরকে বলে দিন তারা যেন তাদের দৃস্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা সম্পর্কে অবহিত আছেন׃ (সূরা আন নূর: ৩০)। আল্লাহ আরো এরশাদ করেন, ׂ (হে রাসূল) আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিস্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেস্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর׃ (সূরা আনকাবুত: ৪৫)। আল্লাহ আরো এরশাদ করেন, ׂযারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবে? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না। তাদের জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবন- যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান׃ (সূরা আল ইমরান : ১৩৫)।

এভাবে উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, মানুষের যৈবিক তাড়না এবং স্বভাব ও মানবিক দুর্বলতার কারণে কৃত অপরাধ যেমন-নেশা, যেনা ও ব্যভিচার ইত্যাদি প্রমাণ ও শাস্তির ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের শাস্তির কঠোর নীতি অবলম্বনের কারণ। উদ্দেশ্য হচ্চে সমাজে বেহায়পনা অশ্লীলতার প্রসার বন্ধ করা এবং ফিৎনা ফাসাদ রোধ করা।

এ জন্যই হজরত উমর (রা:) যখন একটি বাড়ির দেওয়ালের আড়ালে মদ্যপানের আসর সম্পর্কে অবহিত হলেন। তখন তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু ঐ লোকগুলো হযরত উমরের সাথে অভিযোগ ও জেরা করতে লাগল যে তারা নির্জনে কোন একটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এতে সমাজে কোন ধরণের ফিৎনা ফাসাদ সৃস্টির কোন উদ্দেশ্য ছিল না। তখন হযরত উমর (রা:) তাদের সম্পর্কে তথ্য নেয়া এবং শাস্তি প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকলেন। অতএব, এ হচ্ছে যেনা ও ব্যভিচারের শাস্তির ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের কঠোর নীতি অবলম্বনের কারণ ও লক্ষ্য ঊদ্দেশ্য।

আর তারই বিপরীতে চুরি, ডাকাতি, হত্যা ও কেসাস ইত্যাদি ব্যাপারে ইসলামী শরীয়তের শাস্তি বিধানের ঊদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের সরাসরি এ ধরণের জঘন্য কাজ থেকে বিরত রাখা এবং মানুষের জান মালের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান ও মানুষের মৌলিক অধিকার যথাযথভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। এজন্যই ইসলামী শরীয়ত চুরি, ডাকাতি ও হত্যাকান্ডের অপরাধ প্রমাণ ও তার শাস্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মাত্র দূজনের আদেল সাক্ষীর সাক্ষ্যে মাধ্যমে এবং পারিপার্শিক অবস্হার আলোকে শাস্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। যাতে মানুষ অন্যায়ভাবে অপরের অধিকার ও তার জান মালের উপর বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন না করতে পারে। সুতরা যেনা ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি প্রয়োগ, চুরি, ডাকাতি ও হত্যার অপরাধ ও তার শাস্তির উপর কিয়াস করা যাবে না।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )