আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
মুসলিম বোন ও পর্দার হুকুম প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন শাহ্‌ ওয়ালী উল্লাহ   
Thursday, 19 June 2008
আর্টিকেল সূচি
মুসলিম বোন ও পর্দার হুকুম
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী
সাবধান
ভয়াবহ পরিণতি
প্রত্যেক পিতার উদ্দেশ্য
অভিবাদন ও সুসংবাদ
শরীয়াতের দৃষ্টিতে পর্দার (হিজাবের) শর্তাবলী
তাহলে শোন উপদেশাবলী

শরীয়াতের দৃষ্টিতে পর্দার (হিজাবের) শর্তাবলী

ইসলামী শরীয়াহ্‌র পৰ থেকে মেয়েদের (হিজাব) পর্দার ব্যাপারে কিছু শর্তাবলী রয়েছে। সেগুলো হলোঃ

১. হিজাব (পর্দা) হবে তার গোটা শরীরটাকে আবৃতকারী।

আলস্নাহ্‌র ভাষায় :

অর্থাৎ তারা যেন (উ‌পর দিক থেকে) নিজেদের (মুখমন্ডল ও বক্ষদেশের) উপর নিজেদের চাদরের আচল ঝুলিয়ে দেয়। (যাতে আপাদমস্তক ঢেকে যায়)।

প্রকাশ থাকে যে, অর্থ হল, এমন লম্বা কাপড়, যা মহিলার সমগ্র শরীরটাকেই ঢেকে দেয়। অতএব এটা সুষ্পষ্ট যে, হিজাব হল এমন পর্দা যা গোটা শরীরটাকে ঢেকে ফেলে।

২. হিজাব (পর্দাটা) হালকা কাপড়ের হতে পারবে না। যার মধ্য দিয়ে মেয়েলি শরীরের কোন কিছু দেখা যায়। বরং এটা হতে হবে মোটা কাপড়ের যার মধ্যদিয়ে কোন কিছু দেখার বা বুঝবার কোন আশঙ্কা থাকবে না। কেননা, হিজাবের মূল উদ্দেশ্যই হল আবৃত রাখা। অন্যের দৃষ্টি থেকে এমন কি অন্যের উপলব্দি শক্তি থেকেও।

৩. হিজাবের (পর্দার) কাপড় হবে সাধারণ, কারুকার্য বিহীন। অর্থাৎ হিজাব এমন কারুকার্য সম্বলিত নয়নাভিরাম রং-রেংয়ের হতে পারবে না, যাতে অতি সহজেই অন্যের দৃষ্টি কাড়ে। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা নিজেই ঘোষণা করেছেন যে :

“তারা যেন নিজেদের সাজসজ্জা প্রকাশিত না করে কেবল তাছাড়া, যা আপনা হতেই প্রকাশিত হয়ে যায়।” (সূরা নূর, ২৪ : আয়াত ৩১)

এখানে যা এমনিতেই প্রকাশিত হয়ে যায় বলতে বুঝানো হয়েছে, যা হিজাব পরিহিতার অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বাভাবিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে যায়।

সুতরাং যদি হিজাবই হয় নয়নাভিরাম, কারুকার্য সম্বলিত, তাহলে তাদ্বারা পর্দা করা জায়েয হবে না। কেননা হিজাব মানেই হল অপর থেকে বা পর পুরুষ থেকে নিজের সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখা এবং অন্যের চোখে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে না উঠা।

৪. হিজাব সংকীর্ণ বা চিকন হবে না বরং হিজাব হবে প্রশস্ত ও মোটা যাতে করে হিজাব পরিহিতার শরীরের গঠন আকৃতি পরিলক্ষিত না হয়।

কেননা হিজাব যদি সংকীর্ণ বা চিকন হয়, তাহলে মহিলার অঙ্গাকৃতি হিজাবের উপর দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে এবং এতে করে ফিৎনা ফাসাদ ছড়ানোর বেশী আশঙ্কা দেখা দিবে।

৫. হিজাব অধিক সুগন্ধিময় হতে পারবে না, যাতে করে সুঘ্রাণ পুরুষের মনকে আকৃষ্ট করে হিজাব পরিহিতাকে তাদের আলোচনার বস্তুতে পরিণত করে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা:) এরশাদ করেছেন :

মেয়েরা যখন সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে পুরুষদের কোন সমাবেশের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন পুরষরা (স্বাভাবিকভাবেই) বলাবলি শুরু করে দেয় যে, এই মহিলাটা এমন, এমন, এমন। অর্থাৎ সুঘ্রাণ ব্যবহারকারিনী, সুন্দরী ইত্যাদি।

(আসহাবে সূনান, তিরমিযী বলেছেন, এই হাদিসটি হাসান, সহীহ্‌।

মহিলা যখন আতর (সুগন্ধী) ব্যবহার করতঃ কোন গোত্রের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে এবং এর সুঘ্রাণ গোত্রবাসীদের কাছে পৌঁছায়, তখন তারা বলাবলি করতে থাকে যে, মহিলাটি তো খুবই সুগন্ধময়ী, সুঘ্রাণ ব্যবহারকারিনী ইত্যাদি।

৬. হিজাব পুরুষদের ব্যবহৃত পোশাকের অনুরূপ হতে পারবে না। যার প্রমাণ পেশ করে আবু হুরায়রা (রা:) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীস :

আল্লাহ্‌র রাসূল (সা:) ঐ সকল পুরুষদের উপর অভিসম্পাদ (লা’নত) করেছেন, যারা স্ত্রীলোকদের পোশাক পরিধান করে। অপরদিকে ঐ সকল মেয়েলোকদের উপরও অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন, যারা পুরুষদের পোশাক পরিধান করে। (আবু দাউদ, নাসায়ী)

অন্য হাদীসে বলা হয়েছে :

আল্লাহ্‌ তা’আলা অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন ঐ সব পুরুষদের প্রতি যারা মেয়েদের আকৃতি-প্রকৃতি, পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করে, অপরদিকে ঐ সকল মেয়েলোকদের প্রতিও অভিসম্পাত (লা’নত) করেছেন যারা পুরুষদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ করে। (বুখারী)

খুবই পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের এই বর্তমান যুগেই আধুনিকতার নামে অসংখ্য মেয়ে লোকেরা পুরুষদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদকে নিজেদের ভূষণ হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। অনুরূপ অনেক পুরুষও আছে যারা এই আধুনিকতার দোহাই দিয়ে মেয়েদের আকৃতি-প্রকৃতি ও পোশাক-পরিচ্ছদকে নিজেদের ভূষণ বলে গ্রহণ করে থাকে। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে এর থেকে পানাহ্‌ চাই এবং নিরাপত্তা চাই তার অভিসম্পাত থেকে। (আমীন!!!)

হে আমার মু’মিন বোনটি! পরিশেষে তোমার সামনে পেশ করছি, অমূল্য উপদেশাবলী থেকে এগারটা উপদেশ। এই আশায়, তুমি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে দুনিয়ার জীবন অতিবাহিত কর এবং আখিরাতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্‌র কাছে ফিরে যাও চির প্রশংসিতা হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে।



সর্বশেষ আপডেট ( Monday, 01 December 2008 )