আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
আখিরাতের জীবন চিত্র প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী   
Tuesday, 05 August 2008
আর্টিকেল সূচি
আখিরাতের জীবন চিত্র
আখিরাতের জীবন পূর্ব নির্ধারিত
মানুষ কর্মফল অনুসারে তিন দলে বিভক্ত হবে
জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর


জাহান্নামের ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর


জাহান্নামের আযাব সম্পর্কে সুরা বাকারায় বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তোমরা জাহান্নামের ঐ আগুনকে ভয় করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং পাথর। যা অবিশ্বাসী কাফেরদের জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। (বাকারা- ২৪)
পৃথিবীতে এক শ্রেণীর মানুষ আছে, যারা নিজেরা চেষ্টা করে জাহান্নামের আগুন হতে বাঁচার জন্যে। নিজেরা নামাজ কালাম আদায় করে, যাকাতও দান করে, হজ্জও করে কিন্তু নিজের অধিনস্ত ছেলে-মেয়েকে মোটেও তাগিদ দেয় না নামাজ-কালামের জন্যে। শুধু তাই নয়- নিজে মুখে দাড়ি রেখে, মাথায় টুপি দিয়ে নিজের বেপর্দা সুন্দরী মেয়েকে সাথে নিয়ে শপিং করতে বের হয়।  মেয়েকে পর্দা করতে বলে না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরা তাহরীমে বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হে ঈমানদারগণ! নিজেকে এবং নিজের পরিবারবর্গকে সে আগুন হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। সেখানে অত্যন্ত কর্কশ, রুঢ় ও নির্মম স্বভাবের ফেরেশতা নিয়োজিত থাকবে। যারা কখনো আল্লাহর আদেশ অমান্য করে না। যে আদেশ তাদেরকে দেয়া হোক না কেনো, তা ঠিক ঠিকভাবে পালন করে। (সূরা তাহ্‌রীম)
এই আয়াতের বক্তব্য সম্পর্কে মানুষের মনে একটা প্রশ্ন জাগে, জাহান্নামের আগুনে পাথর পুড়ানো হবে কেন? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, এক  শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর দাসত্ব বাদ দিয়ে বিভিন্ন বস্তুর দাসত্ব বা পূজা করে। মাটির তৈরী, পাথরের তৈরী মূর্তি বানিয়ে তার কাছে নিজের আশা- আকাংখা, কামনা বাসনা জানায়, তাদের কাছে বিপদ- আপদ থেকে মুক্তি চায়। এই  শ্রেণীর মানুষগুলোর ধারণা পরকালে এই মূর্তি তাদের জন্যে সুপারিশ করে তাদের দোযখ থেকে বাঁচাবে। মহান আল্লাহ ওদের সাথে সাথে ওদের মূর্তিগুলোকেও জাহান্নামে পাঠিয়ে ওদেরকে দেখাবেন। দেখো, তোমরা যাদের দাসত্ব করতে তারা নিজেরা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারেনি সুতারাং তোমাদেরকে কি করে রক্ষা করবে?
তাছাড়া আগুনের মধ্যে পাথর নিক্ষেপ করলে সে পাথর পুড়ে লাল হয়ে অধিক তাপ বিকিরণ করে, আগুনের উত্তাপ বৃদ্ধি পায়। মূর্তিপুজকগণ যাতে বেশী উত্তাপে অধিক আযাব ভোগ করতে পারে, সে কারণেও আগুনে পাথর নিক্ষেপ করা হতে পারে। প্রকৃত সত্য যে কি তা আল্লহই অবগত আছেন। সেদিন আল্লাহ রব্বুল আলামীন ফেরেশ্‌তাদের নির্দেশ দেবেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ধরো এবং গলায় ফাঁস পরিয়ে দাও তারপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করো, আর সত্তর হাত দীর্ঘ শিকল দিয়ে ভালোভাবে বেঁধে দাও। (আল- হাক্কাহ্‌-৩০-৩২)
পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(অপরাধীদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে) চলো, সে ছায়ার দিকে যা তিনটি শাখা বিশিষ্ট।  যেখানে না (শীতল) ছায়া আছে আর না আগুনের  লেলিহান শিখা হতে রক্ষাকারী কোন বস্তু । সে আগুন প্রসাদের ন্যায় বিরাট স্ফুলিঙ্গ নিক্ষেপ করবে। তা এমনভাবে লাফাতে থাকবে, দেখলে মনে হবে যেন হলুদ বর্ণের উট। (মুরসালাত-  ৩০-৩৩)

জাহান্নামীদের গলায় শিকল লাগানো হবে

পবিত্র কোরআনের সুরা মুমিনের ৭১-৭২ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যখন তাদের গলায় শিকল ও জিঞ্জির লাগানো হবে, তখন তা ধরে টগবগ করে ফুটন্ত পানির দিকে টানা হবে এবং পরে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। (সূরা মুমিন)
পবিত্র কোরআনের সূরা সা‘দে উল্লেখ করা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আর খোদাদ্রোহী মানুষদের নিকৃষ্ট পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে তারা (অনন্তকাল) জ্বলবে। এটা অত্যন্ত খারাপ স্থান, প্রকৃত পক্ষে এ স্থান তাদের জন্যেই । অতএব সেখানে তারা স্বাদ গ্রহণ করবে টগবগে ফুটন্ত পানি, পঁূজ, রক্ত, এবং এ ধরণের আরো অনেক কষ্টের। (সূরা সাদ- ৫৫- ৫৮)
মহান আল্লাহর কোরআনে সূরা হজ্জে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জাহান্নামীদের মাথার ওপরে প্রচন্ড গরম পানি ঢেলে দেয়া হবে, ফলে তাদের পেটের মধ্যে অবস্থিত সকল বস্তু ও চামড়া মুহূর্তের মধ্যে গলে যাবে এবং তাদের জন্য লোহার ডান্ডাসমূহ থাকবে। যখনই তারা শ্বাসরোধক অবস্থায় জাহান্নাম হতে বের হবার চেষ্টা করবে তখনই তাদেরকে প্রতিহত করা হবে এবং বলা হবে দহনের শাস্তি ভোগ করতে থাক। (হজ্জ-১৯-২২)
এই ধরনের কঠিন আযাব থেকে কোন অবাধ্য পাপীগণ রেহায় পাবে না। সবাইকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতেই হবে। শুধু ব্যতিক্রম হবে বিশ্বনবীর চাচা আবু তালিবের ক্ষেত্রে। কারণ তিনি বিভিন্ন সময়ে বিশ্বনবীকে সাহায্য সহযোগিতা দান করেছেন। ইসলামের সাথে তিনি যেমন শত্রুতা করেননি তেমনি ইসলাম গ্রহণও করেননি। বিশ্বনবী বলেন, ‘জাহান্নামীদের মধ্যে সব চেয়ে অল্প শাস্তি হবে আবু তালিবের, তার পায়ে শুধু জাহান্নামের তৈরী এক জোড়া জুতো পরিয়ে দেয়া হবে। এতেই তার মাথার মগজ গলে নাক- কান দিয়ে চুইয়ে পড়বে।’ (বোখারী )
হযরত আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু বলেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই (জাহান্নামে) কাফেরদের চামড়া বিয়াল্লিশ গজ পুরু হবে এবং এক একটি দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমান হবে। জাহান্নামে একজন জাহান্নামী যে স্থান জুড়ে অবস্থান করবে তা মক্কা হতে মদীনার দুরত্বের সমান। (তিরমিজী)
জাহান্নামের শাস্তির যে ধরণ, তা পুরোপুরি অনুভব করতে হলে দৈহিক আকার আকৃতির পরিবর্তনের প্রয়োজন, এটা স্বাভাবিক জ্ঞান-বুদ্ধিরও দাবী। আকার আকৃতি যতো বড়ো হয় শাস্তির তীব্রতাও বেশী অনুভূত হয়। আল্লাহ পাপীদেরকে আকার আকৃতি বৃদ্ধি করে দিবেন, যেনো আল্লাহর শাস্তি পুরোপুরি অনুভব করতে পারে। হাদীসে তুলনা করার জন্য কিছু দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে যেমন বিয়াল্লিশ গজ, ওহুদ পাহাড়, ইত্যাদি। কারণ কোরআন ও হাদীসে আখিরাতের নিয়ামত ও আযাবের বর্ণনা পৃথিবীর বিভিন্ন বস্তু দ্বারা দৃষ্টান্ত দেয়া হযেছে। যদিও পরকালের কোন বস্তুর তুলনাই পৃথিবীতে হতে পারেনা। কারণ পৃথিবী ও আখিরাতের বস্তু এক নয়, তাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন। তবুও তুলনা না করে উপায় নেই।
কেননা যে ব্যক্তি কোন দিন জিরাফ দেখেনি তাকে জিরাফ সম্বন্ধে বুঝাতে হলে বলতে হবে যে জিরাফ ঘোড়ার মতই তবে গলাটা অনেক লম্বা। যদিও জিরাফ এবং ঘোড়া এক নয় তবু দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে ধারণাটা কাছাকাছি নেবার জন্য। তেমনিভাবেই পরকালের সমস্ত দৃষ্টান্ত দুনিয়ার সাথে তুলনা করে দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যখন তাদের দেহের চামড়া আগুনে পুড়ে গলে যাবে, তখন (সাথে সাথে) সেখানে অন্য চামড়া সৃষ্টি করে দেবো; যেনো তারা আজাবের স্বাদ পুরাপুরি গ্রহণ করতে পারে। বস্তুত আল্লাহ বড়োই শক্তিশালী এবং নিজের ফয়সালা সমূহ কার্যকরী করার কৌশল খুব ভালো করেই জানেন। (সুরা নিসা- ৫৬)
চামড়া যে পরিবর্তন করা হচ্ছে এবং পুড়ে যাচ্ছে, পুনরায় আবার তা তৈরী হচ্ছে, এ অনুভূতি কখনো জাহান্নামীদের থাকবেনা। জাহান্নামীদের প্রতি সেকেন্ডে কয়েকশ’বার চামড়া পরিবর্তন করা হবে কিন্তু জাহান্নামীগণ মনে করবে যে, তার সে পুরানো চামড়াই শরীরে আছে এবং তা অবিরাম পুড়ে চলছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা গরম বাস্প, টগবগ করে ফুটন্ত পানি এবং কালো ধূয়াঁর ছায়ার মধ্যে থাকবে। তা (কখনো) না ঠান্ডা হবে, না শান্তিদায়ক। (ওয়াকিয়া ৪২-৪৪)
জাহান্নামীগণ জাহান্নামে কালো আগুনের মধ্যে অবস্থান করবে, একথা আল্লাহর রাসূলও বলেছেন, ‘আগুনকে এক হাজার বছর তাপ দেয়া হলো তখন আগুন লালবর্ণ ধারণ করলো। আবার এক হাজার বছর তাপ দেয়া হলো তখন আগুন কালোবর্ণ ধারণ করলো। সে জন্যই জাহান্নামের আগুন কালো এবং অন্ধকারময়। (তিরমিজি)

জাহান্নামীগণ একদল আরেক দলকে অভিশাপ দেবে

যারা জাহান্নামে যাবে তারা একদল আরেক দলকে দোষ দেবে যে, আমরা তোমাদের কারণেই আজ এই কঠিন শাস্তির স্থান জাহান্নামে এসেছি। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন বলছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
প্রত্যেকটি দল যখনই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, নিজের সঙ্গের দলটির উপর অভিশাপ দিতে দিতে অগ্রসর হবে।  শেষ পর্যন্ত সকলেই যখন  সেখানে সমবেত হবে, তখন প্রত্যেক পরবর্তী লোক পূর্ববর্তী লোকদের সম্পর্কে বলবে, হে আমাদের রব! এ লোকেরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। এখন তাদেরকে আগুনে (আমাদের চেয়ে) দ্বিগুন শাস্তি দাও। আল্লাহ বলবেন, সকলের জন্যই দ্বিগুন আজাব কিন্তু তোমরা তা বুঝবে না। (সূরা আ‘রাফ- ৩৮)
সকলের জন্যই দ্বিগুন আজাব এ কথার তাৎপর্য হচ্ছে, অপরাধীগণ সর্বদাই নিজে অপকর্ম করে এবং অন্যদের করতে উৎসাহ দেয়। যেহেতু প্রতিটি অপকর্মই বাহ্যিক চাকচিক্যময় তাই তার উৎসাহে বিপূল সংখ্যক লোক সাড়া দেয়।  আবার তাদের দেখাদেখি পরবর্তীতে আরেকদল অপরাধ প্রবণ হয়ে যায়। এমনি করে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অপরাধীদের দল কিয়ামত পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে থাকবে। সত্যি কথা বলতে কি, প্রত্যেকটি দলই পূর্ববর্তী দলকে অনুসরণ করেই অপরাধ প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ে এবং অপরাধী হিসাবে চিহিুত হয়। তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেক দলকেই দ্বিগুণ শাস্তি দেবেন। কারণ একদিকে যেমন তারা পূর্ববর্তী দলের অনুসারী অপরদিকে তারা তাদের পরবর্তী দলের পথ প্রদর্শক। এ কথা গুলোই আল্লাহ পবিত্র কালামে অন্যভাবে বলেছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আল্লাহ ঈমানদারদের বন্ধু। তিনি অন্ধকার হতে আলোর দিকে লোকদেরকে পথ দেখান এবং কাফেরদের বন্ধু খোদাদ্রোহী লোকজন তারা লোকদেরকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে পথ দেখায়। (বাকারা- ২৫৭)
পৃথিবীতে নানা ধরনের দল রয়েছে। এসব দলের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি দল আল্লাহর বিধানের ভিত্তিতে তাদের কর্মীদের পরিচালিত করে থাকে। আর অধিকাংশ দলই মানুষের বানানো আদর্শের ভিত্তিতে কর্মীদের পরিচালিত করে। এসব বাতিল দলের নেতা- কর্মীরা যখন জাহান্নামে যাবে তখন তারা তাদের নেতাদের দোষ দেবে।

কর্মীরা নেতাদের প্রতি অভিশাপ দেবে

এ সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(যখন জাহান্নামীদেরকে আগুনে পুড়ানো হবে) তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমরা আমাদের সরদার ও নেতাদের আনুগত্য করেছি, তারা আমাদেরকে সঠিক সরল পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। হে রব ! এ লোকদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও এবং তাদের ওপর কঠিন অভিশাপ বর্ষন করো। (আহযাব-  ৬৭- ৬৮)
জাহান্নামীগণ জাহান্নামে জ্বলতে জ্বলতে অসহ্য হয়ে যাবে। তখন চীৎকার করে বলতে থাকবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হে পরোয়ারদেগার! সেই জ্বিন ও মানুষদেরকে আমাদের সামনে এনে দাও, যারা আমাদের গোমরাহ করছিলো। আমরা তাদেরকে আমাদের পায়ের তলায় রেখে দলিত মথিত করবো, যেনো তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়। (হামীম সিজদাহ্‌-২৯)
জাহান্নামীদের অনুভূতি তীব্র হবে। তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং সেদিন বুঝবে যে অন্ধভাবে নেতাদের অনুসরণ করা কতো বড়ো ভ্রান্তনীতি ছিলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আর এই বিভ্রান্ত লোকেরা (নিজেদের  নেতাদেরকে লক্ষ্য করে) বলবে, আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিলাম, যখন তোমাদেরকে রাব্বুল আলামীনের মর্যাদা দিচ্ছিলাম। (শুয়ারা-  ৯৭- ৯৮)

জাহান্নামীদের নিকৃষ্ট খাদ্য

জাহান্নামীদের খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যাক্কুম গাছ জাহান্নামীদের খাদ্য হবে; তিলের তেলচিটের মতো। পেটে এমনভাবে উথলিয়ে উঠবে যেমন টগবগ করে পানি উথলিয়ে উঠে। (দোখান-  ৪৩-৪৬)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অতঃপর পান করার জন্য তাদের ফুটন্ত পানি দেয়া হবে। (ছাফ্‌ফাত- ৬৭)
সূরা-গাশিয়ায় বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
টগবগ করে ফুটন্ত কূপের পানি তাদেরকে পান করানো হবে। কাঁটাযুক্ত শুস্ক ঘাস ছাড়া অন্য কোন খাদ্য তাদের জন্য থাকবেনা। তা দেহের পুষ্টি সাধনও করবেনা এবং ক্ষুধার উপশমও হবে না । (গাশিয়া-  ৫-৭)
আল্লাহর আদালতের বাম পাশে যারা অবস্থান করবে তারা বড়ই হতভাগ্য এবং এরাই হবে জাহান্নামের জ্বালানি। পৃথিবীতে এরা ইসলামী বিধি বিধানের তোয়াক্কা করেনি। এরা ধারণা করতো মৃত্যুর পরে কোন জীবন নেই। মিথ্যায় ভরপুর ছিল এদের জীবন। অসৎ কাজই ছিল এদের পেশা। কোরআন-হাদীস সম্পর্কে এরা ছিল উদাসীন। যে কোন পথে যে কোনভাবে এরা টাকা উপার্জন করতো। হারাম-হালাল বলে কোন কথা এদের জীবনে ছিল না। অপরের সম্পদ এরা অন্যায়ভাবে ভোগ  দখল করতো। কোরআন-হাদীস অনুযায়ী যারা জীবন-যাপন করতো, তাদেরকে এরা উপহাস করতো।
এরা পৃথিবীতে নিজের শক্তির মহড়া দিয়ে অন্যায় কাজ করতো। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্বলদের উপর অত্যাচার করতো। নিজেরা ভোগ বিলাসে লিপ্ত থাকলেও অভাবীদের দিকে এদের দৃষ্টি ছিল না। এরা সেদিন কঠোর শাস্তির মধ্যে অবস্থান করবে। তাদেরকে আযাবের পর আযাব দেয়া হবে। মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এরা অবস্থান করবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে। তাদেরকে অচ্ছাদিত করে রাখবে উত্তপ্ত কৃষ্ণবর্ণ ধুম্ররাশি যা কখনো শীতল ও আরামদায়ক হবে না। এরা ওই সমস্ত মানুষ- যারা পৃথিবীর জীবনে ছিল সুখী সচ্ছল। তাদের সুখী সচ্ছল জীবন তাদেরকে লিপ্ত করেছিল পাপ কাজে। সে সব পাপ কাজ তারা করতো জিদ ও অহংকারের সাথে। তারা বলতো, মৃত্যুর পর তো আমরা কংকালে পরিণত হবো। মিশে যাবো মাটির সাথে। তারপর আবার কি করে আমরা জীবিত হবো? আমাদের বাপ-দাদাকেও এভাবে জীবিত করা হবে? হে নবীঁ! তাদেরকে বলে দাও, পরবর্তী এবং পূর্ববতী সকলকেই একদিন উপস্থিত করা হবে। তার জন্য সময় কালও নির্ধারিত হয়ে আছে। হে পথভ্রষ্ট মিথ্যাবাদীর দল, তোমরা জাহান্নামে যকুম বৃক্ষ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করবে। তা দ্বারাই তোমরা উদরপূর্ণ করবে। তারপর তৃষ্ণার্ত উটের মতো তারা পেট ভরে পান করবে উত্তপ্ত ফুটন্ত পানি? (সূরা ওয়াকিয়া-৪২-৫৫)
জাহান্নামের অধিবাসীদেরকে রক্ত, পূজ, ক্ষরণ খেতে দেয়া হবে আর দেয়া হবে ‘যকুম’ ফল। এই ফল অত্যন্ত কাঁটা যুক্ত ও বিষাক্ত হবে। তীব্র যন্ত্রণাদায়ক হবে। যকুম খওয়ার সাথে সাথে পেটে ভয়ংকর যন্ত্রণা শুরু হবে। আর্তচিৎকার করতে থাকবে পাপীগণ। যকুম ফলের ক্রিয়ায় তাদের পেটের নাড়িভূড়ি গলে মলদ্বার দিয়ে বের হয়ে যাবে- কিন্তু মৃত্যু হবে না।

জাহান্নামীগণ জান্নাতীদের কাছে খাদ্য চাইবে

জাহান্নামীরা কিভাবে জান্নাতীদের কাছ থেকে খাদ্য চাইবে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ শোনাচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জাহান্নামীগণ জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবে, আমাদেরকে সামান্য পানি দাও কিংবা আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন তা হতে কিছু আমাদের দিকে নিক্ষপ করে দাও। জবাবে জান্নাতীগণ বলবে, আল্লাহ তা‘য়ালা এ দুটি বস্তুই কাফেরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (সূরা আ‘রাফ- ৫০)
উপরের আলোচনা হতে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবী যেমন স্থান-কাল ও পাত্রের দ্বারা সীমাবদ্ধ কিন্তু আখিরাত স্থান-কালের সীমাবদ্ধতার উর্দ্ধে। কেননা জান্নাতের পরিধি যেমন বিশাল ঠিক তেমনিভাবে জাহান্নামের পরিধিও বিশাল। তবুও এ দু‘প্রান্ত থেকে একজন অপরজনের অবস্থা অবলোকন করতে পারবে এবং পরস্পর কথাও বলবে, তাতে তাদের দৃষ্টিশক্তি বা কন্ঠস্বরের কোন ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে না।
জাহান্নামীদেরকে যখন ফেরেশতারা এক হাতে চুলের মুঠি এবং অন্য হাতে পা ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতে নিয়ে যাবে তখন জাহান্নামের পাহারাদারগণ জিজ্ঞেস করবে, তোমাদের কাছে কি কোন সুসংবাদ দাতা এবং ভীতি প্রদর্শনকারী পৌঁছেনি? তখন কাফেরগণ বলবে হ্যাঁ, পৌঁছেছিলো কিন্তু আমরা তাদের ঠাট্টা বিদ্রূপ করতাম এবং মিথ্যা মনে করতাম। তখন আফসোস করবে এবং বলবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হায়! আমরা যদি শুনতাম এবং অনুধাবন (জ্ঞান দিয়ে চিন্তা ভাবনা) করতাম, তবে আমরা আজ দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে নিক্ষিপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল হতাম না। (মুল্‌ক- ১০)

জাহান্নামীগণ পৃথিবীতে ফিরে আসতে চাইবে

সূরা আনয়ামে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
হায়! সে সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নাদের কিনারায় দাঁড় করানো হবে; তখন তারা বলবে, হায়! আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা মনে না করতাম ও ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতে পারতাম! (সূরা আনয়াম- ২৭)
তাদের এ আবেদন নিবেদন ব্যর্থ হয়ে যাবে। আল্লাহ সরাসরি তাদের কথাকে প্রত্যাখ্যান করবেন। পবিত্র কোরআন বলছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে যদি পূর্ববর্তী জীবনের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হয় তবুও তারা সে সব কাজই করবে যা হ‘তে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো সবচেয়ে বড়ো মিথ্যাবাদী। (সূরা আনয়াম-২৮)
সূরা যুমারে বলা হয়েছে, যে সব লোক কুফুরী করেছিলো তাদেরকে জাহান্নামের দিকে দলে দলে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তারা যখন সেখানে পৌঁছাবে তখন তার (অর্থাৎ  জাহান্নামের) দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হবে এবং তার কর্মচারীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের নিকট তোমাদের নিজেদের মধ্যে হতে এমন কোন রাসূল কি আসেনি, যে তোমাদেরকে তোমাদের রবের আয়াত সমুহ শুনিয়েছে এবং তোমাদেরকে এ বলে ভয় প্রদর্শন করেছে যে, এ দিনটি অবশ্যই একদিন তোমাদেরকে দেখতে হবে? তারা বলবে- হ্যাঁ, এসেছিলো !
মানুষ যখন হতাশ ও পেরেশান হয়ে যায় তখনই তার মুখ দিয়ে হতাশাব্যঞ্জক কথা বের হয়। উপরোক্ত দৃষ্টান্তটি তার নমুনা। তাদের অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ শোনাচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা বলবে হে আমাদের রব! তুমি নিশ্চয়ই আমাদের দু‘বার মৃত্যু ও দু‘বার জীবন দান করেছো। এখন আমরা আমাদের অপরাধ সমুহ স্বীকার করে নিচ্ছি। এখন এখান (জাহান্নাম) থেকে বের হবার কোন পথ আছে কি? (সূরা আল্‌-মুমিন- ১১)
দু‘বার মৃত্যু এবং দু‘বার জীবনদান অর্থ মানুষ অস্তিত্বহীন ছিলো অর্থাৎ মৃত ছিলো আল্লাহ জীবন দান করলেন আবার মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় কিয়ামতের দিন জীবিত করে উঠাবেন। এ কথা কয়টি স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুরা বাকারায় স্পস্ট করে বলেছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তোমরা আল্লাহর সাথে কেমন করে কুফুরী করতে পারো! অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন- মৃত, তিনি তোমাদের জীবন দান করেছেন। আবার মৃত্যু দিবেন এবং পুনরায় জীবন দান করে উঠাবেন। তারপর তার দিকেই  তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। (বাকারা-২৮)
অপরাধীগণ প্রথম তিনটি অবস্থা অবিশ্বাস করতো না, কেননা এ তিনটি অবস্থা তাদের চোখের সামনেই ঘটতো। কিন্তু শেষাবস্থা তারা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি বলে উপহাস করে উড়িয়ে দিতো। কেননা শেষ অবস্থার খবর একমাত্র নবী রাসূলগণই দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন কার্যত যখন এ অবস্থা ঘটে যাবে তখন তারা স্বীকার করবে এবং কাকুতি মিনতি করবে পৃথিবীতে পুনরায় ফিরে আসার জন্য । সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে (জাহান্নামে) তারা চীৎকার করে বলবে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এখান হতে বের করে নাও যেনো আমরা নেক আমল করতে পারি। সে আমল থেকে ভিন্নতর যা আমরা পূর্বে করছিলাম। (সূরা ফাতির- ৩৭)
অতঃপর তাদেরকে প্রতিউত্তরে বলা হবে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি, যে শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতে? আর তোমাদের নিকট সতর্ককারীও এসেছিলো । এখন (আযাবের) স্বাদ গ্রহণ করো। এখানে জালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা ফাতির- ৩৭)

সমস্ত কিছুর বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইবে

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেদিন অপরাধীগণ চাইবে তার সন্তান, স্ত্রী, ভাই, এবং সাহায্যকারী নিকটবর্তী পরিবার, এমনকি দুনিয়ার সব মানুষকে বিনিময় দিয়ে হলেও নিজেকে আজাব হতে বাঁচিয়ে নিতে। (আল্‌ মা‘য়ারিজ-১১-১৪)
সূরা আল্‌-মু‘মিনুনে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তখন তাদের মধ্যে আর কোন আত্মীয় থাকবেনা এমন কি পরস্পর দেখা হলেও (কেউ কাউকে) জিজ্ঞেস করবে না। (আল্‌ মু‘ মিনুন-১০১)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যেদিন তাদেরকে ধাক্কা মেরে মেরে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, তখন তাদেরকে বলা হবে যে, এই সে আগুন যাকে তোমরা ভিত্তিহীন গুজব মনে করেছিলে। এবার বলো, এটা কি যাদু? না তোমারা কিছুই দেখোনা? এবার যাও এর মধ্যে ভস্ম হ’তে থাকো। এখন তোমরা ধৈর্য ধারণ করো বা না করো সবই তোমাদের জন্য সমান। তোমাদের সে রকম প্রতিফলই দেয়া হচ্ছে যা তোমরা আমল করেছো । (সূরা তুর-১৩-১৬)
সূরা হাদীদের ১৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(যখন ফেরেশতাগণ জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে, তখন বলবে) আজ তোমাদের নিকট হ’তে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না এবং যারা পৃথিবীতে (প্রকাশ্য দাম্ভিকতার সাথে আল্লাহর আয়াত গুলো) অস্বীকার করেছিলো, (তাদেরকেও বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেয়া হবে না) তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। সে জাহান্নামই তোমাদের খোঁজ খবর গ্রহণকারী অভিভাবক। কতো নিকৃষ্ট পরিণতি। (সূরা হাদীদ-১৫)

জান্নাতের বিশালতা আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়

কেবলমাত্র মুত্তাকী লোকগুলোই সাফল্য লাভ করতে সক্ষম হবে আর সে সাফল্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন করে তাঁরা নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত লাভ করবে। (মুত্তাকী শব্দের বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য তাফসীরে সাঈদী-সূরা ফাতিহার তাফসীরের ‘কোরআন থেকে হেদায়াত লাভের শর্ত’ শিরোণাম পড়ুন)
জান্নাতের বিশালতা ও বিস্তৃতি আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায় হবে। মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তোমরা একে অপরের সাথে সৎকাজে প্রতিযোগিতামূলক অগ্রসর হও। তোমার প্রভূর ক্ষমা এবং সে জান্নাতের দিকে, যার বিশালতা ও বিস্তৃতি আকাশ ও পৃথিবীর ন্যায়। যা প্রস্তুত করা হয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে। (সূরা হাদীদ-২১)

অগণিত নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত

হাদীসে আছে আল্লাহ যাকে সবচেয়ে ছোট জান্নাত দেবেন তাকেও এ পৃথিবীর মতো দশ পৃথিবীর সমান জান্নাত দেবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে (জান্নাত) যে দিকে তোমরা তাকাবে শুধু নিয়ামত আর নিয়ামত এবং একটি বিরাট সাম্রাজ্যের সাজ-সরঞ্জাম তোমরা সেখানে দেখতে পাবে। (সূরা দাহ্‌র২০)

গোটা জান্নাত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে

জান্নাতে সর্বদা বসন্তকাল বিরাজ করবে। ফূল-ফলের সমাহার এবং সৌন্দর্য শ্যামলতা কখনো ম্লান হবে না। এমন কি গোটা জান্নাত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে সেখানে (জান্নাতে) না সূর্যতাপ জ্বালাতন করবে না শৈত্য প্রবাহ। (সূরা দাহ্‌র-১৩)

জান্নাতীগণ কোন দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হবে না

পৃথিবীতে মানুষ যতো বিত্তশালী হোক এবং যতো সুখ-শান্তিই ভোগ করুক না কেনো তবু তার কোন না কোন দুঃখ বা অশান্তি থাকবেই, কোন মানুষই সম্পূর্ণ সুখী নয়। কিন্তু জান্নাতে কোন দুঃখই থাকবে না, এমন কি পৃথিবীতে মাল্টি বিলিয়নার হয়েও আরো বেশী পাওয়ার জন্য এবং ভোগ করার জন্য দুঃখের শেষ থাকে না । পক্ষান্তরে জান্নাতীগণ-যাকে সবচেয়ে ছোট জান্নাত দেয়া হবে তারও কোন অনুতাপ বা দুঃখ থাকবে না। আল্লাহ নিজেই এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা সেখানে কখনও কোন দুঃখ কষ্টের সম্মুখীন হবে না এবং কোনদিন সেখান থেকে তাদেরকে বের করেও দেয়া হবে না। (সূরা হিজর-৪৮)
পবিত্র কোরআনের অন্যস্থানে রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(জান্নাতীগণ বলবে) তিনি আমাদেরকে নিজের অনুগ্রহে চিরন্তনী আবাসস্থল দান করেছেন, এখন আমাদের কোন দুঃখ এবং ক্লান্তি নেই। (সূরা ফাতির-৩৫)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যারা জান্নাতে যাবে তারা সর্বদা স্বচ্ছল অবস্থায় থাকবে, দারিদ্র ও অনাহারে কষ্ট পাবে না। তাদের পোষাক পুরাতন হবে না এবং তাদের যৌবনও শেষ হবে না। (মুসলিম)

জান্নাতীগণ অশোভন কথা শুনতে পাবে না

পৃথিবীতে যতো ঝগড়া ফ্যাসাদ সমস্তই স্বার্থপরতা, অহংকার ও হিংসার কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। জান্নাতে স্বার্থপরতা, অহংকার, হিংসা ইত্যাদি থাকবে না। তাই সেখানে গীবত, পরনিন্দা, পরচর্চা, ঝগড়া-বিবাদ, অশ্লীল কথাবার্তা ইত্যাদি কিছুই থাকবেনা। সেখানে শুধু সম্প্রীতি ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করবে। জান্নাতীরা জান্নাতে বেহুদা ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে পাবে না। মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে তারা বেহুদা ও অশ্লীল কথাবার্তা শুনতে পাবে না। যে কথাবার্তা হবে তা ঠিকঠিক ও যথাযথ (সম্প্রীতি পূর্ণ) হবে। (সূরা ওয়াকিয়া -২৫-২৬)

ফেরেশতাগণ জান্নাতীদেরকে সালাম জানাবেন

ফেরেশতাগণ জান্নাতীদেরকে সালাম জানাবেন, আবশ্য এ ব্যাপারে জান্নাতীদেরকে জান্নাতের দ্বার রক্ষীগণই সুসংবাদ প্রদান করবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অতপর যখন তারা সেখানে (প্রবেশ করার জন্য) আসবে, তখন দ্বার রক্ষীগণ তাদের জন্য দরজাসমুহ খুলে দিবে এবং জান্নাতীদের সম্বোধন করে বলবে, আপনাদের প্রতি অবারিত শান্তি বর্ষিত হোক। অনন্ত কালের জন্য এখানে প্রবেশ করুন। (যুমার-৭৩)

জান্নাতীগণ মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না

পৃথিবীতে যতোগুলো বাস্তব ও চাক্ষুষ বস্তু আছে তার মধ্যে মৃত্যু একটি। সত্যি কথা বলতে কি, মানুষ পার্থিব কোন বস্তু থেকেই অমনোযোগী ও গাফেল নয় একমাত্র মৃত্যু ছাড়া। এমনকি যদিও আমাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। এ বাস্তবতার পরও মৃত্যুকে আমরা ভীতির চোখে দেখি এবং মৃত্যু থেকে পালিয়ে বেড়াবার ব্যর্থ প্রয়াস পাই। এ ভীতিকর অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র নিশ্চয়তা থাকবে জান্নাতীদের জন্য। জান্নাতে কখনো মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে তারা আর কখনো মৃত্যুর মুখোমুখি হবে না। পৃথিবীতে একবার যে মৃত্যু হয়েছে সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আর আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে বাঁচিয়ে দিবেন। (সূরা দোখান-  ৫৬ )

জান্নাতীগণ অসুস্থ হবে না

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন এক ঘোষক ঘোষণা করবে-হে জান্নাতীগণ! এখন আর তোমরা কোনদিন অসুস্থ হয়ে পড়বে না, সর্বদা সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান থাকবে। কোনদিন আর তোমাদের মৃতূø হবে না অন্তকাল জীবিত থাকবে। সর্বদা যুবক হয়ে থাকবে কখনো তোমরা বুড়ো হবে না। সর্বদা অফুরন্ত  নেয়ামত ভোগ করবে কোনদিন শেষ হবে না এবং কখনো দুঃখ অনাহারে থাকবেনা। (মুসলিম-তিরমিজী)
পৃথিবীতে কোন জিনিস পেতে হলে বা ভোগ করতে চাইলে সে জিনিসের জন্য চেষ্টা শ্রম ও কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতে ইচ্ছে হওয়া মাত্রই সে জিনিস তার সামনে উপস্থিত পাবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা সাক্ষী দিচ্ছেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে তোমরা যা কিছু চাও পাবে এবং যার ইচ্ছে করবে সাথে সাথে তাই হবে। এটা হচ্ছে ক্ষমাশীল ও দয়াবান আল্লাহর তরফ হতে মেহ্‌মানদারী। (সূরা হা-মীম-আস সিজদা ৩০-৩১)

জান্নাতীগণ ইচ্ছে অনুযায়ী ভোগ করবে

আল্লাহর কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এবং আমি জান্নাতীদেরকে তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী ফল ও গোশ্‌ত প্রদান করতে থাকবো। (তুর-২২)
এ দান স্থান ও কালের সাথে সীমাবদ্ধ হবে না, নিয়মিতভাবে চিরদিন প্রদান করা হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এবং সেখানে তাদেরকে (নিয়মিতভাবে) সকাল সন্ধ্যা খাদ্য পরিবেশন করা হবে। (সূরা মার্‌য়াম-৬২)

জান্নাত অনন্তকালের সুখের স্থান

পৃথিবীতে যদিও কোন ব্যক্তি সম্পুর্ণ সুখ সম্ভোগ লাভ করতে পারে না; তবুও যতোটুকু পায় তার মধ্যে প্রতিটি মুহুর্ত ভীত সন্ত্রস্ত্র থাকে  চোর-ডাকাত, প্রতারক এবং মৃত্যুর ভয়ে। কিন্তু জান্নাতের নিয়ামত এবং সুখ ভোগ কোন দিনই কমতি বা শেষ হবে না। মহান আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের জন্য কাঁটাহীন কুলবৃক্ষসমূহ, থরে থরে সাজানো কলা, বিস্তীর্ণ অঞ্চলব্যাপী ছায়া,-সর্বদা প্রবাহমান পানি, আর খুব প্রচুর পুরিমাণে ফল থাকবে। যা কোনদিন শেষ হবে না এবং ভোগ করতে কোন বাধা বিপত্তিও থাকবে না। (সূরা ওয়াকিয়া-২৮-৩৩)
প্রশ্ন উঠতে পারে যে, কুল এমন কোন উত্তম ও উৎকৃষ্ট ফল, জান্নাতে যার সুসংবাদ দেয়ার প্রয়োজন দেখা দিলো? কিন্তু সত্য কথা এই যে, জান্নাতের কুল সম্বন্ধে আর কি বলবো, এ দুনিয়ায়ও কোন কোন এলাকার এ ফল এতোই সু-স্বাদু, সুঘ্রাণযুক্ত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ ধরনের ফল একবার মুখে দিলে ফেলে দেয়াই কঠিন হয়ে পড়ে। কুল যতো উচ্চমানের হয় তার গাছের কাঁটাও ততো কম হয়ে থাকে। এ কারণেই জান্নাতের কুল ফলের এ রকম প্রশংসা করা হয়েছে যে, জান্নাতের কুলগাছসমূহ একেবারে কাঁটা শুন্য হবে অর্থাৎ জান্নাতের কুল হবে অতীব উত্তম ও উৎকৃষ্টমানের। সে ধরনের কুল পুথিবীতে পাওয়া সম্ভব নয়।

জান্নাতীগণ সমবয়স্কা স্ত্রী লাভ করবে

কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
চিরস্থায়ী জান্নাতসমূহ যার দ্বারগুলো তাদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে থাকবে। সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে এবং প্রচুর ফল ও পানীয় চেয়ে পাঠাবে, আর তাদের নিকট লজ্জাবনত সমবয়স্কা স্ত্রী থাকবে। এ জিনিসগুলো এমন যা হিসেবের দিন দান করার জন্য তোমাদের নিকট ওয়াদা করা হয়েছে। এটা আমাদের দেয়া রিজিক, কোন দিন শেষ হয়ে যাবে না। (সূরা সাদ-৫০-৫৪)

হুরদের সাথে জান্নাতীদেরকে বিয়ে দেয়া হবে

হুরদের সাথে জান্নাতে জান্নাতীদের আল্লাহ বিয়ে দিবেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা সামনা সামনিভাবে সাজানো সারি সারি আসন সমূহের উপর ঠেস দিয়ে বসে থাকবে এবং আমি তাদের সাথে সুনয়না হুরদেরকে বিবাহ দেবো। (সূরা তুর-২০)
হুর শব্দের অর্থ হলো সুশ্রী , অনিন্দনীয় সুন্দরী। ভাসা ভাসা ডাগর চক্ষুওয়ালা রমনী। যাদেরকে বাংলা সাহিত্যের ভায়ায় হরিণ নয়না বলা হয়। হুর সমন্ধে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুফাচ্ছিরগণ দুভাগে বিভক্ত হয়েছেন, এক দলের মতে, সম্ভবত এরা হবে সেসব মেয়ে যারা বালেগা হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলো এবং যাদের পিতা-মাতা জান্নাতে যাওয়ার যোগ্য হয়নি। একথা কেয়াস করে বলা যেতে পারে কেননা এ ধরনের ছেলেদেরকে যেমন জান্নাতীদেরকে খেদমতের জন্য নিযুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা সর্বদা বালকই থাকবে; অনুরূপভাবে এমন সব মেয়েদেরকে জান্নাতীদের জন্য ‘হুর’ বানিয়ে দেয়া হবে। আর তারা চিরদিন নব্য যুবতীই থেকে যাবে। অন্যদের মতে হুরগণ প্রকৃত পক্ষে স্ত্রী জাতি কিন্তু তাদের সৃষ্টি মানব সৃষ্টির চেয়ে আলাদা এবং আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামীন আপন মহিমায় তাদের সৃষ্টি করেছেন। সূরা রাহ্‌মানের ৭০ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
(এসব নিয়ামতের মধ্যে থাকবে) তাদের জন্য সচ্চরিত্রবান ও সুদর্শনা স্ত্রীগণ। (সূরা আর রাহ্‌মান-৭০)
এই আয়াতটির ব্যাখ্যা  হিসাবে আরেক আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের স্ত্রীগণকে আমরা বিশেষভাবে সম্পুর্ণ নতুন করে সৃষ্টি করবো এবং তাদেরকে কুমারী বানিয়ে দেবো। তারা হবে নিজেদের স্বামীর প্রতি আসক্ত এবং বয়সে সমকক্ষ। (সূরা ওয়াকিয়া-৩৫-৩৭)
এখানে পৃথিবীর সেসব মহিলাদের কথা বলা হয়েছে, যারা ‘আমলে সালেহ’ এর বিনিময়ে জন্নাতে যাবে। তারা পৃথিবীতে বিকলাঙ্গ, কালা, কুৎসিত, যুবতী, বিধবা, অথবা বৃদ্ধা যাই হোক না কেন, আল্লাহ জান্নাতে তাদেরকে সুশ্রী, সুনয়না হিসেবে পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং তারা আজীবন কুমারী থাকবে কখনো তারা বার্ধক্যে উপনীত হবে না। হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন আমি আল্লাহর রাসূলকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুনিয়ার মহিলারা উত্তম না হুরগণ? বিশ্বনবী বললেন, দুনিয়ার মহিলারা হুরদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ। আমি বললাম, তার কারণ কি? তিনি বললেন, তা এ কারণে যে ঐ মহিলারা নামায পড়েছে, রোযা রেখেছে, ও অন্যান্য ইবাদত বন্দেগী করেছে। (তাবারানী)
ঐ সকল পুণ্যবতী মহিলাদের স্বামীরাও যদি জান্নাতী হয় তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের উভয়ের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে দেবেন। আর ঐসব মহিলাদের মধ্যে যাদের স্বামী জাহান্নামী হবে তাদেরকে জান্নাতের ঐসব পুরুষের সাথে আল্লাহ নিজের অভিভাবকত্বে বিয়ে দিয়ে দিবেন, যাদের স্ত্রীগণ চির স্থায়ী জাহান্নামী। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, পৃথিবীতে যদি কোন মহিলার একাধিক স্বামী থাকে এবং সকল স্বামীই যদি জান্নাতী হয় তবে ঐ মহিলাকে আল্লাহ কোন স্বামীর স্ত্রীত্বে দিবেন?এর উত্তর অবশ্য সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বর্ণিত আরেক হাদীস থেকেই পাওয়া যায়। উম্মুল মোমেনীন হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যে সব মহিলার একাধিক স্বামী আছে এবং ঐ স্বামীগণ যদি সকলেই জান্নাতী হোন তবে স্ত্রীকে তাদের মধ্যে কে লাভ করবে?
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে মহিলাকে সুযোগ ও স্বাধীনতা দেয়া হবে। তখন তার স্বামীদের মধ্যে যে কোন একজনকে সে বাছাই করে নিবে। সে বাছাই করবে ঐ স্বামীকে যে সর্বাধিক উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলো।
পুনরায় আরেকটি প্রশ্ন হতে পারে যে, একজন জান্নাতী পুরুষ অনেক হুর পাবে পক্ষান্তরে একজন জান্নাতী মহিলা শুধুমাত্র একজন স্বামী পাবে তাও সম্পুর্ণভাবে নিজের জন্য সংরক্ষিত থাকবে না, হুরগণ তার শরীক থাকবে। এটা কি ইনসাফ হতে পারে?
এর দুটি উত্তর হতে পারে এবং দুটিই এখানে প্রযোজ্য। প্রথমতঃ জান্নাতী একজন পুরুষ হুরপ্রাপ্তির কথা বাদ দিলে অন্যান্য যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে এবং যেসব খাদ্য ও পানীয় পাবে, তা একজন জান্নাতী মহিলাও ভোগ করতে পারবে এবং সেদিন ঐ সব মহিলার মধ্যে হতে ঈর্ষা এবং একাধিক পুরুষ ভোগের হীন মানসিকতা সম্পুর্ণরূপে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দূর করে দিবেন। তাই তারা পরস্পর সতীন সুলভ আচরণ বা ইর্ষা পোষন করবে না।
দ্বিতীয়তঃ পৃথিবীতে যেমন মহিলাগণ সংসারের পূর্ণ কর্তৃত্ব নিজের হাতে গ্রহণ করার জন্য সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকে এবং এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তাদের সমস্ত তৎপরতা আবর্তিত হয়। পক্ষান্তরে পুরুষদের মধ্যে এ ধরনের প্র্রবণতা লক্ষ্য করা যায় না। তাদের মধ্যে অবশ্য ভিন্নধর্মী প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়- যেমন একাধিক স্ত্রী গ্রহণ বা স্ত্রীদের প্রতি অতিরিক্ত দূর্বলতা। হয়তো জান্নাতেও সেদিন এ রকমের মন মানসিকতার কথা স্মরণ রেখেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুরুষদেরকে অনেক হুর দিবেন এবং খাদেমদের কর্তৃত্ব দেয়া হবে ঐ সব পূণ্যবতী স্ত্রীগণকে । (এ ব্যাপার আল্লাহই ভালো জানেন।) ঐ সমস্ত হুর এবং স্ত্রীগণ শুধু কুমারীই হবে না এমন অবস্থায় থাকবে যে, জান্নাতীদের স্পর্শের পূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বীন তাদেরকে স্পর্শ করেনি বা দেখেওনি। কেননা বিচারের পূর্বে কোন ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা তাই তাদেরকে দেখা বা স্পর্শ করাও সম্ভব নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী হবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে (জান্নাতীদের) পূর্বে কোন মানুষ অথবা জ্বীন স্পর্শ করেনি। (সূরা আর রাহ্‌মান-৫৬)

জান্নাতের হুরদের রূপ-সৌন্দর্য

হুরদের রূপ সৌন্দর্যের উপমা দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা এমনই সুন্দরী রূপসী, যেনো হীরা ও মুক্তা। (সূরা আর-রাহমান-৫৮)
সূরা ওয়াকিয়ার ২৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা এমন সুশ্রী ও সুন্দরী হবে যেনো (ঝিনুকের মধ্যে) লুকিয়ে থাকা মুক্তা। (সূরা ওয়াকিয়া-২৩)
আরও বলা হয়েছে, ‘তাদের নিকট (ভিন্ন পুরুষ হতে) দৃষ্টি সংরক্ষণকারী সুন্দর চক্ষু বিশিষ্ট নারীগণ থাকবে। এমন স্বচ্ছ, যেনো ডিমের খোসার নীচে লুকানো ঝিল্লি।’
বায়যুম মাকনুন বা ডিমের খোসার নীচে লুকানো ঝিল্লি-এ প্রসঙ্গে উম্মাহাতুল মুমেনীন হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা বলেন, আমি এ আয়াতের ব্যাখ্য আল্লাহর রাসূলের কাছে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি বলেছেন, তাদের (হুরদের) মসৃনতা ও স্বচ্ছতা হবে সেই ঝিল্লির মতো যা ডিমের খোসা ও তার কুসুমের মাঝে থাকে।

জান্নাতে সেবকগণ হবে চিরন্তন বালক

জান্নাতীদের জন্য হুরের পাশাপাশি গিলমান থাকবে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আর তাদের সেবা যত্নে সে সব বালক দৌড়াদৌড়ির কাজে নিযুক্ত থাকবে যারা কেবলমাত্র তাদের জন্যই নির্দিষ্ট। এরা এমন সুন্দর সুশ্রী হবে যেমন (ঝিনুকে) লুকিয়ে থাকা মুক্তা। (সূরা তুর-২৪)
গিলমান বা সেবকগণ হবে চিরন্তন বালক। এদের বয়স কোনদিনই বাড়বে না। এরা সেইসব বালক যারা বালেগ হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছে এবং তাদের মা -বাবা চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। ঐ বালকগণ জান্নাতীদেরকে বাসন-কোসন, খাদ্য, পানীয় ইত্যাদি পরিবেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে এবং তারা পুরুষ ও মহিলা উভয় ধরনের জান্নাতীদের নিকট অবাধে যাতায়াত করবে। অথবা তারা হবে এক নতুন সৃষ্টি যাদের কে আল্লাহ আপন মহিমায় জান্নাতীদের পরিচর্যা ও সেবার জন্য সৃষ্টি করবেন। আল্লাহর কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের সেবার জন্য এমন সব বালক ব্যস্ত সমস্ত হয়ে দৌড়াদৌড়ী করতে থাকবে যারা চিরদিনই বালক থাকবে । তোমরা তাদেরকে দেখলে মনে করবে এরা যেনো ছড়িয়ে দেয়া মুক্তা। (সূরা দাহর-১৯)
সূরা আল্‌ ওয়াকীয়ার ১৭-১৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের মজলিস সমূহে চিরন্তন ছেলেরা প্রবাহমান ঝর্ণার সূরায় ভরা পানপাত্র ও হাতলধারী সূরাভান্ড ও আবখোরা নিয়ে দৌড়াদৌড়ী করতে থাকবে।

জান্নাতে জান্নাতীদের পোষাক পরিচ্ছদ

জান্নাতে জান্নাতীদের পোষাক সম্পর্কে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন- জান্নাতুল আদ্‌নে (চিরন্তনী জান্নাত) যারা প্রবেশ করবে তাদেরকে সেখানে স্বর্ণের কংকন ও মনি -মুক্তার অলংকারে সজ্জিত করা হবে এবং তাদেরকে রেশমের কাপড় পরানো হবে। আরেক আয়াতে বলা হযেছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের ওপর সূক্ষ্ম রেশমের সবুজ পোশাক ও মখমলের কাপড় থাকবে। এবং তাদেরকে রৌপ্যের কংকন পরানো হবে। (সূরা দাহর-২১)
সূরা আল-কাহাফে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে তাদেরকে স্বর্ণের কংকন দ্বারা অলংকৃত করা হবে। তারা সূক্ষ্ন ও গাঢ় রেশমের সবুজ পোশাক পরিধান করবে এবং উচ্চ আসনের উপর ঠেস লাগিয়ে বসবে। এটা অতি উত্তম কর্মফল ও উঁচু স্তরের অবস্থান। (সূরা কাহাফ-৩১)
আর-রাহমানের ৭৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তারা সবুজ গালিচা ও সুন্দর সুরঞ্জিত শয্যায় এলায়িতভাবে অবস্থান করবে। (সূরা আর রাহ্‌মান-৭৬)
উপরোক্ত আয়াতসমূহের আলোকে বুঝা যায় যে উক্ত পোশাক এবং অলংকার পুরুষ ও মহিলা উভয়কেই পরানো হবে। অলংকার সাধারণতঃ মহিলাগণই পরে থাকে কিন্তু পুরুষদেরকে পরানো হবে, কথাটি আমাদের নিকট একটু খটকা লাগে। তবে গভীরভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যায় যে, প্রাচীনকালে এমন কি কুরআন যখন অবতীর্ণ হয়েছে তখনো রাজা বাদশাহগণ , সমাজপতি ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ হাতে, কানে, গলায়, পোষাক পরিচ্ছদে অলংকার  ও মুকুট ব্যবহার করতেন। এককালে আমাদের দেশের রাজা, বাদশাহ ও জমিদারগণ বিভিন্ন প্রকার অলংকার পরতেন। সত্যি কথা বলতে কি, তখন পুরুষদের অলংকারাদি ছিলো কৌলিন্যের প্রতীক। এ কথা সুরা যুখরুফের একটি আয়াতে প্রমাণিত হয়। যখন হযরত মুসা আলাইহিস্‌ সালাম জাঁকজমকহীন পোষাকে শুধুমাত্র একটি লাঠি হাতে ফেরাউনের দরবারে গেলেন, ফেরাউনকে দাওয়াত দেয়ার জন্যে, তখন সে সভাসদকে লক্ষ্য করে বলে উঠলো-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এ যদি আসমান জমিনের বাদশাহ্‌র নিকট হতে প্রেরিতই হতো তবে তাকে স্বর্ণের কংকন পরিয়ে দেয়া হলো না কেন? কিংবা ফেরেশতাদের একটা বাহিনীই না হয় তার আর্দালী হয়ে আসতো। (সূরা যুখরুফ-৫৩)
কোথাও স্বর্ণের কংকন আবার কোথাও রৌপ্যের কংকন পরানোর কথা বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মওদুদী (রাহঃ) বলেন, এ সব কটি আয়াত একত্র করে পাঠ করলে তিনটি অবস্থা সম্ভব বলে মনে হয়। প্রথমতঃ তারা কখনো স্বর্ণের এবং  রৌপ্যের কংকন পরতে চাবে, আর উভয় জিনিসই তাদের ইচ্ছেনুযায়ী  থাকবে। দ্বিতীয়তঃ স্বর্ণ ও রৌপ্যের কংকন তারা একসঙ্গে পরবে। কেননা, তাতে সৌন্দর্য্যের মাত্রা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়ে যাবে। তৃতীয়তঃ যার ইচ্ছে হবে স্বর্ণের কংকন পরবে এবং যার ইচ্ছে হবে রৌপ্যের কংকন পরবে।
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের সম্মুখে রৌপ্য নির্মিত পাত্র ও কাঁচের পেয়ালা আবর্তিত করানো হবে। সে কাঁচ- যা রৌপ্য জাতীয় হবে এবং সেগুলোকে পরিমাণ মতো ভরতি করে রাখা হবে। (সূরা দাহ্‌র-১৫-১৬)
অন্যত্র বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের সামনে সোনার থালা ও পান পাত্র আবর্তিত হবে এবং মন ভুলানো ও চোখের তৃপ্তিদানের জিনিসসমূহ সেখানে বর্তমান থাকবে। তাদেরকে বলা হবে এখন তোমারা চিরদিন এখানে থাকবে। (সূরা যুখরুফ-৭১)
এখানেও দেখা যাচ্ছে কোথাও স্বর্ণের এবং কোথাও রৌপ্যের পাত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে স্বর্ণের অথবা রৌপ্যের পান পাত্র একত্রে অথবা পৃথক পৃথক ব্যবহার করা হবে। তবে রৌপ্যের পাত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে যে, সে পাত্রগুলো যদিও রৌপ্যের তৈরী হবে তবুও তা কাঁচের মতো স্বচ্ছ দেখা যাবে, যা দেখলে কাঁচের মতোই মনে হবে কিন্তু কাঁচের মতো ভঙ্গুর হবে না। ঠিক তদ্রুপ স্বচ্ছ বালাখানার কথাও হাদীসে উল্লেখ আছে। বিশ্বনবী বলেছেন, জান্নাতের মধ্যে এমন বালাখানা আছে (স্বচ্ছতার কারণে) যার ভিতরের অংশ বাইরে থেকে এবং বাইরের অংশ ভিতর থেকে দেখা যায়। (তাবারানী, যাদেরাহ)
আল্লাহর রাসূল আরো বলেন, তাদের চিরুনী হবে স্বর্ণের তৈরী, তাদের ধূপদানী সুগন্ধ কাঠ দিয়ে জ্বালানো হবে। (বুখারী, মুসলিম)

জান্নাতের নিম্ন দেশে নহর প্রবাহিত থাকবে

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
ঐ সমস্ত ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদ! যারা আমলে সালেহ (সৎকাজ) করবে, তাদের জন্য এমন সব বাগান সমূহ আছে যার নিম্নদেশ দিয়ে নদীসমুহ প্র্রবাহিত হবে। (সূরা আল্‌ বাকারা -২৫)
অন্যত্র বলা হয়েছে- নিঃসন্দেহে মুত্তাকীগণ নিরাপদ স্থানে থাকবে এবং  সেখানে অনেক বাগান ও ঝর্ণা থাকবে। (সূরা দোখান -৫১-৫২)
সূরা যারিয়াতে বলা হয়েছে- অবশ্য মুত্তাকী লোকেরা সেদিন বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারা সমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান করবে। তাদের রব তাদেরকে যা দিবেন সানন্দে তা তারা গ্রহণ করতে থাকবে। (এটা এজন্য যে,) তারা এর আগে মুহসিন (সদাচারী) বান্দা হিসাবে পরিচিত ছিলো। (সূরা যারিয়াত-১৫-১৬)
বাগান সমূহের নীচ দিয়ে নদী প্রবাহের অর্থ হচ্ছে, বাগান সমূহের পাশ দিয়ে নদী-নালা প্রবাহমান থাকবে। কেননা বাগ-বাগিচা যদিও নদীর কিনারে হয় তবু তা নদী থেকে একটু উঁচু জায়গায়ই হয়ে থাকে এবং নদী ও বাগান থেকে সামান্য নীচু দিয়েই প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে সমস্ত জায়গায় ঝর্ণার কথা বলা হয়েছে সেখানে বাগান এবং ঝর্ণা একত্রে থাকবে একথাই বলা হয়েছে। আমরা জানি বাগানের মধ্যে বা একই সমতলে ঝর্ণা থাকা সম্ভব। শুধু সম্ভবই নয় বাগানের শোভা বর্ধনের একটি অন্যতম উৎস ও বটে। তাই কুরআনের ভাষা হচ্ছেঃ সেদিন তারা বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণা সমূহের পরিবেষ্টনে অবস্থান করবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- জান্নাতের ছায়া তাদের উপর বিস্তৃত হয়ে থাকবে এবং তার ফল সমূহ সর্বদা আয়ত্বের মধ্যে থাকবে। (সূরা দাহর-১৪)
একই জায়গায় নানা ধরনের ফুল-ফলের বাগান, বড়ো বড়ো ছায়াদার বৃক্ষরাজি, ঝর্ণাসমূহ, সাথে বিশাল আয়তনের অট্টালিকাসমূহ, পাশ দিয়ে প্রবাহমান নদী-নালা, একত্রে এগুলোর সমাবেশ ঘটলে পরিবেশ কতো মোহিনী মনোমুগ্ধকর হতে পারে তা লিখে বা বর্ণনা করে বুঝানো কোন ক্রমেই সম্ভব নয় শুধুমাত্র মনের চোখে কল্পনার ছবি দেখলে কিছুমাত্র অনুমান করা সম্ভব । জান্নাতে মোট চার ধরনের নদী প্রবাহিত হবে। যথা- (১) পানি (২) দুধ (৩) মধু (৪) শরাব। তাছাড়া তিন ধরনের ঝর্ণা প্রবাহমান থাকবে। (১) কাফুর নামক ঝর্ণা । এর পানি সুঘ্রাণ এবং সুশীতল। (২) সালসাবিল’ নামক  ঝর্ণা । এর পানি ফুটন্ত চা ও কফির ন্যায় সুগন্ধযুক্ত ও উত্তপ্ত থাকবে। (৩) তাছনীন নামক ঝর্ণা। এর পানি থাকবে নাতিশীতোষ্ণ।

জান্নাতে স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট পানির নদী প্রবাহমান থাকবে

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
মুত্তাকী লোকদের জন্য যে জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছিলো তার পরিচয় হচ্ছে, সেখানে স্বচ্ছ ও সুমিষ্ট পানির নদী প্রবাহমান থাকবে। এমন দূধের নদী প্রবাহিত হবে যা কখনো বিস্বাদ হবে না। এমন শরাবের নদী প্রবাহিত হবে যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু ও সুপেয় ( নেশাহীন ) হবে। (তাছাড়া) স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন মধুর নদীও প্রবাহিত হবে। (সূরা মুহাম্মদ-১৫)
জান্নাতীদের খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন- মুত্তাকী লোকেরা সেখানে বাগান সমূহে ও নিয়ামত সম্ভারের মধ্যে অবস্থান করবে। মজা ও স্বাদ আস্বাদন করতে থাকবে সে সব জিনিসের যা তাদের রব তাদেরকে দিবেন। আর তাদের রব তাদেরকে জাহান্নামের আজাব হতে রক্ষা করবেন। (তাদেরকে বলা হবে) খাও এবং পান করো মজা ও তৃপ্তির সাথে। এটা  তো তোমাদের সে সব কাজের প্রতিফল যা তোমরা (পৃথিবীতে) করছিলে। (সূরা তুর-১৭-১৯)
অন্যত্র বলা হয়েছে- সেখানে তারা বাঞ্ছিত সুখভোগে লিপ্ত থাকবে। (তাদের অবস্থান হবে) জান্নাতের উচ্চতম স্থানে। যার ফল সমূহের গুচ্ছ ঝুলতে থাকবে। (বলা হবে) খাও এবং পান করো, তৃপ্তি  সহকারে। সে সব আমলের বিনিময় যা তোমরা অতীত দিনে করেছো। (সূরা আল্‌ হাক্কাহ- ২১-২৪)

জান্নাতে কোন কোলাহল থাকবে না

মহান আল্লাহ আরো বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেখানে তাদের জন্য সর্ব প্রকারের ফল থাকবে এবং আরও থাকবে তাদের রবের নিকট হতে ক্ষমা। (সূরা মুহাম্মদ-১৫)
সূরা ওয়াকিয়ায় বলা হয়েছে- আর খাদেমগন তাদের সামনে রং বেরংয়ের ফল পেশ করবে, যেনো তারা তাদের যা পছন্দ তাই তুলে নিতে পারে। এছাড়া (বিভিন্ন) পাখীর গোশতও সামনে রাখবে, যে পাখীর গোশত ইচ্ছে নিয়ে খেতে পারবে।
সূরা আত্‌-তুরে বলা হয়েছে- আমরা তাদেরকে ফল গোশ্‌ত তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী খুব বেশী বেশী করে দিতে থাকবো। তারা প্রতিযোগীতামূলকভাবে পানপাত্র সমূহ গ্রহণ করতে থাকবে কিন্তু সেখানে কোন প্রকার হৈ-হল্লা বা কোলাহল হবে না।

জান্নাতের পানীয় দ্রব্যের ধরন

পানীয় দ্রব্যের ধরন ও প্রকৃতি সম্পর্কে সূরা সাফ্‌ফাত-এ বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
শরাবের ঝর্ণা সমূহ হতে পানপাত্র পূর্ণ করে তাদের মধ্যে পরিবেশন করা হবে। তা উজ্জল পানীয়, পানকারীদের জন্য সুপেয় ও সুস্বাদু হবে কিন্তু তাদের দেহে সেটা কোন ক্ষতি করবেনা এবং তাদের বোধ শক্তিও বিলোপ হবে না। (সূরা সাফ্‌ফাত)
যদিও শরাবের আকৃতি পৃথিবীর শরাবের মতো দেখা যাবে কিন্তু তা হবে অত্যন্ত পবিত্র ও সুগন্ধযুক্ত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের রব তাদেরকে পবিত্র পরিচ্ছন্ন (নেশাহীন) শরাব পান করাবেন। (সূরা দাহর- ২১)
সূরা দাহ্‌র-এর ১৭-১৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে সেখানে এমন সূরাপাত্র পান করানো হবে যাতে আদ্রক জাতীয় দ্রব্যের সংমিশ্রন থাকবে। এটা হবে জান্নাতের সালসাবিল নামক ঝর্ণাধারা। (সূরা দাহ্‌র)
উক্ত শরাবের আরো দু’টি বৈশিষ্ট্য বলা হয়েছে-সুরা মুতাফ্‌ফিফীনে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদেরকে উত্তম উৎকৃষ্ট মুখবন্ধকৃত শরাব পান করানো হবে এবং তার উপর মিশ্‌কের সীল লাগানো থাকবে। (সূরা মুতাফ্‌ফিফীন- ২৫-২৬)
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সে শরাবে তাসনীম মিশ্রিত হবে। এটা একটি র্ঝণা। সে ঝর্ণার পানির সাথে নিকটবর্তী লোকেরা শরাব পান করবে। (সূরা মুতাফ্‌ফিফীন-  ২৭-২৮)

জান্নাতীদের মল-মুত্র ত্যাগ করতে হবে না

হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু আল্লাহর রাসূল থেকে বর্ণনা করেছেন যে- তিনি বলেছেন, জান্নাতীগণ জান্নাতের খাবার খাবে এবং পানীয় বস্তু পান করবে কিন্তু সেখানে তাদের পায়খানা প্রস্রাবের প্রয়োজন হবে না, এমনকি তাদের নাকে ময়লাও জমবে না। ঢেকুরের মাধ্যমে তাদের পেটের খাদ্র দ্রব্য হজম হয়ে মিশ্‌কের সুগন্ধির মতো বেরিয়ে যাবে। শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণের মতোই তারা তাসবীহ্‌ তাকবীরে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।’ (মুসলিম)
অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘তাদেরকে পেশাব পায়খানা করতে হবে না, মুখে থুথু আসবেনা, আর নাকে কোনরূপ ময়লা জমবে না।’ (বুখারী, মুসলিম)

জান্নাতের ফল-মূল

আল্লাহর কোরআনে বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
তাদের জন্য চেনা-জানা রিজিক রয়েছে। সর্ব প্রকার সুস্বাদু দ্রব্যাদি এবং সেখানে তারা সম্মানের সাথে বসবাস করবে। (সূরা আছ্‌-ছাফ্‌ফাত- ৪১-৪২)
পবিত্র কোরআনে আরো বলা হয়েছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
জান্নাতের ফল দেখতে পৃথিবীর ফলের মতোই হবে। যখন কোন ফল তাদের দেয়া হবে খাবার জন্য, তখন তারা বলবে-  এ ধরনের ফল তো আমরা পৃথিবীতেই খেয়েছি। (সূরা বাকারা-২৫)
ফলগুলো যদিও পৃথিবীর মতো হবে কিন্তু স্বাদে ও গন্ধে সম্পূর্ণ উন্নত ও ভিন্ন ধরনের হবে।  প্রতিবার খাওয়ার সময়ই তার স্বাদ গন্ধ ক্রমশঃ বৃদ্ধিই পেতে থাকবে। এখানে প্রশ্ন হতে পারে যে, পৃথিবীতে দুঃখ আছে বলেই সুখকে আমরা উপভোগ করতে পারি কিন্তু জান্নাতে যদি দুঃখ না থাকে তবে শুধু সুখ উপভোগ করা যাবে কি? বা সুখ ভোগ করতে করতে একঘেয়েমি লাগবে না? এর দু’টি উত্তর হতে পারে। প্রথমতঃ জান্নাতীগণ জাহান্নামীদের অবস্থা অবলোকন করতে পারবে এবং কথোপোকথনও হবে তাই তাদের সুখকে জাহান্নামীদের সাথে তুলনা করতে কষ্ট হবে না এবং সে সুখে এক ঘেয়েমিও আসবে না। দ্বিতীয়তঃ দুঃখ না থাকলেও সুখের মাত্রা স্থিতিশীল হবে না, পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কাজেই সে সুখভোগ কখনো ক্লান্তি আসবে না বরং সুখভোগের অনুভূতি তীব্র হতে তীব্রতর হবে।

জান্নাতে আত্মীয়-স্বজন

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তান ও ঈমানের কোন মাত্রায় তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে, তাদের সে সন্তানদেরকে আমরা (জান্নাতে) তাদের সাথে একত্রিত করবো, আর তাদের আমলে কোন কমতি করা হবে না। (সূরা তুর- ২১)
সুরা রা’দে বলা হয়েছে- তারাতো চিরন্তন জান্নাতে প্রবেশ করবেই, তাদের সাথে তাদের বাপ-দাদা, তাদের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা, সৎ ও নেক্‌কার তারাও তাদের সাথে সেখানে (জান্নাতে) যাবে। ফেরেশতাগণ চারদিক হতে তাদেরকে সম্বর্ধনা দিতে আসবে এবং বলবে তোমাদের প্রতি শান্তি। (সূরা রা’দ- ২৩)
সন্তানগণ যদি বাপদাদার মতো উত্তম ঈমান এবং আমলের অধিকারী না-ও হয় শুধুমাত্র জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছার যোগ্যতা অর্জন করে তবে পিতৃপুরুষদের উত্তম আমলের বদৌলতে এবং তাদের মর্যাদার দিকে চেয়ে ঐ সন্তানগণকেও ঐ রকম মর্যাদা দিয়ে একত্রিত করা হবে। কিন্তু সন্তানের সাথে মিলনের জন্য বাপদাদার মর্যাদার হ্রাস করা হবে না, আর সে মিলন ক্ষণস্থায়ী হবে না, তা হবে চিরস্থায়ী।
এখানে উল্লেখ্য যে, যে সমস্ত সন্তান অপ্রাপ্ত বয়সে মৃত্যু বরণ করে তাদের কথা বলা হয়নি, কেননা তাদের ব্যাপারে তো কুফুর, ঈমান, আল্লাহর অনুগত্য ও নাফরমানীর প্রশ্নই উঠে না। সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, তারা এমনিই জান্নাতে যাবে এবং মা বাপের সন্তোষ্টির জন্য তাদের সাথে একত্রিত করে দেয়া হবে।

জান্নাতীদের শ্রেণী বিভাগ

আল্লাহর কোরআনে জান্নাতীদেরকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ (১) ডান বাহুর লোক (২) অগ্রবর্তী লোক। সূরা ওয়াকিয়ায় বলা হচ্ছে-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
অতঃপর ডানবাহুর লোক। ডানবাহুর লোকের (সৌভাগ্যের কথা) কি বলা যায়? (সূরা ওয়াকিয়া)
মহান আল্লাহ বলেন-             
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আর অগ্রবর্তী লোকেরা তো (সকল ব্যাপারে) অগ্রবর্তীই। তারাই তো সান্নিধ্যশালী লোক। (সূরা ওয়াকীয়া-  ১০-১১)
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, ‘জান্নাতীরা তাদের উপরতলার কক্ষের লোকদেরকে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন করে তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিগন্তে উজ্জল তারকাগুলো দেখতে পাও। তাদের পরস্পর মর্যাদার পাথর্কেøর কারণে এরূপ হবে। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ স্তর গুলো কি নবীদের যা অন্য কেউ লাভ করতে পারবে না? তিনি বললেনঃ কেন পারবে না। সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছে এবং নবীদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারা ঐ স্তরে যেতে সক্ষম হবে।’ (বুখারী, মুসলিম)
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট জানা যায় যে, জান্নাতীদের আমলের তারতম্যের কারণে সেখানে তাদের মর্যাদাও বিভিন্ন রকম হবে। অনেক হাদীসে জান্নাতীদের নেয়ামতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে নিম্নমানের এক জান্নাতীকে নানা বস্তু দেয়া হবে। এতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তাদের আমল ও মর্যাদা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের জান্নাত দিবেন। নিম্নোক্ত হাদীস দু’টো এ কথারই প্রমান করে।
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, সবচেয়ে নিম্নমানের একজন জান্নাতী ৮০ হাজার খাদেম, ৭২জন স্ত্রী পাবে। এবং ঐ সমস্ত স্ত্রীগণ যে সমস্ত ওড়না ব্যবহার করবে তার মধ্যে জামরুদ, মুক্তা ও ইয়াকুতের কারুকার্য খচিত হবে। (তিরমিজি)
বিশ্বনবী বলেন, ‘মহান আল্লাহ বলেছেন- আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য যা কিছু রেখেছি তা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান তা শুনেনি, কোন হৃদয়ও তা কল্পনা করতে পারেনি। (হাদীসে কুদ্‌সী-বুখারাী, মুসলিম)
এ হাদীস থেকে বুঝা যায় কুরআন ও হাদীসে জান্নাতের যে আলোচনা করা হয়েছে তা সাধারণভাবে সকল জান্নাতীদের জন্য প্রযোজ্য কিন্তু যারা আল্লাহর প্রিয় ও সালেহ বান্দাহ তাদেরকে এর অতিরিক্ত আরও কিছু দিবেন তার বর্ণনা আল্লাহ কোথাও করেননি। শুধু এ ইঙ্গিতটুকু দেয়াই যথেষ্ট মনে করেছেন।
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, ‘মূসা আলাইহিস্‌ সালাম তাঁর প্রভূকে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে কম মর্যাদার জান্নাতী কে? আল্লাহ বললেন, সে ঐ ব্যক্তি যে জান্নাতীদেরকে জান্নাত বন্টনের পর আসবে। তাকে বলা হবেঃ জান্নাতে প্রবেশ করো। সে বলবেঃ হে প্রভু! সব লোক নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান নিয়েছে এবং নিজেদের প্রাপ্য অংশ গ্রহণ করেছে, তাই আমি এখন কিভাবে জান্নাতে স্থান পাবো? তাকে বলা হবে, তোমাকে যদি পৃথিবীর কোন বাদশাহ বা শাসকের রাজ্যের সমান এলাকা দেয়া হয়, তবে কি তুমি খুশী হবে? তখন সে বলবে, প্রভূ আমি রাজী আছি। আল্লাহতায়ালা তাকে বলবেনঃ তোমাকে তাই দেয়া হলো। এর পরও তার সমান আরও দেয়া হলো। এরপর তার সামন আরো এবং এরপর ঐগুলোর সমান আরও অতিরিক্ত দেয়া হলো। পঞ্চমবারে সে বলবে, প্রভু! আমি সন্তুষ্ট হলাম। অতপর আল্লাহ বলবেন, তোমাকে সবগুলোর সমান আরও দশগুন দেয়া হলো। সে বলবে, হে প্রভূ আমি খুশী হয়েছি।’ (মুসলিম)
রাসূল আরও বলেছেন, এক ব্যক্তি নিতম্বের উপর ভর দিয়ে হেচ্‌ড়াতে হেচ্‌ড়াতে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন- যাও, জান্নাতে প্রবেশ করো।
সে জান্নাতের কাছে গেলে তার মনে হবে ইতিমধ্যেই জান্নাত পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন! জান্নাত তো পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তখন মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করো। সে আবার যাবে কিন্তু তার মনে হবে ইতিমধ্যে তা পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভূ! আমি দেখলাম জান্নাত ভরপুর হয়ে গিয়েছে। তখন সে মহান আল্লাহর কথায় আবার যাবে এবং ফিরে এসে আগের মতোই বলবে। পরিশেষে মহান আল্লাহ বলবেনঃ তুমি জান্নাতে যাও। কেননা তোমার জন্য পৃথিবীর সমপরিমান এবং অনুরূপ আরো দশগুণ অথবা পৃথিবীর মতো দশগুণ জায়গা নির্মিত হয়েছে। তখন লোকটি বলবে, হে আল্লাহ! আপনিও কি আমাকে বিদ্রূপ করছেন? অথচ আপনি সবকিছুর একচ্ছত্র মালিক। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু বলেন, আমি দেখলাম আল্লাহর রাসূল একথা বলে এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর পবিত্র দাঁত দেখা যাচ্ছিল। তিনি বলছিলেন, এ ব্যক্তি হবে সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদার জান্নাতী। (বুখারী, মুসলিম)

জান্নাতীদের সবচেয়ে বড় নেয়ামত

জান্নাতে জান্নাতীদের সাথে স্বয়ং আল্লাহ সাক্ষাৎ করবেন। আল্লাহ্‌র দর্শনের ব্যাপারে আল্‌-কুরআনে মাত্র দু’জায়গায় আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল্‌ কিয়ামাহ্‌ এবং সূরা আল্‌ মুতাফ্‌ফিফীনে। বলা হচ্ছে-     
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
সেদিন কিছু সংখ্যক মুখমন্ডল উজ্জ্বল ও উদ্‌ভাসিত হবে এবং নিজের রবের দিকে তাকাতে থাকবে। (সূরা কিয়ামাহ্‌-  ২২-২৩)
কোরআনে অন্যত্র বলা হয়েছে-  
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
কখনই নয়। নিঃসন্দেহে সেদিন এ লোকদেরকে তাদের রব-এর দর্শন হতে বঞ্চিত রাখা হবে। (সূরা মুতাফ্‌ফিফীন-১৫)
তাছাড়া বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থেও আল্লাহ্‌র দর্শন প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, সেদিন দর্শনের ব্যাপারটা কিভাবে সম্পন্ন হবে? প্রতি উত্তরে বলা যেতে পারে যে, তা আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন। কেননা আমরা পৃথিবীতে কোন বস্তু দেখতে হলে নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে দেখে থাকি। যেমনঃ (ক) বস্তুর নির্দিষ্ট একটি আকার আয়তন থাকা। (খ) বস্তুর উপর আলোকের প্রতিফলন ঘটে আমাদের চোখে তার প্রতিবিম্ব পড়া। (গ) প্রতিবিম্বটি উল্টা প্রতিফলিত হয় মস্তিষ্ক তা সোজা করে দেখতে সাহায্য করে। (ঘ) চক্ষু নামক একটি দর্শনেন্দ্রিয় থাকা এবং তা কার্যক্ষম থাকা।
উপরোক্ত শর্তাবলীর ব্যত্যয় ঘটলে দেখা সম্ভব নয়। তখনই প্রশ্ন আসে আল্লাহ্‌তো নিরাকার। উপরোক্ত শর্তসাপেক্ষে আল্লাহ্‌ দেখেন না। তবে কি করে তিনি দেখেন? তার উত্তর আমাদের কাছে অজানা। তবে আমরা শুধু এতটুকু বুঝতে পারি যে, যেভাবে আল্লাহ্‌ তাঁর সৃষ্ট বিশ্বলোক দেখে থাকেন সেভাবেই মানুষ সেদিন আল্লাহ্‌কে দেখবে অথবা আল্লাহ্‌ সেদিন অন্য কোন পদ্ধতিতে দেখার ব্যবস্থা করে দেবেন। আল্লাহর রাসূল বলেছেন যে, আল্লাহর কসম, জান্নাতীদের জন্য আল্লাহর দর্শন ব্যতিরেকে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় আর কিছুই হবে না। (তিরমিজি)
অন্যত্র বলা হয়েছে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্‌ জান্নাতবাসীদের বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা বলবে হে আমাদের প্রভূ, আমরা উপস্থিত। সমস্ত মঙ্গল ও কল্যাণ আপনার হাতে, কি আদেশ বলুন! আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমরা কি তোমাদের আমলের প্রতিদান পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছো? জান্নাতীগণ জবাব দেবে- হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন সব নেয়ামত দান করেছেন যা অন্য কাউকে দেননি। অতএব আমরা সন্তুষ্ট হবো না কেনো? তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও অধিক উত্তম ও উন্নত জিনিষ দান করবো না? তারা বলবে এর চেয়ে অধিক ও উত্তম বস্তু আর কী হতে পারে? তখন আল্লাহ্‌ বলবেন, আমি চিরকাল তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট থাকবো। কোন দিন আর অসন্তুষ্ট হবো না। অন্য হাদীসে আছে এ কথা শুনে জান্নাতীগণ তাদের সমস্ত নেয়া’মতের কথা ভুলে যাবে। কেননা এ সুসংবাদ-ই হচ্ছে তাদের কাছে সবচেয়ে বড়ো নেয়ামত। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিজি)

জান্নাতীদেরকে হাউজে কাউছার থেকে পান করানো হবে

কোরআন হাদীস থেকে জানা যায় কিয়ামতের ময়দানে জান্নাত হতে প্রবাহিত দু’টো পানির ধারা এনে একটা বিশাল হাউজে জমা করা হবে। ওই হাউজটার নাম হলো হাউজে কাউছার। উক্ত হাউজের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মহান আল্লাহ দান করবেন তার সর্বাধিক প্রিয় বন্ধু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে। তিনি তাঁর ওই সকল উম্মতকে উক্ত হাউজ হতে পানি পান করাবেন যারা পৃথিবীতে কোরআনের বিধান অনুসরণ করতো।
মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর রাসূলকে অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে হাউযে কাওসারও দান করেছেন। হাওযে কাওসার সম্পর্কে হাদীসে এত অধিক বর্ণনা এসেছে যে, এর যথার্থতা সম্পর্কে একবিন্দু সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। হাউযে কাওসার সম্পর্কে সিয়াহ্‌ সিত্তাহ্‌ হাদীসের সমস্ত বর্ণনা গুলো একত্রিত করলে বিশাল একটি গ্রন্থ রচিত হবে। মৃত্যুর পরবর্তীতে জীবনে কিয়ামতের ময়দানে প্রবল তৃষ্ণায় মানুষ যখন পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকবে, তখন সেই হাউযে কাওসার থেকে আল্লাহর রাসূল তাঁর অনুসারীদেরকে পানি পান করিয়ে পিপাসা নিবৃত্ত করবেন।
শুধু তাই নয়, জান্নাতেও তাঁকে কাওসার নামক একটি নহর দেয়া হবে। কিয়ামতের ময়দানে রাসূলের সমস্ত উম্মত প্রবল পিপাসায় কাতর হয়ে ছুটবে হাউযে কাওসারের দিকে। রাসূল সে সময়ে হাউযে কাওসারে মাঝখানে উচ্চ আসনে উপবিষ্ট থাকবেন। রাসূল সবার পিপাসা নিবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে পানি দেয়ার প্রস্ততি গ্রহণ করবেন। এ সময় ঐ লোকগুলোকে দেখিয়ে রাসূলকে বলা হবে, হে আল্লাহর রাসূল! এই লোকগুলো আপনার আদর্শের সাথে বিরোধিতা করেছে, অনেকে আপনার আদর্শ বিকৃত করেছে এবং নতুন প্রথা উদ্‌ভাবন করেছে। রাসূল তখন সেই লোকগুলো তাড়িয়ে দেবেন।
হাউযে কাওসার সম্পর্কে হাদীসে বলা হয়েছে, জান্নাতের কাওসার নহর থেকে দুটো প্রবাহমান ধারা এনে হাউযে কাওসারের সাথে সংযোগ ঘটানো হবে। এর পানি দুধের বা বরফের অথবা রোপার থেকেও শুভ্র দেখাবে, আরামদায়ক ঠান্ডা হবে এবং মিষ্টির দিক থেকে হবে মধুর থেকেও মিষ্টি। এই হাউযের নিচের মাটি হবে মিশ্‌কের সুগন্ধিযুক্ত। নিচের অংশে থাকবে মহামূল্যবান হীরা, জহরত ও মণিমুক্তা। এর ওপর দিয়েই অতুলনীয় স্বাদযুক্ত সেই পানি প্রবাহিত হতে থাকবে। এর দুই পাড় হবে স্বর্ণ নির্মিত।

কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না

সাধারণ মানুষদের মধ্যে যারা জান্নাতি হবেন তারাই ডান পাশের দলে অবস্থান করবে। জান্নাতে কুমারীগণ ওই সমস্ত নারীই হবেন পৃথিবীতে যারা ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন-যাপন করেছেন। পৃথিবীতে তারা বৃদ্ধা অবস্থায় ইন্তেকাল করলেও জান্নাতে তারা হবেন নব যৌবনা। দুনিয়ায় তারা সুন্দরী অথবা কুৎসিত থাকুন না কেন, জান্নাতে তারা হবেন অকল্পনীয় সুন্দরী। তারা একাধিক সন্তানের মা হয়ে ইন্তেকাল করলেও জান্নাতে হবেন চির কুমারী। স্বামীর সাথে অসংখ্য বার মিলিত হলেও তাদের কুমারীত্ব মুছে যাবে না। এসব সৌভাগ্যবতী নারীগণের স্বামীগণও যদি জান্নাতবাসী হন, তাহলে সেখানে তারা একে অপরকে লাভ করবে। অন্যথায় তাদের নতুন করে বিয়ে হবে।
তিরমিজি শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে, একদিন এক বৃদ্ধা নারী আল্লাহর রাসূলের কাছে এসে বললো- ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমার জন্যে আপনি দোয়া করুন। আমি যেন আল্লাহর জান্নাত লাভ করতে পারি। আল্লাহর রাসূল সাধারণত মৃদু রসিকতা করে মানুষকে অনেক সময় আনন্দ দিতেন। ওই বৃদ্ধার সাথে রসিকতা করে তিনি বললেন, কোন বৃদ্ধা তো জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না! (একটা কথা মনে রাখতে হবে, রাসূল রসিকতা করতেন বটে, কিন্তু সে রসিকতা হতো সত্য ও ন্যায় ভিত্তিক। কাল্পনিক কোন কথা বা মিথ্যে কথা দ্বারা তিনি রসিকতা করতেন না)
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শুনে বৃদ্ধা হতাশ হয়ে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে চলে যেতে লাগলো। আল্লাহর রাসূল অন্য সাহাবাদের বললেন, তোমরা ওই নারীকে ডেকে বলে দাও, কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবেনা। আল্লাহ যে নারীদেরকে জান্নাত দান করবেন তাদেরকে তিনি কুমারী করে পয়দা করবেন।
তাবারানীতে হযরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহার একটি বর্ণনায় পাওয়া য়ায় যে, তিনি আল্লাহর রাসূলের কাছে কোরআনে বর্ণিত জান্নাতের কুমারীগণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছিলেন। আল্লাহর নবী বলেছিলেন, এরা হলো সেই সব নারী যারা পৃথিবীতে মৃত্যুবরণ করেছিল। আর তারা ছিল বৃদ্ধা। তাদের চোখ ছিল কোঠরাগত। মাথার চুল ছিল পাকা এবং সাদা। তারা এরূপ বৃদ্ধা হবার পরেও আল্লাহ তাদেরকে কুমারী করে পয়দা করবেন।
মৃত্যুর পরবর্তী জীবন তথা আখিরাতের অনন্তকালের জীবনে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা এবং মহানে’মাত মন্ডিত জান্নাত লাভের সর্বপ্রথম শর্ত হলো, ইবাদাত তথা দাসত্ব করতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর এবং ইবাদাত হতে হবে শিরক্‌ মুক্ত। আল্লাহর আদেশে নামাজ-রোজা আদায় করা হলো, সেই সাথে জাগতিক কোনো ব্যাপারে বিপদগ্রস্ত হয়ে বা সন্তান লাভের আশায় পীর সাহেবের দরবারে অথবা মাজারে মৃত মানুষের কাছে গিয়ে সাহায্য চাওয়া হলো। আল্লাহর আইনের পরিবর্তে মানুষের বানানো আইন সন্তুষ্টির সাথে মেনে চলা হলো। আল্লাহর ভয়কে প্রাধান্য না দিয়ে অন্য কোনো শক্তির ভয়কে প্রাধান্য দেয়া হলো আর এসবই হলো শিরক্‌যুক্ত ইবাদাত। আখিরাতের ময়দানে যে ব্যক্তির আমলনামায় সামান্যতম শির্‌কের গন্ধ থাকবে, আল্লাহ তা’য়ালা তার দিকে দৃষ্টি দেবেন না এবং তার আমলনামা ধূলার মতোই উড়িয়ে দেয়া হবে। পরিণামে সে ব্যক্তিকে জাহান্নামে যেতে হবে।
সুতরাং জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্য মহান আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ হিসাবে গ্রহণ করে শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাত তথা দাসত্ব করতে হবে, তাহলে কিয়ামতের কঠিন দিনে আখিরাতের ময়দানে আযাব থেকে মুক্ত থাকা যাবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাত লাভ করা যাবে। মহান আল্লাহ বলেন-
আরবী,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এক আল্লাহই তোমাদের ইলাহ, সুতরাং যে তার রব-এর সাক্ষাতের প্রত্যাশী তার সৎকাজ করা উচিত এবং ইবাদাতের (দাসত্বের) ক্ষেত্রে নিজের রব-এর সাথে কাউকে শরীক করা উচিত নয়। (সূরা কাহ্‌ফ-১১০)

 সমাপ্ত

_____________________________________________বই সম্পর্কিত তথ্যাবলী

আখিরাতের
জীবন চিত্র
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
গ্লোবাল পাবলিশিং নেটওয়ার্ক
৬৬ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজার, ঢাকা- ১১০০
ফোনঃ ৮৩১৪৫৪১, মোবাইলঃ ০১৭১২৭৬৪৭৯
আখিরাতের জীবন চিত্র
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
সার্বিক সহযোগিতায়ঃ মাওলানা রাফীক বিন সাঈদী
অনুলেখকঃ আব্দুস সালাম মিতুল
প্রথম প্রকাশঃ ২০০৪ জুলাই
প্রকাশকঃ গ্লোবাল পাবলিশিং নেটওয়ার্ক
৬৬ প্যারীদাস রোড, বাংলাবাজর, ঢাকা- ১১০০
ফোনঃ ৮৩১৪৫৪১, মোবাইলঃ ০১৭১২৭৬৪৭৯
কম্পিউটার কম্পোজঃ এ জেড কম্পিউটার এন্ড প্রিন্টার্স
৪৩৫/এ-২ মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেট, ঢাকা-১২১৭
প্রচ্ছদঃ কোবা কম্পিউটার এন্ড এ্যাডভারটাইজিং
৪৩৫/এ-২ মগবাজার ওয়ারলেস রেলগেট, ঢাকা-১২১৭
মুদ্রণঃ আল আকাবা প্রিন্টার্স
৩৬ শিরিশ দাস লেন, বাংলা বাজার-ঢাকা- ১১০০
শুভেচ্ছা বিনিময়ঃ ১০০ টাকা মাত্র
Akhirater Jibon Chittra
Moulana Delawar Hossain Sayedee
Co-operated by Moulana Rafeeq bin Sayedee
Copyist : Abdus Salam Mitul
Published by Global publishing Network, Dhaka.
First Edition 2004 July
Price : One Hundred Tk only
Eight Doller (U.S)  Only
Five Pound Only


_____________________________________


সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 28 August 2010 )