আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের আপত্তি সমূহের জবাব প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ডঃ জাকির আবদুল করিম নায়েক   
Monday, 29 September 2008
আর্টিকেল সূচি
ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের আপত্তি সমূহের জবাব
বহু বিবাহ প্রথা

১ নং প্রশ্ন: বহু বিবাহ প্রথা

kkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkkk

প্রশ্নঃ ইসলামে কেন একের অধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে ? অর্থাৎ যেমন, বহুবিবাহ প্রথা ইসলামের গ্রহণযোগ্য কেন ?

১. বহুবিবাহ প্রথার সংজ্ঞা ঃ (ঢ়ড়ষুমধসু) বহুবিবাহ প্রথার মানে এমনএকটি বিবাহ প্রথা, যেখানে একজন পুরুষের একের অধিক স্ত্রী গ্রহণ। আরএকটা হচ্ছে - স্ত্রীলোকের বহুবিবাহ প্রথা, যেখানে একজন মহিলা একের অধিক পুরুষকে বিবাহ কওে (ঢ়ড়ষুধহফৎু)। ইসলামেপ্রুরুষের সীমাবদ্ধ বহু বিবাহ প্রথা অনুমোদিত কিন্থ স্ত্রীলোকের ববহুবিবাহ প্রথা পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

এখন আসল প্রশ্নে আসা যাক, কেন একজন পুরুষের একাধিক বিবাহ জায়েয ?

২. কোরআনই বিশ্বের একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যাতে বলা হয়েছে।

“একটা মাত্র বিয়ে করা।”

এই বিশ্বে কোরআনই একমাত্র ধর্ম যাতে একটা বিয়ে করা-এই শব্দগুচ্ছটি আছে। এরকম আর কোন ধর্মগ্রন্থ নেই, যাতেপ্রুরুষদেরকে মাত্র একজন স্ত্রী রাখার কথা বলে। অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ তা বেদ, রামায়ণ, মহাভারত, গীতা, তালমুদ বা বাইবেলই হোক না কেন, কেউ সেগুলোতে স্ত্রীর সংখ্যার উপর বিধিনিষেধ খুঁজে পাবে না। উল্টো, এসব ধর্ম গ্রন্থানুসাওে কেউ যা ইচ্ছা বিবাহ করতে পারে। পরবর্তীকালে হিন্দু পুরোহিত এবং খৃষ্টান গীর্জা একাধিক স্ত্রীগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করে।

বহু হিন্দুধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাদের ধমানুসারে বহুবিবাহ করেছিলেন। রামের পিতা রাজা দশরথের একাধিক স্ত্রী ছিল। কৃঞ্চেরও বহু স্ত্রী ছিল। অতীতে, বাইবেলে বহু স্ত্রী গ্রহণে বিধিনিষেধ না থাকাতে খৃষ্টানরা বহুবিবাহ করত। মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে গীর্জা একাধিক স্ত্রী গ্রহণের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে।

ইহুদী ধর্মে, বহুবিবাহ প্রথা অনুমোদিত। তলমুদের নীতি অনুসারে, ইব্রাহিমের ৩টি এবং সোলাইমানের একশ স্ত্রী ছিল। ইহুদী রাব্বী গারসম বিন ইয়াহুদা (৯৬০-১০৩০ শতাব্দী)কর্তৃক বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে রাজকীয় ফরমান জারীর আগ পর্যন্ত বহাল ছিল। মুসলিম দেশ গুলোতে বসবাসকারী ইহুদী রাখাল সমপ্রদায় ১৯৫০ সালে ইরলায়েলের প্রধান রাব্বী কর্তৃক একাধিক বিয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগ পর্যন্ত এ পদ্ধতি অনুসরন করে। আশ্চর্য জনক তথ্য ঃ ১৯৭৫ সালে ভারতের আদমশুমারীতে জানা যায় যে, হিন্দরা মুসলমানদের চেয়ে অধিকহারে একাধিক বিয়ে কারী। ‘ইসলামে নারীর মর্যাদা’ এ বিষয়ে গঠিত একটি কমিটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত তাদের রিপোটের ৬৬ ও ৬৭ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন, ১৯৫১-১৯৬১ সালের মধ্যে হিন্দুদের মধ্যে বহুবিবাহের হার ছিল শতকরা ৫.০৬ এবং মুসলমানদের মধ্যে ছিল ৪.৩১। ভারতের আইন অনুসারে, শুধুমাত্র মুসলমানদের একাধিক বিবাহ অনুমোদিত ছিল এবং অমুসলিমদের জন্য তা অবৈধ ছিল। অবৈধ থাকা সত্ত্বেও হিন্দুরা মুসলমানদের তুলনায় বহু বিবাহ করত। অতীতে, হিন্দু সমাজের উপর বহুবিবাহের ব্যাপারে কোন বাধানিষেধ ছিল না। ১৯৫৪ সালে, যখন হিন্দু বিবাহ আইন পাশ হয়। বর্তমানে কোন হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ নয়, বরং ভারতের আইন অনুসারে হিন্দুদের একাধিক বিবাহ নিষেদ্ধ।

আমরা এখন ইসলামের কেন একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, তা আলোচনা করব।

৩. সীমিত বহুবিবাহ অনুমোদনে কোরআন ঃ

আমি আগে উল্লেখ করেছি যে, বিশ্বের বুকে কোরআনই একমাত্র ধর্ম গ্রন্থ যা বলে “একটি বিবাহ কর।”

পবিত্র কোরআনের সূরা আন নিসায় আছে ঃ

“বিবাহ কর পছন্দমত, দুই, তিন অথবা চার, কিন্থ যদি এরুপ আশংকা কর যে “তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না তাহওে বিয়ে কর।” (আল কুরআন ৪ঃ৩)

কোরআন নাযিলের পূর্বে, বহু বিবাহের ঊর্ধের কোন সীমা ছিল না এবং অনেক লোক বহুবিবাহ করত, এমনকি কেউ একশ বিবাহ করত। ইসলাম চার স্ত্রী পর্যন্ত উধর্তন সীমা বেঁধে দিয়েছে। ইসলাম তাকেই দুই, তিন বা চার পর্যন্ত বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে যে তাদের প্রতি ইনসাফ করতে পারবে। সূরা আন নিসার ১২৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে,

তোমরা কখনও নারীদের প্রতি সমান ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও এর আকাংখা পোষন কর। তবে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়না যে, একজনকে ফেলে রাখ দোদুল্যমান অবস্থায়। যদি ও বহু বিবাহ একটি নিয়ম নয়, কিন্থ একটি ব্যতিক্রম। প্রশস্তভাবে ইসলামের আদেশ ও নিষেধের ৫টি আছে ঃ

ক. ফরজ-আবশ্যকীয় বা বাধ্যতামূলক।
খ. মুস্তাহাব-প্রশংসিত বা উৎসাহিত।
গ. মোবাহ-অনুমোদনীয় বা গ্রহণযোগ্য
ঘ. মাকরুহ-অপসন্দনীয় বা নিরুৎসাহিত
ঙ. হারাম-নিষেদ্ধ বা অৗবধ।
বহুবিবাহ মাঝের অর্থাৎ মোবাহ পর্যায়ে পড়ে যেটা অনুমোদনীয়। এটা বলা হয়না যে, যার একটি স্ত্রী আছে তার অপেহ্মা, যার একাধিক স্ত্রী আছে সে অধিক ভাল।

৪. মেয়েদের গড় আয়ু ছেলেদের চেয়ে বেশি ঃ

প্রাকৃতিক নিয়মানুযায়ী ছেলে এবং মেয়ে প্রায় একই অনুপাতে জন্মগ্রহণ করে। একজন ছেলে শিশুর চেয়ে একজন মেয়ে শিশুর বেশি প্রতিরোধ হ্মমতা থাকে। একটি ছেলে শিশুর চেয়ে একটি মেয়ে শিশু বিভিন্ন রোগ জীবানু ও রোগশোককে বেশী প্রতিরোধ করতে পারে। এ কারণে মেয়ে শিশুর চেয়ে ছেলে শিশুর মৃত্যুহার বেশী।

যুদ্ধের সময় মহিলাদের চেয়ে পুরুষ অধিক মারা যায়। বহু পুরুষ দুর্ঘটনা এবং রোগে মহিলাদের তুলনায় বেশী মারা যায়। গড়ে মেয়েদের জীবনহার ছেলেদের চেয়ে বেশী এবং একটি নিদিষ্ট ও প্রদত্ত সময়ে বিপত্নীকের চেয়ে বিধবার সংখ্যা বেশী হয়ে থাকে।

৫. মেয়ে হত্যা এবং শিশু হত্যার কারণে ভারতে নার িঅপেহ্মা পুরুষের সংখ্যা বেশী।

প্রতিবেশী দেশসমূহের পাশাপাশি ভারতও এমন একটি দেশ যেখানে পুরুষের চেয়ে মহিলার সংখ্যা কম। এর কারণ হচ্ছে, ভারতে অধিকহারে মেয়ে শিশু হত্যা। আরো করুণ বাস্তবতা হচ্ছে, গর্ভে মেয়ে শিশু চিহ্নিত হওয়ার পর প্রতিবছর ১ মিলিয়নের বেশী মেয়ে শিশুর প্রাণ গর্ভপাত করা হয়।এ নিকৃষ্ট কাজটি বন্ধ হলে বারতেও পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশী হবে।

৬. বিশ্বে পুরুষের এক তৃতীয়াংশ হল, সমকামী। যুক্তরাষ্ট্রে ২৫৪ মিলিয়নের অধিক সমকামী আছে। এর অর্থ এই যে, সমকামীরা নারী বিয়ে করতে চায় না। বৃটেনে পুরুষের তুলনায় ৫ মিলিয়নের অধিক। রাশিয়াতে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় ৯ মিলিয়নের অধিক। একমাত্র আল্লাহ ভাল জানেন, সমস্ত বিশ্বে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা কত বেশী।

৭. প্রত্যেক পুরুষকে একটি মাত্র বিয়েতে সমিাবদ্ধ রাখা বাস্তব সম্মত নয়।

যদি একজন মানুষ ১টি বিয়ে করে , তাহলে কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই আরও ৩০ মিলিয়ন মেয়ে থেকে যাবে যারা কোন স্বামী পাবেনা। অধিকন্থ আমেরিকাতে ২৫ মিলিয়ন সমকামীও আছে। অনুরুপভাবে ব্রিটেনে ৪ মিলিয়নের অধিক, জার্মানীতে ৫ মিলিয়নের অধিক এবং রাশিয়াতে ৯ মিলিয়নের অধিক মহিলা স্বামী পাবেনা।

ধরা যাক আমার বা আপনার একজন বোন আমেরিকাতে আছে অবিবাহিত। তার সামনে দুটো পথই আছে, হয় সে এমন পুরুষকে বিয়ে করবে যার এক স্ত্রী আছে াথবা তাকে গণ সম্পত্তিতে পরিণত হতে হবে। যারা স্বতী-স্বাধ্বী তাদের ১ম উপায় বেছে নেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই, অধিকাংশ মেয়ে অন্য মেয়ের সাথে তাদের স্বাপমীকে ভাগে গ্রহণ করতে চাইবে না। কিন্থ যখন এমন সময় আসবে তখন ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানদার মুসলীম মেয়েদের উচিত অপর মুসলিম বোনকে গণসম্পত্তিতে পরিণত হওয়ার বিরাট হ্মতি থেকে বাঁচানোর রহ্মে নিজের জন্য ছোট হ্মতিকে মেনে নেয়।

৮. গণসম্পাত্তি হওয়ার চেয়ে বিবাহিত পুরুষ বিয়ে করা অগ্রাধিকারযোগ্য ঃ

পাশ্চাত্যে একজন মানুষের একাধিক নারী বা বিবাহ বর্হিভূর্ত বহু নারীর সাথে সম্পর্ক তাকে, যেখানে মেয়েরা অসম্মানজনক ও অরহ্মিত জীবন যাপন করে। অথচ সে একই সমাজে একজন লোকের একাধিক স্ত্রী থাকাকে গ্রহণ করা হয় না। গ্রহণ করা হলে, মেয়েরা সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে। এভাবে, অবিবাহিত মেয়েরা সামনে ২টি উপায়ই খোলা থাকে, হয় সে কোন বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করবে কিংবা গণসম্পত্তিতে পরিণত হবে। ১ম উপায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলাম নারীদের সম্মান জনক জীবন দান করে এবং ২য় উপায়টিকে নাকচ করে।

ইসলাম কেন সীমিত বহুবিবাহ প্রথা চালু করেছে তার আরো অনেক কারণ আছে, কিন্থ এটা বিশেষ ভাবে নারীর সতীত্ব রহ্মার জন্য করা হয়েছে।

২য় প্রশ্ন মেয়েদের বহু বিবাহ প্রথা (চড়ষুধহফৎু) প্রশ্ন ঃ একজন পুরুষ একাধিক মহিলাকে বিয়ে করতে পারে, কিন্থ ইসলাম কেন একজন মহিলাকে একাধিক স্বামী গ্রহণ করতে নিষেধ কেও ? উত্তর ঃ কিছু সংখ্যক মুসলিম সহ বহু লোকের প্রশ্ন, একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী গ্রহন করতে পারলে মেয়েদেরকে কেন একাধিক পুরুষ বিয়ে করার অধিকার দেয়া হয় না ? আমি জোরালোভাবে বলতে চাই, ইসলামী সমাজের ভিত্তি হচ্ছে ইনসাফ ও সমতা। আল্লাহ পুরুষ এবং মহিলাকে ভিন্ন ভিন্ন হ্মমতা ও দায়িত্ব দিয়ে সমভাবে সৃষ্টি করেছেন। পুরুষ এবং মেয়েরা শারিরীক ও মানসিক দিক থেকে ভিন্ন। তাদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব ভিন্ন। ইসলামের দৃষ্টিতে তারা সমান, কিন্থ অভিন্ন নয়। সূরা নিসার ২২-২৪ নং আয়াতে পুরুষদের জন্য যে সকল মহিলাকে বিবাহ করা নিষেধ, তার তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবার সূরা নিসার ২৪ নং আয়াতে স্বামীর অধীন বিবাহিত মহিলাদেরকেও ঐ নিষিদ্ধ তালিকার অনর্-ভূক্ত করে বলা হয়েছে “এবং সকল বিবাহিতা মহিলাসহ যারা নিষিদ্ধ” মহিলাদের বহু বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ গুলো নিম্নে বর্ণনা করা হল ঃ ১. যদি একজন পুরুষ একাধিক বিবাহ করে তাহলে, সেই ঘরে জন্মগ্রহনণ কারীর পিতা-মাতাকে সহজে চিহ্নিত করা যায়।একজন মহিলার যদি একাধিক স্বামী থাকে তাহলে, সে,হ্মেত্রে শুধু মাত্র সন্তানের মাকেই সনাক্ত করা যায়, বাবাকে নয়।ইসলাম মা ও বাবা উভয়ের সনাক্ত করণের উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করে। আচরণ বিষেশত বাবাকে, তারা বিভিন্ন মানসিক রোগে ভোগে।প্রায়ই তাদের বাল্যকাল খুব ভাল কাটেনা। একারণে বেশ্যাদের ছেলে-মেয়েরা সুস্থ বাল্যকাল কাটায়না। যদি এরকম কোন বাচ্চা স্কুলে ভর্তি হয় এবং তার মাকে সন্তানের বাবার নাম জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তাকে ২/৩ টা নাম বলতে হবে। আমার জানা আছে যে, বর্তমানে বিজ্ঞানির অগ্রগতির যুগে মবহব পরীহ্মার মাধ্যমে পিতা মাতাকে সনাক্ত করা সম্ভব। ফলে বিষয়টি আর আগের মত নয়। ২. পুরুষরা প্রকৃতিগত ভাবে মেয়েদের তুলনায় বেশী বিবাহের প্রয়োজন অনুভব করে। ৩. জীবতাত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে একজন পুরুষের পহ্মে একাধিক স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালন করা সহজতর। একজন মহিলার পহ্মে একাধিক স্বামীর প্রতি অনুরুপ নারীর মানসিক আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। ৪. একাধিক স্বামী বিশিষ্ট একজন মহিলার একই সময়ে একাধিক যৌন সহযোগী থাকে। যার ফলে যৌন ব্যাধি সংক্রমনের সম্ভাবনা থাকে এবং সেটা তার স্বামীর মধ্যে অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক না থাকলেও সংক্রমিত হতে পারে। এটা বহু বিবাহকারী এবং একাধিক স্ত্রীর পুরুষ স্বামীর হ্মেত্রে ঘটেনা। উপরোক্ত কারণ গুলো যে কারো বুঝায় জন্য যথেষ্ট। হয়তো আরো অনেক কারণ আছে। যার ফলে অসীম জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ স্ত্রীদেরকে একই সময়ে বহু স্বামী গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। ৩য় প্রশ্ন মহিলাদের পর্দা প্রশ্ন ঃ কেন ইসলাম মেয়েদেরকে পর্দার মধ্যে রেখে মর্যাদাহানি করেছে ? উত্তর ঃ ধর্মনিরপেহ্ম প্রচার মাধ্যমগুলোতে ইসলামে মেয়েদের মর্যাদাকে আক্রমণ করা হয়। পর্দা বা ইসলামী পোশাককে অনেকে ইসলামে নারীর পরাধীনতা উদাহরণ হিসেবে পেশ করে। এখন আমরা ইসলামের পর্দার হুকুমের কারণ পর্যালোচনা আগে ইসলাম পূর্বে সমাজে নারীর মর্যাদা বিশ্লেষণ করবো। ১. পূর্বে নারীরা নিগৃহীত এবং ভোগ্যবস্থ হিসেবে ব্যবহ্নত হত ঃ ইতিহাসের নিম্নোক্ত উদাহরণগুলোতে আগের সভ্যতাগুলো কর্তৃক নারীর মৌলিক অধিকার অস্বীকারের পরিষ্কার চিত্র ফুটে উঠবে। ক. ব্যাবিলিয়ন সভ্যতা ঃ এ সভ্যতায় নারী নিগৃহীত সকল এবং অধিকার বঞ্চিত ছিল । একজন পুরুষ কোন মহিলাকে হত্যা করলে সে পুরুষটির শাসিতর পরিবর্তে তার স্ত্রীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হত । খ. গ্রীক সভ্যতার মধ্যে গ্রীক সভ্যতাই উজ্জ্বলতম সভ্যতা হিসেবে স্বীকৃত। এই উজ্জ্বল যুগের মেয়েরা সব রকমের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং তাদেরকে হীন দৃষ্টিতে দেখা হত। গ্রীক কিংবদন্তী অনুযায়ী, প্যান্ডোরা নামক এ কল্পিত নারী মানব জাতির দুর্ভাগ্যেও কারণ। গ্রীকরা নারীকে উপ মানুষ কিংবা ‘পুরুষ অপেহ্মা নিকৃষ্ট’ বিবেচনা করত, যদিও নারীর সতীত্ব খুবই মূল্যবান এবং নারীকে খুবই মর্যাদাবান মনে করা হত, কিন্থ গ্রীকরা পরে অহমিকা ও যৌন শিকার গ্রস্ত হয়ে পড়ে। গ্রীক সমাজের সর্বত্র এবং সকল শ্রেণীর মধ্যে বেশ্যাবৃত্তি ছড়িয়ে পড়ে। গ. রোমান সভ্যতা ঃ যখন রোমান সভ্যতা ঔজ্জ্বল্যের সর্বেচ্চ শিখরে উঠে, তখন একজন পুরুষের নিজ স্ত্রীর জীবন হরণের অধিকার ছিল। পতিতাবৃত্তি এবং নগ্নতা রোমানদের মধ্যে বহুল প্রচলিত ছিল। ঘ. মিসরীয় সভ্যতা ঃ মিসরীয়রা নারীকে খারাপ বিবেচনা করত এবং তাদেরকে শয়তানের চেলা হিসেবে চিহ্নিত করত। ঙ. ইসলাম-পূর্ব আরব ঃ আরবে ইসলাম প্রচারের আগে, আরবরা নারীকে হেয় দৃষ্টিতে দেখত এবং যখন কোন মেয়ে শিশু জন্মাত, তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলত। ২. আসলাম নারীকে সমুন্নত করেছে, সমতা দিয়েছে এবং আশা পোষণ কর যে, তারা তাদের মর্যাদা রহ্মা করতে পারবে ঃ ১৪০০ বছর আগে ইুসলাম তাদের মর্যাদা উন্নত করেছে এবং তাদেরকে তাদের অধিকার প্রদান করেছে। ইসলাম আশা করে যে, তারা তাদের মর্যাদা অহ্মুন্ন রাখতে পারবে। পুরুষের জন্য পর্দা ঃ সাধারন নারীদের জন্যই পর্দার পরিভাষাটি ব্যবহ্নত হয়। অথচ, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক নারীর পর্দার আগে পুরুষের পর্দার কথা উল্লেখ করেছেন। কোরআন মজীদের সূরা আন নূরে আছে ঃ “মোমেনদেরকে বলুন, তারো যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা অবগত আছেন। যখন কোন পুরুষের কোন মেয়ের দিকে তাকানোর ফলে অসৎ ও নিলর্জ্জকর চিনা- মনে আসে, তখন তার উচিত, দৃষ্টি নত করে রাখা। নারীর জন্য পর্দা ঃ সূরা আন নূরের পরবর্তী আয়াতে আছে ঃ “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বহ্মদেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র........। আল কোরআন ২৪ ঃ ৩১। ৩. পর্দার ৬টি বৈশিষ্ট ঃ কোরআন ও সুন্নহর আলোকে পর্দার ৬টি বৈশিষ্ট আছে ঃ ১. বিস্তার ঃ প্রধান বৈশিষ্ট হল, শরীরের নির্দিষ্ট অংশ আবৃত করা। পুরুষ এবং নারীর হ্মেত্রে তা ভিন্ন ভিন্ন। পুরুষের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরয। মেয়েদের জন্য মুখ এবং হাতের কব্জি বাদে পুরো শরীর ঢেকে রাখা ফরয। যদি তারা ইচ্ছা করে, তহলে তারা এ অংশগুলোও ঢেকে রাখতেদ পারে। কিছু আলেম জোর দিয়ে বলেছেন, মুখ এবং হাত ও পর্দার ফরযের মধ্যে পড়ে। বাকী ৫টি বৈশিষ্ট পুরুষ ও মহিলার হ্মেত্রে সামান ভাবে প্রযোজ্য। ২. পরিধানের কাপর ঢিলা-ঢালা হবে যাতে দেহের আকৃতি বুঝা না যায়। ৩. কাপর পাতলা হবে না যাতে অপর কেউ তার সতর দেখতে পারে। ৪. কাপর এমন চাকচিক্যময় হবে না, যা কোন পুরুষকে আকর্ষণ করতে পারে। ৫. পুরুষের পোশাকের সাথে যেন সাদৃশ্য না থাকে। ৬. অবিশ্বাসীদের পোশাকের সাথে কোন মিল থাকবে না। যেমন এমন কাপড় পরা যাবে না যেটা অবিশ্বাসঅদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহ্নত হয়। ৪. অন্যান্য জিনিসের মধ্যে ‘হিজাব’ আচার-আচরণকেও বুঝয় ঃ পরিপূর্ণ হিজার, পোশাকের ৬টি বৈশিষ্ট্য ছাড়াও কোন ব্যক্তির আচার আচরন, দৃষ্টিভঙ্গী ও ইচ্ছাকে বুঝায়। যে ব্যক্তি পোশাকের বৈশিষ্ট্যগুলো পালনের মাধ্যমে হিজাবকে পরিপূর্ণ করে, তার কাছে জিহাব সীমিত অর্থে ব্যবহৃত হয় । পোশাকের হিজাবের সাথে সাথে তা চোখের জিহাব, হৃদয়ের চলাফেরা, কথাবার্তা ও আচরণ ইত্যাদিকে বোঝায়। ৫. হিজাব নিপীরন প্রতিরোধ করে ঃ কেন মেয়েদের জন্য হিজাবের ফরজ করা হয়েছে, পবিত্র কোরআনের সূরা আল আহযাবে তা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন “হে নবী ! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন বাইরে গেলে তাদের চাদরের কিয়দংষ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। আল্লাহ হ্মমাশীল, পরমদয়ালু।” (আল কোরআন ৩৩ঃ৫৯)। কোরআন বলেছে, মেয়েদের জন্য হিজাবকে ফরয করার ফলেই তাদেরকে সাধু হিসেবে চেনা যায় এবং এটা তাদেরকে উঃপীড়ন থেকেও প্রতিরোধ করে। ৬. যমজ বোনের উদাহরণ ঃ ধরা যাক, সমসুন্দরী যমজ দুই বোন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে । তাদের একজন ইসলামী হিজাব ধারিণী যেমন হাতের কজি এবং মুখ ব্যতীত সমস্ত দেহ আবৃত । অপরজন পাশ্চারত্যর পোশাক মিনি স্কার্ট ও শর্টস পরিহিতা। মোড়ে গুন্ডা বা দুর্বত্তরা দাঁড়িয়ে আছে, উপহাস করার জন্য তারা কাকে উপহাস করবে? যে মেয়ে ইসলমী হিজাবে আবৃত তাকে না যে মিনি স্কার্ট পরা তাকে? স্বভাবতই সে মিনি স্কার্ট পরা মেয়েটিকেই উপহাস করবে। এসব পোশাক পরোহ্মভাবে উপহাস ও উৎপীড়নের প্রতীক যা বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষণ বাড়ায়। কোরআন সঠিক বলেছে যে, হিজাব মেয়েদেরকে উৎপীড়ন থেকে রহ্মা করে। ৭. ধর্ষণকারীর জন্য মৃত্যুদন্ড ঃ ইসলমের শরীয়তানুসারে, একজন ধর্ষণকারীকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। অনেকে এই কঠোর শাসি-তে আশ্চর্য হয়। এমনকি অনেকে বলে যে, ইসলাম নির্দয় ও বর্বর ধর্ম। আমি কয়েকশ অমুসলিমকে একটি সাধারণ প্রশ্ন করেছিলাম। ধরা যাক এবং আল্লাহ না করুক, কেউ যদি আপনার স্ত্রী, মাতা বা বোনকে ধর্ষণ করে, আপনি বিচার চাইলে এবং সেই ধর্ষণ কারীকে আপনার সামনে হাজির করা হলে আপনি তাকে কি শাসি- দেবেন? তাদের সবাই জবাবে বলেছিল, তারা তাকে মৃত্যুদন্ড দেবে। কেউ কেউ বলেছিল যে, তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কষ্ট দিয়ে তাকে মারবে। তাদেরকে আমি জিজ্ঞেস করি যদি কেউ আপনার স্ত্রী ও মাকে ধর্ষণ করে আপনি তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারেন। কিন্তু একই অপরাধ যদি অন্য কারোর স্ত্রী বা বোনের প্রতি করা হয়, তাহলে বর্বর শাসি-। কেন এই ভিন্ন পরিমাপ? ৮. নারীর মর্যাদা বৃদ্বির ব্যাপারে পাশ্চত্যের দাবী অমূলক পাশ্চাত্যে নারী স্বাধীনতা মানে, ছদ্মবেশে তাদের দেহ পোষন, আত্মার অবমাননা এবং সম্মান থেকে বঞ্চনা। পাশ্চাত্যে নারীর মর্যাদা উন্নত করার দাবী করে অথচ তারা নারীকে উপপত্মী, প্রণয়িনী এবং সামাজিক প্রজাপতিতে পরিণত করে তাদের মর্যাদা হানি করেছে । তারা শিল্পও সংস্কৃতির রঙিন পর্দার আড়ালে স্ফুর্তিবাজ এবং যৌন শিকারীদের সস্তা খোরাকে পরিণত হয়েছে ৯. আমেরিকাতে ধর্ষণের হার সবচেয়ে বেশী বিশ্বের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সবচেয়ে উন্নত দেশ ধরা হয়। আবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখানেই ধর্ষণের হারও সবচেয়ে বেশী। ঋইও এর রিপোর্ট অনুসারে ১৯৯০ সালে, প্রতিদিন গড়ে ১,৭৫৬টি ধর্ষণের ঘটনা আমেরিকাতেই সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে অন্য এক রির্পোটে বলা হয়েছে, গড়ে ১৯০০ধর্ষণের ঘটনা আমেরিকাতে সংঘটিত হয়। সালটা উল্লেখ করা হয়নি। হতে পারে এটা ১৯৯২কি ১৯৯৩সাল। হতে পারে, আমেরিকানরা পরের বছর আরো বেশী সাহসী হয়ে গিয়েছিল। আমেরিকাতে ইসলামী হিজাব চালু হয়েছে, যদি এ দৃশ্য কল্পনা করা হয় এবং কোন পুরুষ কোন মেয়ের দিকে তাকানোর ফলে যদি তার মনে কোন কুচিন্তা আসে তাহলে, সে তার দৃষ্টি নত রাখবে। প্রতিটি মেয়ে হাতের কজ্ব্‌ি এবং মুখ বাদে ইসলামী হিজাব পরিধান করে। এরপরে কেউ যদি ধর্ষণ করে এবং তাকে বড় শাসি- মৃত্যুদন্ড দেয়া হল। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই, এরকম দৃশ্যপটে আমেরিকাতে ধর্ষণের হার বাড়বে, এই থাকবে, না কমবে? ১০. ইসলামী শরীয়াহর আইন কার্যকর হলে ধর্ষণের হার কমবে যত দ্রুত ইসলমী শরীয়াহর আইন কার্যকর হবে, তত এর ইতবাচক ফলাফল অপরিহার্য। যদি ইসলামী শরীয়াহ আমেরিকা,ইউােপ বা বিশ্বের অন্য কোন দেশে বাস্তবায়িত হয় তাহলে, সমাজ শানি-র নিঃশ্বাস ফেলবে। হিজাব কখনও একজন মহিলার মর্যাদাকে নীচে নামায় না বরং উপরে তোলে এবং তার সাধুতা ও সতীত্ব রক্ষা করে। ৪নং প্রশ্ন ইসলাম কি তলোয়রের জোরে প্রচারিত হয়েছে? প্রশ্নঃ ইসলাম যেহেতু তরবারীর জোরে প্রচারিত হয়েছে, তাই এটাকে কিভবে শানি-র ধর্ম বলা হয়? উত্তর ঃ কিছু অমুসলিমের এটা একটা সাধরণ প্রশ্ন যে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যেমে ইসলামের প্রচার প্রসার না হলে। বিশ্বে শতকোটি মুসলমানের অসি-ত্ব অসম্ভব ছিল। নিম্নের বিষয় গুলো প্রমাণ করবে যে, তরবারির তো প্রশ্নই উঠে না বরং সত্যের আভ্যন্তরীন শক্তি ও যুক্তিই হল বিশ্বব্যাপী ইসলমের প্রচার প্রসারের মূল কারণ। ১. ইসলাম মানে শানি- ঃ ইসলাম ‘সালাম’ শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ শানি-। ইসলাম হল, নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর কাছে সমর্পন কারা, ইসলাম একটি শানি-র ধর্ম। সর্বোচ্চ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছে নিজের ইচ্ছা ও আত্মসমর্পন করার মাধ্যমে তা অর্জন করতে হয়। ২. কখনও শানি- রক্ষার জন্য জোর খাটানো হয় ঃ এ বিশ্বের প্রতিটি মানুষই শানি- ও ঐক্যের পক্ষপাতী নয় । অনেকে আছে, যারা নিজেদের স্বর্থের জন্য এই ঐক্য ছিন্ন করে, কখনও শানি- রক্ষার জন্য শক্তি প্রয়োগ করা হয়। যেমন পুলিশ দেশে শানি- শৃংখলা রক্ষার জন্য অপরাধী ও অসামাজিক লোকদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য অনুসারীদেরকে উৎসাহিত করে। অণ্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের জন্য কখনও শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। ইসলামে শুধুমাত্র শানি- ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শক্তি প্রয়োগের আদেশ আছে। ৩.ঐতিহাসিক ডি ল্যাসি ও’ল্যারির মত ইসলাম তরবারীর জোরে প্রচারিত হয়েছে এ ভ্রান্ত ধারণার উপযুক্ত জবাব দিয়েছেন ঐতিহাসিক ডি ল্যাসি ও’ল্যারি। তিনি ওংষধস ধঃ ঃযব পৎড়ংং ৎড়ধফ"বইয়ের ৮ পৃষ্ঠায় লিখেচেন, ইতিহাস একথা পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, “উগ্র মুসলিমরা তরবারির জোরে বিজিত জাতি সমূহের উপর ইসলামকে চাপিয়ে ুদয়েছে” মর্মে ঐতিহাসিকদের বারবার উল্লেখিত এই উক্তি অবাস্তব ও অযৌক্তিক। ৪. মুসলমানরা ৮০০ বছর স্পেন শাসন করেছিল মুসলিমরা ৮০০বছর স্পেন শাসন করেছিল। স্পেনে মুসলমানরা কাউকে ইসলাম গ্রহণের জন্য কখনও তরবারীর শক্তি প্রয়োগ করেনি। পরবর্তীতে, খৃস্টান ধর্মযোদ্ধারা স্পেনে এসে মুসলমানদেরকে বিতাড়িত করে।তখন স্পেনে এমন একজন মুসরিমকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি যে নামাযের জন্য খোলাখুলি আযান দিতে পারে। ৫. আরবে ১৪ মিলিয়ন খৃস্টন মুসলমানরা ১৪০০বছর ব্যাপী আরবদেশ গুলো শাসন করেছে। যদিও কিছু সময়ের জন্য বৃটিশ ও ফরাসী শাসনও চলেছে। মোটকথা, মুসলমানরা ১৪০০ বছর ব্যাপী সারাদেশ শাসন করেছে । আজ পর্যন্ত সেখানে ১৪ মিলেয়ন আরব কপটিক খৃস্টান আছে। মুসলমানরা যদি তরবারী ব্যবহার করত, তাহলে একজন খৃস্টানও অবশিষ্ট থাকত না। ৬. ভারতে ৮০% এর বেশি অমুসলিম মুসলমানরা প্রায় ১০০০ বছর ভারত শাসন করেছিল । যদি তারা চাইত, তাহলে, প্রতিটি অমুসলিমকে মুসলিমে রূপান্তরিত করার মত শক্তি তাদের ছিল। আজকে ভারতের জনসংখ্যার ৮০%-এর বেশি অমুসলিম। ভারতের এসব অমুসলিমরা আজ এ সাহ্ম্যই বহন করছে যে, ইসলাম তরবারীর জোড়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। ৭. ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়ায় বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিমের বাস। মালয়েশিয়ার অধিকাংশ লোক মুসলিম। কেউ জিজ্ঞেস করতে পারে, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়শিয়ায় কোন মুসলিম সেনাবাহিনী গিয়েছিল?” ৮. আফ্রিকার পূর্ব উপকূল একইভাবে, ইসলাম আফিকার পূর্ব উপকূলেও দু্রত বিস্তার লাভ করেছে, কেউ আবার জিজ্ঞেস করতে পারে, যদি ইসলাম তরবারী দ্বারাই প্রসারিত হয়ে থাকে, তাহলে কোন মুসলিম বাহিনী আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে গিয়েছিল? ৯. থমাস কার্লাইল প্রসিদ্দ ঐতিহাসিক থমাস কার্লাইল তার ” ঐবৎড়বং ধহফ ঐবৎড় ধিৎযরঢ়" বইয়ে ইসলাম প্রসারের এ ভুল ধারণা এভাবে অপনোদন করেছেনঃ “তলোয়ার বই কি ? কিন্থ প্রশ্ন হল কোথায় আপনি তরবারী পেলেন? প্রত্যেক নতুন মতের সূচনা এক ব্যক্তি থেকেই হয়ে থাকে, একজনের মাথা থেকেই তা আসে । বিশ্বের একটি মাত্র লোকই তা বিশ্বস করে এবং ধারণাও করে যে, তিনি একাই সকল মানুষের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় তিনি একটি তলোয়ার দিয়ে তার মত প্রকাশ করা শুরূ করবেন কি? আর করলেও তাতে কোন লাভ হবে কি? কাজেই তলোয়ারের জোরে ইসলাম প্রচারের অভিযোগটি রাখুন বরং কোন জিনিস নিজে নিজেই আত্মপ্রকাশ করতে থাকে” ১০. ধর্মে কোন বাধ্য বাধ্যকতা নেই কোন তরবারী দ্বারা ইসলাম প্রসার লাভ করেছে? যদি মুসলমানদের এটা থাকত তবুও তারা সেটা ইসলমের প্রসারের জন্য ব্যবহার করত না। কারণ পবিত্র কোরআন বলেছে “দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদসি- বা বাধ্য বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়েত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গেছে ।” (আল কোরআন ২ঃ২৫৬) ১১. বুদ্ধির তরবারী এটা বুদ্ধির তরবারী । যে তরবারী মানুষের মন জয় করেছে - আল কোরআনের সূরা আন নাহলে ১২৫ নংআয়াতে আছে “ আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহ্বান করুন কৌশলের সাথে ও উত্তম উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে বির্তক করুন পছন্দযু্‌ক্ত পন্থায়। ( আল কোরআন ১৬ঃ১২৫) ১২. ১৯৩৪-১৯৮৪ সালে বিশ্বের প্রধান ধর্মসমূহের অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৯৮৬ সালে জবফবৎদং উরমংবঃ পত্রিকার আলমানাক গ্রন্থপঞ্জিতে ১৯৩৪-১৯৮৪ সালে বিশ্বের প্রধান ধর্মসমূহের অনুসারীর সংখ্যার পরিসংখ্যান ছাপা হয়েছিল। এটি ঞযব ঢ়ষধরহ ঃৎঁঃয" ম্যাগাজিনেও প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে দেখা যায়। ইসলাম ছিল সর্বোচ্চে। অর্থাৎ ২৩৫% এবং খৃস্টান ধর্মাবলম্বী মাত্র বেড়েছিল ৪৭%। কেউ জিজ্ঞেস করতে পারে, এই শতকে কোন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল যা বহু মিলিয়ন লোককে ইসলমে ধর্মান্তরিত করেছে? ১৩. আমেরিকা ও ইউরোপে ইসলাম দ্রুত প্রসার লাভকারী ধর্ম আজকে আমেরিকাতে দ্রুত প্রসার লাভকারী ধর্ম ইসলাম। ইউরোপেও ইসলাম। পাশ্চাত্যে কোন তরবারী বিপুল সংখ্যক মানুষকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করছে? ১৪. ডঃ জোসেফ আদাম পিয়ারসন ডঃ জোসেফ আদাম পিয়ারসন যথার্থই বলেছেন “ যারা ধারণা করে যে আরবদের হাতে একদিন পারমাণবিক অস্ত্র আসবে, তারা এটা স্বীকার করতে ব্যর্থ হয় যে, যেদিন মুহাম্মদ (স)- জন্মগ্রহণ করেছেন সেদিনই তাদের হাতে ইসলামী বোমা এসে ড়িয়েছে।” ৫ম প্রশ্ন মুসলমান মৌলবাদী এবং সন্ত্রাসী প্রশ্ন ঃ কেন অধিকাংশ মুসলিম মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী ? উত্তর ঃ ধর্ম কিংবা আন্তর্জাতিক কোন বিষয়ের উপর আলোচনা হলে প্রায় সময়ই প্রত্যহ্ম বা পরোহ্মভাবে মুসরমানদের প্রতি এ প্রশ্ন ছুঁড়ে মারা হয় । ইসলাম ও মুসলিম সম্পর্কে মারাত্মক ভুল ধারণার কারণে সকল তথ্য মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঢালাও ভাবে এ অভিযোগ আনা হয়। ভুল তথ্য ও মিথ্যা প্রচারণার কারণে মুসলমানরা বর্ণ বৈষম্য ও আক্রমণের শিকার। এ প্রসঙ্গে আমেরিকান তথ্য মাধ্যমে ওকলাহামা বোমা বিস্ফোরনের উদাহরণ উল্লেখযোগ্য । তথ্য মাধ্যম বোমা বিস্ফোরনের সাথে সাথে আক্রমণের পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানের হাত রয়েছে বলে চালিয়ে দেয়। কিন্থ পরে জানা গেল যে, সে দৃস্কৃতকারী ব্যক্তিটি মুসলিম নয়। বরং মার্কিন সেনাবাহিনীর এক খৃস্টান সদস্য। আমরা এখন এই“মৌলবাদ ও সন্ত্রাস বাদ” নিয়ে আলোচনা করব ঃ ১. মৌলবাদ শব্দের সংজ্ঞা ঃ তাকেই মৌলবাদী বলা হয় যে নিজ মতাদর্শের মৌলিক নির্দেশাবলী পালন করে। যেমন, কাউকে ভাল ডাক্তার হতে হলে তাকে ওষুধের মৌলিকতা জানতে হবে, অনুসরণ করতে হবে এবং প্র্যাকটিস করতে হবে। অন্য কথায়, ওষুধের হ্মেত্রে তাকে মৌলবাদী হতে হবে। অনুরূপ কাউকে ভাল গণিতবিদ হতে হলে তাকে গণিতের মৌলিকতা জানতে হবে, অনুসরণ করতে হবে এবং প্র্যাকটিস করতে হবে। গণিতের হ্মেত্রে তাকে মৌলবাদী হতে হবে। কাউকে ভাল বিজ্ঞানী হতে হলে তাকে বিজ্ঞানের মৌলিক দিক জানতে হতে, অনুসরণ করতে হবে এবং প্র্যাকটিস করতে হবে। বিজ্ঞানের হ্মেত্রে তাকে মৌলবাদী হতে হবে। ২. সকল মৌলবাদী মসান নয় সকল মৌলবাদীকে এক চোখে দেখা উচিত নয়। কেউ সকল মৌলবাদীকে শুধু ভাল বা শুধু খারাপের পর্যায়ে ফেলতে যায় না। কোন মৌলবাদীর শ্রেনীবিন্যাস নির্ভর করে মৌলবাদীর হ্মেত্রে ও কর্মের উপর। একজন মৌলবাদী চোর বা ডাকাত সমাজের হ্মতি করে। তাই তার অবাঞ্ছিত। অপরপহ্মে একজন মৌলবদী ডাক্তার সমাজের উপকার করে এবং যথেষ্ট সম্মান লাভ করে। ৩.আমি একজন মুসলিম মৌলবাদী হতে গর্ববোধ করি আমি আল্লাহর রহমতে একজন মুসলিম মৌলবাদী । আমি ইসলামের মৌলিকতা জানি এবং তা অনুসরনের চেষ্টা করছি । একজন সত্যিকার মুসলিম মৌলবাদী হওয়াকে লজ্জাস্কর মনে করতে পারে না। আমি একজন মুসলিম মৌলবাদী হয়ে গর্ববোধ করি। কারণ আমি জানি যে, সমগ্র বিশ্ব এবং মানবসমাজের জন্য ইসলামের মৌলিকতা উপকারী। ইসলামে এমন একটি মৌলিক তত্বও নেই যা হ্মতিকর অথবা মানব জাতির জন্য অপকারী। ইসলাম সম্পর্কে অনেক মানুষের প্রচুর ভুল ধারণা আছে এবং তারা ইসলামের বেশকিছু শিহ্মাকে অনুচিত এবং অনুপযুক্ত মনে করে। এটা ইসলাম সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ও ভুল জ্ঞানের কারণে হয়। কেউ যদি খোলা মনে ইসলামের শিহ্মা সম্পর্কে সমালোচনা মূলক বিশ্লেষণ করে তাহলে, তারা এ সত্য বুঝতে ব্যর্থ হবে না যে, ইসলাম ব্যক্তি ও সমাজের জন্য পূর্ণ উপকারী। ৪. মৌলবাদীর আভিধানিক অর্থ ওয়েবস্টারস অভিধানে মৌলবাদের অর্থ লেখা হয়েছে নিম্নরূপ ঃ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমেরিকার প্রোটেস্টান্ট ধর্মের একটি আন্দোলন যা আধুনিকতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সৃষ্ট ও বাইবেলের নির্ভুলতার উপর জোর দেয় এবং কেবল বিশ্বাস ও নৈতিকতার বিষয়ে নয়, বরং ঐতিহাসিক সাহিত্য পঞ্জীর বিষয়েও। এ আন্দোলন বাইবেলকে আল্লাহর বাণীর সাহিত্য হিসেবে বিশ্বাস করার উপর জোর দেয় । মৌলবাদ প্রথমে খৃস্টানদের এমন একটি দলের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয় যারা বাইবেলকে আল্লাহর ত্রুটিমুক্ত ও অভ্রান্ত বাণী হিসেবে বিশ্বাস করে। অক্রফোর্ড ডিকশেনারীতে মৌলবাদ অর্থ হল, প্রাচীন অথবা কোন ধর্মের মৌলিক বিষয়, বিশেষ করে ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোকে যথার্থ ভাবে মেনে চলা। বর্তমানে লোকেরা সে মুসলমানকে মৌলবাদী বলে, যে সন্ত্রাসী । ৫. প্রতিটি মুসলিমের সন্ত্রাসী হওয়া উচিত প্রতিটি মুসলিমের সন্ত্রাসী হওয়া উচিত। সন্ত্রাসী সেই ব্যাক্তি যে সন্ত্রাস করে। যে মুহূর্তে একজন ডাকাত পুলিশ দেখে ভীত হয় সে মুহূর্তে পুলিশ ডাকাতের জন্য সন্ত্রাসী বা ভীতি প্রদর্শনকারী। একইভাবে, সমাজের অসামাজিক লোক যেমন চোর, ডাকাত ও ধষূণ কারীর বিরূদ্ধে প্রতিটি মুসলমানের ভয় প্রদর্শনকারী বা সন্ত্রাসী হওয়া উচিত। যখনই এরকম কোন অসামাজিক লোক একজন মুসলমানকে দেখবে, তখনই সে ভীত-সন্ত্রস্ত হবে এটা সত্য যে, সন্ত্রাসী শব্দটি তার হ্মেত্রে ব্যবহৃত হয়, যে সকলের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে। কিন্তুৱ একজন সত্যিকারের মুসলমান অন্যান্য সাধারণ মানুষের জন্য সন্ত্রাসী হবে। বাস্তবে, নিরীহ মানুষের জন্য একজন মুসলিম হবে শানি-র উৎস। ৬. একই কাজের জন্য একজন মানুষের বিভিন্ন নামকরণ করা হয়, যেমন ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দেশ প্রেমিক’। বৃটিশ শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা লাভের আগে, স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদেরকে বৃটিশ শাসকরা সন্ত্রাসী চিহ্নিত করেছিল। সেই একই যোদ্ধাদেরকে ভারতীয়রা দেশপ্রেমিক হিসেবে আখ্যায়িত করল। এভাবে একই মানুষের হ্মেত্রে একই কাজের জন্য তাদের ভিন্ন নামকরণ হয়। একজন যখন কাকে সন্ত্রাসী বলে অন্যজন তখন তাকে দেশপ্রেমিক আখ্যয়িত করে। যারা বিশ্বাস করেছিল যে, ব্রিটেনের ভারত শাসনের অধিকার আছে তারা ঐসব স্বাধীনতাকামীদেরকে সন্ত্রাসী বলেছে। অপরদিকে, যারা বিশ্বাস করেছিল যে ব্রিটেনের ভারত শাসনের অধিকার নেই, তারা এদেরকে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা এবং দেশ প্রেমিক আখ্যায়িত করে। কোন ব্যক্তির বিচারের আগে তার উপযুক্ত শুনানী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উভয়পহ্মের যুক্তি শোনা উচিত, পরিস্থিত ও পর্যবেহ্মন প্রয়োজন এবং তার ইচ্ছাকে বিবেচনা করা উচিত। ৭. ইসলাম মনে শানি- ইসলাম শব্দটি ‘সালাম’ শব্দ থেকে উৎসারিত হয়েছে। এর অর্থ শানি-। এটি শানি-র ধর্ম । ইসলাম তার অনুসারীদেরকে বিশ্ব শানি- প্রতিষ্ঠার মূলনীতি শিহ্মা দেয়। তাই প্রতিটি মুসলমানের মৌলবাদী হওয়া উচিত। সে শানি-র ধর্ম ইসলামের মৌলিক নীতি অনুসরণ করে চলবে । সে সমাজে ন্যায় বিচার ও শানি- বজায় রাখার জন্য শুধুমাত্র অসামাজিক লোকের প্রতি সন্ত্রাসী হবে। ৬ষ্ঠ প্রশ্ন নিরামিশ জাতীয় খাদ্য খাওয়া প্রশ্ন ঃ পুশু-পাখি হত্যা করা নির্দয় কাজ। তাহলে মুসলমানরা কেন আমিষ আমিষ জাতীষ জাতীয় খাবার খায় ? উত্তর ঃ নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ বিশ্বের একটি আন্দোলনের রুপ নিয়েছে। অনেকে এটাকে পুশুর অধিকার হিসেবে আখ্যয়িত করেন। অনেক লোক গোশত সহ অন্যান্য আমিষ খাবারকে পশুর অধিকারের লংঘন হিসেবে অভিহিত করেন। ইসলম সকল জীবের প্রতি হ্মমা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের আদেশ দিয়েছে। একই সময়ে আল্লাহ মানবজাতির কল্যাণের জন্য গোটা বিশ্ব, আশ্চর্যজনক উদ্ভিদ ও প্রাণীকূলকে সৃষ্টি করেছেন, ইসলাম তারও সদ্ব্যবহারের চিন্তা করে। আল্লাহর পহ্ম থেকে এ আমানত ও নেয়ামতকে ন্যায় সঙ্গত ভাবে ভোগ করা মানুষের দায়িত্ব। আসুন, আমার এ যুক্তির অন্যান্য দিকগুলোও বিবেচনা করবো। ১. একজন মুসলিম পুরোপুরি নিরামিষভোজী হতে পারে একজন মুসলমান পুরোপুরি নিরামিষভোজী হয়েও ভাল মুসলমান হতে পারে। একজন মুসলমানের জন্য আমিষভোজী হয়েও ভাল মুসলমান হতে পারে। একজন মুসলমানের জন্য আমিষভোজী হওয়া জরুরী নয় । ২. কোরআন মুসলমানদের আমিষ খেতে অনুমতি দেয় কোরআন মুসলমানকে আমিষ খাওয়ার অনুমতি দেয়। কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াগিুলো এর উপযুক্ত প্রমাণ মুমিনগণ তোমাদের কাছে বিবৃত হবে তা ব্যতীত। (আল-কোরআন ৫ঃ১) “চতুষ্পদ জন্থকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। এতে তোমাদের জন্য শীত বস্ত্রের উপকরণ আছে, আরও অনেক উপকার রয়েছে এবং কিছু সংখ্যককে তোমরা আহার্যে পরিণত করে থাকো।” (আল কোরআন ১৬ঃ৫) “এবং তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্থসমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের পেটের বস্থ থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্য তাদের তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কিছুর গোশত ভহ্মণ কর।”(আল কোরআন ২৩ঃ২১)। ৩. গোশত পুষ্টিকর এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ ঃ আমিষ জাতীয় খাদ্য উপযুক্ত প্রোটিনের চমৎকার উৎস এতে পুরোপুরিভাবে দেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিন অর্থাৎ ৮ টি এমাইনো এসিড আছে যা দেহ ভাঙ্গতে পার না। বরং খাদ্য দ্বারা তা সরবরাহকৃত হতে হয়। গোশতের মধ্যে আয়রন, ভিটামিন ই এবং নিয়াসিন আছে। ৪. মানুষের সর্বভূক দাঁত আছে আপনি যদি নিরামিষভোজী প্রাণী যেমন গরু, ছাগল ও ভেড়ার দাঁত পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে, আপনি তাদের সবার দাঁতের মধ্যে হৃদয়গ্রাহী মিল খুঁজে পাবেন। এসব পশুর ১সেট সমতল দাঁত আছে যা নিরামিষ তথা সবজি খাবারের উপযোগী। আপনি যদি মাংসাশী প্রাণী যেমন সিংহ, বাঘ বা চিতাবাঘের দাঁত পর্যবেক্ষণ করেন, তাহলে আপনি তাদের এক গুচ্ছ ছুঁচালো দাঁত দেখতে পাবেন যা মাংসাশী তথা আমিষ খাধ্যের উপযোগী। আপনি যদি মানুষের দাঁত পর্যওবক্ষণ করেন তাহলে, আপনি তাদের সমতল দাঁত ও ছুঁচালো উভয় প্রকার দাঁতই দেখতে পাবেন। এভাবে তাদের সবজি খাবার এবং মাংসাশীখবার উভযের জন্যই উপযুক্ত সর্বভূক দাঁত আছে। কেউ প্রশ্ন করতে পারে, যদি আল্লাহ চান মানুষ শুধু সবজিই খাবে, তাহলে, কেন তিনি আমাদের ছুঁচালো দাঁত দিয়েছেন? এটা খুবই যুক্তিসংগত যে, তিনি আমাদের জন্য নিরামিষ এবং আমিষ এই উভয় প্রকার খাদ্যের প্রয়োজন নির্ধারিত করেছেন। মানব জাতি নিরামিষ এবং আমিষ উভয়ই হজম করতে পারে নিরামিষ ভোজী প্রাণীদের পরিপাকতন্ত্র শুধুমাত্র সবজি হজম করতে পারে। মাংসাশী প্রাণীর পরিপাকতন্ত্র শুধুমাত্র গোশত হজম করতে পারে। কিন্তু মানবজাতির পরিপাকতন্ত্র আমিষ ও নিরামিষ উভয় প্রকার খাদ্যইহজম করতেপারে। যদি আল্লাহ চান যে, আমরা শুধু নিরামিষ খাই, তাহলে কেন তিনি আমাদের আমিষ ও নিরামিষের জন্য পরিপাকতন্ত্র দিয়েছেন? ৬.হিন্দু ধর্মগ্রন্থ আমিষ জাতীয় খাদ্য অনুমোদন করে (ক) অনেক হিন্দু আছে, যারা কঠোরভাবে নিরামিষভোজী। তারা চিন্তা করে, আমিষ জাতীয় খাদ্য তাদের ধর্ম বিরোধী। কিন্তু বাস্তব সত্য এটা যে, হিন্দু ধর্মগ্রন্থ গোশত খাওয়া অনুমোদন করে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ হিন্দু ঋষি ও সন্ন্যাসীদের আমিষ খাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। (খ) হিন্দু নীতি শান্ত্র মনুসম্রুতির ৫নং অধ্যায়ের ৩০নং শ্লোকে আছে ‘‘যা খাওয়ার জন্য সৃষ্টি হয়েছে তার গোশত খওয়া খারাট কিছু নয়, এমন কি সে যদি দিনের পর দিনও খায়, কেননা, ঈশ্বরই কাউকে ভক্ষণকারী ও কাউকে ভক্ষণকৃত হওয়ার জন্য বানিয়েছেন।” (গ)মনুসম্রুতির অধ্রায় ৫এর ৩১নং শ্লোকে আছে ঃ “গোশত খাওয়া উৎসর্গের অধিকার, ঐতিহ্যগতভাবে তা ঈশ্বরের বিধান হিসেবে পরিচিত।” (ঘ) মনুসম্রুতির অধ্যায় নং৫ এর ৩৯ও৪০শ্লোকে বলা হয়েছে,ঈশ্বর নিজেই উৎসর্গকারী প্রাণী সৃষ্টি করেছেন। তাই উৎসর্গের জন্য হত্যাকে হত্যাকান্ড বলা হয়না।” মহাভরতের অনুশাসন পর্ব ৮৮নং অধ্যায় -এ ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির এবং পিতামহ বিশ্বের মধ্যকার আলোচনায় শ্রাদ্ধতে (মৃতের কুলখানি ) করার জন্যকি ধরনের খাদ্য সরবরাহ করা উচিত তার উল্লেখ আছে। অনুচ্ছেদটি নীচে বর্ণিত হল ঃ “যুধিষ্ঠির বলেন, “হে পরাক্রমশালী আমাকে বলে দাও, কোন জিনিস পূর্বপুরুষদেরকে উৎসর্গ করণে তা অক্ষয় থাকবে? কোন সম্পদ দান করলে তা চিরদিন অক্ষয় থাকবে? কোন জিনিস উপহার দিলে তা চিরন্তন হয়ে থাকবে? বিশ্বে জবাবে বলল, হে যুধিষ্ঠির শোন, শ্রাদ্ধ(কুলখানি) অনুষ্ঠানের রীতিনীতির উপযোগী যে জিনিস উপহার দেয়া উচিত, তার মধ্যে ফল ফলাদি আছে। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে তিল, চাউল, বার্লি,পনি, মাসকলাই, শিঁকর এবং ফল উপহার দিলে মৃত পূর্বসূরীরা ১মাস খুশী থাকে। আর মাছ দিলে খুশী থাকে ২মাস, খাসীর গোশত দিলে ৩মাস, খরগোশের গোশত দিলে ৪মাস, ছাগলের গোশত দিলে ৫মাস, শূকরের গোশত দিলে ৬মাস এবং পাখীর গোশত দিলে ৭মাস খুশী থাকে। প্রিসাটা নামক হরিণের যে গোশত খদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়, তা দিলে ৮মাস, রুরু নামক পশুর গোশত দিলে ৯মাস, এধাধুধ নামক পশুর গোশত দিলে ১০মাস, মহিষের গোশত দিলে ১১মাস, গরুর গোশত দিলে ১২মাস, ঘি মিশ্রিত পায়েস ুদলে গরুর গোশতের মত ১২মাস এবং বড় ষাড়ের গোশত দিলে ১২মাস খুশী থাকে। মৃত পূর্ব পুরুষদের চান্দ্র বার্ষিকীতে গন্ডারের গোশত দিলে তা অক্ষয় থাকে। বাগানের কালসকা নামক শাক-সজ্বি,কাঞ্চণ ফুলের পাপড়ি এবং লাল ছাগলের গোশত দিলে তা অক্ষয় থাকে। তুমি যদি কোমার পূর্ব পুরুষকে চিরদিনের জন্য সন্তুষ্ট রাখতে চাও তাহলে তুমি তাদের জন্য লাল ছাগলের গোশত উৎসর্গ করতে পার। ৭. হিন্দুধর্ম অন্যান্য ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত যদিও হিন্দু ধর্ম গ্রন্থ তার অনুসারীদেরকে আমিষ খাদ্যের অনুমতি দিয়েছে , কিন্থ অধিকাংশ হিন্দু জৈনধর্মের মত অন্য ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নিরামিষ খাদ্য গ্রহণ করেছিল। ৮. এমন কি উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মের অনুসারী নিরামিষকেই খাদ্য বিধি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কারণ তারা জীব হত্যার বিরোধী। যদি কোন ব্যাক্তি কোন প্রাণী হত্যা করা ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে, তাহলে আমি উক্ত পদ্ধতি প্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হতে রাজী আছি। অতীতে মানুষের ধারণা ছিল যে, উদ্ভিদ প্রাণহীন। বর্তমানে এটা সার্বজনীন সত্য যে, উদ্ভিদের প্রাণ আছে । তাই খাঁটি নিরামিষভোজী হয়েও জীব হত্যা না করার যুক্তি যথার্থ নয়। ৯. এমন কি উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে তারা আরও যুক্তি দেয় যে, উদ্ভিদের ব্যাথার অনুভূতি নেই। তাই প্রাণী হত্যার চেয়ে উদ্ভিদ হত্যা কম অপরাধ । আজ বিজ্ঞান বলছে যে উদ্ভিদেরও ব্যথার অনুভূতি আছে । কিন্থ মানবজাতি তাদের কান্না শুনতে পায়না। কেননা, শব্দের শ্রবণযোগ্য পরিসর বা পরিধি হল ২০ হার্টজ থেকে ২০ হাজার হার্টজ। যে শব্দ উক্ত পরিসর থেকে কম বা বেশী , মানুষের পহ্মে তা শুনা সম্ভব নয়। কুকুর ৪০ হাজার হার্টজ পর্যন্ত শুনতে পায়। নিঃশব্দ ডগ-হুইশালের ফ্রিকুয়েন্সী হল ২০ হাজার হার্টেজের বেশী এবং ৪০ হাজারের কম। এ হুইশাল গুলোর শব্দ কুকুর ছাড়া কোন মানুষ শুনতে পায় না। কুকুর নিজ মনিবের হুইশাল বুঝতে পেরে তার কাছে আসে। আমেরিকার একজন কৃষা একটি যন্ত্র আবিষ্কার করে এবং উদ্ভিদের কান্নাকে মানুষের শোনার উপযুক্ত করার লহ্মে গবেষণা চালায়। সে পানির জন্য উদ্ভিদের কান্না সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে সহ্মম হয়েছিল। সামপ্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত যে, উদ্ভিদ সুখ এবং দুঃখ দুটোই অনুভব করতে পারে এবং কাঁদতেও পারে। ১০. দুটো কম বোধশক্তি বিশিষ্ট প্রাণীহত্যা কম অপরাধ নয় একবার নিরামিষভোজী তার স্বপহ্মে এই যুক্তি প্রদর্শন করে যে. প্রাণীর যেখানে ৫টি অনুভুতি শক্তি আছে. উদ্ভিদের হ্মেত্রে তা মাত্র ২-৩টা । তাই প্রাণীহত্যার চেয়ে উদ্ভিদ হত্যা কম অপরাধ। ধরা যাক , জন্মগতভাবে আপনার বোবা ও বধির ভাইটির অন্যান্য মানুষের তুলনায় দুটো বোধ শক্তি কম আছে। সে বড় হওয়ার পর তাকে কেউ মেরে ফেলল । আপনি কি আপনার ২টি কম অনুভূতি সম্পন্ন ভাইয়ের জন্য বিচারককে বলবেন যে, খুনীকে যেন অল্প শসি- দেয়? বরং আপনি এটাই বলবেন যে, সে একজন নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করেছে তাই বিচারক যেন তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। এমন কি কোরআনও বলেছে, “হেূমানবমন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্থ সামগ্রী খাও।’’ ( আল কোরআন ২ঃ১৬৮) ১১. গবাদি পুশুর সংখ্যাবৃদ্ধি যদি মনবজাতি নিরামিষভোজী হত, তাহলে বিশ্বে গবাদি পশুর সংখ্যা বেড়ে যেত। কারণ তাদের জন্ম বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। সর্বজ্ঞানী আল্লাহ জানেন , কিভাবে তার সৃষ্টি জগতের ভারসাম্য রহ্মা করা যায়। তাই তিনি আমাদেরকে গবাদি পশু খাওয়ার অনুমতি দেয়ায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ১২ সবাই আমিষভোজী না হওয়ায় গোশতের মূল্য যুক্তিসংগত কিছু লোক খাঁটি নিরামিষভোজী হলে তাতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্থ আমিষভোজীদেরকে নির্দয় বলে নিন্দা করা তাদের উচিত নয়। বাস্তবে যদি সকল ভারতবাসী আমিষভোজী হত, তাহলে গোশতের দাম বেড়ে যেত এবং বর্তমান আমিষভোজীরা হ্মতিগ্রস্ত হত। ৭.ম প্রশ্ন ইসলামী পদ্ধতিতে পশু জবাই বাহ্যত নিষ্ঠুর মনে হয় প্রশ্ন ঃ কেন মুসলমানরা অত্যাচার, মন্থরগতি এবং যন্ত্রণা দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে পশু জবাই করে? উত্তর ঃ বহু লোক ইসলামের যবেহ পদ্ধতির সমালোচনা করে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করলে বুঝা যাবে , জবেহ পদ্ধিতি শুধু মানবিক নয়, বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও উত্তর। ১. ইসলামী পদ্ধতিতে পশু জবেহ ‘যাক্কাইতুম’একটি ক্রিয়া যা ‘যাকাহ ’ ধাতু থেকে উৎপত্তি হয়েছে । এর সকর্মক ক্রিয়া হচ্ছে তাজকিয়াহ যার অর্থ বিশুদ্ধকরণ । ইসলামের দৃষ্টিতে পশু জবেহর জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচ্য। ক. ধারালো অস্ত্র (ছুরি) দিয়ে জবেহ করতে হবে ঃ পশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দু্রত জবেহ করতে হবে। তাহলে, জবেহকৃত পশুর কষ্ট কম হবে। খ. শ্বাসনালী , কন্ঠ ও ঘাড়ের রক্তনালী কেটে ফেলতে হবে ‘জবেহ’ একটি আরবী শব্দ, যার অর্থ ‘হত্যা করা’ । জবেহ করা হয় কন্ঠ, শ্বাসনালী এবং ঘাড়ের রক্তনালী কেটে। মেরুদন্ড কেটে প্রাণীহত্যা করা হয়না। ১. রক্ত প্রবাহিত করা উচিত মাথা কাটার পূর্বে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে। রক্ত প্রবাহের উদ্দেশ্র হল এরা হ্মুদ্র জীবানুর ভার উৎপাদন কেন্দ্র। মেরুদন্ড কাটা উচিত নয়। কারণ, এর ফলে হৃদযন্ত্রের ধমনী ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে হৃদক্রিয়অ বন্ধ হয়ে নালীতে রক্ত চলাচল আটকে যেতে পারে। ২. রক্ত ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুর ভাল মাধ্যম জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ও বিষ (জীব ও উদ্ভিদদেহে ) ইত্যাদি উৎপাদনের জন্য রক্ত ভাল মাধ্যম । তাই ইসলামের জবেহ পদ্ধতিই অধিক স্বাস্থ্যকর। কারণ, রক্তে যে জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া ও বিষ ইত্যাদি থাকে, তা দূরীভূত হয়, সেগুলো বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। ৩. গোশত দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টাট্‌কা থাকে অন্যান্য জবেহ পদ্ধতির তুলনায় ইসলামী পদ্ধতিতে জবেকৃত পশুর গোশত দীর্ঘসময় টাট্‌কা থাকে। কারণ , তাতে রক্ত থাকে না। ৪. প্রাণী যন্ত্রণা অনুভব করে না ঘাড়ের রক্তণালী কাটার ফলে তা মসি-স্কে যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী ধমনীর রক্ত প্রবাহ ছিন্ন করে । ফলে প্রাণী ভ্যথা অনুভব করে না। জবেহর জন্য পশুকে শোয়ানো হলে তার সংগ্রাম, মোচড়, কম্পন, লাথি ব্যথার জন্য নয় বরং মাংসপেশী সংকোচন ও প্রসারের ফলে এবং দেহ থেকে রক্ত প্রবাহের কারণে হয়ে থাকে। ৮ম প্রশ্ন আমিষ জাতীয় খাবর মুসলমানকে হিংস্র করে তোলে প্রশ্ন ঃ বিজ্ঞান বলে, মানুষ যা খায় চরিত্রের উপর এর প্রভাব পড়ে। যেহেতু গোশত মানুষকে হিংস্র করে তোলে, তাহলে, ইসলাম কেন মুসলমানদের আমিষ খাওয়ার অনুমতি দেয়? উওর ঃ ১. শুধুমাত্র তৃণভোজী প্রাণী খওয়াই জায়েয একজন মানুষ যা খায়, তা তার চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলে, একথার সাথে আমি একমত। এ কারণেই ইসলাম মাংসাশী প্রাণী যেমন সিংহ, বাঘ, চিতাবাঘ ইত্যাদি হিংস্র প্রাণী খেতে নিষেধ করেছে। এসব হিংস্রপ্রাণীর গোসত খেলে স্বভাবতই তা তার চরিত্রের উপর প্রভাব ফেলেবে। ইসলাম শুধুমাত্র তৃণভোজী প্রনী গরু, ছাগল, ভেড়া, ইত্যাদি শান্ত ও নিরীহ প্রাণী খওয়ার অনুমতি দিয়েছে। মুসলমানরা শান্ত ও নিরীহ প্রণী খায়। কারণ, তারা শানি-প্রিয় এবং সংিচু । ২. কোরআন বলেছে, মহানবী (সা) খারাপ জিনিসটাকেই নিষেধ করেছেন। কোরআন বলেছে ঃ “তিনি তাদেরকে নির্দেশ দেন সৎকর্মের, বারণ করেন অসৎকর্ম থেকে। তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্থ হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্থ সমূহ।” (আল কোরআন ৭ঃ১৫৭) “রাসূল তোমাদের যা দেন, তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (আল কোরআন ৫৯ঃ৭) একজন মুসলমানের জন্য মহানবী (সা)-এর বিবৃতিই যথেষ্ট যে, আল্লাহ কিছু গোশ্‌তকে হালাল করেছেন আর কিছুকে করেছেন হারাম। ৩. মুহাম্মদ (স)-এর হাদীস মাংসাশীপ্রাণী খাওয়া নিষেধ করেছে ঃ বোখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত সহীহ হাদীসে, বিশেষ করে ইবনে আব্বাস থেকে মুসিৈম শরীফের ‘শিকার ও জবেহ’ অধ্যায়ে ৪৭৫২ নং হাদীসে, ইবনে মাজাহর ১৩নং অধ্যায়ে ৩২৩২ ও ৩২৩৪ নং হাদীসে মহানবী (স) নিম্নোক্ত খাবারগুলোকে হারাম করেছেন। (ক) শ্বাদন্ত দাঁত বিশিষ্ট বন্য প্রাণী, যেমন মংসাশী প্রাণী খাওয়া। এসব পশু বিড়াল প্রজাতীয় যেমন সিংহ, বাঘ, বিড়াল, কুকুর, নেকড়ে বাঘ, হায়েনা ইত্যাদি। (খ) তীহ্মদাঁত বিশিষ্ট প্রাণী , যেমন ইঁদুর নখবিশিষ্ট খরগোশ ইত্যাদি। (গ) সরীসৃপ প্রাণী, যেমন সাপ, কুমির ইত্যাদি (ঘ)লম্বা নখবিশিষ্ট শিকারী পাখি, যেমন শকুন , ঈগল , কাক, পেঁচা ইত্যাদি। আমিষভোজন মানুষকে অসহিঞ্চু করে এরকম কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ৯ম প্রশ্ন মুসলিম কা’বা শরীফের পূজা করে প্রশ্ন ঃ ইসলাম মূর্তি পূজার বিরোধী। তাহলে মুসলিমরা কেন নামাযে কা’বার দিকে মুখ করে নতজানু হয়ে এর পূজা করে? উত্তর ঃ কা’বা হচ্ছে কিব্‌লা । অর্থাৎ মুসলমানরা সেদিকে ফিরে নামায পড়ে । এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা যে, যদিও মুসলমানরা কা’বার দিকে মুখ করে নামায আদায় করে। তার মানে এ নয় যে তারা কা’বার পূজা করে। মুসলমানরা একমাত্র আল্লহর ইবাদাত করে এবং তার সামনেই মাথা নত করে। সূরা আল বাকারাতে বলা হয়েছে ঃ “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, অবশ্যই আমি আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব, যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদে হারামের দিকে মুখ করুন এবং তেমারা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর।”(আল কোরআন ২ঃ১৪৪) ১. ইসলাম ঐক্য প্রদর্শনে বিশ্বাসী ধরা যাক, যদি মুসলমানরা নামায আদায় করতে চায়, তাহলে এটা অসম্ভব যে, কেউ উত্তর বা কেউ দহ্মিণ দিকে ফিরে আদায় করতে চাইতে পারে। একথা সত্য, আল্লাহর ইবাদাতে মুসরমানদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদেরকে এক দিকেই অর্থাৎ কেবলার দিকে মুখ করে নামায আদায় করার হুকুম দেয়া হয়েছে। যদি কোন মুসলিম কা’বার পশ্চিমে অবস্থানকারী হয়, তাহলে, তারা পূর্ব দিকে ফিরে নামায পড়বে। একইভাবে, যদি তারা পূর্ব দিকে থাকে তাহলে পশ্চিম দিকে ফিরে নামায পড়বে। ২. বিশ্ব মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে কা’বা মুসলমানরাই প্রথম বিশ্বমারচিত্র অংকন করেছে, তারা প্রথমে উপরের দিককে দহ্মিণ ও নিচের দিককে উত্তরমুখী করে মানচিত্র তৈরি করে এবং কা’বাকে মাঝখানে রাখে। পরবর্তীতে, পাশ্চত্যের মানচিত্র অংকনকারীরা উপরের দিককে উত্তর ও নিচের দিককে দহ্মিণমুখী করে মানচিত্র তৈরি করলেও আলহামদুলিল্লাহ, কা’বা ঘর কেন্দ্রবিন্দুতেই আছে। ৩. কা’বার চতুর্দিকের তওয়াফ এক আল্লাহকেই দির্দেশ করে মুসলমানরা যখন মসজিদে হারামে যায় তখন তারা কা’বার চতুর্দিকে ধীরে প্রদহ্মিণ করে। এ কাজটি এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বস ও ইবাদাতের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। প্রতিটি বৃত্তের যেমন একটি মধ্যবিন্দু থাকে তেমনি মুসলমানদের ইবাদাতের ইবাদাতের যোগ্য এক আল্লাহই বিদ্যমান। ৪. ওমর (রাঃ)-এর হাদীস ওমর (রাঃ) থেকে হাজারে আসওয়দ সম্পর্কে বোখারী শরীফের ২য় খন্ডে ‘হজ্জ’ অধ্যায়ের ৫৬ অনুচ্ছেদে ৬৭৫নং হাদীসে বর্ণিত, ওমর (রঃ) বলেন, “আমি জানি তুমি একটি পাথর। তুমি মানুষের উপকার বা অপকার করতে পার না। মাসূলুল্লাহ (স) যদি তোমাকে স্পর্শ না করতেন বা চুমা না খেতেন, তাহলে, আমিও তোমাকে স্পর্শ ( চুমা) করতাম না।” ৫. লোকেরা কা’বার উপর দাঁড়িয়ে আযান দিত নবী (সাঃ)-এর সময় লোকেরা কা’বার উপর দাঁড়িয়ে আযান দিত। যারা প্রশ্ন করে যে,মুসলমানরা কা’বা পূজা করে, তাদেরকে পাল্টা প্রশ্ন করা যায় যে, কোন মূর্তি পূজারী মুর্তির উপর দাঁড়ায়? ১০ম প্রশ্ন অমুসলিমের মক্কায় প্রবেশাধিকার নেই প্রশ্ন ঃ প্রবিত্র মক্কা ও মদীনায় কেন অমুসলিমদের প্রবেশের অনুমতি নেই? উত্তর ঃ আইনানুসারে এটা সত্য যে, মক্কা ও মদীনায় অমুসলিমদের প্রবেশ নিষেধ। এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচ্য ঃ ১. ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সকলের প্রবেশাধিকার নেই আমি একজন ভারতীয় নাগরিক। তাসত্বেও আমিও ক্যান্টনমেন্টের মত কিছু নিষিদ্ধ এরাকায় ঢোকার অনুমতি প্রাপ্ত নই। প্রতিটি দেশ এরকম এলাকা আছে, যেখানে সাধারণ জনগণের প্রবেশাধিকার নেই । শুধু মাএ যারা সামরিক বাহিনী অথবা প্রতিরহ্মা বাহিনীর সাথে জড়িত শুধুমাত্র তারাই সে সব এলাকায় প্রবেশ করতে পারে। একইভাবে ইসলামও পুরো বিশ্বের জন্য এবং সকল মানুষের জন্য দ্বীন বা ধর্ম। ইসলামের ক্যান্টনমেন্ট এলাকা হচ্ছে দু'টো পবিত্র শহর , মক্কা ও মদীনা। এখানে শুধুমাত্র যারা ইসলামে বিশ্বসী এবং ইসলামের প্রতিরহ্মায় নিয়োজিত অর্থাৎ মুসলমানদেরই প্রবেশধিকার আছে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মক্কা এবং মদীনায়ও অমুসলমানের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে তাদের আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়। ২. মক্কা ও মদীনায় প্রবেশের ভিসা (ক) কোন ব্যক্তির বিদেশে ভ্রমনের জন্য সর্বপ্রথম তাকে ভিসার জন্য দরখাস্ত করতে হয় যা ঐ দেশের প্রবেশপত্র হিসেবে বিবেচিত । প্রতিটি দেশেরই ভিসা ইস্যুর নিজস্ব নিয়মনীতি আছে । যে পর্যন্ত তাদের মাপকাঠি সনে-াষজনক না হবে, সে পর্যন্ত ভিসা ইস্যু করবে না। (খ) আমেরিকা ভিসা ইস্যুর হ্মেত্রে সর্বাধিক কঠোর দেশ, বিশেষ করে যখন ৩য় বিশ্বের দেশসমূহের নাগরিকদের ভিসা ইস্যু করা হয়। ভিসা ইস্যুর পূর্বে তাদের অনেক শর্ত ও প্রয়োজন পূরণ করতে হয়। (গ) যখন আমি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করি তখন তাদের ইমিগ্রেশন ফর্মে দেখতে পাই “মাদকদ্রব্য চোরাচালানকারীর মৃত্যুদন্ড”। যদি আমি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে চাই, তাহলে আমাকে এ নিয়ম মেনে চলতে হবে, আমি বলতে পারব না যে, মৃত্যুদন্ড একটি বর্বর শাসি-। যদি আমি তাদের শর্ত পূরণ করি তাহলেই আমি সে দেশের ভিসা পেতে পারি। (ঘ) কোন ব্যক্তির মক্কা বা মদীনায় প্রবেশ ভিসার প্রথম শর্ত , তার এ বিশ্বাস থাকতে হবে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।”অর্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই, এবং মোহাম্মদ (স) আল্লাহর বান্দাহ ও রাসূল।” ১১শ প্রশ্ন শুকরের গোশত নিষেদ্ধ প্রশ্ন ঃ কেন ইসলামের শুকরের গোশত নিষিদ্ধ ? উত্তর ঃ সবারই জানা আছে যে, ইসলামের শুকরের গোশত নিষিদ্ধ। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করলে নিষিদ্ধ হওয়ার বেশ কিছু কারন খুঁজে পাওয়া যাবে ঃ ১. কোরআনের শুকরের গোশত নিষিদ্ধ কোরআন ৪ জায়গায় শুকরের গোশত নিষিদ্ধ করেছে। নিম্নের সূরা ও আয়াতে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে ২ঃ১৭৩, ৫ঃ৩, ৬ঃ১৪৫, ও ১৬ঃ১১৫। “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের গোশত, যেসব জন্থ আল্লাহ ছাগা অন্যের নাম উৎসর্গীকৃত হয়।” -আল কোরআন ৫ ঃ ৩ শুকরের গোশত কেন নিষিদ্ধ তা বুঝার জন্য একজন মুসলমানের জন্য উপরোক্ত আয়াতগুলোই যথেষ্ট। ২. বাইবেলেও শুকরের গোশত নিষিদ্ধ খৃষ্টানরা বাইবেলের বরাত দিয়ে কথা বললে, এ বিষয়ে আকৃষ্ট হতে পারে। বাইবেলের লেবীয় পুস্তকে শুকরের গোশতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‘আর শুকর তোমাদের পহ্ম অশুচি, কেননা, সে সম্পূর্ণ রুপে দ্বিখন্ড খুরবিশিষ্ট বটে, কিন্থ জাওর কাটেনা। তোমরা তাদের মাংস ভোজন করিওনা, এবং তাহাদের শবও স্পর্শ করিওনা তাহারা তোমাদের পহ্মে অশুচি।’ (লেবীয় পুস্তক-১১ঃ৭-৮) দ্বিতীয় বিবরণে আছে, ‘আর শুকর দ্বিখন্ড খুব বিশিষ্ট বটে, কিন্থ হাওর কাটেনা, এবং তাহাদের শব স্পর্শও করিবেনা ।’ (৯১৪ঃ৮) বাইবেলের যিশাইয় পুস্তকের ৬৫নং অধ্যায়ের ২-৫নং শ্লোকেও শুকরের গোশত নিষেধ করা হয়েছে। ৩. শুকরের গোশত বিখিন্ন রোগের কারণ যদি কারণ, যুক্তি ও বিজ্ঞান দ্বারা অমুসলিম ও নাসি-কদের বুঝানো যায়,তাহলে তারা বাঝবে, শুকরের গোশত কমপহ্মে ৭০টি রোগের কারণ। একজন মানুষের বিভিন্ন কৃমি যেমন গোলকৃমি, বক্র কৃমি, পিনকৃমি ইত্যাদি থাকতে পারে।সবচেয়ে হ্মতিকর কৃমি ঞধবহবধ ংড়ষরঁস। সাধারণ লোকেরা এটাকে ফিতাকৃমি বলে। এটি অনেক লম্ব ও থাকে অন্ত্রে। এর ডিম রক্তের মাধ্যমে দেহের সব অঙ্গে যেতে পারে। যদি এটা মসি-স্কে যায, তাহলে স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। হৃদযন্ত্রে প্রবেশ করলে হার্ট অ্যাটাক, চোখে প্রবেশ করলে অন্ধ এবং কলিজায় প্রবেশ করলে তা ধ্বংস হয়ে যায় । এটা হেদের প্রায় সব অঙ্গকে হ্মতিগ্রস্থ করতে পারে। ঞৎরপযঁৎধ ঞরপযঁৎধংরং আরেকটি হ্মতিকর কৃমি। একটি ভ্রান্ত ধারণা বিদ্যমান আছে যে, যদি শুকরের গোশত ভালভারে রান্না করা হয়, তাহলে এসব ডিম মরে যায়। আমেরিকায় এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ২৪% লোক ঞৎরপযঁৎধ ঞরযঁৎধংবং-এ ভোগে। ২২% লোক শুকরের মাংস খুব ভাল করে রান্না করে। এতে প্রমাণিত হয় যে, সাধারণ রান্নার তাপমাত্রায় ডিম মরে না। ৫.শুকর পৃথিবীর সর্বাধিক নোংরা প্রাণী ঃ শুকর হল পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে নোংরা প্রাণী। এরা বিষ্ঠা, গোবর ও নোংরা স্থানে বাস করে। আমার জানামতে আল্লাহর সৃষ্টি জগতে এরা সবচেয়ে ভাল ঝাড়-দার। গ্রামে আধুনিক বাথরুমের ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামবাসীরা খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করে। সেগুলো পরিষ্কার করে নিয়ে যায় শুকররা। কেউ যুক্তি প্রদর্শন করতে পারে যে, উন্নত দেশ যেমন, অস্ট্রেলিয়াতে ধারণা করা হয় যে, শুকররা পরিষ্কার ও স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে জন্মগ্রহণ করে। এমনকি শূকরের জন্য এসব স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নির্ধারিত। আপনি তাদেরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার যতই চেষ্টা করুন না কেন প্রাকৃতিকগতভাবে তারা নোংরা। তারা নিজেদের মলসহ প্রতিবেশীদের মলও খায়। ৬. শুকর সবচেয়ে নির্লজ্জ প্রাণী ঃ প্রথিবীর বুকে শুকর হল সবচেয়ে নিলর্জ্জ প্রাণী। তারাই প্রাণী, যারা নিজেদের সাথে যৌন মিলনের আহ্বান জানায়। আমেরিকাতে, অধিকাংশ লোক শুকুরের মাংস খায়। অনেক সময় নাচের অনুষ্ঠানের পর তারা স্ত্রী বদল করে। যেমন, অনেকে বলে, “তুমি আমার স্ত্রীর সাথে থাক এবং আমি তোমার স্ত্রী সাথে থাকি।” শুকরের গোশত খেলে আপনিও এমন আচরণ করবেন। ১২শ প্রশ্ন প্রশ্ন ঃ ইসলামে কেন মদ সেবন নিষিদ্ধ ? উত্তর ঃ মদ চিরকাল মানব সমাজের কষ্ট ও দুঃখের কারণ। এর ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন নাশ এবং গোটা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চরম দুঃখ -দুর্দশা নেমে এসেছে। মদ সমাজের বহু সমস্যার মূল কারণ। অপরাধ বৃদ্ধির হার, মানসিক অসুখ এবং পারিবারিক ভাংগনের করুণ পরিসংখ্যান মদের ধ্বংসাত্মক শক্তির উত্তম সাহ্মী। ১. কোরআনে মদ নিষিদ্ধ পবিত্র কোরআনে নিম্নের আয়াতে মদকে নিষিদ্ধ করে বলা হয়েছে ঃ “ হে মুমিনগণ এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ বৈ কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে বেঁচে থাক যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও।” (আল কোরআন ৫ঃ১৮) ২. বাইবেলে মদ নিষিদ্ধ ক. ‘দ্রাহ্মারস নিন্দক; সূরা কলহকারিণী, যে তাহাতে ভ্রান্ত হয়, সে জ্ঞানবান নয়।’ (হিতোপদেশ ২০ঃ১) খ. ‘দ্রাহ্মারস দ্বারা মদ্যপ হয়োনা।’ (ঊঢ়যবংরধহং-৫ঃ১৮) ৩. মদ অনুভূতির কেন্দ্রকে বাধা দান করে ঃ মানবজাতির মসি-ষ্কে একটি অনুভূতি কেন্দ্র আছে। এটি মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাথে। ধরা যাক পিতামাতা বা বড়দেরকে লহ্ম্য করে কেউ কটুক্তি করে না। যদি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের ডাকে সাড়া দেয়ার দরকার হয়, তাহলে তার অনুভূতি কেন্দ্র তাকে জনসম্মুখে তা করতে বাধা দেয়। সেজন্য সে টয়লেট ব্যবহার করে। যখন কেউ মদ পান করে, তখন তার অনুভূতি দেন্দ্র বদ্ধ থাকে। ফলে নেশাগ্রস্তব্যক্তি প্রায়ই তার বৈশিষ্ট্য নিরোধী আচরণ করে। যেমন মদ্যপায়ী ব্যক্তি পিতামাতা সহ অন্যদের সাথে অশোভন ভাষা ব্যবহার করে। সে তার ভুল বুঝতে পারে না। অনেকে আবার পোশাকেও পেশাব করে দেয়। তারা না পারে ভালোভাবে হাঁটেতে, না পারে কথা বলতে। তারা খারাপ ব্যবহার করে। ৪. মদপায়ীদের মধ্যে ব্যভিচার, ধর্ষণ, অত্যাচার ও এইড্‌স রোগ পাওয়া যায় ঃ ১৯৯৬ সনে মার্কিন যুক্তমাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীন জাতীয় অপরাধ সার্ভে ব্যুরোর এক পরিষংখ্যানে দেখা যায়, দৈনিক ২৭১৩ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যান থেকে আরো জানা যায় যে, অধিকাংশ ধর্ষণকারীই অপরাধ সংঘটনের সময় মাতাল ছিল। এই একই কারণ নির্যাতন নিগ্রহের হ্মেত্রেও সত্য। পরিসংখ্যানানুসারে, ৮% আমেরিকান অত্যাচারে লিপ্ত। অর্থাৎ আমেরিকাতে প্রতি ১২কি ১৩ জনের মধ্যে একজন অত্যাচারে লিপ্ত। প্রায় হ্মেত্রেই অত্যাচার সংঘটিত হয়েছে একজন বা উভয়ের মাতাল অবস্থায়। এইড্‌স এর মত ঘাতক ব্যাধির একটি প্রধান কারণ হল মদপান। ৫. প্রত্যেক মদ্যপায়ী প্রথমে সামাজিক মদ্যপায়ী থাকে। অনেকে খওছটঙজ-এর পহ্মে মত প্রকাশকরে। তাদেরকে সামাজিক মদ্যপায়ী বলে। তারা দাবী করে যে, এক বা দুই পেগ মদ পান করলে নিজেদের উপর কন্ট্রোল থাকে এবং তারা কখনও মাতাল হয় না। গরেষণায় জানা গেছে যে, প্রত্যেক মদ্যপায়ী প্রথমে ঝড়পরধষ ফৎরহশবৎ হিসেবে মদ্যপান শুরু করে। কোন একজন মদ্য পায়ী একজন বড় মদ্যপায়ী হওয়ার মনোভাব নিয়ে মদপান শুরু করে না। কোন ঝড়পরধষ ফৎরহশবৎ এটা বলতে পারবে না যে , আমি গত কয়েক বছর ধরে মদপান করছি, আমার নিজের উপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ আছে এবং আমি কখনও মাতলামি করি না। ৬. কোন ব্যক্তি একবার মাতাল হয়ে কোন লজ্জাষ্কর কাজ করলে তাকে সারাজীবন লজ্জা পেতে হবে ঃ ধরা যাক, একজন ঝড়পরধষ ফৎরহশবৎ কোন এক সময় তার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল এবং মাতাল অবস্থায় সে ধর্ষণ বা অত্যাচার করল। যদি পরবর্তীতে কাজটা অনুতাপের বিষয় হয়, তাহলেও একজন সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সারাজীবন অপরাধী মনোভাব অনুভব করবে। অপরাধী ও হ্মতিগ্রস্ত উভয়ের অপূরণীয় হ্মতি হয়ে যায়। ৭. হাদীসে মদপান নিষিদ্ধ ঃ মহানবী মোহাম্মদ (স) বলেছেন ঃ ক. সুনানে ইবনে মাজাহর ৩য় খন্ডে ৩০ অধ্যায়ের ৩৩৭১ নং হাদীসে আছে, “মদ হচ্ছে সকল মন্দকাজের উৎস এবং সর্বধিক লজ্জাস্কর মন্দ।” খ. সুনানে ইবনে মাজাহর ৩য় খন্ডের ৩০অধ্যেয়ের ৩৩৯২ নং হাদীসে আছে, “যা কিছু অধিক পরিমাণে নেশা করে, তা নিষিদ্ধ, এমনকি তা অল্প পরিমাণ হলেও।” গ. শুধুমাত্র যে মদপান করে সে-ই অভিশপ্ত নয়, বরং যে তা প্রত্যহ্ম ও পরোহ্মভাবে সরবরাহ করে সেও আল্লাহর পহ্ম থেকে অভিশপ্ত। সুনানে ইবনে মাজাহ ৩য় কন্ড। ৩০ অধ্যায়ের ৩৩৮০ নং হাদীস। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন ঃ “মদের সাথে সম্পর্কযুক্ত ১০ প্রকার মানুষের উপর আল্লাহর অভিশাপ ১। যে মদ সরবরাহ করে, ২। যাকে সরবরাহ করা হয় ৩। যে পান করে ৪। যে বহন করে, ৫। যার কাছে বহন করা হয়, ৬। যে পরিবেশন করে, ৭। যে বিক্রি করে, ৮। যে মদের টাকা ব্যবহার করে ৯। যে কিনে এবং ১০। যে অন্য কারোর জন্য তা কিনে।” ৮. মদের সাথে সম্পর্কযুক্ত রোগ ব্যাধি ঃ মদকে হারাম করার পেছনে বহু বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে । বিশ্বের অধিক সংখ্যক মৃত্যুর কারণ হল, মদপান । প্রতিবছর মদের কারনে কোটি কোটি লোক মারা যায়। মদের হ্মতি সকলেরই জানা। মদের সাথে সম্পর্কযুক্ত রোগ ব্যাধির একটি তালিকা নিম্নরুপ ঃ ১. লিভার সিরোসিস একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাধি। ২. অন্যান্য রোগগুলো হচ্ছে, খাদ্যনালীর ক্যান্সার, মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সার, লিভারের ক্যান্সার(ঐবঢ়ধঃড়সধ) বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার, ইত্যাদি। ৩। খাদ্যনালীর প্রদাহ, পাকস্থলীর প্রগাহ, অগ্নাশয়ের এবংলিভার প্রদাহ মদ্যপানের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ৪। হৃদপিন্ডের মাংসপেশী প্রদাহ, উচ্চরক্ত চাপ, হৃদরোগ, হার্টে রক্ত সঞ্চালরে বিঘ্ন ঘটা ও হৃদপিন্ডের ক্রিয়া বন্ধা হওয়া প্রচুর মদ্যপানের সাথে সংশ্লিষ্ট। ৫। মসি-কে রক্তহ্মরণ, খিচুনী ও বিভিন্ন ধরনের অবশ রোগ মদ পানের দ্বারা হয়ে থাকে। ৬। হাতপায়ের জ্বালাপোড়া, মগজ শুকিয়ে যাওয়া। ৭।বিভিন্নমুখী উপসর্গমূলক মসি-কের রোগ (ডকঝ ) বর্তমান স্মতিভ্রম, অবাস্তব বাচালতা, অতীত স্মৃতি সংরহ্মণ সহ বিভিন্ন পহ্মঘাত অবস্থা মদ্য পান জনিত কারণে সৃষ্ট ভিটামিন থাংমিন শূন্যতার কারণে হয়। ৮। বেরিবেরিনামক বিশেষ হৃদরোগ ও স্মতিভ্রম যুক্ত চর্মরোগ পেলাগারা মদ্যপদের মধ্যে বেশী হয়ে থাকে। ৯। উঊখওজওটগ ঞজঊগঊঘঝ নামক মসি-ষ্ক বিকৃতি বেশী দেখা যায়। জীবাণু ঘটিত আক্রমনও বেশী হয়। সর্বোচ্চ চিকিৎসা ব্যবস্থা অবলম্বন না করলে রোগীর মৃত্যু পারে। ১০। বিভিন্ন ধরনের গ্রনি'রোগ মাদকাসক্তের ফলে হয়ে থাকে। ১১। ফলিক এসিড শূন্যতার কারনে বিভিন্ন ধরনের রক্তরোগ হয়।পাঁড় মদ্যপদের মধ্যে রক্তশূন্যতা, জন্ডিস, ও চর্বির আধিক্য দেখা যায়। ১২। রক্তের অনুচক্রিকার বিভিন্ন অসুবিধা মদ্যপদের মধ্যে হয়ে থাকে। ১৩। ঋখঅএণখ জাতীয় ট্যাবলেট খেলে মদ্যপদের মধ্যে ভীষণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ১৪অজীবাণুঘটিত আক্রমণ মাদকসক্তদের মধ্যে বেশী দেখা যায়। রোগ প্রতিরোধ হ্মমতা কমে যায়। ১৫।বহ্মব্যাধি মদ্যপদের খুব বেশী হয়। নিউমোনিয়া, ফুসফুসে পুজ জমা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ , ও যহ্মা পরিলহ্মিত হয় । ১৬। মাতলমির সময় মদ্যপ বমি করে। বমি করার কারণে স্নায়বিক প্রক্রিয়া অকেজো হয়ে যায়। ফলে বমি ফুসফুস প্রবেশ করে নিউমোনিয়া ও পুঁজের সৃষ্টি করে। ১৭। মহিলদের হ্মেত্রে মারকাসক্তি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের দাবী রাখে। তাদের মধ্যে লিভার সিরোসিস বেশী হয় । গর্ভাবস্থায় মদপানের নেশা থাকলে গর্ভস্থ সন্তানের উপর ভীষণ বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। একে ঋঙঊঞঅখ অখঈঙঐঙখ ঝণঘউজঙগঊ বলা হয় । ১৮। বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ১৯। একজিমা, টাক, নখ বিকৃত হওয়া, মুখে বিভিন্ন প্রকার হ্মত মধ্যপদের মাঝে বেশী হয়। মদ একটি ব্যাধি ঃ ডাক্তাররা এখন মদকে ‘ আসক্তি’ নয়, বরং রোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মোম্বাই ভিত্তিক ইসলামী গবেষণা কেন্দ্র এক লিফলেটে বলেছে, মদপান একটি ব্যাধি, এটি একমাত্র ব্যাধি যা ঃ - বোতলে বিক্রি করা হয়; - পত্রিকা, ম্যাগাজিন, রেডিও বা টেলিভিশনে প্রচার করা হয়; - এর প্রচার-প্রসারের লইসেন্স দেয়া হয়; - সরকারের রাজস্ব তৈরির একটি খাত; - হাইওয়েতে মারাক্তক মৃত্যু ডেকে আনে; - পরিবার ধ্বংস করে এবং অপরাধ বৃদ্ধি করে; - এটি এমন একটি রোগ যাতে কোন জীবাণু বা ভাইরাস নেই। মদপান ব্যাধি নয়-এটি শয়তানের কারসাজি ঃ অসীম জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের প্রলোভণ থেকে বেচেঁ থাকার আদেশ দিয়েছেন। ইসলামকে বলা হয় ‘দ্বীন্তউল-ফিতরাহ’ বা মানুষের প্রাকৃতিক ধর্ম। এর প্রতিটি আদেশ ব্যক্তির প্রাকৃতিক অবস্থার পরিপ্রেহ্মিতে রচিত। মদ সমাজ বা ব্যক্তির জন্য এই প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে বিচ্যুতি । যদিও মানুষ সর্বোচ্চ স্তরের প্রাণী কিন্থ এই মদ মানুষকে পশুর নিচের স্তরে নামিয়ে দেয়। তাই ইসলামে মদপান নিষিদ্ধ। ১৩শ প্রশ্ন সাহ্মীর সমতা প্রশ্ন ঃ কেন ২ জন মহিলার সাহ্মী ১ জন পুরুষের সাহ্মীর সমান? উত্তর ঃ ১. ২ জন মহিলা সাহ্মী সব সময় ১ জন পুরুষ সাহ্মীর সমান নয়। পুুরুষ বা মহিলার নামোল্লেখ ব্রতীত সাক্ষীর কথা কমপক্ষে কোরআনের তিনটি সুরায় উল্লেখ আছে: (ক) যখন উত্তরাধিকারের অসিয়ত করা হয়, সাক্ষী হিসেবে ২জন ধর্মপরায়ন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ১০৬নং আয়াতে বলা হয়েছে। “হে মুমিনগন, তোমাদের মধ্যে যখন কারো মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন অছিয়ত করার সময় তোমাদের মধ্য থেকে ধর্মপরায়ণ দু’জনকে সাহ্মী রেখো। তোমরা সফরে থাকলে এবং সে অবস্থায় তোমাদের মৃত্যু উপস্থিত হলে, তোমরা তোমাদের ছাড়াও দু’ ব্যক্তিকে সাহ্মী রেখো।” (খ) তালাকের হ্মেত্রেও ২জন ধর্মপরায়ণ ব্যক্তির সএহ্ম্যর প্রয়োজন হয়। আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেন ঃ “এবং তোমাদের মধ্য থেকে দু’ জন নির্ভরযোগ্য লোককে সাহ্মী রাখবে। তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সাহ্ম্য দেবে।” (আল কোরআন ৬৫ঃ২) (গ) সতী সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদের জন্য ৪জন সাহ্মীর দরকার ঃ “যারা সতী সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অতঃএব সপহ্মে ৪জন পুরুষ সাহ্মী উপসি-থ করে না, তাদেরকে ৮০টি০বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাহ্ম্য কবুল করবে না। এরাই নাফরমান।” (আল কোরআন ২৪ঃ৪) ২. কেবলমাত্র অর্থনৈতিক,হ্মেত্রেই ২জন মহিলা সাহ্মী ১জন পুরুষ সাহ্মীর সমান ঃ এটা সত্য নয় যে, ১জন মহিলা সাহ্মী সর্বদা ঙজন পুরুষ সাহ্মীর সমান। এটা হ্মেত্রে বিশেষ সত্য। কোরআনের পুরুষ বা মহিলার নামোল্লেখ ব্যতীত সাহ্মীর কথা ৫টি সূরায় উল্লেখ আছে। কোরআনের একটিমাত্র সূরায় বলা হয়েছে, ২জন মহিলা সাহ্মী ১জন পুরুষ সাহ্মীর সমান। এটি হচ্ছে সূরা বাকারাহ। এটি কোরআনের সবচেয়ে দীর্ঘ সূরা এবং এতে অর্থনৈতিক লেন্তদেন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে ঃ “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা কোন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋনের আদান প্রদান কর, তখন তা লিপিবদ্ধ করে নাও এবং দু’ জন সাহ্মী কর তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে যদি ২জন পুরুষ না হয়, তবে ১জন পুরুষ ও ২জন মহিলা। ঐ সাহ্মীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমার পছন্দ কর-যাতে ১জন যদি ভুল করে। তবে ১জন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।” (আল কোরআন ২ঃ২৮২) কোরআনের এ আয়াতটুকু শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত। এরকম হ্মেত্রে, দুপহ্মের মধ্যে চুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে এবং দু’ জন সাহ্মী নিতে বলা হয়েছে। এহ্মেত্রে পুরুষ সাহ্মীকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। যদি পুরুষ সাহ্মী পাওয়া না যায়, তহলে ১জন পুরুষ ও ২জন মহিলা সাহ্মীর আদেশ দেয়া হয়েছে। ধরা যাক-একজন রোগী কোন একটি নিদিষ্ট রোগের জন্য অপারেশন করতে চাচ্ছেন। চিকিৎসা চুরান্ত করার জন্য সে দু’ জন প্রশিহ্মক প্রাপ্ত সার্জনের উপদেশ নেয়াকে প্রাধান্য দেবে। যদি সে ২জন সার্জন না পায় তাহলে তার ২য় এখতিয়ার থাকবে ১জন সার্জন ও ২জন সাধারণ গইইঝডাক্তার। একইভাবে অর্থনৈতিক হ্মেত্রে, ২জন পুরুষ সাহ্মী অগ্রাধিকারযোগ্য। ইসলাম পুরুষদেরকে পরিবারের জন্য উপার্জনকারী হিসেবে বিবেচনা করে। যেহেতু পুরুষের কাঁধেই অর্থনৈতিক দায় দায়িত্ব, তাই তাদেরকেই অর্থনৈতিক লেনদেনের হ্মেত্রে মহিলাদের তুলনায় অধিক দহ্ম আশা করা হয়। ২য় এখতিয়ার, ১জন পুরুষ সাহ্মী ও ২জন মহিলা সাহ্মী। যেন কোন ১জন মহিলা সাহ্মী ভুল করলে অপরজন তা শধরে দিতে পারে। কোআনে ‘তাদিল্লা’ নামক আরবী শব্দ ব্যবহ্নত হয়েছে, যার অর্থ ‘সন্দেহ’ বা ‘ভুল করা’। অনেকে ভুল করে তা অনুবাদ করে ‘ভুলে যাওয়া’। তাই একমাত্র অর্থনৈতিক হ্মেত্রেই ২জন মহিলা সাহ্মী ১জন পুরুষ সাহ্মীর সমান করা হয়েছে। ৩. খুনের হ্মেত্রেও ২ জন মহিলা সাহ্মীকে ১জন পুরুষ সাহ্মীর সমান করা হয়েছে। কিছু আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে, খুনের হ্মেত্রেও মহিলা সাহ্মীর আচরণ নারী সূলভ প্রভাব ফেলতে পারে। সে রকম হ্মেত্রে মহিলারা পুরুষের চেয়ে অধিক ভীত থাকে। তার আবেগজনক অবস্থায় সে সন্দিগ্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই কিছু সংখ্যক ফিকাহবিদের রায় অনুসারে খুনের হ্মেত্রে ২জন মহিলা সাহ্মী একজন পুরুষ সাহ্মীর সমান। ৪. কোরআন স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, একজন মহিলা সাহ্মী একজন পুরুষ সাহ্মীর সমান । কিছু আলেম মনে করেন, সকল হ্মেত্রেই ২জন মহিলা সাহ্মী ১জন পুরুষ সাহ্মীর সমান -এ নীতি প্রযোজ্য। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, সূরা নূরের ৬নং আয়াতে স্পষ্টভাবে একজন মহিলা সাহ্মী ও একজন পুরুষ সাহ্মীর কথা সমানভাবে উল্লেখ আছে ঃ “এবং যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাহ্মী নেই, এরূপ ব্যক্তির সহ্ম্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে ৪ বার সাহ্ম্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী।’’(আল কোরআন ২৪ঃ৬) ৫. হাদীস প্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য আয়েশা (রাঃ)-এর একক সাহ্ম্যই যথেষ্ট বিবেচিত হয়েছে ঃ মোহাম্মদ (স)-এর প্রাণপ্রিয়া স্ত্রী আয়েশা (রাঃ)-এম একমাত্র সাহ্ম্যের উপর ভিত্তি করেই ২,২২০ টি নির্ভর যোগ্য হাদীস বর্ণীত আছে। এটাই যথেষ্ট প্রমাণ যে, একজন মহিলার আহ্‌্য গ্রহণযোগ্য। অনেক ফিকাহবিদই মত প্রকাশ করেন যে, রমজানের নতুন চাঁদ দেখার হ্মেত্রে একজন মহিলার সাহ্মই যথেষ্ট। আশ্চর্যজনক ব্যাপার, ইসলামের একটি খুঁটি - রোযার জন্য একজন মহিলার সাহ্মীই যথেস্ট। সকল মুসলিম মহিলা ও পুরুষ সকলেই তার স্বহ্ম্য মেনে নিচ্ছে। কোন কোন ফেকাবিদের মতে, রমজানের প্রথমে একজন সাহ্মী ও রমযানের শেষে দুইজন সাহ্মীর প্রয়োজন হয়। পুরুষ বা মহিলার সাহ্ম্যের কারণে কোন পাথর্ক্য সৃষ্টি হয়না। ৬. কিছু ঘটনায় মহিলা সাহ্মীর প্রয়োজন হয়, সেখানে পুরুষের সাহ্ম্য গ্রহণযোগ্য নয়। ধরা যাক, মহিলাদের মৃত্যৃ পরে গোসল দেয়ার হ্মেত্রে মহিলা সাহ্মীর প্রয়োজন হয়। অর্থনৈতিক হ্মেত্রে মহিলা ও পুরুষ সাহ্মীর এ অসমতা ইসলামে তাদের ভিন্ন লিঙ্গের পার্থক্যের জন্য কিন্থ নয়। বরং ইসলামের দৃষ্টিতে সমাজে তা তাদের ভিন্ন প্রকৃতি ও ভূমিকার কারণে হয়। ১৪.শ প্রশ্ন উত্তরাধিকার প্রশ্ন ঃ ইসলমে কেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে মহিলার অংশ পুরুষের অর্ধেক? উত্তর ঃ ১. কোরআনে উত্তরাধিকার ঃ পবিত্র কোরআনে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের নিয়ামাবলী সুনির্দিষ্টভবে ও সবিস্তারে বর্ণিত আছে। কোরআনের যে সকল আয়তে উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেগুলো নিম্নরূপ ঃ সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৮০ সূরা বাকারাহ, আয়াত ২৪০ সূরা নিসা, আয়াত ৭-৯ সূরা নিসা, আয়াত ১৯ সূরা নিসা, আয়াত ৩৩ এবং সূরা মায়েদাহ, আয়াত ১০৬-১০৮ ২. আত্মীয়স্বজনের জন্য উত্তরাধিকারের সুনির্দিষ্ট অংশ ঃ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের কথা কোরআনের ৩টি আয়াতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। আয়াতগুলো হল, সূরা নিসার ১১,১২ এবং ২৭৬। আয়াতগুলোর অনুবাদ নিম্নে বর্ণিত হলঃ “আল্লহ তোমাদের সন্তানদের সস্পর্কে আদেশ করেন একজন পুররুষের অংশ দু‘জন নারীর অংশের সমান । অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় ২এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক । মৃতের পিতামাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ৬ ভাগের ১ ভাগ, যদি মৃতের পুত্র সন্তান থাকে। যদি পুত্রসন্তান না থাকে এবং পিতা মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভই থাকে, তরে তার মাতা পাবে ৬ ভাগের ১ ভাগ অসিয়তের পার, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমামের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।”(আল কোরআন ৪ঃ১১-১২) “মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায় অতত্রব, আপনি বলে দিন আল্লাহ তোমাদিগকে কালালাহ’- মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন; যদি কোন পুরুষ মারা যায় তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নিঃসন্তান হয় তবে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পহ্মান্তরে, যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে বলে আল্লহ তোমাদিগকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত।”(আল কোরআন ৪ঃ১৭৬) ৩. মেয়েরাও কখনও কখনও একটা ছেলের সমান বা তার চেয়ে বেশি সম্পত্তি পায় ঃ অধিকাংশ হ্মেত্রে, একজন মহিলা একজন পুরুষের চেয়ে অর্ধেক সম্পত্তি পায়। যাহোক, এটা সব সময় ঘটে না। যদি মৃত ব্যক্তি কোন বংশধর রেখে না যায় এবং তার বৈপিত্রেয় ভাই বা বোন থাকে, তাহলে তারা ছয় ভাগের ১ ভাগ সম্পত্তি পাবে । যদি মৃতের ছেলেমেয়ে থাকে, তাহলে পিতামাতা সমান অংশ পাবে অর্থাৎ প্রত্যেকে ছয় ভাগের এক ভাগ পাবে। কিছু হ্মেত্রে, একজন মহিলা একজন পুরুষের দ্বিগুণ অংশ পেতে পারে। যদি মৃতব্যক্তি মহিলা হয় এবং মৃত্যুর সময় সে কোন ছেলেমেয়ে, ভাই বা বোন রেখে না যায় এবং যদি শুধু মা, বাবা ও স্বামী থাকে, তাহলে, স্বমী পাবে সম্প্‌ত্িতর অর্ধেক, মা পাবে এক তৃতীয়াংশ, বাবা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ। এ রকম নির্দ্দিষ্টি হ্মেত্রে মা বাবার দ্বিগুণ অংশ লাভ করে। ৪. মহিলারা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় অর্ধেক সম্পতি পায় ঃ এটা সত্য যে অধিকাংশ হ্মেত্রে সাধারণ নিয়মে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অর্ধেক সম্পত্তি পায়। যেমন মিম্নোক্ত হ্মেত্রে তা প্রযোজ্য ঃ ১. কন্যা যা পাবে তার অর্ধো ছেলে পায়। ২. যদি মৃতের কোন ছেলেমেয়ে থাকে, তবে স্ত্রী পায় আট ভাগের ১ ভাগ এবং স্বামী ৪ ভগের ১ ভাগ। ৩. যদি মৃতের ছেলে মেয়ে না থাকে, তবে স্ত্রী পায় ৪ ভাগের ১ ভাগ এবং স্বামী পায় দুই ভাগের ১ ভাগ। ৪. যদি মৃতের কোন বংশধর না থাকে, তবে বোন পাবে ভাইয়ের তুলনায় সম্পত্তির অর্ধেক। ৫. একজন পুরুস একজন মহিলার চেয়ে দ্বিগুণ সম্পত্তি পায়। কারণ তাকে পরিবারের দায়িত্ব বহন করতে হয়। ইসলামে অর্থনৈতিক দায়িত্ব পুরুষদের কাঁধে অর্পিত, নারীর উপর নয় মেয়েদের বিয়ের পূর্বে বাব বা ভাইয়ের উপর দায়িত্ব থাকে, তার পড়াশোনাপ, খাওয়া দাওয়া ও কাপড় চোপড়ের । বিয়ের পরে তা অপির্ত হয় স্বামী বা ছেলে সন্তানের উপর ইসলাম পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পরুষের কাঁধে অর্থতৈিক দায়িত্ব দিয়েছে। আর এ কারণেই ইসলাম পুরুষকে সম্পত্তির দ্বিগুন অংশ দিয়েছে। উদাহরণ স্বরুপ, একব্যক্তি মৃত্যৃকালে ছেলে মেয়ের জন্য ( ১ ছেলে ও ১ মেয়ে) ১,৫০০০০ টাকা রেখে গেল। তখন ছেলে পাবে ১ লাখ টাকা এবং মেয়ে পাবে ৫০,০০০ টাকা। ছেলে যে ১ লাখ টাকা পেল সেখান থেকে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব স্বরুপ সে পুরোটা বা ধরা যাক ৮০,০০০ টাকা ব্যয় করবে এবং তার নিজের জন্য ২০,০০০টাকা রাখতে পারে। অপরপহ্মে, মেয়েটি রাখতে পারে। তুমি কোনটা পছন্দ করবে? ১ লাখ টাকা পেয়ে ৮০,০০০ু টাকা খরচ করা, নাকি ৫০,০০০টাকা পেয়ে পুরোটা নিজের জন্য রেখে দেয়া ? ১৫শ প্রশ্ন কোরআন কি আল্লাহর বাণী? প্র ঃ কোরআন যে, আল্লাহর বাণী তা আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন? উত্তর ঃ এ প্রশ্নের উত্তর এ বইতে নেই । বরং প্রথক ভাবে অন্যত্র দেয়া হয়েছে। ১৬শ প্রশ্ন পরকাল মৃত্যুর পরের জীবন উত্তর ঃ ১. অন্ধ বিশ্বাসের উপর পরকাল বিশ্বাস নির্ভর করে না। অনেকে অবাক হয়, বিজ্ঞান ও যুক্তির যুগে কিভাবে একজন মানুষ পরকালে বিশ্বাস করে? তাদের ধারণা হল, যে-ই পরকালে বিশ্বাস করে, সে-ই অন্ধ বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বিশ্বাস করে।পরকালের প্রতি আমরা বিশ্বাস যুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। ২. পরকাল একটি যৌক্তিক বিশ্বাস ঃ পবিত্র কোরআনের বৈজ্ঞানিক সত্যতা সহ ১ হাজারের বেশি আয়াত আছে। এ ব্যাপারে আমার রচিত ছঁৎধহ ধহফ সড়ফবৎহ ংপরবহপব; পড়সঢ়ধঃরনষব রহপড়সঢ়ধঃরনষব নামক বইটি দেখার অনুরোধ করছি। পবিত্র কোরআনে এমন অনেক প্রমাণিত সত্য আছে, যা বিগত শতাব্দী গুলোতে আবিষকৃত হয়েছে। আর বিজ্ঞান এতটা এগিয়ে নেই যে, কোরআনের প্রতিটি বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে। ধরা যাক, কোরআনের উল্লেখিত ৮০% জিনিস শতকরা ১০০ ভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আবশিষ্ট ২০% সম্পর্কে বিজ্ঞানের ধারাবাহিক কোন বক্তব্য নেই। বিজ্ঞান এতটা অগ্রসর হয়নি যে, সেগুলোকে প্রমাণিত বা অপ্রমাণিত করতে পারে। আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞান দ্বারা কোরআনের অবশিষ্ট ২০% এর কোন এক ভাগ কিংবা কোন একটি আয়াতকে নিশ্চিত করে ভুল বলতে পারবো না । যখন কোরআনের ৮০% এর শতকরা ১শ ভাগ সত্যও শুদ্ধ এবং অবশিষ্ট ২০%অপ্রমানিত হয়নি, তখন যুক্তির দাবী হল, অবশিষ্ট ২০% সত্য ও শুদ্ধ হবে। কোরআনে উল্লেখিত পরকালের বিষয়টি সে ২০%-এর অন্তর্ভুক্ত। আমার যুক্তিতে সেটাও সত্য ও সঠিক । ৩. পরকালের বিশ্বাস ছাড়া শানি- ও মানুষের মূল্যে বুঝা অর্থহীন ঃ ডাকাতি করা ভাল না খারাপ কাজ? একজন সাধারণ মানুষ বলবে তা খারাপ কাজ। যে পরকালে বিশ্বাস করে না সে কিভাবে একজন শক্তি শালী ও বড় অপরাধীকে একথা আকৃষ্ট করতে পারবে যে, ডাকাতি একটি খারাপ কাজ? ধরে নেই যে, আমি একজন হ্মমতাধর ও শক্তিশালী অপরাধী । একই সময়ে আমি একজন বুদ্ধিমান ও যুক্তিবাদী ব্যক্তি। আমি বলছি ডাকাতি করা এাটি ভাল কাজ। কারণ , তা আমাকে বিলাসী জীবন যাপনের সুযোগ দেয় তাই ডাকাতি আমার জন্য ভাল। যদি কেউ আমার সামনে ডাকাতি সম্পর্কে একটি ছোট যুক্তিও তুলে ধরে বলে যে, ডকিাতি খারাপ কাজ, তাহলে আমি সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করে দেব। মানুষ সাধারণত নিম্নোক্ত যুক্তিসমূহ তুলে ধরে ঃ- ক. যার সম্পদ ডাকাত নিয়ে যায় সে বিপদের সম্মুখীন হয় ঃ কেউ বলতে পারে যে, যে ডাকাতি করে, সে বিপদের সম্মুখীন হয়। আমি অবশ্যই একমত যে, যার সম্পদ ডাকাতি করা হল সেটা তার জন্য খারাপ।কিন্থ এটা ডাকাতের জন্য ভাল। যদি আমি ১ হাজার ডলার ডাকাতি করতে পারি, তাহলে আমি ‘ ফাইভ স্টার’ হোটেলে ভাল খেতে পারব। খ. তুমি যেকোন সময় ধরা পড়তে পারোঃ কেউ বলতে পারে যে, একদিন হয়তো বা আমার উপর ডাকাত পড়তে পারে। আমি বলবো, আমার উপর ডাকাত পড়তে পারবে না। কারণ, আমি একজন শক্তিশালী অপরাধী এবং আমার সঙ্গে হাজারটা দেহরক্ষী আছে। আমি যে কাউকে ডাকাতি করতে পারি কিন্থ কেউ আমাকে ডাকাতি করতে পাবেনা। ডাকাতি সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হলেও কিন্থ আমার মত প্রভাবশালী লোকের জন্য নয়। গ. পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করতে পারেঃ কেউ এটাও বলতে পারে, যদি আপনি ডাকাতি করেন, তাহলে পুলিশ আপনাকে গ্রেপ্তার করবে। পুলিশ আমাকে ধরতে পারবে না। কারন, আমি পুলিশ ও মন্ত্রীকে টাকা দেই। আমি বিশ্বাস করি যদি কোন সাধারন লোক ডাকাতি করে, তাহলে সে গ্রেপ্তার হবে, এটা তার জন্য খারাপ। কিন্থ আমি একজন অসাধারণ প্রভাবশালী অপরাধী। আমাকে যুক্তি দেকান যে, এটা কেন আমার জন্য খারাপ হবে এবং আমি কেন তা বন্ধ করবো? ঘ. অর্থ উপার্জনের সহজ উপায়ঃ অনেকে বলতে পারে, এটি অর্থোপার্জনের সহজ উপায়, কঠিন উপায় নয়। আমি পুর্ন সম্মতির সাথে বলবো যে, এটা অর্থোপার্জনের সহজ উপায়। একারনেই আমি ডাকাতি করি। যদি মানুষের সামনে কষ্ট করে কিংবা কষ্ট ছাড়া অর্থোপর্জনের সুযোগ থাকে, তাহলে যে কোন যুক্তিবাদী মানুষ এ সহজ উপয়টিকেই বেছে নেবে। ঙ. এটি মানবতা বিরোধীঃ কেউ বলতে পারে যে, এটা মানবতা বিরোধী এবং অন্যান্য মানুষের দিকে তাকিয়ে তা বন্ধ করা উচিত। আমি কথন জিজ্ঞেস করব যে, কে এই মানবতার নিয়ম লিখছে? আর আমিই বা তা অনুসরন করতে যাবো কেন? এ আইন বা নিয়ম আবগপ্রবণ ও রাগী লোকদের জন্য ভাল হতে পারে। কিন্থ যেহেতু আমি একজন যুক্তিবাদী মানুষ সেহতেু অন্যান্য মানুষের দিকে তাকালে আমার চলবেনা। চ. এটি একটি স্বার্থপর কাজঃ অনেকে বলবে যে, ডাকাতি করা একটি স্বার্থপর কাজ। এটা সত্য যে, ডাকিিত একটি স্বার্থপর কাজ। কিন্থু কেন আমি স্বার্থপর হব না? এটা আমাকে আনন্দময় জীবন দান করে। ১. ডাকাতি করাকে খারাপ কাজ হিসেবে মেনে নেয়ার পক্ষে কোন যুক্তি নেইঃ ডাকাতি একটি খারাপ কাজ তা প্রমানের জন্য যে সকল যুক্তি দেখানো হল, সবগুলোই ব্যর্থ। এসব যুক্তি সাধারন মানুষকে সন্থষ্ট করার জন্য যথেষ্ট হলেও আমার মত প্রভাবশালী অপরাধরি জন্য নয়। কোন একটি যুক্তিই শক্তিশালী কারন ছাড়া সমর্থিত নয়। এটা মোটেও আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, এ বিশ্বে অনেক অপরাধী রয়েছে। একইভাবে, ধর্ষণ, ধোঁকাবাজি, ইত্যাদি আমর মত মানুষের কাছে ভাল এবং সেগুলোকে খারাপ বলার মত কোন যুক্তিই আমার কাছে টিকবে না। ২. একজন মুসলিম একজন প্রভাবশালী অপরাধীকে বশ করতে পারেঃ ধরা যাক, তুমি বিশ্বে একজন ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী অপরাধী যার অধীনে পুলিশ ও মন্ত্রী আছে। তোমার হেফাজতের জন্য আছে মিলিটারী। আমি একজন মুসলিম হিসেবে তোমাকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবো যে, এসব খারাপ কাজ। এমনকি আমিও যদি একই যুক্তি পেশ করে বলি যে, ডাকাতি জিনিস, তাহলেও সে অপরাধী পূর্বের মতই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবে। আমি একমত যে, অপরাধী যুক্তিবাদী এবং তার সকল যুক্তিগুলো তখনই সত্য হবে যখন সে একজন ক্ষমতাশীল অপরাধী হবে। ৩. প্রতিটি মানুষ ন্যায় বিচার চায়ঃ প্রতিটি মানুষ ন্যায়বিচার চায়। সে অন্যের জন্য ন্যয়বিচার না চাইলেও নিজের জন্য অবশ্যই চায়। কিছু লোক ক্ষমতার নেশায় পাগল হয়ে অন্যদের কষ্ট দেয় ও ভোগায়। সেই মানুষটিই নিজের প্রতি সামান্য অন্যায় মেনে নিতে চায় না। কারন হল, এসব মানুষেরা অন্যদের বোগানিতৱ ব্যাপারে সংবেদশীল নয়। তারা ক্ষমাত ও প্রভাব প্রতিপত্তির পুজারী। তারা মনে করে ক্ষমতা ও প্রভাব দ্বারা শুধু অন্যায় অবিচারই করা যায় না, বরং অন্যদেরকেও তাদের প্রতি অন্যায় অবিচার থেকে বিরত রাখবে। ৪. আল্লাহ হলেন সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও ন্যায়বিচারকঃ একজন মুসলিম হিসেবে আমি কোন অপরাদীকে আল্লাহর অসি-ত্ব সম্পর্কে বুঝাতে সক্ষম। (এমর্মে আল্লাহর অসি-ত্ব সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর দ্রষ্টব্য) এই আল্লাহ তোমার চেয়ে অধিক ক্ষমতার অধিকারী ও ন্যঅয়বিচারক, পবিত্র কোআনে বলা হয়েছেঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ কারোর প্রাপ্য হক বিন্দু বিসর্গও রাখে না”(আল কোরআন্ত৪ঃ৪০) ৫. কেন আল্লাহ আমাকে শাসি- দিচ্ছে না ? কোরআন থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরার পর বিজ্ঞান ও যুক্তিতে বিশ্বাসী অপরাধী আল্লাহর অসি-ত্ব স্বীকার করবে। তখন কিন্থ সে একটা প্রশ্ন করতে পারে। যদি আল্লাহ খুবই শক্তির অধিকারী হন তাহলে তা েশাসি- দেননা কেন? ৬. যার অন্যায় করে তাদের সকলের মাসি- হওয়া উচিতঃ সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা যাই হোকনা কেন, অন্যয়ের কারনে নির্যাতিতরা চয় অত্যাচরীর শাসি- হোক। প্রত্যেক মানুষই চায় ডাকাত বা ধর্ষণকার কে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া হোক। যদিও অধিকাংশ অপরাধী সাজা পায়, কিন্থ অনেকে শাসি- থেকে মুক্তিও পায়। তারা আনন্দময় ও বিলাসী জীবন যাপন করতে থাকে। যদি শক্তিশালী কোন ব্যক্তির উপর আরো বেশী শক্তিশালী কোন ব্যক্তি অন্যায় করে, তবুও সে চায় যে ঐ অপরাধীরও শাসি- হোক। ৭. পরকালের জন্য দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষাঃ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছেঃ “যিনি সৃষ্টি করেছেন মরন ও জীবন যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।(আল কোরআন ৬৭ঃ২) ৮. হাশরের দিনের চূড়ান্ত ন্যায়বিচারঃ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে “প্রত্যেক প্রাণীকে আস্বাদন করতে হবে মৃত্যু। আর তোমরা কিয়ামতের দিন পরিপূর্ন বদলাপ্রাপ্ত হবে। তারপর যাকে জাহন্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে তার কার্যসিদ্ধি ঘটবে। আর পার্থিব জীবন ধোঁকা ছাড়া অন্য কোন সম্পদ নয়। (আল কোরআন ৩ঃ১৮৫) হাশরের দিনেই চূড়ান্ত ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে। একজন মানুষের মৃত্যুর পর কিয়ামতের দিন অন্যান্য মানুষের সঙ্গে তাকেও উঠানো হবে। একজন মানুষ দুনিয়াতেই আংশিক মাসি- পেতে পারে। চূড়ান্ত মাসিত বা পুরস্কার একমাত্র কিয়ামতের দিনেই পাওয়া যাবে সর্বজ্ঞানী আল্লাহ দুনিয়াতেই একজন ডাকাত বা ধর্ষণকারীকে শাসি- নাও দিতে পারেন। কিন্থ পর কালে তাকে আসামীর কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে এবং শাসি- পেতে হবে। ৯. মানবিক আইন হিটলারকে কি শাসি- দেয়? হিটলার ত্রাসের রাজত্বকালে কথিত ৬ মিলিয়ন ইহুদীকে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল। যদি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করত, তাহলে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে কি শাসি- দিত? সর্ব্বোচ্চ তারা তাকে গ্যাস চেম্বারে পাঠাতে পারত। কিন্থ সেটা তো শুধু একজন ইহুদী খুনেরই শাসি- হত। অবশিষ্ট ৫ মিলিয়ন নয়ম নিরানব্বই হাজার, নয়শ নিরানব্বই হাজর, নয়শ নিরানব্বই ইহুদীর খুনের শাসি- কি হত? ১০. আল্লাহই পারে দোজখের আগুনে হিটলারকে ৬ মিলিয়নের বেশি বার পোড়াতেঃ পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, এত সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদরে চাড়াগুলো যখন জ্বলে পুড়ে যাবে, তখন আবারআমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আমার আজাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরক্রামশালী, হেকমতের অধিকারী।” (আল কোরআন ৪ঃ৫৬) যদি আল্লাহ ইচ্চা করেন তাহলে তিনি পারেন কেয়ামতের দিন হিটলারকে দোজখের আগুনে ৬ মিলিয়ন বার পোড়াতে। ১১. পরকালের বিশ্বাস ছাড়া মানুষের ভাল মন্দ বুঝা যায় নাঃ সাধারণ অন্যায়কারী সহ প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী কোন অন্যায়কারীকে পরকালের জ্ঞান ছাড়া মানুষের মূল্য বুঝানো বা ভাল মন্দ প্রমান করা সম্ভব নয়। ১৭শ প্রশ্ন প্রশ্নঃ একই কোরআন অনুসরন করা সত্বেও মুসলমানদের মধ্যে বিভিন্ন ফেরকা ও মাজহাব কেন? উত্তর: ১.মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবেঃ এটা সত্য যে আজকের মুসলমানরা বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত। কিন্থ ইসলাম সে বিভক্তিকে সমর্থন করে না। ইসলাম তা অনুসারীদের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাসী। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হসে- ধারণ কর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। (আল কোরআন ৩ঃ১০৩) এই আয়াতে র্বর্ণিত আল্লাহর রজ্জু কি? এটা হচ্ছে পবিত্র কোরআন। পবিত্র কোরআনই হচ্ছে আল্লাহর রজ্জু, যাকে প্রত্যেক মুসলিমের শক্ত প্রকাশ কর হয়েছে। “সকলকে শক্ত করে ধরে রাখো” এর সাথে এটাও বলা হয়েছে “তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। কোরআনে আরও বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগন, আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসূলের”। (আল কোরআন ৪ঃ৫৯) প্রত্যেক মুসলিম কোআন ও বিশুদ্ধ হাদীসের অনুসরন করবে এবং নিজেরা বিভক্ত হবে না। ২. ইসলামকে খন্ড বিখন্ড ও ভাগ করা নিষিদ্ধঃ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার আল্লাহ তা’আলার নিকট সমর্পিত। অত:পর তিনি বলে দেেবন যা কিছু তারা করে থাকে”।(আল কোরআন ৬ঃ১৫৯) এই আয়াতে আল্লাহ বলেচেন, নিশ্চয়ই তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত , যারা ইসলামকে বিভক্ত করেছে। কিন্থ কেউ যকন একজন মুসলমানকে জিজ্ঞেস করে, “তুমি কে? ” সাধারনত উত্তর দেয়া হয় যে, আমি সুন্নী বা শিয়া। কেউ কেউ বলে আমি হানাফী, শাফী, মালেক বা হাম্বলী কেউ বলে আমি ‘দেওবন্দী বা বেরলবী’। ৩. আমাদের নবী একজন মুসলমান ছিলেনঃ এজতীয় মুসলমানকে কেউ জিজ্ঞেস করতে পারে, আমাদের মহানবী কে ছিলেন? তিনি কি হানাফী, শাফী, মালেকী বা হাম্বলী ছিলেন না, তিনি আল্লাহ প্রেরিত অন্যান্য সকল নবী রাসূলের মত একজন মুসলিম ছিলেন? পবিত্র কোরআনের ৩নং সুরার ৫২ নং আয়াতে আছে যে, ঈসা একজন মুসলিম ছিলেন। কোরআনের ৩ নং সুরার ৫২নং আয়াতেৰলা হয়েছে, যে “ইবরাহীম খৃষ্টান বা ইহুদী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মুসলমান” ৪. যদি কেউ কোন মুসলিমকে জিজ্ঞেস করে তুমি কে? তাহলে তার জবাব দেয়া উচিত “আমি একজন মুসলিম, হানাফী বা শাফী নই”সুরা হা-মিম সাজদার ৩৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয় সৎকর্ম করে এবং বলে আমি একজন মুসলিম, তার কথা অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার?” (আল কোরআন ৪১ঃ৩৩) কোরআন বলে, “বল আমি একজন আজ্ঞাবহ তথা আমি একজন মুসলিম।” মহানবী মোহাম্মদ (সা:) অমুসলিম রাজা বাদশাহদের কাছে ইসলাম গ্রহনের জন্য চিঠি পঠিয়েছেন। এসব চিঠিতে তিনি কোরআনের সুরা আল ইমরানের ৬৪ নং আয়াতটি উল্লেখ করতেনঃ “বলে দাও যে, সাক্ষী থাক, আমরা তো অনুগত মুসলিম।” ৫. ইসলামের বড় পন্ডিতদের শ্রদ্ধা করা উচিত: ইসলামের ৪ জন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফেঈ, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ও ইমাম মালেক (র:) সহ আসলামের সকল বড় বড় পন্ডিতদের সম্মান করা উচিত। তারা ইসলামের মহান পন্ডিত ছিলেন এবং আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের জন্য পুরস্কৃত করুন। কেউ ইমাম আবু হানিফা বা ইমাম শাফেঈ সহ অন্যাদের ইজতিহাদের সাথে ঐক্যমত পোষণ করলে তাতে কোন আপত্তি নেই। কিন্থ কেউ যদি জিজ্ঞেস করে যে, তোমার পরিচয় কি? তখন উত্তর দেয়া উচিত, আমি মুসলিম। কেউ বলতে পারে যে, সুনানে আবু দাউদের ৪৫৭৯নং হাদীসে নবী করিম (স:) বলেছেন, ‘আমার উম্মাহ ৭৩ ভাগে বিভক্ত হবে।’ এই হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, নবী করিম (সা:) ৭৩টি ম্রেনীর আবির্ভাব সম্পর্কে পূর্বেই বলে গেছেন। তিনি কিন্থ মুসলমানদেরকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আদেশ দেননি। অন্যদিকে পবিত্র কোরআন আমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত না হওয়ার আদেশ দিয়েছে। যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদীসের শিক্ষা মেনে চলে এবং কোন দল সৃষ্টি না করে সেই সত্য পথে আছে। তিরমিযির ১৭১নং হাদীস অনুসারে মহানবী মোহাম্মদ (স) বলেছেন, “আমার উম্মত ৭৩টি শ্রেনীতে বিভক্ত হবে এবং তাদের সবাই দোযখে যবে শুধুমাত্র এক শ্রেনী ব্যতীত। আল্লাহর নবীকে জিজ্ঞেস করা হল কোন শ্রেনী দোযখে যাবে না। উত্তরে তিনি বললেন, সেটি হচ্ছে আমার ও আমার সাহাবীদের অনুসারী। পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াতে বলা হয়েছে “আল্লাহ ও তার রাসূলকে মেনে চলো” একজন সত্যিকারের মুসলিম শুধু মাত্র কোরআন ও হাদীস মেনে চলবে। কেউ কোন ইমামের মত বা মাজহাব অনুসরণ করতে পারে যদি তা কোরআন ও সহীহ হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ন হয়, তখন সে মতের কোন দাম নেই, তিনি যে ইমামই হোন না কেন। শুধু মাত্র যদি মুসলমানরা কোরআন বুঝে পড়ে ও হদীস মেনে চলে, তাহলে ইনশাআল্লাহ মুলমানদের মধ্যে এসব ভেদাভেদ দূর হবে এবং মুসলিম উম্মাহ আবার ঐক্যবদ্ধ হবে। ১৮শ প্রশ্ন সকল ধর্মই যখন মানুষকে সঠিক পথে চলতে শিক্ষা দেয়, তাহলে কেন শুধু ইসলামের অনুসরণ করতে হবে? প্রশ্ন: মূলত সকল ধর্মই তার অনুসারীদের ভাল কাজের শিক্ষা দেয়। কেন একজন ব্যক্তি শুধুমাত্র ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করবে? সে কি অন্য ধর্ম অনুসরন করতে পারবে না? উত্তরঃ ১.ইসলাম ও অন্যন্য ধর্মের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো হলঃ সকল ধর্ম মানবজতিকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ করতে নিষেধ করে। কিন্থ ইসলাম এগুলোরও উর্ধ্বে। ইসলাম আমাদেরকে ন্যায়পরায়ণতার বাস্তব দিক নির্দেশ করে এবং ব্যক্তি গত ও সামাজিক জীবন থেকে খারাপ কাজ দূর করার পথ বাতলায়। ইসলাম মানব প্রকৃতি এবং মানব সমাজের জটিলতাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। ইসলাম স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে দিক নির্দেশনা। তাই ইসলামকে ফেতরাতের দীন বা স্বভাব সম্মত দ্বীন বলে। ২.উদাহরণঃ ইসলাম আমদেরকে ডাকাতি পরিহার করার আদেশ দিয়েছে এবং সেই সাথে ডাকাতি পরিহারের পথও বাতলে দিয়েছে। ক. ইসলাম ডাকাতি পরিহারের পথ বাতলে দিয়েছেঃ সকল ধর্মই শিক্ষা দেয় যে, চুরি ডাকাতি একটি খারাপ কাজ। ইসলামও একই শিক্ষা দেয়। তাহলে, ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? পর্থক্য এখানেই যে, আসরাম চুরি হাকাতিকে খারাপ কাজ বলার সাথে সাথে এমন এক সমাজ কাঠামোর বাস্তব পদ্ধতি বাতলায় যে খানে লোকেরা ডাকাতি করেনা। খ. ইসলাম যাকাতের আদশে দিযেছেঃ ইসলাম যাকাতের নিয়ম বাতলে দিয়েছে। ইসলামী নীতি অনুসারে যার সম্পদ যাকাতের নিসাব অতিক্রম করে যায় যেমন, ৮০ গ্রামের বেশি সোনা থাকলে প্রতি চন্দ্র বছরে তাকে ২.৫% সম্পদ দান করতে হবে। যদি প্রত্যক ধনী ব্রক্তি আন্তরিক ভাবে যাকাত দিত তাহলে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য দূর হয়ে যেত। কোন একজন সাধারন মানুষও ক্ষুধায় মারা যেত না। গ. চুরির শাসি- হিসেবে হাত কেটে দেয়া উচিতঃ ইসলাম চুরির অপরাধে চোরের হাত কাটার আদেশ দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদায় বলা হয়েছে যে, “পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তাদের হাত কেটে দাও তাদের কৃতকর্মের সাজা হিসেবে। আল্লাহর পক্ষ থেকে হুশিয়ারী। আল্লাহ পরাক্রান্ত জ্ঞানময়”। (আল কোরআন ৫.৩৮) অমুসলিমরা বলতে পারে, এই বিংশ শতাব্দীতে হাত কাটা! ইসলাম একটি নিষ্ঠুর ও হৃদয়হীন ধর্ম। ঘ. ইসলামী শরীয়াহ কায়েম হলে সঠিক ফল পাওয়া যাবেঃ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে আমেরিকা একটি উন্নত দেশ। দুর্ভাগ্য যে, এ দিশটি অপরাধ চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানিতে শীর্ষে। ধরা যাক, আমেরিকাতে ইসলামী শাসন কায়েম হল এবং প্রতিটি ধনী মানুষ যাকাত দিল। অর্থাৎ প্রতি চান্দ্র বছরে ৮০ গ্রামের উপর সোনা থাকলে ২.৫% যাকাত এবং ধৃত চোরদের হাত কাটা হল। তাহলে, আমেরিকাতে চুরি ডাকাতির সংখ্যা বাড়বে, সমান থাকবে, না কমবে? স্বাভাবিকভাবেই এটা কমবে। উপরন্থ এরকম কঠোরনীতি চোরদেরকে চুরিতে নিরুৎসাহিত করবে। আমি বিশ্বাস করি যে, আজকের দিনে বিশ্বে যত ভয়ংকর চুরি সংঘটিত হচ্ছে এর কারনে যদি সকল চোরের হাত কেটে দেয়া হয়, তাহলে, পরবর্তীতে হাজার হাজার লোকের মধ্যে ১০ জনের বেশি লোক হাত কেটে ফেলার জন্য খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাথে সাথে চুরির পরিমান অনেক কমে যাবে। চোর চুরি করার আগে ভাল করে চিন্তা করবে। কেবলমাত্র শাসি-র চিন্তাই অধিকাংশ চোরকে চুরি থেকে নিরুৎসাহিত করবে। থখন খুব কম সংখ্যক লোকই ডাকাতি করবে। এর ফলে হয়তোবা অল্প কয়েকজনের হাত কাটা যাবে, কিন্থ মিলিয়ন মিলিয়ন লোক শানি-তে থাকবে এবং ডাকাতির দুশ্চিন্তায় পেরেশান থাকবেনা। ইসলামী শরীয়াহ খুবই বাস্তব সম্মত ও ভাল ফলাফল দেয়। ৩. উদাহরনস্বরূপ ইসরামে নরকিে ধর্ষন ও নিপীড়ন নিষিদ্ধ। ইসলাম পর্দার আদেশ দেয় এবং ধৃত াপরাধীর জন্য মৃত্যুদন্ডের নির্দেশ দেয়। ক. ইসলাম নিপীড়ন ও ধর্ষন দূরীকরনের উপায় বাতলে দিয়েছেঃ সকল ধর্মেই নারী নপিীড়ন ও ধর্ষণ মহাপাপ। ইসলামও একই শিক্ষা দেয়। তাহলে ইসলাম ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়? পার্থক্যটা হল, ইসলাম কেবল মাত্র নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্মন এবং নিপীড়ন ও ধর্ষনকে মারাত্মক অপরাধাই গন্য করেনা বরং এজাতীয় অপরাধের মূল্যেপাটনের জন্য সুষ্পষ্ট নির্দেশও দেয় খ. পুরুষের জন্য পর্দাঃ ইসলামে পর্দার বিধান আছে। পবিত্র কোরআন প্রথমে পুরুষের জন্য পরে নারীদের জন্য পর্দার বিধান নাযিল করেছে। নিম্নোক্ত আয়াতে পুরুষের পর্দার কথা বলা হয়েছে: “মুমনিদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।” (আল কোরআন ২৪ঃ৩০) যখন কোন পুরুষ কোন নারীর দিকে তাকায় এবং এর ফলে তার মধ্যে কোন কুচিন্তা আসে, সঙ্গে সঙ্গে সে তার দৃষ্টি নত করবে। গ. কোরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে মহিলাদের জন্য বিধান নাযিল হয়েছেঃ “ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃুষ্টকে অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত: প্রকাশমান, তাছাড়া তাদরে সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। তারা যেন তাদের শ্বশুর, পুত্র, স্বামীরপুত্র, ভাই, ভাতিজা, ভাগিনা------- ব্যতীত অন্য কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে------। সূরা আন নূর-৩১ নারীর পর্দার পরিধি হল, তার সারা শরীর ঢাকতে হবে। কেবলমাত্র মুখ ও হাতের কবজা খোলা থাকতে পারবে। ইচ্ছা করলে তারা শরীরের এই অংশগুলোকেও ঢাকতে পারে। অনেক আলেমের মতে মুখ ঢাকতে হবে। ঘ. আল্লাহ যে কারনে নারীর জন্য হিজাব ফরজ করেছেন তা সূরা আহযাবে বর্ননা করেছেন। তিনি বলেনঃ হে নবী । আপনি আপনার স্ত্রীগন ও কন্যাগন এবং মোমেনদের স্ত্রীদেরকে বলে দিন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সূরা আহযাব-৫৯। কোরআন বলছে, নারীর জন্য হিজাবের বিধানের উদ্দেশ্য হল, তারা যে সতী সাধ্বী তা প্রমান করা যা তাদেরকে ধর্ষন ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করবে। ঙ. জমজ বোনের উদাহরণঃ ধরা যাক, সমসুন্দরী যমজ দু'বোন রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে। তাদের একজন ইসলামি হিজাব পরিহিতা যেমন হাতের কব্জি ও মুখ ব্যতীত সমস্ত দেহ আবৃত। অপরজন পাশ্চাত্যের পোশাক মিনি স্কার্ট ও কাট পোশাক পরিহিতা।রাস্তার মোড়ে গুন্ডা বা দূবৃত্তরা দাঁড়িয়ে আছে উত্যক্ত করার জন্য তারা তখন কাকে উপহাস করবে? যে ইসলামী হিজাবে আবৃত তাকে, না যে মিনি স্কার্ট পরিহিতা তাকে? তার পোশাকের সৌন্দর্য যতটুকু ঢেকেছে তার চাইতে বেশী প্রকাশ করেছে যা পরোক্ষভাবে বিপরীত লিঙ্গকে উপহাস, ধর্ষন ও উৎপীড়নের জন্য আকর্ষণ করে। কোরআন সঠিক বলেছে যে, হিজাব মেয়েদেরকে উৎপড়িন থেকে রক্ষা করে। চ. ধর্ষণকারীর শাসি- মৃত্যুদন্ডঃ ইসলামে ধর্ষণকারীর শাসি- মৃত্যুদন্ড। অমুসলিমরা বর্তমান যুগে এ ধরনের শাসিতএত ভয় পেয়ে যায়। অনেকে ইসলামকে বর্বর ও নিষ্ঠুর বলে। আমি শত শত অমুসলিমকে প্রশ্ন করেছে, আল্লাহ না করুন, কেউ আপনার মা বোন বা স্ত্রীকে ধর্ষন করল, আপনাকে বিচারক নিয়োগ করা হল এবং ধর্ষণকারীকে আপনার সামনে আনা হল। আপনি তার কি শাসি- দিবেন? তাদের সকলেই বলেছে, “আমরা তাকে মৃত্যু দন্ড দেবে।” অনেকে আবার এটাও বলেছে,“আমরা তাকে যন্ত্রনা দেবো যে পর্যন্ত না মরে। “আপনার মা বা স্ত্রীকে ধর্ষণ কলে আপনি তাকে মৃত্যুদন্ড দিতে পারেন। কিন্থ অন্যের মা বা স্ত্রীকে ধর্ষনের কারনে মৃত্যুদন্ড দেয়া হলে তা হয় বর্বর নীতি। কেন এই দ্বিমুখীতা? ছ. যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ হারে ধর্ষণ সংঘটিত হয় ধরা যাক, আমেরিকা বিশ্বের একটি উন্নত দেশ। ১৯৯০ সালে ঋইও তথা ফোডারেল তদন্ত ব্যুরোর রিপোর্ট অনুসারে ১,০২,৫৫৫টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটেছে। এতে আরো বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ১৬% ধর্ষণের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। তাই ১৯৯০ সালের ধর্ষনের আসল সংখ্যাটি পাবো। আর সেটা হল, ৬,৪০,৯৬৮টি। যদি প্রাপ্ত মোট সংখ্যাটিকে ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করা হয়, তাহলে আনুমানিক সংখ্যা পাওয়া যায় ১,৭৫৬, যা প্রতিদিন সংঘটিত হয়। পরবর্তীতে আরেক রিপোর্টে বলা হয়েছে, আমেরিকায় প্রতিদিন আনুমানিক ১৯০০ ধর্ষন সংঘটিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অধীন ন্যাশনাল ক্রাইম ভিকটিমাইজেশান সার্ভে ব্যুরো অফ জাষ্টিস এর পরিসংখ্যান অনুসারে ১৯৯৬ সালে, ৩,০৭,০০০টি ধর্ষনের রির্পোট করা হ/েযছে, তাও ধর্ষনের মাত্র ৩১% রিপোর্ট করা হয়েছিল। একইভাবে ঐ সালে মোট ৩,০৭,০০০দ্ধ ৩.২২৬= ৯,৯০,৩২২টি ধর্ষন সংঘটিত হযেছিল। তাহলে ১৯৯৬ সালের প্রতিদিন আনুমানিক ১,৭১৩টি ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল। আমেরিকায় প্রতি ৩২ সেকেন্ডে ১টি ধর্ষণ হয়ে থাকতে পারে আমেরিকান ধর্ষণ কারীরা দু:সাহসী। ১৯৯০ সালে ঋইও এর রিপোর্ট অনুসারে যতসংখ্যক ধর্ষন হত, মাত্র ১০% ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তার করা হত। বিচারের আগেই ৫০% আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হত। শুধু মাত্র ০.৮% ধর্ষনকারী বিচারের সম্মুখীন হত। অন্য কথায়, যদি কোন ব্যক্তি ১২৫ বার ধর্ষন করে তাহলে তার শাসি- হবে মাত্র ১ বার। অনেকে এটাকে ভাল জুয়া খেলা মনে করতে পারে। যদিও আমেরিকান আইনে ধর্ষনের ৭ বছরের কারাদন্ড। কিন্থ রিপোর্টে কলা হয়েছে, যে ৫০% কে বিচারের জন্য নিয়ে আসা হত, তাদেরকে ১বছরেরও কম কারাদন্ড দেয়া হত। প্রথম ধর্ষনকারীর জন্য বিচারক কিছুটা সদয় হোন। আশ্চর্যের বিষয় ১২৫ বার ধর্ষনের পর ধৃত হয় ১ বার। জ. ইসলমী শাসন কায়েম হলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবেঃ ধরা যাক, আমেরিকাতে ইসলামী শাসন কায়েম হল। একজন পুরুষ একজন মহিলার দিকে তাকালে তার মনে কোন কুচিন্তা আসলে তৎক্ষনাৎ সে চোখ নামিয়ে নেবে। প্রতিটি মহিলা হাতের কব্জি ও মৃখমন্ডল বাদে সমস্ত শরীরে ঢেকে রাখবে। এরপরে যদি কোন ধর্ষণ সংঘটিত হয়, তাহলে তাকে মৃত্যু দন্ড দেয়া হবে। প্রশ্ন হল, এতে আমেরিকাতে ধর্ষনের হার বাড়বে না কমবে, না একই থাকবে? আর তা হবে ইসলামী শাসনের সুফল। ৪. মানবজাতির সমস্যার বাস্তব সমাধান ইসলামে আছেঃ ইসলাম একটি উত্তম জীবন পদ্ধতি। কারণ, এটি কল্পনার কোন নীতি নয়, বরং মানবজাতির সকল সমস্যার বাস্তব সমাধান। ইসলাম ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক পর্যায়ে সুফল বয়ে নিয়ে আসে। ইসলাম একটি বাসতবধর্মী ও উত্তম জীবন পদ্ধতি ও চিরন্তন সত্য, যা ধর্ম বা জাতীয়তার সীমাবদ্ধ নয়। ১৯শ প্রশ্ন ইসলাম ও মুসলমানের বাস্তব আমলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য প্রশ্নঃ ইসলাম যদি সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম হয়, তাহলে অধিকাংশ মুসলমান কেন অসৎ ও অনির্ভরযোগ্য এবং প্রতারণা, ঘুষ খাওয়া ও মাদকাসক্তি সহ ইত্যাদি খারাপ কাজের সাথে জড়িত? ১. ইসলাম সম্পর্কে প্রচার মাধ্যমের বিভ্রানি-ঃ ক. নিঃসন্দেহে ইসলাম সর্বোত্তম ধর্ম। কিন্থ ইসলাম সম্পর্কে ভীতি সৃষ্টিকারী পশ্চিমাদের হাতে মিডিয়া প্রতিনিয়ত জেনে শুনে ইসলামের অপঃপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। এগুলো হ’য ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ততথ্য পরিবেশন করে, না হয় ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রানি- সৃষ্টি করে এবং কোন সময় তিলকে তাল করে দেখায়। খ. যখনা কোন জায়গায় বোমা বিস্ফোরন গটে, কথনই প্রথমেই কোনরকম প্রমান চাড়াই মুসলমানদেরকে দায়ী করে। খবরের কাগজে তা প্রধান শিরোনামে ফলাও করে ছাপানো হয। যকন তা অমুসলিমের কাজ বলে প্রমানিত হয় তখন তা তুচ্ছ খবর হিসেবে ছাপা হয়। গ. যদি ৫০ বছরের একজন মুসলিম ১৫ বছরের একজন বালিকার সম্মতিক্রমে তাকে বিয়ে করে, তবে তা খবরের কাগজের প্রথম পাতায় স্থান পায়। কিন্থ যখন ৫০ বছরের একজন অমুসলিম ৬ বছরের একটি বালকাকে ধর্ষন করে, তখন তা খবরের কাগজের ভেতরের পাতায় সংক্ষিপ্ত খবর হিসেবে স্থান পায়। প্রতিদিন আমেিরকাতে আনুমানিক ২৭১৩টি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে। কিন তা খবরের কাগজে স্থান পায় না। কারন আমেরিকান সমাজ এ জাতীয় জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২. প্রতি সমপ্রদায়েই কুলাঙ্গার থাকে আমি স্বীকার করি যে, কিছু মুসলিম আছে যারা অকৃতজ্ঞ, দায়িত্বহীন ও প্রতারনা করে। কিন্থ প্রচার মাধ্যমে ধারনা দেয়া হয় যে, কেবলমাত্র মুসলমানরাই এ জাতীয় কাজ করে। প্রত্যেক সমাজেই কুলাঙ্গার আছে। ৩. সার্বিকভাবে মুসলমানরাই উত্তম ঃ মুসলিম সমাজে কুলাঙ্গারের অসি-ত্ব সত্বেও সার্বিকভাবে বিশ্বের মধ্যে মুসলিম সমাজেই সর্বোত্তম, আমরাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমাজ যারা মদ পান করিনা। সামষ্টিকভাবে আমরাই বিশ্বের সর্বাধিক চাঁদা দানকারী সমাজ। বিশ্বে এমন কোন সমাজের অসি-ত্ব দেখা যায় না, যারা মুসলমানদের মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার স্বার্থে একটি মোমবাতিও দান করেনা। ৪. চালক দিয়ে গাড়ীর ভাল মন্দ বিচার করা ঠিক নয়: যদি কেউ সর্বশেষ মডেলের মার্সিডিস গাড়ী কতটুকু ভাল তা বিচার করতে চায় এবং গাড়ী চালাতে জানেনা এমন ব্যক্তি যদি গাড়ীর ষ্টিয়ারিং ধরে বসে থাকে, আর সে কারনে গাড়ী না চলে তখন তিনি কাকে দোষারোপ করবেন, গাড়ী, না চালককে? স্বাভাবিকভাবেই চালককেই অভিযুক্ত করবেন। প্রকৃতপক্ষে চালককে নয়, বরং গাড়ীর বৈশিষ্ট্য ও সক্ষমতাকে বিবেচনা করা উচিত। এটি কত দ্রুত চলতে পরে, কি পরিমান তেল খরচ হয় এবং এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা কেমন তাই বিবেচান করা উচিত। তর্কের কাতিরে যদি বলি যে, মুসলমানরা খারাপ তাহলে ইসলামকে এর অনুসারীদের দ্বারাই কেবল বিবেচনা করা উচিত নয়। আপনি যদি জানতে চান যে, ইসলাম কতটুকু ভাল তাহলে এর নির্ভরযোগ্য উৎস দ্বারা একে বিবেচনা করুন। যেমন পবিত্র কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদীস। ৫. ইসলামকে এর উত্তম অনুসারী মোহাম্মদ (স:) দ্বারা বিচার করুনঃ আপনি যদি বাস্তবে দেখতে চান যে, একটি গাড়ী কতটুকু ভাল, তাহলে, একজন দক্ষ ড্রাইভারের হাতে তা ছেড়ে দিন। একই ভাবে কেউ যদি জানতে চায় যে , ইসলাম কতটুকু আদর্শ তাহলে ইসলামের সর্বোত্তম ও দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী অনুসারী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত সর্বশেষ নবী মোহাম্মদ (স:) কে দেখুন। মুসলমান চাড়াও কিছু সৎ ও পক্ষপাতহীন অমুসলিম ঐতিহাসিক স্বীকার করেন যে, নবী মোহাম্মদ (সা:) সর্বোৎকৃষ্ট মানুষ ছিলেন। ুঞযব যঁহফৎবফ গড়ংঃ ওহভষঁবহঃরধষ সবহ রহ যরংঃড়ৎুচ বইয়ের লেখক গরপযধষব ঐ. ঐধৎঃ বলেছেন, সর্বোচ্চ স্থানের প্রথমেই আছে ইসলামের প্রিয় নবী মোহাম্মদ (স:)। এরকম বহু অমুসলিম যেমন ঞযড়সধং পড়ৎষুষব, খধ-গধৎঃরহব ইত্যাদি ব্যক্তি বর্গ রয়েছেন, যারা আমাদের নবীকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। ২০শ প্রশ্ন অমুসলিমদের কাফির বলা হয় কেন? প্রশ্ন: কেন মুসলমানরা অমুসলিমদের কাফের বলে? কুফর শব্দ থেকে কাফের শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হল গোপন করা বা প্রত্যাখ্যান করা। ইসলামের পরিভাষায়, কাফের তাকেই বলে যে ইসলামের সত্যকে গোপন করে বা প্রত্যাখ্যান করে এবং যে ইসলামকে অবিশ্বাস করে। ইংরেজীতে তাকে বলে ঘড়হ গঁংষরস। ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনার ফলেই একজন অমুসলিম তাকে কাফের বলার কারণে এটাকে খারাপ মনে করে। কাফের ও অমুসলিম সমার্থক শব্দ। সমাপ্ত



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )