আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইসলাম ও জাহেলিয়াত প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী   
Thursday, 04 June 2009
আর্টিকেল সূচি
ইসলাম ও জাহেলিয়াত
মানব জীবনের মৌলিক সমস্যা
খালেছ জাহেলিয়াত বা নিরেট অন্ধতা
শির্ক
বৈরাগ্যবাদ
সর্বেশ্বরবাদ
ইসলাম
মানুষ ও বিশ্ব সম্পর্কে নবীদের মত
ইসলামী মতবাদ

ইসলাম

এরপর তৃতীয় পন্থাটি সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। মানব জীবনের মৌলিক প্রশ্নাবলীর জবাব লাভ বুনিয়াদি সমস্যাসমূহের সমাধানের জন্য এটাই হচ্ছে চূড়ান্ত ও সর্বশেষ উপায়। আল্লাহর প্রেরিত নবীগণ এসব প্রশ্নের যে জবাব দিয়েছেন, মানব জীবনের মৌলিক সমস্যার যে সমাধান দেখিয়েছেন, আন্তরিকতার সাথে তাই পূর্ণরূপে গ্রহণ করার নামই হচ্ছে ইসলাম।

একটি উদাহরণের সাহায্যে এ পন্থাটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা যেতে পারে। কোনো নতুন ও অপরিচিত স্থানে সর্বপ্রথম উপস্থিত হলে আর সেই স্থান সম্পর্কে নিজের বিন্দুমাত্র অভিজ্ঞতা না থাকলে তখন অন্য কারো নিকট জিজ্ঞেস এবং তার পথনির্দেশ অনুসারে সে স্থান পরিভ্রমণ করাই হয় একমাত্র উপায়। এরূপ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট স্থান সম্পর্কে পূর্ণ অভিজ্ঞতার দাবিদার ব্যক্তিকেই সর্বপ্রথম খুঁজে বের করতে হয়। এরূপ লোকের সাক্ষাত পেলে সে ব্যক্তি বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য কিনা, নানাভাবে পরীক্ষা ও যাচাই করে সে সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। তারপরই এই ব্যক্তির নেতৃত্বে পথ চলে দেখতে হয় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার দ্বারা যখন প্রমাণিত হয় যে, তার নিকট লব্ধ জ্ঞান তথ্য অনুসারে কাজ করে বাস্তব ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি হয়নি বা খারাপ ফল নির্গত হয়নি, তখনই এই ব্যক্তির নির্ভুল অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট স্থান সম্পর্কে তার উপস্থাপিত স্থান তথ্যের সততা সম্বন্ধে মনে আর কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ থাকে না। বস্তুত এই কর্মপন্থা মূলতই বৈজ্ঞানিক। এতদ্ব্যতীত অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক পন্থা যখন আর হতেই পারে না, তখন মত নির্ধারণের ব্যাপারে এটাকেই বিশুদ্ধ, নির্ভুল পন্থারূপে গ্রহণ করতে হয়।

এ উদাহরণ সম্মুখে রেখে মানব জীবনের মৌলিক প্রশ্নাবলীর জবাব লাভ করার সঠিক পন্থা নির্ণয় করা খুবই সহজ। মানুষের পক্ষে এ দুনিয়া অভিনব, অপরিচিত ও অজ্ঞাতপূর্ব স্থান। এটার নিগূঢ় তত্ত্ব এবং মৌলিক অবস্থা সম্পর্কে মানুষ কিছুই জানে না। এ পৃথিবীর ব্যবস্থাপনা কোন্‌ ধরনের এবং কোন্‌ ধাঁচের, কোন্‌ আইন অনুযায়ী এ বিশ্ব-কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, এ পৃথিবীর বুকে মানুষের পক্ষে অনুকূল আচরণ নীতি কি হতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষ একেবারেই অনভিজ্ঞ। ফলে বাহ্যদৃষ্টিতে দুনিয়া সম্পর্কে যা কিছু ধারণা করা যায় তাই মানুষ ধারণা করে, তাকেই চূড়ান্ত সত্য বলে মনে করে এবং সে অনুসারে যেরূপ কর্মনীতি অবলম্বন করা কর্তব্য মনে হয় মানুষ তাই করে। কিন্তু এর বাস্তব ফল অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়ে।

এরপর মানুষ নিছক আন্দায-অনুমানের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন মত ঠিক করতে থাকে এবং প্রত্যেকটি মত অনুযায়ী কাজ করার পর তার তিক্ত ফল ভুগতে থাকে। এরপর সর্বশেষ ও চূড়ান্ত পন্থা এই থেকে যায় যে, মানুষ আল্লাহর প্রেরিত নবীদের নিকট পথের সন্ধান জানতে চাইবে। নবীগণ নিজেদেরকে ‘প্রকৃত সত্য নিগূঢ় তথ্য সম্পর্কে পূর্ণ অভিজ্ঞরূপে’ পেশ করেন তার দাবিও তাঁরা করে থাকেন। তাঁদের যাবতীয় অবস্থার যতোই পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করা যায়, ততোই তাঁরা অত্যন্ত সত্যবাদী, বিশ্বাসযোগ্য আমানতদার, সততাসম্পন্ন সচ্চরিত্রবান, নিঃস্বার্থ এবং নির্ভুল চিন্তার ধারক বলে প্রমাণিত হয়। কাজেই শুরুতেই বিশ্বাস করার এবং তাদের প্রতি আস্থা স্থাপনের যু্‌ক্তিসংগত কারণ বর্তমান রয়েছে।

অতপর দুনিয়া সম্পর্কে এবং দুনিয়ার মানুষের অবস্থান সম্পর্কে যেসব জ্ঞান-তথ্য তাঁরা পরিবেশন করেন, তাঁরা সত্যাসত্য যৌক্তিকতার এবং বাস্তবক্ষেত্রে তার সামঞ্জস্য পরীক্ষা করতে হবে। উপরন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো বাস্তব (কর্মগত) প্রমাণ আছে কিনা এবং তদনুযায়ী যে আচরণ নীতি দুনিয়ায় অবলম্বন করা হচ্ছে, বাস্তব পরীক্ষায় তা কিরূপে প্রমাণিত হলো, তাও বাছাই করে দেখতে হবে। তদন্ত ও যাচাই গবেষণার পর এ তিনটি কথারই উত্তর যদি নিঃসন্দেহ রূপে লাভ করা যায়, তাহলে নবীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা কর্তব্য এবং তাঁদের পথনির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা আর এ মতাদর্শের সাথে বাস্তব সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য জীবনের কর্মক্ষেত্রের যেরূপ আচরণ ও কর্মনীতি গ্রহণ করা উচিত তা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়।

পূর্বেই বলেছি, জাহেলিয়াতের পূর্বোক্ত পন্থাসমূহের মুকাবিলায় শেষোক্ত পন্থাটি নিঃসন্দেহে বৈজ্ঞানিক। এই বিজ্ঞানের সম্মুখে মানুষ যদি নতি স্বীকার করে, স্বেচ্ছাচারিতা ও আত্মম্ভরিতা পরিহার করে যদি এটাকেই অনুসরণ করে এবং এই ‘বিজ্ঞান’ মানুষের জন্য যে সীমা নির্ধারণ করেছে তা রক্ষা করেই যদি তারা জীবন যাপন করে, তবে এটাই হবে ইসলামী কর্মপন্থা।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )