আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইসলাম ও জাহেলিয়াত প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদূদী   
Thursday, 04 June 2009
আর্টিকেল সূচি
ইসলাম ও জাহেলিয়াত
মানব জীবনের মৌলিক সমস্যা
খালেছ জাহেলিয়াত বা নিরেট অন্ধতা
শির্ক
বৈরাগ্যবাদ
সর্বেশ্বরবাদ
ইসলাম
মানুষ ও বিশ্ব সম্পর্কে নবীদের মত
ইসলামী মতবাদ

মানুষ ও বিশ্ব সম্পর্কে নবীদের মত

নবীগণ বলেন, মানুষের চতুর্দিকে বিদ্যমান এই বিরাট বিশাল বিশ্বভূবন মানুষ যার একটি অংশ কোনো আকস্মিক দূর্ঘটনার ফল নয়। এটা এক শৃঙ্খলাপূর্ণ সুসংঘবদ্ধ ও নিয়মতন্ত্র সম্মত সাম্রাজ্য বিশেষ। আল্লাহ তায়ালাই এটা সৃষ্টি করেছেন, তিনিই এর মালিক, তিনিই এর একমাত্র শাসনকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী। সমগ্র সৃষ্টিজগত একটি সার্বিক ব্যবস্থার (totalitarian system) অধীন। এখানকার সমগ্র ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একমাত্র কেন্দ্রীয় শক্তির হস্তে নিবদ্ধ। সেই উচ্চতর ক্ষমতাসম্পন্ন সত্তা ভিন্ন এই প্রাকৃতিক জগতে অন্য কারো বিধান চলে না। বিশ্ব ব্যবস্থার যতো শক্তিই কর্মনিরত হয়ে আছে, তা সবই এক কেন্দ্রীয় ক্ষমতার অধীন এবং অনুগত। তার বিধান ও নির্দেশের বিরোধিতা করা কিংবা তার অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত কোনো কাজ করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা কারো নেই। এই সঠিক ব্যবস্থায় কোনরূপ স্বাধীনতার (independence) ও দায়িত্ব্‌হীনতার (irresponsibility) আদৌ অবকাশ নেই। আর স্বভাবতই তা থাকতে পারে না।

মানুষ এ জগতে জন্মগত প্রজা (born subject) হওয়া তার ইচ্ছা সাপেক্ষ নয় বরং প্রজা হিসেবেই তার জন্ম হয়েছে ; আর প্রজা ভিন্ন অন্য কিছু হওয়াও তার পক্ষে অসম্ভব। অতএব নিজের জন্য জীবন ব্যবস্থা রচনা করা এবং নিজের কর্তব্য নির্ধারণ করার কোনো অধিকারই তার নেই। মানুষ নিজে বিশ্ব ভূবনের কোনো কিছুরই মালিক নয়। কাজেই মালিকানা ব্যবহারের পদ্ধতি তার রচনা করার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। তার নিজের শরীর, তার অন্তর্নিহিত সকল প্রকার ক্ষমতা-প্রতিভা একমাত্র আল্লাহর মালিকানা আল্লাহরই অবদান মাত্র। কাজেই এসবের কোনো অধিকার তার থাকতে পারে না। যিনি মানুষকে এসব জিনিস দান করেছেন, তাঁরই মর্জি ও বিধান অনুযায়ী এর ব্যবহার করাই মানুষের কর্তব্য।

অনুরূপভাবে মানুষের চতুষ্পার্শ্বে দুনিয়ার বিভিন্ন দিকে যেসব দ্রব্য-সামগ্রী ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে বর্তমান রয়েছে জমি, জন্তু, পানি, উদি্‌ভদ, গাছপালা ও গুল্ম-লতা, খনিজ পদার্থ ইত্যাদি সবকিছুই আল্লাহ তায়ালার মালিকানা, মানুষ এর মালিক নয়। কাজেই সে সবের উপরও নিজের ইচ্ছামত হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকারই মানুষের নেই। বরং প্রকৃত মালিক এসব ব্যবহার করার জন্য যে নিয়ম-বিধান রচনা করে দিয়েছেন তদনুযায়ী এটা ব্যয়-ব্যবহার করা মানুষের কর্তব্য। দুনিয়ার বুকে যতো মানুষ বসবাস করেছে, তাদের জীবন পরস্পর ওতপ্রোত জড়িত। এরা সকলেই আল্লাহ তায়ালার ‘প্রজা’। অতএব এদের পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন ও কাজকর্ম সম্পাদনের জন্য নিয়ম-নীতি নির্ধারণের কোনো অধিকার এই মানুষের নেই। একমাত্র আল্লাহর দেয়া বিধান অনুযায়ী এসব কাজ আঞ্জাম দেয়া কর্তব্য। আল্লাহর দেয়া বিধানের ভিত্তিতেই তাদের সম্পর্ক-সম্বন্ধ স্থাপিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।

কিন্তু আল্লাহর সেই বিধান কি? পয়গাম্বরগণ বলেন যে, যে জ্ঞান উৎস হতে আমরা দুনিয়ার এবং স্বয়ং মানুষের নিগূঢ় তত্ত্ব জানতে পেরেছি সেই সূত্র হতে আমরা আল্লাহর বিধানও পেয়েছি, আল্লাহ নিজেই আমাদের এই জ্ঞান দান করেছেন এবং দুনিয়ার সমগ্র মানুষকে এ দিক দিয়ে পূর্ণরূপে অভিজ্ঞ ও অবহিত করার জন্য আমাদেরকে আদেশ করেছেন। অতএব আমাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা আমাদেরকে মহামহিমান্বিত ‘বাদশাহের’ প্রতিনিধি মনে করা এবং আমাদের নিকট হতে আল্লাহর প্রামাণ্য বিধান গ্রহণ করাই মানুষের কর্তব্য।

পয়গাম্বরগণ আরও বলেন, আপত দৃষ্টিতে নিখিল বিশ্বপ্রকৃতির সমগ্র কাজ সুষ্ঠু সুসংবদ্ধ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে দেখা যায় বটে কিন্তু কোথাও কোনো পরিচালক পরিদৃষ্ট হয় না, তার কর্মচারী কোনখানে দৃষ্টিগোচর হয় না। ফলে মানুষ এখানে এক প্রকারের স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারের অবকাশ অনুভব করে, মানুষ এখানে ‘মালিকের’ ন্যায় আচরণ করতে পারে। প্রকৃত মালিক ভিন্ন অপরের সম্মুখে দাসত্ব ও আনুগত্যের অনুভূতিতে মাথাও নত করতে পারে, আর সকল অবস্থায়ই তার ‘রিযক’ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী অব্যাহতভাবে লাভ করতে সক্ষম হয়। সকল প্রকার কাজের সুবিধা লাভ করতে পারে। কিন্তু আল্লাহদ্রোহিতার প্রতিফল সংগে সংগে পায় না। মূলত এসব মানুষের পরীক্ষার জন্য করা হয়েছে। মানুষকে যেহেতু জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, উদ্‌ভাবন ও নির্বাচন শক্তি দান করা হয়েছে, এ কারণেই প্রকৃত ‘মালিক’ ‘রাজাধিরাজ’ নিজেকে এবং নিজের অদৃশ্য রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে লোক চক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রেখেছেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত এ শক্তিসমূহের বাস্তব প্রয়োগ ও ব্যবহার কিভাবে করে তার পরীক্ষা ও যাচাই করাই তাঁর উদ্দেশ্য। আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান-বুদ্ধি, নির্বাচন স্বাধীনতা (freedom of choice) এবং এক প্রকারের ‘স্বরাজ’ (autonomy) দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। এখন মানুষ যদি তার জন্মগত প্রজা হওয়ার কথা হৃদয়ংগম করে এবং সাগ্রহে ও স্বেচ্ছায় এ ‘মর্যাদা’কেই গ্রহণ করে এ মর্যাদা গ্রহণের জন্য কোনো দিক দিয়েই কোনরূপ যবরদস্তি না হওয়া সত্ত্বেও; তবেই মানুষ তাদের সৃষ্টিকর্তার এ পরীক্ষায় সফলকাম হতে পারবে। পক্ষান্তরে প্রজা হওয়ার মর্যাদা যদি মানুষ বুঝতে না পারে কিংবা বুঝতে পেরেও বিদ্রোহীর ভূমিকা গ্রহণ করে, তবে পরীক্ষায় তার ব্যর্থতা অনিবার্য। অথচ এ পরীক্ষার জন্যই মানুষকে দুনিয়ায় সীমাবদ্ধ স্বাধীনতা দান করা হয়েছে। দুনিয়ায় অসংখ্য জিনিসই মানুষের কর্তৃত্বাধীনে রাখা হয়েছে। আর সেই সংগে একটি জীবন ব্যাপী সময় তাকে অবকাশ দেয়া হয়েছে।

অতপর পয়গাম্বরগণ এও বলেছেন যে, পার্থিব জীবন যেহেতু একটানা ও নিরবচ্ছিন্ন একটি পরীক্ষার মুহূর্ত, কাজেই কাজ কর্মের প্রকৃত হিসেব এই দুনিয়ায় হবে না, কোনো প্রতিফল শান্তি বা সম্মানও এখানে লাভ হবে না। (টিকা: সম্পর্কে একটি কথা ভালো করে মনে রাখতে হবে যে, দুনিয়াতে আমরা এখন বসবাস করছি, মূলত এটা প্রাকৃতিক জগত (ঢ়যুংরপধষ ড়িৎষফ) নৈতিক বিধানভিত্তিক জগত এটা নয়। বিশ্বজগতের বর্তমান ব্যবস্থা যেসব আইনের ভিত্তিতে স্থাপিত তাও নৈতিক নিয়ম নয়, তা প্রাকৃতিক নিয়ম। এ জন্য বর্তমান পার্থিব ব্যবস্থায় মানুষের কাজ-কর্মের নৈতিক ফল পুরাপুরিভাবে লব্ধ হতে পারে না। অবশ্য প্রাকৃতিক নিয়ম যতোখানি এই ফল নির্গমের অনুকূল পরিস্থিতির উদ্‌ভব করবে, ঠিক ততোখানিই নৈতিক ফল প্রকাশিত হবে। কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়ম যদি সেই সুযোগ না দেয়, তবে তা প্রকাশ হওয়া অসম্ভব। যেমন, নরহত্যার নৈতিক ফল প্রকাশ তখনি হতে পারে, যদি প্রাকৃতিক নিয়ম হত্যাকারীর সন্ধান করতে, তার অপরাধ প্রমাণে এবং তার উপর হত্যার নৈতিক দণ্ড কার্যকরী করার ব্যাপারে সাহায্য করে। নতুবা কোনো নৈতিক ‘ফল’ আদৌ প্রকাশিত হতে পারবে না। তার আনুকূল্য লাভ হলেও এ কাজের পুরাপুরি নৈতিক ফল কখনও প্রকাশিত হবে না। কারণ নিহত ব্যক্তির পরিবর্তে শুধু প্রাণদণ্ড দেয়াই তার এ কাজের পূর্ণ নৈতিক ফল নয়। এ জন্যই বর্তমান পৃথিবী প্রতিফল লাভের ক্ষেত্র নয় তা হতেও পারে না। প্রতিফল দানের ক্ষেত্র হবার জন্য এমন একটি বিশ্ব ব্যবস্থার একান্ত আবশ্যক যেখানে বর্তমান প্রচলিত প্রাকৃতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে নৈতিক নিয়মই হবে প্রধান ও প্রভাবশীল। আর প্রাকৃতিক আইন হবে তার আজ্ঞাবাহক ও অনুকূল অবস্থার উদ্‌ভাবক মাত্র।)

মানুষ এ দুনিয়াতে যা কিছু ‘ভালো’ লাভ করে তা যে কোনো পুণ্যের প্রতিফলই হবে এমন কোনো কথা নেই। তা মানুষের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্ট হওয়ার প্রমাণও নয়। কিংবা মানুষ যা কিছু করেছে তার নির্ভুল হওয়ারও কোনো লক্ষণ নয়। মূলত তা পরীক্ষার সরঞ্জাম বিশেষ ধন সম্পদ, সন্তান-প্রজনন শক্তি, রাষ্ট্র ও সরকার, জীবন যাপনের উপযোগী দ্রব্য-সামগ্রী সব কিছুই শুধু পরীক্ষার জন্য মানুষকে দান করা হয়েছে। উদ্দেশ্য এই যে, মানুষ এসব প্রয়োগ ও ব্যবহার করে নিজেদের ভালো কিংবা মন্দ কর্মক্ষমতার বাস্তব প্রমাণ পেশ করবে। অনুরূপভাবে দুঃখ-কষ্টে, ক্ষতি-আঘাতে, মানুষের বর্তমান জীবনে যা কিছু সংঘটিত হয়, তাও কোনো পাপ কাজের শাস্তি নয়। তন্মধ্যে অনেকগুলো প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন স্বতস্ফূর্তভাবেই প্রকাশিত হয়। (টিকা: যেমন ব্যভিচারীর রোগাক্রান্ত হওয়া এটা তার এ পাপের নৈতিক শাস্তি নয়। এটা হচ্ছে প্রাকৃতিক ফলমাত্র। চিকিৎসায় সাফল্য লাভ হলে রোগ হতে সে মুক্তি পাবে বটে ; কিন্তু নৈতিক শাস্তি হতে কখনই রক্ষা পাবে না। আর ‘তওবা’ করলে নৈতিক শাস্তি হতে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হলেও কেবল এটার দরুনই রোগ হতে মুক্তি লাভ সম্ভব হবে না।) উহাদের কতকগুলি নিছক পরীক্ষা স্বরূপ। (টিকা: যেমন কারো দরিদ্র হওয়া। এ সময় সে তার প্রয়োজন মিটাবার জন্য অসংগত পন্থা অবলম্বন করেনা, ন্যায়সংগত পথেই দৃঢ়তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকে, বিপদের কঠিন আঘাতে সত্য ও সততার পথে মজবুত থাকে, না অস্থির হয়ে অন্যায় ও পাপ পথে পদক্ষেপ করে এসব দিক দিয়ে তার পরীক্ষা হয়।) আর কতকগুলো হয় প্রকৃত অবস্থার বিপরীত মত নির্ধারণের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ অনিবার্যভাবে। (টিকা: মানুষ যখন এ দুনিয়াকে ‘রব’হীন এবং নিজেকে সম্পূর্ণ ‘স্বাধীন’ মনে করতে শুরু করে কিন্তু যেহেতু এটা প্রকৃত অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত সেহেতু এই দুনিয়া ‘রব’হীন নয় মানুষও এখানে স্বাধীন নয় ; তাই প্রকৃত ব্যাপারের বিপরীত কাজ করার ফলে আঘাত খাওয়া অনিবার্য। আগুনকে খেলনা মনে করে স্পর্শ করলে হাত পুড়ে যাবে। কারণ এ আচরণ স্বাভাবিক অবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।)

মোটকথা এ দুনিয়া মোটেই ‘প্রতিফল লাভের ক্ষেত্র’ নয়। মূলত এটা পরীক্ষার ক্ষেত্র। এখানে প্রকাশিত কর্মফল দ্বারা কোনো পন্থার বা কোনো কাজের বিশুদ্ধ, নির্ভুল বা ভ্রান্ত কিংবা পাপ অথবা পূণ্য গ্রহণযোগ্য বা বর্জনযোগ্য হওয়া প্রমাণিত হয় না। এজন্য তা কোনো মানদণ্ড হিসেবেও পরিগণিত হতে পারে না। সে জন্য প্রকৃত, নির্ভুল ও একমাত্র মাপকাঠি হচ্ছে পারলৌকিক ফলাফল। পৃথিবীর এই অবকাশের মুহূর্ত এ পার্থিব জীবন শেষ হওয়ার পর আর একটি জীবন রয়েছে। তখন পার্থিব জীবনের প্রত্যেকটি কাজ নিখুঁতভাবে যাচাই করা হবে, আর এ পরীক্ষায় কে সাফল্য লাভ করল, কে ব্যর্থকাম হলো, তার চূড়ান্ত ফায়সালা তখনি করা হবে। পারলৌকিক জীবনের সাফল্য-অসাফল্য কয়েকটি জিনিসের উপর নির্ভর করে। প্রথম এই যে, মানুষ নিজের দৃষ্টি ও যুক্তিবিন্যাস প্রতিভার নির্ভুল প্রয়োগের সাহায্যে আল্লাহ তায়ালাকে প্রকৃত ও একমাত্র ব্যবস্থাপক, আইন রচয়িতা এবং তাঁর নিকট হতে প্রাপ্ত শিক্ষা ও জীবন বিধানকে যথার্থ আল্লাহর বিধান বলে জানতে পারল কিনা। দ্বিতীয় এই নিগূঢ় সত্য জেনে নেয়ার পর পথ নির্বাচনের স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও মানুষ নিজের আন্তরিক ইচ্ছা ও আগ্রহ সহকারে আল্লাহ তায়ালার বাস্তব প্রভুত্ব এবং তাঁর শরীয়াতী বিধানের সম্মুখে মাথা নত করলো কিনা।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )