আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
মুসলমানদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসূচি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী   
Saturday, 06 June 2009
আর্টিকেল সূচি
মুসলমানদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মসূচি
বিগত ইতিহাসের পর্যালোচনা
পাশ্চাত্য সভ্যতার বুনিয়াদ
আমাদের প্রতিক্রিয়া
আমরা কি চাই

আমাদের প্রতিক্রিয়া

এখন আমাদের পর্যালোচনা করে দেখতে হবে এ বিজয়ী সভ্যতার আগ্রাসনে আমাদের মধ্যে কি কি আকারে প্রতিক্রিয়া হয় এবং আজ তার কি ভালো ও মন্দ প্রতিক্রিয়া আমাদের জাতীয় জীবনে দেখতে পাই। সামগ্রিকভাবে আমাদের এখানে এ সভ্যতার মুকাবিলায় দু’টি বিপরীত-মুখী প্রতিক্রিয়া হয়েছে, যার গভীর প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রথমে আমি এ দুটোর পৃথক পৃথক পর্যালোচনা পেশ করবো এবং পরিণাম ফলও সামনে রাখবো।

অপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া (passive reaction)

আমাদের মধ্যে এক শ্রেণীর প্রতিক্রিয়া এই ছিলো যে, এ শক্তিশালী ও উন্নত জাতি যেহেতু আমাদের শাসক হয়ে পড়েছে, সে জন্যে তাদের সকল প্রভাব গ্রহণ করা উচিত। তাদের প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে জ্ঞান লাভ করা, তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করা এবং তাদের আইন-কানুন মেনে নেয়া উচিত। তাদের উপস্থাপিত সমাজ ব্যবস্থার রঙে নিজেদের রঞ্জিত করা এবং তারা যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করছে, তাও মেনে নেয়া উচিত।

এ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে প্রথম থেকেই ভীতি ও পরাজয়ের মনোভাব বিদ্যমান ছিলো। এর মূলে এ ধারণাই ছিলো যে, পরাজিত ও শাসনাধীন হওয়ার পর প্রতিরোধ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তা করলে ক্ষতিরই সম্মুখীন হতে হবে। অতএব, এ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই যে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা ও উন্নতির যে সব সুযোগ এসেছে, তা গ্রহণ করা উচিত। কিন্তু এ যুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের মধ্যে যারা এ পথে চলা শুরু করলো, তাদের প্রথম বংশধরদের মধ্যে সে সব ক্ষতি ও অকল্যাণ সুস্পষ্ট হতে থাকলো, যা একটি বিপরীতমুখী সভ্যতার মুকাবিলায় নতি স্বীকারের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে কোনো জাতির হয়ে থাকে। অতঃপর পরবর্তী বংশধর পূর্ববর্তী বংশধর থেকে অধিকতর ক্ষতির সম্মুখীন হতে থাকলো। অতঃপর মুষ্টিমেয় সংখ্যক লোক ব্যতীত সমগ্র মধ্যবিত্ত শ্রেণী এ সংক্রামক ব্যাধির শিকার হয়ে পড়লো এবং বড়দের অনুকরণে জনসাধারণের মধ্যে এ বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়লো।

ধর্ম সম্পর্কে পাশ্চাত্যবাসীদের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিলো আমাদের নব্য শিক্ষিত শ্রেণীর অধিকাংশই তা হুবহু গ্রহণ করলো। তারা একথা পর্যন্ত অনুভব করলো না যে, পাশ্চাত্যবাসী ধর্মের জ্ঞান ইসলাম থেকে গ্রহণ করেনি, করেছিল খৃস্টবাদ ও গির্জার কর্তৃপক্ষদের প্রতিবাদে ধর্ম ও তৎসংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে যে চিন্তাধারা ও ধ্যান-ধারণার সৃষ্টি হয়েছিল আমাদের নব্য শিক্ষিত দল তাই গ্রহণ করলো। তারা মনে করছিল ইসলাম ও তার প্রতিটি বস্তু সন্দেহ-সংশয়ের যোগ্য। তার জন্যে দলীল-প্রশানেরও প্রয়োজন আছে। কিন্তু পাশ্চাত্যের কোনো দার্শনিক, বিজ্ঞানী অথবা দক্ষ সমাজ বিজ্ঞানী শিক্ষার নামে যা কিছু পেশ করেছেন তার জন্যে যুক্তি-প্রমাণের কোনো প্রয়োজন নেই। তারা পাশ্চাত্যের এ ধারণা বিনা দ্বিধায় মেনে নেয় যে, ধর্ম একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার এবং সামষ্টিক সামাজিক জীবনের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এ ধারণা তাদের মনে এমনভাবে বদ্ধমূল হয়েছে যে, আজ তারা না বুঝেই বহুল প্রচলিত “ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান” কথাটি বার বার আওড়ায়, তারাও সর্বদা তাদের কর্মপদ্ধতির দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে যে, ইসলাম শুধু একটি ব্যক্তিগত ধর্ম- সমাজ জীবন সম্পর্কে তার কাছে পথ নির্দেশনা গ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই। বলতে গেলে তাদের অনেকের জন্যে ইসলাম একটি ‘ব্যক্তিগত ধর্মও’ আর থাকেনি। কারণ ইসলামের শুধু স্বীকৃতি এবং খাৎনা ও বিয়ে-শাদীতে ইসলামের অনুসরণ ছাড়া তাদের ব্যক্তি-জীবনে ইসলামের কোনো নৈতিক অথবা বাস্তব ক্রিয়াকলাপের কোনো চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায় না। তাদের মধ্যে আবার যাদের ধর্মের প্রতি কিছু অনুরাগ রয়ে গিয়েছিল অথবা পরে সৃষ্টি হয়েছিল, তাদের অনেকেই এ পন্থা অবলম্বন করলো যে, পাশ্চাত্য এবং তার দর্শন, মতবাদ ও কর্মনীতিকে সত্যের মানদণ্ড মেনে নিয়ে ইসলাম, তার আকীদাহ-বিশ্বাস, তার জীবন-ব্যবস্থা এবং ইতিহাসকে তারা মেরামত করা শুরু করলো। সেই সাথে এ চেষ্টাও করতে থাকলো যাতে করে ইসলামের প্রতিটি জিনিসকে ঐ মানদণ্ডেই ঢেলে সাজানো যায়। যা ঢেলে সাজানো যাবে না তাকে ইসলামের রেকর্ড থেকে মুছে ফেলতে হবে। আর তাও করতে না পারলে দুনিয়ার কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।

তাদের বিপুল সংখ্যক লোক পাশ্চাত্যের জীবন-দর্শন এবং তার সভ্যতার দার্শনিক বুনিয়াদকে হুবহু গ্রহণ করেছে, তার কোনো সমালোচনা-পর্যালোচনার প্রয়োজন বোধ করেনি। যে শিক্ষা তাদেরকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে শেষ পর্যন্ত মাদ্রাসা ও কলেজগুলোতে দেয়া হয়েছিল, এ ছিলো তারই অনিবার্য পরিণাম ফল। ইতিহাস, দর্শন, অর্থনীতি, রাজনীতি, আইন এবং অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান তারা যে পদ্ধতিতে শিক্ষালাভ করেছিল, তার থেকে সেই মানসিকতাই তৈরি হতে পারতো, যা ছিলো তাদের পশ্চিমা শিক্ষকদের। দুনিয়া ও তার জীবন সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিকোণ তাই হওয়া সম্ভব ছিলো, যা ছিলো পাশ্চাত্যবাসীদের। আল্লাহ ও আখেরাতকে অবশ্যি অতি অল্প লোকই অস্বীকার করেছে। কিন্তু এ শিক্ষার দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার পর তাদের মধ্যে এমন কতোজন আছে, যারা বস্তুবাদী মানসিকতা এবং আখেরাতের চিন্তাবিবর্জিত জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতবাদ পোষণ করে না? কতোজন এমন আছে, যারা অদৃশ্য ও অনুভূত সত্যকে সত্য বলে মনে করে? যাদের দৃষ্টিতে বৈষয়িক মূল্যবোধ থেকে উন্নততর আধ্যাত্মিক মূল্যবোধেরও কি কোনো মর্যাদা আছে? যারা দুনিয়াটাকে ব্যক্তি-স্বার্থের একটা নির্মম সংঘাত সংঘর্ষের ক্ষেত্র মনে করে না?

নৈতিকতার ব্যাপারে এ অপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়ার পরিণাম অধিকতর খারাপ হলো। আমাদের পতন যুগে আমাদের চরিত্রের শিকড় তো পূর্ব থেকেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছিল।

আমাদের আমীর-ওমরা ও ধনবান শ্রেণী পূর্ব থেকেই আরামপ্রিয় ছিলো। আমাদের মধ্যবিত্ত শ্রেণী প্রথম থেকেই ভাড়াটিয়া সৈন্য বা ভাড়া করা টাট্টুর কাজ করে আসছিল। আমাদের মধ্যে কোনো স্থায়ী এবং ঐকান্তিক বিশ্বস্ততা আগেও ছিলো না। অতঃপর তার সাথে পাশ্চাত্যের নৈতিক দর্শন যোগ হওয়ার পর এখানে সেই ধরনের চরিত্রই তৈরি হতে থাকলো, যার মধ্যে পাশ্চাত্য চরিত্রের সকল দোষ-ত্রুটির সমাবেশ ঘটলো এবং তার অধিকাংশ উজ্জ্বল দিকগুলোর অভাব রয়ে গেলো। উপযোগবাদ, ভোগবাদ এবং নীতিহীনতায় আমাদের এখানকার পাশ্চাত্যমনাদের চরিত্র পাশ্চাত্যের চরিত্রের সমপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। কিন্তু তাদের জীবনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য আছে, যার জন্যে কঠোর পরিশ্রম ও জীবন উৎসর্গ করা হয়ে থাকে এখানে জীবনের কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে জানা নেই। ওখানে এমন বিশ্বস্ততা আছে, যার মধ্যে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা আছে। যা বেচাকেনা করা যায় না। এখানে সব কিছুই বিক্রয়মান। এখানে প্রত্যেক জিনিসের বিনিময় অর্থ ও ব্যক্তি-স্বার্থের দ্বারা হতে পারে। ওখানে শুধু ভিন্ন জাতির মুকাবিলায় কিছু নীতিবিগর্হিত কার্যকলাপ নির্দিষ্ট আছে, যা আপন জাতির জন্যে করাটা চরম অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু এখানে মিথ্যা, প্রতারণা, ওয়াদা ভঙ্গ, স্বার্থপরতা, ষড়যন্ত্র, প্রলোভন ও ভীতি প্রদর্শন প্রভৃতির হাতিয়ার আপন লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে কোনো দোষ নেই। ইংল্যান্ড অথবা আমেরিকায় কেউ এ ধরনের আচরণ করলে তার বেঁচে থাকাই মুশকিল হবে। এখানে বিরাট বিরাট দল এসব চরিত্রসহ আত্মপ্রকাশ করে এবং প্রসার লাভ করে। যারা এসব কাজে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে নেতৃত্ব দানের ব্যাপারে তাদেরকেই উপযুক্ত মনে করা হয়।

সমাজ, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে পাশ্চাত্য শাসনের যে প্রভাবের বর্ণনা আমি আপনাদের সামনে একটু আগে পেশ করলাম, তার সবই যারা মেনে নিয়েছে এবং জাতির মধ্যে তার প্রচার-প্রসার যারা করছে, তারা ঐসব লোকই যারা এ অপ্রতিরোধী প্রতিক্রিয়ার কর্মপন্থা অবলম্বন করেছে। তথাপি তার মধ্যে কোনো কিছুই এতোটা বিস্ময়কর নয়, যতোটা বিস্ময়কর ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপারে তাদের প্রতিক্রিয়া। এ দলের সবচেয়ে বড়ো গর্ব ছিলো তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সম্পর্কে। কিন্তু এ ব্যাপারে তারা সবচেয়ে বেশি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। যে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের উপর ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বুনিয়াদ স্থাপন করা হয়েছে এবং যার উপর ঊনবিংশ শতাব্দির শেষার্ধ থেকে যে ব্যবস্থার ক্রমাগত ক্রমবিকাশ ঘটেছিল, তা যদি হিন্দুগণ গ্রহণ করে থাকে, তাহলে সেটা এক স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ তার প্রতিটি অংশ তাদের জন্যে কল্যাণকর। কিন্তু মুসলমানদের জন্যে তার প্রতিটি অংশ ছিলো মারাত্মক। অতএব, এ রাজনৈতিক ব্যবস্থার বুনিয়াদী মূলনীতি তাদের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ না করাটা এ কথারই সুস্পষ্ট প্রমাণ যে, তাদের নব্য শিক্ষিত লোক রাজনীতি যতোই পড়ে থাকুক না কেন, তা মোটেই বুঝতে পারেনি। তারা পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বারা এতোটা ভীত-বিহ্বল যে, যা কিছুই সেখান থেকে আসতো, তাকে তারা আসমানী ওহী মনে করে মেনে নিতো এবং কোনো বিষয়কে সমালোচনার কষ্টি পাথরে যাচাই করে দেখারই সাহস তাদের ছিলো না। এ পরাজিত মানসিকতার সাথে তারা রাজনীতির পাঠ অধ্যয়ন করে। তার ফল এই হয় যে, তারা সকল দৃষ্টিভঙ্গি চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে থাকে। তাদের এতোটুকু বুদ্ধিও ছিলো না যে, সে রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। আর এতোটা সাহসও তাদের ছিলো না যে, বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে ঐসব বুনিয়াদ চ্যালেঞ্জ করে প্রভুদেরকে এ কথা বলতো যে, এ মূলনীতি এ দেশে চলতে পারে না। তারা তো যুদ্ধে ঐ দিনই অর্ধেক পরাজয় বরণ করে, যে দিন তারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের ঐসব মূলনীতিকে সত্য বলে মেনে নেয়। তারপর না রাজনৈতিক ক্রমধারায় জাতি এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রতিরোধকল্পে তাদের পলিসি কোনো কাজে লাগলো, আর না এ পলিসি তাদের সফলকাম হলো যে, এ পরিপূর্ণ ভ্রান্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মুসলমানগণ এমন রক্ষা কবজ লাভ করবে, যার মারাত্মক পরিণাম ফল থেকে তাদেরকে বাঁচানো যাবে। অবশেষে যখন এ রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হয়ে পূর্ণত্ব লাভ করলো, তখন আমাদের অগত্যা রাজি হতে হলো যে, আমাদের মধ্যে অর্ধেক কবরস্থ হবো এবং অর্ধেক বেঁচে যাবো। এর পরেও আমাদের রাজনৈতিক নেতাগণ এখনো এ কথা বুঝতে পারেননি যে, যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা আমাদেরকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলো, তার বুনিয়াদগুলোতে কি সব ত্রুটি রয়েছে। অথচ আজো তাঁরা ঐ ব্যবস্থাকে ঐসব বুনিয়াদসহ অবিকল ঠিক রেখেছেন এবং তার পরিবর্তনের কোনো অনুভূতিই তাদের মধ্যে পাওয়া যায় না। এখন একজন বির্বোধ ছাড়া কি এ কথা বিশ্বাস করতে পারে যে, রাজনীতির অধ্যয়ন ও অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা সৃষ্টি করেছে। এতে সন্দেহ নেই যে, এ নিশ্চেষ্ট প্রতিক্রিয়ার মধ্যে শুধু অকল্যাণই ছিলো না, এর মধ্যে কল্যাণের দিকও ছিলো। এতে আমাদের অতীত জড়তা ভেঙে গেছে। আধুনিক যুগের উন্নতি-অগ্রগতির সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি। আমাদের দৃষ্টিকোণে প্রশস্ততা সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র অমুসলিমদের আধুনিক শিক্ষা লাভ করে এবং সরকারের আইন-শৃঙ্খলায় প্রবেশ করে যে বিরাট ক্ষতি হতো তাঁর থেকে আমরা বেঁচে গেছি। আমাদের অনেকেরই সরকারের বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে। এসব সুযোগ-সুবিধার কোনটিই আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু সেই সাথে এটাও বাস্তব ঘটনা যে, এর দ্বারা আমাদের দ্বীন সম্পর্কিত ধারণার পরিবর্তন হয়েছে, নৈতিকতার ধারণারও পরিবর্তন হয়েছে। জীবন দর্শন বদলে গেছে। আমাদের মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটেছে। আমাদের ব্যক্তি-চরিত্র এবং সামগ্রিক সভ্যতার বুনিয়াদ দুর্বল হয়েছে। আমরা পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণ থেকে বেরিয়ে অপরের পথভ্রষ্ট ও চরিত্রহীন অন্ধ অনুকরণে লিপ্ত হয়ে পড়েছি, যারা আমাদের দীনের দিক দিয়েও ধ্বংস করেছে এবং পার্থিব দিক দিয়েও ধ্বংস করেছে।

নিষ্ক্রিয় প্রতিক্রিয়া

আমাদের মধ্যে একটি দ্বিতীয় দলের প্রতিক্রিয়া ছিলো এর সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রথম দল আগত প্ল্লাবনে প্রবাহিত হয়ে গেলো এবং দ্বিতীয় দল তার সামনে নিষ্ত্র্নিয় পাথরের মতো বসে রইলো। এ দলটি চেষ্টা করলো যে, শিক্ষা, ধর্ম, নৈতিকতা, সামাজিকতা এবং ঐতিহ্যের যে সমগ্র উত্তরাধিকার অষ্টাদশ শতাব্দীর লোক ছেড়ে গিয়েছিল এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর লোক তা লাভ করেছিল, তার সঠিক ও ভ্রান্ত অংশগুলোসহ তাকে হুবহু অক্ষুণ্ন রাখতে হবে এবং বিজয়ী সভ্যতার কোনো প্রভাবই গ্রহণ করা হবে না। তা উপলব্ধি করার জন্যে সময় নষ্টও করা যাবে না। পাশ্চাত্য সভ্যতার সাথে প্রথম সংঘাতের মুহূর্তে এ দলের লোক প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষণের যে আচরণ অবলম্বন করেছিল, আজ পর্যন্ত তার কোনরূপ পরিবর্তন ও পুনঃপরীক্ষা ব্যতিরেকেই তার উপর অটল আছে। তারা এক মুহূর্তের জন্যেও গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেনি যে, পূর্ববর্তীদের উত্তরাধিকার পর্যালোচনা করে দেখা যাক যে, তার কতোটুকু পরিবর্তন করা যায়। তারা এ বিষয়েও চিন্তাভাবনা করে দেখেনি যে, আগত সভ্যতা যা কিছু এনেছে তার কোন্‌টা গ্রহণযোগ্য এবং কোন্‌টা পরিত্যাজ্য। তারা একথা বুঝবারও ন্যায়সঙ্গত চেষ্টা করেনি যে, আমাদের চিন্তা ও কাজের মধ্যে এমন কি ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিলো, যা আমাদের পরাজয়ের কারণ হয় এবং হাজার হাজার মাইল দূর থেকে আগত একটি জাতির নিকটে জ্ঞান ও কর্মের কোন্‌ শক্তি রয়েছে, যা তাদের বিজয় সূচিত করে? এসব বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেয়ার পরিবর্তে তারা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে পূর্বাবস্থা বহাল রাখার জন্যে এবং আজ পর্যন্ত তাদের সে চেষ্টাই চলছে। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্য তালিকা তাই রয়েছে, যা ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে ছিলো। তাদের কার্যকলাপ, সমস্যাদি, চিন্তার ধরন, কর্মপদ্ধতি এবং তাদের পরিবেশের বৈশিষ্ট্য আগে যা ছিলো, তাই আছে। তার মধ্যে যা কিছু ভালো ছিলো, তা যেমন সংরক্ষিত আছে, তার মন্দগুলোও সেভাবে সংরক্ষিত আছে।

আমি অবশ্যি এ কথা স্বীকার করি যে, এ দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়ায় কল্যাণেরও একটা মূল্যবান দিক ছিলো ও আছে। তা যতোটা শ্রদ্ধার যোগ্য, তার জন্যে ততোটুকু শ্রদ্ধা আমার অন্তরে আছে। আমাদের এখানে কুরআন, হাদিস ও ফেকাহর যতোটুকু ইলম অবশিষ্ট রয়ে গেছে, তা তারই বদৌলতে। আমাদের বুযুর্গ মনীষীগণ দ্বীন ও আখলাকের যে উত্তরাধিকার ছেড়ে গেছেন, সৌভাগ্যের বিষয় যে কিছু লোক তা অক্ষুণ্ন রেখেছেন এবং ভবিষ্যত বংশধরদের জন্যে তা স্থানান্তরিত করেছেন। আমাদের সভ্যতার যেসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিলো, কেউ যে তা সংরক্ষণের চেষ্টা করেছেন এবং বিরুদ্ধ পরিবেশে অল্প-বিস্তর তা যে অক্ষুণ্ন রেখেছেন এ এক মুল্যবান খেদমত বটে।

আমি এ কথাও স্বীকার করি যে, যাঁরা এ প্রতিক্রিয়ার সূচনা করেন তাঁরা অপারগ ছিলেন, যে সময়ে বিরোধী সভ্যতার প্ল্লাবন হঠাৎ এসে পড়ে, তখন সম্ভবত তাদের এ ছাড়া আর করার কিছু ছিলো না যে, গৃহের যতোটুকু সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব, তা রক্ষা করা যাক। এ ব্যাপারে তাদের অপারগতা প্রথম প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকারী দলের অপরাগতা থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমরা প্রথম দলের প্রাথমিক নেতাদেরকেও এ অনুমতি দেই যে, বহিরাগত শাসন কর্তৃত্বের প্ল্লাবনের প্রথম আগ্রাসনে স্বজাতিকে পরিপূর্ণ ধ্বংস থেকে এবং নিম্নশ্রেণীর জাতিতে পরিণত করা থেকে রক্ষা করার পন্থা তারা অবলম্বন করবেন। কারণ এ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা তারা করতে পারতেন না। এ ধরনের অনুমতি লাভের যোগ্য দ্বিতীয় দলও। তারা সংঘর্ষের সূচনায় আপন ধর্ম এবং সভ্যতার শেষ সম্বলটুকু বিনষ্ট হওয়া থেকে বাঁচার চিন্তা করেন। কিন্তু প্রকৃতির আইনে ওজর-আপত্তি ও অনুমতিতে কোনো লাভ হয় না। এতে যদি ক্ষতির কোনো উপকরণ থাকে, তা হলে ক্ষতি অবশ্যই হবে। আর বাস্তবে যে ক্ষতি হয়েছে, তাকে ক্ষতি বলে স্বীকার করতে হবে।

এর প্রথম ক্ষতি এই যে, পূর্ববর্তী অবস্থার সংরক্ষণের প্রচেষ্টা দ্বীন ও তৎসংশ্ল্লিষ্ট মর্যাদাসম্পন্ন বিষয়গুলোর সাথে সাথে ঐসব দুর্বলতা ও ত্রুটি-বিচ্যুতিরও সংরক্ষণ করে, যা আমাদের পতন যুগের ধর্মীয়-ধারণা বিশ্বাসে ও ধর্মীয় দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ছিলো। এ ভেজাল উত্তরাধিকার অবিকল আমাদের অংশে এসেছে। এখন এ একটি সঠিক ইসলামী বিপ্লবের পথে ঠিক তেমনি প্রতিবন্ধক হয়ে পড়েছে, যেমন আমাদের পাশ্চাত্য শ্রেণীর মানসিকতা প্রতিবন্ধক হয়ে পড়ছে।

এর দ্বিতীয় ক্ষতি এই যে, আমাদের দ্বীন, আখলাক এবং সভ্যতার প্রকৃত ভাবধারার সংরক্ষণ যেমন হওয়া উচিত ছিলো, এর দ্বারা তা হতে পারেনি। বরং দিন দিন তার অবনতি ঘটেছে। এ কথা ঠিক যে, প্ল্লাবনের মুকাবিলা প্ল্লাবনই করতে পারে, প্রস্তর খণ্ড করতে পারে না। এখানে এমন কোনো শক্তি ছিলো না, যা পাশ্চাত্য সভ্যতার প্ল্লাবনের মুকাবিলায় ইসলামী সভ্যতার কোনো প্ল্লাবন আনতে পারতো, এখানে ‘পুরাতনের সংরক্ষণই’ যথেষ্ট মনে করা হয়েছে, এই ‘পুরানের’ মধ্যে সংরক্ষণযোগ্য জিনিসের সাথে এমন বহু জিনিস শামিল করা হয়েছে, যা না বেঁচে থাকার কোনো শক্তি রাখতো আর না এমন ছিলো, যার সংরক্ষণ করা যায়। এগুলোকে শামিল করে এ আশাও করা যেতো না যে, একটি বিরোধী সভ্যতার মুকাবিলায় তার দ্বারা ইসলামের কোনো মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকবে। এটাই হলো কারণ, যার জন্যে আমরা যখন বিগত ষাট-সত্তর সালের ইতিহাসের উপর দৃষ্টিপাত করি তখন আমরা দেখি এ সময়ের মধ্যে ইসলাম ও ইসলামী সভ্যতার অগ্রগতি হয়নি বরং অধোগতি হয়েছে। প্রতি বছর, প্রতি মাস ও প্রতি দিন তা দলিত ও সংকুচিত হতে থাকে। অপরদিকে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রসার লাভ করতে থাকে। প্রতিটি দিনের আগমন এভাবে হতো যে, পাশ্চাত্যের মানসিক বিকৃতি, নৈতিক আবর্জনা এবং প্রকাশ্য ধর্মদ্রোহিতা আমাদের জীবনের কিছুটা অতিরিক্ত অঞ্চল অধিকার করে ফেলেছে এবং আমাদের দ্বীন, আখলাক ও সভ্যতা কিছু অতিরিক্ত অঞ্চল হারিয়ে ফেলেছে। প্রাচীন পদ্ধতির সংরক্ষকগণ এক মুহূর্তের জন্যেও এ গতি রোধ করতে পারেননি।

তৃতীয় ক্ষতিটা এই হয়েছিল যে, আমাদের ধর্মীয় দলটি ইসলামী ও অনৈসলামী প্রাচীনত্বের যে যৌগিক পদার্থ সংরক্ষণ করছিল, তাতে চিন্তা ও কাজ উভয় দিক দিয়ে আমাদের বিত্তশালী ও চিন্তাশীল শ্রেণীর মধ্যে সামান্য আকর্ষণই রয়ে গিয়েছিল। বরং আকর্ষণ দিন দিন কমেই যাচ্ছিলো। একদিকে বিরোধী সভ্যতা মন-মস্তিষ্ক বশীভূতকারী, মন জয়কারী এবং চোখ ঝলসানো সাজ-সরঞ্জাম ও উপকরণসহ অগ্রসর হচ্ছিলো, অপরদিকে ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে এমন সব আলোচ্য বিষয়, সমস্যা কায়কারবার ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়াদির অবতারণা করা হচ্ছিলো, যা মন-মস্তিষ্ককে নিশ্চিন্ত করতে পারতো না। মনে কোনো আবেদন সৃষ্টি করতে পারতো না এবং চোখেও ভালো লাগতো না। ফলে যারা বৈষয়িক উপায়-উপাদান ও মানসিক যোগ্যতার অধিকারী ছিলো, তারা দীনের প্রতি তাদের শেষ আকর্ষণটুকুও হারিয়ে ফেলছিল এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে বিলীন হয়ে যাচ্ছিলো। অতঃপর ধর্মীয় উত্তরাধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব ক্রমশ এমন সব শ্রেণীর জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে রইলো, যারা বৈষয়িক, মানসিক ও সামাজিক দিক দিয়ে নিকৃষ্টতর ছিলো। এর ক্ষতি শুধু এতোটুকুই হলো না যে, ধার্মিকতার ফ্রন্ট (অগ্রভাগ) ক্রমশ দুর্বল এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার ফ্রন্ট ক্রমশ শক্তিশালী হতে থাকে। বরং এর চেয়ে অধিকতর ক্ষতি এই হয়েছিল যে, জ্ঞান, বিবেক, ভাষা ও চরিত্র সব দিক দিয়েই ইসলামের প্রতিনিধিত্বের মান নিম্নগামী হতে থাকে। অবশেষে দ্বীনদারী রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়ে। এ পলিসি অবলম্বন করার ফলে সবচেয়ে বড়ো যে ক্ষতি হয়েছিল তা এই যে, দ্বীনদার লোক মুসলমানদের নেতৃত্ব থেকে বেদখল হয়ে পড়েন এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি সকল ব্যাপারে মুসলমানদের নেতৃত্ব দানের দায়িত্ব ঐসব লোকের উপর এসে যায়, যারা না দ্বীন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান রাখতেন আর না দীনের আলোকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করতেন। তারা সকল শিক্ষা পাশ্চাত্য ধরনেরই লাভ করেন। পাশ্চাত্যের রঙেই রঞ্জিত। পাশ্চাত্যের মূল্যবোধ ও মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের চরিত্র তৈরি হয়। তারা পাশ্চাত্যের আইন কলেজ থেকে শরীয়ত শিক্ষালাভ করেন এবং তার উপরেই আইন ব্যবসা করেন। রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ও চক্রান্ত প্রভৃতির নীতি-কৌশল তারা পাশ্চাত্য প্রভুদের থেকে শিক্ষালাভ করেন। গোমরাহীর এ উৎস থেকে তারা যে পথ-নির্দেশনা লাভ করেন, তাই অনুসরণ করে চলেন এবং গোটা জাতিকে পরিচালিত করেন। জাতিও পূর্ণ আস্থাসহ তাদের পেছনে চলে। দ্বীনদার শ্রেণীর করার কিছু থাকলে ব্যস্‌ চুপচাপ শিক্ষা-দীক্ষা দান, যিকির, তাসবীহ্‌ প্রভৃতিতে লিপ্ত হয়ে পড়েন। অথবা জাতীয় নেতৃত্বে যারাই সমাসীন হন, তাদের জন্যে দোয়াকারীর ভূমিকা পালন করতে থাকেন। আর রাজনীতির ক্ষেত্রে এসে থাকলে কোনো নেতার পেছনে প্রভাব-প্রতিপত্তিহীন তল্পিবাহক হিসাবে চলেন। কংগ্রেস অথবা মুসলিম লীগে যতোই যোগদান করেন অনুসারী হিসাবেই যোগদান করেন। কোনো পলিসি নির্ধারণে তাদের কোনো হাত ছিলো না। বিরাট গোমরাহীও তারা রুখতে পারেননি, না তার বিরুদ্ধে টু শব্দ করতে পেরেছেন। তাদের কাজ এ ছাড়া আর কিছুই ছিলো না যে, দ্বীনবিমুখ অথবা দ্বীনবিরোধী নেতা যে পলিসি নির্ধারণ করতেন, তার প্রতি তারা বরকত দান করতেন এবং মুসলমানদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলতেন যে এটাইতো কুরআন-হাদিসে লেখা আছে। অন্ততপক্ষে দীনের দিক দিয়ে কোনো আশঙ্কার কারণ নেই। এ রোগ বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা পর্যন্ত আমাদের অনেক ধর্মপ্রাণ বুযুর্গের বরকত লাভ করে। এসব প্রভাবহীন লোকের দ্বীনি অনুভূতি এতো তীব্র যে, দাড়ি দীর্ঘতায় একটু খাটো হলে সকল দ্বীনদারী একবারে নস্যাৎ হয়ে যায় এবং কুরআন-হাদিস থেকে প্রমাণিত নয় ফেকাহর এমন কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে কেউ মতভেদ করলে তাকে দ্বীন ভঙ্গকারী বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু গোটা জাতি যাদেরকে জিন্দাবাদ ধ্বনি দেয় অথবা যারা একবার রাজনৈতিক ক্ষমতায় অধিষ্টিত হন, তারা সকল প্রকার কাজের রুখসত বা সুযোগ-সুবিধার অধিকার হয়ে যান তাদের হাতে দীনের প্রাসাদ ভেঙে পড়ার উপক্রমই হোক না কেন, তাতে কোনো ক্ষতি নেই।



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 08 November 2009 )