আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
মুক্তির পথ ইসলাম প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আবদুস শহীদ নাসিম   
Wednesday, 11 April 2012
আর্টিকেল সূচি
মুক্তির পথ ইসলাম
শান্তি মুক্তি ও ইসলাম
মুক্তির মহাসনদ আল কুরআন
মুক্তির পথ এক আল্লাহর ইবাদত ও খিলাফত
ঈমান
ইসলাম
আল্লাহর কিতাব আল কুরআন
কুরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে আল্লাহ প্রদত্ত জীবন ব্যবস্থা
ইসলামের কয়েকটি মৌলিক বিষয়
আনুষ্ঠানিক ইবাদত
ইবাদত ও মুসলিম
মুসলিম জীবনে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব
সালাত কায়েম করা
সুসমাজ গঠনে সালাতের শিক্ষা
ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন
মুসলিম জীবনে সংগঠন ও সংঘবদ্ধতা
অধিকার ও কর্তব্য
চরিত্র ও আচার ব্যবহার
আখেরাতের জীবন
দৈনন্দিন জীবনে কুরআন হাদিস যিকর দু'আ

(১৬)

অধিকার ও কর্তব্য

 

 

মানুষের উপর মানুষের স্রষ্টা ও প্রতিপালক মহান আল্লাহর এবং আল্লাহর উপর মানুষের অধিকার রয়েছে। আবার বিভিন্ন ধরণের সম্পর্কের কারণে বিভিন্ন মানুষের উপর বিভিন্ন মানুষের অনেক অধিকার বর্তায়। এসব অধিকার প্রদান করা প্রত্যেকেরই অবশ্য কর্তব্য। একের অধিকার অপরের কর্তব্য।

 

১. মানুষের উপর আল্লাহর অধিকার

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মানুষকে প্রতিপালন করেন। তিনিই সরবরাহ করেন মানুষের জীবন ধারণ ও জীবন যাপনের সমস্ত উপকরণ।  তাই মানুষের উপর রয়েছে তাঁর অনেক অধিকার।

১. মানুষ শুধু তাঁকেই নিজের একমাত্র স্রষ্টা, মালিক, শাসক, হুকুমকর্তা, ত্রাণকর্তা ও প্রভু হিসেবে মেনে নেবে। সে শুধুমাত্র তাঁরই দাসত্ব ও আনুগত্য করবে। সে তাঁর সাথে কাউকেও শরিক করবেনা।

২. মানুষের জীবন যাপনের জন্যে আল্লাহ পাক নবীর মাধ্যমে যে দীন বা জীবন যাপন পদ্ধতি পাঠিয়েছেন, মানুষ সে অনুযায়ী জীবন যাপন করবে। সে মনগড়া বা মানুষের তৈরি করা পথে চলবেনা।

৩. আল্লাহ মানুষের জন্যে যা কিছু হালাল করেছেন, সেগুলোকে সে হালাল হিসেবে গ্রহণ করবে। আল্লাহ যা কিছু তার জন্যে হারাম করেছেন, সেগুলো সে বর্জন করবে এবং সব বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে চলবে। কুরআন সুন্নাহকেই যাবতীয় গ্রহণ বর্জনের মানদণ্ড বানাবে।

৪. সে আল্লাহকে সর্বাধিক ভালোবাসবে। আল্লাহর জন্যে সবকিছু কুরবানি করতে প্রস্তুত থাকবে।

৫. সে আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবে এবং আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও ভয় করবেনা। আল্লাহর হুকুম কার্যকর করার জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।

 

২. আল্লাহর উপর মানুষের অধিকার

রসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, মানুষের উপর আল্লাহর যে অধিকার রয়েছে, মানুষ যদি সে অধিকার সঠিকভাবে আদায় করে, তবে আল্লাহর উপর মানুষের এই অধিকার বর্তায় যে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তাকে শাস্তি দেবেন না। তিনি তাকে পুরস্কার হিসেবে জান্নাত দান করবেন।

 

৩. নিজের দেহ ও মনের অধিকার

প্রত্যেক মানুষের উপর তার নিজের দেহ ও মনের অধিকার রয়েছে। মানুষের উপর তার শরীরের অধিকার হলো, সে শরীরকে সুস্থ রাখবে, পবিত্র রাখবে। প্রয়োজনীয় পানাহার করবে। অসুখ বিসুখ হলে চিকিৎসা করবে। শরীরকে সক্রিয় ও কর্মতৎপর রাখবে এবং প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেবে।

মানুষের উপর তার মনের অধিকার হলো, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করে সে মনের দাবিসমূহ পূরণ করবে এবং মনকে প্রশান্তি দেবে। মহান আল্লাহর স্মরণেই মন প্রশান্তি লাভ করে।

 

৪. মানুষের উপর মানুষের সাধারণ অধিকার

ইসলামি শরিয়ত মানুষের উপর মানুষের বিরাট অধিকার বর্তিয়েছে। সাধারণভাবে প্রতিটি মানুষের উপর আরেকজন মানুষের অধিকার হলো :

০১.     কেউ কারো নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবেনা।

০২.     কেউ কাউকেও হত্যা করবেনা।

০৩.     কেউ কারো প্রতি যুলুম-অত্যাচার করবেনা।

০৪.     কেউ কাউকেও অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবেনা, সম্মানহানি করবেনা।

০৫.     কাউকেও অন্যায়ভাবে কষ্ট দেবেনা।

০৬.     কাউকেও ঘৃণা করবেনা, তুচ্ছ জ্ঞান করবেনা।

০৭.     কারো বাক স্বাধীনতা হরণ করবেনা।

০৮.     প্রত্যেকের বৈধ অধিকারসমূহ প্রদান করবে, কখনো কারো বৈধ অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করবেনা।

০৯.     মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করবেনা।

১০.     অকারণে কারো প্রতি শত্রুতা পোষণ করবেনা।

১১.     কারো অর্থ সম্পদ ও আয় রোজগারের ক্ষতি সাধন করবেনা।

১২.     কারো প্রতি অপবাদ আরোপ করবেনা।

১৩.     কারো প্রতি অবিচার করবেনা।

১৪.     মানবিক সেবা ও সাহায্য সহযোগিতা করে যাবে।

১৫.     বিপদ-আপদে সাধ্যানুযায়ী তার পাশে দাঁড়াবে, তার উপকার করবে।

১৬.     সব মানুষের প্রতি মানবিক দয়া ও মানবোচিত আচরণ করবে।

১৭.     কারো নিন্দা করবেনা।

১৮.     সব মানুষের কল্যাণ-কামনা করবে।

 

৫. মাতা পিতার অধিকার

মাতা-পিতাই সন্তানকে স্নেহ-মমতা, আদর যত্ন এবং বহু দু:খ কষ্ট ভোগ করে লালন-পালন করেন। সেজন্যে স্রষ্টার পরেই মানুষের উপর পিতা-মাতার অধিকার বর্তায়। আল্লাহ পাক কুরআন মজিদে বলেন :

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا

অর্থ : তোমাদের প্রভু নির্দেশ দিচ্ছেন: তোমরা শুধুমাত্র তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত, আনুগত্য ও দাসত্ব করবেনা। আর পিতা-মাতার সাথে সর্বোত্তম আচরণ করবে।’ -সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল  আয়াত : ২৩।

সন্তানের উপর পিতা মাতার অধিকার হলো, তারা :

১.       সব সময় পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে।

২.       কখনো তাঁদের সাথে মন্দ ব্যবহার করবেনা।

৩.       তাঁদের মনে কষ্ট দেবেনা। তাঁদের প্রতি উহ্ পর্যন্ত উচ্চারণ করবেনা।

৪.       আন্তরিকভাবে তাদের সেবা করবে।

৫.       তাঁরা বৃদ্ধ ও অক্ষম হয়ে পড়লে সেবা যত্নএবং ভরণ পোষণসহ তাদের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে।

৬.       তাঁদের হুকুম পালন করবে।

৭.       তাঁরা আল্লাহর হুকুমের বিপরীত কোনো হুকুম দিলে মানবেনা, তবে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেই যাবে।

৮.       সব সময় তাঁদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করবে।

৯.       তাঁদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেনা।

১০.     সব সময় তাদের কল্যাণের জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।

 

৬. সন্তানদের অধিকার

পিতা-মাতার উপরও সন্তানের অনেক অধিকার রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি অধিকার হলো :

০১.     তারা সন্তানকে হত্যা করবেন না।

০২.     জন্মের পর শিশু সন্তানের কানে আযান দেবেন।

০৩.     তাদের জন্যে আকীকা করবেন এবং ভালো নাম রাখবেন।

০৪.     তাদের খাতনার ব্যবস্থা করবেন।

০৫.     মা বুকের দুধ পান করাবেন।

০৬.     তাঁরা সন্তানকে ভালোবাসবেন, স্নেহ করবেন।

০৭.     সন্তানকে সযত্নে লালন পালন করবেন।

০৮.     সন্তানদের সুশিক্ষা দান করবেন, তাদের বিবেকবোধ ও ন্যায়বোধ জাগ্রত করে তুলবেন।

০৯.     তাদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ সৃষ্টি করবেন।

১০.     তাদের চরিত্রবান করে গড়ে তুলবেন। তাদেরকে ভদ্রতা, নম্রতা, সভ্যতা ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেবেন।

১১.     তাদেরকে মানুষের সেবা করার, বড়দের সম্মান করার এবং ছোটদের স্নেহ করার শিক্ষা দেবেন।

১২.     তাদেরকে সত্যিকার মুসলিম হিসেবে গড়ে তুলবেন।

১৩.     তাদেরকে স্বাবলম্বী হবার যোগ্য করে গড়ে তুলবেন।

১৪.     ছেলে এবং মেয়ে সবার প্রতি সমান গুরুত্ব দেবেন।

১৫.     সন্তানদের মধ্যে ন্যায় বিচার করবেন।

 

৭. স্বামীর অধিকার

আল্লাহ পাক স্ত্রীর উপর স্বামীর কতগুলো অধিকার বর্তিয়েছেন। সেইসব অধিকার আদায় করা স্ত্রীর কর্তব্য। স্ত্রীর উপর স্বামীর কয়েকটি অধিকার হলো:

০১.     স্ত্রী স্বামীর আনুগত্য করবে। স্বামীর অবাধ্য হবে না। স্বামীর সকল বৈধ হুকুম পালন করবে।

০২.     স্ত্রী হিসেবে নিজের সতীত্ব রক্ষা করবে।

০৩.     স্বামীর কথা, কাজ ও সম্পদের গোপনীয়তা ও আমানত রক্ষা করবে।

০৪.     স্বামীর অর্থ সম্পদের হিফাযত করবে।

০৫.     স্বামীর সেবা করবে।

০৬.     সাধ্য অনুযায়ী স্বামীর ন্যায্য দাবি পূরণ করবে।

০৭.     স্বামীর সংসারে পরিচালিকার দায়িত্ব পালন করবে।

০৮.     কখনো কোনো ব্যাপারে স্বামীর খিয়ানত করবে না।

০৯.     স্বামীকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

১০.     সাধ্যানুযায়ী স্বামীর সাহায্য সহযোগিতা করবে।

১১.     বিপদ মুসিবতে স্বামীকে সান্ত্বনা দেবে এবং স্বামীর পাশে দাঁড়াবে।

১২.     গুরু দায়িত্ব পালনে স্বামীকে উৎসাহ প্রদান করবে।

১৩.     স্বামীর অভাব অনটনে ধৈর্যধারণ করবে।

১৪.     স্বামীর আত্মীয়-স্বজনকে শ্রদ্ধা করবে এবং মেহমানদারি করবে।

১৫.     সকল বৈধ পন্থায় স্বামীকে খুশি রাখার চেষ্টা করবে।

 

৮. স্ত্রীর অধিকার

স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল সা. স্বামীর উপর স্ত্রীর অনেকগুলো অধিকার ধার্য করে দিয়েছেন। সেগুলো হলো : স্বামী-

০১.     স্ত্রীকে মোহরানা প্রদান করবে।

০২.     স্ত্রীর ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব পালন করবে।

০৩.     স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করবে।

০৪.     স্ত্রীর যাবতীয় আমানত রক্ষা করবে।

০৫.     স্ত্রীর যাবতীয় গোপনীয়তা রক্ষা করবে।

০৬.     কখনো স্ত্রীর কোনো আমানতের খিয়ানত করবে না।

০৭.     সংসার ব্যবস্থাপনায় স্ত্রীর সহযোগিতা করবে।

০৮.     স্ত্রীর সাথে সৎ জীবনযাপন করবে।

০৯.     স্ত্রীকে দীনের জ্ঞানার্জনে সহযোগিতা করবে।

১০.     স্ত্রীর অসুখ-বিসুখ হলে সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।

১১.     সাধ্যনুযায়ী স্ত্রীর সকল বৈধ দাবি পূরণ করবে এবং সকল বৈধ অধিকার প্রদান করবে।

১২.     স্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উপদেশ-নসিহত প্রদান করবে।

১৩.     স্ত্রীর সাথে প্রয়োজনীয় পরামর্শ আদান-প্রদান করবে।

১৪.     স্ত্রীর পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনকে সম্মান করবে।

১৫.     সকল বৈধ পন্থায় স্ত্রীকে খুশি রাখার চেষ্টা করবে।

 

৯. আত্মীয়-স্বজনের অধিকার

মানুষের কয়েক ধরনের আত্মীয়-স্বজন থাকে। রক্ত সম্পর্কের আত্মীয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের আত্মীয়। পিতৃকুল ও মাতৃকুলের আত্মীয়স্বজন। আত্মীয়দের রয়েছে অনেক অধিকার। যেমন :

০১.     রক্ত সম্পর্ক অটুট রাখা। রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন না করা।

০২.     উত্তরাধিকার প্রদান করা।

০৩.     তাদের মেহমানদারি করা।

০৪.     তাদের খোঁজ-খবর নেয়া।

০৫.     তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা।

০৬.     তাদের সেবা-যত্নকরা।

০৭.     তাদের সাথে মিল-মহব্বত বজায় রাখা।

০৮.     তাদের আমানত রক্ষা করা।

০৯.     তাদের মান ইজ্জত রক্ষা করা।

১০.     বিপদে আপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

১১.     তাদের আনন্দে-উৎসবে যোগদান করা।

১২.     দুঃখ ও শোকে তাদের সান্ত্বনা দেয়া।

 

১০. প্রতিবেশীর অধিকার

কুরআন মজিদে এবং হাদিসে প্রতিবেশীর অধিকারের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সাধারণভাবে সব মানুষের তুলনায় প্রতিবেশীর অধিকার অনেক বেশি। ইসলাম একজন প্রতিবেশীর উপর আরেকজন প্রতিবেশীর এসব অধিকার ধার্য করে দিয়েছে :

০১.     প্রতিবেশীর সাথে সব সময় ভালো ব্যবহার করা।

০২.     প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়া।

০৩.     প্রতিবেশীর কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করা।

০৪.     প্রতিবেশীর দুঃখে দুঃখী হওয়া এবং সুখে খুশি হওয়া।

০৫.     প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা করা।

০৬.     তাদের প্রয়োজনে ধার কর্জ প্রদান করা।

০৭.     তারা অভুক্ত থাকলে খাবার ব্যবস্থা করা।

০৮.     প্রতিবেশীর সন্তানদের স্নেহ-মমতা করা।

০৯.     হাদিয়া তোহফা দেয়া। ভালো রান্না করলে তাদের জন্যেও কিছু পাঠানো।

১০.     বিপদের সময় তাদের পাশে দাঁড়ানো।

১১.     অসুস্থ হলে তাদের সেবা করা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

১২.     তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা।

১৩.     তাদের সাথে শত্রুতা না করা।

১৪.     তাদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা।

১৫.     তাদের কল্যাণ কামনা করা।

দূরের প্রতিবেশীর চাইতে নিকটের প্রতিবেশীর অধিকার বেশি।

 

১১. গরীব দুঃখীর অধিকার

গোটা মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর একমাত্র মালিক আল্লাহ তায়ালা। অর্থ সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা। তিনি কাউকেও বেশি আবার কাউকেও কম অর্থ-সম্পদ দিয়ে থাকেন। তাই সমাজে কিছু লোকের অর্থ-সম্পদ থাকে প্রয়োজনের চাইতেও বেশি। আবার কিছু লোকের যা অর্থ সম্পদ থাকে, তা দিয়ে তারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে না। এইসব লোক দুঃখ কষ্টে জীবন যাপন করে।

আল্লাহ পাক যাদেরকে প্রয়োজনের চাইতে বেশি অর্থ সম্পদ দিয়েছেন, কিংবা ভালোভাবে চলার মতো অর্থ সম্পদ দিয়েছেন, তারাই ধনী বা সামর্থবান। ধনীদের অর্থ সম্পদে গরীব-দুঃখীদের অধিকার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِّلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ

অর্থ : তাদের (ধনীদের) অর্থ-সম্পদে পরমুখাপেক্ষী ও বঞ্চিত লোকদের অধিকার রয়েছে।” -সূরা ৫১ আয্ যারিয়াত : আয়াত ১৯।

যাকাত প্রদান এবং সাধারণভাবে দান করার মাধ্যমে গরীব-দুঃখীদের এই অধিকার প্রদান করা ধনীদের উপর অবশ্য কর্তব্য।

গরীব দুঃখীরা হাত পাতলে তাদের অধিকার দিতে হবে। তারা হাত না পাতলেও খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের অধিকার প্রদান করতে হবে। তাদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাবার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

১২. মুসলমানদের উপর মুসলমানদের বিশেষ অধিকার

উপরে বর্ণিত সমস্ত অধিকার ছাড়াও এক মুসলমানের উপর আরেক মুসলমানের কিছু বিশেষ অধিকার রয়েছে। সেগুলো হলো :

০১.     ঈমানী ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক রাখা।

০২.     সাক্ষাত হলে সালাম দেয়া।

০৩.     দাওয়াত দিলে কবুল করা

০৪.     পরামর্শ চাইলে সুপরামর্শ দেয়া।

০৫.     হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ; বললে ইয়ারহামুকাল্লাহবলা।

০৬.     কখনো অপমানিত ও অপদস্ত না করা।

০৭.     কখনো গীবত না করা।

০৮.     আক্রান্ত হলে সাহায্যের হাত বাড়ানো।

০৯.     রোগগ্রস্ত হলে সেবা-চিকিৎসা করা।

১০.     মৃত্যু হলে দাফন-কাফন ও জানাযার ব্যবস্থা করা।

 

১৩. জীব-জন্তুর অধিকার

মানুষের উপর গৃহপালিত এবং অন্যান্য জীব-জন্তুরও অধিকার রয়েছে। রসূল সা. বলেছেন, জোয়ান ও শক্তিশালী থাকার সময় যে পশুটিকে তুমি সোয়ারি, মালামাল পরিবহন এবং চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করেছো, সেটি বৃদ্ধ ও অক্ষম হয়ে পড়লে তার প্রতি অযত্নকরো না।

যেহেতু পশুটি তার জীবনের সমস্ত শক্তি সামর্থ তার মনিবের কাজে নিঃশেষ করেছে, তাই বৃদ্ধ এবং অক্ষম অবস্থায়ও মনিবের নিকট থেকে পূর্বের ন্যায় সমান সেবা-যত্নপাবার অধিকার তার রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেসব পশু-পাখির গোশত হালাল করেছেন, সেগুলোকে যবেহ্ করার সময় যতোটা সম্ভব আসানের সাথে যবেহ করা কর্তব্য। প্রিয় নবী সা. এজন্যে যবেহর পূর্বে ছুরি ধার দিয়ে নিতে বলেছেন। এটা ওদের অধিকার।

গৃহপালিত পশু-পাখির মনিবের পক্ষ থেকে যথাযথ খাদ্য ও সেবা-যত্নপাবার অধিকার রয়েছে। তাদেরকে কষ্ট দেয়া নিষেধ।

ক্ষতিকারক জীব-জন্তু ছাড়া বিনা কারণে জীব-জন্তু হত্যা করা নিষেধ।

এ যাবত যেসব হক বা অধিকারের কথা বর্ণনা করা হলো, এসব অধিকার স্বয়ং আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এসব অধিকারের কথা আল কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে। এই সকল অধিকারের প্রতি সচেতন থাকা এবং সকলের প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা প্রত্যেক মুসলমানেরই কর্তব্য। একের অধিকার অপরের কর্তব্য।

 

* * *

 


সর্বশেষ আপডেট ( Wednesday, 11 April 2012 )