আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন মুহাম্মদ কামারুজ্জামান   
Monday, 25 November 2013
আর্টিকেল সূচি
আধুনিক যুগে ইসলামী বিপ্লব
১. আধুনিক বিশ্বে ইসলামী পুনর্জাগরণ
২. বর্তমান প্রেক্ষাপট
৩.দেশে দেশে জন আকাঙ্ক্ষাঃ ইসলামী বিপ্লব
৪. ইসলামী বিপ্লব কি?
৫. ইসলামী বিপ্লবের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
৬. বিপ্লব এনেছে জনতা
৭. জনতাই ইতিহাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করে
৮. ইসলামী বিপ্লবের দুটো প্রধান বৈশিষ্ট্য
৯. ইসলামী বিপ্লবের ভিত্তি
১০. বিপ্লব রপ্তানি করা যায় না
১১. ইসলামী বিপ্লব সার্বজনীন
১২. ইসলামী বিপ্লব প্রসংগে মাওলানা মওদূদী
১৩. ইসলামী বিপ্লবের মডেল
১৪. ইসলামী আন্দোলনের চিত্র
১৫. ইসলামের মূল দাওয়াত
১৬. সংগঠন
১৭. ক্যাডার সিসটেম
১৮. নেতৃত্ব
১৯. গণতন্ত্রের শ্লোগান ও ইসলামী বিপ্লব
২০. রাজনৈতিক স্ট্যাটেজি
২১. ইসলামী আন্দোলনের প্রতিবন্ধকতা
২২. সমস্যার মোকাবিলায় করণীয়
২৩. গণআন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি
২৪. গণচেতনার স্তর
২৫. জনতার দাবী
২৬. ইসলামী বিপ্লবের শর্ত
২৭. বিপ্লবের প্রক্রিয়া

২১. ইসলামী আন্দোলনের প্রতিবন্ধকতা
এক. গোটা মুসলিম বিশ্বেই সাধারণভাবে ক্ষমতাসীন সরকারগুলো ইসলামী আন্দোলনের বিরোধী। মুসলিম জাহানের দেশগুলো নামে স্বাধীন হলেও এসব দেশে স্বাধীন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ব্যবস্থা তথা স্বাধীন সরকার গড়ে উঠতে পারেনি। অনেক মুসলিম দেশেই সরকার মুখে ইসলামের কথা বলে থাকে। ফলে ইসলামের নামে উত্থিত কোন রাজনৈতিক শক্তির বিকাশকে সেসব সরকার তাদের নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি স্বরূপ মনে করে। কেবলমাত্র সাধারণ মুসলিম জনগণের সমর্থন পাবার উদ্দেশ্যেই যেহেতু ঐসব সরকার ইসলামকে ব্যবহার করে থাকে তাই সত্যিকারভাবে ইসলামের জাগরণকে তারা ভয় পায়। কেননা তারা এটা ভালোভাবেই জানে ইসলাম সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে কায়েম হলে তাদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। তাছাড়া এসব সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে এমন সব অপকর্ম গণবিরোধী ভূমিকা পালন করে থাকে যার ফলে আত্মরক্ষার জন্যই তাদের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা জরুরী হয়ে পড়ে।
মুসলিম জাহানে লক্ষ্য করা যায় সাধারণতঃ ইসলামী আন্দোলন যতটুকু শক্তি লাভ করলে সরকারের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবার আশংকা থাকে না খুব বেশি হলে ততটুকু পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকার ইসলামী আন্দোলন বরদাশত করে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ ধরণের সরকারগুলো ইসলামী তৎপরতা বিন্দুমাত্রও সহ্য কতে রাজী নয়। চালাক সরকারগুলো ইসলামী শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে কোন না কোন গ্রুপের প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে থাকে। অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের সরকার আছে যারা সাম্রাজ্যবাদের এতটা তল্পীবাহী যে, নগ্নভাবে ইসলামী আন্দোলন ও তৎপরতার বিরোধীতা করে থাকে। সাধারণতাবে সরকার ইসলামী আন্দোলনের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ করার দৃষ্টান্ত খুবই কম। কোথাও কোথাও দু’একটা সহানুভূতিশীল আচরণ দেখা গেছে। কিন্তু সেটাও চূড়ান্ত বিশ্লেষণে ক্ষমতাসীনদের গদি রক্ষার তাগিদেই, কোন ইসলামী বিপ্লব সংগঠনের জন্য নয়।
ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারগুলোর অভিযোগের ধরন হলো যে এরা অর্থোডক্স, কনজারভেটিভ, ফ্যানাটিক, চরমপন্থী, মৌলবাদী, সন্ত্রাস ও বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী। মজার ব্যাপার ইসলামের কথা বলে যেসব সরকার জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে থাকে তারাই অভিযোগ করে থাকে যে, ধর্ম পবিত্র জিনিস অথচ ইসলামী দলগুলো ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করে ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট করছে। এরা মসজিদে রাজনীতি করছে অথবা ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা জিনিস ধর্মের সাথে রাজনীতি করা চলবে না ইত্যাদি। অনেক মুসলিম দেশেই সরকার ইসলামী আন্দোলনকে প্রকাশ্যে প্রতিহত করছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই যেহেতু এসব দেশের সরকারগুলোকে মদদ জুড়িয়ে থাকে সেহেতু সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ইংগিতেই মুসলিম দেশের সরকারগুলো ইসলামের উত্থানের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। মূলতঃ এসব সরকার মুসলিম জনগণের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। জনতার সেবা নয়, ক্ষমতার সেবাই এসব সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ আলোচনাকে যে কোন একটি মুসলিম দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটের সাথে মিলিয়ে দেখলেই ব্যাপারটি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
দুই. যুগে যুগেই সমাজে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণীর অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। অব্যাহত পুঁজিবাদী শোষণ এবং একনায়কত্ব বা স্বৈরশাসনের ফলশ্রুতি হিসেবে অনেক মুসলিম দেশেই একটি সুবিধাভোগী শ্রেণীর বিকাশ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তির আশীর্বাদপুষ্ট এ অশুভ শক্তিটি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা, লাইসেন্স, পারমিট ইত্যাদির মাধ্যমে বেড়ে উঠে। ব্যবসায় বাণিজ্যে ও অর্থনীতির এরা নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিতে পরিগণিত হয়। এরা প্রায় সর্বাবস্থায় ইসলামী আন্দোলনের বিরোধীতা করে থাকে। তবে এদের মধ্যে শুভবুদ্ধি জাগ্রত হওয়া বিচ্রিত নয়। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে এদের অনেকেই রাতারাতি অবস্থান পরিবর্তন করতে দ্বিধাবোধ করবে না। ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ সম্প্রসারণে সুবিধাভোগী শ্রেণীর ভূমিকা খুবই কার্যকর। কোন নীতি-নৈতিকতার এরা ধার ধারে না। যেহেতু এরা প্রতিষ্ঠিত সরকারের পক্ষপুটে বেড়ে উঠে সেহেতু ইসলামী আন্দোলনের জন্য এরা বড় ধরণের বাধার সৃষ্টি করে থাকে। ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক এ তিন কায়েমী স্বার্থবাদী বা প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিই সুবিধাভোগী শ্রেণীর অন্তর্গত। এ তিনটি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীই ইসলামী আন্দোলনের চরম দুশমন।
তিন. অনেক মুসলিম দেশেই রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রতিবন্ধকতা খুবই জোরদার। তবে এর প্রকৃতি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। ইসলাম বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি যেখানে বেশী শক্তিশালী সেখfনে রাজনৈতিক বাধা বেশী প্রকট। আবার ইসলামের সঠিক চর্চা ও অনুশীলনের অভাবে ভিন্ন মতাদর্শের প্রভাব মুসলিম সমাজে প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিষয়গুলো পরস্পর সম্পূরক এবং সীমারেখা টানা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক মুসলিম দেশে পাশ্চাত্য জীবনধারা আজ এতটা প্রভাব বিস্তার করেছে যাকে আদর্শিক বিপর্যয়ও বলা যেতে পারে কিংবা রাজনৈতিক বিপর্যয়ও বলা যায়। আদর্শিক বিপর্যয়ের মাধ্যমেই রাজনৈতিক বিপর্যয়ও আসে। মুসলিম দেশগুলো আজ জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, স্বৈরাচার বা একনায়কত্ববাদ, রাজতন্ত্র, পাশ্চাত্য গণতন্ত্র বা সামন্তবাদী ব্যবস্থার শিকার। মুসলিম জাহানের সরকারগুলো এর কোনটা না কোনটা আঁকড়ে ধরে আছে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে। এর কোনটাই ইসলামী আদর্শের পক্ষে নয়।
চার. বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরী অগ্রগতির এ যুগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যেমন সহজতর হয়ে উঠেছে তেমনি আন্তর্জাতিকভাবে হস্তক্ষেপের সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর কোন একটি দেশও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নেটওয়ার্কের বাইরে নয়। বিশ্বময় মোড়লীপনা ও আধিপত্য বিস্তারের মনোভাব থেকেই এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। সবসময়ই বিশেষ নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক শক্তির বিকাশ ঘটেছে এবং প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। আমাদের আজকের বিশ্বটাও তাই। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে যেহেতু অদ্যাবধি কোন কার্যকর ইসলামী ঐক্যের অস্তিত্ব নেই সেহেতু কোন না কোন বিশ্ব শক্তি বা আঞ্চলিক শক্তি মুসলিম দেশগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে। মুসলিম রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে পরাশক্তির হস্তক্ষেপ অতি সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। কোন মুসলিম দেশে কারা ক্ষমতায় থাকবে, কারা ক্ষমতায় আসবে এসব কিছুও পরাশক্তির ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এসব দেশের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণে পরাশক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ পরোক্ষ হস্তক্ষেপ আজ  সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। অসহায়ভাবে এসব দেশের জনগণ আজ তা প্রত্যক্ষ করছে। ফলে কোথায়ও জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে না। ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তের মাধ্যমে মুসলিম জনগণের কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেই শুধু বিলম্বিত করা হচ্ছে না বরং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি মুসলিম দেশগুলোর স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
পরাশক্তিগুলোর অন্তঃসারশূণ্যতা আজ আর অস্পষ্ট নয়। হাতিয়ার আর বন্দুকের শক্তি ছাড়া অন্য কোন শক্তিই তাদের নেই। একটি নেতবিাচক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরাশক্তিগুলোর অবস্থান ঠিক রেখেছে। ইতিবাচক শক্তির বিকাশ ঘটলে কিংবা বিশ্বময় নেতৃত্ব দিতে পারে এমন কোন শক্তির আবির্ভাব ঘটলে তা বর্তমান পরাশক্তিগুলোর জন্য অনিবার্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশ্ব নেতৃত্ব দেবার যাবতীয় গুণ ও শক্তি ইসলামের আছে বিধায় ইসলামী আন্দোলনকে পরাশক্তিসমূহ বিপজ্জনক মনে করে। এসব কারণেই পরাশক্তি বা আঞ্চলিক কোন রাজনৈতিক শক্তি ইসলামী আন্দোলনের জন্য বাধার সৃষ্টি করছে।
পাঁচ. পরাশক্তি যেহেতু বর্তমান দুনিয়ায় নেতৃত্বের আসনে সমাসীন ফলে বিশ্বময় তাদের সৃষ্ট সমস্যার কারণে মানবতা যেমন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তেমনি বিশেষ করে মুসলিম জাহানে তাদের সৃষ্ট সমস্যা ইসলামের অগ্রগতির পথে বাধা। পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যবাদ ও সমাজতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদ উভয়ই মানুষকে ভোগবাদীর দিকেই আহ্বান জানিয়েছে। মানুষের জীবন ও যৌবনকে উপভোগ করা ছাড়া মানব জীবনের অন্য কোন মহত উদ্দেশ্য নেই। এ ভোগবাদী দৃষ্টিভংগী সৃষ্টি করেছে সাম্রাজ্যবাদ। খুব সহজেই এ বস্তুবাদী দর্শন মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে। পরকালের জীবন দুনিয়ার জীবনের হিসাব-নিকাশ, ভাল-মন্দ পায়ে ঠেলে দিয়ে মানুষকে নফসের গোলামে পরিণত করার ক্ষেত্রে পাশ্চাত্য সভ্যতার অবদান অস্বীকার্য। সুতরাং শয়তানের সাক্ষাত প্রতিভূ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে সাম্রাজ্রবাদ। তাই বলা যায়, ভোগবাদী সভ্যতা ইসলামের জন্য এক বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ।
ছয়. সাম্রাজ্যবাদ গোয়েন্দা তৎপরতার জাল বিস্তার করে রেখেছে সর্বত্র। মুসলিম দেশগুলোতে এ তৎপরতা অনেক বেশী জোরদার। অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে সাম্রাজ্যবাদ ইসলামী আন্দোলনের উপর আঘাত হানছে।
সাত. মুসলিম দেশগুলোতে স্থিতিশীল কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারে সাম্রাজ্যবাদ অত্যন্ত সজাগ। নিজ দেশের জন্য তারা যা ভালো বলে মনে করে অন্য দেশে তা করতেও তারা রাজী নয়। অস্থিতিশীলতার মধ্যেও তাদের অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ নিহিত। জনগণের রায় বা ভোট সরকার পরিবর্তনের কোন রাজনৈতিক পদ্ধতি যাতে মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে গড়ে না উঠে সে ব্যাপারেই পরাশক্তিগুলো যত্নবান।
আট. সামরিক শাসন, একনায়কত্ব, স্বৈরশাসন, পারিবারিক বা রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই সাম্রাজ্যবাদ টিকে থাকতে সহায়তা করে। দুই পরাশক্তির মধ্যে এ ক্ষেত্রে বস্তুতঃ কোন পার্থক্য ছিল না। পার্থক্য ছিল শুধুমাত্র বাহ্যিক শ্লোগানে। আর সেই শ্লোগানের অন্তরালে একই ধরণের নিপীড়নমূলক শাসনকে তারা বিশেষভাবে মুসলিম জাহানে উৎসাহিত করে থাকে। আঞ্চলিক ও ভৌগলিক আধিপত্য এবং বাজার সৃষ্টির স্বার্থে এ ক্ষেত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্রসমূহের লক্ষ্যে কোন অভিন্নতা নেই।
নয়. মুসলিম সমাজকে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে দ্বীন ইসলাম তথা স্বকীয়তা,স্বাতন্ত্র্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তাদের কৃষ্টি-কালচার থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সর্ববিধ কৌশল সাম্রাজ্রবাদ অবলম্বন করেছে। মুসলিম জাহানে অনৈক্য সৃষ্টি পারস্পরিক বিরোধ জাগিয়ে তোলা এবং ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে লিপ্ত করার কূটকৌশল করে সাম্রাজ্যবাদ মুসলিম সমাজকে প্রতিনিয়ত দূর্বল করে দিচ্ছে।
দশ. ভয়াবহ অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দুর্নীতি বিস্তারের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগণকে অসহায় করে তোলা সাম্রাজ্রবাদী শক্তির আরেকটি কৌশল। অর্থনৈতিক বৈষম্য যাতে মানুষের আদর্শবোধকে পিছনে ঠেলে ফেলে দেয়, রুটি রুজির সন্ধান এবং জীবিকার্জনই যেন জনগণের প্রধান চিন্তার বিষয় বস্তুতে পরিণত হয়; দারিদ্র্যপীড়িত মুসলিম দেশগুলোতে এ ধরণের সীমাবদ্ধতা সৃষ্টির মাধ্যমে ইসলামের অগ্রগতিকে ব্যাহত করা হচ্ছে।
এগার. কোন দেশে যদি ইসলামী আন্দোলনের একটি সম্ভাবনা লক্ষ্য করা যায় তাহলে সেই দেশের ইসলামী নেতৃত্বকে গণ বিচ্ছন্ন করা, নেতৃত্ব সম্পর্কে প্রশ্নের সৃষ্টি করা বা নেতৃত্বকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করে দেয়াও ইসলামের দুশমনদের বড় ধরণের কৌশল। এজন্য মিথ্যাচার, অপপ্রচার চালানোর যাবতীয় পদক্ষেপ নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য যা করা দরকার তার সবই করা হয়। এমন কি খুবই সুকৌশলে ইসলামী নেতৃত্বকে দেশের দুশমন, জনগণের দুশমন এবং স্বাধীনতা বিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। যেহেতু দেশে দেশে জনগণ একটি নেতৃত্বকে সামনে রেখেই সংঘবদ্ধ বা সংগঠিত হয়ে থাকে তাই একবার যদি নেতৃত্বকে অকার্যকর বা অথর্ব প্রমাণ করে দেয়া সম্ভব হয় তাহলে ইসলামী আন্দোলনকে অনেক পিছিয়ে দেয়া সম্ভব। একই কারণে ইসলামী নেতৃত্ব যাতে গড়ে উঠতে না পারে সে ব্যাপারেও ইসলাম বিরোধী শক্তি তৎপর।
বারেো. শিক্ষা-দীক্ষায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর অনগ্রসরতা ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথে আরেকটি বড় ধরণের সমস্যা। নিরক্ষরতা, কুসংস্কার এবং ধর্ম সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাও সমস্যার সৃষ্টি করে। কারণ এর ফলে জনগণ অনেক সময় শত্রুমিত্র চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয় বা জনগণের পক্ষ  থেকে যে সাড়া ও সহযোগিতা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন তা সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে উঠে।
তেরো. ভয়াবহ সাংস্কৃতিক আক্রমণের মাধ্যমে মুসলিম জাহানে পশ্চিমা সভ্যতা প্রভাব বিস্তারের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিশেষ করে যৌনতাভিত্তিক পশ্চিমা সংস্কৃতি মুসলিম দেশগুলোতেও বিকৃত সাহিত্য, শিল্পকলা ও সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়ে ধর্মপ্রাণ ঐতিহ্যবাহী জনসমষ্টিকে ভাসিয়ে নিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ভোগবাদী ও নাস্তিক্যবাদী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপক বিস্তারের মাধ্যমে নৈতিকতা ধ্বংস করা হচ্ছে। যে কোন মতবাদের চাইতে মুসলিম যুব সমাজের শাসনে তথাকথিত পাশ্চাত্য জীবনধারার আকর্ষণই আজ সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। শয়তান যেভাবে নানা পথে ঈমানদার বান্দাকে বিচ্যুত করে থাকে শয়তানের অনুসারী ও বস্তুবাদের ধারক ও বাহকরাও তেমনি মানব জাতিকে শয়তানের প্রলোভনের পথে পরিচালিত করে বিপথগামী করতে সচেষ্ট।
চৌদ্দ. ইসলাম সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করে, মুসলমানরা সন্ত্রাসী।
পনের. এগারোর টুইন টাওযার ধ্বংসের পর বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ভয়ংকর মিডিয়া ক্যাম্পেইন হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। জেহাদ ও সন্ত্রাসকে সমার্থক করার অপপ্রয়াস চলছে। কুরআন ও মহানবী সা. স্বয়ং সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করেছেন এমন একটি মারাত্মক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইসলামের বদনাম করার জন্য অত্যন্ত সুকৌশলে কাজ হচ্ছে। ইসলামের নাম ব্যবহার করে চরমপন্থী ও বিপথগামীদের মাঠে নামানো হয়েছে। পাশ্চাত্যের আক্রমণাত্মক প্রচারণা ইসলামকে কোণঠাসা করার জন্য যা কিছু করা দরকার তাই করছে। মিথ্যা প্রচারণা যুৎসইভাবে মুকাবিলায় ব্যর্থ মুসলিম উম্মাহ এখন শুধু চিৎকার করে বলছে যে, ‘আমরা সন্ত্রাসী নই, ইসলাম শান্তির ধর্ম।’ অথচ বিশ্ব ইতিহাসে ঘৃণ্যতম সন্ত্রাস ও মানবাধিকার লংঘনের জন্য যারা দায়ী, কোটি কোটি মানুষের রক্তে যাদের হাত রক্তাক্ত তারা আজ মানবাধিকারের চ্যাম্পিয়ন সেজেছে।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 30 November 2013 )