আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
আদর্শ কিভাবে প্রচার করতে হবে প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন আবু সালীম মুহাম্মাদ আবদুল হাই   
Friday, 29 November 2013
আর্টিকেল সূচি
আদর্শ কিভাবে প্রচার করতে হবে
মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক
নিজেকে সবাই ভাল মনে করে
মনের ঝাল প্রকাশ করা
হাস্যোজ্জ্বল চেহারা
কথা বলার ধরন
গুণের সমাদর
জয়-পরাজয়ের ভাব
নিম্নের একটি দৃষ্টান্ত দেখুন
মানসিক প্রবণতার প্রতি সন্মান প্রদর্শন
যেসব ব্যাপারে মতের মিল রয়েছে
পর্যায়ক্রমে অগ্রসর হোন

যেসব ব্যাপারে মতের মিল রয়েছে

আদর্শের প্রচারক হিসেবে আপনার দায়িত্ব হলো মানুষের চিন্তা জগতে এক বিপ্লব সৃষ্টি করা এবং মানুষের চিন্তার মোড় এমনিভাবে ঘুরিয়ে দেয়া, যাতে সে অনায়াসেই আপনার যুক্তিকে মেনে নিতে পারে এবং উপলব্ধি করতে পারে আপনার আদর্শের স্বরুপ। সে যেন স্বেচ্ছায় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় বহুদিনের মত ও পথ। তার মানে এ নয় যে, আলোচ্য বিষয়ের সম্পূর্ণটাতেই আপনাদের উভয়ের মতের মিল রয়েছে, সে সকল বিষয়কে অবলম্বন করেই প্রথমতঃ আপনার আলোচনার সূত্রপাত করতে হবে। কেননা ভবি্য্যত আলোচনা অর্থাৎ আসল বক্তব্যের জন্য এটি আপনার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করবে। সাধারতঃ মানুষ প্রথমেই যে বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে তা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে থাকে। এটা কিছুতেই ঠিক নয়। আপনি একটা নীতিগত কথার উপর অবিচল থাকুন। প্রতিপক্ষকে কোন অবস্থাতেই আপনার কোন কথার জবাবে না বলার সু্যোগই দিবেন না। আলোচনার শুরুতে আপনাকে সতর্কতার সঙ্গে এমন ভুমিকা গ্রহন করতে হবে, যাতে সে প্রথম থেকেই আপনার কথায় “হ্যাঁ” বলতে বাধ্য হয়। কেননা এটা স্বাভাবিক যে, কোনো আলোচনার শুরুতেই যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে অসন্মতি জ্ঞাপন করে “না” বলে ফেলে, তারপর এ অসন্মতি সূচক ভাবটিই শেষ পর্যন্ত তার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে। তার ব্যক্তিত্বের অহমিকা তাকে “না ” এর ওপরই বহাল রাখতে বাধ্য করে। তারপর “না ” বলা অনুচিত হয়েছে–এটা উপলব্ধি করার পরও তার ব্যক্তিগত অহং তাকে এ থেকে নড়তে দেয় না। পরে তার মুখ দিয়ে “ হ্যা ” বের করা একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে সর্বদা সতর্কতা দৃষ্টি রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই তাকে এ সু্যোগ দিবেন না। কেননা সে একবার যা বলে ফেলে, তা থেকে প্রত্যাবর্তন করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। 
এই সূক্ষ্ম বিষয়টি স্মরন রাখা দরকার যে, আলোচনা শুরু করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে,‌ যাতে শ্রোতা কিছুতেই এ কথা টের না পায় যে আপনি তাকে কোনো কিছু স্বীকার করানোর জন্যে বাধ্য করছেন। আপনার সঙ্গে তার যে যে বিষয়ে মতের মিল রয়েছে, সেগুলো একাধিকবার আলোচনা করবেন। চিন্তা করলে এরকম অসংখ্য দিক আপনি বের করতে পারবেন। এটাই আদর্শ প্রচারের সেই কৌশল যার দিকে নিম্নোক্ত আয়াতেও ইঙ্গিত করা হয়েছে। মহানবী (সা ) কে আল্লাহ তায়ালা আহলে কিতাবদের মধ্যে আদর্শ প্রচারের ক্ষেত্রে এভাবে প্রাথমিক আলোচনা করতে বলেছেনঃ
“এসো এ ব্যাপারে আমরা আগে একমত হই, যে সম্পর্কে পূর্ব থেকেই আমাদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে ” (আলে ইমরান-৬৪)
সত্যিই এটা কত সহজ পন্থা! সধারনতঃ এ দিকে কেউ ভ্রুক্ষেপ করেনা। বরং মনে করে যে, সর্বপ্রথমেই একটা যুক্তিপূর্ণ বক্তৃতা ঝাড়বো, যাতে সে আমার যোগ্যতা এবং গুরুত্বকে স্বীকার করে নেয়। এবার এতে শ্রোতার মন বিদ্রোহীই হয়ে উঠুক না কেন এর কোনো পরোয়া করা হয় না। এটা সম্পূর্ণ ভুল রীতি। আপনি মানতে বাধ্য হবেন যে, কেউ যদি কেবল আনন্দ উপভোগের জন্যেই এমনটি করে থাকে তাহলে তা তো আলোচনার বহির্ভূত। কিন্তু যে ব্যক্তি এ ধরনের ভূমিকা গ্রহণ করে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করতে চায় তার মতো অজ্ঞ আর দ্বিতীয়টি নেই। সক্রেটিস সম্পর্কে একটা প্রসিদ্ধ কথা আছে- তিনি যখনই কোনো ব্যক্তিকে নিজের মতের অনুসারি করতে চাইতেন, তখন তাকে এমন সব প্রশ্ন করতেন যাতে সে প্রতিটি কথাতেই “হ্যাঁ” বলতে বাধ্য হত। তার আলোচনার কলাকৌশল এমন ছিল যে, শ্রোতাকে প্রতিটি কথাতেই তার সঙ্গে একাধারে “হ্যাঁ” বলে যেতে হতো। এমন কি তার আলোচনার মূল উদ্দেশ্য যা হত তাও শ্রোতার মুখ দিয়েই স্বীকার করে নিতেন। এ পন্থায় শ্রোতার পক্ষেও বক্তার কথাগুলো মেনে নেওয়া সহজ হয়। ঐ অবস্থায় শ্রোতা শেষ পর্যন্ত এমন কথাও স্বেচ্ছায় মেনে নিতে বাধ্য হয়, যা প্রথমে হয়তো কিছুতেই স্বীকার করতো না বরং বিশ্রীভাবে বলার দরুন সম্পূর্ণ অস্বীকারই করে বসত, অথবা একবার ‘না ’ বলে ফেললে তার ওপরই অটল থাকতো। কাজেই এ জন্যে যখনই আপনি কাউকে নিজের মতাবলম্বী করতে চেষ্টা করবেন, তখনই এ নীতির প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে যে, যাতে শ্রোতা কিছুতেই প্রথমেই ‘না’ বলার সুযোগ না পায়। বরং চেষ্টা করবেন যাতে সে শুরু থেকেই ‘হ্যা’, ’হ্যা ’ বলে আপনার কথার স্বীকৃতি জানায়। 


সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 30 November 2013 )