আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
أركان الإيمان বা ঈমানের স্তম্ভসমূহ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওরার   
Sunday, 15 October 2006
আর্টিকেল সূচি
أركان الإيمان বা ঈমানের স্তম্ভসমূহ
প্রথম স্তম্ভ
দ্বিতীয় স্তম্ভ
তৃতীয় স্তম্ভ
চতুর্থ স্তম্ভ
পঞ্চম স্তম্ভ
ষষ্ট স্তম্ভ

গ্রন্থনাঃ দ্বীনী গবেষণা অধিদপ্তর, ইসলামী বিশ্ববিদ্বালয় মদীনা মুনওয়ারা, সৌদি আরব।

অনুবাদঃ মুহাম্মাদ ইব্রাহীম আব্দুল হালীম

আর্কানুল ঈমান, বা ঈমানের স্তম্ভসমূহ

তা হলো আল্লাহ্ তা'আলা, তাঁর ফিরিশ্তাদের, কিতাব সমূহের, রাসূলগণের, ও শেষ দিবসের, এবং ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি ঈমান আনা।

এ প্রসংগে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آَمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ.

[سورة البقرة: الآية 177]

অর্থঃ ((বরং প্রকৃতপক্ষে সত্কাজ হলো- ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, কেয়ামত দিবসের উপর, ফিরিশ্তাদের উপর, এবং সমস্ত নবী-রাসূলগণের উপর))। [সূরা আল-বাক্বারা,আয়াত-১৭৭ ]

তিনি আরো বলেনঃ

كُلٌّ آَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ......

[سورة البقرة: الآية 285]

অর্থঃ ‍((সবাই বিশ্বাস রাখে, আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশ্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি এবং তাঁর নবীদের প্রতি, তারা বলে আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না))। [সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত-২৮৫]

তিনি আরো বলেনঃ

إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ.

[سورة القمر: الآية 49]

অর্থঃ ((আমি প্রত্যেক বস্তুকে পরিমিতরূপে সৃষ্টি করেছি))। [সূরা আল-ক্বামার, আয়াত-৪৯]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

الإيمان أن تؤمن بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر. وتؤمن بالقدر خيره .وشره

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((ঈমান হলো- তুমি আল্লাহ তা'আলা, তাঁর ফিরিশ্তাগণ, কিতাব সমূহ, রাসূলগণ ও শেষ দিবসের (আখেরাতের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। আরো বিশ্বাস রাখবে ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি))। [মুসলিম শরীফ]

ঈমানের সংজ্ঞাঃ তা হলো মুখে বলা এবং অন্তরে বিশ্বাস করা ও বাস্তবে অঙ্গ-প্রতঙ্গের মাধ্যমে সম্পাদন করা। ঈমান আনুগত্যে বৃদ্ধি হয়, নাফারমানী ও অবাদ্ধতায় হ্রাস পায়।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آَيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ - الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ - أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

[سورة الأنفال: الآية 2-4]

অর্থঃ ((প্রকৃত মু'মিন তারাই যখন তাদের নিকটে আল্লাহর নাম স্বরণীত হয় তখন তাদের অন্তর কেঁপে উঠে। আর যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াত পঠিত হয় তখন তাদের ঈমান বর্ধিত হয়। তারা তাদের প্রভুর উপরেই ভরসা করে। আর যারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে, এবং আমার প্রদত্ত রুযী হতে (আল্লাহর পথে ) ব্যয় করে। তারাই হল সত্যিকার ঈমানদার।)) [সূরা আল-আনফাল,আয়াত-২-৪]

তিনি আরো বলেনঃ

وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا

[سورة النساء: الآية 136]

অর্থঃ ((...এবং যে আল্লাহর প্রতি,ও তাঁর ফিরিশ্তাদের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, এবং রাসূলগণের প্রতি ও কেয়ামত দিবসের প্রতি, বিশ্বাস স্থাপন করেনা তারা চরম পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।)) [সূরা আন-নিসা,আয়াত-১৩৬]

আর ঈমান যা মুখের দ্বারা সম্পাদিত হয়, যেমন- যিকির, দো'আ, ন্যায়ের আদেশ, অন্যায়ের নিষেধ ও কুরআন তিলাওয়াত করা ইত্যাদি। অনুরূপভাবে, অন্তরের সাথেও ঈমান সংশ্লিষ্ট। যেমন- স্রষ্টা, প্রতিপালক, পরিচালক, ইবাদাতের অধিকারী এবং সুন্দরতম নাম ও মহান গুণাবলীর ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা। এক ও অদিত্বীয় আল্লাহ তা'আলার দাসত্বের আবশ্যকতায় বিশ্বাস স্থাপন করা। ইচ্ছা-সংকল্প ইত্যাদি ও এর মধ্যে শামিল।

আর অন্তরের কাজ হলোঃ আল্লাহর ভালবাসা, ভয়-ভীতি, আশা-আগ্রহ ও ভরসা ইত্যাদি (সব কিছু অন্তরের ঈমান)। অঙ্গ-প্রতঙ্গের কর্ম সমূহ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। যেমন- সালাত, সওম, হজ্জ, আল্লাহর পথে জিহাদ, দ্বীনী শিক্ষার্জন ইত্যাদি।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آَيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا

[سورة الأنفال: الآية 2]

অর্থঃ ((আর যখন তাদের কাছে তাঁর (আল্লাহর ) আয়াত পঠিত হয়, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়।)) [সূরা আল-আনফাল, আয়াত-২]

তিনি আরো বলেনঃ

هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيمَانًا مَعَ إِيمَانِهِمْ

[سورة الفتح: الآية 4]

অর্থঃ ((তিনি মু'মিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরো ঈমান বেড়ে যায়।)) [সূরা আল-ফাতহ্, আয়াত-৪]

সুতরাং আনুগত্য ও নৈকট্যশীলতা যত বৃদ্ধি পায়, ঈমানও তত বৃদ্ধি পায়। আর আনুগত্য ও নৈকট্যশীলতা যত হ্রাস পায়, ঈমানও তত হ্রাস পায়। যেমন- অবাধ্যতা ও নাফরমানী ঈমানে কু-প্রভাব ফেলে, যদি তা (নাফরমানী) বড় ধরনের শির্ক বা কোন কুফুরী কাজ হয় তাহলে আসল ঈমানকে ধ্বংস করে দিবে। আর যদি ছোট ধরণের কোন নাফরমানী হয় তাহলে ঈমানের পরিপূর্ণতায় ঘাটতি আসে এবং তা কলুষিত ও দুর্বল হয়ে যায়।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ

[سورة النساء: الآية 48]

অর্থঃ ((নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এতদ্ব্যতীত সব কিছু যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।)) [সূরা আন্- নিসা, আয়াত-৪৮] তিনি আরো বলেনঃ

يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ

[سورة التوبة: الآية 74]

অর্থঃ ((তারা কসম খেয়ে বলে যে আমরা বলি নাই। অথচ তারা কুফরী বাক্য বলেছে এবং ইসলাম গ্রহণ করার পর কুফরী করেছে।)) [সুরা আত্-তাওবাহ্, আয়াত-৭৪] নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

لا يزني الزاني حين يزني وهو مؤمن، ولا يسرق السارق حين يسرق وهو مؤمن، ولا يشرب الخمر حين شربها وهو مؤمن.

[متفق عليه]

অর্থঃ ((ব্যভিচারী পরিপূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় ব্যভিচারে লিপ্ত হয় না, চোর পরিপূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় চুরি করেনা এবং মদ্যপায়ী পরিপূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় মদ পান করেনা (অর্থাৎ, উক্ত সময়ে তাদের ঈমান অপূর্ণ ও দুর্বল হয়ে যায়)।)) [বুখারী ও মুসলিম]



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 14 June 2009 )