আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
أركان الإيمان বা ঈমানের স্তম্ভসমূহ প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদীনা মুনাওরার   
Sunday, 15 October 2006
আর্টিকেল সূচি
أركان الإيمان বা ঈমানের স্তম্ভসমূহ
প্রথম স্তম্ভ
দ্বিতীয় স্তম্ভ
তৃতীয় স্তম্ভ
চতুর্থ স্তম্ভ
পঞ্চম স্তম্ভ
ষষ্ট স্তম্ভ

الركن الخامس:الإيمان باليوم الآخر

পঞ্চম রুকনঃ শেষ দিবসের প্রতি ঈমান।

(১) শেষ দিবসের (আখেরাতের) প্রতি ঈমানঃ

এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, পার্থিব জীবন শেষ হয়ে মৃতু্য ও কবর জীবনের মাধ্যমে অন্য জগত শুরু হবে। এভাবে কিয়ামত সংঘটিত হবে, তার পর পুনরুত্থান, হাশর, নাশর, ও হিসাব নিকাশের পর ফলাফল প্রাপ্ত হয়ে জান্নাতীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে যাবে।

শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের রুকন সমূহের অন্যতম একটি রুকন। যার প্রতি ঈমান আনা ছাড়া কোন বান্দার ঈমান পরিপূর্ণ হবেনা। আর যে ব্যক্তি শেষ দিবসকে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَلَـكِنَّ الْبِرَّ مَنْ آمَنَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ

[سورة البقرة، الآية:177]

অর্থঃ ((বরং সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর, ও কিয়ামত দিবসের উপর।)) [সূরা আল-বাক্বারাহ্, আয়াত-১৭৭]

জিব্রাঈল (আলাইহিস্ সালাম)এর হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

فأخبرني عن الإيمان؟ قال: أن تؤمن بالله، وملائكته وكتبه، ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره

[رواه مسلم-1/157]

অর্থঃ ((জিব্রাঈল বলেনঃ হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ঈমান সম্পর্কে অবগত করুণ। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঈমান হলো- আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশ্তা, তাঁর কিতাব সমূহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিমুস সালাম) এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা, আরো ঈমান আনা ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি। [মুসলিম শরীফ]

শেষ দিবসের পূর্বে কিয়ামতের যে সকল আলামত সংঘঠিত হবে তার প্রতি ঈমান আনা, যে গুলি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন।

আলেমগণ এ আলামতকে দু'ভাগে বিভক্ত করেছেন-

(ক) ছোট আলামতঃ যা কিয়ামত নিকটে হওয়া বুঝায়, ইহা অনেক রয়েছে। অধিকাংশ সংঘঠিত না হলেও অনেক সংঘঠিত হয়ে গেছে। যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) প্রেরণ। আমানতের খিয়ানত করা। মসজিদ অধিক মাত্রায় সাজ সজ্জা ও তা নিয়ে গর্ভ করা। বড় বড় অট্রালিকা নিয়ে রাখালদের গর্ভ করা। ইয়াহুদীদের সাথে যুদ্ধ ও তাদের নিহত হওয়া। সময় নিকটবর্তী হওয়া, আমল কমে যাওয়া, ফিৎনা-ফাসাদ প্রকাশ পাওয়া, অধিক হত্যা হওয়া, ব্যভিচার ও অন্যায় কাজ অধিক মাত্রায় হওয়া।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانشَقَّ الْقَمَرُ

[سورة القمر، الآية:1]

অর্থঃ ((কিয়ামত আসন্ন ও চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে।)) [সূরা আল-ক্বামার-আয়াত-১]

(খ) বড় আলামতঃ যা কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে সংঘঠিত হবে এবং কিয়ামত শুরু হওয়ার সতর্ক করবে। এমন বড় আলামত দশটি। একটিও প্রকাশিত হয়নি।

বড় আলামত সমূহ যেমনঃ ইমাম মাহ্দীর আগমণ, দাজ্জালের আগমণ, ঈসা (আলাইহিস্ সালাম) এর আকাশ হতে ন্যায় বিচারক হিসাবে অবতরণ, তিনি খৃষ্টানদের ক্রুসেড ভেঙ্গে দিবেন, দাজ্জাল ও শুকুরকে হত্যা করবেন। করের আইন রহিত করবেন। ইসলামী শরীয়াত অনুপাতে বিচার পরিচালনা করবেন। ইয়াজুজ, মা'জুজ বের হবে। তাদের ধ্বংসের দোআ করবেন, অতঃপর তারা মারা যাবে। তিনটি বড় ভূমি কম্প হবে। পূর্বে একটি, পশ্চিমে একটি, জাজিরাতুল আরবে একটি। ধোঁয়া বের হবে, তা হল আকাশ হতে প্রচন্ড ধোঁয়া নেমে এসে সকল মানুষকে ঢেকে নিবে। কুরআন জমিন হতে আকাশে তুলে নেওয়া হবে। পশ্চিম আকাশে সূর্য উদিত হবে। এক (অদ্ভুত) চতুস্পদ জন্তু বের হবে। ইয়ামানের আদন (জায়গার নাম) হতে ভয়ানক আগুন বের হয়ে মানুষদের শামের দিকে নিয়ে আসবে। এটাই সর্বশেষ বড় আলামত।

হুযাইফা বিন উসাঈদ আল-গিফারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে, ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন। তিনি (হুযাইফা) বলেনঃ

عن حذيفة بن أسيد الغفاري رضي الله عنه قال: اطلع النبي صلى الله عليه وسلم ونحن نتذاكر فقال: ((ما تذكرون؟ قالوا: تذكر الساعة. قال: إنها لن تقوم حتى تروا قبلها عشر آيات.فذكر: الدخان، والدجال، والدابة، وطلوع الشمس من مغربها ،ونزول عيسى بن مريم، ويأجوج، وثلاثة خسوف: خسف بالمشرق، وخسف بالمغرب، وخسف بجزيرة العرب، وآخرذلك نار تخرج من اليمن تطرد الناس إلى محشرهم

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমণ করলেন, এমতাবস্থায় আমরা এক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ছিলাম। তিনি বল্লেন তোমরা কি বিষয় আলোচনা করতেছ? তাঁরা বল্লেন আমরা কিয়ামতের ব্যাপারে আলোচনা করতেছি। তিনি বললেনঃ কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষন না তোমরা তার পূর্বে দশটি আলামত সংঘঠিত হতে দেখবে। অতঃপর আলামত সমূহ উল্লেখ করলেনঃ ধোঁয়া, দাজ্জাল, চতুস্পদ জন্তু পশ্চিম দিক হতে সূর্য উঠা, ঈসা বিন মারিইয়াম এর আগমণ, ইয়াজুজ-মা'জুজ আগমণ, তিনটি ভূমি কম্প- একটি পূর্বে আর একটি পশ্চিমে, আর একটি জাজিরাতুল আরবে, শেষ আলামত হল ইয়ামান হতে আগুন বের হয়ে মানুষদেরকে হাশরের মাঠের দিকে নিয়ে যাবে।)) [মুসলিম শরীফ]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ

يخرج في آخر أمتي المهدي يسقيه الله الغيث، وتخرج الأرض نباتها، ويعطي المال صحاحاً،وتكثر الماشية،وتعظم الأمة، يعيش سبعاً،أوثمانياً، يعني حججاً

[رواه الحاكم في المستدرك]

অর্থঃ ((আমার উম্মাতের শেষ ভাগে ইমাম মাহ্দী বের হবেন, তার উপর আল্লাহ্ বৃষ্টি বর্ষন করবেন। জমিন উদ্ভিত জন্ম দিবে। সুস্থ্য ও সচ্ছল লোকদের মাল প্রদাণ করা হবে। চতুস্পদ জানুয়ারের সংখ্যা বেড়ে যাবে। উম্মাতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তিনি সাত অথবা আট বছর বসবাস করবেন।)) (হাকেম)

বর্ণিত আছে যে ঐ নিদর্শন গুলো পর্যায় ক্রমে সংগঠিত হবে, যেমন পুথির মালায় পুথি পর্যায়ক্রমে সাজানো থাকে। এগুলোর একটি সংঘঠিত হওয়ার পর পরই অপরটি সংঘঠিত হবে। এ দশটি নিদর্শন সংঘঠিত হওয়ার পর পরই আল্লাহর আদেশে কিয়ামত সংঘঠিত হবে।

কিয়ামত দ্বারা কি বুঝায়ঃ কিয়ামত দ্বারা উদ্দেশ্য হল ঐ দিন, যে দিন মানুষ আল্লাহর আদেশে তাদের কবর হতে বের হবে, হিসাব নিকাশের জন্য, অতঃপর সৎকর্মশীল সুফল ও শান্তি এবং অসৎ কর্মশীল শাস্তি প্রাপ্ত হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعاً كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ

[سورة المعارج، الآية:43]

অর্থঃ ((সে দিন তারা কবর থেকে দ্রত বেগে বের হবে-যেন তারা কোন এক লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।)) [সূরা আল-মাআরিজ,আয়াত-৪৩ ]

এ দিনের একাধিক নাম কুরআন কারীমে উল্লেখ্য হয়েছে। যেমন-

(يوم القيامة) ইয়াওমুল কি্বয়ামাহ, (القارعة) আল-ক্বারিয়াহ, (يوم الحساب) ইয়াওমুল হিসাব, ) (يوم الدين ইয়াওমুদ্দিন, (الطامة) আত্ত্বামাহ, (الواقعة) আল-ওয়াকি্বয়াহ, (الحاقة) আল-হাক্কাহ, (الصاخة) আস্সাখ্খাহ, (الغاشية) আল-গাশিয়াহ, ইত্যাদি।

يوم القيامة - ইয়াওমুল কি্বয়ামাহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ

[سورة القيامة، الآية:1]

অর্থঃ ((কিয়ামাত দিবসের শপথ।)) [সূরা আল-কি্বয়ামাহ, আয়াত-১]

القارعة - আল-ক্বারিয়াহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

الْقَارِعَةُ - مَا الْقَارِعَةُ

[سورة القارعة، الآيتان:1-2]

অর্থঃ ((করাঘাতকারী (আল ক্বারিয়াহ্), করাঘাতকারী কি?)) [সূরা আল-ক্বারিয়াহ, আয়াত ১-২]

يوم الحساب - ইয়াওমুল হিসাবঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ

[سورة ص، الآية:26]

অর্থঃ ((নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচু্যত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কোঠর শাস্তি, এ কারণে যে, তারা হিসাব দিবসকে ভূলে যায়।)) [সূরা ছোয়াদ, আয়াত-২৬]

يوم الدين - ইয়াওমুদ্ দ্বীনঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَإِنَّ الْفُجَّارَ لَفِي جَحِيمٍ - يَصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ

[سورة الانفطار، الآيتان:14-15]

অর্থঃ ((এবং পাপিষ্টরা থাকবে জাহান্নামে, তারা বিচার দিবসে তথায় প্রবেশ করবে।)) [সূরা আল- ইনফিতার, আয়াত ১৪-১৫]

الطّامة - আত্ত্বামাহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

فَإِذَا جَاءتِ الطَّامَّةُ الْكُبْرَى

[سورة النازعات، الآية:34]

অর্থঃ ((অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।)) [সূরা আন্ নাযিআত, আয়াত-৩৪]

الواقعة - আল-ওয়াকি্বয়াহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ

[سورة الواقعة، الآية:1]

অর্থঃ ((যখন কিয়ামতের ঘটনা ঘটবে।)) [সূরা আল-ওয়াকিয়াহ্, আয়াত-১]

الحاقة - আল-হাক্কাহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

الْحَاقَّةُ - مَا الْحَاقَّةُ

[سورة الحاقة، الآيتان:1-2]

অর্থঃ ((সু-নিশ্চিত বিষয়, সু নিশ্চিত বিষয় কি?)) [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত-১-২]

الصّاخة - আসসাখখাহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

فَإِذَا جَاءتِ الصَّاخَّةُ

[سورة عبس، الآية:33]

অর্থঃ ((অতঃপর যে দিন কর্ণ বিদারক আওয়াজ আসবে।)) [সূরা আবাসা, আয়াত-৩৩]

الغاشية - আল-গাশিয়াহঃ

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

هَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ الْغَاشِيَةِ

[سورة الغاشية، الآية:1]

অর্থঃ ((আপনার কাছে আচ্ছন্নকারী কিয়ামতের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি?)) [সূরা আল-গাশিয়াহ,আয়াত-১]

(২) শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনার নিয়মঃ শেষ দিবসের প্রতি সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত ভাবে ঈমান আনা।

শেষ দিবসের প্রতি সংক্ষিপ্ত ঈমান আনা হলঃ এ বিশ্বাস পোষণ করা যে, এমন একটি দিন রয়েছে,যে দিন আল্লাহ তা'আলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে একত্রিত করবেন। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব কর্মের প্রতিদান প্রদান করবেন। একদল জান্নাতী হবে,অপর দল জাহান্নামী হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ - لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ

[سورة الواقعة، الآيتان:49-50]

অর্থঃ ((বলুনঃ নিশ্চয় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলেই একটি নির্ধারিত দিনে একত্রিত হবে।)) [সূরা আল-ওয়াকিয়াহ্, আয়াত ৪৯-৫০]

শেষ দিবসের প্রতি বিস্তারিত ঈমান হলঃ মৃতু্যর পর যা কিছু সংঘঠিত হবে তার প্রতি বিস্তারিত ঈমান আনা। আর ইহা নিম্নে বর্ণিত বিষয় গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে-

প্রথমতঃ ফিৎনাতুল কবর বা কবরের পরিক্ষা।

আর তা হলো- মৃতু্য ব্যক্তিকে দাফনের পর তাকে তার প্রভু দ্বীন ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা বা প্রশ্ন করা হবে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আল্লাহ সত্যের উপর অটল রাখবেন।

যেমন হাদীসে এসেছেঃ

ربي الله، وديني الإسلام ونبي محمد صلى الله عليه وسلم

[متفق عليه]

অর্থঃ ((যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হবে, সে বলবেঃ আমার প্রভু আল্লাহ আমার দ্বীন আল-ইসলাম, আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম।)) [বুখারী ও মুসলিম]

ফিরিশ্তাদ্বয়ের প্রশ্ন করা ও তাঁর পদ্ধতি, মু'মিনরা ও মুনাফিকরা কি উত্তর দিবেন এ সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদীসের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব।

দ্বিতীয়তঃ কবরের শাস্তি ও শান্তি।

কবরের শাস্তি ও শান্তির প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। নিশ্চয় ইহা (কবর) জাহান্নামের গর্তের একটি গভীর গর্ত, অথবা জান্নাতের বাগানের একটি বাগান। আর কবর আখিরাতের প্রথম ধাপ বা স্টেশন। যে ব্যক্তি কবর হতে মুক্তি পাবে (তার জন্য) কবরের পরে ধাপ গুলো হতে মুক্তি পাওয়া সহজ হবে। আর যে ব্যক্তি, কবর হতে মুক্তি পাবেনা তার জন্য এর পরের ধাপ গুলো মুক্তি পাওয়া আরো কঠিন হবে। যার মৃতু্য হল তখন হতে তার কিয়ামত শুরু হয়ে গেল।

অতঃপর আত্মা ও শরীর, উভয়ে কবরে শাস্তি বা শান্তি ভোগ করবে। আর কখনো কখনো শুধু আত্মা ভোগ করবে। আর কবরের আযাব বা শাস্তি শুধু মাত্র যালেমদের জন্য, আর শান্তি শুধু মাত্র সত্যবাদী মু'মিনদের জন্য। আর মৃতু্য ব্যক্তি কবর জীবনের শাস্তি অথবা শান্তি প্রাপ্ত হবে, চাই ভূ-গর্ভস্ত করা হোক বা নাই হোক। যদি ও মৃতু্য ব্যক্তিকে আগুনে জালিয়ে দেওয়া হয়, অথবা পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়, অথবা হিংস্র পশু পাখি খেয়ে ফেলে তার পরও সে এ শাস্তি অথবা শান্তি ভোগ করবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوّاً وَعَشِيّاً وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ

[سورة غافر، الآية:46]

অর্থঃ ((সকালে ও সন্ধায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।)) [সূরা গাফির, আয়াত-৪৬]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

فلو لا أن لا تدافنوا لدعوت الله أن يسمعكم من عذاب القبر

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((হায় !! যদি তোমরা (তাদেরকে) দাফন না করতে তা হলে আমি আল্লাহর কাছে দোআ করতাম তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনানোর জন্য। [মুসলিম]

তৃতীয়তঃ শিঙ্গায় ফুৎকার।

শিঙ্গা হল বাঁশী স্বরূপ, যাতে ইস্রাফীল (আলাইহিস্ সালাম) ফুৎকার দিবেন। প্রথম ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ যা জীবিত রাখবেন তা ছাড়া সকল সৃষ্টজীব মৃতু্যবরণ করবে। দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই পৃথিবী সৃষ্টি হতে কিয়ামত পর্যন্ত যত সৃষ্টিজীবের আর্বিভাব হয়েছিল, তারা সকলেই উঠে যাবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَن فِي السَّمَاوَاتِ وَمَن فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَن شَاء اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُم قِيَامٌ يَنظُرُونَ

[سورة الزمر، الآية:68]

অর্থঃ ((শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও যমিনে যারা আছে সকলে বেহুঁশ হয়ে যাবে, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন সে ব্যতীত। অতঃপর আবার ফুৎকার দেওয়া হবে, তৎক্ষনাৎ তারা দন্ডায়মান হয়ে দেখতে থাকবে।)) [সূরা আয্-যুমার, আয়াত-৬৮]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه أحد إلا أصغى ليتا ورفع ليتاً ثم لا يبقى أحد إلا صعق ،ثم ينزل الله مطرا كأنه الطل, فتنبت منه أجساد الناس, ثم ينفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((অতঃপর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথে সকলেই স্কান্ধ উচু করবে। অতঃপর সকলেই জ্ঞানহারা হয়ে পড়ে যাবে। তার পর আল্লাহ হালকা বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। বৃষ্টি হতে মানুষের দেহ তৈরী হবে। তার পর সিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুৎকার দেওয়ার সাথে সাথেই সকলে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।)) [মুসলিম]

চতুর্থতঃ পুনরুত্থান। তা হলো শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুঁক দেওয়ার সময় আল্লাহ সকল মৃতদের জীবিত করবেন। তারা সকলে সমগ্র বিশ্বের প্রতি পালকের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা শিঙ্গায় ফোঁকা ও প্রত্যেক আত্মাকে স্ব-শরীরে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিলে সকল মানুষ তাদের কবর হতে দাঁড়িয়ে জুতা বিহীন নাঙ্গাপা, বস্ত্র-বিহীন-উলঙ্গ শরীর, খাৎনা বিহীন ও দাঁড়ি-গোঁফ বিহীন অবস্থায় দ্রুত ময়দানের দিকে ছুটে যাবে।

ময়দানের অবস্থান দীর্ঘ হবে, সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে, সূর্যের উত্তাপ বেড়ে যাবে। এ উত্তপ্ত ও কঠিন অবস্থান দীর্ঘ হওয়ায় শরীর হতে নির্গত ঘামে হাবু-ডুবু খাবে, কারো ঘাম পায়ের দু'গিঁঠা পর্যন্ত, কারো দু'হাটু পর্যন্ত, কারো মাজা পর্যন্ত, কারো বক্ষ পর্যন্ত, কারো দু'কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছবে। আর কেউ-সম্পূর্ণ ভাবে হাবুডুবু খাবে, এ সব হলো তাদের (ভাল-মন্দ) কর্ম অনুপাতে। পুনরুত্থান সত্য ও নিশ্চিত, যা ইসলামী শরীয়া (কুরআন ও হাদীস) অনুভূতি শক্তি ও বুদ্ধি-বিবেক দ্বারা প্রমাণিত।

ইসলামী শরীয়াঃ এর স্বপক্ষে প্রমাণ কুরআনে অনেক আয়াত ও নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনেক বিশুদ্ধ হাদীস রয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ

[سورة التغابن، الآية:7]

অর্থঃ ((বলুন, অবশ্যই হবে, আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে।)) [সূরা আত্-তাগাবুন, আয়াত-৭]

তিনি আরো বলেনঃ

كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُّعِيدُهُ

[سورة الأنبياء، الآية:104]

অর্থঃ ((যেভাবে আমি প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব।)) [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-১০৪]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

ثم ينفخ في الصور فلا يسمعه أحد إلا أصغى ليتاً ورفع ليتاُ، ثم لا يبقى أحد إلا صقع، ثم ينزل الله مطراً كأنه الطل أو الظل- شك الراوي-0 فتنبت أجساد الناسن ثم ينفخ فيه أخرى فإذا هم قيام ينظرون

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((অতঃপর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথে সকলেই স্কান্ধ উচু করবে অতঃপর সকলেই জ্ঞান হারা হয়ে পড়ে যাবে। তার পর আল্লাহ হালকা বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। বৃষ্টি হতে মানুষের দেহ তৈরী হবে। তার পর শিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুঁক দেওয়ার সাথে সাথেই সকলে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।)) [মুসলিম]

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ - قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ

[سورة يس، الآيتان:78-79]

অর্থঃ ((বলে, কে জীবিত করবে অস্থি সমূহকে যখন সে গুলো গলে পচে যাবে? বলুন, যিনি প্রথমবার সে গুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্ব প্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে অবগত।)) [সূরা ইয়াসীন, আয়াত ৭৮-৭৯]

الحس - (আল-হিস্স) বা অনুভূতি হতে দলীল হলঃ

আল্লাহ এই পৃথিবীতে অনেক মৃতু্যকে জীবিত করে তাঁর বান্দাদেরকে দেখিয়েছেন। আর এ বিষয়ে সূরা বাক্বারায় পাঁচটি উপমা রয়েছে, মূসা (আলাইহিস্ সালাম) এর সমপ্রদায় যাদেরকে আল্লাহ তাদের মৃতু্যর পর জীবিত করেছিলেন।

বানী ইস্রাঈলের এক নিহিত ব্যক্তিকে জীবিত করেছিলেন। ঐ সমপ্রদায়কে জীবিত করেছিলেন-যারা মৃতু্যর ভয়ে, নিজেদের গ্রাম ত্যাগ করেছিল। ঐ ব্যক্তিকে যে, জনপদ দিয়ে অতিক্রম করেছিল, ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) এর পাখি সমূহকে।

العقل - (আল-আক্বল) বা বিবেক হতে দলীল হলঃ

ইহা দু'ভাবে হতে পারেঃ

(ক) আল্লাহ আসমান ও যমিন এবং এতদ্বয়ের মধ্যে যা রয়েছে সকলকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ আসমান যমিন প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। যিনি প্রথম সৃষ্টির উপর ক্ষমতাবান তিনি (তাকে) পূনরায় সৃষ্টি করার ব্যাপারে অপারগ নন।

(খ) যমিন শুষ্ক ও নিজীর্ব হয়ে যায়, অতঃপর বৃষ্টি অবতীর্ণ করে যমিনকে সতেজ ও সজীব করে তুলেন, সর্ব প্রকার সবুজ-শ্যামল গাছ পালা উৎপন্ন হয়, সুতরাং যিনি এ মৃত যমিনকে জীবিত করতে সক্ষম তিনিই মৃতদের পূনরায় জীবিত করাতেও সক্ষম।

পঞ্চমতঃ হাশর, হিসাব-নিকাশ এবং প্রতিদান ও প্রতিফল। আমরা ঈমান আনবো যে, সকল দেহের হাশর নাশর হবে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তাদের মাঝে বিচারে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং সকল সৃষ্টিজীবকে স্বীয় কৃত কর্মের প্রতিদান ও প্রতিফল প্রদান করা হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

َحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَداً

[سورة الكهف، الآية:47]

অর্থঃ ((এবং আমি তাদেরকে একত্রিত করব, অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়বনা।)) [সূরা আল-ক্বাহাফ, আয়াত-৭৪]

তিনি আরো বলেনঃ

فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَّاضِيَةٍ - إِنِّي ظَنَنتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيهْ - فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَؤُوا كِتَابِيهْ

[سورة الحاقة، الآيات:19-21]

অর্থঃ ((অতঃপর যার আমল নামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরা ও আমলনামা পড়ে দেখ। আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে।)) [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ১৯-২১]

তিনি আরো বলেনঃ

وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيهْ - وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيهْ

[سورة الحاقة، الآيتان:25-26]

অর্থঃ ((অতঃপর যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ হায় আমায় যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব।)) [সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত ২৫-২৬]

অতঃপর হাশর হলঃ মানুষদেরকে তাদের হিসাব-নিকাশের জন্য ময়দানে একত্রিত করা।

হাশর ও পুনরুত্থানের মধ্যে পার্থক্য-

পুনরুত্থান হলঃ দেহ সমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা।

হাশর হলঃ পুনরুত্থিত ব্যক্তিদেরকে অবস্থান ময়দানে একত্রিত করা।

হিসাব, নিকাশ ও প্রতিফলঃ আল্লাহু তা'বারাকা ও তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর সামনে দাঁড় করাবেন, ও তাদেরকে তাদের সম্পাদিত কর্ম সম্পর্কে অবগত করবেন।

অতঃপর মু'মিন মুত্তাকীনদের হিসাব নিকাশ হল, শুধু মাত্র তাদের নিকট তাদের কর্ম পেশ করা হবে। যাতে তারা তাদের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ বুঝতে পারে, যা (অনুগ্রহ) আল্লাহ তাদের নিকট হতে দুনিয়াতে গোপন রেখেছিলেন। আর আল্লাহ আখিরাতে তাদেরকে মাফ করে দিয়েছেন। আর তাদের হাশর হবে তাদের ঈমান অনুপাতে। ফিরিশ্তারা তাদেরকে স্বাগত জানাবে ও জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ প্রদান করবে, আর তাদেরকে অস্থিরতা ও সকল প্রকার ভয়-ভীতি এবং এ কঠিন দিনের ভয়াবহতা হতে নিরাপত্তা দিবে,অতঃপর তাদের মূখমন্ডল উজ্জল হবে। আর মুখমন্ডল সে দিন হাসি-খুশী, আনন্দ-উৎফুল্ল সুসংবাদ প্রাপ্ত হবে। অতঃপর বিমুখ মিথ্যাবাদীদের (কাফেরদের) হিসাব নিকাশ অত্যান্ত কঠিনভাবে হবে। শুক্ষ্ন প্রত্যেকটি ছোট বড় কর্মের। কিয়ামত দিবসে তাদেরকে তাদের মুখের উপর টেনে হেঁচড়ে জাহান্নামে ফেলা হবে, তাদেরকে লাঞ্চিত করার জন্য ও তাদের কৃত কর্মের ফল হিসাবে এবং তাদের মিথ্যা বলার কারণে।

কিয়ামত দিবসে সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মাতের, তাদের সাথে সত্তর হাজার লোক তাদের পূর্ণ তাওহীদের বদৌলাতে বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ঐ সকল লোক নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ভাষায় যাদের গুণ বর্ণনা করেছেন, তারা কারো নিকট ঝাড় ফুঁক অনুসন্ধান করেননি লৌহ্ জাতীয় কোন কিছুর ছেঁক দিয়ে চিকিৎসা নেননি। কোন দিন বদ ও নেক ফল গ্রহণ করেননি। আর তারা তাদের প্রভুর উপরেই ভরসা করতেন। আর তাঁদের মধ্যে হলেন প্রসিদ্ধ সাহাবী উক্কাশা বিন মিহসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আর বান্দার সর্ব প্রথম হিসাব নেওয়া হবে আল্লাহর হক্ব-সালাতের (নামাযের)। এবং মানুষের মাঝে সর্ব প্রথম ফায়সালা করা হবে রক্তপাতের।

ষষ্ঠতঃ হাউজ।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাউজের প্রতি ঈমান আনবো। আর ইহা বিশাল হাউজ ও সম্মানিত অবতরণ স্থান। কিয়ামতের মাঠে জান্নাতের আল-কাউসার নামক নদী হতে শরাব প্রবাহিত হবে। এতে অবতরণ করবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মু'মিন উম্মাতেরা।

হাউজের কিছু বৈশিষ্ট্যঃ ইহার শারাব দুধের চাইতে সাদা, বরফের চাইতে ঠান্ডা, মধুর চাইতে অধিক মিষ্টি। মিশকের চাইতে সুগন্ধি, ইহা সুপ্রসস্ত যার দৈর্ঘ ও প্রস্থ সমান, এর প্রতিটি প্রান্তের আয়তন এক মাসের পথের সমান। এতে জান্নাত হতে প্রবাহিত দু'টি নালা রয়েছে। আর এর পানি পাত্র আকাশের তারকা রাজির চাইতে অধিক । যে ব্যক্তি ইহা হতে একবার পানি পান করবে, সে আর কখনও পিপাসিত হবে না।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

حوضي مسيرة شهر، ماؤه أبيض من اللبن وريحه أطيب من المسك، وكيزانه كنجوم السماء، من شرب منه فلا يظمأ أبداً

[رواه البخاري]

অর্থঃ ((আমার হাউজের আয়তন এক মাসের পথ সমতুল্য, তার পানি দুধের চাইতে সাদা ও তার ঘ্রাণ মিশকের চাইতে সুগন্ধি, তার পানি পাত্র আকাশের তারকা রাজির সংখ্যার ন্যায়। যে ব্যক্তি ইহা হতে একবার পানি পান করবে সে আর কখনও পিপাসিত হবেনা।)) [বুখারী]

সপ্তমতঃ শাফায়াহ্।

যখন সেই মহান প্রান্তরে মানুষের বিপদ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে এবং সেথায় তাদের অবস্থান দীর্ঘ হবে। তখন তারা এ প্রান্তরের ভয়াবহ বিপদ হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যে তাদের প্রভুর নিকট সুপারিশ করা হোক এর প্রচেষ্টা করবে। রাসূলদের মধ্য হতে যারা উলুল আজম (নূহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা) (আলাইহিমুস সালাম) তাঁরা অপারগতা স্বীকার করবেন। পরে ইহা সর্ব শেষ রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকটে পৌঁছাবে যার আগের ও পরের গুনাহ্ আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন স্থানে দাঁড়াবেন যে স্থানে আগের ও পরের সকলেই তাঁর প্রশংসা করবে। এবং এর দ্বারা তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহা সম্মান ও উঁচু মর্যাদা প্রকাশিত হবে। তার পর আরশের নিচে সিজ্দা করবেন, আল্লাহ তাঁর নিকট অনেক প্রশংসা, উপযুক্ত আদেশ ইলহাম করবেন। তিনি সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দ্বারা তাঁর (আল্লাহর) প্রশংসা করবেন ও তাঁর মর্যাদা বর্ণনা করবেন। তার পর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রভুর নিকট (তাদের জন্য) সুপারিশ করার অনুমতি চাইবেন। আল্লাহ তা'আলা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সৃষ্টিজীবের সুপারিশ করার জন্য ঐ অনুমতি দিবেন। যাতে বান্দাদের মাঝে অসহনীয় দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা ভোগের পর সুষ্ট ফায়সালা করা হয়।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

إن الشمس تدنو يوم القيامة حتى يبلغ العرق نصف الأذن فبينما هم كذلك، استغاثوا بآدم، ثم بإبراهيم، ثم بموسى، ثم بعسيى، ثم بمحمد صلى الله عليه وسلم. فيشفع ليقضي بين الخلق، فيمشى حتى يأخذ بحلقة الباب، فيؤمئذ يبعثه الله مقاماً محموداً يحمده أهل الجمع كلهم

[رواه البخاري]

অর্থঃ ((কিয়ামত দিবসে সূর্য নিকটে হবে। এমনকি ঘাম অর্ধ কান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। তারা এই অবস্থাতেই থাকবে। ফলে তারা আদম (আলাইহিস্ সালাম) অতঃপর ইব্রাহীম (আলাইহিস্ সালাম) অতঃপর মূসা (আলাইহিস্ সালাম) অতঃপর ঈসা (আলাইহিস্ সালাম) অতঃপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে প্রার্থনা করবে। অতঃপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুপারিশ করবেন। যাতে সৃষ্টিজীবের মাঝে ফায়সালা সুসম্পূর্ণ করা হয়। অতঃপর তিনি জান্নাতের দিকে অগ্রসর হবেন, ও জান্নাতের দরজার কড়া (খোলার জন্য) ধরবেন। আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশংসিত স্থানে অবতরণ করাবেন। সে স্থানের সকলে প্রশংসা করবে। [বুখারী]

এ মহান শাফায়াত আল্লাহ একমাত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এ ছাড়া তিনি আরো অনেক শাফায়াতের অধিকারী হবেন।

(১) জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের অনুমুতির জন্যে তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফায়াত। তার প্রমা-

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

آتي باب الجنة يوم القيامة فاستفتح،فيقول الخازن من أنت؟ قال فأقول محمد فيقول بك أمرت لا أفتح لأحد قبلك

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((আমি কিয়ামত দিবসে জান্নাতের দরজার নিকটে আসবো, দরজা খোলার অনুমতি চাবো। অতঃপর জান্নাতের প্রহরী বলবেন, আপনি কে? আমি উত্তরে বলবঃ আমি মুহাম্মাদ, অতঃপর প্রহরী বলবেঃ আপনার জন্যই শুধু দরজা খোলার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি, আপনার পূর্বে কারো জন্য (দরজা) খুলিনি।)) [মুসলিম]

(২) তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফায়াত ঐ সকল ব্যক্তির জন্য যাদের নেকী ও বদী বা সৎ কাজ ও অসৎ কাজ সমান হয়েগেছে। তাদের জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে শাফায়াত করবেন। ইহা কিছু বিদ্যানদের অভিমত। কিন্তু এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম হতে কোন সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়নি।

(৩) তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াত, ঐ সমপ্রদায়ের জন্যে যারা জাহান্নামের অধিকারী হয়ে গেছে, তাদেরকে জাহান্নামে না দেওয়ার ব্যাপারে। এর প্রমাণ হলো-

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসঃ

شفا عتي لأهل الكبائر من أمتي

[أبوا داود]

অর্থঃ ((আমার উম্মাতের মধ্যে যারা কাবীরাহ্ গোনাহ্ করেছে তাদের জন্য আমার শাফায়াত। [আবু দাউদ]

(৪) তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াত, জান্নাতে জান্নাতীদের মর্যাদা বৃদ্ধির ব্যাপারে। তার প্রমাণ-

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসঃ

اللهم اغفر لأبي سلمة وأرفع درجته في المهديين

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((হে আল্লাহ আবূ সালমাকে মাফ কর এবং সঠিক পথ প্রাপ্তদের সাথে তাঁর মর্যাদা বাড়িয়ে দাও।)) [মুসলিম]

(৫) তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াত, ঐ সকল সমপ্রদায়ের জন্য যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে। এর প্রমাণ-

উক্কাশাহ্ বিন মিহ্সান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীসঃ

সত্তর হাজার লোকের ব্যাপারে, যারা বিনা হিসাবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার (উক্কাশাহ্) জন্য দোআ করলেনঃ

اللهم اجعله منهم

[متفق عليه]

অর্থঃ ((হে আল্লাহ্ তাকে (উক্কাশাকে) তাদের অন্তর্ভুক্ত করে দাও।)) [বুখারী ও মুসলিম]

(৬) নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামএর উম্মাতের মধ্যে হতে যারা কাবীরাহ্ গোনাহ করায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তাদেরকে জাহান্নাম হতে বের করার ব্যাপারে তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাফায়াত। এর প্রমাণ হলো-

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসঃ

شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي

[رواه أبو دواد]

অর্থঃ ((আমার উম্মাতের কাবীরাহ্ গোনাহ্ কারীদের জন্য আমার শাফায়াত।)) [আবু দাউদ]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আরো একটি হাদীস হলোঃ

يخرج قوم من النار بشفاعة محمد صلى الله عليه وسلم فيدخلون الجنة يسمون الجهنميين

[رواه البخاري]

অর্থঃ ((এক দল লোক নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফায়াতে জাহান্নাম হতে বের করা হবে, অতঃপর তারা জান্নাতে যাবে। তাদেরকে জাহান্নামী বলে নাম করণ করা হবে।)) [বুখারী]

(৭) যারা শাস্তির হক্বদার হবে তাদের শাস্তি হালকা করার ব্যাপারে তাঁর শাফায়াত, যেমন-তাঁর সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাচা আবু তালেবের জন্য শাফায়াত। এর প্রমাণ-

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস হলোঃ

لعله تنفعه شفاعتي يوم القيامة فيجعل في ضحضاح من النار يبلغ كعبيه يغلي منه دماغه

[متفق عليه]

অর্থঃ ((সম্ভবত কিয়ামতের দিবসে আমার শাফায়াত তার শাস্তি লাঘবে উপকারে আসবে, তাই শাস্তি হিসাবে শুধু পায়ের গিঠা পর্যন্ত দু'টি জুতা পরিয়ে দেয়া হবে,ফলে মাথার মগজ ফুটতে থাকবে।)) [বুখারী ও মুসলিম]

আল্লাহর নিকট শাফায়াত গ্রহণ হওয়ার জন্য দু'টি শর্ত রয়েছে-

(ক) শাফায়াত কারীর ও শাফায়াত কৃত ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর সনু্তষ্টি থাকতে হবে।

(খ) শাফায়াত কারীর শাফায়াত করার ব্যাপারে আল্লাহর অনুমতি থাকতে হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى

[سورة الأنبياء، الآية:28]

অর্থঃ ((তারা শুধু তাদের জন্যে সুপারিশ করে, যাদের প্রতি, আল্লাহ সন্তুষ্ট।)) [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-২৮]

তিনি আরো বলেনঃ

مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ

[سورة البقرة، الآية:255]

অর্থঃ ((তাঁর (আল্লাহর) অনুমতি ব্যতীত সুপারিশ করার কে অধিকার রাখে?)) [সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত-২৫৫]

অষ্টমতঃ মিযান বা মানদন্ড। মীযান বা মানদন্ড সত্য এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। আর ইহা (মীযান বা মানদন্ড) আল্লাহ্ কিয়ামত দিবসে স্থাপন করবেন, বান্দাদের আমল মাপার ও তাদের কর্মের প্রতিদান প্রদানের জন্য। ইহা বাস্তব মিযান বা মানদন্ড কাল্পনিক নয়, এর দু'টি পাল্লা ও রশি রয়েছে, এর দ্বারা কর্ম অথবা আমলনামা অথবা স্বয়ং কর্ম সম্পাদন কারীকে মাপা হবে। সবই মাপা হবে, তবে ওজন ভারি-হালকার বিষয়বসু্ত হবে শুধু কর্ম। কর্ম সম্পাদনকারী ও আমল নামা নয়।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئاً وَإِن كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ

[سورة الأنبياء، الآية:47]

অর্থঃ ((আমি কিয়ামত দিবসে ন্যায় বিচারের মিযান বা মানদন্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমানও হয় আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহনের জন্য আমিই যথেষ্ট।)) [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত-৪৮]

তিনি আরো বলেনঃ

وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَـئِكَ الَّذِينَ خَسِرُواْ أَنفُسَهُم بِمَا كَانُواْ بِآيَاتِنَا يِظْلِمُونَ - وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

[سورة الأعراف، الآيتان:8-9]

অর্থঃ ((আর সে দিন যথার্থই ওজন হবে। অতঃপর যাদের পাল্লা ভারি হবে, তারাই সফলকাম হবে। এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা,তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।)) [সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত ৮-৯]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

الطهور شطر الإيمان، والحمد لله تملأ الميزان

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((পবিত্রতা অর্জন করা ঈমানের অর্ধেক। আল-হামদুলিল্লাহ্ (সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য) বাক্যটি ওজনের পাল্লাকে পরিপূর্ণ করে দেয়।)) [মুসলিম]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ

يوضع الميزان يوم القيامة فلو وزن فيه السماوات والأرض لوسعت

[رواه الحاكم]

অর্থঃ ((কিয়ামত দিবসে এমন মিযান বা মানদন্ড স্থাপন করা হবে, তাতে যদি সাত আসমান ও সাত জমিনও মাপা হয় সম্ভব হবে।))

নবমতঃ আস্ সিরাত বা পুল সিরাত।

আর আমরা পুল সিরাতের প্রতি ঈমান আনবো। আর তা হলো জাহান্নামের পিঠের উপর স্থাপিত পুল, যা ভয়-ভীতি সন্ত্রস্ত অতিক্রম স্থল বা পথ। এর উপর দিয়ে মানুষ জান্নাতের দিকে অতিক্রম করবে। কেউ অতিক্রম করবে চক্ষের পলকের ন্যায়। কেউ অতিক্রম করবে বিজলীর ন্যায়। কেউ বাতাসের ন্যায়। কেউ পাখির ন্যায়। কেউ ঘোড়ার ন্যায় চলবে। কেউ মুসাফিরের ন্যায় চলবে। কেউ ঘন ঘন পা রেখে চলবে। সর্ব শেষ যারা অতিক্রম করবে তাদেরকে টেনে ফেলা হবে। সকলেই অতিক্রম করবে তাদের কর্মের ফলাফল অনুপাতে। এমন কি যার আলো তার পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলের পরিমাণ হবে সেও অতিক্রম করবে। কাউকে থাবা মেরে জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি পুল সিরাত অতিক্রম করতে পারবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

সর্ব প্রথম আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতঃপর তাঁর উম্মাত পুল সিরাত পাড়ি দিবেন। আর সে দিন একমাত্র রাসূলগণ কথা বলবেন। রাসূল (আলাইহিমুস সালাম) দের কথা হবে।

اللهم سلم سلم

অর্থঃ ((হে আল্লাহ্ মুক্তি দাও, মুক্তি দাও।))

জাহান্নামে পুল সিরাতের দু'ধারে হুকের ন্যায় কন্টক থাকবে, এর সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেহ্ জানেনা। সৃষ্টি-জীব হতে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন তাকে থাবা মেরে (জাহান্নামে) ফেলে দেয়া হবে।

পুল সিরাতের কিছু বর্ণনাঃ ইহা তরবারীর চাইতে ধারালো ,আর চুলের চাইতে সূক্ষ্ন ও পিচ্ছিল জাতীয়। ইহাতে আল্লাহ্ যাদের পা স্থীর রাখবেন, শুধু মাত্র তাদেরই পা স্থীর থাকবে, আর ইহা অন্ধকারে স্থাপিত হবে। আমানত ও আত্নীয়তা বন্ধনকে পুল সিরাতের দু'পার্শে দন্ডায়মান অবস্থায় রাখা হবে, যারা ইহা সংরক্ষন করেছেন তাদের স্বপক্ষে, আর যারা সংরক্ষন করেনি তাদের বিপক্ষে সাক্ষী দেওয়ার জন্য।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيّاً - وَإِن مِّنكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْماً مَّقْضِيّا

[سورة مريم، الآيتان:71-72]

অর্থঃ ((তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তথায় (পুল সিরাতে) পৌঁছুবেনা এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা। অতঃপর আমি পরহেযগারদেরকে উদ্ধার করব এবং জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দিব।)) [সূরা মারইয়াম, আয়াত ৭১-৭২]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামবলেনঃ

ويضرب الصراط بين ظهراني جنهم فأكون أنا وأمتي أول من يجيزه

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((জাহান্নামের পিঠের উপর পুল সিরাত স্থাপন করা হবে, আর সর্ব প্রথম আমি ও আমার উম্মাত তা অতিক্রম করবো।)) [মুসলিম]

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ

ويضرب جسر جهنم..فأكون أول من يجيز ودعاء الرسل يومئذ اللهم سلم سلم

[متفق عليه]

অর্থঃ ((জাহান্নামের পুল স্থাপন করা হবে, অতঃপর আমিই সর্ব প্রথম অতিক্রম করবো। আর সে দিন রাসূলদের দোআ হবে, আল্লাহুম্মা সালি্লম, সালি্লম, (হে আল্লাহ ! মুক্তি দাও, মুক্তি দাও)।)) [বুখারী, মুসলিম]

আবু সাঈদ খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেনঃ

بلغني أن الجسر أدق من الشعر وأحد من السيف

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((আমি সংবাদ প্রাপ্ত হয়েছি যে, পুল-সিরাত চুলের চাইতে সূক্ষ্ন আর তরবারীর চাইতে ধারালো হবে।)) [মুসলিম]

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

وترسل الأمانة والرحم فتقوم على جنبي الصراط يميناً وشمالاً، فيمر أولكم كالبرق... ثم كمر الريح، ثم كمر الطير وشد الرحال، تجزي بهم أعمالهم، ونبيكم قائم على الصراط يقول: رب سلم سلم، حتى تعجز أعمال العباد ،حتى يجئ الرجل فلا يستطيع السير إلا زحفاً قال وعلى حافتي الصراط كلاليب معلقة مأمورة بأخذ من أمرت به فمخدوش ناج ومكدوس في النار

[رواه مسلم]

অর্থঃ ((আমানত ও আত্নীয়তার বন্ধনকে প্রেরণ করা হবে, অতঃপর পুল সিরাতের ডানে ও বামে দাঁড়াবে, তোমাদের মধ্যে সর্ব প্রথম যারা অতিক্রম করবে, তারা বিজলীর ন্যায় অতিক্রম করবে, তার পর যারা অতিক্রম করবে তারা বাতাসের ন্যায়। তার পর পাখির ন্যায় অতিক্রম করবে, তার পর মুসাফিরের ন্যায় অতিক্রম করবে, তাদের কর্ম তাদেরকে অতিক্রম করাবে। আর তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুল সিরাতের পার্শ্বে দন্ডায়মান থাকবেন, এবং বলবেনঃ হে প্রভু মুক্তি দাও, মুক্তি দাও। এভাবে বান্দাদের কর্ম অপারগ হয়ে যাবে, এমন কি কিছু লোক হামাগুড়ি দিয়ে অতিক্রম করবে। পুল সিরাতের দু'ধারে ঝুলন্ত হুকের ন্যায় কন্টক থাকবে, যাদেরকে গ্রেফতার করার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করবে। অতঃপর কিছু আহত হয়ে মুক্তি পাবে, আর কিছু চাপাচাপি করে জাহান্নামে পড়ে যাবে। [মুসলিম ]

দশমতঃ আল-কানত্বারাহ্।

আমরা ঈমান আনবো এ কথার প্রতি যে, মু'মিনেরা পুল সিরাত অতিক্রম করে কানতারাতে অবস্থান করবে বা দাঁড়াবে। আর ইহা (কানত্বারাহ্) হল জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থান, এখানে ঐ সকল মু'মিনদেরকে দাঁড় করানো হবে, যারা পুল সিরাত অতিক্রম করে এসেছে এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি পেয়েছে, জান্নাতে যাওয়ার পূর্বে একে অপরের কাছ থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্যে (এখানে দাঁড় করানো হবে)। অতঃপর তাদের পরি-শুদ্ধির পর জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

يخلص المؤمنون من النار فيحبسون على قنطرة بين الجنة والنار، فيقتص لبعضهم من بعض مظالم كانت بينهم في الدنيا حتى إذا هذبوا ونقوا أذن لهم في دخول الجنة، فوالذي نفس محمد بيده لأحدهم أهدي بمنزله في الجنة منه بمزله كان في الدنيا

[رواه البخاري]

অর্থঃ ((মু'মিনেরা জাহান্নাম হতে মূক্তি পাবে, তার পর তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী কানত্বারাহ্ নামক স্থানে একত্রিত করা হবে। তার পর দুনিয়াতে তাদের মাঝে যে জুলুম নির্যাতন ঘটেছিল একে অপরের পক্ষ হতে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে। যখন তারা এসব হতে মূক্ত হবে তখন তাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। অতঃপর শপথ সেই সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রাণ, নিশ্চয় তাদের প্রত্যেকের দুনিয়ার বাসস্থান হতে জান্নাতের বাসস্থান উত্তম। [বুখারী]

একাদশতমঃ জান্নাত ও জাহান্নাম।

আমরা ঈমান আনবো যে, জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য, এ দু'টি (জান্নাত ও জাহান্নাম) বর্তমান বিদ্যমান রয়েছে, আর ইহা কখনো ধ্বংস হবে না এবং চিরস্থায়ীও নয়, বরং সর্বদায় রয়েছে। আর জান্নাতবাসীদের নি'আমত শেষ ও ঘাটতি হবে না, অনুরূপ জাহান্নামীদের মধ্যে যার ব্যাপারে আল্লাহ চিরস্থায়ী শাস্তির ফায়সালা করেছেন তার শাস্তি কখনও বিরত ও শেষ হবে না।

তবে তাওহীদ পন্থীরাঃ আল্লাহর রহমতে ও শাফায়াত কারীদের শাফায়াতে জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবেন।

আর জান্নাত হলঃ অতিথীশালা, যা আল্লাহ্ কিয়ামতে মুত্তাকীনদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন। তথায় রয়েছে প্রবাহিত নদী উন্নত ও সুউচ্চ কক্ষ, মনোলোভা রমণী, সমূহ। তথায় আরো রয়েছে মনঃপূত-মনোহর সামগ্রী যা কোন দিন কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কর্ন শ্রবণ করেনি, আর কোন মানুষের অন্তরেও কোন দিন কল্পনায় আসেনি।

জান্নাতের নি'আমত চিরস্থায়ী কোন দিন শেষ হবেনা। জান্নাতে কোড়া সমতুল্য জায়গাহ্ দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছুর চাইতে উত্তম। আর জান্নাতের সুগন্ধী চলি্লশ বৎসর দূরত্বের রাস্তা হতে পাওয়া যায়। জান্নাতে মু'মিনদের জন্য সব চাইতে বড় নি'আমত হলো আল্লাহকে সরাসরি স্বচক্ষে দর্শনলাভ করা।

কিন্তু কাফেররা আল্লাহর দর্শনলাভ হতে বঞ্চিত হবেঃ আর যারা মু'মীনদের জন্য তাদের প্রভুর দর্শনকে অস্বীকার করলো সে বস্তুত এই বঞ্চিত হওয়াতে মু'মিনদেরকে কাফেরদের সমকক্ষ করলো। আর জান্নাতে একশতটি ধাপ রয়েছে, এক ধাপ হতে অপর ধাপের দূরুত্ব আসমান হতে জমিনের দূরত্ব অনুরূপ। আর সবচেয়ে উন্নত ও উত্তম জান্নাত হল, জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আলা। এর ছাদ হল আল্লাহর আরশ। আর জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, প্রত্যেক দরজার পার্শ্বের দৈর্ঘ "মক্কা "হতে "হাজার" এর দূরত্বের সমান। আর এমন দিন আসবে যে দিনে ইহা ভিড়ে পরিপূর্ণ হবে, আর জান্নাতে নূন্যতম মর্যাদার অধিকারী যে হবে তার দুনিয়া ও আরো দশ দুনিয়ার পরিমান জায়গা হবে।

আল্লাহ তা'আলা জান্নাত সম্পর্কে বলেনঃ

أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

[سورة آل عمران، الآية:133]

অর্থঃ (পরহেজগার মু'মিনদের জন্য তৈরী করা হয়েছে।)) [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-১৩৩]

জান্নাত বাসীদের চিরস্থায়ী ও জান্নাত ধ্বংস হবে না। এই সম্পর্কে তিনি বলেনঃ

جَزَاؤُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّهُ

[سورة البينة، الآية:8]

অর্থঃ ((তাদের পালন কর্তার কাছে রয়েছে তাদের প্রতিদান চিরকাল বসবাসের জান্নাত, যার তলদেশে নির্ঝরিণী প্রবাহিত। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সনু্তষ্ট। এটা তার জন্যে, যে তার পালনকর্তাকে ভয় করে।)) [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ, আয়াত-৮]

আর জাহান্নামঃ ইহা শাস্তির ঘর যা আল্লাহ্ কাফের ও অবাদ্ধদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন। তথায় বিভিন্ন প্রকার কঠিন শাস্তি রয়েছে। তার পাহারাদার হবে নিষ্ঠুর ও নির্দয় ফিরিশতারা। আর কাফেররা তথায় চিরস্থায়ী থাকবে। তাদের খাদ্য হবে যাক্কুম (কাঁটা যুক্ত) আর পানিয় হবে পুঁজ, দুনিয়ার আগুনের তাপ জাহান্নামের আগুনের তাপ মাত্রার সত্তর ভাগের এক ভাগ মাত্র। জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চাইতে ৬৯ (উনসত্তর) গুন বেশী, এর প্রত্যেকটি অংশ দুনিয়ার আগুনের ন্যায় বা তার চাইতে আরো উত্তাপ, আর এই জাহান্নাম তার অধিবাসী নিয়ে পরিতুষ্ট হবেনা বরং বলবে যে, আরো আছে কি ? তার সাতটি দরজা হবে। প্রত্যেকটি দরজার জন্য নির্ধারিত জাহান্নামীমের অংশ থাকবে।

আল্লাহ তা'আলা জাহান্নাম সম্পর্কে বলেনঃ

أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ

[سورة آل عمران، الآية:131]

অর্থঃ ((কাফিরদের জন্য তৈরী করা হয়েছে।)) [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত-১৩১]

জাহান্নামীরা চিরস্থায়ী এবং তা ধ্বংস হবেনা। এ সম্পর্কে তিনি আরো বলেনঃ

خَالِدِينَ فِيهَا أَبَداً - ِنَّ اللَّهَ لَعَنَ الْكَافِرِينَ وَأَعَدَّ لَهُمْ سَعِيراً

[سورة الأحزاب، الآيتان:64-65]

অর্থঃ ((নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে অভিসম্পাত করেছেন, এবং তাদের জন্যে জ্বলন্ত অগি্ন প্রস্তুত রেখেছেন। তথায় তারা অনন্তকাল থাকবে।)) [সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৬৪-৬৫]

(৩) শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনার ফলাফলঃ

শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনার অনেক সূফল রয়েছে-

(১) ছাওয়াবের আশায় আনুগত্য ও কর্ম সম্পাদনে আগ্রহী ও উৎসাহী হওয়া।

(২) এ দিবসের শাস্তির ভয়ে অবাদ্ধতায় লিপ্ত ও ততপ্রতি সন্তষ্ট থাকা হতে ভয় করা।

(৩) আখেরাতে মু'মিনরা যে নি'আমত ও ছাওয়াব পাবে এ আশা- আকাঙ্খায় দুনিয়ার ছুটে যাওয়া জিনিস হতে নিজের শান্তনা লাভ করা।

(৪) ব্যক্তি ও সমাজিক জীবনে সৌভাগ্যের মূল উৎস হল শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনা। কারণ মানুষ যখন এ কথার প্রতি ঈমান আনবে যে, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টজীবকে তাদের মৃতু্যর পর পুনরুজ্জীবিত করবেন ও তাদের হিসাব নিকাশ নিবেন, এবং তাদের কর্মের প্রতিদান প্রদান করবেন। মায্লুমের (অত্যাচারিত) পক্ষে যালিম (অত্যাচার কারী) ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতিশোধ নিবেন। তখন সে আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে, সকল অকল্যাণের জড় নিঃশেষ হয়ে যাবে। সমাজে কল্যাণ বিস্তার লাভ করবে, এবং সর্বত্র সম্মান-মর্যাদা,শাস্তি ও নিরাপত্তা ছড়িয়ে পড়বে। প্রশান্তি ও নিরাপত্তা বেড়ে যাবে।



সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 14 June 2009 )