আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
أخلاق المسلم বা একজন মুসলমানের চারিত্রিক গুণাবলী প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ডঃ আহমাদ আলমাযইয়াদ ও ডঃ আদে'ল আশশিদ্দী   
Sunday, 05 November 2006
আর্টিকেল সূচি
أخلاق المسلم বা একজন মুসলমানের চারিত্রিক গুণাবলী
প্রথম পাঁচ গুণাবলী
দ্বিতীয় পাঁচ গুণাবলী
তৃতীয় পাঁচ গুণাবলী
সংকলনেঃ

ডঃ আহমাদ আল-মাযইয়াদ

ডঃ আদে'ল আশ-শিদ্দী

অনুবাদঃ

সাইফূল্লাহ আহমাদ কারীম

সম্পাদনায়ঃ

আব্দুন্নূর বিন আব্দুল জব্বার

[লিসান্স মদীনাইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দা'য়ী ও অনুবাদক রাবওয়া ইসলামিক সেন্টার, রিয়াদ]

মুদ্রণেঃ

দারুল ওয়াতান প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সমস্ত প্রশংসা এককভাবে আল্লাহ্র জন্য, সালাত ও সালাম তাঁর উপর নাযিল হউক যার পর আর কোন নবী নেই, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীদের উপর প্রতিদান দিবস পর্যন্ত সালাত ও সালাম নাযিল হউক।

ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সকল দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে, এসব দিকের মধ্যে গুণাবলী শিষ্টাচার ও চরিত্রের দিকটি অন্যতম। ইসলাম এদিকে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। তাইতো আক্বীদা ও আখলাকের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছে, যেমন- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‌‌‌'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।)) [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযি]

সুতরাং উত্তম চরিত্র হচ্ছে ঈমানের প্রমাণবাহী ও প্রতিফলন, চরিত্র ব্যতীত ঈমান প্রতিফলিত হয় না; বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দেয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((আমি তো কেবল চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দিতে প্রেরিত হয়েছি।)) ইমাম আহমাদ ও বুখারী আদাবুল মুফরাদে বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম ও সুন্দরতম চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيم

[سورة القلم-4]

অর্থঃ ((এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।)) [সূরা আল-কলম-৪]

কোথায় এটা বর্তমান বস্তুবাদী মতবাদ ও মানবতাবাদী মানুষের মনগড়া চিন্তা চেতনায় ? যেখানে চরিত্রের দিককে সমপূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা শুধু সুবিদাবাদী নীতিমালা ও বস্তুবাদী স্বার্থের উপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও তা অন্যদের উপর যুলুম বা নির্যাতনের মাধ্যমে হয়। অন্য সব জাতির সম্পদ লুন্ঠন ও মানুষের সম্মান হানীর মাধ্যমে হয়।

একজন মুসলমানের উপর তার আচার-আচরণে আল্লাহ্র সাথে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে, অন্য মানুষের সাথে এমনকি নিজের সাথে কি করা ওয়াজিব, ইসলাম তার এক অভিনব চকমপ্রদ চিত্র অংকন করে দিয়েছে। যখনই একজন মুসলমান বাস্তবে ও তার লেনদেনে ইসলামী চরিত্রের অনুবর্তন করে তখনই সে অভিষ্ট পরিপূর্ণতার অতি নিকটে পৌঁছে যায়, যা তাকে আরো বেশি আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ ও উচ্চ মর্যাদার সোপানে উন্নীত হতে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে, যখনই একজন মুসলমান ইসলামের চরিত্র ও শিষ্টাচার হতে দূরে সরে যায় সে বাস্তবে ইসলামের প্রকৃত প্রাণ চাঞ্চল্য, নিয়ম-নীতির ভিত্তি হতে দূরে সরে যায়, সে যান্ত্রিক মানুষের (রবোকব, রোবট) মত হয়ে যায়, যার কোন অনুভূতি এবং আত্মা নেই।

ইসলামে ইবাদতসমূহ চরিত্রের সাথে কঠোরভাবে সংযুক্ত। যে কোন ইবাদতই একটি উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায় না, তার কোন মূল্য নেই। আল্লাহ্র সামনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় নামায একজন মানুষকে অশ্লীল অপছন্দ কাজসমূহ হতে রক্ষা করে, আত্মশুদ্ধি ও আত্মার উন্নতি সাধনে এর প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

[سورة العنكبوت - 45]

অর্থঃ ((নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও অপছন্দনীয় কাজ হতে নিষেধ করে।)) [সূরা আল-আনকাবূতঃ ৪৫]

অনুরূপভাবে সওম বা রোযা তাক্কওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর তাক্বওয়া হচ্ছে মহান চরিত্রের অন্যতম। যেমন- আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

[سورة البقرة-183]

অর্থঃ ((হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার।)) [সূরা আল-বাকারাহ-১৮৩]

রোযা অনুরূপভাবে শিষ্টাচার, ধীরস্থিরতা, প্রশান্তি, ক্ষমা, মুর্খদের থেকে বিমুখতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটায়। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((তোমাদের কারো রোযার দিন যদি হয়, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে, হৈ চৈ অস্থিরতা না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করে সে যেন বলে আমি রোযাদার।)) [বুখারী ও মুসলিম]

যাকাতও অনুরূপভাবে অন্তরকে পবিত্র করে, আত্মাকে পরিমার্জিত করে এবং তাকে কৃপণতা, লোভ ও অহংকারের ব্যধী হতে মুক্ত করে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا

[سورة التوبة-103]

অর্থঃ ((তাদের সম্পদ হতে আপনি সাদকাহ গ্রহণ করুন যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিমার্জিত করবেন।)) [সূরা আত্-তাওবাহঃ ১০৩]

আর হজ্জ হচ্ছে একটি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণশালা আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা বিদ্ধেষ ও পঙ্কিলতা থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধি ও পরিমার্জনের জন্য। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ

[سورة البقرة-197]

((যে এ মাস গুলোতে নিজের উপর হজ্জ ফরয করে নিল সে যেন অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদ হজ্জের মধ্যে না করে।)) [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৭]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা-বার্তা ও পাপ কর্ম না করে হজ্জ পালন করল সে তার পাপ রাশি হতে তার মা যেদিন জন্ম দিয়েছে সে দিনের মত (নিষ্পাপ) হয়ে ফিরে এল।)) [বুখারী ও মুসলিম]



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )