আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
أخلاق المسلم বা একজন মুসলমানের চারিত্রিক গুণাবলী প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ডঃ আহমাদ আলমাযইয়াদ ও ডঃ আদে'ল আশশিদ্দী   
Sunday, 05 November 2006
আর্টিকেল সূচি
أخلاق المسلم বা একজন মুসলমানের চারিত্রিক গুণাবলী
প্রথম পাঁচ গুণাবলী
দ্বিতীয় পাঁচ গুণাবলী
তৃতীয় পাঁচ গুণাবলী

ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয় সমূহ

 

১১. মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধনঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন করে দেয়া, এটা একটি মহান চরিত্র যা ভালবাসা সৌহার্দ প্রসার ও মানুষের পারষ্পারিক সহযোগিতার প্রাণের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

لاَّ خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلاَّ مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلاَحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتَغَاءَ مَرْضَاتِ اللّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

[سورة النساء-114]

((তাদের অধিকাংশ কানাকানির মধ্যেই কল্যাণ নেই কেবল মাত্র সে ব্যক্তি ব্যতীত যে সাদকাহ, সৎকর্ম ও মানুষের মাঝে সংশোধনের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এসব করে অচীরেই আমরা তাকে মহা প্রতিদান প্রদান করব।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ১১৪]

 

১২. লজ্জাঃ

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম আরেকটি চরিত্র হচ্ছে লজ্জা। এটা এমন একটি চরিত্র যা পরিপূর্ণতা ও মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দিকে আহবান করে। অশ্লীল ও বেহায়াপনা হতে বারণ করে। লজ্জা আল্লাহ্ পক্ষ হতে হয়ে থাকে। ফলে মুসলমান লজ্জা করে আল্লাহ্ তাকে পাপাচারে লিপ্ত না দেখুক। অনুরূপভাবে মানুষের এবং নিজের থেকেও সে লজ্জা করে। লজ্জা অন্তরে ঈমান থাকার প্রমাণ বহন করে।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((লজ্জা ঈমানের বিশেষ অংশ।)) [বুখারী ও মুসলিম]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ ((লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না।)) [বুখারী ও মুসলিম]

 

১৩. দয়া ও করুণাঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গুণ হচ্ছে দয়া বা করুণা। এ চরিত্রটি অনেক মানুষের অন্তর হতে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে তাদের অন্তর পাথরের মত অথবা তার চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে। আর প্রকৃত মু'মিন হচ্ছে দয়াময়, অনুকৃপাকারী গভীর অনুভূতি সম্পন্ন উজ্জ্বল আবেগের অধিকারী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ - أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ

[سورة البلد-17-18]

((অতঃপর সে তাদের অন্তভুর্ক্ত হয় যারা ঈমান এনেছে পরস্পর পরস্পরকে ধৈর্য্য ও করুণার উপদেশ দিয়েছে তারা হচ্ছে দক্ষিণ পন্থার অনুসারী।)) [সূরা আল-বালাদঃ ১৭-১৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((মুমিনদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, করুণা, অনুকম্পার উপমা হচ্ছে একটি শরীরের মত। যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় গোটা শরীর নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।)) [মুসলিম]

 

১৪. ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতাঃ

ন্যায় পরায়ণতা ইসলামী চরিত্রের আরেকটি চরিত্র। এ চরিত্র আত্মার প্রশান্তি সৃষ্টি করে। সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রকার অপরাধ বিমোচনের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاء ذِي الْقُرْبَى

[سورة النحل-90]

((নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণতা ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করতে নির্দেশ দেন।)) [সূরা আল-নাহলঃ ৯০]

আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

اعْدِلُواْ هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى

[سورة المائدة-8]

((ইনসাফ কর, এটা তাক্বওয়ার অতীব নিকটবর্তী।)) [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((মুকসেতীনরা আল্লাহ্ নিকট নূরের মিম্বরের উপর বসবে তারা সে সব লোক যারা বিচার ফয়সালা, পরিবার-পরিজন এবং যে দায়িত্ব পেয়েছে তাতে ইনসাফ করে।))

 

১৫. চারিত্রিক পবিত্রতাঃ

ইসলামী চরিত্রের আর একটি অন্যতম দিক হচ্ছে চারিত্রিক পবিত্রতা। এ চরিত্র মানুষের সম্মান সংরক্ষণ এবং বংশে সংমিশ্রন না হওয়ার দিকে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّى يُغْنِيَهُمْ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ

[سورة النور-33]

((যারা বিবাহের সামর্থ পায় না তারা যেন চারিত্রিক পবিত্রতা গ্রহণ করে আল্লাহ্ তার অনুগ্রহে তাদেরকে সম্পদশালী করা পর্যন্ত।)) [সুরা আন-নূরঃ ৩৩]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের যিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হব, যখন তোমাদের কেউ কথা বলে সে যেন মিথ্যা না বলে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন যেন খেয়ানত না করে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা যেন ভঙ্গ না করে, তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত কর, তোমাদের হস্তদ্বয় সংযত কর, তোমাদের লজ্জাস্থান হেজাফত কর।)) [ হাদীসটি তাবারানী বর্ণনা করে হাসান বলেছেন]

ইসলামের এ সব চরিত্রে এমন কিছু নেই যা অপছন্দ করা যায়। বরং এসব এমন সম্মান যোগ্য ও মহৎ চারিত্রাবলী যা প্রত্যেক নিষ্কলুষ স্বভাবের অধিকারীর সমর্থন লাভ করে। মুসলমানগণ যদি (আজ) এ মহৎ চরিত্র ধারণ করত তাহলে সর্বত্র থেকে তাদের নিকট মানুষ আগমন করত এবং দলে দলে আল্লাহ্ দ্বীনে তারা প্রবেশ করত যেভাবে প্রথম যুগের মুসলমানদের লেন-দেন ও চরিত্রের কারণে যেভাবে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল।

সমাপ্ত

________________________________________

Source: www.islamhouse.com/library ((সম্পূর্ণ অবানিজ্যিক ভিত্তিতে শুধুমাত্র দ্বীন প্রচারের লক্ষ্যে কেউ এই বইয়ের লিংক ব্যবহার ও ছাপাতে পারেন নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে-

১. লেখক ও অনুবাদকের নাম পরিবর্তন না করে এবং উল্লেখ করে।

২. বইয়ের মূল বিষয় ও লেখালেখিতে কোনরূপ পরিবর্তন না এনে।

৩. উত্তম হয় যদি সোর্স-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আল্লাহ্ আপনাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।))

 



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )