কুরআন থেকে
যিনি পৃথিবী ও আকাশের রাজত্বের মালিক, যিনি কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি, যাঁর সাথে রাজত্বে কেউ শরীক নেই,...

হাদিস থেকে
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. ইয়াহ্ইয়া ইবন ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া   
Wednesday, 13 December 2006
আর্টিকেল সূচি
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি
প্রথম চিঠি
দ্বিতীয় চিঠি
তৃতীয় চিঠি
চতুর্থ চিঠি
পঞ্চম চিঠি

দ্বিতীয় চিঠি

প্রিয় হাজী ভাই,

হজ্জের *কাযাবলীতে আমরা অনেকেই নানা ধরণের ভুল করে থাকি। এর কোনটি আমাদের না জানার কারণে, আর কোনটি আমাদের অসচেতনতা বা অবহেলার কারণে হয়ে থাকে। এ পত্রে আমরা হজ্জের নানাবিধ ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাব, যেন আল্লাহর ইচ্ছায় আমাদের হজ্জ ত্রুটিমুক্তভাবে সম্পাদিত হতে পারে।

এক : ইহরামের সাথে সংশ্লিষ্ট ভুলসমূহ

১. মীকাত থেকে ইহরাম না বাধা।

২. ইহরামের কাপড় পাল্টানো যাবে না-এ ধারণা পোষণ করা, প্রকৃতপক্ষে ইহরামের কাপড় যখন ইচ্ছা তখন পাল্টানো যাবে।

৩. ইহরামের শুরু থেকে ইজত্বেবা করা। (ইজত্বেবা মানে হচ্ছে- ডান কাঁধ খোলা রেখে চাদরটা ডান বগলের নীচ দিয়ে এনে বাম কাঁধের উপর ফেলে দেয়া।) অথচ শুধুমাত্র তাওয়াফের সময় ইজত্বেবা করা সুন্নত। তাও যদি সেটি তাওয়াফে কুদুম হয়। তাওয়াফে কুদুমকে বাংলায় আগমনী-তাওয়াফ বলা যেতে পারে।

৪. ইহরাদের জন্য বিশেষ নামাজ পড়াকে ওয়াজিব মনে করা।

দুই: মীকাত থেকে মসজিদে হারামে পেঁৗছার পূর্বে যেসব ভুল লক্ষণীয়

১. তালবিয়া না পড়ে অন্য কথা বার্তায় ব্যতিব্যস্ত থাকা। এমনকি কেউ কেউ গুনার কাজে লিপ্ত হতেও লজ্জাবোধ করেন না, যেমন- গান শুনা।

২. সমস্বরে তালবিয়া পড়া।

তিন : মসজিদে হারামে প্রবেশ সংক্রান্ত নানা গলদ

১. নির্ধারিত কোন দরজা দিয়ে হারামে প্রবেশ করাকে বাধ্যতামূলক মনে করা। এমনও দেখা যায় যে বাব ফাত্হ খুঁজতে খুঁজতে হাজীসাহেব ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েন। অথচ এ বিষয়টিকে এত কঠিনভাবে নেয়া ঠিক নয়, বরং আপনি সুবিধামত যে কোন দরজা দিয়ে হারামে প্রবেশ করতে পারেন। তবে বাব 'বনী শায়বা'' দিয়ে প্রবেশ করতে পারলে ভাল। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন।

২. কিছু কিছু দো'আকে হারামে প্রবেশের বিশেষ দো'আ বলে মনে করা। প্রকৃতপক্ষে হারামে প্রবেশের বিশেষ কোন দো'আ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য মসজিদে প্রবেশকালে যে দো'আ পড়তেন হারামে প্রবেশকালেও একই দো'আ পড়েছেন। আর তা হল,

بِسْمِ الله وَ الصَّلاةُ وَ السَّلاَمُ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ، رَبِّ اغْفِرْ لِيْ ذُنُوْبِيْ وَ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ.

"আল্লাহর নামে শুরু করছি। রাসূলের প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ্, আমার গোনাহ্ খাতা মাফ করে দিন, আমার জন্য আপনার রহমতের দুয়ার খুলে দিন।"

চার : তাওয়াফ সংক্রান্ত নানা ত্রুটি-বিচু্যতি

১. নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা। যেমন, কাউকে বলতে শুনা যায়-

(اللهم إني نويت أن أطوف بالبيت سبعة أشواط)

"হে আল্লাহ্, আমি সাতবার কাবা শরীফ তাওয়াফ করার নিয়ত করছি।" এ ধরণের কোন নিয়ত না রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, আর না সাহাবায়ে কেরাম থেকে বর্নিত হয়েছে। অতএব, শুধু অন্তরে নিয়ত করাই যথেষ্ট।

২. ঠিক হাজারে আসওয়াদের সীমানা থেকে তাওয়াফ শুরু না করা। সীমানায় পৌঁছার আগে তাওয়াফের নিয়ত করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সীমানা পার হয়ে তাওয়াফ শুরু করলে সে চক্কর বাতিল বলে পরিগণিত হবে।

৩. হাজারে আসওয়াদে চুমা দেয়ার জন্য বা রুকনে ইয়ামানী স্পর্শ করার জন্য স্থানদ্বয়ে প্রচণ্ড ভিড় করা। ভিড় সৃষ্টি করে মানুষকে কষ্ট দেয়া আদৌ জায়েয নয়।

৪. হাজারে আসওয়াদে চুমা না দিলে তাওয়াফ আদায় হবে না মনে করা। অথচ এই পাথরটিকে চুম্বন করা সুন্নতমাত্র, যা অনাদায়ে ফরজের কোন ক্ষতি হয় না।

৫. রুকনে ইয়ামানীতে চুমা দেয়া, অথচ সুন্নত হল শুধু স্পর্শ করা।

৬. তাওয়াফের সকল চক্করে রমল করা। (রমল মানে- ছোট ছোট পা ফেলে দ্রুত হাটা) অথচ সুন্নত হল শুধু প্রথম তিন চক্করে রমল করা। তাও শুধু পুরুষের জন্য।

৭. প্রত্যেক চক্করের জন্য কোন একটি দো'আকে খাস করে নেয়া। কোন কোন তাওয়াফকারী তো একটা দো'আর বই সাথে রাখেন, আর অর্থ না বুঝে তোতা পাখির মত বইয়ের দো'আগুলো আওড়িয়ে যান-এটা আরো জঘন্য বিদআত।

৮. হিজ্র বা হাতীমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করা। যেহেতু হাতীম কাবার ভিটার অংশ বিশেষ, এ কারণে হাতীমের ভেতর দিয়ে তাওয়াফ করলে পূর্ণ কাবার তাওয়াফ করা হবে না বিধায় তাওয়াফ বাতিল বলে পরিগণিত হবে।

৯. তাওয়াফের সময় কাবাকে বামে না রাখা। যেমন, কেউ কেউ তাদের সাথের মহিলাদেরকে ভিড় থেকে মুক্ত রাখার জন্য কয়েকজন মিলে মানববন্ধন তৈরী করে। এটা করতে গিয়ে কাবা শরীফ হয়ত তাদের কারো সামনে থাকে, কারো পিছনে থাকে, আবার কারো ডানে থাকে। অথচ এভাবে তাওয়াফ করলে আদায় না হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। যেহেতু তাওয়াফের অন্যতম শর্ত হল কাবাকে বামে রাখা।

১০. রোকনে ইয়ামানীর মত কাবার অন্যান্য স্তম্ভগুলোকেও স্পর্শ করা।

১১. এত উচ্চঃস্বরে দো'আ পড়া যাতে একাগ্রতা থাকে না, অন্যদিকে যা আল্লাহর ঘরের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে এবং তাওয়াফরত হাজীদের বিরক্ত করে। আর ইবাদাতের মধ্যে কাউকে কষ্ট দেয়া অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

১২. কারো কারো ধারণা তাওয়াফের দু'রাকাত সুন্নত নামাজ 'মাকামের' সন্নিকটে না হলেই নয়। এজন্য তিনি তাওয়াফের স্থান সংকীর্ণ করে মানুষকে কষ্ট দেন।

১৩. এ দু'রাকাত নামাজকে অত্যন্ত দীর্ঘ করা। অথচ এটি সুন্নাহ বিরোধী। যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নামাজটা অত্যন্ত সংক্ষেপে আদায় করতেন সেখানে এ ব্যক্তি নামাজটাকে দীর্ঘ করে অন্যকে বঞ্চিত করে, মানুষকে কষ্ট দেয়।

১৪. 'মাকামে ইব্রাহীমের' কাছে পড়ার জন্য কোন একটি দো'আকে খাস করে নেয়া। আর যদি এ দো'আ হয় সম্মিলিতভাবে তাতো আরো জঘন্য গর্হিত কাজ।

১৫. 'মাকামে ইব্রাহীম' হাত দিয়ে স্পর্শ করা। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ ব্যাপারে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।

পাঁচ : সা'ঈ সংক্রান্ত ভুলসমূহ

১. নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা হয়। অথচ নিয়ত করতে হবে অন্তরে।

২. পুরুষ ব্যক্তি দুই দাগের মাঝখানে না দেঁৗড়ানো।

৩. এর বিপরীতে- সাফা থেকে মারওয়া পুরা পথটাই দৌড়ে পার হয় অনেকে। যা অনেকগুলো অমঙ্গল নিয়ে আসে- সুন্নাহর বিরোধিতা, নিজেকে হয়রান করা, অন্যদের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে তাদেরকে কষ্ট দেয়া। আর কেউ কেউ ইবাদাত থেকে তাড়াতাড়ি খালাস পাওয়ার জন্য এ কাজ করে থাকেন। তা আরো বেশী গর্হিত। কারণ এটা ইবাদাতের প্রতি অনীহার বহিঃপ্রকাশ, যা মারাত্মক গোনাহ। বরঞ্চ ইবাদাত আদায় করতে হবে পরিপূর্ণ আন্তরিকার সাথে, আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে।

৪. প্রতিবার সাফা ও মারওয়ায় আরোহনকালে নিম্নোক্ত আয়াতটি তেলাওয়াত করা হয়।

)إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ) (البقرة:158)

অথচ আয়াতটি তেলাওয়াত করার কথা শুধু প্রথমবার সাফায় আরোহনকালে। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা আয়াতে কারীমাতে যে পাহাড়কে আগে উল্লেখ করেছেন সে পাহাড় থেকে তাওয়াফ শুরু করতে হবে এ কথা জানানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফাতে উঠাকালে বলেনঃ "আল্লাহ্ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়ে শুরু করছিঃ

)إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْراً فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ) (البقرة:158)

"নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তভর্ুক্ত। সুতরাং যে কেউ কা'বা গৃহের হজ্জ কিংবা 'উমরা সম্পন্ন করে এ দুইটির মধ্যে সা'ঈ করলে তার কোন পাপ নেই। আর কেউ স্বতঃস্ফূর্ত সৎকার্য করলে আল্লাহ্ তো পুরস্কারদাতা, সর্বজ্ঞ।" [সূরা আল-বাকারাঃ ১৫৮]

১. প্রতি চক্কর সা'ঈর জন্য আলাদা আলাদা দো'আ খাস করে নেয়া।

২. মারওয়া থেকে সা'ঈ শুরু করা।

৩. সাফা থেকে পুনরায় সাফা আসাকে এক চক্কর হিসাব করা। প্রকৃতপক্ষে তখন সা'ঈ হয়ে যাবে চৌদ্দ চক্কর।

৪. নফল তাওয়াফের মত নফল সা'ঈ করা। মূলতঃ হজ্জ বা উমরা আদায়ের পর আর কোন সা'ঈ নেই।

ছয় : মাথা মুণ্ডানো বা চুল কাটা সংক্রান্ত ভ্রান্তিসমূহ

১. মাথার কিছু অংশ কামানো।

২. মাথার একদিকের কয়েকটি চুল কাটা। এটি

) مُحَلِّقِينَ رُؤُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ )(الفتح: من الآية27)

"তোমাদের কেউ কেউ মস্তক মুণ্ডিত করবে আর কেউ কেউ কেশ কর্তন করবে।" আয়াতের বিধানের বিরোধিতা।

৩. 'উমরা আদায়কারী মাথা নেড়া করা বা চুল কাটার আগেই ইহরামের কাপড় খুলে ফেলা।

সাত : জিলহজ্জের আট তারিখে লোকেরা যে সকল ভুল করেন

১. ইহরামের আগে দু'রাকাত নামাজ পড়াকে ওয়াজিব মনে করা। অনুরূপভাবে নতুন কাপড়ে ইহরাম করাকে ওয়াজিব মনে করা।

২. ইহরামের পর পরই ইজত্বেবা করে ফেলা। অথচ ইজত্বেবা করতে হয় শুধুমাত্র তাওয়াফে কুদুমে।

৩. যে কাপড় পরে 'উমরা আদায় করা হয়েছে সে কাপড়ে হজ্জের ইহরাম বাধা যাবে না মনে করা।

৪. মিনা যাওয়ার পথে শব্দ করে তালবিয়া না পড়া।

৫. অনেকে মক্কা থেকে সরাসরি আরাফায় চলে যান, যা সুন্নতের খেলাফ।

৬. মিনায় না এসে মক্কায় থেকে যাওয়া।

৭. মিনাতে দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্রে এক ওয়াক্তে আদায় করতে হবে মনে করা। (যোহর ও আসর একত্রে, এবং আসর ও মাগরিব একত্রে।)

৮. মিনাতে কসর না পড়ে পূর্ণ নামাজ আদায় করা।

আট : আরাফায় গমন ও অবস্থান সংশ্লিষ্ট ভুল

১. আরাফা ত্যাগের সময় সশব্দে তালবিয়া না পড়া।

২. সূর্য হেলে যাওয়ার পরও আরাফা-ময়দানের বাহিরে অবস্থান করা।

৩. কিবলা বাদ দিয়ে পাহাড়ের দিকে ফিরে দো'আ করা।

৪. পাহাড়ে অবস্থান করাকে ওয়াজিব মনে করা।

৫. কারো কারো মাঝে এ ভুল ধারণা আছে যে, আরাফার মাঠ হারামের অংশ, অতএব আরাফা মাঠের গাছপালা কাটা যাবেনা।

৬. কেউ কেউ মনে করেন জাবালে রহমতের বিশেষ মর্তবা রয়েছে। এ জন্য পাহাড়ের ওপরে ওঠে নামাজ পড়ার চেষ্টা করেন, গাছে সুতা বাঁধেন।

৭. সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফার ময়দান ত্যাগ করা।

৮. বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করা। আর হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া তো আরো বড় অপরাধ। যেমন, ছবি উঠানো, অশ্লীল কথা-বার্তা বলা, গান-বাজনা শুনা, মানুষকে কষ্ট দেয়া।

নয় : মুযদালিফার পথে যেসব ভুল হয়ে থাকে

১. খুব দ্রুত চলা।

২. মুযদালিফার সীমানায় না ঢুকে রাত্রি যাপন করা।

৩. মুযদালিফা পৌঁছার আগে পথিমধ্যে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করে ফেলা।

৪. যেখানেই হোক না কেন ওয়াক্তের মধ্যে এশার নামাজ আদায় না করা। অনেকের গাড়ী রাস্তায় যানজটে পড়ার কারণে মুযদালিফা পৌঁছতে মধ্যরাতের পর বা ফজরের কাছাকছি সময় হয়ে যায়। কিন্তু তারা মুযদালিফা না পৌঁছার কারণে নামাজ আদায় করে না। এটাতো তাদের মস্তবড় ভুল। কারণ ওয়াক্ত পার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তাদের উচিত যেখানে সম্ভব সেখানে নামাজ পড়ে নেয়া।

৫. ওয়াক্তের আগে ফজর নামাজ পড়ে ফেলা। যেমন, সুবহে সাদেকের উদয়ন নিশ্চিত না হয়ে কেউ একজনকে আজান দিতে শুনেই নামাজ পড়ে ফেলা।

৬. রাত্রি থাকতেই মুযদালিফা ত্যাগ করা।

৭. এ-কথা সে-কথা বা গোনাহর কাজে রাত্রিটা বরবাদ করা।

৮. সূযের্াদয় পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা।

৯. মুযদালিফা থেকে পাথর সংগ্রহ করাকে ওয়াজিব মনে করা।

দশ : কংকর নিক্ষেপ সংক্রান্ত বিভিন্ন ত্রুটি-বিচু্যতি

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কংকর নিক্ষেপের হেকমত বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ

"বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়াতে সা'ঈ, কংকর নিক্ষেপ এ সকল কিছুর উদ্দেশ্য হল আল্লাহর স্মরণ প্রতিষ্ঠিত করা। অতএব নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সঠিক নয়-

১. কংকরগুলো ধৌত করা, সুগন্ধি লাগানো।

২. জমরাতগুলোকে শয়তান মনে করা। এটি একটি ভুল ধারণা। বরঞ্চ আমরা কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করি,তার ইবাদাত বাস্তবায়ন করি। লোকদের এ বদধারণা থেকে যে কত সমস্যার উদ্ভব হয় তা বলা বাহুল্য। যেমন-

ক. তীব্র ক্রোধ ও প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতা নিয়ে এসে মানুষকে কষ্ট দেয়া।

খ. কংকর নিক্ষেপের মাধ্যমে যে একটা ইবাদাত পালন করা হচ্ছে সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ গাফেল থাকা। বড় পাথর খণ্ড, কাঠ, জুতা ইত্যাদি ছুড়ে মারা। বলতে গেলে এ ভ্রান্ত ধারণার কারণে শরীয়ত অনুমোদিত আমলটা শরীয়ত গর্হিত আমলে পরিণত হয়।

৩. পাথরগুলো পিলারের গায়ে লাগাকে আবশ্যক মনে করা। সঠিক হলো পাথরগুলো কূপের ভিতরে পড়াই যথেষ্ট।

৪. নিজে কংকর মারতে সক্ষম হওয়া শর্তেও অন্যকে দিয়ে মারানো।

৫. কংকরগুলো মুযদালিফা থেকেই নিতে হবে-এ ধারণা পোষণ করা। সঠিক হলো যে কোন স্থানের কংকর হলেই চলবে।

৬. জমরাতগুলোর মাঝে ধারবাহিকতা রক্ষা না করা। অর্থাৎ, কংকর মারতে হয় প্রথমে ছোট জমরাতে, তারপর মাঝারি, সবশেষে বড় জমরাত-এই ধারাবাহিকতা ভঙ্গ করা।

৭. নিক্ষেপের সময় শুরু হওয়ার আগেই কংকর মেরে ফেলা। নিক্ষেপের সময় শুরু হয় সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার পর মুহূর্ত থেকে।

৮. কংকর সাতটার চেয়ে কম মারা।

৯. প্রথম ও দ্বিতীয় জমরাতে কংকর মারার পর দুআ' না করা।

১০. শরীয়ত নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশী কংকর মারা। অথবা এক জমরাতে একাধিক বার মারা।

এগার : মিনাতে যে সকল ভুল হয়ে থাকে

১. কোন ওজর ছাড়াই মিনাতে রাত্রি যাপন না করা। মিনাতে অবস্থানের মত জায়গা আছে কি নাই এ ব্যাপারে পরিপূর্ণ খোঁজ-খবর না নিয়ে, নিশ্চিত না হয়ে জায়গা নাই বলে মক্কায় বা আযীযিয়াতে রাত্রি কাটানো।

২. ১২ জিলহজ্জ সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়ার আগেই মিনা থেকে বেরিয়ে যাওয়া। প্রিয় দ্বীনি ভাই, পরিশেষে বলতে চাই একটা বিষয়ে হাজীদের অনেকেই যথাযথ সর্তকতা অবলম্বন করেন না। তা হল- হালাল রুজি দিয়ে হজ্জব্রত পালন করা। আপনি দেখবেন যে হারাম উপার্জন দিয়ে তিনি হজ্জ করতে এসেছেন। অথচ তিনি ভুলে যান

إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّباً.

"নিশ্চয় আল্লাহ্ পবিত্র। তিনি একমাত্র পবিত্রটাই গ্রহণ করেন।"

আবার কাউকে কাউকে দেখা যায়, হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া মাত্র পরিবার-পরিজনের জন্য যতসব হারাম জিনিস-পত্র কেনায় ব্যস্ত হয়ে যান। যেমন, গানের ক্যাসেট, সিডি, বিভিন্ন বাদ্য-যন্ত্র হাবিজাবি সব। নিঃসন্দেহে এ ধরণের কাজ আল্লাহর নেয়ামতের নাশুকরী এবং এ ব্যক্তির হজ্জ কবুল না হওয়ার আশংকা হয়। সুতরাং হালাল-রুজি দিয়ে হজ্জ আদায় করুন, এবং পরিবার-পরিজনের জন্য এমন কিছু খরিদ করুন যা তাদের দুনিয়া ও আখেরাতে উপকারে আসবে। যেমন, ভাল দ্বীনি বই, তেলাওয়াতের বা কোন ইসলামী আলোচনার ক্যাসেট।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )