কুরআন থেকে
লোকেরা তাঁকে বাদ দিয়ে এমন সব উপাস্য তৈরি করে নিয়েছে যারা কোন জিনিস সৃষ্টি করে না বরং নিজেরাই সৃষ্ট, যারা নি...

হাদিস থেকে
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. ইয়াহ্ইয়া ইবন ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া   
Wednesday, 13 December 2006
আর্টিকেল সূচি
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি
প্রথম চিঠি
দ্বিতীয় চিঠি
তৃতীয় চিঠি
চতুর্থ চিঠি
পঞ্চম চিঠি

চতুর্থ চিঠি

প্রিয় পাঠক,

আপনি নিশ্চয় আমার সাথে সাক্ষ্য দিবেন যে, আমাদের নবী, আমাদের প্রিয়পাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দাহ্ ও রাসূল। আল্লাহ্ তাঁকে জগতবাসীর জন্য রহমতসরূপ প্রেরণ করেছেন। তাঁকে মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে এবং সমস্ত সৃষ্টিকূলের উপর সাক্ষী বানিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আল্লাহর বাণী প্রচার করেছেন, উম্মতকে নসীহত করেছেন। আমাদেরকে এমন এক সরল-সোজা, আলোকোজ্জ্বল পথে রেখে গেছেন যে পথে দিবা-নিশি সমান। একমাত্র দুর্ভাগাই এই পথ থেকে বিচু্যত হতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মাধ্যমে হেদায়েতের দিশা দিয়েছেন, অন্ধত্ব দূর করেছেন। আল্লাহ্ তাঁর খ্যাতিকে সমুন্নত করেছেন, তাঁর অন্তর খুলে দিয়েছেন, তাঁর কাঁধ থেকে যাবতীয় বোঝা অপসারণ করেছেন। অন্যদিকে তাঁর নির্দেশ লঙ্ঘনকারীর জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা অনিবার্য করে দিয়েছেন। অতএব তাঁর উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অনুরূপভাবে তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবাদের উপরও আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। তদ্রূপ কেয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল অনুসারী, অনুগামী ও তাঁর দ্বীন প্রচারকের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

তাঁর আনুগত্য করা, তাঁকে ভালবাসা আল্লাহ্ তা'আলা বান্দার উপর ফরজ করে দিয়েছেন। তাঁকে শ্রদ্ধা করা, সম্মান করা ও তাঁর অধিকার আদায় করাও ফরজ। তবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্যই বা কি? নিঃসন্দেহে আমাদের উপর তাঁর অনেক অধিকার রয়েছে। যেমন-

এক : তাঁর প্রতি বেশী বেশী দরূদ পড়া। আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা দিয়েছেন,

)إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً) (الأحزاب:56)

"আল্লাহ্ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং ফিরিশ্তাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম কর। নবী করিম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সালাত পড়ে (রহমত কামনা করে) আল্লাহ্ তাঁর প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।"

প্রিয় দ্বীনি ভাই,

জেনে রাখুন, রাসূলের প্রতি সালাত-সালাম পেশ করার সর্বোত্তম পদ্ধতি তা, যা তিনি নিজে তাঁর সাহাবাদেরকে শিখিয়ে গেছেন। বোখারী ও মুসলিমে এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাদের বললেনঃ তোমরা বল,

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.

"হে আল্লাহ্, তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের রহমত বর্ষণ কর; যেমনটি বর্ষণ করেছিলে ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানিত। এবং তুমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি বরকত নাযিল কর যেভাবে বরকত নাযিল করেছিলে ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম ও তাঁর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানিত।"

দুই : একনিষ্ঠভাবে অন্তর থেকে তাঁকে ভালবাসা এবং সকল ভালবাসার উপরে তাঁর ভালবাসাকে প্রাধান্য দেয়া। তিনি বলেছেন,

لايؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من ولده ووالده و الناس أجمعين.

"তোমাদের কেউ ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান ও অন্য সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় না হই।"

আর তাঁর ভালবাসার অন্যতম প্রমাণ হল তাঁকে অনুসরন করা। তাঁর আদব-আখলাকে নিজেকে সুশোভিত করা। সকল পথ ও মতের উপরে তাঁর সুন্নাহকে অগ্রর্ািধকার দেয়া। তাঁর নিষেধকৃত যাবতীয় সবকিছু থেকে বিরত থাকা।

তিন : তাঁর নির্দেশ পালন করা, নিষেধ থেকে বিরত থাকা, এবং তাঁর আনীত সংবাদে বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহ্ তা'আলা ইরশাদ করেছেন,

) وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ)(الحشر: من الآية7)

"রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাক এবং তোমরা আল্লাহ্কে ভয় কর; আল্লাহ্ তো শাস্তি দানে কঠোর।"[সূরা হাশরঃ ৭] আল্লাহ্ তা'আলা অন্যত্র বলেছেন,

)قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ) (آل عمران:31)

"বল, 'তোমরা যদি আল্লাহ্কে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" [সূরা আলে-ইমরামঃ ৩১]

আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ

)لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً) (الأحزاب:21)

"তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাহ্কে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [সূরা আল-আহযাবঃ ২১]

চার : রাসূলের সুন্নাহর কাছে ফয়সালা চাওয়া এবং কোনরূপ বৈরীভাব প্রকাশ না করে তাঁর রায়ে সন্তুষ্ট থাকা। আল্লাহ্ তা'আলা বলছেন,

)فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً) (النساء:65)

"কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! তারা মু'মিন হবেনা যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে; অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বদ্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে লয়।" [সূরা আন্-নিসাঃ ৬৫]

পাঁচ : একমাত্র তাঁর আনীত শরীয়ত মোতাবেক আমরা আল্লাহর ইবাদাত করবো। নানা যুক্তি প্রমাণ, খেয়াল-খুশি, ব্যক্তি-স্বার্থ, বাপ-দাদার রসম-রেওয়াজ অথবা বিদআত দ্বারা প্রভাবিত হব না। বরং বিশুদ্ধ সূত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যা প্রমাণিত হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করবো। যেহেতু তিনিই আল্লাহর বাণীবাহক। নিঃসন্দেহে তিনি আমানতদারির সাথে আল্লাহর রিসালাহ পেঁৗছে দিয়েছেন। উম্মতকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। যা কিছু কল্যাণকর তিনি তার নির্দেশনা দিয়েছেন, যা কিছু ক্ষতিকর তা থেকে তিনি সতর্ক করেছেন। (আমাদের পিতা-মাতা তার জন্য উৎসর্গ হোক।) আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর মাধ্যমে নেয়ামতকে পূর্ণ করেছেন, দ্বীনকে কামেল ঘোষণা করেছেন। অতএব একমাত্র তাঁর শরীয়তেই রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

) الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً )(المائدة: من الآية3)

"আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাংগ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" [সূরা আল-মায়েদাঃ ৩]



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )