কুরআন থেকে
আর তিনিই পানি থেকে একটি মানুষ তৈরি করেছেন, আবার তার থেকে বংশীয় ও শ্বশুরালয়ের দু’টি আলাদা ধারা চালিয়েছেন৷ ত...

হাদিস থেকে
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. ইয়াহ্ইয়া ইবন ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া   
Wednesday, 13 December 2006
আর্টিকেল সূচি
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি
প্রথম চিঠি
দ্বিতীয় চিঠি
তৃতীয় চিঠি
চতুর্থ চিঠি
পঞ্চম চিঠি

পঞ্চম চিঠি

প্রিয় হাজী ভাই,

আল্লাহ্ আপনাকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সম্মানিত করুন। আপনি কি জানেন বর্তমান বিশ্বের সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে, বিজাতিদের সর্বগ্রাসী আক্রমণে এবং সকল কুফরী শক্তির দরাজ কণ্ঠের প্রকাশ্য শত্রুতাময় পরিস্থিতিতে মুসলিম জাতির যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আকীদা; যাকে নির্মল, পরিপাটি ও বিশুদ্ধ করা দরকার। কেননা, সঠিক আকী্বদাই মুসলিম জাতিকে অন্য সকল জাতি থেকে বিশেষত্ব দিয়েছে এবং কাফের-মুশরিকদের মধ্যে তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে। সঠিক আক্বীদাই হতে পারে মুসলিম ঐক্যের মূলমন্ত্র এবং শত্রুর যাবতীয় শত্রুতাকে পরিহত করার ধারলো অস্ত্র। একমাত্র আকীদার মাধ্যমে শত্রুর যাবতীয় ষড়যন্ত্রের সঠিক রূপরেখা উপলব্দি করা সম্ভব। অতএব আকীদাই হলো মুসলিম উম্মাহর বিশেষত্ব।

আকীদার যে দিকটির উপর মুসলিম উম্মাহ্র অস্তিত্ব নির্ভরশীল, যা কুফরী জাতীয়তায় বিলীন হওয়া থেকে উম্মাহ্কে রক্ষা করে এবং উম্মাহ্র ঐক্য ও সংহতিকে মজবুত রাখে তা হল - 'বাবুল ওলা ওয়াল বারা' তথা "বন্ধুত্ব এবং শত্রুতার অধ্যায়"। (এর দ্বারা উদ্দেশ্যে হল, একজন মুমিন তার বন্ধু বা শত্রু নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কি নীতিমালা অবলম্বন করবে তার নির্দেশনা।) আর এই আকীদাটি মুসলিম জীবন থেকে মুছে ফেলার জন্য শত্রুরা সব ধরণের মিডিয়ার মাধ্যমে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কিভাবে এই আকীদাকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করবে, অথচ আল্লাহ্ তা'আলা প্রতিদিন অন্ততঃ সতের বার ইয়াহূদী এবং খৃষ্টানদের নীতি থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.

"সূরা ফাতেহা পাঠ করা ছাড়া কোন নামাজ নেই।" আপনি কি মনে করেন যে, মুসলিম সমাজগুলোর উপর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে খুব শীঘ্র এই আকীদা বিলীন হয়ে যাবে? অথচ তারা প্রতিটি দিন-রাতে পাঠ করছেঃ

)اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ) (الفاتحة:6) )صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ) (الفاتحة:7)

"আমাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন; তাদের পথ যাদেরকে আপনি নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয় যারা আপনার অভিশাপ প্রাপ্ত এবং যারা পথভ্রষ্ট।" অর্থাৎ, তাদের পথ নয় যাদের উপর অভিসম্পাত পতিত হয়েছে। আর তারা হচ্ছে ইয়াহূদীরা। কেননা তাদের কাছে ইলম ছিল, কিন্তু তারা ইলম অনুযায়ী আমল করেনি। আর তাদের পথও নয় যারা পথভ্রষ্ট, তারা হচ্ছে খৃষ্টান সমপ্রদায়। যারা আল্লাহর ইবাদাত করেছে অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যেক মুসলিমের সামনে মহাগ্রন্থের যে আয়াতগুলো রয়েছে, তা সকল মুসলিমকে কোন কাফেরের প্রতি কোন রকম আস্থা, ঝোঁক ও বিশ্বাস স্থাপন করা থেকে সতর্ক করে দিচ্ছে, তাদের সাথে কারো সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা; চাই তার কুফরী যে রকমই হোক না কেন। কুরআনে-কারীম 'একক সত্তার ইবাদাত' এবং 'বন্ধুত্ব ও শত্রুতা' বিষয়ে প্রতিটি দিক থেকে বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা পেশ করেছে। যার ফলে পূর্ববর্তী মুসলিম সমাজ তার সব ধরণের কাজ-কর্মে, সর্ব পরিস্থিতিতে ছিল এক দেহের ন্যায়। কাফেরের প্রতি তাদের কোন আস্থা ছিল না। তাদের সংবাদ, প্রতিশ্রুতি, অঙ্গিকার বা কথা-বার্তায় তারা বিশ্বাস করত না। আর যখনি 'বন্ধুত্ব ও শত্রুতার আকীদা' দূর্বল হয়ে পড়ে বা সমূলে হারিয়ে যায় এবং মানুষের মাঝে এ বিষয়ে অজ্ঞতা বিরাজ করে তখনি তারা তাদের শত্রুদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে তাদের উপর নেমে আসে নিকৃষ্টতম আযাব, তাদের সম্মান ও মর্যাদা ধুলায় ভুলুন্ঠিত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে আলেমসমাজ জেগে উঠেন- বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে জাতিকে হুশিয়ার করেন, ইলম ছড়িয়ে দেন এবং সন্দেহ-সংশয়ের জবাব দেন। এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আলেমরা যা উল্লেখ করে থাকেন তার কিছু নিম্নে পেশ করার প্রয়াস পাব।

এক : মুসলিম আল্লাহর কিতাবে পাঠ করেন যে, মুসলিমদের ব্যাপারে কাফেরদের অবস্থান দু'টি। হয় তাকে নিকৃষ্টভাবে হত্যা করবে অন্যথায় তাকে তার দ্বীন থেকে ফিরিয়ে আনবে। এর বাইরে অন্য কিছু না।

)إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَنْ تُفْلِحُوا إِذاً أَبَداً) (الكهف:20)

"যদি তারা তোমাদের উপর বিজয়ী হয়, তাহলে তোমাদের হত্যা করবে অথবা তাদের ধর্মে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবে, তাহলে তোমরা কখনোই সফল হবে না।" [সূরা আল-কাহ্ফঃ ২০]

দুই : সতর্ক মুসলিম মানেই একথা জানেন যে, কাফেররা আমাদের হত্যা এবং কষ্ট দিতে বদ্ধপরিকর আর তারা ততক্ষণ পর্যন্ত শান্তিবোধ করবে না যতক্ষণ না আমাদেরকে আমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে যদি তারা পারতো। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)َ يُقَاتِلُونَكُمْ حَتَّى يَرُدُّوكُمْ عَنْ دِينِكُمْ إِنِ اسْتَطَاعُوا وَمَنْ يَرْتَدِدْ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَيَمُتْ وَهُوَ كَافِرٌ فَأُولَئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ)(البقرة: من الآية217)

"তারা তোমাদেরকে হত্যা করতেই থাকবে যতক্ষণ না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে না দিবে যদি তারা তা পারতো। আর তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফের অবস্থায় মৃতু্যবরণ করবে, দুনিয়া ও আখেরাতে তাদের আমলসমূহ ধ্বংস হয়ে গেল। আর তারাই হচ্ছে জাহান্নামবাসী এবং তারা সেখানে সর্বদাই থাকবে।" [সূরা আল-বাকারাহঃ ২১৭]

তিন : ইয়াহূদী এবং খৃষ্টানদের জন্য আপনি যতই হীন হন না কেন এবং নিজের অধিকার ত্যাগ করে তাদের সন্তুষ্টির যতই চেষ্টা করুন না কেন এবং যতই অপদস্থতা ও অপমানকে মেনে নেন না কেন এবং তাদের প্রতিটি ইচ্ছাই পূরণ করুন না কেন, তবুও তারা কখনোই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবেন। এবং নিজ দ্বীন, আকীদা ও স্বজাতি থেকে পৃথক না হবেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ )(البقرة: من الآية120)

"ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা কখনোই আপনার উপর সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করবেন।" [সূরা আল-বাকারাহঃ ১২০]

চার : তারা আমাদের প্রতি যতই মমত্ববোধ, ভালবাসা এবং অধিকার সংরক্ষণের আগ্রহ দেখাক না কেন, এসব তাদের বেলায় শুধুমাত্র মৌখিক। অন্যদিকে তাদের অবস্থা এবং অন্তরসমূহ আমাদের শত্রুতায় বদ্ধ পরিকর। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)ً يُرْضُونَكُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَى قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ)(التوبة: من الآية8)

"তারা তাদের মুখ দিয়ে তোমাদের সন্তুষ্ট করে আর তাদের অন্তরসমূহ তা অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই ফাসেক।" [সূরা আত্-তাওবাহ্ঃ ৮]

পাঁচ : তারা আমাদের ক্ষতি করতে প্রচেষ্টার কোন ত্রুটি করে না। যখন আমাদের উপর কোন অনিষ্ট বা বিপদাপদ পেঁৗছে, তখন এটাই হয় তাদের আনন্দ, খুশি এবং ভালবাসার উদ্দেশ্য। তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারী দেখতে পাবে যে, কেবল তাদের মৌখিক প্রকাশ আর তাদের অন্তর যা গোপন করে তা অত্যন্ত জঘন্য। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا بِطَانَةً مِنْ دُونِكُمْ لا يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْآياتِ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ) (آل عمران:118)

"হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে সঙ্গী-সাথী হিসেবে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের ক্ষতি করতে ছাড়বে না। তারা তোমাদের কষ্ট দিতে চায় আর তাদের মুখ থেকে শত্রুতা প্রকাশ পেয়েছে আর তাদের অন্তর যা গোপন করে তা অতি জঘন্য। আমি তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বর্ণনা করে দিয়েছি; যদি তোমরা বুঝতে পার।" [সূরা আলে-ইমরানঃ ১১৮]

আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ

)إِنْ تَمْسَسْكُمْ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ وَإِنْ تُصِبْكُمْ سَيِّئَةٌ يَفْرَحُوا بِهَا وَإِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا لا يَضُرُّكُمْ كَيْدُهُمْ شَيْئاً إِنَّ اللَّهَ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ) (آل عمران:120)

"যদি তোমাদের কারো কল্যাণ সাধিত হয়, তা তাদের কষ্ট দেয়, আর যদি তোমাদের কোন অনিষ্ট হয়, তাতে তারা খুশি হয়। যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং আল্লাহ্কে ভয় কর, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ্ তাদের সকল কর্ম বেষ্টনকারী।" [সূরা আলে-ইমরানঃ ১২০] আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তারা নির্জনে যখন একে অপরের সাথে মিলিত হয় তখন আমাদের উপর সবচাইতে নিকৃষ্ট কঠিন রাগ ও হিংসা পোষণ করে। আল্লাহ্ বলেনঃ

) وَإِذَا خَلَوْا عَضُّوا عَلَيْكُمُ الْأَنَامِلَ مِنَ الْغَيْظِ )(آل عمران: من الآية119)

"যখন তারা একাকী হয় তখন তোমাদের উপর রাগে নিজেদের আঙ্গুল কামড়ায়।" [সূরা আলে-ইমরানঃ ১১৯]

আর এটা খুবই পরিচিত বিষয় যে, মানুষ যখন রাগান্বিত হয়, তখন নিজ আঙ্গুল কামড়ায়। কিন্তু তারা যখন রাগান্বিত হয় তখন আমাদের প্রতি তাদের রাগের প্রচণ্ডতার কারণে তাদের সব আঙ্গুলই কামড়ায়।

ছয় : সন্তান-সন্ততি বা আত্মীয়-স্বজনদের বিপদের আশংকা করে কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার যুক্তি অগ্রহণযোগ্য। আল্লাহ্ বলেনঃ

)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ تُلْقُونَ إِلَيْهِمْ بِالْمَوَدَّةِ )(الممتحنة: من الآية1)

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার এবং তোমাদের শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না এবং তাদের প্রতি ভালবাসা পোষণ করো না।" [সূরা আল-মুমতাহিনাঃ ১]

অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা যারা মাল এবং সন্তান-সন্তুতির অভিযোগ করে, তাদের উপমা দিয়ে বলেনঃ

)لَنْ تَنْفَعَكُمْ أَرْحَامُكُمْ وَلا أَوْلادُكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَفْصِلُ بَيْنَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ) (الممتحنة:3)

"কেয়ামতের দিন তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি কোন উপকারে আসবে না; বরং তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে। আর আল্লাহ্ তোমাদের কর্মসমূহ দেখছেন।" [সূরা আল-মুমতাহিনাঃ ৩] সাত: কাফেররা যদিও তাদের নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য করে থাকে এবং তাদের মাঝে যুদ্ধ-বিগ্রহও সংঘটিত হয়, কিন্তু এ জাতির বিরুদ্ধে যদি যুদ্ধ করতে হয় তখন তারা একীভুত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যাবে। তখন তারা সে বিষয়ে এক জাতিতে পরিণত হবে এবং একে অপরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পোষণ করবে। আর মুমিনরা যখন পরস্পর ঐক্যবদ্ধ না হবে এবং পরস্পরের বন্ধুত্ব গ্রহণ না করবে তখন তাদের উপর নিপতিত হবে মহাধ্বংস এবং বিরাট পরীক্ষা। আল্লাহ্ বলেনঃ

)وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ إِلَّا تَفْعَلُوهُ تَكُنْ فِتْنَةٌ فِي الْأَرْضِ وَفَسَادٌ كَبِيرٌ) (لأنفال:73)

"আর যারা কুফরী করেছে তারা একে অপরের বন্ধু, তারা যা করে তা হবে দুনিয়ার মধ্যে বিপদ এবং মহাধ্বংস।" [সূরা আল-আনফালঃ ৭৩]

আট: নিজের অজান্তে ইয়াহূদী বা খ্রীষ্টানে পরিণত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা তোমাদের সবার জন্য আবশ্যক। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ

)يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاءَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ) (المائدة:51)

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু আর তোমাদের যে ব্যক্তি তাদের বন্ধু হবে সে তাদের অন্তভর্ুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ অত্যাচারী সমপ্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।" [সূরা আল-মায়েদাঃ ৫১]

মহান আল্লাহ্ পিতা এবং ভাইকেও যেখানে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন যদি তারা কাফের হয়; তাহলে সেখানে কিভাবে অন্যদের গ্রহণ করা যাবে? আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ )يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْأِيمَانِ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ مِنْكُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ) (التوبة:23)

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের পিতা এবং ভাইকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের চেয়ে কুফরকে বেশী ভালবাসে, আর তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, তারাই হবে অত্যাচারী।" [সূরা আত্-তাওবাহঃ ২৩]

আল্লাহ্ তা'আলা কাফেরকে ভালবাসা থেকে সতর্ক করেছেন যদিও তারা পিতা বা সন্তান বা ভাই হয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)لا تَجِدُ قَوْماً يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْأِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ) (المجادلة:22)

"এমন কোন জাতি পাবে না যারা আল্লাহ্ এবং কেয়ামতের দিবসকে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের শত্রুদের ভালবাসে, যদিও তারা তাদের পিতা বা সন্তান বা ভাই বা আত্মীয় হয়। এরা তারাই যাদের অন্তরে আল্লাহ্ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ্ দ্বারা জোরদার করা হয়েছে।" [সূরা মুজাদালাহঃ ২২] সম্মানিত ভাই, জেনে রাখুন, কাফেরদের ভালবাসা, তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ যেসব আলামত যা আলেমগণ বর্ণনা করেছেন, সেগুলো যেমন-

১) চরিত্র এবং পোষাক এবং অন্যান্য বিষয়ে তাদের সদৃশ হওয়া, কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

من تشبَّه بقومٍ فهو منهم

অর্থাৎ, "যে ব্যক্তি কোন সমপ্রদায়ের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে, সে তাদের অন্তভর্ুক্ত হবে"।

২) মুসলিমদের উপর তাদের সাহায্য-সহযোগিতা, এটা ইসলাম বিরোধিতার মধ্যে একটি এবং ইসলাম ধর্ম ত্যাগের কারণসমূহের মধ্যে একটি।

৩) তাদেরকে বন্ধু বানানো যে বন্ধুত্বের মাধ্যমে তারা মুসলিমদের গোপন খবর নিতে পারে এবং এমনিভাবে তাদেরকে সঙ্গী-সাথী এবং উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করা।

৪) তাদের ঈদ এবং আনন্দানুষ্ঠানে শরিক হওয়া বা তাতে সহযোগিতা করা বা তাদের অভিনন্দন জানানো।

((((((কাজ চলছে))))))

পবিত্র হজ্জ মৌসুম এখন, তাই দ্রুত আপলোড করতে হলো। আপাততঃ দৃশ্যমান ভুলগুলোর জন্য দুঃখিত। খুব শীঘ্রই বানান ভুলসহ অন্যান্য এডিটিং সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )