আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. ইয়াহ্ইয়া ইবন ইব্রাহীম আল-ইয়াহ্ইয়া   
Wednesday, 13 December 2006
আর্টিকেল সূচি
হজ্জ ও উমরাহ্ পালনকারীদের প্রতি কিছু খোলা চিঠি
প্রথম চিঠি
দ্বিতীয় চিঠি
তৃতীয় চিঠি
চতুর্থ চিঠি
পঞ্চম চিঠি

প্রথম চিঠি

সুপ্রিয় হাজীভাই,

আপনার প্রথম উদ্দেশ্যে, একমাত্র উদ্দেশ্য, যার জন্য আপনি এ পবিত্র নগরীতে আগমন করেছেন তা ভুলে গেলে চলবে না, আর তা হচ্ছে হজ্জ পালন করা। তাই জেনে নিন -আল্লাহ্ আপনাকে হেফাযত ও তত্ত্বাবধায়ন করুন- হজ্জ সহ সকল নেকআমল আল্লাহ্ তা'আলার কাছে কবুল ও প্রতিদান যোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে-

প্রথমত: নিরঙ্কুশভাবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সকল নেকআমল হতে হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

((وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ))

البينة:5

((আর তাদেরকে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য দ্বীনকে নিরঙ্কুশ করে ইবাদাত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।)) [সূরা আল-বাইয়্যেনাহঃ ৫]

দ্বিতীয়ত: সমস্ত নেকআমল রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত বা তরিকা অনুযায়ী সঠিকভাবে হতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামেরশাদ করেছেনঃ

من عمل عملا ليس عليه أمرنا فهو رد.

((যে এমন কাজ করল যাতে আমাদের অনুমোদন নেই তা প্রত্যাখ্যাত।)) অর্থাৎ, তার সে আমল তার প্রতি প্রত্যাখ্যাত এবং তার কাছ থেকে অগ্রহণযোগ্য।

সুতরাং আপনার সম্পূর্ণ গুরুত্ব ও প্রচেষ্টা হওয়া দরকার আপনার আমল গ্রহণযোগ্য হল কি হল না সে ক্ষেত্রে। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের ক্ষেত্রে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্যে এভাবে বলেছেনঃ

خذوا عني مناسككم.

"তোমরা আমার কাছ থেকে হজ্জের বিধান গ্রহণ করো।" অর্থাৎ, তোমরা জান এবং সে অনুযায়ী আমল কর যা আমি হজ্জে সম্পাদন করেছি, নিজেদের পক্ষ থেকে কোন বেদআত করো না। সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম হচ্ছে সেভাবে হজ্জ ও উমরার বিধানসমূহ আদায় করা যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে এ বিধানগুলো বর্ণিত ও অনুসৃত হয়েছে। যাতে করে এর মাধ্যমে আল্লাহর ভালবাসা ও ক্ষমা লাভ করা যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

)قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ) (آل عمران:31)

"বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্কে ভালবেসে থাক তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ্ সমূহ ক্ষমা করবেন।" [সূরা আলে-ইমরানঃ ৩১]

সুপ্রিয় হাজীভাই,

সুতরাং আপনার অন্যতম কর্তব্য হচ্ছে হজ্জের বিধানসমূহ যথাযথভাবে জেনে নেয়া এবং হজ্জের কার্যাদি শুরু করার আগে আলেমদেরকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা। এখানে আমি হজ্জ ও উমরার সম্পাদন পদ্ধতি সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করবো, আপনার কর্তব্য হবে এক্ষত্রে বিস্তারিত যা লেখা হয়েছে তা পাঠ করা ও জেনে নেয়া।

১. মীকাতে পেঁৗছে যথাসম্ভব অপবিত্রতা থেকে যেভাবে গোসল করে থাকেন সেভাবে গোসল করবেন। যদি উত্তম কোন সুগন্ধি থাকে তা ব্যবহার করবেন। অতঃপর ইহরামের কাপড় পরবেন। আর তা হচ্ছে ২টি সাদা চাদর। আর মহিলারা যেকোন ধরনের পোষাক পছন্দ করে, সেগুলো পরবে। তবে তাতে সৌন্দর্য্যের খোলামেলা প্রকাশ ও পুরুষদের পোষাক সাদৃশ হতে পারবে না। অতঃপর একথা বলে উমরার ইহরাম করবেঃ

لَبَّيْكَ عُمْرَةً (লাব্বাইকা উমরাতান)

অতঃপর তালবিয়া যেভাবে এসেছে তা পাঠ করবেনঃ

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَ النِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكُ لَا شَرِيْكَ لَكَ.

লাব্বায়েকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়েক, লাব্বায়েকা লা-শারিকালাকা লাব্বায়েক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়'মাতা লাকা, ওয়াল মুলকা লা শারিকালাকা।

মনে রাখবেন মীকাত হতে ইহরাম করা ওয়াজিব। আপনি যদি হজ্জ অথবা উমরা পালন করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে ইহরাম ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করা আপনার জন্য জায়েয নেই।

২. যখন আপনি ইহরামের নিয়ত করবেন তখন আপনাকে জানতে হবে যে, ইহরামের কারণে আপনার উপর নিম্নোক্ত বিষয়গুলো হারাম হয়ে যাবেঃ

ক. শরীরের যে কোন ধরনের পশম বা চুল কাটা, যেহেতু আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেনঃ

) وَلا تَحْلِقُوا رُؤُوسَكُمْ حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ)(البقرة: من الآية196)

"আর তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মাথা মুন্ডন করো না যতক্ষণ পর্যন্ত না হাদী (হজ্জের কুরবানী) যথাস্থানে পেঁৗছবে।" [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৬]

খ. শরীর, পোষাক-পরিচ্ছেদ ও খাদ্যে সুগন্ধি ব্যবহার করা, যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে ব্যক্তির হাদীসে বলেছেন, যে ব্যক্তি বাহন থেকে পড়ে মারা গিয়েছেঃ

لا تحنطوه ولا تخمروا رأسه.

"তোমরা তাকে সুগন্ধি লাগিও না এবং তার মাথা ঢেকে দিও না।"

মুহরিমের জন্য এমন পোষাক পরিধান করা জায়েয নেই যাতে সুগন্ধি রয়েছে অথবা এ জাতীয় কোন বস্তু ব্যবহার করা হয়েছে যেমন ওরাস ও জাফরান ইত্যাদি।

গ. স্ত্রী সহবাস করা। আর এটা নিষিদ্ধ কাজ সমূহের মধ্যে কঠোরতম কেননা তাহাল্লুলে আউয়ালের পূর্বে যদি স্ত্রী সহবাস ঘটায়, তাহলে তা হজ্জকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তার উপর এ হজ্জ সম্পূর্ণ করা ও একটি উট জবেহ করা অপরিহার্য হয়ে যায়।

অনুরূপভাবে কামভাব প্রবল হয়ে সহবাসপূর্ব যে কোন কাজ চাই তা চুম্বন করা ,গুপ্তস্থান ব্যতিরেকে সহবাস করা অনুরূপ অন্যসকল কাজ হারাম বা নিষিদ্ধ।

ঘ. মুহরিমের জন্য বিবাহের আক্দ সম্পন্ন করা হারাম, মুহরিম বিয়ে করতে পারবে না এবং কাউকে বিয়ে দিতেও পারবে না। যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "মুহরিম বিয়ে করবে না, অন্যকে বিয়ে দিবে না এবং বিয়ের প্রস্তাব পেশ করবে না।"

ঙ. পুরুষদের উপর বিশেষ করে সেলাই করা কাপড় পরা হারাম। সেলাই করা কাপড় বলতে বুঝায় যা শরীরের মাপ অনুযায়ী তৈরী করা হয়। যেমন পাঞ্জাবী, জামা অথবা শরীরের কোন অংশের পরিমাপে তৈরী করা হয় যেমন,গেঞ্জি,পায়জামা। পুরুষদের উপর অনুরূপভাবে মাথার সাথে জুড়ে থাকে যেমন- পাগড়ী, টুপি ইত্যাদি দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা হারাম।

চ. মুহরিম নারী পুরুষ সকলের উপর স্থলচর প্রাণী শিকার করা, শিকারে সাহায্য করা এবং শিকারকে তার স্থান থেকে তাড়ানো হারাম।

ছ. মহিলাদের উপর বিশেষ করে নেকাব ব্যবহার করা হারাম। নেকাব হচ্ছে মুখমণ্ডল ঢাকার জন্য এমন আচ্ছাদন ব্যবহার করা যাতে কেবল চোখ খোলা রাখার ব্যবস্থা থাকে। অনুরূপভাবে মাহিলাদের উপর হাত মোজা ব্যবহার করাও হারাম আর তা হচ্ছে হাতের পরিমাপ অনুযায়ী যা তৈরী করা। এর প্রমান হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যঃ

"মুহরিম নারী নেকাব পরবে না এবং হাত মোজা পরিধান করবে না।"

তবে মুহরিম নারী যদি অপরিচিত বেগানা পুরুষদের সামনে পড়ে যায় সে তার মুখমণ্ডল ঢেকে দিবে। যেহেতু আয়েশা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা বলেনঃ

"হাজীদের দলগুলো আমার পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করতেন। আর আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম তারা যখন আমাদের পাশাপাশি চলে আসতো, আমাদের মহিলারা তাদের মাথা হতে পূর্ণগাউন তাদের মুখের উপর নামিয়ে দিতেন, [মুখ ঢেকে নিতেন] আর তারা যখন আমাদের অতিক্রম কের যেত আমরা তা খুলে দিতাম।"

৩. অতঃপর মক্কা পেঁৗছে কাবা ঘরের তাওয়াফ শুরু করা পর্যন্ত বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করবেন। যখন মক্কায় পেঁৗছবেন তখন কাবা ঘরের চারদিকে সাত চক্কর তাওয়াফ করবেন হাজরে আসওয়াদ থেকে তাওয়াফ শুরু করবেন এবং হাজরে আসওয়াদে গিয়ে এক চক্কর শেষ করবেন। অতঃপর মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে অথবা কাছাকাছি যেকোন স্থানে দু'রাকা'আত নামায পড়বেন।

৪.দু'রাকাআত নামায পড়ার পর সাফা পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রাওয়ানা করবেন। এর পর সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাতবার সায়ী করবেন। এটা হবে উমরার সায়ী, আর তা শুরু হবে সাফা পাহাড় হতে এবং শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে। সাফা থেকে মারওয়া পর্যন্ত একবার আবার মারওয়া থেকে সাফা পর্যন্ত একবার, এভাবে সাতবার মারওয়াতে গিয়ে সায়ী শেষ হবে।

৫. যখন সায়ী শেষ করবেন তখন আপনার সম্পূর্ণ মাথা হতে চুল কামাবেন অথবা ছোট করবেন, তবে কামানো উত্তম। এর মাধ্যমেই আপনার 'উমরা শেষ হবে। এবং আপনার জন্য বৈধ হবে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করা।

৬. আর যদি আপনি শুধু মাত্র হজ্জের ইচ্ছা করে থাকেন তাহলে মীকাত হতে 'উমরার পরিবর্তে হজ্জের নিয়ত করবেন এবং বলবেনঃ

لَبَّيْكَ حَجًّا (লাব্বায়কা হাজ্জান)।

অতঃপর ইহরাম অবস্থায় বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করতে থাকবেন জামরায় আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত। যখন আল্লাহর ঘরে পেঁৗছবেন তখন আল্লাহর ঘরের চারদিকে সাত চক্কর তাওয়াফে কুদুম করবেন। আর যদি সাফা ও মারওয়ার মাঝে সায়ী করে থাকেন তাহলে এ সায়ী আপনার হজ্জের সায়ী হিসাবে যথেষ্ট হয়ে যাবে। আপনি মাথার চুল ছোট করবেন না, ঈদের দিন হালাল হওয়ার আগ পর্যন্ত আপনি ইহরাম অবস্থায় থাকবেন।

৭. আর যদি হজ্জ এবং উমরা দু'টি মিলিয়ে কেরান করতে চান তাহলে মীকাতে হতে ইহরাম করার সময় এভাবে বলবেনঃ

لَبَّيْكَ عُمْرَةً وَحَجًّا (লাব্বায়কা উমরাতান ওয়া হাজ্জান)

অতঃপর জামরায় আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত বেশী বেশী করে তালবিয়া পড়বেন এবং শুধু হজ্জ পালনকারী মুফরিদ যেভাবে হজ্জের কাজ সম্পন্ন করবেন সেভাবে বাকী কাজ সম্পন্ন করবেন।

হজ্জের কার্যাবলী

১. জিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মধ্যাহ্নের আগেই আপনি মক্কার যেখানে আছেন সেখান থেকে হজ্জের ইহরাম করে নিবেন যদি তামাত্তু করার ইচ্ছে করে থাকেন। আর সম্ভব হলে গোসল করে নিবেন, অতঃপর ইহরামের কাপড় পরবেন এভাবে বলবেনঃ

لَبَّيْكَ حَجًّا (লাব্বায়কা হাজ্জান)

এ দিন থেকে জামরায় আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত বেশী বেশী তালবিয়া পাঠ করা আপনার অন্যতম কাজ হবে।

২. এরপর মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন, সেখানে গিয়ে যোহর নামায পড়বেন দু'রাকাত, আসরের নামায পড়বেন দু'রাকাত, মাগরিব তিন রাকাত ও এশা দু'রাকাত, তবে প্রত্যেক নামায সময় মত আদায় করবেন।

৩. নয় তারিখ আরাফার দিন যখন সূর্য উদিত হবে, তখন তালবিয়া পাঠ করতে করতে আরাফাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। সেখানে যোহর ও আসরের নামায যোহরের ওয়াক্তে একত্রে আদায় করবেন। এক আজানে, দু'একামতে যোহর দু'রাকাত ও আসর দু'রাকাত পড়বেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করবেন। কেবলামুখী হয়ে এখানে বেশী বেশী দো'আ ও যিকির করবেন।

সুপ্রিয় ভাই,

আরাফাতের সীমায় আপনার প্রবেশ নিশ্চিত করবেন। এবং সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফাতের ময়দান হতে কোন অবস্থাতে বের হবেন না।

৫. যখন সূর্য সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত হয়ে যাবে তখন আরাফাত থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে ধীরতা ও প্রশান্তির সাথে রওয়ানা করবেন। মুযদালিফায় পেঁৗছে মাগরিব ও এশা একত্রে এক আজানে ও দু'একামাতে আদায় করবেন। মাগরিব তিন রাকাত এবং এশা দু'রাকাত পড়বেন। অতঃপর সেখানে ফজর নামায পড়বেন। অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দো'আ ও যিকিরের জন্য অবস্থান করবেন।

৬. সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে মুযদালিফা থেকে তালবিয়া পাঠ করতে করতে মুযদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। মিনায় পেঁৗছে ঐদিন নিম্নোক্ত কাজসমূহ সম্পন্ন করবেনঃ

ক. জামরায় আকাবাতে রমি বা পাথর নিক্ষেপ করবেন। মক্কা হতে এটা সবচেয়ে নিকটবর্তী জামরাহ। এতে পরপর সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলবেন। কঙ্কর যাতে হাউজের মধ্যে পড়ে এ ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করবেন।

খ. হাদী জবেহ করবেন, তা থেকে নিজেও খাবেন এবং ফকির মিসকিনদের প্রতি সাদকাহ করবেন। তামাত্তু ও কিরান হজ্জ সম্পাদনকারীর উপর হাদী জবেহ করা ওয়াজিব। তবে যদি সম্ভব না হয় তাহলে হজ্জের মধ্যে তিনদিন রোযা রাখবেন এবং পরিবার পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে সাতটি রোযা রাখবেন। সর্বমোট দশটি রোযা।

গ. মাথার চুল কামাবেন অথবা ছোট করবেন। তবে চুল কামানোই উত্তম। মুহরিম নারী শুধুমাত্র এক কর পরিমাণ চুল ছোট করবেন।

এ তিনটি কাজই সম্পন্ন করবেন, প্রথমে কংকর নিক্ষেপ, তারপর জবেহ, তারপর চুল কামানো; যদি সম্ভব হয় এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করবেন। তবে এ কাজ গুলোর মধ্যে একটি অন্যটির চেয়ে আগে পরে করার মধ্যে কোন সমস্যা নেই। রমি ও হলক অথব কসরের পর আপনি প্রথমিক হালাল হয়ে যাবেন। এরপর আপনি স্বাভাবিক পোষাক পরতে পারবেন এবং ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ সকল কাজ আপনার জন্য হালাল হয়ে যাবে কেবল স্ত্রী সহবাস ব্যতীত।

৭. অতঃপর মক্কায় যাবেন, সেখানে গিয়ে তাওয়াফে ইফাদা বা হজ্জের তাওয়াফ পালন করবেন। এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে হজ্জের সায়ী শেষ করবেন যদি আপনি তামাত্তুকারী হয়ে থাকেন। এর মাধ্যমে আপনি দ্বিতীয়বারের মত সম্পূর্ণরূপে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যাবেন এবং আপনার জন্য ইহরামের নিষিদ্ধ সকল কাজ হালাল হয়ে যাবে এমনকি স্ত্রী সহবাসও হালাল হয়ে যাবে।

৮. আর আপনি যদি কিরানকারী অথবা ইফরাদ হজ্জকারী হয়ে থাকেন তাহলে আল্লাহর ঘরে সাতবার তাওয়াফ করবেন। আর তাওয়াফে কুদুমের সাথে যদি সায়ী না করে থাকেন তাহলে সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করবেন।

৯. অতঃপর তাওয়াফ ও সায়ী করে মিনায় ফিরে যাবেন। এবং মিনায় এগার ও বার তারিখের রাত্রি যাপন করবেন।

১০. এরপর এগার ও বার তারিখ সূর্য হেলে যাওয়ার পর তিন জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রথমটি থেকে শুরু করবেন এটা মক্কার দিক থেকে সর্বশেষটি,এরপর মধ্যবর্তীটি এরপর জামরায় আকাবায়। প্রত্যেকটিতে পরপর সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। প্রত্যেক কঙ্কর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলবেন। প্রথম ও দ্বিতীয়টির পর কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে দো'আ করা মুস্তাহাব। এ দুইদিন সূর্য হেলে যাওয়ার আগে কঙ্কর নিক্ষেপ করা বৈধনা এবং তা আদায় হবে না।

১১. বার তারিখ রমি করার পর আপনি যদি ইচ্ছে করলে মিনা থেকে সূর্যাস্তের পূর্বেই প্রস্থান করতে পারবেন। আর যদি ইচ্ছে করেন সেখানে থাকতে পারবেন। মনে রাখবেন থাকাটা উত্তম। যদি থাকেন তাহলে আপনি তের তারিখ সেখানে রাত্র যাপন করবেন এবং ঐদিন সূর্য হেলে যাওয়ার পর বার তারিখের ন্যায় সবগুলো জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন।

১২. এরপর আপনি যদি দেশে অথবা গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা করেন তাহলে মক্কা থেকে বের হওয়ার আগে সাতচক্কর আল্লাহর ঘরের বিদায়ী তাওয়াফ করে নিবেন। ঋতুবতী ও প্রসবস্রাব আক্রান্ত মহিলার বিদায়ী তাওয়াফ নেই।

মদীনা শরীফ যিয়ারত

সম্মানিত ভাই,

হজ্জের মৌসুমে অথবা অন্য যে কোন সময় মুসলমানের জন্য সঙ্গত আছে মসজিদে নববী শরিফ যিয়ারত করা। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীসে এরশাদ করেছেনঃ

"তিনটি মসজিদ ব্যতীত আর কোন মসজিদের দিকে (যিয়ারত, সম্মান ও ফযীলত লাভের উদ্দেশ্যে) ভ্রমন করো না; আমার এ মসজিদ, মক্কার মসজিদুল হারাম ও মসজিদুল আকসা।"

সম্মানিত ভাই, আল্লাহ্ তা'আলার হেফাজত ও নিরাপত্তায় যখন আপনি মদীনা শরীফে এসে পৌছবেন প্রথমেই মসজিদে হাজির হয়ে নামায পড়বেন কেননা এ মসজিদে নামায পড়া অন্য মসজিদে একহাজার নামায পড়ার মর্যাদা সম্পন্ন। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

"আমার মসজিদে এক ওয়াক্ত নামায (মক্কার) মসজিদুল হারাম ছাড়া অন্য যে কোন মসজিদে একহাজার নামায (পড়া) অপেক্ষা উত্তম।

তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা, তাদের কবরের সামনে গিয়ে সালাম দিবেন।

প্রিয় ভাই, আপনার জন্য মসজিদে কুবা ও যিয়ারত করা সুন্নাত। এখানে নামায পড়বেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করছেনঃ "যে ব্যক্তি নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এই মসজিদ অর্থাৎ, মসজিদে কুবায় আগমন করবে এবং এতে নামায পড়বে তা তার জন্য একটি উমরা সম্পন্ন করার সম পরিমান সওয়াব হবে।"

বাকী' কবরস্থান ও উহুদের শহীদদের কবরস্থান যিয়ারত করা আপনার জন্য সঙ্গত, যাতে আপনি তাদের জন্য দো'আ ও ইসতিগফার করতে পারেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাকী কবরস্থান ও উহুদের শহীদদের স্থানে আসতেন এবং কবর বাসীদের জন্য এভাবে দো'আ করতেনঃ

"আপনাদের প্রতি সালাম হে কবরবাসী মুমিন ও মুসলিম! আমরাও আল্লাহর ইচ্ছায় আপনাদের সাথে মিলিত হব।"

আল্লাহ্ তা'আলা আপনাকে সকল অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। পবিত্র মদীনা শরীফে এসব স্থান হচ্ছে আপনার জন্য যিয়ারতের বৈধ স্থান। এ ছাড়া অন্য কোন স্থানে যিয়ারত করা, নামায পড়া, কিছুই সুন্নাত সম্মত নয়। কেননা যদি তা আমাদের জন্য সওয়াবের কাজ হত এবং কল্যাণকর হত তাহলে আমাদের হাবীব ও নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা করতে আমাদেরকে নির্দেশ করতেন। কেননা আমরা সবাই এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি রিসালত আমাদের নিকট পেঁৗছিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মাতের কল্যাণ কামনা করেছেন এবং আমাদেরকে এমন একটি উজ্জ্বল ও শুভ্র শরীয়তের উপর রেখে গেছেন যার অস্পষ্ট বিষয়গুলো দিবালোকের মত স্পষ্ট। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই এতে কেবলমাত্র বক্রতা অবলম্বন করে থাকে। আল্লাহ্ তা'আলা তার দ্বীন ও নেয়ামত পরিপূর্ণ করা পর্যন্ত তাকে মৃতু্য দান করেননি। সুতরাং আমার রবের সকল দয়া, প্রশান্তি ও প্রাচুর্য তাঁর প্রতি, তাঁর পরিবার পরিজন ও সকল সাহাবীদের প্রতি।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )