আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
সত্যের সাক্ষ্য প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী   
Saturday, 06 January 2007
আর্টিকেল সূচি
সত্যের সাক্ষ্য
আমাদের দাওয়াত
সত্যের সাক্ষ্য
সাক্ষ্য দানের পদ্ধতি
সত্য গোপনের শাস্তি
মুসলমানদের সমস্যা ও তার সমাধান
মুসলমানদের সমস্যা ও তার সমাধান
আমাদের দাবী
অভিযোগ এবং তার জবাব
যাকাত আদায়ের অধিকার

সাক্ষ্য দানের পদ্ধতি

ভদ্র মহোদয়গণ! সত্যের সাক্ষ্যদানের এ সংকটজনক দায়িত্বই আমরা, আপনার ও যারা মুসলিম জাতি বলে পরিচয় দেয় এবং যাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও নবীদের হিদায়াত বর্তমান রয়েছে, তাদের উপরর ন্যস্ত হয়ে আছে। এখন এ সাক্ষ্য দানের পন্থা কি তা ভেবে দেখুন।সাক্ষ্য দু’রকমের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে মৌখিক সাক্ষ্য, আর একটি বাস্তব সাক্ষ্য।

মৌখিক সাক্ষ্যদান

মৌখিক সাক্ষ্য বলতে বুঝায় নবীর মাধ্যমে আমাদের কাছে যে সত্য এসে পৌছেছে বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে দুনিয়ার সামনে তাকে তুলে ধরা। মানুষকে বুঝাবার ও তাবলীগ এবং প্রচার - প্রোপাগান্ডার সম্ভাব্য সকল উপায় উপকরণ ব্যবহার করে ও আধুনিক জ্ঞান- বিজ্ঞান উদ্ভাবিত সমস্ত মাল- মসলাকে আয়ত্তে এনে আল্লাহর মনোনীত দীনের সাথে দুনিয়ার মানুষের পরিচয় করিয়ে দেয়া। পরন্তু মানুষের চিন্তায়, বিশ্বাসে, নৈতিকতায়, তাহযীব- তামাদ্দুনে, সামাজিক রীতি- নীতিতে, রুজি -রোজগারে, লেনদেন ও আইন- আদালতে, রাজনীতি ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় এবং মানবীয় বিষয়াদি অন্যান্য সকল দিক ও বিভাগের জন্যে এ পেশকৃত শিক্ষাকে অত্যন্ত খোলাখুলিভাবে বিবৃত করা, যুক্তি- প্রমাণের দ্বারা তার সত্যতার প্রমাণ করা এবং এর বিপরীত যত মতাদর্শ বর্তমান রয়েছে যুক্তিপূর্ণ সমালোচনার মাধ্যমে তার দোষ -ক্রটি নির্দেশ করা। কিন্তু যে পর্যন্ত না গোটা মুসলিম জাতি মানুষকে হিদায়াতের পথ দেখানোর জন্য নবীদের ন্যায় চিন্তা ভাবনা করবে, সে পর্যন্ত এ মৌখিক সাক্ষ্যদানের দায়িত্ব পুরোপুরি আদায় হতে পারে না। কর্তব্য পালন করতে হলে এ কাজটিকে আমাদের সামগ্রিক চেষ্টা, সাধনা ও জাতীয় কর্ম- চাঞ্চল্যের কেন্দ্রীয় লক্ষ্যে পরিণত করতে হবে এবং সকল কাজেই এ উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। পরন্তু আমাদের মধ্য থেকে সত্যের বিপরীত সাক্ষ্য দানকারী কোন আওয়াজকেই বরদাশত না করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বাস্তব সাক্ষ্যদান

বাস্তব সাক্ষ্যদানের অর্থ হচ্ছে এই যে,আমরা যেসব নিয়ম নীতিকে সত্য বলে প্রচার করি আমাদের বাস্তব জীবনেও সেগুলোকে প্রতিফলিত করতে হবে। দুনিয়ার মানুষ যেন আমাদের কাছ থেকে ঐ নীতিগুলোর সত্যতা সম্বন্ধে কেবল মৌখিক চর্চাই শুনতে না পায়, বরং তারা যেন স্বচক্ষে আমাদের জীবনে ঐ সবের সৌন্দর্য ও কল্যাণকারিতা প্রত্যক্ষ করতে পারে। ঈমানের কল্যাণে মানুষ নৈতিক চরিত্র ও আচার ব্যবহারের মাধ্যমে তার রসাস্বাদন করতে পারে। এ দীনের পথ -নির্দেশ কেমন আদর্শ মানুষ তৈরি হয়, কিরূপ ন্যায়পরায়ণ সমাজ গঠিত হয়, কেমন সৎ সমাজ ব্যবস্থার গোড়াপত্ত¡ন হয়, কত স্বচ্ছ ও পবিত্র তামাদ্দুন গড়ে ওঠে, কিরূপ সঠিক ধারায় জ্ঞান- বিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যের বিকাশ ঘটে, কি রকম সুবিচার ও সহানুভতিপূর্ণ এবং আর্থিক সহযোগিতার সূচনা হয় আর ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগ কেমন পরিশুদ্ধ, সুবিন্যস্ত ও কল্যাণের সম্পদে ভরপুর হয়ে ওঠে, তা যেন তারা স্বচক্ষে দেখতে পারে। বস্তত আমরা যদি ব্যক্তিগত ও জাতিগতভাবে নিজেরা দীনের মূর্তিমান সাক্ষ্যে পরিণত হতে পারি, আমাদের ব্যক্তি চরিত্র সত্যতার প্রমাণ পেশ করে, আমাদের ঘর- বাড়ী সৌরভে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ তারাই আলোকে আলোকিত হয়ে ওঠে; আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও সাংবাদিকতা তারাই সৌন্দর্য চর্চায় নিয়োজিত হয় এবং আমাদের জাতীয় নীতি ও সম্মিলিত চেষ্টা-সাধনা তার সত্যতার উজ্জ্বল নিদর্শনে পরিণত হয়, তাহলে এ সাক্ষ্যদানের দায়িত্ব যথার্থরূপে পালিত হতে পারে।

মোদ্দা- কথা, যে -কোন স্থানে, যে -কোন ব্যক্তি বা জাতির সাথেই আমাদের সাক্ষাৎ হোক না কেন, আমরা যে নীতিগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করে থাকি এবং যার বদৌলতে মানুষের জীবন বাস্তবিকই সুন্দর ও উন্নত হতে পারে, তারা যেন আমাদের ব্যক্তি ও জাতীয় চরিত্রে সে সব নীতির সত্যতার প্রকাশ প্রত্যক্ষ করতে পারে।

সাক্ষ্যদানের পূর্ণতা

প্রসংগত এ কথাও বলে রাথতে চাই যে, এসব মূলনীতির ভিত্তিতে যখন আমাদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহর দীনকে পুরোপুরি গ্রহণ করে তার বিচার, ইনসাফ, সংস্কারমূলক কার্যসূচি ও সুশৃংখল ব্যবস্থাদি, শান্তি- প্রিয়তা ও জনগণের কল্যাণ সাধন, শাসক শ্রেণীর সচ্চরিত্র, সুষ্ঠু অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইনসাফ ভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতি, ভদ্রতাপূর্ণ যুদ্ধ এবং আনুগত্যমূলক সন্ধির মাধ্যমে এ কথাই সাক্ষ্য দেবে যে, যে দীন বা জীবন ব্যবস্থা এ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে তা সত্যিই মানব কল্যাণের নিশ্চয়তা বিধানে সক্ষম এবং এরূপ রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জাতির সার্বিক কল্যান, কেবল তখনই এ সাক্ষ্যদান পূর্ণাঙ্গ হতে পারে। আর এমনি সাক্ষ্য মৌখিক সাক্ষ্যের সাথে মিলিত হলেই মুসলিম জাতি পুরোপুরি এর দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারে, আর তখনই মানব জাতির সামনে সত্য চূড়ান্তরূপে প্রকাশ পেতে পারে আর আখিরাতের আদালতে দাঁড়িয়ে রসূলল্লাহ (স.)-এর পর আমাদের জাতি এ সাক্ষ্য দেয়ার অধিকারী হতে পারবে যে, হযরত (স.) আমাদের কাছে যা কিছু পৌছিয়েছিলেন আমরা তা দুনিয়ার মানুষের কাছে যথার্থরূপেই পৌছিয়ে দিয়েছি। এতদসত্ত্বেও যারা সত্য পথে আসেনি, তারা নিজেরাই তাদের দুর্গতির জন্য দায়ী।

ভদ্র মহোদয়গণ, মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের কথা ও কাজের মাধ্যমে এমনি সাক্ষ্যদান করাই ছিল কর্তব্য। কিন্তু আজ ভেবে দেখুন, বাস্তবে আমরা কেমন সাক্ষ্য দান করে চলেছি।

মৌখিক সাক্ষ্য বিশ্লেষণ

মৌখিক সাক্ষ্যের কথাই প্রথমে ধরা যাক। আজ ব্যক্তিগত ও সামগ্রিকভাবে বক্তৃতা ও লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের জন্য সাক্ষ্যদানের কাজে ব্যাপৃত রয়েছে এমন খুব কম লোকই আমাদের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তাদের মধ্যেও আবার যথার্থরূপে এ কাজ করে যাচ্ছেন এমন লোকও খুব নগণ্য। যা হোক, এ নগণ্য সংখ্যক যদি বাদ দেয়া হয়, তাহলে দেখা যাবে যে, মুসলিম জাতির সাধারণ সাক্ষ্য ইসলামের অনুকূলে নয়, বরং তারা প্রতিকূলেই চলে যাচ্ছে। আমাদের ভূ- স্বামীগন ইসলামের উত্তরাধিকার আইনের পরিবর্তে জাহেলী রীতিকে যথার্থ বলে সাক্ষ্য দান করেছেন। আমাদের উকিল, মোক্তার ও জজ- ম্যাজিস্ট্রেটগণ ইসলামের যাবতীয় আইন-কানুনকে শুধু ভুল নয়, বরং ইসলামের মৌলিক আইন শাসনকে গ্রহণের অযোগ্য এবং মানব রচিত আইনকে নির্ভূল বলে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। আমাদের শিক্ষক, অধ্যাপক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দর্শন ও ন্যায় শাস্ত্র, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞান, অথর্নীতি ও রাজনীতি এবং আইন শাস্ত্র ও নৈতিক বিধি-বিধান সম্পর্কে ধর্মবিমুখ পাশ্চাত্য মতবাদকে সত্য এবং ইসলামী মতবাদকে ভ্রুক্ষেপ করার ও অনুপযোগী বলে সাক্ষ্য দিচ্ছেন।

অনুরূপভাবে আমাদের সাহিত্যিকগণ সাক্ষ্য দান করছেন যে, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ফ্রান্স ও রাশিয়ার ধর্মবিমুখ নাস্তিক সাহিত্যিকদের যা আদর্শ তাদের আদর্শের তাই এবং মুসলিম সাহিত্যিক হিসেবে তাদের সাহিত্যের কোন স্বতন্ত্র মর্মবাণী নেই।

আমাদের পত্র- পত্রিকা ও প্রচার যন্ত্রগুলো এ কথারই সাক্ষ্য বহন করে যে, অমুসলিমদের কাছে যে সব নীতি এবং প্রচার- পোপাগান্ডার পদ্ধতি রয়েছে তাদেরও নীতি এবং প্রচার পদ্ধতি ঠিক তাই। এখানকার ব্যবসায়ী ও মালিকগন সাক্ষ্য দান করেছে যে, লেন-দেন সম্পর্কীয় ইসলামী পদ্ধতি অনুসরণের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শুধু অমুসলিমদের অনুসৃত পন্থায়ই কাজ-কারবার চলতে পারে। আমাদের নেতৃবৃন্দ সাক্ষ্যদান করে চলেছেন যে, অমুসলিমদের কাছে জাতীয়তা ও স্বদেশিকতার যে যিকির, জাতীয় দাবী-দাওয়া, জাতীয় সমস্যাবলী সমাধান করার যে পন্থা এবং রাজনীতি ও শাসনতন্ত্রের যে মূলনীতি বিদ্যামান রয়েছে। তাদের কাছেও ঠিক তাই রয়েছে।এসব ব্যাপারে যেন ইসলাম তাদেরকে কোন পথের সন্ধান দেয়নি। আমাদের জনগণ সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, তাদের মুখে দুনিয়াবী কাজ- করবারের চর্চাব্যতীত অন্যকোন আলোচ্য বিষয় নেই। তারা এমন কোন ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয় যার আলোচ্য কিছু সময় ব্যয় করতে পারে। আজ শুধু ভারতের (উপমহাদেশে) নয়, বরং সমষ্টিগতভাবে সারা দুনিয়ার মুসলমান যে মৌখিক সাক্ষ্য দান করেছে, এ হচ্ছে তারা নমুনা।

বাস্তব সাক্ষ্য বিশ্লেষণ

এবার বাস্তব সাক্ষ্যের কিছু নমুনা দেখুন। মৌখিক সাক্ষ্যের তুলনায় এ অবস্থা আরো শোচনীয়। অবশ্য কোন কোন স্থানে এমন কিছু সৎ ব্যক্তিও রয়েছেন, যারা নিজেদের জীবনে ইসলামকে প্রতিফলিত করে চলেছেন। কিন্তু বেশীর ভাগ লোকের অবস্থা কি? ব্যক্তিগত জীবনে মুসলিম জনসাধারণ ইসলামের যে প্রতিনিধিত্ব করছে, তা হচ্ছে এই যে ইসলামী পরিবেশে লালিত পালিত ব্যক্তিগণ কোন দিক দিয়েই কুফরী পরিবেশে লালিত পালিত লোকদের তুলনায় উন্নত অথবা স্বতন্ত্র নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তারা ওদের চেয়েও নিকৃষ্ট। তারা মিথ্যা বলতে পারে, খিয়ানত করতে পারে, চুরি-ডাকাতি করতে পারে, দাংগা-ফাসাদ করতে পারে, তারা নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনার যাবতীয় কাজই করতে পারে। নৈতিকতা বিরোধী এসব আচরনে তারা গড়পড়তা হিসেবে কোন কাফির জাতির তুলনায় কম নয়। পরন্তু আমাদের সামাজিক রীতি-নীতি, চাল চলন, উঠা বসা, রসম- রেওয়াজ, উৎসব-আনন্দ, মেলা- উরস, সভা, শোভাযত্রা, মোদ্দা কথা সমাজ জীবনে কোন একটি দিক ও বিভাগেও আমরা ইসলামের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করছি না। আমাদের এসব আচারণ এ কথারই বাস্তব সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, ইসলামপন্থীগণ নিজেদের জন্যে ইসলামের পরিবর্তে জাহিলিয়াতকেই বেশী অনুকরণযোগ্য মনে করছে।

আমরা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে তাতে শিক্ষা, শিক্ষা- পদ্ধতি ও শিক্ষার দর্শন সব কিছুই অমুসলিমদের কাছ থেকে গ্রহণ করে থাকি। কোন সম্মতি কায়েম করলে তার উদ্দেশ্য, গঠন- পদ্ধতি কর্মনীতি সব কিছুই অমুসলিমদের সমিতি থেকে নিয়ে থাকি। আমাদের জাতি কোন সামগ্রিক চেষ্টা সাধনায় আত্মনিয়োগ করলে তার দাবী-দাওয়া, তার তদবীরের পন্থা, দলের গঠনতন্ত্র, নিয়ম-পদ্ধতি, তার প্রস্তাববলী, বক্তৃতা-বিবৃতি সব কিছুই অবিকল অমুসলিম জাতির অনুরূপ হয়ে থাকে। এমন কি যেখানে আমাদের স্বাধীন অথবা আধা-স্বাধীন রাষ্ট্রীয় সরকার বর্তমান রয়েছে, সেখানেও আমরা রাষ্ট্রের ভিত্তি, রাষ্ট্র -ব্যবস্থা এবং যাবতীয় আইন-কানুন অমুসলিমদের কাছ থেকেই ধার করে নিয়েছি। কোন কোন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী আইন শুধু পার্সনাল ল’ হিসাবেই রয়ে গেছে। আর কোন কোন রাষ্ট্রে তো তাকেও পরিবর্তন না করে ছাড়েনি অধুনা লরেন্স ব্রাউন (lawrence brown) নামক জনৈক ইংরেজ লেখক “দি প্রসপেক্টস অব ইসলাম” (The Prospects of Islam) নামক গ্রন্থে বিদ্রুপ করে বলেছেন :

“ আমরা যখন ভারতে ইসলামের দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইনকে সেকেলে ও অকেজো মনে করে রহিত করে দিয়ে কেবল মুসলমানদের পার্সোনাল ল’ হিসেবে রেখে দিয়ে ছিলাম , তখন মুসলমানদের কাছে তা বড় অপছন্দনীয় বলে মনে হচ্ছিল। কারণ এর ফলে তাদের অবস্থা এককালীন ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম যিম্মীদের অনুরূপ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদের নীতি শুধু ভারতীয় মুসলমানদেরই মনঃপূত হয়নি, বরং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও আজ আমাদের অনুসৃত নীতিরই অনুসরণ করছে। তুরস্ক ও আলবেনিয়া তো বিবাহ, তালাক ও উত্তরাধিকার আইন পর্যন্ত আমাদের মানদন্ড অনুযায়ী সংশোধন করে নিয়েছে। এথেকে এ কথাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, ‘আইনের উৎস হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছা মাত্র’-মুসলমানদের এ ধারণাটি নিছক একটি পবিত্র কাহিনী (pious fiction) ছাড়া আর কিছুই ছিল না।”

আজ সারা দুনিয়ার মুসলমান সম্মিলিতভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে যে বাস্তব স্বাক্ষ্য দান করে চলেছে, এ তো হচ্ছে তার নমুনা। আমরা মুখে যাই বলি না কেন, আমাদের সামগ্রিক কার্যকলাপ এ কথার সাক্ষ্য বহন করছে যে, এ দীন ইসলামে কোন নিয়ম-নীতিই আমাদের মনঃপূত নয় এবং এর প্রবর্তিত কানুনের মধ্যেও আমদের কোন কল্যাণ ও মুক্তি নেই।



সর্বশেষ আপডেট ( Tuesday, 03 August 2010 )