আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
মদীনার ফযীলত প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া   
Monday, 26 November 2007
আর্টিকেল সূচি
মদীনার ফযীলত
বরকমতময় মদীনা নগরীর কিছু ফযীলতঃ
মসজিদে নববীর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণঃ
মদীনায় বসবাসের আদবসমুহঃ
মদীনা যিয়ারতের আদবসমূহঃ
বিদ
শরীয়ত সমর্থিত যিয়ারতের উপকারিতা এবং বিদ

মদীনায় বসবাসের আদবসমুহঃ

যাকে আল্লাহ তা‘আলা এ মুবারক মদীনা, ত্বাইবাতুত্তাইবায় বসবাস করার তাওফীক দিয়েছেন তার এটা উপলব্ধি করা ওয়াজিব যে, সে বিরাট এক নে‘আমতের অধিকারী হয়েছে, বিরাট ইহসান তার উপর রয়েছে, ফলে সে এ নে‘আমতের শুকরিয়া আদায় করবে, আল্লাহর এ দয়া ও রহমাতের কারণে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে। সে যেন এটা উপলব্ধি করে যে, জগতের অধিবাসীদের অনেকেই সামান্য সময়ের জন্য হলেও মক্কা ও মদীনা আসার ও অবস্থান করার ইচ্ছা পোষন করে। আবার তাদের মধ্যে এমনও আছে যে, বছরের পর বছর ধরে সামান্য কিছু টাকা অল্প অল্প করে জমাতে থাকে যাতে তাদের এ আশা পূর্ণ হয়।

আমার মনে পড়ে ভারতবর্ষীয় একজন আলেম আমাকে বলেছিলেনঃ পূর্বকালে ভারতবর্ষীয় হাজী সাহেবগণ পাল তোলা পানি জাহাজে চড়ে আসতেন, মক্কা ও মদীনা আসার আগে তারা অনেক লম্বা সময় ধরে সাগর বক্ষে অবস্থান করতেন, তাদের মধ্যে একদল লোক পানি জাহাজে ছিল, মক্কা ও মদীনার শুষ্ক ভুমি তাদের নজরে পড়ার সাথে সাথে তারা আল্লাহর শুকরিয়ায় জাহাজের উপরে সিজদায় পড়ে গিয়েছিল। এ মদীনায় বসবাসের কিছু আদাব রয়েছে, যেমনঃ

প্রথমতঃ মুসলিম যেন এ মদীনাকে তার ফযীলত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসার কারণে ভালবাসে।

ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোন সফর থেকে আসতেন আর মদীনার ঘর বাড়ী তার নজরে পড়ত তখন তিনি বাহনের গতি বাড়িয়ে দিতেন, আর যদি তিনি সওয়ারীর পিঠে থাকতেন তাকে তাড়াতাড়ি চালাতেন মদীনার মহব্বতের কারণে। দ্বিতীয়তঃ মুসলিম যেন এ মদীনাতে আল্লাহর দ্বীনের উপর অটুট থাকার ব্যাপারে যতœবান হয়, আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে পূর্ণভাবে নিয়োজিত থাকে। কোন প্রকার বিদ‘আত বা গুনাহের কাজ থেকে সদা সতর্ক থাকে; কেননা এ মদীনাতে নেক কাজ করা যেমনিভাবে বিরাট মর্যাদাপূর্ণ তেমনিভাবে এখানে বিদ‘আত ও গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়াও ভয়াবহ পরিণতির কারণ; কেননা যে ব্যক্তি হারাম এলাকায় আল্লাহর নাফরমানি করে সে হারাম এলাকার বাইরে নাফরমানি করার চেয়ে বেশী বড় ও কঠোর গুনাহগার। আর হারাম এলাকায় গুনাহ পরিমাণের দিক থেকে বর্ধিত না হলেও, মারাত্মক পরিণতি ও ভয়াবহতার দিক থেকে বর্ধিত হয়। তৃতীয়তঃ মুসলিম যেন এ মদীনাতে অবস্থানকালে পরকালীন লাভের বিষয়ে বেশী যতœবান হয়, যেখানে বহুগুন বর্ধিত হারে সে লাভ অর্জন করতে পারে, আর সেটা সম্ভব এ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে সাধ্যমত বেশী বেশী করে নামায আদায় করার মাধ্যমে; কেননা এতে করে সে বিরাট সওয়াবের অধিকারী হতে পারে। ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “আমার এ মসজিদে এক নামায, মসজিদে হারাম ব্যতীত অন্যান্য মসজিদে এক হাজার নামাযের চেয়েও উত্তম”।

চতুর্থতঃ মুসলিম যেন এ মুবারক মদীনাতে কল্যাণ ও ভাল কাজের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়; কেননা সে এমন এক নগরীতে বসবাস করছে যেখান থেকে আলো দিগি¦দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল, আর এখান থেকেই হিদায়াতের মশালবাহী সংস্কারকগণ জগতের চারিদিকে বের হয়েছিল। সুতরাং যারা এ মদীনার যিয়ারতে আসবে তারা এখানকার অধিবাসীদেরকে অনুসরণীয় চরিত্র, ভাল গুণে গুণান্বিত, মহান চরিত্রের অধিকারী হিসাবে দেখতে পাবে। এর ফলশ্র“তিতে তারা এখানে যা কিছু ভালো দেখতে পেয়েছে, আল্লাহর আনুগত্য ও তার রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে যতটুকু যতœবান দেখতে পেয়েছে ততটুকু দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাদের দেশে ফিরে যাবে। অপরদিকে যেমনিভাবে এ মদীনার যিয়ারতকারী ভালো অনুসরনীয় বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক ভাল ও উন্নত ফায়েদা নিতে পারে তেমনিভাবে এর বিপরীতটাও হতে পারে যখন সে এ মদীনাতে এর বিপরীত কিছু দেখতে পাবে, তখন সে এ মদীনা দ্বারা উপকৃত ও প্রশংসাকারী হওয়ার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্নামকারীতে রূপান্তরিত হবে।

পঞ্চমতঃ মুসলিম যেন স্মরণ করে যে সে মদীনায় অবস্থান করছে, সে এমন এক পূণ্য ভুমিতে অবতরণ করেছে যা ওহী অবতরণস্থল, ঈমানের ফিরে আসার স্থান, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবাসস্থল, আর তার সাহাবী মুহাজির ও আনসারগণ এখানে চলাফেরা করেছিল, এ ভূমিতেই তারা সততা, নিষ্ঠা, হক্ব ও হিদায়াতের সাথে জীবন ধারন করেছিল। সুতরাং এখানে এমন যাবতীয় কাজ থেকে সাবধান থাকা উচিত যা তাদের জীবন চরিতের বিপরীত হবে। যেমন কেউ এখানে আল্লাহ তা‘আলাকে অসন্তুষ্ট করে এমন কোন কর্মকান্ড করে বসল, ফলে সেটা তার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষতি ও মারাত্মক পরিণতির কারণ হয়ে যাবে। ষষ্টতঃ যাকে আল্লাহ তা‘আলা এ মদীনাতে বসবাস করার তাওফীক দিয়েছেন সে যেন এখানে কোন প্রকার অন্যায় করা বা অন্যায়কারীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া থেকে সাবধান থাকে; কারণ এটা করলে তাকে লা‘নতের সম্মুখীন হতে হবে; কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে তিনি বলেছেনঃ

"اَلْمَدِيْنَةُ حَرَمٌ، فَمَنْ أَحْدَثَ فيها حَدَثاً أو آوى مُحْدِثاً فَعَلَيْهِ لَعْنَةٌ اللهِ والملائكةِ والناسِ أجمعين، لا يُقْبَلُ منه يوم القيامة عَدْلٌ ولا صرفٌ".

“মদীনা হারাম, সুতরাং যে কেহ এতে খারাপ ঘটনা করবে বা খারাপ ঘটনাকারীকে আশ্রয় দিবে তার উপর আল্লাহ, ফেরেশ্তা এবং সমস্ত মানুষের লা‘নত পড়বে, কিয়ামতের দিন তার থেকে কোন ফরয বা নফল কিছুই গ্রহণ করা হবে না”। হাদীসটি ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, আর এটা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে।

সপ্তমতঃ মদীনায় যেন কোন গাছ কাটা বা শিকারী জন্তু শিকার করার মত গর্হিত কাজ না করে; কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন হাদীস এসেছে, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"إنَّ إبْراهِيْمَ حَرَّمَ مَكَّةَ وإنِّيْ حرَّمتُ الْمَدينةَ ما بين لاَبَتَيْهَا، لا يُقطع عِضَاهُهَا، ولا يُصادُ صَيْدُها".

“নিশ্চয়ই ইবরাহীম মাক্কাকে হারাম করেছেন আর আমি মদীনাকে এর দু কালো পাথর বিশিষ্ট ভূমির মাঝখানকে হারাম করলাম, এর গাছ কাটা যাবেনা, আর এর শিকারী জন্তুও শিকার করা যাবেনা”। ইমাম মুসলিম এ হাদীসটি সাহাবী জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম মুসলিম সাহাবী সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"إني أُحرِّمُ ما بين لاَبتَيِ المَدينة أن يُقطَعَ عِضَاهُها، أو يُقْتَلَ صَيْدُها".

“আমি মদীনার দু’কালো পাথর বিশিষ্ট ভূমির মাঝখানটুকুতে গাছ কাটা অথবা শিকারী জন্তু হত্যা করা থেকে হারাম ঘোষণা করছি”।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আসিম ইবনে সুলাইমান আল আহওয়াল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি সাহাবী আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললামঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি মদীনাকে হারাম ঘোষণা করেছেন? তিনি বললেন; হাঁ, ওখান থেকে ওখান পর্যন্ত, এর গাছ কাটা যাবেনা, যে ব্যক্তি এর মধ্যে কোন অঘটন ঘটায় তার উপর আল্লাহ, ফেরেশ্তা এবং সমস্ত মানুষের লা‘নত পড়বে।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলতেনঃ “আমি যদি মদীনাতে হরিণ চরতে দেখতাম তাহলেও তাকে ভয় দেখাতাম না, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا حَرَامٌ"

“এর দু’কালো পাথর বিশিষ্ট ভুমির মাঝখানটুকু হারাম”।

এখানে ঐ গাছ কাটাই হারাম ঘোষণা করা হয়েছে যেগুলি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে, কিন্তু যে সমস্ত গাছ মানুষ নিজেরা রোপন করেছে সেগুলো তাদের জন্য কাটা জায়েয।

অষ্টমতঃ মুসলিম যেন মদীনায় তার উপর জীবনধারনের কষ্ট, বালা-মুসীবত ও বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করে; কেননা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"لا يَصِبِْرُ عَلَى لأْوَاءِ الْمَدِيْنَةِ وشِدَّّتِها أَحَدٌ مِّن أمّتي، إلا كُنْتُ لَهُ شَفِيْعاً يَوْمَ الْقِيَامِة أَوْ شَهِيْداً".

“আমার উম্মতের মধ্য হতে যে কেউই মদীনার কষ্ট, বালা-মুসীবতে ধৈর্য ধারণ করবে আমি তার জন্য সুপারিশকারী অথবা সাক্ষ্যদাতা হবো”। হাদীসটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

সহীহ মুসলিমে আরও এসেছে যে, মাহরীর দাস আবু সা‘ঈদ নামীয় এক ব্যক্তি মদীনা লুটতরাজের যে ঘটনা ঘটেছিল সে রাতগুলোতে সাহাবী আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে এসে মদীনাকে পরিত্যাগ করে চলে যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ চাইলো, এবং মদীনায় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি ও তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশী হওয়ার সমস্যার কথা তার কাছে অভিযোগ আকারে পেশ করলো, সে আরো জানাল যে, মদীনার কষ্ট, বিপদ ও সমস্যায় তার পক্ষে ধৈর্যধারণ করা সম্ভব নয়। তখন আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ “তোমার জন্য আফসোস! তোমাকে আমি সে আদেশ করতে পারিনা, কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ

"لا يَصْبِرُ أَحَدٌ على لَأْوَائِهَا فَيَمُوْتُ إلا كُنْتُ لَهُ شَفِيْعاً يوم الْقِيَامةِ، إذا كَانَ مُسْلِماً".

“যে ব্যক্তি মদীনার কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে তথায় মৃত্যু বরণ করবে কিয়ামতের দিন আমি তার জন্য শাফা‘আত করব, যদি সে মুসলমান হয়”।

নবমতঃ এ মদীনার অধিবাসীদের কষ্ট দেয়া থেকে সাবধান থাকা; কেননা মুসলমানদের কষ্ট দেয়া প্রত্যেক স্থানেই হারাম, আর পবিত্র স্থানে আরো বেশী মারাত্মক ও জঘন্য কাজ, ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে সাহাবী সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেনঃ আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ

"لا يَكِيْدُ أَهْلَ المدينةِ أحدٌ إلا انْمَاعَ كما يَنْمَاعُ الْمِلْحُ في الْمَاءِ"

“মদীনাবাসীদের সাথে যে কেউ কোন ষড়যন্ত্র করবে সে লবণ যেভাবে পানিতে মিশে যায়, সেভাবে মিশে যাবে”।

ইমাম মুসলিমও তার সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"مَنْ أَرَادَ أَهْلَ هذهِ الْبَلْدَةَ بِسُوْءٍ ـ يعني المدينةَ ـ أَذَابَهُ اللهُ كَمَا يَذُوْبُ الْمِلْحُ في الْمَاءِ".

“যে ব্যক্তি এ নগরীর অধিবাসীদের অর্থাৎঃ মদীনাবাসীদের কোন ক্ষতি করতে ইচ্ছা করবে আল্লাহ তাকে লবণ যেভাবে পানিতে গলে যায় তেমনিভাবে মিশিয়ে দিবেন”।

দশমতঃ মদীনার কোন অধিবাসী যেন মদীনাবাসী হওয়ার কারণে অহমিকাগ্রস্ত না হয়, যেমন বলে বসল যে, আমি মদীনাবাসী, আমি নেককার; কেননা যদি সৎকাজ না করে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর অটুট না থাকে, গুনাহ ও পাপাচার থেকে দুরে না থাকে তবে শুধুমাত্র মদীনার অধিবাসী হলে কোন উপকার হবেনা, বরং তা তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

ইমাম মালেক কতৃক প্রণিত মুয়াত্তায় সাহাবী সালমান আল-ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই ভূমি কাউকে পবিত্র করে না বরং মানুষকে তার আমল বা কর্মই পবিত্র করে”। এ হাদীসের বর্ণনা পরম্পরার মধ্যে ছেদ থাকলেও তার অর্থ বিশুদ্ধ, আর তা বাস্তবতার অনুকুল, আল্লাহ তা‘আলাও তা বলেছেনঃ

﴿إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ ﴾ (الحجرات: ১৩)

“নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত হলো যে সবচেয়ে বেশী তাক্ওয়ার অধিকারী” [সূরা আল হুজরাতঃ ১৩] ।

আর জানা কথা যে, যুগে যুগে মদীনায় ভাল লোকের সমাহার যেমন ঘটেছিল তেমনিভাবে খারাপ লোকেরও অস্তিত্ব ছিল। ভাল লোকদেরকে তাদের কর্মকান্ড উপকার দিবে, কিন্তু মন্দ লোকদেরকে মদীনা পবিত্র করবে না, তাদের অবস্থার উন্নতিও সাধিত হবে না। ব্যাপারটা বংশের মত, যেমনিভাবে কোন লোক সৎ কাজ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র সদ্বংশীয় হলেই তা তার জন্য কোন উপকারে আসবেনা; যেমনটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"مَنْ بَطّأَ بِهِ عَمَلُهُ لَمْ يُسْرِعْ بِه نَسَبُهُ"

“আর যাকে তার আমল পিছিয়ে রেখেছে তাকে তার বংশ এগিয়ে দিবে না”। হাদীসটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যাকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করতে পিছপা করবে তাকে তার বংশীয় পরিচয় জান্নাতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে না।

এগারতমঃ মুসলিম যেন এটা উপলব্ধি করে যে, সে এ মদীনাতে আছে যে শহর থেকেই আলো বিচ্ছুরিত হয়েছিল, আর যাবতীয় উপকারী জ্ঞান এখান থেকেই সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, সুতরাং সে যেন এখানে শরীয়তের জ্ঞান অর্জনে তৎপর থাকে, যাতে করে সে এর দ্বারা নিজে আল্লাহর দিকে জেনে বুঝে চলতে পারে, আর অপরকে দা‘ওয়াত দেবার ক্ষেত্রেও বুঝে-সুঝে দিতে পারে। বিশেষ করে যদি সে ইলমের অন্বেষণ বা জ্ঞান অর্জন হয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ মসজিদে; কারণ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ

"مَنْ دَخَلَ مَسْجِدَنَا هذا يَتَعَلَّمُ خَيْراً أَوْ يُعَلِّمُهُ كان كَالْمُجَاهِدِ في سَبِيْلِ اللهِ، وَمَنْ دَخَلَهُ لِغَيْرِ ذلك كان كالنَّاظِرِ إِلَى ما لَيْسَ لَهُ".

“যে ব্যক্তি আমার মসজিদে শুধু এ জন্যেই আসে যে, সে কোন কল্যাণের দীক্ষা নেবে কিংবা অন্যদের শিক্ষা দেবে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য। আর যে ব্যক্তি এর বাইরে অন্য কোন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করবে তাহলে সে যেন ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অপরের জিনিসের দিকে তাকিয়ে থাকে”। হাদীসটি ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহ সহ অনেকেই বর্ণনা করেছেন, এ হাদীসের সমর্থনে ইমাম ত্বাবরাণী তার হাদীস গ্রন্থে সাহাবী সাহাল ইবনে সা‘দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )