আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
মদীনার ফযীলত প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া   
Monday, 26 November 2007
আর্টিকেল সূচি
মদীনার ফযীলত
বরকমতময় মদীনা নগরীর কিছু ফযীলতঃ
মসজিদে নববীর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণঃ
মদীনায় বসবাসের আদবসমুহঃ
মদীনা যিয়ারতের আদবসমূহঃ
বিদ
শরীয়ত সমর্থিত যিয়ারতের উপকারিতা এবং বিদ

বিদ‘আতী যিয়ারত

ঐ যিয়ারতকে বিদ‘আতী যিয়ারত বলেঃ যেগুলোতে নিম্নলিখিত কোন কিছু সংশ্লিষ্ট থাকবেঃ

একঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ডাকা ও তার দ্বারা বিপদ থেকে উদ্ধার হতে চাওয়া, তার কাছে প্রয়োজন পূরণ ও মুসীবত থেকে মুক্তি প্রার্থনা করা, আরও এ জাতীয় কাজ যে গুলি আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে চাওয়া যায় না; কেননা কোন কিছু চাওয়া বা প্রার্থনা করা ইবাদাত, আর ইবাদাত একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্যে হয় না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

"اَلدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ"

“দো‘আই হলো ইবাদাত”। এটা একটি বিশুদ্ধ হাদীস যা ইমাম আবু দাউদ, তিরমিযী ও অপরাপর ইমামগণ বর্ণনা করেছেন, আর ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ হাদীস বলেছেন।

ইবাদাত আল্লাহর অধিকার, আল্লাহর অধিকারের সামান্যতম অংশও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর জন্য ব্যয় করা জায়েয নেই; কেননা এটা আল্লাহর সাথে শির্কের অন্তর্ভূক্ত। আল্লাহ তা‘আলার কাছেই আশা করা যায় এবং তাঁকেই আহ্বান করা যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য দো‘আ করা হবে, কিন্তু তাকে আহ্বান বা ডাকা যাবেনা। অনুরূপভাবে তিনি ব্যতীত অন্যান্য কবরবাসীদের জন্যও দো‘আ করা যায়, কিন্তু তাদেরকে আহ্বান করা যায় না। এটা জানা কথা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কবরে জীবিত, যা কবরের জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শহীদদের জীবনের চাইতেও তার এ জীবন পরিপূর্ণ। এ জীবনের ধরণ কি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। এ জীবন মৃত্যুর পূর্বের দুনিয়ার জীবন ও পুনরূত্থান ও হাশর-নশরের পরের জীবন থেকে ভিন্ন ধরণের ও ভিন্ন প্রকৃতির। সুতরাং রাসূলকে আহ্বান করা ও বিপদাপদে তার কাছে উদ্ধার কামনা করা জায়েয হবে না; কেননা সেটা ইবাদাত, আর ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

দুইঃ নামাযে দাঁড়ানোর মত করে দু’হাতকে বুকের উপর রেখে যিয়ারত করা, কেননা এটা জায়েয নেই; কারণ এভাবে দাড়ানো খুব বেশী বিনয় ও নম্রতার পরিচায়ক, যা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। নামাযে এ ধরণের কাকুতি-মিনতি করার অবস্থা শরীয়ত অনুমোদন করেছে কারণ মুসলিম তার নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় আল্লাহর সাথে কথোপকথন করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ তার জীবদ্দশায় যখন তার কাছে আসতেন তাকে সালাম জানানোর সময়ে কেউ তাদের হাতকে বুকের উপর রাখতেন না, যদি এ কাজটি ভাল হতো তবে অবশ্যই সাহাবাগণ এ ব্যাপারে অগ্রণী হতেন।

তিনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের আশে-পাশের দেয়াল, জানালা মসেহ বা স্পর্শ করা, অনুরূপভাবে মসজিদ বা অন্যকিছুকে স্পর্শ বা মসেহ করা; কেননা এটা জায়েয নেই; কারণ এ রকম কাজ সুন্নাত সমর্থিত নয়। আর তা সালফে সালেহীনের কর্মকান্ডের মধ্যেও ছিল না। বরং তা শির্কের কারণ হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে যারা এ ধরণের কাজ করে তারা বলেঃ আমি এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালবাসায় করে থাকি!! আমরা তাকে বলব যে, রাসূলের মহব্বত বা ভালবাসা প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি এমনকি সমস্ত মানুষ থেকে অধিক হওয়া অপরিহার্য, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حتَّى أَكُوْنَ أَحَبَّ إليهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ والنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ".

“তোমাদের মধ্যে কেউ ঐ সময় পর্যন্ত (পূর্ণ) ঈমানদার হতে পারবেনা যে পর্যন্ত আমাকে তার পিতামাতা, সন্তান-সন্ততি, এবং সমস্ত মানুষ থেকে বেশী ভাল না বাসবে”। এ হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

বরং রাসূলকে নিজের আত্মার চেয়েও বেশী ভালবাসা ওয়াজিব। যেমনটি সহীহ বুখারীতে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ জন্যই নিজ আত্মা, পিতামাতা, সন্তান-সন্ততির চেয়ে বেশী ভালবাসতে হয় কারণ আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের হাতের মাধ্যমে যে নে‘আমত মুসলমানদের জন্য পাঠিয়েছেন সে নে‘আমত সবচেয়ে মূল্যবান নে‘আমত, সবচেয়ে বড় নে‘আমত, যে নে‘আমতের সাথে আর কোন নে‘আমতের তুলনা চলে না, সমপর্যায়ের কোন নে‘আমতও হতে পারে না, আর সে নে‘আমত হলোঃ ইসলামের নে‘আমত, সরল-সঠিক পথের দিশাদানের নে‘আমত, অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে যাবার নে‘আমত।

কিন্তু দেয়াল, জানালা মসেহ করা এ ভালবাসার নিদর্শন নয়, বরং এ ভালবাসার নিদর্শন হলোঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে অনুসরণ করা, তার সুন্নতের উপর আমল করা। কেননা দ্বীন ইসলামের ভিত্তি হলো দু’টি বস্তুর উপরঃ

একঃ আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদাত করা যাবে না।

দুইঃ আল্লাহর ইবাদত করতে হবে কেবলমাত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা অনুযায়ী, আর এটাই ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা‘বুদ নেই, এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল’ এ সাক্ষ্য দানের দাবী।

কুরআনুল কারীমে একটি আয়াত আছে যাকে উলামায়ে কিরামগণ পরীক্ষার আয়াত বলে নামকরণ করেছেন, আর তা’হলো, আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ

﴿قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ﴾ (آل عمران:৩১).

(‘বলুনঃ যদি তোমরা আল্লাহকে সত্যিকারে ভালবেসে থাক তবে আমার অনুসরণ কর, পরিণামে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, বস্তুত আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু’)। (সূরা আলে ইমরানঃ ৩১)।

হাসান বসরী ও সালফে সালেহীনের অন্যান্য আলেমগণ বলতেনঃ কোন কোন স¤প্রদায় মনে করত তারা আল্লাহকে ভালবাসে, তাই আল্লাহ তাদেরকে এ আয়াত দ্বারা ‘ইবতেলা’ বা পরীক্ষায় ফেললেন।

এখানে তারা ‘ইবতেলা’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার অর্থঃ পরীক্ষা করা, যাঁচাই বাছাই করা; যাতে করে তাদের মধ্যে কে তার দাবীতে সত্য আর কে মিথ্যা তা স্পষ্ট হয়ে যায়; কেননা যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ভালবাসে বলে দাবী করে সে অবশ্যই তার এ দাবীর স্বপক্ষে দলীল পেশ করতে হবে, আর এ দলীল হলোঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা।

আল্লামা ইবনে কাসীর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) এ আয়াতের তাফসীরে বলেনঃ এ সম্মানিত আয়াতখানি প্রত্যেক আল্লাহর মহব্বতের দাবীদার অথচ মুহাম্মাদী তরীকা বা নিয়মনীতি অনুসারে চলেনা তাদের জন্য ফয়সালাকারী; কেননা যতক্ষন পর্যন্ত সে তার যাবতীয় কথা ও কাজে রাসূলের শরীয়ত ও নবীর দ্বীনের অনুসরণ করবেনা ততক্ষন পর্যন্ত সে এ দাবীতে মিথ্যাবাদী। যেমনটি সহীহ হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَّيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ"

“যে কেউ এমন কোন কাজ করবে যার ভিত্তি আমার কোন কাজের উপর নয় তা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য বা বর্জিত হবে”। আর এজন্যই বলেছেনঃ

﴿قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ ﴾ (آل عمران:৩১).

“যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক তবে আমার অনুসরণ কর, ফলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন”। (সূরা আলে-ইমরানঃ৩১)। অর্থাৎ, তোমরা যে আল্লাহর মহব্বতের দাবী করছ তাতে তোমাদের যে চাহিদা তোমরা তার থেকেও বেশী পাবে, আর তা’ হলোঃ ‘তিনি তোমাদের ভালবাসবেন’, এটা মুলতঃ প্রথমটার চেয়ে অনেক বড়। যেমনটি কোন কোন বিজ্ঞ আলেম বলেছেন যে, ‘তুমি তাকে ভালবাস এটা কোন বড় ব্যাপার নয়, বরং বড় ব্যাপার হলোঃ তোমাকে ভালবাসা হবে’। তারপর ইবনে কাসীর (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) উপরে উল্লিখিত হাসান বাসরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) ও অন্যান্য সালফে সালেহীনদের কথা উল্লেখ করেছেন।

ইমাম নওয়াবী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাঁর “মাজমু’ শরহে মুহাজ্জাব” নামীয় গ্রন্থে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের দেয়াল চুমু খাওয়া এবং মাসেহ করার ব্যাপারে বলেনঃ ‘অধিকাংশ সাধারণ মানুষের কর্মকান্ড ও বিরোধীতা দ্বারা যেন কেউ ধোকাগ্রস্থ না হয়; কেননা অনুসরণ ও আমল হবে শুধুমাত্র হাদীসের ও আলেমদের কথাবার্তার, সাধারণ মানুষ ও তাদের মত অন্যান্যগণ এবং মূর্খগণ যা আবিস্কার করছে সে দিকে দৃষ্টিপাত করা যাবে না’।

সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"مَنْ أَحْدَثَ في دِيْنِنَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ"

“যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন কোন নতুন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটাবে যা এর মধ্যে নেই তা অগ্রহণযোগ্য হবে”। ইমাম মুসলিমের অপর বর্ণনায় এসেছেঃ

"مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَّيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدُّ"

“যে কেউ এমন কোন কাজ করবে যার ভিত্তি আমার কোন কাজের উপর নয় তা অবশ্যই অগ্রহণযোগ্য বা বর্জিত হবে”।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"لا تَجْعَلُوا قَبْرِيْ عِيْداً، وَصَلُّوْا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِيْ حَيْثُمَا كُنْتُمْ".

“তোমরা আমার কবরকে ঈদগাহ বানিও না, আমার উপর দরূদ পাঠ কর, নিশ্চয়ই তোমাদের দরূদ তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আমার কাছে পৌঁছে”। ইমাম আবুদাউদ হাদীসখানি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণনা করেছেন।

ফুদাইল ইবনে ইয়াদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, যার অর্থঃ ‘হিদায়াতের পথ অনুসরণ কর, এ পথে বিচরণকারীদের সংখ্যা কম হলেও তোমার কোন ক্ষতি নেই, ভ্রষ্ট পথ সমূহের অনুসরণ করা হতে সাবধান, ধ্বংশশীল মানুষের আধিক্য দেখে যেন তুমি ধোকাগ্রস্থ না হও’।

যার অন্তরে এটা আসলো যে, হাত দিয়ে মাসেহ করার মধ্যে বরকত বেশী অর্জিত হবে, সেটা তার মুর্খতা ও অচেতনতা থেকেই উদ্ভূত; কেননা কেবলমাত্র শরীয়তের নির্দেশের মোতাবেক হলেই তাতে বরকত থাকবে, কিভাবে সঠিক পথের বিপরীত পথে অবস্থান করে অনুগ্রহ তালাশ করা যেতে পারে?! (ইমাম নওয়াবীর কথা এখানে শেষ হয়েছে)। চারঃ যিয়ারতকারী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের তাওয়াফ শুরু করে দেয়াও বিদ’আতি যিয়ারত; কেননা এটা হারাম; কারণ আল্লাহ তা‘আলা কাবা শরীফ ছাড়া অন্য কোন কিছুর তাওয়াফ বৈধ করেন নি। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ

﴿وَلْيَطَّوَّفُوا بِالْبَيْتِ الْعَتِيقِ﴾ -سورة الحج: ২৯

“তারা যেন পুরাতন ঘর (কাবা ঘর)এর তাওয়াফ করে”। সুতরাং কাবা শরীফের চতুর্দিক ছাড়া অন্য কোন স্থানের তাওয়াফ করা যাবে না। আর এ জন্যই বলা হয়ঃ ‘প্রত্যেক স্থানেই আল্লাহর অনেক নামাযী রয়েছে’ ‘আল্লাহর অনেক সাদ্কাকারী রয়েছে’ ‘আল্লাহর অনেক রোযাদার রয়েছে’ ‘আল্লাহর অনেক যিক্রকারী রয়েছে’ কিন্তু ‘প্রত্যেক স্থানেই আল্লাহর অনেক ত্বাওয়াফকারী রয়েছে এটা বলা হয় না; কারণ ত্বাওয়াফ আল্লাহর পুরাতন ঘর বাইতুল্লাহর বৈশিষ্ট্যের একটি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেনঃ ‘মুসলিমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছে যে, বায়তুল মা‘মুর ব্যতীত আর কোন কিছুর তাওয়াফ করা যাবে না, আর তাই বায়তুল মুকাদ্দাসের কুব্বাতুস সাখরা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হুজরা বা ঘর, আরাফাতের পাহাড়ের উপর অবস্থিত গম্বুজ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বস্তুর ত্বাওয়াফ করা জায়েয নেই।

পাঁচঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরের কাছে স্বর উঁচু করাও বিদ‘আতী যিয়ারতের অন্তর্ভূক্ত, কেননা এটা একটা গর্হিত (খারাপ) কাজ; কারণ আল্লাহ তা‘আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় যখন তিনি তাদের মধ্যে ছিলেন তখনি মু’মিনদেরকে রাসূলের সাথে ব্যবহারের আদব শিক্ষা দিয়েছিলেন এ বলেঃ

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ* إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ ﴾ (الحجرات:২-৩).

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কন্ঠস্বরের উপর তোমাদের কন্ঠস্বর উঁচু করো না, এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেভাবে উঁচু স্বরে কথা বল, তার সাথে সেরূপ উঁচুস্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের কর্ম বিনষ্ট হয়ে যাবে অথচ তোমরা টেরও পাবে না। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কন্ঠস্বর নীচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাক্ওয়ার জন্য পরীক্ষা করে নিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার”। (সূরা আল হুজরাত: ২-৩)

আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবদ্দশায় যেমনিভাবে সম্মাণিত মৃত অবস্থায়ও তেমনি সম্মাণিত।

ষষ্টঃ দুর থেকে চাই তা মসজিদের ভিতর থেকে হউক বা মসজিদের বাইর থেকে হউক কবরের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে সালাম দেয়াও বিদ‘আতী যিয়ারতের অন্তর্ভূক্ত। আমাদের শাইখ আব্দুল আজীজ ইবনে বায (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার ‘মানসাক’ গ্রন্থে বলেনঃ এ রকম কাজ দ্বারা সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ভাল ব্যবহার ও সুসম্পর্কের বদলে খারাপ ব্যবহার ও বেয়াদবী করার অধিক নিকটবর্তী।

এখানে আরেকটা বিষয় বিশেষ গুরুত্বের সাথে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে, আর তা হলো, অনেকেই মদীনা আসার সময় তাদের কোন কোন পরিজন বা অন্যান্যরা তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সালাম পৌছানোর জন্য অসীয়ত করে, যেহেতু এ ধরনের কাজের উপর প্রমাণ হিসাবে পেশ করা যায় এ রকম কোন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হয়নি সেহেতু যার কাছে এ ধরনের অসীয়ত করা হয় সে যেন তাকে বলেঃ তুমি বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর বেশী বেশী করে দরুদ ও সালাম পাঠ কর, ফেরেশ্তাগণ তোমার দুরূদ ও সালাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছে দিবেন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً سَيَّاحِيْنَ يُبَلِّغُوْنِيْ عَنْ أُمَّتِيْ السَّلامَ"

“নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু বিচরণকারী ফেরেশ্তা রয়েছেন যারা আমার উম্মত থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছায়”। এটা একটি বিশুদ্ধ হাদীস, ইমাম নাসায়ী ও অন্যান্যরাও বর্ণনা করেছেন।

অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেনঃ

"لا تَجْعَلُوا بُيُوْتََكُمْ قُبُوْراً، وَلا تَتَّخِذُوْا قَبْرِيْ عِيْداً، وَصَلُّوْا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ تَبْلُغُنِيْ حَيْثُ كُنْتُمْ"

“তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানিও না, আমার কবরকে ঈদগাহ বানিও না, আর আমার উপর দরূদ পড় কেননা তোমরা যেখানেই থাকনা কেন তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছে”। এটা একটি বিশুদ্ধ হাদীস যা ইমাম আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

আর একটা বিষয়ও জানা দরকার যে, হজ্জ-উম্রার সাথে মদীনা যিয়ারতের কোন বাধ্যবাধকতা নেই, সুতরাং যে কেহ হজ্জ কিংবা উমরার উদ্দেশ্যে আসবে সে মদীনা না এসেও তার দেশে ফিরে যেতে পারবে, তদ্রুপ যদি কেহ মদীনা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে আসে সেও হজ্জ-উমরা না করে তার দেশে ফিরে যেতে পারে, আবার একই সফরে হজ্জ-উমরা ও যিয়ারত সবগুলোই করতে পারে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারতের ব্যাপারে যে সমস্ত হাদীস বর্ণনা করা হয় যেমনঃ

"مَنْ حَجَّ وَلَمْ يَزُرْنِيْ فَقَدْ جَفَانِيْ"

“যে হজ্জ করল অথচ আমার যিয়ারত করলো না সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করল”।

অনুরূপ:

"مَنْ زَارَنِيْ بَعْدَ مَمَاتِيْ فَكَأَنَّمَا زَارَنِيْ في حَيَاتِيْ"

“যে আমার মৃত্যূর পর আমার যিয়ারত করল সে যেন আমার জীবদ্দশায় আমার সাথে যিয়ারত করল”।

তদ্রুপ:

"مَنْ زَارَنِيْ وَزَارَ أَبِيْ إبْرَاهِيْمَ في عَامٍ واحدٍ ضَمَنْتُ لَهُ عَلَى اللهِ الْجَنَّةَ".

“যে ব্যক্তি একই বছর আমার ও আমার বাবা ইব্রাহীমের যিয়ারত করল আমি তার জন্য জান্নাতের জামিনদার হলাম”।

আরো:

"مَنْ زَارَ قَبْرِيْ وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِيْ".

“যে আমার কবর যিয়ারত করবে তার জন্য আমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে”।

এ হাদীসগুলো এবং এ জাতীয় যত হাদীস বর্ণনা করা হয়, এ গুলো দ্বারা দলীল নেয়া যায় না; কেননা এগুলো বানোয়াট বা অত্যন্ত দূর্বল, প্রখ্যাত মুহাদ্দিস দারেকুতনী, উক্বাইলী, বায়হাকী, ইবনে তাইমিয়্যা এবং ইবনে হাজার (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম)দের মত হাদীসের হাফেজগণ এ ব্যাপারে সাবধান করে গেছেন। আর আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ

﴿ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جَاءُوكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّاباً رَحِيماً﴾ (النساء: ৬৪).

“আর তারা যখন নিজেদের উপর অত্যাচার করেছিল তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করত এবং রাসূলও যদি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে তারা অবশ্যই আল্লাহকে ক্ষমাকারী, মেহেরবানরূপে পেত”। [সূরা আন-নিসাঃ৬৪]

যারা নিজের নাফসের উপর অত্যাচার করেছে, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাদের জন্য ক্ষমা চাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কবরের কাছে উপস্থিত হয় এ আয়াতে তাদের পক্ষে কোন দলীল-প্রমাণ নেই; কারণ এ আয়াতের পূর্বের ঘটনা মুনাফিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসতে হলে তা হবে তার জীবদ্দশায়; কেননা সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া আরদাহুম তারা ক্ষমা প্রার্থনার জন্য কখনো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে কবরের কাছে আসতেন না। আর এ জন্যই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি অবস্থায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিবর্তে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দো‘আর অসীলা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেনঃ “হে আল্লাহ! আমরা যখন অনাবৃষ্টিতে পড়তাম তখন আপনার নবীর দ্বারা আপনার কাছে অসীলা বানাতাম তখন আপনি আমাদের বৃষ্টি দিতেন, এখন আমরা আপনার কাছে আপনার নবীর চাচার দো‘আর অসীলা দিচ্ছি, আপনি আমাদের বৃষ্টি দিন”। বর্ণনা কারী বলেনঃ ‘তখন বৃষ্টি দেয়া হতো’। হাদীসটি ইমাম বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর পর তার অসীলা দেয়া বৈধ হতো তবে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কক্ষনো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাদ দিয়ে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর দো‘আর অসীলা দিতেন না।

আর এ বিষয়ে আমরা আরেকটা দলীল পাই সহীহ বুখারীর ‘কিতাবুল মারদা’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা (মাথা ব্যথার কারণে) বললেনঃ ‘হায়, আমার মাথা!!’ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ

"ذَاكَ لَوْ كَانَ وَأَنَا حَيٌ فَأَسْتَغْفِر لكِ وأَدْعُوْ لكِ".

“যদি তা-ই হয় (অর্থাৎ, মৃত্যু) আমার জীবিত থাকা অবস্থায়, তবে আমি তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতাম, তোমার জন্য দো‘আ করতাম”, তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছিলেনঃ ‘হায় আমার মৃত্যুর মত মুছিবত! আল্লাহর শপথ, আমার মনে হচ্ছে আপনি আমার মৃত্যু হওয়া পছন্দ করেন...।

যদি মৃত্যুর পরেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দো‘আ ও ইস্তেগ্ফার করতে পারতেন তা হলে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মৃত্যু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগে বা পরে হওয়ার মধ্যে কোন তারতম্য হতো না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর যিয়ারতের ব্যাপারে সাধারণ কবর যিয়ারতের উপর যে সমস্ত হাদীস রয়েছে সেগুলোই প্রমাণ, তম্মধ্যে যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"زُوْرُوا الْقُبُوْرَ، فَإِنَّهَا تُذَكّرُكُمُ الآخِرَةَ"

“তোমরা কবর যিয়ারত কর, কেননা তা তোমাদেরকে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিবে”। ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

কিন্তু তার কবরের পাশে অধিক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা ও ঘন ঘন যিয়ারত করাও ঠিক নয়; কারণ এতে করে সীমালংঘন হয়ে যেতে পারে। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে উম্মাত থেকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছেন আর তা হলোঃ যে কোন স্থান থেকে তার কাছে ফেরেশ্তাগণ সালাম পৌঁছায়; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ

"إِنَّ للهِ مَلاَئِكَةً سَيَّاحِيْنَ يُبَلِّغُونِيْ عَنْ أُمَّتِيْ السَّلاَمَ"

“নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু সফরকারী ফেরেশ্তা রয়েছেন যারা আমার উম্মতের কাছ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছায়”। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

"لا تَجْعَلُوا بُيُوْتَكُم قُبُوْراً، وَلا تَتَّخِذُوا قَبْرِيْ عِيْداً، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِيْ حَيْثُ كُنْتُمْ"

“তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানিও না, আমার কবরকে ঈদগাহ বানিও না, আর আমার উপর দরূদ পড় কেননা তোমরা যেখানেই থাকনা কেন তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে”; কেননা তিনি তার কবরকে ঈদগাহ বা মিলনক্ষেত্র বানাতে নিষেধ করার সাথে সাথে তার স্থলাভিষিক্ত কি হবে তার প্রতি দিক নির্দেশ করেছেন যে, “আর আমার উপর দরূদ পাঠ কর, কারণ তোমরা যেখানেই থাক তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে”, অর্থাৎ, ফেরেশ্তাদের মাধ্যমে।

আর বাকী‘ গোরস্থান, উহুদের শহীদদের কবরসমুহ যিয়ারত করা মুস্তাহাব যদি তা শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে হয়, কিন্তু যদি বিদ‘আতী পদ্ধতিতে হয় তবে তা হারাম।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )