আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
জীবন্ত নামায প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Wednesday, 28 November 2007
আর্টিকেল সূচি
জীবন্ত নামায
কালেমা শিক্ষার বিভিন্ন দিক
নামায-শিক্ষার বিভিন্ন দিক
নামাযের দেহ
নামাযের রূহ
নামাযের মর্যাদা
নামাযের প্রধান মাসয়ালা মাসায়েল
নামাযে ১৪টি ফরয
সব নামাযে মোট ১১টি ওয়াজিব
অতিরিক্ত আরও ৩টি ওয়াজিব
নামাযে সমস্যা
জীবন্ত নামাযের নমুনা
পাতা 13
নামায ও নামাযের বাইরের জীবন
নামাযের বাইরে মনকে কী কাজ দেয়া যায়?
কতক বাস্তব পরামর্শ
নামায বহু কিছু শেখায়
মুমিনের সাফল্যের হাতিয়ার
শেষকথা

শেষকথা

হাদীসে আছে যে, বেহেশতবাসীদের একটি আফসোস ছাড়া বেহেশতে আর কোন মনোবেদনা থাকবে না। দুনিয়াতে যে সময়টা আল্লাহকে ভুলে থেকে কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে ঐ অবহেলার জন্যই আফসোস করতে থাকবে। বেহেশত তো ঐ চিরস্থায়ী বাসস্থানেরই নাম যেখানে সামান্যতম দুঃখ কষ্ট এমনকি অভাব পর্যন্ত থাকবে না। অথচ একটা বিষয়ে আফসোস থেকেই যাবে। আফসোস তো মনোবেদনারই সৃষ্টি করে । এ দুঃখটুকু থেকেই যাবে সকলের বেলায় তা হয়তো সত্য নয়্ কিন্তু যাদের বেলায়ই হোক, এ বেদনাটুকুর অস্তিত্ব সত্য ।

 

এ আফসোসের কারণ তালাশ করলে হাদীসের বিবরণ থেকে তা বুঝা যায়। আল্লাহর দীদারই বেহেশতের সকল নিয়ামতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নিয়মাত বলে বেহেশত বাসীরা মনে করবে। আল্লাহ তাআলাকে দেখতে পাওয়ার চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কোনটাতেই তারা বোধ করবে না। আর সবাই সমান পরিমাণ সময় আল্লাহকে দেখতে পাবে না। যে দুনিয়ার জীবনে আল্লাহকে যত বেশি স্মরণ করেছে সে তত বেশি সময় আল্লাহকে দেখার সৌভাগ্য লাভ করবে। তাই যারা কম সময় দেখার সুয়োগ পাবে তারাই হয়তো ঐরকম আফসোস করবে।

তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের ভিত্তিতে জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত যারা নেয় তারা মানব সমাজে আল্লাহর প্রভুত্ব কায়েমের জন্য সংগ্রাম করে । আর এ সংগ্রামের পরিণামে আখিরাতে সাফল্যের আশা রাখে । এ সিদ্ধান্ত তাদের মন-মগজ ও চরিত্রকে এক বিশেষ ছাঁচে গড়ে তোলে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তারা নাফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে সচেষ্ট হয়।

যা হোক, আপনি ইসলামী আন্দোলনে সক্রিয় হোন বা না হোন আখিরাতে মুক্তির কামনা তো নিশ্চয়ই করেন। তাহলে মনটাকে ইতিবাচক কাজ দিন । মনকে ইবলীসের বেগার কর্মচারী হতে দেবেন না। ইবলীস থেকে মনকে রক্ষা করতে হলে দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য অনিবার্য।

মনে রাখবেন, ইবলীসের বিরুদ্ধে এ সংগ্রাম মৃত্যু পর্যন্ত— চালিয়ে যেতে হবে। এ সংগ্রাম থেকে অবকাশ পাওয়ার উপায় নেই। তবে দীর্ঘ অনুশীলনের ফলে ধীরে ধীরে আল্লাহর মেহেরবানীতে ইবলীসের পরাজয় হওয়া অসম্ভ নয়।
আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেন : ()
“শয়তান তোমাদের দুশমন, তাকে দুশমনই মনে করবে। ”
হযরত আদম (আ) বেহেশতে শয়তানের ধোঁকায় এ কারণেই পড়েছিলেন যে, তিনি শয়তানকে শত্রু“ মনে করতে ভুলে গেলেন । (সূরা ফাতির : ৬ )

সমাপ্ত



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )