আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
জীবন্ত নামায প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Wednesday, 28 November 2007
আর্টিকেল সূচি
জীবন্ত নামায
কালেমা শিক্ষার বিভিন্ন দিক
নামায-শিক্ষার বিভিন্ন দিক
নামাযের দেহ
নামাযের রূহ
নামাযের মর্যাদা
নামাযের প্রধান মাসয়ালা মাসায়েল
নামাযে ১৪টি ফরয
সব নামাযে মোট ১১টি ওয়াজিব
অতিরিক্ত আরও ৩টি ওয়াজিব
নামাযে সমস্যা
জীবন্ত নামাযের নমুনা
পাতা 13
নামায ও নামাযের বাইরের জীবন
নামাযের বাইরে মনকে কী কাজ দেয়া যায়?
কতক বাস্তব পরামর্শ
নামায বহু কিছু শেখায়
মুমিনের সাফল্যের হাতিয়ার
শেষকথা

নামাযের দেহ

১. সবাই যার যার শরীকে সুন্দর অবস্থায় রাখার চেষ্টা করে। নামাযের দেহটিকেও মুনীবের নিকট সুন্দর অবস্থায় পেশ করার জযবা থাকা উচিত । নামাযের দেহের সৌন্দর্য হলো :
ক. নামাযে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো যেখানে যেভাবে রাখা উচিত সেভাবে রাখা।
খ. নামাযে যা পড়া হয় তা শুদ্ধ উচ্চারণে পড়া ।
নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বেঁধে স্হির হয়ে দাঁড়াতে হয়। সিজদা দেবার জায়গায় দৃষ্টি রাখতে হয়। তাহলে মাথা সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে থাকবে। রুকুর অবস্থায় হাঁটুতে হাতের তালু রেখে হাত দিয়ে হাঁটুকে মযবুতভাবে ধরতে হয়। এতে শরীরের ভারটা হাতের উপর পড়ে এবং কুনই ও হাঁটু সোজা থাকে। দৃষ্টি পায়ের পাতার উপর রাখতে হয় । এতে কোমর পিঠ ও মাথা এক রেখা বরাবর সমান থাকে এবং মাটির সমান্তরালে থাকে । মাথা পিঠ থেকে নিচু হয় না এবং পিঠ বাঁকা অবস্থায় থাকে না। রুকু থেকে উঠে সিজদায় যাবার আগে স্থির হয়ে দাঁড়াতে হয় এবং দুহাত দুপাশে সোজা হয়ে থাকে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে না থেকে সিজদায় চলে গেলে নামায হবে না। এভাবে থামা ওয়াজিব।

সিজদায় যাবার সময় ধীরে ধীরে প্রথমে হাঁটু মাটিতে লাগাতে হয়, এরপর লম্বা হয়ে হাতের তালু মাটিতে রাখতে হয় প্রথমে নাক ও পরে কপাল মাটিতে রেখে স্থির হতে হয়। এ সময় দৃষ্টি নাকের দিকে থাকে। এতটা লম্বা হয়ে সিজদা করতে হয় যাতে ঊরু খাড়া (সামনে বা ছেনে ঝুঁকে না থাকে ) আর যেন ঊরু থেকে কনুই এতটা দূরে থাকে যে এর ফাঁক দিয়ে ছাগলের বাচ্চা পার হবার মতো জায়গা থাকে। হাত পাঁজরের সাথে লেগে থাকবে না, একটু ফাঁক থাকবে।

তালু থেকে কনুই পর্যন্ত হাতটি মাটি থেকে উঁচু থাকবে ( কুকুরের বসার মতো কনুই মাটিতে লেগে থাকবে না) সিজদার সময় দুপায়ের পাতা খাড়া থাকবে এবং পায়ের আঙুলগুলো ভাঁক করে কিবলামুখী করে রাখতে হবে। সিজদার সময় দুহাতের আঙ্গুল ফাঁক ফাঁক হয়ে থাকবে না, কিবলামুখী রাখার জন্য মিলিয়ে রাখতে হবে। সিজদা থেকে উঠে দাঁড়বার সময় প্রথমে কপাল, পর নাক, এরপর হাত শেষে হাঁটু উঠাতে হবে।

দুসিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসে থামতে হয়। না থেমে আবার সিজদায় চলে গেলে নামায হবে না। এভাবে থামা ওয়াজিব । বসা অবস্থায় দৃষ্টি কোলের দিকে থাকবে । হাত হাঁটুর উপর এমনভাবে থাকবে যেন আঙুলের মাথা কিবলামুখী হয়ে থাকে এবং আঙুল হাঁটুর নীচে ঝুকে না পড়ে। বসার সময় বাম পায়ের পাতা মাটিতে বিছিয়ে এর উপর বসতে হয় এবং ডান পায়ের আঙুলগুলোর উপর পায়ের পাতা খাড়া করে রাখতে হয়। দুরাকাআত নামাযের পর তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু ) পড়ার সময়ও এভাবেই বসতে হয়।

ডান পায়ের আঙুলগুলো খাড়া রেখে বসার উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। জামায়াতে নামাযের সময় কাতার সোজা রাখার উপর রাসূল (স) অন্তত গুরুত্ব দিয়েছেন। নামাযে দাঁড়াবার সময় পায়ের গোড়ালির দিকে দিয়ে অন্যদের সমান হয়ে দাঁড়াতে হয়। পায়ের আঙুলের দিক দিয়ে সমান হয়ে দাঁড়ালে কাতার সোজা হবে না। কারণ পায়ের পাতা সবার সমান নয়। কারো পাতা লম্বা, কারো বেশ খাট। কিন্তু গোড়ালি বরাবর দাঁড়ালে কাঁধের দিক দিয়েও বরাবর হয়।

কাতার সোজা রাখার প্রয়োজনেই নামাযে বসার সময় ডান পা স্থির রাখা দরকার । একপা যদি এক জায়গায় স্থির থাকে তাহলে আবার দাঁড়াবার সময় কেউ সামনে বা কেউ পেছনে চলে যাবে না। এক পা যদি এক জায়গায় স্থির না থাকে তাহলে পা সরে যাবার কারণে কাতার সোজা থাকবে না।

নামায শেষ করা উদ্দেশ্যে সালাম ফেরাবার সময় শুধূ চেহারা ডান ও বাম দিকে ঘুরাবে। দেহে কেবলামুখীই থাকবে। মাথা নিচু করতে হবে না। স্থির সোজা বসা অবস্থায় শুধূ চেহারা ডানে ও বামে ঘুরাতে হবে।

অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উপরে বর্ণিত নিয়মে যত সঠিকভাবে পরিচালনা করা হবে এবং নামাযে যা কিছু পড়া হয় তা যত শুদ্ধভাবে পড়া হবে নামাযের দেহ ততই সুন্দর হবে।

‘‘আল্লাহর রাসূল কীভাবে নামায পড়তেন ” নামে আল্লামা হাফিয ইবনুল কায়্যিমের রচিত বইটি বাংলায় অনূদিত হয়েছে। এটা পড়লে এ বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান হাসিল করা যাবে।



সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )