আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইকামতে দ্বীন প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Saturday, 12 January 2008
আর্টিকেল সূচি
ইকামতে দ্বীন
ওলামায়ে কেরাম সবাই
ওলামায়ে কেরাম সবাই
দ্বীনের মাপকাঠি একমাত্র রাসূল
উপমহাদেশের বড় বড় ওলামা ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন করেন নি কেন?
জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব
ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে এ জাতীয় জামায়াত আছে কি?
জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদুদী (রঃ)
জামায়াত বিরোধী ফতোয়া
মাওলানা মওদূদী (রঃ)বিবোধী ফতোয়া
ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের খেদমতে

ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের খেদমতে

ওলামায়ে কেরামে ও মাশায়েখে এযামের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা পোষন করি। কারন তাঁরাই হলেন নবীর ওয়ারিস।তাঁদের কাছে কুরআন ও সুন্নার ইলম পাওয়া যায়।অশিক্ষত লোকদের তো তাঁদের খেদমতে যাওয়া ছাড়া দ্বীনি ইলম ও আমল শেখার কোন পথই নেই। আধুনিক শিক্ষিতদেরও ইসলামের সিঠিক জ্ঞান পেতে হলে এবং রাসূলের অনুসরন করতে হলে ওলামায়ে কেরামে ও মাশায়েখের সাহায্য নেয়া ছড়া উপায় নেই।দ্বীনের ব্যপাক জ্ঞান কুরআন ও হাদীস থেকেই পেতে হয় এবং এ বিষয়ে যারা জ্ঞানী তাঁদের সহায়তা ছাড়া যে ইংরেজী শিক্ষিত এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারীদের কোন উপায় নেই এর সক্ষী আমি নিজে।

কুরআন,হাদীস ও ফেকাহ থেকে গভীর ইলম হাসিল করার জন্য কোন কাওমী বা আলীয়া মাদ্রাসায় পড়ার সৌভগ্য আমার হয়নি।যেটুকু সামান্য জ্ঞান আল্লাহ পাক আমাকে দান করেছেন তা হাক্কানী ওলামায়ে ও মাশায়েখের মারফতেই পেয়েছি। আলেম পিতার বিশেষ তাগিদে বি,এ,পর্যন্ত অন্যতম বিষয় হিসেবে আরবী পড়তে বাধ্য হওয়ায় যেটুকু আরবী ভাষা আয়ত্ব হয়েছিল সেটুকু সম্বল করেই ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনার কিছু চেষ্টা করেছি।স্কুল জীবন থেকেই বাংলা ভাষায় হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রঃ)-এর অনুদিত বই পড়ার সুযোগ হয়।১৯৩৮ সালে আমি যখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র তখন থেকেই “নেয়ামত” নামক মাসিক পত্রিকার নিয়মিত পাঠক হিসেবে হয়রত থানভী (রঃ)-এর যুক্তিপূর্ন ওয়ায দ্বারা আমি গভীরভাবে আকৃষ্ট হই।তাই হযরত থানভী (রঃ)-এর লেখার অনুবাদক হিসেবেই হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রঃ)- এর সাথে আমার ঘনিষ্ট সম্পর্ক হয়।

১৯৫০ সালে এম,এ পরীক্ষার কয়েক মাস আগে তাবলীগ জামায়াতের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে পরীক্ষার পর তিন চিল্লায় বের হই।এ দেশে তাবলীগ জামায়াতের আমীর হযরত মাওলানা আব্দুল আযীযের সাথে চিল্লা দেবার সুযোগ পাওয়ায় এবং তাবলীগের চিল্লা উপলক্ষে হিন্দুস্তান গিয়ে অনেক যোগ্য আলেমের সোহবতে দ্বীনের পথে জীবন উৎসর্গ করার প্রেরণা পাই।সাড়ে চার বছর তাবলীগ জামায়াতে নিয়মিত কাজ করার যে তৌফিক আল্লাহ পাক দিয়েছেন তাতে আমার জীবনে এ জযবা পয়দা হয়েছে যে,দ্বীন ইসলামই মুসলিম জীবনের একমাত্র মিশন বা উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

১৯৫২ সালে তমদ্দুন মজলিসের মাথে সম্পর্ক হওয়ার ফলে ইসলামকে একটি বিপ্লবী আন্দোলন হিসেবে বুঝবার সুযোগ হয়।রাসূলূল্লাহ (সঃ)-এর জীবন যে শুধু ধর্মীয় ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়,সমাজ,রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক জীবনেও রাসূল যে বিপ্লব সাধন করেছেন সেদিক থেকেও ইসলাম সম্পর্কে তখন পড়াশুনা শুরু করি।তমাদ্দুন মজলিসের মারফতেই সর্বপ্রথম আমি মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর কিছু বই বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় পড়ার সুযোগ পাই।

এরপর দু’বছর পর্যন্ত আমি একাগ্র চিত্তে তাবলীগ জামায়াত ও তমদ্দুন মজলিসে কাজ করতে থাকি। একই সাথে এ দুটো সংগঠনের সাথে কাজ করে দুদিকের বই পুস্তক ভালভাবে পড়ার সুযোগ পাই। আমি তখন অনুভব করি যে,ইসলামের ধর্মীয় ও আধ্যাত্নিক দিকের জন্য তাবলীগ জামায়াতে থাকা আমার জন্য অপরিহার্য এবং ইসলামে রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,ও অন্যান্য দিকের জন্য তমদ্দুন মজলিস ত্যাগ করাও আমার পক্ষে অসম্ভব।একটি পূর্নঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে ইসলামকে মনে প্রানে গ্রহন করার পর শুধু তাবলীগ জামায়াত বা তমদ্দুন মজলিসে আমার তৃষিত মনের খোরাক পেতাম না।তাই এ দুটোর সমন্বয়ে পূর্নাঙ্গ ইসলাম পাওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।

সেকালে লালবাগ শাহী মসজিদে তাবলীগ জামায়াতের মাসিক বড় ইজতিমা হতো। তাতে আমাকেও বক্তৃতা দিতে হতো। তাবলীগের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছয় উসূলের যে বক্তৃতা আমি করতাম তা শুনে হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রঃ)তার নিকটবর্তী লোকদের কাছে আমার সম্পর্কে মন্তব্য করতেন, “এ লোক তাবলীগ জামায়াতের কর্মসূচী নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না” পরবর্তীকালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করার পর তার সাথে দেখা করতে গেলে সেখানে উপস্থিত অনেককে সাক্ষি রেখে বললেন, “আমি বলেছিলাম না যে,তাবলীগ জামায়াত একে আটকিয়ে রাখতে পারবে না?” তাঁর কথা শুনে আমি অনুভব করলাম যে,তাবলীগ জামায়াতের মঞ্চে বক্তৃতা কালেও তমদ্দুন মজলিসের ইসলামী বিপ্লবের সুর আমার কথায় হয়ত প্রকাশ পেতো। তাই তার মতো জ্ঞানী ব্যক্তি এ কথা আচ করতে পেরেছিলেন। জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দান করার ফলে তিনি আমাকে উৎসাহিত করায় আমি আরও নিশ্চিত হলাম।

১৯৬৮ সালে ইংরেজী ভাষায় আমার লেখা A Guide to Islamic Movement (ইসলামী আন্দোলনের দিশারী)নামক বই-এর ভূমিকায় আমি লিখেছিলাম , “আমার পিতা থেকে ইসলামকে একটি ধর্ম বলেই বুঝেছিলাম। হযরত মাওলানা থানভী (রঃ)-লেখা ও মাওলানা ফরিদপুরী (রঃ)-এর সোহবতে বুঝতে পারলাম যে,ইসলাম এক মহান মিশন এবং এর জন্য জীবন উৎসর্গ করাই ঈমানের দাবী। জামায়াতে ইসলামীতে এসে অনুধাবন করলাম যে, ইসলাম এমন এক বিপ্লবী আন্দোলন যার মাধ্যমে আল্লার জমীনে আল্লার বিধানকে কায়েম করার জন্য চেষ্টা করা মুমিনের জীবনে সবচেয়ে বড় ফরয। এখন আমি কৃজ্ঞতার সাথে স্বীকার করছি যে,হযরত থানবী, তাবলীগ জামায়াত,তমদ্দুন মজলীস ও জামায়াতে ইসলামী আমাকে ক্রমিক পর্যায়ে সত্যিকার মুসলিম হবার প্রেরনা যুগিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীতে এসে পূর্নাঙ্গ ইসলামের রূপ বিস্তারিতভাবে জানবার সুযোগ পেয়েছি।

জামায়াতে ইসলামীর বাইরে এমন কয়েকজন বড় আলেমের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল যাদের কাছ থেকে দ্বীনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আমি যথেষ্ট আলো পেয়েছি।তাঁরা যেহেতু আমাকে স্নেহ করতেন সেহেতু অল্প সময়েও অনেক বেশি ফায়দা তাদের কাছ থেকে হাসিল করার সুযোগ তারা দিতেন। হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী (রঃ)-এর মাধ্যমে হযরত মাওলানা নূর মুহাম্মদ আজমী (রঃ)-এর মতো মহাজ্ঞানীর সাথে ঘনিষ্ট হবার সৌভাগ্য হয়েছিল। সকল প্রকার দ্বীনি খেদমত ও সব দ্বীনি সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং সবার সম্পর্কে উদার মনোভাব পোষন করার ব্যপারে এ দু’জনের মতো এমন বিশালমনা লোক বাংলাদেশে আমি পাইনি। এ দু’জনের সাথে যত বেশি সময় ঘনিষ্টভাবে মিশার সুযোগ পেয়েছি অন্যদের সাথে এতটা না পেলেও অন্যদের সম্পর্কে বহু মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছি। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলেনঃ

হযরত মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মুস্তফা আল মাদানী শহীদ (রঃ)
হযরত মাওলানা মুহাম্মদ আকরাম খান (রঃ)
হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহিল কাফী আল কুরাইশী (রঃ)
হযরত মাওলানা আতাহার আলী (রঃ)
হযরত মাওলানা মুফতী দ্বীনি মুহাম্মাদ খান (রঃ)
হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়েদ আমীমুল ইহসান (রঃ)

জামায়াতকে ইসলামীর অন্তর্ভূক্ত পাকিস্তান,হিন্দুস্তান,ও বাংলাদেশের বহূ ওলামার ঘনিষ্ট সংস্পর্শে আসার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।তাঁদের এবং জামায়াতের বাইরে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদের বই-পুস্তককে আমার দ্বীনি যিন্দেগীর পাথেও হিসেবে পেয়েছি।

এ আলোচনা দ্বারা এ কথা প্রকাশ করতে চাই যে,আমাদের মতো অগনিত আধুনিক শিক্ষিত লোকের পক্ষে ইসলামের ইলম ও আমল সম্বন্ধে শিক্ষা পেতে হলে ওলামা ও মাশায়েখের সাহায্য ছড়া উপায় নেই।আল্লার ফজলে আজ স্কুল ,কলেজ,ইউনিভার্সিটিতে মাওলানা মওদূদী (রঃ)ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের বই পুস্তকের ছাত্র সমাজ পর্যন্ত ইসলামের দিকে আকৃষ্ট হয়েছে।সে শিক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা ইসলামী ইলম ও আমলের বিপারীত মন-মগজ চরিত্রের লোক তৈরী হচ্ছে সেখানে যেসব ইসলামী সাহিত্য এমন উৎসাহজনক জাগরন সৃষ্টি করেছে সেসব সাহিত্য ওলামাদেরই রচিত।

এ বিষয়ে সন্দেহ নেই যে,ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র ও অছাত্র কর্মীরা ইসলামী জীবন বিধানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে এবং কুরআন পাককে রাসূলের ইসলামী আন্দোলনের আলোকে বুঝবার জন্য যেসব বই পুস্তকের সাহায্য নিচ্ছে এর বেশির ভাগই মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর লেখা।কুরআন হাদীসের ভিত্তিতে রচিত অতীত ও বর্তমানের অন্য ওলামাদের যেসব বই বাংলায় পাওয়া যায় তা থেকেও তারা যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করছে।কিন্তু মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর এ লেখা বাদ দিয়ে চলার কোন উপায় নেই বলে বাধ্য হয়ে তাঁর লেখা বই সবাই পড়ছে। যদি আর কারো ইসলামী সাহিত্য প্রচুর থাকত এবং তাদের সাহিত্য যদি ইসলাম বিরোধী মত ও পথের বিরূদ্ধে মযবুত কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারতো তাহলে আমাদের মতো আধুনিক শিক্ষিত অনেকেই মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর সাহিত্য ছাড়াই এ পথে এগুতে পারতো।

ওলামা ও মাশায়েখে কেরাম কি এমন আর কোন ব্যক্তির নাম পেশ করতে পারবেন যার সাহিত্য আমাদেরকে ইসলামী জীবন বিধান সম্পর্কে এ যুগের উপযোগী ভাষার বিস্তারিত শিক্ষা দিতে পারে? এ পরিস্থিতিতে যখন কোন আলেম মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর বিরূদ্ধে ফতোয়া দেন তখন তাঁর সম্পর্কে ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষিত কর্মীদের কিরূপ ধারনা সৃষ্টি হতে পারে? কোন দ্বীনি ব্যক্তি যখন বলেন যে, “আমি মওদূদীর ইসলাম পছন্দ করি না” তখন কর্মীদের মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে যে,মওদূদী (রঃ)ইসলামকে যতটুকু বুঝবার চেষ্টা করেছেন তা তো তার লেখা সাহিত্যে স্পষ্টই দেখা যায়।তিন্তু যিনি এ কথা বলেন তিনি ইসলামের কোন ভাল ব্যক্ষা দিয়েছেন কিনা সে কথা তো কারো জানবার সুযোগ হলো না।তাহলে ঐ ব্যক্তির এ জাতীয় ঘোষণা দ্বারা ময়দানের হাজার হাজার কর্মীর মনে কি তাঁর সম্পর্কে কোন সুধারনার সৃষ্টি হতে পারে? যদি তিনি সঠিক ইসলাম পেশ করে নিজেকে “মওদূদীর ভুল ইসলাম” থেকে রক্ষা করার যোগ্য বলে প্রমান দিতে পারতেন তাহলে ইসলামের জন্য যারা বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে তাঁরা তাকেই নেতা হিসেবে গ্রহন করতো এবং মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর বই পড়া দরকার মনে করতো না।

আমি সকল হাক্কানী ওলামা ও মাশায়েখের খেদমতে অতি বিনয়ের সাথে আরজ করছি যে,আপনারা মেহেরবানী করে একটু সময় ও শ্রম খরচ করে মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর ৬ খন্ডে লিখিত তাফসীর “তাফহীমুল কুরআন” এবং এ যুগের মানুষের অগণিত প্রশ্নের ৭ খন্ডে জওয়াব “রাসায়েল ও মাসায়েল” নামক পুস্তকগুলো পড়ে দেখুন। শুধু অন্যের মন্তব্য শুনেই সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজে দেখে ফয়সালা করুন।এটা বিরাট জিম্মাদারীর কাজ।আল্লার কাছে আমাদের সবারই জবাবদিহি করতে হবে।

আজ বাংলাদেশে ইসলামের বিরুদ্ধে কত বড় বড় ফিতনা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে! ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ,ভাষা ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ,সমাজতন্ত্র ইত্যাদি বিরাট শক্তি নিয়ে এ দেশ থেকে ইসলামী আদর্শকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।বাস্তব ময়দানে এসব ফিতনা মোকাবিলায় কারা কতটুকু ইসলামের পক্ষে কাজ করছে তা দেশবাসী সবাই দেখতে পাচ্ছে।ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো কাদেরকে প্রকৃত দুশমন মনে করছে তা সবাই দেখছেন।কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ময়দানে যারা ইসলামী আন্দোলনে আত্ননিয়োগ করছে এবং যাদের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও সমাজতন্ত্রীরা একজোট হয়ে লেগেছে তারা কি আপনাদের সবার সাহায্য-সহানুভূতি ও সমর্থনের কোন হক রাখে না?

এ অবস্থায় ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন না করে যারা ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে “মওদূদী ফিতনা” বলে ফতোয়া দেন তাদের এ কাজ কি পরোক্ষভাবে ইসলামের দুশমনদের পক্ষে যায় না? ইসলামের প্রতি সত্যিকার দরদ থাকলে ময়দানে কর্মরত ইসলামী কর্মীদেরকে সাহায্য করাই স্বাভাবিক। মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর বই-এর যে সব কথা কুরআন হাদীস সম্মত নয় বলে কেউ মনে করেন যুক্তি সহকারে সেসব ভূল ধরিয়ে দিন।এভাবে ভূল ধরিয়ে দিলে ইসলামের বিরাট খেদমত হবে এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এ ধরনের ওলামা মাশায়েখের নিকট কৃতজ্ঞ থাকবে।কিন্তু এ কষ্টটুকু স্বীকার না করে যদি ফতোয়া দিয়েই দায়ীত্ব পালনের চেষ্টা করা হয় তাহলে ফতোয়াদাতা গন সচেতন লোকদের কাছে শ্রদ্ধার আসন কি করে পাবেন।

ওলামা ও মাশায়েখ সাহাবানের খেদমতে একটা বিষয় সম্পর্কে বিশেষভাবে চিন্তা ও বিবেচনা করার জন্য আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি।আমার প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী,ভারতপন্থি ও সমজতন্ত্রী দলগুলো কিভাবে বৈদেশীক পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতার দখলের চেষ্টা করছে তা নিশ্চই আপনারা লক্ষ্য করেছেন। ছাত্র সমাজের মধ্যেও এসব দলের বহু সংগঠন আছে।এসব ইসলাম বিরোধী শক্তির মুকাবিলায় বৃহত্তর ময়দানে জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র মহলে ইসলামী ছাত্র শিবির যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে তাও আপনাদের অজানা নয়। এ অবস্থায় যারা ইসলামকে ভালবাসেন তাদের কি কর্তব্য হওয়া উচিত তা আপনারাই বিবেচনা করুন।এ পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীকে সাহায্য সহযোগিতা দান করাই কি দ্বীনি দায়িত্ব নয়? এ দায়ীত্ব পালন না করার ফলে যদি ইসলাম বিরোধী শক্তি বিজয়ী হয়ে যায় তাহলে আপনাদের বর্তমান দ্বীনি খেদমতটুকুর সুযোগ থাকবে কিনা তা চিন্তা করার এখনও সময় আছে।

সর্বশেষ আরয করতে চাই যে, মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর লেখা বই-এর মধ্যে আহলি সিন্নাত ওয়াল জামাতের খেলাফ যদি কোন কথা থাকে তাহলে সেসব চিহ্নিত করার ব্যপারে আমাদেরকে সাহায্য করুন।আমরা নিজেদেরকে আহলী সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভূক্ত বলে বিশ্বাস করি। তাই এ দিক দিয়ে তার বই-এর মধ্যে ভুল থাকলে তা আমরা কোনক্রমেই গ্রহন করবো না।এ বিষয়েও একটি কথার দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই। কেউ কেউ মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর কোন কথা মূল বই-এর বক্তব্য থেকে আলাদা করে (সিয়াক ও সাবাক ছাড়া)এমন ভাবে পেশ করে থাকেন যার ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।তাই মূল বই না দেখে শুধু বিচ্ছিন্ন কোন কথার ভিত্তিতে কোন সিদ্ধান্তে পৌছা নিরাপদ নয়।

অগণিত আধুনিক শিক্ষিত লোকের সাথে আমার ব্যাপক যোগাযোগ হয়। তাদের অধিকাংশই আলেম সমাজ সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখে না। তাদের সাথে আমার বিতর্ক হয় তাদেরকে আমি বুঝাই যে দ্বীনের ইলম আলেম সমাজ থেকেই পেতে হবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে দ্বীনের ইলম কোথা থেকে পাওয়া যাবে? আলেম সমাজকে আধুনিক শিক্ষিত লোকদের নিকট শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে গন্য হতে হলে ফতোয়ার ভাষায় মাওলানা মওদূদী (রঃ)-এর সমালোচনা না করে সংশোধনের নিয়তে ভুল ধরিয়ে দিতে হবে। যেসব শিক্ষিত লোক ইসলাম সম্পর্কে জানতে উৎসাহী তারা মাওলানা মওদূদীর বইকেই প্রধান সম্বল হিসেবে পান। ফতোয়ার কারণে যদি এসব লোকের মনে ওলামা ও মাশায়াখ সম্পর্কে অশ্রদ্ধার সৃষ্টি হয় তাহলে দ্বীনের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু দরদপূর্ন ভাষায় যদি তার ভুল ধরিয়ে দেন তাহলে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যাবে।

সমাপ্ত

সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )