আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইকামতে দ্বীন প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Saturday, 12 January 2008
আর্টিকেল সূচি
ইকামতে দ্বীন
ওলামায়ে কেরাম সবাই
ওলামায়ে কেরাম সবাই
দ্বীনের মাপকাঠি একমাত্র রাসূল
উপমহাদেশের বড় বড় ওলামা ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন করেন নি কেন?
জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব
ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে এ জাতীয় জামায়াত আছে কি?
জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদুদী (রঃ)
জামায়াত বিরোধী ফতোয়া
মাওলানা মওদূদী (রঃ)বিবোধী ফতোয়া
ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের খেদমতে

জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব

ইকামাতে দ্বীনের কাজ কার পক্ষে একা করা কিছুতেই সম্ভব নয়।এমন কি শত যোগ্যতা সত্বেও কোন নবীও একা দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেন নি।অবশ্য প্রথমে নবীকে একা শুরু করতে হয়েছে। যে নবীর ডাকে মানুষ সাড়া দেয়নি এবং জামাত বদ্ধ ভাবে কাজ করার সুযোগ যে নবী পাননি তিনি দ্বীনকে বিজয়ী করতে পারেন নি।

একটা সমাজ ব্যবস্থাকে বদলিয়ে নতুন করে সে সমাজকে গড়ে তুলবার কাজটি এমন কঠিন ও জটিল যে,প্রয়োজনীয় সংখ্যক এক দল লোকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া এ বিরাট উদ্দেশ্য কিছুতেই সফল হতে পারে না।তাই প্রত্যেক নবীই মানুষকে আল্লার দাসত্ব কবুলের দাওয়াত দেয়ার সাথে সাথে তাঁর আনুগত্য করে ইকামাতে দ্বীনের দায়িত্ব পালনে তাঁর সাথী হবার জন্য তাদেরকে আহবান জানিয়েছে।

অর্থঃ “আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর”। প্রত্যেক নবীই এ দাওয়াত দিয়েছেন।কারন একদল লোকের আনুগত্য না পেলে দ্বীনকে বিজয়ী করা সম্ভব নয়।

এ কারনেই ইসলামে জামায়াতের গুরুত্ব এত বেশি।রোজ পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে নামাজ আদায়ের নির্দশ দিয়ে জমায়াতবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভব করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি জামায়াতী যিন্দেগিকে ইসলামের আনুগত্যের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন তাকে হাদিসে এ বলে সাবধান করা হয়েছে যে,মেষের পাল থেকে বিচ্ছিন্ন মেষকে যেমন নেকড়ে বাঘ ধরে নিয়ে যায় তেমনি শয়তান জামায়াত থেকে বিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে নিজের খপ্পরে নিয়ে নেয়।

এমন কি সফরের সময় দু’জন এক সাথে সফর করলেও একজনকে আমীর মেনে জামায়াতের শৃঙ্খলা মতো চলার জন্য রসূল (সঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।জমায়াত ছাড়া ইসলামী জিন্দেগী সম্ভব নয় এবং আমীর ছাড়া ও জাময়াত হতে পারে না।এ দ্বারা একথাই প্রমানিত হয় যে,একজন মুসলিম হয় আমীর (হুকুমকর্তা ) হবে,না হয় মামুর (হুকুম পালনকারী) হবে। যেমন জামায়াতে নামায আদায় করা অবস্থায় তাকে হয় ইমাম হতে হবে,না হয় মুক্তাদি হতে হবে। কেউ যদি ইমাম বা মুক্তাদি কোনটাই না হয় তাহলে বুঝতে হবে যে,সে নামাযের জামায়াতে শামিল হয়নি। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি কোন দ্বীনি জামায়াতে শামিল হয়নি সে সঠিক ইসলামী জীবন যাপনের কর্মসূচী গ্রহনই করেনি। এ অবস্থায় সে নাফস ও শয়তানের ধোকা থেকে বেঁচে থাকতে পারবে না।

নবী করীম (সঃ)-এর সময়ে শুধু তারাই মুসলিম বলে গন্য হতেন যারা নবীর জামায়াতে শরীক হয়ে নবীর নিকট বা তাঁর প্রতিনিধির নিকট বাইয়াত হতেন।ঐ জামায়াতের বাইরে থাকলে মুসলিম বলে গন্যই হতো না।ঐ জাময়াতই দ্বীনের একমাত্র জামায়াত বা আল-জামায়াত ছিল।বর্তমানে কোন এক জামায়াতই আল জামায়াতের মর্যাদা পেতে পারে না।রাসূলের আদর্শের ভিত্তিতে যত জামায়াত গঠিত হতে পারে সব জামায়াত মিলে আল-জামায়াত বলে গন্য।কিন্তু যে কোন দ্বীনি জাময়াতে শামিল-ই হয়নি সে ইমানের দিক দিয়ে মোটেই নিরাপদ অবস্থায় নেই।

ইসলামে জামায়াতের এ গুরুত্বকে কোন আলেমই অস্বীকার করতে পারবেন না। আল্লার দ্বীনের খেদমতের জন্য হলেও কোন জামায়াত ভূক্ত হওয়া হাদীসের দৃষ্টিতে কমপক্ষে ওয়াজেব স্বীকার করা ছাড়া উপায় নেই।সুতারাং প্রত্যেক সচেতন মুসলিমকেই কোন না কোন একটি জামায়াতের শামিল হতে হবে।প্রচলিত জামায়াতগুলোর কোনটাই যদি পছন্দ না হয় তাহলে এমন ব্যক্তিকে একটা নতুন জামায়াত গঠন করার চেষ্টা করা উচিত। অবশ্য একটা কথা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন যে প্রত্যেক দ্বীনি জামায়াত কে ভালভাবে জানার চেষ্টা করা সবারই দায়িত্ব। প্রত্যেক জামায়াতকে কাছে এসেই জানতে হবে এবং সে জামায়াতের দ্বায়ীত্বশীল লোকদের কাছ থেকে জানতে চেষ্টা করতে হবে।উড়ু কথায় কান দিয়ে বা কোন জামায়াতের বিরোধীদের প্রচার দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একেবারেই অযৌক্তিক। যে বিচারক বাদীর অভিযোগ শুনেই আসামীদের জবানবন্দী না নিয়েই রায় দেয় সে বিচারক হবার যোগ্য নয়।তাই কোন জামায়াত সম্পর্কে স্বিদ্ধান্ত নিতে হলে সে জামায়াতকে কাছে থেকে দেখা দরকার।

তাবলীগ জামায়াতের ভাইয়েরা একথা খুব সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে থকেন।তারা বলেন যে,তাবলীগ জামায়াত কেমন তা যদি সঠিক ভাবে জানতে চান তাহলে অন্ততঃ কিছুদিনের জন্য জামায়াতে সময় দিন এবং সাথে থাকুন। তাবলীগের ভাইদের একথা খুবই যুক্তিপূর্ন।এ যুক্তিটা কিন্তু সব জামায়াতের ব্যপারেই সত্য।তাবলীগী ভাইয়েরাও যদি অন্য জামায়াত সম্পর্কে জানতে চান তাহলে তাদেরকেও একটু সময় দিয়ে সে জামায়াতকে জানতে হবে। শুধু তাবলীগের কাজ করলে অন্য জামায়াতের সাথে তুলনা করার যোগ্যতা কি করে হবে?

আমি যদি তাবলীগ জামায়াতে কাজ করার সুযোগ না পেতাম তাহলে দূর থেকে এ সম্পর্কে সঠিক ধারনা অর্জন করতে পারতাম না। এভাবে আমার তামাদ্দুন মজলিস সম্বন্ধেও জানবার সুযোগ হয়েছে। ইসলাম যে একটা আদর্শিক আন্দোলন এ বিষয়ে এ মজলিসের মাধ্যেই আমার প্রাথমিক ধারনা সৃষ্টি হয়েছে।আমি তিন বছর একই সাথে তাবলীগ জামায়াত ও তমদ্দুন মজলিসে কাজ করেছি।একটিতে ইসলামের ধর্মীয় দিকের চর্চা করার সুযোগ পেয়েছি এবং অন্যটিতে ইসলামের সামাজিক ,রজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকের ইংগিত পেয়েছি।যখন জামায়াতে ইসলামীকে জানবার সুযোগ হলো তখনই ইসলামের সবদিক একই জামায়াতে পেয়ে এখানে যোগদান করেছি।অবশ্য তাবলীগ ও তামাদ্দুনের অবদানকে আমি অন্তর দিয়ে স্বীকার করি। এভাবে তুলনা করার সৌভাগ্য না হলে যে জামায়াতে কাজ করছি সেখানেও তৃপ্তিবোধ করতে সক্ষম হতাম না।

যে কয়টি জামায়াতকে জানবার আমার সুযোগ হয়েছে তার মধ্যে যেটিকে আমি সর্বশেষ গ্রহন করেছি সেটাই সবার গ্রহন করা কর্তব্য বলে আমি বলি না।আমার বক্তব্য হলো যে,সব কটা দ্বীনি জামায়াত সম্পর্কে সচেতন মুসলমানদের ভাল ভাবে জানার চেষ্টা করা উচিত।তুলনামূলক ভাবে বিচার করে যে যেটাকে বেশি পছন্দ করবেন সেখানে কাজ করে তিনি বেশী তৃপ্তি পাবেন।আর তুলনা করলে সব জামায়াতেরই দ্বীনি খেদমতটুকুকে স্বীকার করতে সক্ষম হবেন।এক জামায়াতকে বেশি পছন্দ করার অর্থ এই নয় যে,অন্যান্য জামায়াতকে মন্দ মনে করতে হবে।একটা “বেশী ভাল” বলে স্বিকার করেও অন্যটাকে অন্তত “শুধু ভাল” মনে করা উচিত। একটাকে বেশি পছন্দ করলেই অন্য সবগুলোকে মন্দ মনে করা কোন অবস্থায় জরুরী নয়।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )