আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইকামতে দ্বীন প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Saturday, 12 January 2008
আর্টিকেল সূচি
ইকামতে দ্বীন
ওলামায়ে কেরাম সবাই
ওলামায়ে কেরাম সবাই
দ্বীনের মাপকাঠি একমাত্র রাসূল
উপমহাদেশের বড় বড় ওলামা ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন করেন নি কেন?
জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব
ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে এ জাতীয় জামায়াত আছে কি?
জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদুদী (রঃ)
জামায়াত বিরোধী ফতোয়া
মাওলানা মওদূদী (রঃ)বিবোধী ফতোয়া
ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের খেদমতে

ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের বৈশিষ্ট্য

প্রত্যেক সংগঠন,জামায়াত বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে।স্বাভাবিকভাবে ঐ উদ্দেশ্যেই সেখানে লোক তৈরী করার পরিকল্পনা থাকে।যেমন মাদ্রাসা করা করা হয় আলেম তৈরী করার জন্য।যে ধরনের আলেম তৈরীর উদ্দেশ্য থাকে সে জাতীয় সিলেবাসই রচনা করা হয়।যারা কলেজ কায়েম করে তারা মাদ্রাসা থেকে ভিন্ন উদ্দেশ্যে লোক তৈরী করতে চায় বলে তাদের সিলেবাসও ভিন্ন।খানকার মাধ্যমে আল্লাহ ওয়ালা লোক তৈরীর যে প্রগ্রাম থাকে তা দ্বারা ঐ মানের লোকই তৈরী হয়।তাবলীগ জামায়াতের ছয় উসূলের ভিত্তিতে এবং চিল্লা পদ্ধতিতে ঐ ধরনের লোকই তৈরী হচ্ছে যা এ কর্মসূচী দ্বারা তৈলী হওয়া সম্ভব।এ জামায়াত চেষ্টা করছে যাতে মানুষ দুনিয়ার জিন্দেগীতে মগ্ন হয়ে না থেকে আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবন গড়ার উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে বাড়িঘর ও পেশা থেকে দূরে কিছুদিন তবলীগের কাজে সময় খরচ করে।মানুষকে আখেরাতমুখী করা নিসন্দেহে দ্বিনী খেদমত।

কিন্তু যে সংগঠন বাতিল সমাজ ব্যবস্থাকে বদলিয়ে আল্লাহর বিধান ও রসূলের আদর্শে সমাজকে গড়তে চায় তার কর্মসূচী এ বিরাট উদ্দেশ্যের উপযোগী হতে হবে।এ জাতীয় জামায়াতের কয়েকটি বৈশিষ্ট রয়েছেঃ

একঃ এ জামায়াতের দাওয়াত ইসলামের কতক অংশ বা দিকের প্রতি হতে পারে না।ইসলাম যতটা ব্যাপক এ জামায়াতের দাওয়াত ততটা ব্যাপক হবে।জীবনের সর্বক্ষেত্রে একমাত্র আল্লার দাসত্ব ও রসূলের আনুগত্যের প্রতি এ জামায়াতের দাওয়াত বিস্তৃত হবে।ব্যক্তি,সমাজ ও রাষ্ট্রিয় জীবনে আল্লাহকে একমাত্র হুকুমকর্তা এবং রাসূল (সঃ) কে একমাত্র আদর্শ নেতা মানার দাওয়াতই এ জামায়াতে দিতে থাকবে।

দুইঃ এ জামায়াত ইসলামের পূর্নাংগ শিক্ষাকে মানব সমাজের নিকট তুলে ধরার চেষ্টা করবে।গোটা কুরআন পাককে বুঝবার জন্য সর্ব প্রাকার চেষ্টা চালাবে।ঈমান,ইসলাম,তাকওয়া,ইহসান এবং নামায, রোযা,হজ্জ,যাকাত,যিকির ও তাহাজ্জুদ থেকে নিয়ে পারিবারিক জীবন,রাজনৈতিক জীবন. অর্থনৈতিক জীবন এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের অন্যান্য সমস্ত দিক ইসলামের যাবতীয় শিক্ষাকে সমাজে ব্যপকভাবে প্রচার করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।

তিনঃ পূর্ন দ্বীন ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য এ জামায়াত স্বাভাবিক কারনেই জনশক্তি সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে মানুষকে এ সংগঠনে শামিল করার চেষ্টা করবে।এ জাতীয় সংগঠনে যারাই আসবে তারা জামায়াতের উদ্দেশ্যকে নিজেদের জীবনের উদ্দেশ্য মনে করেই আসবে।তারা জনগনকে এ মহান উদ্দেশ্যের সাথে একমত করার চেষ্টা করবে এবং ব্যক্তিগতভাবেও দাওয়াত দিয়ে মানুষকে জামায়াতে শামীল করতে থাকবে।

চারঃ যারা জামায়াতে যোগদান করে তাদের মধ্যে ইকামাতে দ্বীনের কঠিন দায়ীত্ব পালনের উপযোগী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা,চরিত্র ও গুনাবলী সৃষ্টির জন্য এ জামায়াত বিশেষভাবে ব্যবন্থা করবে।যত প্রকার তারবিয়াত বা ট্রেনং সম্ভব তার মাধ্যমে যোগ্য কর্মী বাহিনী সৃষ্টি করবে।

পাঁচঃ ইসলামকে বিজয়ী করার ডাক দিয়ে লোক সংগ্রহ করার ফলে এ সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত সরকার ও সর্বপ্রকার কায়েমী স্বার্থ (রজনৈতিক,অর্থনেতিক,সামাজিক ও ধর্মীয়) সজাগ না হয়ে পারে না।বাতিল নেজাম বা দ্বীনে বাতিল এ জাতীয় জামায়াতকে তাদের জন্য বিপদ জনক মনে করবে।

তাই যত প্রকারে সম্ভব এ জামায়াতের অগ্রগতি রোধ করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করবে।এ ধরনের জামায়াতের নেতা ও কর্মীদের বিরূদ্ধে সরকার ও অন্যান্য ইসলাম বিরোধী দল এক জোট হয়ে প্রচারনা চালাবে যাতে জনগনকে বিভ্রান্ত করা যায়।এ সংগঠনের শক্তি যাতে বৃদ্ধি না পায় সে জন্য দ্কার হলে বিনা বিচারে মিথ্যা মামলার জালে জড়িয়ে নেতা ও কর্মীদেরকে জেলে পাঠাবে।এভাবে সর্বপ্রকার নির্যাতনের মাধ্যমে ইসলামকে বিজয়ী করার বিরুদ্ধে সকল কায়েমী স্বার্থ উঠে পড়ে পড়ে লেগে যাবে।

ইসলামী জামায়াত হওয়া সত্বেও যদি কায়েমী স্বার্থ কোন সংগঠকে সহ্য করে এবং তাদের বিরুদ্ধে কিছু না করে তাহলে ধরে নিতে হবে যে,এ জামায়াত ইসলামের বড় কোন খেদমত করলেও ইকামাতে দ্বীনের কোন কর্মসূচী নিয়ে কাজ করছে না।কায়েমী সার্থ বা প্রচলিত সরকার যদি কোন জামায়াতকে তাদের দুশমন মনে না করে তাহলে বুঝতে হবে যে,দ্বীনে হককে কায়েম করার কোন কর্মসূচি সে জামায়াতের নেই।

ছয়ঃ বাতিল শক্তি ও কায়েমী স্বার্থের এ বিরোধিতা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী হয়। এ বিরোধিতার ফলে এ আন্দোলনের ভীরু কাপুরুষ জাতীয় লোক আসতে সাহস পায় না।দুনিয়ার স্বার্থই যাদের নিকট বড় তারাও এ পথে আসে না।এ পথের জন্য যে জাতীয় নিঃস্বার্থ সাহসী,সংগ্রামী ও জিহাদী মনোভাবের লোক দরকার সে ধরনের লোকই এ সংগঠনে সামীল হয়।একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে যারা ডরায় না তারাই এখানে টিকে থাকে।এ পথাটাই এমন যে,যারাই এ পথে পা বাড়ায় তাদেরেই আল্লাহ পাক পরীক্ষা করেন।

অর্থঃ “মানুষ কি মনে করে যে,তার ‘ইমান এনেছি’ বললেই তাদেরকে বিনা পরীক্ষায় ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ তাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করা হয়েছে”_ (সূরা আনকাবুতঃ২-৩)

ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন ছিল বলেই রাসূল (সঃ)-এর সময় সাহাবায়ে কেরামকে এত পরীক্ষার সম্মুখিন হতে হয়েছে।আজও যদি সে কাজ কোন জামায়াত করে তাহলে তাদেরকেও পরীক্ষা দিতেই হবে।এ পরীক্ষা ছাড়া কোন লোক যোগার হওয়া সম্ভব নয় যারা ইসলামকে কায়েম করার যোগ্য।

সাতঃ ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলনের আরও একটা বৈশিষ্ট এই যে,এ সংগঠনের কোন ব্যক্তিকে ইখলাস,তাকওয়া এবং আন্দোলনের জন্য কুরবানী ও নিষ্ঠা ছাড়া অন্য কোন মাপকাঠিতে নেতা হিসেবে স্থান দেয়া হয় না।ক্ষমতা দখল যেসব দলের আসল লক্ষ্য অন্য দলের কোন নিতাকে ঐসব দলে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য নেতা হিসেবে গ্রহন করা হয়।ইকামাতে দ্বীনের সংগঠনের কোন লোককে “ রেডী মেড” নেতা হিসেবে গ্রহন করা যায় না।কারন যে নেতৃত্বের খায়েশ রাখে তাকে নেতা বানান ইসলামী নিতীর বিরোধী।

এ কারনেই এ সংগঠনে নেতা হবার কোন প্রতিযোগীতা হতে পারে না।নেতৃত্বের কোন কোন্দলও এখানে হওয়া অসম্ভব।নেতা হবার উদ্দেশ্যে করো পক্ষে এ জাতীয় সংগঠনে ঢুকবার রাস্তাও থাকে না। কিন্তু কোন দলের নেতৃস্থানীয় ও যোগ্যতা সম্পন্ন লোক যদি নিষ্ঠার সাথে এ সংগঠনে শামিল হয় তাহলে তার আচরন ও কর্মনীতিই তাকে সত্বর নেতৃত্বে পৌছিয়ে দেয়।কারন এ ধরনের সংগঠনের দায়ীত্বশীলরা যোগ্যতর লোক পেলে তাদের উপর দায়িত্ব দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এ জাতীয় সংগঠনের কেউ নেতা হবার চেষ্টা করে না।এবং নেতার যোগ্যতা সম্পন্ন লোককে নেতৃত্ব গ্রহন করার জন্য অনুরোধ করা হয়।কোন ব্যক্তিকে শুধু খ্যাতি,টাকা-পয়সা বা ডিগ্রির ভিত্তিতে নেতা বানান হয় না।আদর্শ ও চরিত্রের মাপকাঠিতেই নেতৃত্ব বাছাই করা হয়।

আটঃ সত্যিকার ইসলামী জামায়াত কোন ব্যক্তি বিশেষকে আন্দোলনের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে না।ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের নিকট ইসলামী আদর্শই আসল আকর্ষন।মানুষকে এ আদর্শের দিকে আকৃষ্ট করাই এর বৈশিষ্ট্।নবীর সংগঠনের কেন্দ্রবিন্দু ও ভিত্তি হলো নবীর ব্যক্তিত্ব।নবী ছাড়া সংগঠনের ভিত্তি অন্য কোন ব্যক্তিত্ব হওয়া উচিত নয়।কোন ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে যদি সংগঠন গড়ে তোলা হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর এর অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে না।কিন্তু আদর্শই যদি সংগঠের মূল ভিত্তি হয় তাহলে এর প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু সংগঠের অস্তিত্ব বিপন্ন করে না।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )