আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
ইকামতে দ্বীন প্রিন্ট কর ইমেল
লিখেছেন অধ্যাপক গোলাম আযম   
Saturday, 12 January 2008
আর্টিকেল সূচি
ইকামতে দ্বীন
ওলামায়ে কেরাম সবাই
ওলামায়ে কেরাম সবাই
দ্বীনের মাপকাঠি একমাত্র রাসূল
উপমহাদেশের বড় বড় ওলামা ইকামাতে দ্বীনের আন্দোলন করেন নি কেন?
জামাতবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব
ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে গঠিত জামায়াতের বৈশিষ্ট্য
বাংলাদেশে এ জাতীয় জামায়াত আছে কি?
জামায়াতে ইসলামী ও মাওলানা মওদুদী (রঃ)
জামায়াত বিরোধী ফতোয়া
মাওলানা মওদূদী (রঃ)বিবোধী ফতোয়া
ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের খেদমতে

বাংলাদেশে এ জাতীয় জামায়াত আছে কি?

যারা সত্যিই ইকামাতে দ্বীনের দায়ীত্ব অনুভব করেন তাদের নিকট এ প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।সকল দিক দিয়ে আকর্ষনীয় পূর্নাঙ্গ জামায়াত পাওয়া যায় না বলে অজুহাত দেখিয়ে ইকামাতে দ্বীনের কাজ না করলে আল্লার নিকট ঠেকতে হবে কিনা তা গভীরভাবে বিবেচনা করার বিষয়। মসজিদের ইমাম পছন্দ নয় বলে জামায়াতে শরীক না হয়ে একা নামায পড়া যেমন অন্যায় তেমনি আদর্শ জামায়াত না পেয়ে জামায়াতহীন জীবন যাপন করাও মস্তবড় ভুল।

আপনি যদি ইমাম হবার যোগ্য হন তাহলে নিয়মিত মসজিদে যেয়ে জামায়াত নামাজ আদায় করল মুসল্লিরা অজোগ্য ইমামকে সরিয়ে আপনাকেই ইমাম বানাতে পারে।তখন মসজিদটি যোগ্য ইমাম পেয়ে আরও বেশী আবাদ হবে।তেমনি ইকামাতে দ্বীনের উদ্দেশ্য যে জামায়াতকে তুলনামূলকভাবে পছন্দ হয় সে জামায়াতে শরীক হয়ে সেটাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে পারেন।আর যদি আপনি নিজে একটা জামায়াত গঠন করার যোগ্যতা রাখেন তা হলে তা-ই করুন।কিন্তু কোন জামায়াত ছাড়া যে ইকামাতে দ্বীনের দ্বায়ীত্ব কার পক্ষে পালন করা কিছুতেই সম্ভব নয় সে কথা স্বীকার করতেই হবে।

এক সময় এ প্রশ্ন আমার মনেও বিরাট আকারে দেখা দিয়েছিল যে,আমি কোন জামায়াতের সাথে এ কাজ করবো? পূর্বেই বলেছি যে যে দুটো সংগঠনে একই সাথে আমি কাজ করেছিলাম সে দুটো সংগঠনকে আমি এখনও মহব্বত করি।কিন্তু আমার বিবেক যখন আর একটি জামায়াতকে ইকামাতে দ্বীনের ব্যপারে আরও বেশী উপযোগী বলে মনে করলো তখন থেকে সে জামায়াতেই কাজ করছি।এ বিষয়টা সম্পূর্ন প্রত্যেকের বিবেকের উপর নির্ভর করে। দ্বীনের জ্ঞান,ইকামাতের দ্বায়ীত্ববোধ ও ইসলামের ভিত্তিতে প্রত্যেককেই নিজের ব্যপারে নিজেই এ বিষয়ে স্বিদ্ধান্ত নিতে হবে।আমি যে স্বিদ্ধান্তে পৌঁছেছি সবাই সে স্বিদ্ধান্তে আমার সাথে একমত না-ও হতে পারে।কিন্তু প্রত্যেকের দায়ীত্ব রয়েছে যে,ইকামাতে দ্বীনের জন্য যে বৈশিষ্ট প্রয়োজন সে মাপকাঠিতে বিচার করেই পছন্দসই জাময়াত বাছাই করতে হবে।

ইকামাতে দ্বীনের দ্বায়ীত্বটা এমন মামুলী বিষয় নয় যে,ভালভাবে তুলনা না করে এবং বিচার বিবেচনা না করে হঠাৎ না বুঝেই কোন জামায়াতে ঢুকে পড়া যায়।যে জামায়াতে যাচ্ছি সেখানে ইকামাতে দ্বীনের উপযোগী দাওয়াত ও কর্মসূচী আছে কিনা ইকামাতের যোগ্য লোক তৈরীর ব্যবস্থা কতটুকু সেখানে আছে এবং ইকামাতের জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট গুলো কী পরিমাণে আছে তার প্রতি লক্ষ্য রেখেই বাছাই করতে হবে।আল্লাহপাক আমাকে যতটুকু জ্ঞান-বুদ্ধি ও বিবেক দিয়েছেন তাতে ইকামাতের উদ্দেশ্যে যামায়াতে ইসলামীর চেয়ে উন্নত কোন জামায়াত আমি পাইনি।এ জামায়াতকে আরও উন্নত করা এবং এর মধ্যে যে যে দিকে কমতি রয়েছে বা ত্রুটি আছে তা দুর করার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।কারন আমার বিচারে আদর্শ জামায়াত হচ্ছে একমাত্র সাহাবায়ে কেরামের জামায়াত।ঐ জামায়াতকে মাপকাঠি ধরে যখন বিচার করি তখন জামায়াতে ইসলমীতে অনেক অভাব ও অনেক ত্রুটি পাই। দেশের অন্যান্য জামায়াতের সাথে তুলনা করে জামায়তে ইসলামীর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে গৌরব করার মতো ক্ষুদ্র মন যাতে আমার না হয় সে জন্য আল্লার সাহায্য চাই।এ জাময়াত যদি ইকামাতে দ্বীনের মহান দায়িত্ব পালন করতে চায় তাহলে সাহাবায়ে কেরামের জামায়াতকে আদর্শ মনে করে ঐ মানে পৌছার চেষ্টা সম্ভব তা-ই করতে হবে।প্রচলিত কোন দলের সাথে তুলনা করে অত্ম তৃপ্তি বোধ করার কোন অবকাশ নেই।

আমি খালেস দ্বীনি জযবা নিয়ে ঘোষনা করছি যে,আল্লার দ্বীনকে এ দেশে কায়েম করার জন্য যদি জামায়াতে ইসলমীর চেয়ে আবও উন্নত কোন সংগঠন আমি পাই এ জামায়াত ছেড়ে ঐ সংগঠনে যোগ দান করা ফরয মনে করবো।কারন ইকামাতে দ্বীনই আমার লক্ষ্য।সে মহান উদ্দেশ্য যে জামায়াতের মাধ্যমে হাসিল হওয়ার সম্ভাবনা ও আশা বেশী সে জামায়াতে শামিল হওয়াই আমি কর্তব্য বলে বিশ্বাস করি।



সর্বশেষ আপডেট ( Saturday, 07 November 2009 )