সঠিকভাবে আরবি দেখার জন্য PDMS Saleem Quran Font ফন্টটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
<< সূরা তালিকা
মারয়াম
ভূমিকা (নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তুর জন্য ক্লিক করুন)

﴿كٓهيعٓصٓ‌ۚ﴾
১) কা-ফ্ হা-ইয়া-আইন-সা-দ৷  
﴿ ذِكۡرُ رَحۡمَتِ رَبِّكَ عَبۡدَهٗ زَكَرِيَّا ‌ۖ‌ۚ‏﴾
২) এটি তোমার রবের অনুগ্রহের বিবরণ, যা তিনি তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন,  
﴿ اِذۡ نَادٰى رَبَّهٗ نِدَآءً خَفِيًّا‏﴾
৩) যখন সে চুপে চুপে রবকে ডাকলো৷  
﴿ قَالَ رَبِّ اِنِّىۡ وَهَنَ الۡعَظۡمُ مِنِّىۡ وَاشۡتَعَلَ الرَّاۡسُ شَيۡبًا وَّلَمۡ اَكُنۡۢ بِدُعَآٮِٕكَ رَبِّ شَقِيًّا‏﴾
৪) সে বললো, “হে আমার রব! আমার হাড়গুলো পর্যন্ত নরম হয়ে গেছে, মাথা বার্ধক্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে; হে পরোয়ারদিগার! আমি কখনো তোমার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যর্থ হইনি৷  
﴿ وَاِنِّىۡ خِفۡتُ الۡمَوَالِىَ مِنۡ وَّرَآءِىۡ وَكَانَتِ امۡرَاَتِىۡ عَاقِرًا فَهَبۡ لِىۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ وَلِيًّاۙ‏﴾
৫) আমি আমার পর নিজের স্বভাব-স্বগোত্রীয়দের অসদাচরণের আশংকা করি এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা৷ (তথাপি) তুমি নিজের বিশেষ অনুগ্রহ বলে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করো,  
﴿يَّرِثُنِىۡ وَيَرِثُ مِنۡ اٰلِ يَعۡقُوۡبَ‌ وَاجۡعَلۡهُ رَبِّ رَضِيًّا‏﴾
৬) যে আমার উত্তরাধিকরী হবে এবং ইয়াকুব বংশেরও উত্তরাধিকারী হবে৷ আর হে পরোয়ারদিগার! তাকে একজন পছন্দনীয় মানুষে পরিণত করো”৷  
﴿زَكَرِيَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلٰمٍ اسۡمُهٗ يَحۡيٰىۙ لَمۡ نَجۡعَل لَّهٗ مِنۡ قَبۡلُ سَمِيًّا‏﴾
৭) (জবাব দেয়া হলো) “হে যাকারিয়া‍‌! আমি তোমাকে একটি পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া, এ নামে কোন লোক আমি এর আগে সৃষ্টি করিনি৷ 
﴿ قَالَ رَبِّ اَنّٰى يَكُوۡنُ لِىۡ غُلٰمٌ وَّكَانَتِ امۡرَاَتِىۡ عَاقِرًا وَّقَدۡ بَلَغۡتُ مِنَ الۡكِبَرِ عِتِيًّا‏﴾
৮) সে বললো, “হে আমার রব‍‌! আমার ছেলে হবে কেমন করে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি বুড়ো হয়ে শুকিয়ে গেছি?”  
﴿قَالَ كَذٰلِكَ‌ۚ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌ وَّقَدۡ خَلَقۡتُكَ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ تَكُ شَيۡـًٔا‏﴾
৯) জবাব এলো, ”এমনটিই হবে” তোমার রব বলেন, এ তো আমার জন্য সামান্য ব্যাপার মাত্র, এর আগে আমি তোমাকে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না! 
﴿ قَالَ رَبِّ اجۡعَل لِّىۡۤ اٰيَةً‌ؕ قَالَ اٰيَتُكَ اَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلٰثَ لَيَالٍ سَوِيًّا‏﴾
১০) যাকারিয়া বললেন, “হে আমার রব! আমার জন্য নিদর্শন স্থির করে দাও”৷ বললেন, “তোমার জন্য নিদর্শন হচ্ছে তুমি পরপর তিনদিন লোকদের সাথে কথা বলতে পারবে না”৷  
﴿ فَخَرَجَ عَلٰى قَوۡمِهٖ مِنَ الۡمِحۡرَابِ فَاَوۡحٰٓى اِلَيۡهِمۡ اَنۡ سَبِّحُوۡا بُكۡرَةً وَّعَشِيًّا‏﴾
১১) কাজেই সে মিহরাব থেকে বের হয়ে নিজের সম্প্রদায়ের সামনে এলো এবং ইশারায় তাদেরকে সাঁঝে আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করার নির্দেশ দিল৷ 
﴿يٰيَحۡيٰى خُذِ الۡكِتٰبَ بِقُوَّةٍ‌ؕ وَّاٰتَيۡنٰهُ الۡحُكۡمَ صَبِيًّاۙ‏﴾
১২) “হে ইয়াহইয়া! আল্লাহর কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো”৷ আমি তাকে শৈশবেই “হুকুম”১০ দান করেছি  
﴿ وَّحَنَانًا مِّنۡ لَّدُنَّا وَزَكٰوةً‌ؕ وَّكَانَ تَقِيًّاۙ‏﴾
১৩) এবং নিজের পক্ষ থেকে হৃদয়ের কোমলতা১১  ও পবিত্রতা দান করেছি, আর সে ছিল খুবই আল্লাহভীরু  
﴿ وَّبَرًّۢا بِوَالِدَيۡهِ وَلَمۡ يَكُنۡ جَبَّارًا عَصِيًّا‏﴾
১৪) এবং নিজের পিতামাতার অধিকার সচেতন, সে উদ্ধত ও নাফরমান ছিল না৷  
﴿وَسَلٰمٌ عَلَيۡهِ يَوۡمَ وُلِدَ وَيَوۡمَ يَمُوۡتُ وَيَوۡمَ يُبۡعَثُ حَيًّا‏﴾
১৫) শান্তি তার প্রতি যেদিন সে জন্ম লাভ করে এবং যেদিন সে মৃত্যুবরণ করে আর যেদিন তাকে জীবিত করে উঠানো হবে৷১২ 
﴿وَاذۡكُرۡ فِىۡ الۡكِتٰبِ مَرۡيَمَ‌ۘ اِذِ انتَبَذَتۡ مِنۡ اَهۡلِهَا مَكَانًا شَرۡقِيًّاۙ‏﴾
১৬) আর(হে মুহাম্মাদ)!এই কিতাবে মারয়ামের অবস্থা বর্ণনা করো৷১৩ যখন সে নিজের লোকদের থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে নির্জনবাসী হয়ে গিয়েছিল  
﴿فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِهِمۡ حِجَابًا فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَيۡهَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا﴾
১৭) এবং পর্দা টেনে তাদের থেকে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিল৷১৪ এ অবস্থায় আমি তার কাছে নিজের রূহকে অর্থাৎ(ফেরেশতাকে)পাঠালাম এবং সে তার সামনে একটি পূর্ণ মানবিক কায়া নিয়ে হাযির হলো৷  
﴿قَالَتۡ اِنِّىۡۤ اَعُوۡذُ بِالرَّحۡمٰنِ مِنۡكَ اِنۡ كُنۡتَ تَقِيًّا‏﴾
১৮) মারয়াম অকস্মাত বলে উঠলো, ”তুমি যদি আল্লাহকে ভয় করে থাকো তাহলে আমি তোমার হাত থেকে করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি”৷  
﴿‌قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّكِ‌ۖ لِاَهَبَ لَكِ غُلٰمًا زَكِيًّا‏﴾
১৯) সে বললো, “আমি তো তোমার রবের দূত এবং আমাকে পাঠানো হয়েছে এ জন্য যে, আমি তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র দান করবো?”  
﴿قَالَتۡ اَنّٰى يَكُوۡنُ لِىۡ غُلٰمٌ وَّلَمۡ يَمۡسَسۡنِىۡ بَشَرٌ وَّلَمۡ اَكُ بَغِيًّا‏﴾
২০) মারয়াম বললো, “আমার পুত্র হবে কেমন করে যখন কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শও করেনি এবং আমি ব্যভিচারিনীও নই?”  
﴿ قَالَ كَذٰلِكِ‌ۚ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَىَّ هَيِّنٌ‌ۚ وَّلِنَجۡعَلَهٗۤ اٰيَةً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَةً مِّنَّا‌ۚ وَكَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِيًّا‏﴾
২১) ফেরেশতা বললো, “এমনটিই হবে, তোমার রব বলেন, এমনটি করা আমার জন্য অতি সহজ আর আমি এটা এ জন্য করবো যে, এই ছেলেকে আমি লোকদের জন্য একটি নির্দশন১৫ ও নিজের পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহে পরিণত করবো এবং এ কাজটি হবেই”৷  
﴿ فَحَمَلَتۡهُ فَانتَبَذَتۡ بِهٖ مَكَانًا قَصِيًّا‏﴾
২২) মারয়াম এ সন্তানকে গর্ভে ধারণ করলো এবং এ গর্ভসহ একটি দূরবর্তী স্থানে চলে গেলো৷১৬ 
﴿ فَاَجَآءَهَا الۡمَخَاضُ اِلٰى جِذۡعِ النَّخۡلَةِ‌ۚ قَالَتۡ يٰلَيۡتَنِىۡ مِتُّ قَبۡلَ هٰذَا وَكُنۡتُ نَسۡيًا مَّنۡسِيًّا‏﴾
২৩) তারপর প্রসববেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের তলে পৌছে দিল৷ সে বলতে থাকলো, “হায়! যদি আমি এর আগেই মরে যেতাম এবং আমার নাম-নিশানাই না থাকতো”৷১৭ 
﴿ فَنَادٰٮهَا مِنۡ تَحۡتِهَاۤ اَلَّا تَحۡزَنِىۡ قَدۡ جَعَلَ رَبُّكِ تَحۡتَكِ سَرِيًّا‏﴾
২৪) ফেরেশতা পায়ের দিক থেকে তাকে ডেকে বললো, “দুঃখ করো না, তোমার রব তোমার নীচে একটি নহর প্রবাহিত করেছেন  
﴿وَهُزِّىۡۤ اِلَيۡكِ بِجِذۡعِ النَّخۡلَةِ تُسٰقِطۡ عَلَيۡكِ رُطَبًا جَنِيًّا‏﴾
২৫) এবং তুমি এ গাছের কাণ্ডটি একটু নাড়া দাও, তোমার ওপর তরতাজা খেজুর ঝরে পড়বে৷  
﴿فَكُلِىۡ وَاشۡرَبِىۡ وَقَرِّىۡ عَيۡنًا‌ۚ فَاِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الۡبَشَرِ اَحَدًاۙ فَقُوۡلِىۡۤ اِنِّىۡ نَذَرۡتُ لِلرَّحۡمٰنِ صَوۡمًا فَلَنۡ اُكَلِّمَ الۡيَوۡمَ اِنۡسِيًّا‌ۚ‏﴾
২৬) তারপর তুমি খাও, পান করো এবং নিজের চোখ জুড়াও৷ তারপর যদি তুমি মানুষের দেখা পাও তাহলে তাকে বলে দাও, আমি করুণাময়ের জন্য রোযার মানত মেনেছি, তাই আজ আমি কারোর সাথে কথা বলবো না”৷১৮ 
﴿ فَاَتَتۡ بِهٖ قَوۡمَهَا تَحۡمِلُهٗ‌ؕ قَالُوۡا يٰمَرۡيَمُ لَقَدۡ جِئۡتِ شَيۡـًٔا فَرِيًّا﴾
২৭) তারপর সে এই শিশুটি নিয়ে নিজের সম্প্রদায়ের মধ্যে এলো৷ লোকেরা বলতে লাগলো, “হে মারয়াম! তুমি তো মহা পাপ করে ফেলেছো৷  
﴿ يٰۤاُخۡتَ هٰرُوۡنَ مَا كَانَ اَبُوۡكِ امۡرَاَ سَوۡءٍ وَّمَا كَانَتۡ اُمُّكِ بَغِيًّا‌ ۖ‌ۚ‏﴾
২৮) হে হারুণের বোন!১৯  না তোমার বাপ কোন খারাপ লোক ছিল, না তোমার মা ছিল কোন ব্যভিচারিনী”৷১৯(ক) 
﴿ فَاَشَارَتۡ اِلَيۡهِ‌ؕ قَالُوۡا كَيۡفَ نُكَلِّمُ مَنۡ كَانَ فِىۡ الۡمَهۡدِ صَبِيًّا‏﴾
২৯) মারয়াম শিশুর প্রতি ইশারা করলো৷ লোকেরা বললো, “কোলের শিশুর সাথে আমরা কি কথা বলবো?২০ 
﴿ قَالَ اِنِّىۡ عَبۡدُ اللّٰهِ اٰتٰٮنِىَؕ الۡكِتٰبَ وَجَعَلَنِىۡ نَبِيًّاۙ‏﴾
৩০) শিশু বলে উঠলো, “আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন ও নবী করেছেন  
﴿وَجَعَلَنِىۡ مُبَارَكًا اَيۡنَ مَا كُنۡتُ وَاَوۡصٰنِىۡ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ مَا دُمۡتُ حَيًّا‌ۖ‏﴾
৩১) এবং রবকতময় করেছেন যেখানেই আমি থাকি না কেন আর যতদিন আমি বেঁচে থাকবো ততদিন নামায ও যাকাত আদায়ের হুকুম দিয়েছেন৷  
﴿وَّبَرَّۢا بِوٰلِدَتِىۡ وَلَمۡ يَجۡعَلۡنِىۡ جَبَّارًا شَقِيًّا‏﴾
৩২) আর নিজের মায়ের হক আদায়কারী করেছেন,২০(ক) এবং আমাকে অহংকারী ও হতভাগা করেননি৷  
﴿ وَالسَّلٰمُ عَلَىَّ يَوۡمَ وُلِدتُّ وَيَوۡمَ اَمُوۡتُ وَيَوۡمَ اُبۡعَثُ حَيًّا‏﴾
৩৩) শান্তি আমার প্রতি যখন আমি জন্ম নিয়েছি ও যখন আমি মরবো এবং যখন আমাকে জীবিত করে উঠানো হবে”৷২১ 
﴿ ذٰلِكَ عِيۡسَى ابۡنُ مَرۡيَمَ‌ؕ قَوۡلَ الۡحَقِّ الَّذِىۡ فِيۡهِ يَمۡتَرُوۡنَ‏﴾
৩৪) এ হচ্ছে মারয়ামের পুত্র ঈসা এবং এ হচ্ছে তার সম্পর্কে সত্য কথা, যে ব্যাপারে লোকেরা সন্দেহ করছে৷  
﴿ مَا كَانَ لِلّٰهِ اَنۡ يَّتَّخِذَ مِنۡ وَّلَدٍ‌ۙ سُبۡحٰنَهٗ‌ؕ اِذَا قَضٰٓى اَمۡرًا فَاِنَّمَا يَقُوۡلُ لَهٗ كُنۡ فَيَكُوۡنُؕ‏﴾
৩৫) কাউকে সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়৷ তিনি পবিত্র সত্তা৷ তিনি যখন কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তখন বলেন, হয়ে যাও, অমনি তা হয়ে যায়৷২২ 
﴿وَاِنَّ اللّٰهَ رَبِّىۡ وَرَبُّكُمۡ فَاعۡبُدُوۡهُ‌ؕ هٰذَا صِرَاطٌ مُّسۡتَقِيۡمٌ﴾
৩৬) আর (ঈসা বলেছিল)আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদেরও রব৷ কাজেই তোমরা তার বন্দেগী করো৷ এটিই সোজা পথ৷২৩ 
﴿ فَاخۡتَلَفَ الۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَيۡنِهِمۡ‌ۚ فَوَيۡلٌ لِّلَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ مَّشۡهَدِ يَوۡمٍ عَظِيۡمٍ‏﴾
৩৭) কিন্তু তারপর বিভিন্ন দল২৪ পরস্পর মতবিরোধ করতে থাকলো৷ যারা কুফরী করলো তাদের জন্য সে সময়টি হবে বড়ই ধ্বংসকর যখন তারা একটি মহাবিদস দেখবে৷  
﴿اَسۡمِعۡ بِهِمۡ وَاَبۡصِرۡۙ يَوۡمَ يَاۡتُوۡنَنَا‌ لٰكِنِ الظّٰلِمُوۡنَ الۡيَوۡمَ فِىۡ ضَلٰلٍ مُّبِيۡنٍ‏﴾
৩৮) যখন তারা আমার সামনে হাযির হবে সেদিন তাদের কানও খুব স্পষ্ট শুনবে এবং তাদের চোখও খুন স্পষ্ট দেখবে কিন্তু আজ এই জালেমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত৷  
﴿ وَاَنۡذِرۡهُمۡ يَوۡمَ الۡحَسۡرَةِ اِذۡ قُضِىَ الۡاَمۡرُ‌‌ۘ وَهُمۡ فِىۡ غَفۡلَةٍ وَّهُمۡ لَا يُؤۡمِنُوۡنَ‏﴾
৩৯) হে মুহাম্মাদ!যখন এরা গাফেল রয়েছে এবং ঈমান আনছে না তখন এ অবস্থায় এদেরকে সেই দিনের ভয় দেখাও যেদিন ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং পরিতাপ করা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না৷  
﴿اِنَّا نَحۡنُ نَرِثُ الۡاَرۡضَ وَمَنۡ عَلَيۡهَا وَاِلَيۡنَا يُرۡجَعُوۡنَ﴾
৪০) শেষ পর্যন্ত আমিই হবো পৃথিবী ও তার সমস্ত জিনিসের উত্তরাধিকারী এবং সব কিছু আমারই দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে৷২৫ 
﴿ وَاذۡكُرۡ فِىۡ الۡكِتٰبِ اِبۡرٰهِيۡمَ ؕ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّيۡقًا نَّبِيًّا‏﴾
৪১) আর এই কিতাবে ইবরাহীমের কথা বর্ণনা করো৷২৬ নিসন্দেহে সে একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ এবং একজন নবী ছিল  
﴿ اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ يٰۤاَبَتِ لِمَ تَعۡبُدُ مَا لَا يَسۡمَعُ وَلَا يُبۡصِرُ وَلَا يُغۡنِىۡ عَنۡكَ شَيۡـًٔا‏﴾
৪২) (এদেরকে সেই সময়ের কথা একটু স্মরণ করিয়ে দাও) যখন সে নিজের বাপকে বললো, “আব্বাজান! আপনি কেন এমন জিনিসের ইবাদত করেন, যা শোনেও না দেখেও না এবং আপনার কোন কাজও করতে পারে না?  
﴿ يٰۤاَبَتِ اِنِّىۡ قَدۡ جَآءَنِىۡ مِنَ الۡعِلۡمِ مَا لَمۡ يَاۡتِكَ فَاتَّبِعۡنِىۡۤ اَهۡدِكَ صِرَاطًا سَوِيًّا‏﴾
৪৩) আব্বাজান! আমার কাছে এমন এক জ্ঞান এসেছে যা আপনার কাছে আসেনি, আপনি আমার অনুসরণ করে চলুন, আমি আপনাকে সোজাপথ দেখিয়ে দেবো৷  
﴿ يٰۤاَبَتِ لَا تَعۡبُدِ الشَّيۡطٰنَ‌ؕ اِنَّ الشَّيۡطٰنَ كَانَ لِلرَّحۡمٰنِ عَصِيًّا﴾
৪৪) আব্বাজান!আপনি শয়তানের বন্দেগী করবেন না৷২৭ শয়তান তো করুণাময়ের অবাধ্য৷  
﴿ يٰۤاَبَتِ اِنِّىۡۤ اَخَافُ اَنۡ يَّمَسَّكَ عَذَابٌ مِّنَ الرَّحۡمٰنِ فَتَكُوۡنَ لِلشَّيۡطٰنِ وَلِيًّا‏﴾
৪৫) আব্বাজান! আমার ভয় হয় আপনি করুণাময়ের আযাবের শিকার হন কি না এবং শয়তানের সাথী হয়ে যান কি না”৷  
﴿ قَالَ اَرَاغِبٌ اَنۡتَ عَنۡ اٰلِهَتِىۡ يٰۤاِبۡرٰهِيۡمُ‌ۚ لَٮِٕنۡ لَّمۡ تَنۡتَهِ لَاَرۡجُمَنَّكَ‌ وَاهۡجُرۡنِىۡ مَلِيًّا﴾
৪৬) বাপ বললো, “ইবরাহীম! তুমি কি আমার মাবুদদের থেকে বিমুখ হয়েছো?যদি তুমি বিরত না হও তাহলে আমি পাথরের আঘাতে তোমাকে শেষ করে দেবো;ব্যস তুমি চিরদিনের জন্য আমার থেকে আলাদা হয়ে যাও”৷  
﴿ قَالَ سَلٰمٌ عَلَيۡكَ‌ۚ سَاَسۡتَغۡفِرُ لَكَ رَبِّىۡٓ‌ؕ اِنَّهٗ كَانَ بِىۡ حَفِيًّا‏﴾
৪৭) ইবরাহীম বললো, “আপনাকে সালাম৷ আমি আমার রবের কাছে আপনাকে মাফ করে দেবার জন্য দোয়া করবো৷২৭(ক) আমার রব আমার প্রতি বড়ই মেহেরবান৷  
﴿ وَاَعۡتَزِلُكُمۡ وَمَا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ وَاَدۡعُوۡا رَبِّىۡ‌‌ۖ عَسٰٓى اَلَّاۤ اَكُوۡنَ بِدُعَآءِ رَبِّىۡ شَقِيًّا‏﴾
৪৮) আমি আপনাদেরকে ত্যাগ করছি এবং আপনারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকেন তাদেরকেও, আমি তো আমার রবকেই ডাকবো৷ আশা করি আমি নিজের রবকে ডেকে ব্যর্থ হবো না”৷  
﴿ فَلَمَّا اعۡتَزَلَهُمۡ وَمَا يَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِۙ وَهَبۡنَا لَهٗۤ اِسۡحٰقَ وَيَعۡقُوۡبَ‌ؕ وَكُلاًّ جَعَلۡنَا نَبِيًّا‏﴾
৪৯) অতপর যখন সে তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ইবাদত করতো তাদের থেকে আলাদা হয়ে গেলো তখন আমি তাকে ইসহাক ও ইয়াকুবের মতো সন্তান দিলাম এবং প্রত্যেককে নবী করলাম৷  
﴿ وَوَهَبۡنَا لَهُمۡ مِّنۡ رَّحۡمَتِنَا وَجَعَلۡنَا لَهُمۡ لِسَانَ صِدۡقٍ عَلِيًّا‏﴾
৫০) আর তাদেরকে নিজের অনুগ্রহ দান করলাম এবং তাদেরকে দিলাম যথার্থ নাম-যশ৷২৮ 
﴿ وَاذۡكُرۡ فِىۡ الۡكِتٰبِ مُوۡسٰٓى‌ اِنَّهٗ كَانَ مُخۡلَصًا وَّكَانَ رَسُوۡلاً نَّبِيًّا‏﴾
৫১) আর এ কিতাবে মূসার কথা স্মরণ করো৷ সে ছিল এক বাছাই করা ব্যক্তি২৯ এবং ছিল রসূল নবী৷৩০ 
﴿ وَنَادَيۡنٰهُ مِنۡ جَانِبِ الطُّوۡرِ الۡاَيۡمَنِ وَقَرَّبۡنٰهُ نَجِيًّا‏﴾
৫২) আমি তাকে তূরের ডান দিক থেকে ডাকলাম৩১ এবং গোপন আলাপের মাধ্যমে তাকে নৈকট্য দান করলাম৷৩২ 
﴿ وَوَهَبۡنَا لَهٗ مِنۡ رَّحۡمَتِنَاۤ اَخَاهُ هٰرُوۡنَ نَبِيًّا‏﴾
৫৩) আর নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারুণকে নবী বানিয়ে তাকে সাহায্যকারী হিসেবে দিলাম৷  
﴿وَاذۡكُرۡ فِىۡ الۡكِتٰبِ اِسۡمٰعِيۡلَ‌ اِنَّهٗ كَانَ صَادِقَ الۡوَعۡدِ وَكَانَ رَسُوۡلاً نَّبِيًّا‌ۚ‏﴾
৫৪) আর এ কিতাবে ইসমাঈলের কথা স্মরণ করো৷ সে ছিল ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ এবং ছিল রসূল নবী৷  
﴿ وَكَانَ يَاۡمُرُ اَهۡلَهٗ بِالصَّلٰوةِ وَالزَّكٰوةِ وَكَانَ عِنۡدَ رَبِّهٖ مَرۡضِيًّا‏﴾
৫৫) সে নিজের পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের হুকুম দিতো এবং নিজের রবের কাছে ছিল একজন পছন্দনীয় ব্যক্তি৷  
﴿ وَاذۡكُرۡ فِىۡ الۡكِتٰبِ اِدۡرِيۡسَ‌ اِنَّهٗ كَانَ صِدِّيۡقًا نَّبِيًّاۙ‏﴾
৫৬) আর এ কিতাবে ইদরিসের কথা স্মরণ করো৷৩৩ সে একজন সত্যনিষ্ঠ মানুষ এবং একজন নবী৷  
﴿وَرَفَعۡنٰهُ مَكَانًا عَلِيًّا‏﴾
৫৭) আর তাকে আমি উঠিয়েছিলাম উন্নত স্থানে৷৩৪ 
﴿اُولٰٓٮِٕكَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمَ اللّٰهُ عَلَيۡهِمۡ مِّنَ النَّبِيّٖنَ مِنۡ ذُرِّيَّةِ اٰدَمَ وَمِمَّنۡ حَمَلۡنَا مَعَ نُوۡحٍ وَّمِنۡ ذُرِّيَّةِ اِبۡرٰهِيۡمَ وَاِسۡرآءِيۡلَ وَمِمَّنۡ هَدَيۡنَا وَاجۡتَبَيۡنَآ‌ؕ اِذَا تُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتُ الرَّحۡمٰنِ خَرُّوۡا سُجَّدًا وَّبُكِيًّا ۩‏﴾
৫৮) এরা হচ্ছে, এমন সব নবী, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন আদম সন্তানদের মধ্য থেকে এবং যাদেরকে আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম, তাদের বংশধরদের থেকে, আর ইবরাহীমের বংশধরদের থেকে ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে, আর এরা ছিল তাদের মধ্য থেকে যাদেরকে আমি সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছিলাম এবং বাছাই করে নিয়েছিলাম৷ এদের অবস্থা এই ছিল যে, যখন করুণাময়ের আয়াত এদেরকে শুনানো হতো তখন কান্নারত অবস্থায় সিজদায় লুটিয়ে পড়তো৷  
﴿ فَخَلَفَ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ خَلۡفٌ اَضَاعُوۡا الصَّلٰوةَ وَاتَّبَعُوۡا الشَّهٰوتِ‌ فَسَوۡفَ يَلۡقَوۡنَ غَيًّاۙ‏﴾
৫৯) তারপর এদের পর এমন নালায়েক লোকেরা এদের স্থলাভিষিক্ত হলো যারা নামায নষ্ট করলো৩৫ এবং প্রবৃত্তির কামনার দাসত্ব করলো৷৩৬ তাই শীঘ্রই তারা গোমরাহীর পরিণামের মুখোমুখি হবে৷  
﴿ اِلَّا مَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَاُولٰٓٮِٕكَ يَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّةَ وَلَا يُظۡلَمُوۡنَ شَيۡـًٔاۙ‏﴾
৬০) তবে যারা তাওবা করবে, ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের সমান্যতম অধিকারও ক্ষুন্ন হবে না৷  
﴿جَنّٰتِ عَدۡنٍ الَّتِىۡ وَعَدَ الرَّحۡمٰنُ عِبَادَهٗ بِالۡغَيۡبِ‌ؕ اِنَّهٗ كَانَ وَعۡدُهٗ مَاۡتِيًّا‏﴾
৬১) তাদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি করুণাময় নিজের বান্দাদের কাছে অদৃশ্য পন্থায় দিয়ে রেখেছেন৷৩৭ আর অবশ্যই এ প্রতিশ্রুতি পালিত হবেই৷  
﴿ لَّا يَسۡمَعُوۡنَ فِيۡهَا لَغۡوًا اِلَّا سَلٰمًا‌ؕ وَّلَهُمۡ رِزۡقُهُمۡ فِيۡهَا بُكۡرَةً وَّعَشِيًّا﴾
৬২) সেখানে তারা কোন বাজে কথা শুনবে না, যা কিছুই শুনবে ঠিকই শুনবে৷৩৮ আর সকাল সন্ধ্যায় তারা অনবরত নিজেদের রিযিক লাভ করতে থাকবে৷  
﴿ تِلۡكَ الۡجَنَّةُ الَّتِىۡ نُوۡرِثُ مِنۡ عِبَادِنَا مَنۡ كَانَ تَقِيًّا﴾
৬৩) এ হচ্ছে সেই জান্নাত, যার উত্তরাধিকারী করবো আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মুত্তাকীদেরকে৷  
﴿ وَمَا نَتَنَزَّلُ اِلَّا بِاَمۡرِ رَبِّكَ‌ۚ لَهٗ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡنَا وَمَا خَلۡفَنَا وَمَا بَيۡنَ ذٰلِكَ‌ۚ وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا‌ۚ‏﴾
৬৪) হে মুহাম্মাদ!৩৯ আমি আপনার রবের হুকুম ছাড়া অবতরণ করি না৷ যাকিছু আমাদের সামনে ও যাকিছু পেছনেএবং যাকিছু এর মাঝখানে আছে তার প্রত্যেকটি জিনিসের তিনিই মালিক এবং আপনার রব ভুলে যান না৷  
﴿رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَاعۡبُدۡهُ وَاصۡطَبِرۡ لِعِبَادَتِهٖ‌ؕ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهٗ سَمِيًّا‏﴾
৬৫) তিনি আসমান ও যমীনের এবং এ দূয়ের মাঝখানে আছে সবকিছুর রব৷ কাজেই আপনি তার বন্দেগী করুন এবং তার বন্দেগীর ওপর অবিচল থাকুন৷৪০ আপনার জানা মতে তাঁর সমকক্ষ কোন সত্তা আছে কি?৪১ 
﴿ وَيَقُوۡلُ الۡاِنۡسَانُ اَءِذَا مَا مِتُّ لَسَوۡفَ اُخۡرَجُ حَيًّا‏﴾
৬৬) মানুষ বলে, সত্যিই কি যখন আমি মরে যবো তখন আবার আমাকে জীবিত করে বের করে আনা হবে?  
﴿ اَوَلَا يَذۡكُرُ الۡاِنۡسَانُ اَنَّا خَلَقۡنٰهُ مِنۡ قَبۡلُ وَلَمۡ يَكُ شَيۡـًٔا‏﴾
৬৭) মানুষের কি স্মরণ হয় না, আমি আগেই তাকে সৃষ্টি করেছি যখন সে কিছুই ছিল না?  
﴿ فَوَرَبِّكَ لَنَحۡشُرَنَّهُمۡ وَالشَّيٰطِيۡنَ ثُمَّ لَنُحۡضِرَنَّهُمۡ حَوۡلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا‌ۚ‏﴾
৬৮) তোমার রবের কসম আমি নিশ্চয়ই তাদেরকে এবং তাদের সাথে শয়তানদেরকেও ঘেরাও করে আনবো,৪২ তারপর তাদেরকে এনে জাহান্নামের চারদিকে নতজানু করে ফেলে দেবো৷  
﴿ ثُمَّ لَنَنۡزِعَنَّ مِنۡ كُلِّ شِيۡعَةٍ اَيُّهُمۡ اَشَدُّ عَلَى الرَّحۡمٰنِ عِتِيًّا‌ۚ‏﴾
৬৯) তারপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে ব্যক্তি করুণাময়ের বেশী অবাধ্য ও বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল তাকে ছেঁটে বের করে আনবো৷৪৩ 
﴿ ثُمَّ لَنَحۡنُ اَعۡلَمُ بِالَّذِيۡنَ هُمۡ اَوۡلٰى بِهَا صِلِيًّا‏﴾
৭০) তারপর আমি জানি তাদের মধ্য থেকে কারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবার বেশী হকদার৷  
﴿ وَاِنۡ مِّنۡكُمۡ اِلَّا وَارِدُهَا‌ؕ كَانَ عَلٰى رَبِّكَ حَتۡمًا مَّقۡضِيًّا‌ۚ‏﴾
৭১) তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে জাহান্নাম অতিক্রম করবে না৷৪৪ এতো একটা স্থিরীকৃত ব্যাপার, যা সম্পন্ন করা তোমার রবের দায়িত্ব৷  
﴿ ثُمَّ نُنَجِّىۡ الَّذِيۡنَ اتَّقَوا وَّنَذَرُ الظّٰلِمِيۡنَ فِيۡهَا جِثِيًّا‏﴾
৭২) তারপর যারা (দুনিয়ায়) মুত্তাকী ছিল তাদেরকে আমি বাঁচিয়ে নেবো এবং জালেমদেরকে তার মধ্য নিক্ষেপ্ত অবস্থায় রেখে দেবো৷  
﴿وَاِذَا تُتۡلٰى عَلَيۡهِمۡ اٰيٰتُنَا بَيِّنٰتٍ قَالَ الَّذِيۡنَ كَفَرُوۡا لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤاۙ اَىُّ الۡفَرِيۡقَيۡنِ خَيۡرٌ مَّقَامًا وَّاَحۡسَنُ نَدِيًّا‏﴾
৭৩) এদেরকে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয় তখন অস্বীকারকারীরা ঈমানদারদেরকে বলে, ”বলো, আমাদের দু’দলের মধ্যে কে ভালো অবস্থায় আছে এবং কার মজলিসগুলো বেশী জাঁকালো?”৪৫ 
﴿وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍ هُمۡ اَحۡسَنُ اَثَاثًا وَّرِءۡيًا‏﴾
৭৪) অথচ এদের আগে আমি এমন কত জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি যারা এদের চাইতে বেশী সাজ-সরঞ্জামের অধিকারী ছিল এরা বাহ্যিক শান শওকতের দিক দিয়েও ছিল এদের চেয়ে বেশী অগ্রসর৷  
﴿ قُلۡ مَنۡ كَانَ فِىۡ الضَّلٰلَةِ فَلۡيَمۡدُدۡ لَهُ الرَّحۡمٰنُ مَدًّا‌ ‌ۚ حَتّٰٓى اِذَا رَاَوۡا مَا يُوۡعَدُوۡنَ اِمَّا الۡعَذَابَ وَاِمَّا السَّاعَةَؕ فَسَيَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ هُوَ شَرٌّ مَّكَانًا وَّاَضۡعَفُ جُنۡدًا‏﴾
৭৫) এদেরকে বলো, যে ব্যক্তি গোমরাহীতে লিপ্ত হয় করুণাময় তাকে ঢিল দিতে থাকেন, এমনকি এ ধরনের লোকেরা যখন এমন জিনিস দেখে নেয় যার ওয়াদা তাদের সাথে করা হয়- তা আল্লাহর আযাব হোক বা কিয়ামতের সময় তখন তারা জানতে পারে, কার অবস্থা খারাপ এবং কার দল দুর্বল!  
﴿ وَيَزِيۡدُ اللّٰهُ الَّذِيۡنَ اهۡتَدَوۡا هُدًى‌ؕ وَالۡبٰقِيٰتُ الصّٰلِحٰتُ خَيۡرٌ عِنۡدَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَّخَيۡرٌ مَّرَدًّا﴾
৭৬) বিপরীত পক্ষে যারা সত্য-সঠিক পথ অবলস্বন করে আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে চলার ক্ষেত্রে উন্নতি দান করেন৪৬ এবং স্থায়িত্বলাভকারী সৎজাগুলোই তোমার রবের প্রতিদান ও পরিণামের দিক দিয়ে ভালো৷  
﴿ اَفَرَءَيۡتَ الَّذِىۡ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَاُوۡتَيَنَّ مَالاً وَّوَلَدًاؕ‏﴾
৭৭) তারপর তুমি কি দেখেছো সে লোককে যে আমার আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং বলে আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দান করা হতে থাকবেই ?৪৭ 
﴿اَطَّلَعَ الۡغَيۡبَ اَمِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَهۡدًاۙ‏﴾
৭৮) সে কি গায়েবের খবর জেনে গেছে অথবা সে রহমানের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে রেখেছে?  
﴿كَلَّا‌ؕ سَنَكۡتُبُ مَا يَقُوۡلُ وَنَمُدُّ لَهٗ مِنَ الۡعَذَابِ مَدًّاۙ‏﴾
৭৯) -কখখনো নয়, সে যা কিছু বলছে তা আমি লিখে নেবো৷৪৮ এবং তার জন্য আযাবের পসরা আরো বাড়িয়ে দেবো৷  
﴿ وَنَرِثُهٗ مَا يَقُوۡلُ وَيَاۡتِيۡنَا فَرۡدًا‏﴾
৮০) সে সাজসরঞ্জাম ও জনবলের কথা এ ব্যক্তি বলছে তা সব আমার কাছেই থেকে যাবে এবং সে একাকী আমার সামনে হাযির হয়ে যাবে৷  
﴿ وَاتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ اٰلِهَةً لِّيَكُوۡنُوۡا لَهُمۡ عِزًّاۙ‏﴾
৮১) এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের কিছু খোদা বানিয়ে রেখেছে, যাতে যারা এদের পৃষ্ঠপোষক হয়৷৪৯ 
﴿ كَلَّا‌ؕ سَيَكۡفُرُوۡنَ بِعِبَادَتِهِمۡ وَيَكُوۡنُوۡنَ عَلَيۡهِمۡ ضِدًّا‏﴾
৮২) কেউ পৃষ্ঠপোষক হবে না৷ তারা সবাই এদের ইবাদতের কথা অস্বীকার করবে৫০ এবং উল্টো এদের বিরোধী হয়ে পড়বে৷  
﴿اَلَمۡ تَرَ اَنَّاۤ اَرۡسَلۡنَا الشَّيٰطِيۡنَ عَلَى الۡكٰفِرِيۡنَ تَؤُزُّهُمۡ اَزًّاۙ‏﴾
৮৩) তুমি কি দেখো না আমি এ সত্য অস্বীকারকারীদের উপর শয়তানদের ছেড়ে রেখেছি, যারা এদেরকে (সত্য বিরোধিতায়) খুব বেশী করে প্ররোচনা দিচ্ছে?  
﴿ فَلَا تَعۡجَلۡ عَلَيۡهِمۡ‌ؕ اِنَّمَا نَعُدُّ لَهُمۡ عَدًّا‌ۚ‏﴾
৮৪) বেশ তাহলে এখন এদের উপর আযাব নাযিল করার জন্য অস্থির হয়ো না, আমি এদের দিন গণনা করেছি৷৫১ 
﴿ ۙيَوۡمَ نَحۡشُرُ الۡمُتَّقِيۡنَ اِلَى الرَّحۡمٰنِ وَفۡدًا‌ۙ‏﴾
৮৫) সেদিনটি অচিরেই আসবে যেদিন মুত্তাকীদেরকে মেহমান হিসেবে রহমানের সামনে পেশ করবো  
﴿ وَّنَسُوۡقُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ اِلٰى جَهَنَّمَ وِرۡدًا﴾
৮৬) এবং অপরাধীদেরকে পিপাসার্ত পশুর মতো জাহান্নামর দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবো৷  
﴿ لَّا يَمۡلِكُوۡنَ الشَّفَاعَةَ اِلَّا مَنِ اتَّخَذَ عِنۡدَ الرَّحۡمٰنِ عَهۡدًا‌ۘ‏﴾
৮৭) সে সময় রহমানের কাছ থেকে পরোয়ানা হাসিল করেছে তার ছাড়া আর কারো সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না৷৫২ 
﴿ وَقَالُوۡا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًاؕ‏﴾
৮৮) তারা বলে, রহমান কাউকে পুত্র গ্রহণ করেছেন-  
﴿ لَّقَدۡ جِئۡتُمۡ شَيۡـًٔا اِدًّاۙ‏﴾
৮৯) মারাত্মক বাজে কথা যা তোমরা তৈরী করে এনেছো৷  
﴿ تَكَادُ السَّمٰوٰتُ يَتَفَطَّرۡنَ مِنۡهُ وَتَنۡشَقُّ الۡاَرۡضُ وَتَخِرُّ الۡجِبَالُ هَدًّاۙ‏﴾
৯০) আকাশ ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হবার এবং পাহাড় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে  
﴿ اَنۡ دَعَوۡا لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدًا‌ۚ‏﴾
৯১) এজন্য যে, লোকেরা রহমানের জন্য সন্তান থাকার দাবী করেছে!  
﴿ وَمَا يَنۡۢبَغِىۡ لِلرَّحۡمٰنِ اَنۡ يَّتَّخِذَ وَلَدًاؕ‏﴾
৯২) কাউকে সন্তান গ্রহণ করা রহমানের জন্য শোভন নয়৷  
﴿ اِنۡ كُلُّ مَنۡ فِىۡ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اِلَّاۤ اٰتِىۡ الرَّحۡمٰنِ عَبۡدًا﴾
৯৩) পৃথিবী ও আকাশের মধ্যে যা কিছু আছে সবই তাঁর সামনে বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে৷  
﴿ لَّقَدۡ اَحۡصٰٮهُمۡ وَعَدَّهُمۡ عَدًّاؕ‏﴾
৯৪) সবাইকে তিনি ঘিরে রেখেছেন এবং তিনি সবাইকে গণনা করে রেখেছেন৷  
﴿ وَكُلُّهُمۡ اٰتِيۡهِ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ فَرۡدًا‏﴾
৯৫) সবাই কিয়ামতের দিন একাকী অবস্থায় তাঁর সামনে আসবে৷  
﴿اِنَّ الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوۡا الصّٰلِحٰتِ سَيَجۡعَلُ لَهُمُ الرَّحۡمٰنُ وُدًّا﴾
৯৬) নিসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে শ্রীঘ্রই রহমান তাদের জন্য অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন৷৫৩ 
﴿فَاِنَّمَا يَسَّرۡنٰهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ بِهِ الۡمُتَّقِيۡنَ وَتُنۡذِرَ بِهٖ قَوۡمًا لُّدًّا‏﴾
৯৭) বস্তুত হে মুহাম্মাদ! এ বাণীকে আমি সহজ করে তোমার ভাষায় এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি মুত্তাকীদেরকে সুখবর দিতে ও হঠকারীদেরকে ভয় দেখাতে পারো৷  
﴿وَكَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنۡ قَرۡنٍؕ هَلۡ تُحِسُّ مِنۡهُمۡ مِّنۡ اَحَدٍ اَوۡ تَسۡمَعُ لَهُمۡ رِكۡزًا﴾
৯৮) এদের পূর্বে আমি কত জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি৷ আজ কি কোথাও তাদের নাম-নিশানা দেখতে পাও অথবা কোথাও শুনতে পাও তাদের ক্ষীণতম আওয়াজ?