সঠিকভাবে আরবি দেখার জন্য PDMS Saleem Quran Font ফন্টটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
<< সূরা তালিকা
ত্বাহা
ভূমিকা (নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তুর জন্য ক্লিক করুন)

﴿طٰهٰ﴾
১) ত্বা-হা৷  
﴿ مَاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَيۡكَ الۡقُرۡاٰنَ لِتَشۡقٰٓىۙ‏﴾
২) আমি এ কুরআন তোমার প্রতি এজন্য নাযিল করেনি যে, তুমি বিপদে পড়বে৷  
﴿اِلَّا تَذۡكِرَةً لِّمَنۡ يَّخۡشٰىۙ‏﴾
৩) এ তো একটি স্মারক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে ভয় করে৷  
﴿ تَنۡزِيۡلاً مِّمَّنۡ خَلَقَ الۡاَرۡضَ وَالسَّمٰوٰتِ الۡعُلَى﴾
৪) যে সত্তা পৃথিবী ও সুউচ্চ আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন তাঁর পক্ষ থেকে এটি নাযিল করা হয়েছে৷  
﴿ الرَّحۡمٰنُ عَلَى الۡعَرۡشِ اسۡتَوٰى﴾
৫) তিনি পরম দয়াবান৷ (বিশ্ব-জাহানের) শাসন কর্তৃত্বের আসনে সমাসীন৷ 
﴿ لَهٗ مَا فِىۡ السَّمٰوٰتِ وَمَا فِىۡ الۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَمَا تَحۡتَ الثَّرٰى‏﴾
৬) যা কিছু পৃথিবীতে ও আকাশে আছে, যাকিছু পৃথিবী ও আকাশের মাঝখানে আছে এবং যাকিছু ভুগর্ভে আছে সবকিছুর মালিক তিনিই৷  
﴿ وَاِنۡ تَجۡهَرۡ بِالۡقَوۡلِ فَاِنَّهٗ يَعۡلَمُ السِّرَّ وَاَخۡفٰى‏﴾
৭) তুমি যদি নিজের কথা উচ্চকন্ঠে বলো, তবে তিনি তো চুপিসারে বলা কথা বরং তার চাইতেও গোপনে বলা কথাও জানেন৷ 
﴿اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ؕ لَهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى﴾
৮) তিনি আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, তাঁর জন্য রয়েছে সর্বোত্তম নামসমূহ৷  
﴿‌وَهَلۡ اَتٰٮكَ حَدِيۡثُ مُوۡسٰٓى‌ۘ‏﴾
৯) আর তোমার কাছে কি মূসার খবর কিছু পৌঁছেছে?  
﴿ اِذۡ رَاٰ نَارًا فَقَالَ لِاَهۡلِهِ امۡكُثُوۡۤا اِنِّىۡۤ اٰنَسۡتُ نَارًا لَّعَلِّىۡۤ اٰتِيۡكُمۡ مِّنۡهَا بِقَبَسٍ اَوۡ اَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى﴾
১০) যখন সে একটি আগুন দেখলো নিজের পরিবারের লোকদেরকে বললো, “একটু দাড়াও, আমি একটি আগুন দেখেছি, হয়তো তোমাদের জন্য এক আধটি অংগার আনতে পারবো অথবা এ আগুনের নিকট আমি পথের দিশা পাবো”৷ 
﴿ فَلَمَّاۤ اَتٰٮهَا نُوۡدِىَ يٰمُوۡسٰىؕ‏﴾
১১) সেখানে পৌঁছলে তাকে ডেকে বলা হলো, “হে মূসা! আমিই তোমার রব, জুতো, খুলে ফেলো, 
﴿ اِنِّىۡۤ اَنَا رَبُّكَ فَاخۡلَعۡ نَعۡلَيۡكَ‌ۚ اِنَّكَ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًىؕ‏﴾
১২) তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় আছো৷ 
﴿ وَاَنَا اخۡتَرۡتُكَ فَاسۡتَمِعۡ لِمَا يُوۡحٰى‏﴾
১৩) এবং আমি তোমাকে বাছাই করে নিয়েছি, শোনো যা কিছু অহী করা হয়৷  
﴿ اِنَّنِىۡۤ اَنَا اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا۟ فَاعۡبُدۡنِىۡۙ وَاَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكۡرِىۡ‏﴾
১৪) আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, কাজেই তুমি আমার ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণ করার জন্য নামায কায়েম করো৷ 
﴿اِنَّ السَّاعَةَ اٰتِيَةٌ اَكَادُ اُخۡفِيۡهَا لِتُجۡزٰى كُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا تَسۡعٰى‏﴾
১৫) কিয়ামত অবশ্যই আসবে, আমি তার সময়টা গোপন রাখতে চাই, যাতে প্রত্যেকটি প্রাণসত্তা তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী প্রতিদান লাভ করতে পারে৷ ১০ 
﴿فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنۡهَا مَنۡ لَّا يُؤۡمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هٰوٮهُ فَتَرۡدٰى‏﴾
১৬) কাজেই যে ব্যক্তি তার প্রতি ঈমান আনে না এবং নিজের প্রবৃত্তির দাস হয়ে গেছে সে যেন তোমাকে সে সময়ের চিন্তা থেকে নিবৃত্ত না করে৷ অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে৷  
﴿وَمَا تِلۡكَ بِيَمِيۡنِكَ يٰمُوۡسٰى‏﴾
১৭) - আর হে মূসা! এ তোমার হাতে এটা কি?”১১ 
﴿ قَالَ هِىَ عَصَاىَ‌ۚ اَتَوَكَّؤُا عَلَيۡهَا وَاَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِىۡ وَلِىَ فِيۡهَا مَاٰرِبُ اُخۡرٰى‏﴾
১৮) মূসা জবাব দিল, ”এ আমার লাঠি৷ এর ওপর ভর দিয়ে আমি চলি, নিজের ছাগলগুলোর জন্য এর সাহায্যে পাতা পাড়ি এবং এর সাহায্যে আরো অনেক কাজ করি”৷ ১২ 
﴿ قَالَ اَلۡقِهَا يٰمُوۡسٰى‏﴾
১৯) বললেন, একে ছুঁড়ে দাও হে মূসা”!  
﴿ فَاَلۡقٰٮهَا فَاِذَا هِىَ حَيَّةٌ تَسۡعٰى‏﴾
২০) সে ছূঁড়ে দিল এবং অকস্মাত সেটা হয়ে গেলো একটা সাপ, যা দৌড়াচ্ছিল৷  
﴿ قَالَ خُذۡهَا وَلَا تَخَفۡ‌ سَنُعِيۡدُهَا سِيۡرَتَهَا الۡاُوۡلٰى‏﴾
২১) বললেন, ”ধরে ফেলো ওটা এবং ভয় করো না, আমি ওকে আবার ঠিক তেমনটিই করে দেবা যেমনটি সে আগে ছিল৷  
﴿ وَاضۡمُمۡ يَدَكَ اِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخۡرُجۡ بَيۡضَآءَ مِنۡ غَيۡرِ سُوۡٓءٍ اٰيَةً اُخۡرٰىۙ‏﴾
২২) আর তোমার হাতটি একটু বগলের মধ্যে রাখো, তা কোনপ্রকার ক্লেশ ছাড়াই উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে,১৩ এটা দ্বিতীয় নিদর্শন৷  
﴿ لِنُرِيَكَ مِنۡ اٰيٰتِنَا الۡكُبۡرَى‌ۚ‏﴾
২৩) এজন্য যে, আমি তোমাকে নিজের বৃহৎ নিদর্শনগুলো দেখাবো৷  
﴿اذۡهَبۡ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰى‏﴾
২৪) এখন তুমি যাও ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে”৷  
﴿ قَالَ رَبِّ اشۡرَحۡ لِىۡ صَدۡرِىۙ﴾
২৫) মূসা বললো, “হে আমার রব!  
﴿ وَيَسِّرۡ لِىۡۤ اَمۡرِىۙ‏﴾
২৬) আমার বুক প্রশস্ত করে দাও৷১৪ 
﴿وَاحۡلُلۡ عُقۡدَةً مِّنۡ لِّسَانِىۙ‏﴾
২৭) আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দাও  
﴿ يَفۡقَهُوۡا قَوۡلِى﴾
২৮) এবং আমার জিভের জড়তা দূর করে দাও, যাতে লোকেরা আমার কথা বুঝতে পারে৷ ১৫ 
﴿ وَاجۡعَل لِّىۡ وَزِيۡرًا مِّنۡ اَهۡلِىۙ‏﴾
২৯) আর আমার জন্য নিজের পরিবার থেকে সাহায্যকারী হিসেবে নিযুক্ত করে দাও  
﴿هٰرُوۡنَ اَخِىۙ‏﴾
৩০) আমার ভাই হরুনকে৷ ১৬ 
﴿اشۡدُدۡ بِهٖۤ اَزۡرِىۙ‏﴾
৩১) তার মাধ্যমে আমার হাত মজবুত করো  
﴿ وَاَشۡرِكۡهُ فِىۡۤ اَمۡرِىۙ‏﴾
৩২) এবং তাকে আমার কাজে শরীক করে দাও,  
﴿ كَىۡ نُسَبِّحَكَ كَثِيۡرًاۙ‏﴾
৩৩) যাতে আমরা খুব বেশী করে তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি,  
﴿ وَّنَذۡكُرَكَ كَثِيۡرًاؕ‏﴾
৩৪) এবং খুব বেশী করে তোমার চর্চা করি৷  
﴿اِنَّكَ كُنۡتَ بِنَا بَصِيۡرًا‏﴾
৩৫) তুমি সব সময় আমাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক”৷  
﴿ قَالَ قَدۡ اُوۡتِيۡتَ سُؤۡلَكَ يٰمُوۡسٰى‏﴾
৩৬) বলেলেন, “হে মূসা! তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেওয়া হলো৷  
﴿ وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَيۡكَ مَرَّةً اُخۡرٰٓىۙ‏﴾
৩৭) আমি আর একবার তোমার প্রতি অনুগ্রহ করলাম৷১৭ 
﴿ اِذۡ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰٓى اُمِّكَ مَا يُوۡحٰٓىۙ﴾
৩৮) সে সময়ের কথা মনে করো যখন আমি তোমার মাকে ইশারা করেছিলাম, এমন ইশারা যা অহীর মাধ্যমে করা হয়, এই মর্মে এই এ শিশুকে সিন্দুকের মধ্যে রেখে দাও এবং সিন্দুকটি দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও, দরিয়া তাকে তীরে নিক্ষেপ করবে এবং আমার শত্রু ও এ শিশুর শত্রু একে তুলে নেবে৷  
﴿ اَنِ اقۡذِفِيۡهِ فِىۡ التَّابُوۡتِ فَاقۡذِفِيۡهِ فِىۡ الۡيَمِّ فَلۡيُلۡقِهِ الۡيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَاۡخُذۡهُ عَدُوٌّ لِّىۡ وَعَدُوٌّ لَّهٗ‌ؕ وَاَلۡقَيۡتُ عَلَيۡكَ مَحَبَّةً مِّنِّىۡ ‌ۚ وَلِتُصۡنَعَ عَلٰى عَيۡنِىۡۘ‏﴾
৩৯) আমি নিজের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালোবাসা সঞ্চার করেছিলাম এবং এমন ব্যবস্থা করেছিলাম যাতে তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও৷  
﴿اِذۡ تَمۡشِىۡۤ اُخۡتُكَ فَتَقُوۡلُ هَلۡ اَدُلُّكُمۡ عَلٰى مَنۡ يَّكۡفُلُهٗ‌ؕ فَرَجَعۡنٰكَ اِلٰٓى اُمِّكَ كَىۡ تَقَرَّ عَيۡنُهَا وَلَا تَحۡزَنَ‌ ؕ وَقَتَلۡتَ نَفۡسًا فَنَجَّيۡنٰكَ مِنَ الۡغَمِّ وَفَتَنّٰكَ فُتُوۡنًا فَلَبِثۡتَ سِنِيۡنَ فِىۡۤ اَهۡلِ مَدۡيَنَ ۙ ثُمَّ جِئۡتَ عَلَىٰ قَدَرٍ يّٰمُوۡسٰى﴾
৪০) স্মরণ করো, যখন তোমার বোন চলছিল, তারপর গিয়ে বললো, “আমি কি তোমাদের তার সন্ধান দেবো যে এ শিশুকে ভালোভাবে লালন করবে?”এভাবে আমি তোমাকে আবার তোমার মায়ের কাছে পৌছিয়ে দিয়েছি, যাতে তার চোখ শীতল থাকে এবং সে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ না হয়৷ এবং (এটাও স্মরণ করো) তুমি একজনকে হত্যা করে ফেলেছিলে, আমি তোমাকে এ ফাঁদ থেকে বের করেছি এবং তোমাকে বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসেছি, আর তুমি মাদ্য়ানবাসীদের মধ্যে কয়েক বছর অবস্থান করেছিলে৷ তারপর এখন তুমি এখন তুমি ঠিক সময়েই এসে গেছো৷ হে মূসা!  
﴿ وَاصۡطَنَعۡتُكَ لِنَفۡسِى‌ۚ‏﴾
৪১) আমি তোমার নিজের জন্য তৈরী করে নিয়েছি৷  
﴿اذۡهَبۡ اَنۡتَ وَاَخُوۡكَ بِاٰيٰتِىۡ وَلَا تَنِيَا فِىۡ ذِكۡرِى‌ۚ‏﴾
৪২) যাও, তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনগুলোসহ এবং দেখো আমার স্মরণে ভুল করো না৷  
﴿ اذۡهَبَاۤ اِلٰى فِرۡعَوۡنَ اِنَّهٗ طَغٰى‌‌ۖۚ‌‌‌‏﴾
৪৩) যাও, তোমরা দু’জন ফেরাউনের কাছে, সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে৷  
﴿فَقُوۡلَا لَهٗ قَوۡلاً لَّيِّنًا لَّعَلَّهٗ يَتَذَكَّرُ اَوۡ يَخۡشٰى‏﴾
৪৪) তার সাথে কোমলভাবে কথা বলো, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভীত হবে”৷ ১৮ 
﴿ قَالَا رَبَّنَاۤ اِنَّنَا نَخَافُ اَنۡ يَّفۡرُطَ عَلَيۡنَاۤ اَوۡ اَنۡ يَّطۡغٰى‏﴾
৪৫) উভয়েই ১৮(ক) বললো, "হে আমাদের রব! আমাদের ভয় হয়, সে আমাদের সাথে বাড়াবাড়ি করবে অথবা আমাদের ওপর চড়াও হবে”৷  
﴿ قَالَ لَا تَخَافَآ‌ اِنَّنِىۡ مَعَكُمَاۤ اَسۡمَعُ وَاَرٰى﴾
৪৬) বললেন, “ভয় করো না, আমি তোমাদের সাথে আছি, সবকিছু শুনছি ও দেখছি৷  
﴿ فَاۡتِيٰهُ فَقُوۡلَاۤ اِنَّا رَسُوۡلَا رَبِّكَ فَاَرۡسِلۡ مَعَنَا بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ ۙ وَلَا تُعَذِّبۡهُمۡ‌ؕ قَدۡ جِئۡنٰكَ بِاٰيَةٍ مِّنۡ رَّبِّكَ‌ؕ وَالسَّلٰمُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الۡهُدٰى‏﴾
৪৭) যাও তার কাছে এবং বলো, আমরা তোমার রবের প্ররিত, বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য ছেড়ে দাও এবং তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না৷ আমরা তোমার কাছে নিয়ে এসেছি তোমার রবের নিদর্শন এবং শান্তি ও তার জন্য যে সঠিক পথ অনুসরণ করে৷  
﴿اِنَّا قَدۡ اُوۡحِىَ اِلَيۡنَاۤ اَنَّ الۡعَذَابَ عَلٰى مَنۡ كَذَّبَ وَتَوَلّٰى‏﴾
৪৮) আমাদের অহীর সাহায্যে জানানো হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্য যে মিথ্যা আরোপ করে, ও মুখ ফিরিয়ে নেয়”৷১৯ 
﴿ قَالَ فَمَنۡ رَّبُّكُمَا يٰمُوۡسٰى‏﴾
৪৯) ফেরাউন২০ বললো, “আচ্ছা, তাহলে তোমাদের দু’জনের রব কে হে মূসা?”২১ 
﴿ قَالَ رَبُّنَا الَّذِىۡۤ اَعۡطٰى كُلَّ شَىۡءٍ خَلۡقَهٗ ثُمَّ هَدٰى‏﴾
৫০) মূসা জবাব দিল, “আমাদের রব তিনি২২ যিনি প্রত্যেক জিনিসকে তার আকৃতি দান করেছেন তারপর তাকে পথ নির্দেশ দিয়েছেন৷ ২৩ 
﴿ قَالَ فَمَا بَالُ الۡقُرُوۡنِ الۡاُوۡلٰى‏﴾
৫১) ফেরাউন বললো, “আর পূর্ববর্তী বংশধর যারা অতীত হয়ে গেছে তাদের তাহলে কি অবস্থা ছিল?”২৪ 
﴿ قَالَ عِلۡمُهَا عِنۡدَ رَبِّىۡ فِىۡ كِتٰبٍ‌‌ۚ لَّا يَضِلُّ رَبِّىۡ وَلَا يَنۡسَى﴾
৫২) মূসা বললো “সেজ্ঞান আমার রবের কাছে লিপিবদ্ধ অবস্থায় সংরক্ষিত আছে৷ আমার রব ভুলও করেন না, বিস্মৃতও হন না”৷ ২৫ 
﴿ الَّذِىۡ جَعَلَ لَكُمُ الۡاَرۡضَ مَهۡدًا وَّسَلَكَ لَكُمۡ فِيۡهَا سُبُلاً وَّاَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءًؕ فَاَخۡرَجۡنَا بِهٖۤ اَزۡوٰجًا مِّنۡ نَّبَاتٍ شَتّٰى‏﴾
৫৩) --তিনিই ২৬ তোমাদের জন্য যমীনের বিছানা বিছিয়েছেন, তার মধ্যে তোমাদের চলার পথ তৈরী করেছেন এবং উপর থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর তার মাধ্যমে আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করি৷  
﴿ كُلُوۡا وَارۡعَوۡا اَنۡعَامَكُمۡ‌ؕ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيٰتٍ لِّاُولِىۡ النُّهٰى﴾
৫৪) খাও এবং তোমাদের পশুও চরাও৷ অবশ্যি এর মধ্যে রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলী৷ ২৭ 
﴿ مِنۡهَا خَلَقۡنٰكُمۡ وَفِيۡهَا نُعِيۡدُكُمۡ وَمِنۡهَا نُخۡرِجُكُمۡ تَارَةً اُخۡرٰى‏﴾
৫৫) এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, এরি মধ্যে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো এবং এ থেকেই আবার তোমাদেরকে বের করবো৷ ২৮ 
﴿وَلَقَدۡ اَرَيۡنٰهُ اٰيٰتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَاَبٰى﴾
৫৬) আমি ফেরাউনকে আমার সমস্ত নিদর্শন দেখালাম ২৯  কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করতে থাকলো এবং মেনে নিল না৷  
﴿ قَالَ اَجِئۡتَنَا لِتُخۡرِجَنَا مِنۡ اَرۡضِنَا بِسِحۡرِكَ يٰمُوۡسٰى﴾
৫৭) বলতে লাগলো, “হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্য এসেছো যে, নিজের যাদুর জোরে আমাদের দেশ থেকে আমাদের বের করে দেবে?৩০ 
﴿ فَلَنَاۡتِيَنَّكَ بِسِحۡرٍ مِّثۡلِهٖ فَاجۡعَلۡ بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكَ مَوۡعِدًا لَّا نُخۡلِفُهٗ نَحۡنُ وَلَاۤ اَنۡتَ مَكَانًا سُوًى‏﴾
৫৮) বেশ, আমরাও তোমার মোকাবিলায় অনুরূপ যাদু আনছি, ঠিক করো কবে এবং কোথায় মোকাবিলা করবে, আমরাও এ চুক্তির অন্যথা করবো না, তুমিও না৷ খোলা ময়দানে সামনে এসে যাও”৷  
﴿ قَالَ مَوۡعِدُكُمۡ يَوۡمُ الزِّيۡنَةِ وَاَنۡ يُّحۡشَرَ النَّاسُ ضُحًى﴾
৫৯) মূসা বললো, “উৎসবের দিন নির্ধারিত হলো এবং পূর্বাহ্নে লোকদেরকে জড়ো করা হবে৷ ৩১ 
﴿ فَتَوَلّٰى فِرۡعَوۡنُ فَجَمَعَ كَيۡدَهٗ ثُمَّ اَتٰى﴾
৬০) ফেরাউন পেছনে ফিরে নিজের সমস্ত কলাকৌশল একত্র করলো এবং তারপর মোকাবিলায় এসে গেলো৷৩২ 
﴿ قَالَ لَهُمۡ مُّوۡسٰى وَيۡلَكُمۡ لَا تَفۡتَرُوۡا عَلَى اللّٰهِ كَذِبًا فَيُسۡحِتَكُمۡ بِعَذَابٍ‌ۚ وَّقَدۡ خَابَ مَنِ افۡتَرٰى‏﴾
৬১) মূসা (যথা সময় পতিপক্ষ দলকে সম্বোধন করে) বললো,৩৩ “দুর্ভাগ্য পীড়িতরা! আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়ো না, ৩৪ অন্যথায় তিনি কঠিন আযাব দিয়ে তোমাদের ধ্বংস করে দেবেন৷ যে-ই মিথ্যা রটনা করেছে সে-ই ব্যর্থ হয়েছে”৷  
﴿فَتَنٰزَعُوۡۤا اَمۡرَهُمۡ بَيۡنَهُمۡ وَاَسَرُّوۡا النَّجۡوٰى﴾
৬২) একথা শুনে তাদের মধে মতবিরোধ হয়ে গেলো এবং তারা চুপিচুপি পরামর্শ করতে লাগলো৷ ৩৫ 
﴿ قَالُوۡۤا اِنۡ هٰذٰنِ لَسٰحِرٰنِ يُرِيۡدٰنِ اَنۡ يُّخۡرِجٰكُمۡ مِّنۡ اَرۡضِكُمۡ بِسِحۡرِهِمَا وَيَذۡهَبَا بِطَرِيۡقَتِكُمُ الۡمُثۡلٰى‏﴾
৬৩) শেষ কিছু লোক বললো, ৩৬ “এরা দু’জন তো নিছক যাদুকর, নিজেদের যাদুর জোরে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে উৎখাত করা এবং তোমাদের আদর্শ জীবন যাপন পদ্ধতি ধ্বংস করে দেয়াই এদের উদ্দেশ্য৷৩৭ 
﴿ فَاَجۡمِعُوۡا كَيۡدَكُمۡ ثُمَّ ائۡتُوۡا صَفًّا‌ۚ وَقَدۡ اَفۡلَحَ الۡيَوۡمَ مَنِ اسۡتَعۡلٰى‏﴾
৬৪) আজ নিজেদের সমস্ত কলাকৌশল একত্র করে নাও এবং একজোট হয়ে ময়দানে এসো৷৩৮ ব্যস, জেনে রাখো, আজকে যে প্রাধান্য লাভ করবে সেই জিতে গেছে”৷  
﴿ قَالُوۡا يٰمُوۡسٰٓى اِمَّاۤ اَنۡ تُلۡقِىَ وَاِمَّاۤ اَنۡ نَّكُوۡنَ اَوَّلَ مَنۡ اَلۡقٰى‏﴾
৬৫) যাদুকররা বললো,৩৯ “হে মূসা! তুমি নিক্ষেপ করবে, না কি আমরাই আগে নিক্ষেপ করবো?”মূসা বললো, “না তোমরাই নিক্ষেপ করো”৷  
﴿ قَالَ بَلۡ اَلۡقُوۡا‌ۚ فَاِذَا حِبَالُهُمۡ وَعِصِيُّهُمۡ يُخَيَّلُ اِلَيۡهِ مِنۡ سِحۡرِهِمۡ اَنَّهَا تَسۡعٰى‏﴾
৬৬) অকস্মাত তাদের যাদুর প্রভাবে তাদের দড়িদড়া ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে বলে মূসার মনে হতে লাগলো ৪০ 
﴿ فَاَوۡجَسَ فِىۡ نَفۡسِهٖ خِيۡفَةً مُّوۡسٰى‏﴾
৬৭) এবং মূসার মনে ভীতির সঞ্চার হলো ৪১ 
﴿ قُلۡنَا لَا تَخَفۡ اِنَّكَ اَنۡتَ الۡاَعۡلٰى﴾
৬৮) আমি বললাম, “ভয় পেয়ো না, তুমিই প্রাধান্য লাভ করবে৷  
﴿ وَاَلۡقِ مَا فِىۡ يَمِيۡنِكَ تَلۡقَفۡ مَا صَنَعُوۡا‌ؕاِنَّمَا صَنَعُوۡا كَيۡدُ سٰحِرٍ‌ؕ وَّلَا يُفۡلِحُ السّٰحِرُ حَيۡثُ اَتٰى‏﴾
৬৯) ছুঁড়ে দাও তোমার হাতে যাকিছু আছে, এখনি এদের সব বানোয়াট জিনিসগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে, ৪২ এরা যাকিছু বানিয়ে এনেছে এতো যাদুকরের প্রতারণা এবং যাদুকর যেভাবেই আসুক না কেন কখনো সফল হতে পারে না”৷  
﴿ فَاُلۡقِىَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوۡنَ وَمُوۡسٰى‏﴾
৭০) শেষ পর্যন্ত এই হলো যে, সমস্ত যাদুকরকে সিজদাবনত করে দেয়া হলো৪৩ এবং তারা বলে উঠলোঃ “আমরা মেনে নিলাম হারুন ও মূসার রবকে”৷ ৪৪ 
﴿ قَالَ اٰمَنۡتُمۡ لَهٗ قَبۡلَ اَنۡ اٰذَنَ لَكُمۡ‌ؕ اِنَّهٗ لَكَبِيۡرُكُمُ الَّذِىۡ عَلَّمَكُمُ السِّحۡرَ‌ۚ فَلَاُقَطِّعَنَّ اَيۡدِيَكُمۡ وَاَرۡجُلَكُمۡ مِّنۡ خِلَافٍ وَّلَاُصَلِّبَنَّكُمۡ فِىۡ جُذُوۡعِ النَّخۡلِ وَلَتَعۡلَمُنَّ اَيُّنَاۤ اَشَدُّ عَذَابًا وَّاَبۡقٰى‏﴾
৭১) ফেরাউন বললো, “তোমারা ঈমান আনলে, আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই” দেখছি, এ তোমাদের গুরু, এ-ই তোমাদের যাদুবিদ্যা শিখিয়েছিল৷৪৫ এখন আমি তোমাদের হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কাটাচ্ছি৪৬ এবং খেজুর গাছের কাণ্ডে তোমাদের শুলিবিদ্ধ করছি ৪৭ এরপর তোমরা জানতে পারবে আমাদের দু’জনের মধ্যে কার শাস্তি কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী”৷৪৮ (অর্থাৎ আমি না মূসা, কে তোমাদের বেশী কঠিন শাস্তি দিতে পারে)৷  
﴿قَالُوۡا لَنۡ نُّؤۡثِرَكَ عَلٰى مَا جَآءَنَا مِنَ الۡبَيِّنٰتِ وَالَّذِىۡ فَطَرَنَا‌ فَاقۡضِ مَاۤ اَنۡتَ قَاضٍ‌ؕ اِنَّمَا تَقۡضِىۡ هٰذِهِ الۡحَيٰوةَ الدُّنۡيَاؕ‏﴾
৭২) যাদুকররা জবাব দিল, “সেই সত্তার কসম! যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, উজ্জ্বল সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সামনে এসে যাওয়ার পরও আমরা (সত্যের ওপর) তোমাকে প্রাধান্য দেবো, এটা কখনো হতে পারে না৷৪৯ তুমি যা কিছু করতে চাও করো৷ তুমি বড় জোর এ দুনিয়ার জীবনের ফায়সালা করতে পারো  
﴿اِنَّاۤ اٰمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغۡفِرَ لَنَا خَطٰيٰنَا وَمَاۤ اَكۡرَهۡتَنَا عَلَيۡهِ مِنَ السِّحۡرِؕ‌ وَاللّٰهُ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى‏﴾
৭৩) আমরা তো তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের ভুল ক্রুটিগুলো মাফ করে দেন৷ এবং এ যাদু বৃত্তিকেও ক্ষমা করে দেন, যা করতে তুমি আমাদের বাধ্য করেছিলে৷ আল্লাহই শ্রেষ্ঠ এবং তিনিই স্থায়িত্ব লাভকারী”৷  
﴿ اِنَّهٗ مَنۡ يَّاۡتِ رَبَّهٗ مُجۡرِمًا فَاِنَّ لَهٗ جَهَنَّمَ‌ۚ لَا يَمُوۡتُ فِيۡهَا وَلَا يَحۡيٰى‏﴾
৭৪) --প্রকৃতপক্ষে৫০ যে ব্যক্তি অপরাধী হয়ে নিজের রবের সামনে হাযির হবে তার জন্য আছে জাহান্নাম, যার মধ্যে সে না জীবিত থাকবে, না মরবে৷৫১ 
﴿ وَمَنۡ يَّاۡتِهٖ مُؤۡمِنًا قَدۡ عَمِلَ الصّٰلِحٰتِ فَاُولٰٓٮِٕكَ لَهُمُ الدَّرَجٰتُ الۡعُلٰىۙ‏﴾
৭৫) আর যারা তার সামনে মু’মিন হিসেবে সৎকাজ করে হাযির হবে তাদের জন্য রয়েছে সুমহান মর্যাদা,  
﴿ جَنّٰتُ عَدۡنٍ تَجۡرِىۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهَا‌ؕ وَذٰلِكَ جَزَآءُ مَنۡ تَزَكّٰى‏﴾
৭৬) চির হরিৎ উদ্যান, যার পাদদেশে প্রবাহিত হবে নদী, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল৷ এ হচ্ছে পুরস্কার সেই ব্যক্তির যে পবিত্রতা অবলম্বন করে৷  
﴿وَلَقَدۡ اَوۡحَيۡنَاۤ اِلٰى مُوۡسٰٓى ۙ اَنۡ اَسۡرِ بِعِبَادِىۡ فَاضۡرِبۡ لَهُمۡ طَرِيۡقًا فِىۡ الۡبَحۡرِ يَبَسًاۙ لَّا تَخٰفُ دَرَكًا وَّلَا تَخۡشٰى‏﴾
৭৭) আমি৫২ মূসার কাছে অহী পাঠালাম যে, এবার রাতারাতি আমার বান্দাদের নিয়ে বের হয়ে পড়ো এবং তাদের জন্য সাগরের বুকে শুকনা সড়ক বানিয়ে নাও৷৫৩ কেউ তোমাদের পিছু নেয় কিনা সে ব্যাপারে একটুও ভয় করো না৷ এবং (সাগরের সাঝখান দিয়ে পার হতে গিয়ে) শংকিত হয়ো না৷  
﴿فَاَتۡبَعَهُمۡ فِرۡعَوۡنُ بِجُنُوۡدِهٖ فَغَشِيَهُمۡ مِّنَ الۡيَمِّ مَا غَشِيَهُمۡ﴾
৭৮) পিছন থেকে ফেরাউন তার সেনাবাহীনি নিয়ে পৌছলো এবং তৎক্ষণাত সমুদ্র তাদের উপর ছেয়ে গেলো যেমন ছেয়ে যাওয়া সমীচীন ছিল৷৫৪ 
﴿وَاَضَلَّ فِرۡعَوۡنُ قَوۡمَهٗ وَمَا هَدٰى﴾
৭৯) ফেরাউন তার জাতিকে পথভ্রষ্ট করেছিল, কোন সঠিক পথ দেখায়নি৷৫৫ 
﴿يٰبَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ قَدۡ اَنۡجَيۡنٰكُمۡ مِّنۡ عَدُوِّكُمۡ وَوٰعَدۡنٰكُمۡ جَانِبَ الطُّوۡرِ الۡاَيۡمَنَ وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكُمُ الۡمَنَّ وَالسَّلۡوٰى‏﴾
৮০) হে বনী ইসরাঈল!৫৬ আমি তোমাদের শত্রুদের হাত থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়েছি, এবং তূরের ডান পাশে৫৭ তোমাদের উপস্থিতির জন্য সময় নির্ধারণ করেছি৫৮ আর তোমাদের প্রতি মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছি৫৯ 
﴿ كُلُوۡا مِنۡ طَيِّبٰتِ مَا رَزَقۡنٰكُمۡ وَلَا تَطۡغَوۡا فِيۡهِ فَيَحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبِىۡ‌ۚ وَمَنۡ يَّحۡلِلۡ عَلَيۡهِ غَضَبِىۡ فَقَدۡ هَوٰى﴾
৮১) --খাও আমার দেওয়া পবিত্র রিযিক এবং তা খেয়ে সীমালংঘন করো না, অন্যথায় তোমাদের ওপর আমার গযব আপতিত হবে৷ আর যার ওপর আমার গযব আপতিত হয়েছে তার পতন অবধারিত৷  
﴿وَاِنِّىۡ لَغَفَّارٌ لِّمَنۡ تَابَ وَاٰمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهۡتَدٰى‏﴾
৮২) তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে তারপর সোজা-সঠিক পথে চলতে থাকে তার জন্য আমি অনেক বেশী ক্ষমাশীল৷ ৬০ 
﴿ وَمَاۤ اَعۡجَلَكَ عَنۡ قَوۡمِكَ يٰمُوۡسٰى‏﴾
৮৩) আর ৬১ কোন জিনিসটি তোমাকে তোমার সম্প্রদায়ের আগে নিয়ে এলো হে মূসা”৬২ 
﴿قَالَ هُمۡ اُولَآءِ عَلٰٓى اَثَرِىۡ وَعَجِلۡتُ اِلَيۡكَ رَبِّ لِتَرۡضٰى﴾
৮৪) সে বললো, “তারা তো ব্যস আমার পেছনে এসেই যাচ্ছে৷ আমি দ্রুত তোমার সামনে এসে গেছি, হে আমার রব! যাতে তুমি আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যায়”৷  
﴿قَالَ فَاِنَّا قَدۡ فَتَنَّا قَوۡمَكَ مِنۡۢ بَعۡدِكَ وَاَضَلَّهُمُ السَّامِرِىُّ‏﴾
৮৫) তিনি বললেন, “ভালো কথা, তাহলে শোনো, আমি তোমার পেছনে তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি এবং সামেরী ৬৩ তাদেরকে পথভ্রষ্ট করে দিয়েছে”৷  
﴿ فَرَجَعَ مُوۡسَىٰۤ اِلٰى قَوۡمِهٖ غَضۡبَانَ اَسِفًا ۙ‌ قَالَ يٰقَوۡمِ اَلَمۡ يَعِدۡكُمۡ رَبُّكُمۡ وَعۡدًا حَسَنًا‌ ؕ اَفَطَالَ عَلَيۡكُمُ الۡعَهۡدُ اَمۡ اَرَدتُّمۡ اَنۡ يَّحِلَّ عَلَيۡكُمۡ غَضَبٌ مِّنۡ رَّبِّكُمۡ فَاَخۡلَفۡتُمۡ مَّوۡعِدِى﴾
৮৬) ভীষণ ক্রোধ ও মর্মজ্বালা নিয়ে মূসা তার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে এলো৷ সে বললো, “হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা! তোমাদের রব কি তোমাদের সাথে ভালো ভালো ওয়াদা করেননি?৬৪ তোমাদের কি দিনগুলো দীর্ঘতর মনে হয়েছে?৬৫ অথবা তোমরা নিজেদের রবের গযবই নিজেদের ওপর আনতে চাচ্ছিলে, যে কারণে তোমরা আমার সাথে ওয়াদা ভংগ করলে?৬৬ 
﴿ قَالُوۡا مَاۤ اَخۡلَفۡنَا مَوۡعِدَكَ بِمَلۡكِنَا وَلٰكِنَّا حُمِّلۡنَاۤ اَوۡزَارًا مِّنۡ زِيۡنَةِ الۡقَوۡمِ فَقَذَفۡنٰهَا فَكَذٰلِكَ اَلۡقَى السَّامِرِىُّۙ‏﴾
৮৭) তারা জবাব দিল, “আমারা স্বেচ্ছায় আপনার সাথে ওয়াদা ভংগ করিনি৷ ব্যাপার হলো, লোকদের অলংকারের বোঝায় আমরা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম  
﴿ فَاَخۡرَجَ لَهُمۡ عِجۡلاً جَسَدًا لَّهٗ خُوَارٌ فَقَالُوۡا هٰذَاۤ اِلٰهُكُمۡ وَاِلٰهُ مُوۡسٰى فَنَسِىَؕ‏﴾
৮৮) এবং আমরা স্রেফ সেগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলাম৷ ৬৭ -তারপর ৬৮ এভাবে সামেরীও কিছু ছুঁড়ে ফেললো এবং তাদের একটি বাছুরের মূর্তি বানিয়ে নিয়ে এলো, যার মধ্যে থেকে গরুর মতো আওয়াজ বের হতো৷ লোকেরা বলে উঠলো, “এ-ই তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ, মূসা একে ভুলে গিয়েছে”৷  
﴿اَفَلَا يَرَوۡنَ اَلَّا يَرۡجِعُ اِلَيۡهِمۡ قَوۡلاً ۙ وَّلَا يَمۡلِكُ لَهُمۡ ضَرًّا وَّلَا نَفۡعًا‏﴾
৮৯) তারা কি দেখছিল না যে, সে তাদের কথারও জবাব দেয় না৷ এবং তাদের উপকার ও ক্ষতি করার কোন ক্ষমতাও রাখে না?  
﴿ وَلَقَدۡ قَالَ لَهُمۡ هٰرُوۡنُ مِنۡ قَبۡلُ يٰقَوۡمِ اِنَّمَا فُتِنۡتُمۡ بِهٖ‌ۚ وَاِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحۡمٰنُ فَاتَّبِعُوۡنِىۡ وَاَطِيۡعُوۡۤا اَمۡرِىْ﴾
৯০) (মূসার আসার) আগেই হারুন তাদের বলেছিল, “হে লোকেরা! এর কারণে তোমরা পরীক্ষায় নিক্ষিপ্ত হয়েছো৷ তোমাদের রব তো করুণাময়, কাজেই তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার কথা মেনে নাও৷  
﴿ قَالُوۡا لَنۡ نَّبۡرَحَ عَلَيۡهِ عٰكِفِيۡنَ حَتَّىٰ يَرۡجِعَ اِلَيۡنَا مُوۡسٰى‏﴾
৯১) কিন্তু তারা তাকে বলে দিল, “মূসার না আসা পর্যন্ত আমরা তো এরি পূজা করতে থাকবো”৷৬৯ 
﴿ قَالَ يٰهٰرُوۡنُ مَا مَنَعَكَ اِذۡ رَاَيۡتَهُمۡ ضَلُّوۡٓاۙ‏﴾
৯২) মূসা (তার সম্প্রদায়কে ধমকাবার পর হরুনের দিকে ফিরে) বললো, “হে হারুন! তুমি যখন দেখলে এরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাচ্ছে তখন আমার পথে চলা থেকে কিসে তোমাকে বিরত রেখেছিল?  
﴿ اَلَّا تَتَّبِعَنِ‌ؕ اَفَعَصَيۡتَ اَمۡرِىْ‏﴾
৯৩) তুমি কি আমার হুকুম অমান্য করেছো?৭০ 
﴿قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡيَتِىۡ وَلَا بِرَاۡسِىۡ‌ۚ اِنِّىۡ خَشِيۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِى‏﴾
৯৪) হারুন জবাব দিল, “হে আমার সহোদর ভাই! আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরে টেনো না৷৭১ আমার আশংকা ছিল, তুমি এসে বলবে যে, তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি৷”৭২ 
﴿قَالَ يَبۡنَؤُمَّ لَا تَاۡخُذۡ بِلِحۡيَتِىۡ وَلَا بِرَاۡسِىۡ‌ۚ اِنِّىۡ خَشِيۡتُ اَنۡ تَقُوۡلَ فَرَّقۡتَ بَيۡنَ بَنِىۡۤ اِسۡرآءِيۡلَ وَلَمۡ تَرۡقُبۡ قَوۡلِى‏﴾
৯৫) মূসা বললো, “আর হে সামেরী তোমার কি ব্যাপার?  
﴿ قَالَ بَصُرۡتُ بِمَا لَمۡ يَبۡصُرُوۡا بِهٖ فَقَبَضۡتُ قَبۡضَةً مِّنۡ اَثَرِ الرَّسُوۡلِ فَنَبَذۡتُهَا وَكَذٰلِكَ سَوَّلَتۡ لِىۡ نَفۡسِى‏﴾
৯৬) সে জবাব দিল, “আমি এমন জিনিস দেখেছি যা এরা দেখেনি, কাজেই আমি রসূলের পদাংক থেকে এক মুঠো তুলে নিয়েছি এবং তা নিক্ষেপ করেছি, আমার মন আমাকে এমনি ধারাই কিছু বুঝিয়েছে৷ ৭৩ 
﴿ قَالَ فَاذۡهَبۡ فَاِنَّ لَكَ فِىۡ الۡحَيٰوةِ اَنۡ تَقُوۡلَ لَا مِسَاسَ‌ وَاِنَّ لَكَ مَوۡعِدًا لَّنۡ تُخۡلَفَهٗ‌ۚ وَانْظُرۡ اِلٰٓى اِلٰهِكَ الَّذِىۡ ظَلۡتَ عَلَيۡهِ عَاكِفًا‌ؕ لَّنُحَرِّقَنَّهٗ ثُمَّ لَنَنۡسِفَنَّهٗ فِىۡ الۡيَمِّ نَسۡفًا﴾
৯৭) মূসা বললো, “বেশ, তুই দুর হয়ে যা, এখন জীবনভর তুই শুধু একথাই বলতে থাকবি, আমাকে ছুঁয়ো না৷ ৭৪  আর তোর জন্য জবাবদিহির একটি সময় নির্ধারিত রয়েছে যা কখনোই তোর থেকে দূরে সরে যাবে না৷ আর দেখ, তোর এই ইলাহর প্রতি, যার পূজায় তুই মত্ত ছিলি, এখন আমরা তাকে জ্বালিয়ে দেবো এবং তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেবো৷  
﴿اِنَّمَاۤ اِلٰهُكُمُ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ؕ وَسِعَ كُلَّ شَىۡءٍ عِلۡمًا‏﴾
৯৮) হে লোকেরা! এক আল্লাহই তোমাদের ইলাহ, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, প্রত্যেক জিনিসের ওপর তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত৷  
﴿كَذٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيۡكَ مِنۡ اَنۢۡبَآءِ مَا قَدۡ سَبَقَ‌ۚ وَقَدۡ اٰتَيۡنٰكَ مِنۡ لَّدُنَّا ذِكۡرًا﴾
৯৯) হে মুহাম্মাদ!৭৫ এভাবে আমি অতীতে যা ঘটে গেছে তার অবস্থা তোমাকে শুনাই এবং আমি বিশেষ করে নিজের কাছ থেকে তোমাকে একটি ‘যিকির’(উপদেশমালা) দান করেছি৷৭৬ 
﴿ مَّنۡ اَعۡرَضَ عَنۡهُ فَاِنَّهٗ يَحۡمِلُ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ وِزۡرًاۙ‏﴾
১০০) যে ব্যক্তি এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে কিয়ামতের দিন কঠিন গোনাহের বোঝা উঠাবে৷  
﴿ خٰلِدِيۡنَ فِيۡهِ‌ؕ وَسَآءَ لَهُمۡ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ حِمۡلاًۙ‏﴾
১০১) আর এ ধরনের লোকেরা চিরকাল এ দুর্ভাগ্য পীড়িত থাকবে এবং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য (এই অপরাধের দায়ভার) বড়ই কষ্টকর বোঝা হবে৷৭৭ 
﴿ يَّوۡمَ يُنۡفَخُ فِىۡ الصُّوۡرِ‌ وَنَحۡشُرُ الۡمُجۡرِمِيۡنَ يَوۡمَٮِٕذٍ زُرۡقًا‌ ۖ‌ۚ‏﴾
১০২) সেদিন যখন সিংগায় ফুঁক দেয়া হবে৭৮ এবং আমি অপরাধীদেরকে এমনভাবে ঘেরাও করে আনবো যে, তাদের চোখ (আতংকে) দৃষ্টিহীন হয়ে যাবে৷৭৯ 
﴿ يَّتَخَافَتُوۡنَ بَيۡنَهُمۡ اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا عَشۡرًا﴾
১০৩) তারা পরস্পর চুপিচুপি বলাবলি করবে, দুনিয়ায় বড়জোর তোমরা দশটা দিন অতিবাহিত করেছো”৮০ 
﴿ نَّحۡنُ اَعۡلَمُ بِمَا يَقُوۡلُوۡنَ اِذۡ يَقُوۡلُ اَمۡثَلُهُمۡ طَرِيۡقَةً اِنۡ لَّبِثۡتُمۡ اِلَّا يَوۡمًا﴾
১০৪) --আমি৮১ ভালোভাবেই জানি তারা কিসব কথা বলবে, (আমি এও জানি) সে সময় তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী সতর্ক অনুমানকারী হবে সে বলবে, না তোমাদের দুনিয়ার জীবনতো মাত্র একদিনের জীবন ছিল৷  
﴿وَيَسۡـَٔلُوۡنَكَ عَنِ الۡجِبَالِ فَقُلۡ يَنۡسِفُهَا رَبِّىۡ نَسۡفًاۙ‏﴾
১০৫) -এ লোকেরা ৮২ তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, সেদিন এ পাহাড়গুলো কোথায় চলে যাবে? বলো, আমার রব তাদেরকে ধূলি বানিয়ে উড়িয়ে দেবেন  
﴿ فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفۡصَفًاۙ‏﴾
১০৬) এবং যমীনকে এমন সমতল প্রান্তরে পরিণত করে দেবেন যে,  
﴿لَّا تَرٰى فِيۡهَا عِوَجًا وَّلَاۤ اَمۡتًاؕ‏﴾
১০৭) তার মধ্যে তোমরা কোন উঁচু নিচু ও ভাঁজ দেখতে পাবে না৷ ৮৩ 
﴿ يَوۡمَٮِٕذٍ يَّتَّبِعُوۡنَ الدَّاعِىَ لَا عِوَجَ لَهٗ‌ؕ وَخَشَعَتِ الۡاَصۡوَاتُ لِلرَّحۡمٰنِ فَلَا تَسۡمَعُ اِلَّا هَمۡسًا﴾
১০৮) --সেদিন সবাই নকীবের আহবানে সোজা চলে আসবে, কেউ সামান্য দর্পিত ভংগীর প্রকাশ ঘটাতে পারবে না এবং করুণাময়ের সামনে সমস্ত আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যাবে, মৃদু খসখস শব্দ ৮৪ ছাড়া তুমি কিছুই শুনবে না৷  
﴿ يَوۡمَٮِٕذٍ لَّا تَنۡفَعُ الشَّفَاعَةُ اِلَّا مَنۡ اَذِنَ لَهُ الرَّحۡمٰنُ وَرَضِىَ لَهٗ قَوۡلاً‏﴾
১০৯) সেদিন সুপারিশ কার্যকর হবে না, তবে যদি করুণাময় কাউকে অনুমতি দেন এবং তার কথা শুনতে পছন্দ করেন৷ ৮৫ 
﴿ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِهٖ عِلۡمًا‏﴾
১১০) -তিনি লোকদের সামনের পেছনের সব অবস্থা জানেন এবং অন্যেরা এর পুরো জ্ঞান রাখে না৷ ৮৬ 
﴿ وَعَنَتِ الۡوُجُوۡهُ لِلۡحَىِّ الۡقَيُّوۡمِ‌ؕ وَقَدۡ خَابَ مَنۡ حَمَلَ ظُلۡمًا‏﴾
১১১) -লোকদের মাথা চিরঞ্জীব ও চির প্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে ঝুঁকে পড়বে, সে সময় যে জুলুমের গোনাহের ভার বহন করবে সে ব্যর্থ হবে৷  
﴿ وَمَنۡ يَّعۡمَلۡ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤۡمِنٌ فَلَا يَخٰفُ ظُلۡمًا وَّلَا هَضۡمًا‏﴾
১১২) আর যে ব্যক্তি সৎকাজ করবে এবং সেই সংগে সংগে সে মুমিনও হবে তার প্রতি কোন জুলুম বা অধিকার হরণের আশংকা নেই৷ ৮৭ 
﴿وَكَذٰلِكَ اَنۡزَلۡنٰهُ قُرۡاٰنًا عَرَبِيًّا وَّصَرَّفۡنَا فِيۡهِ مِنَ الۡوَعِيۡدِ لَعَلَّهُمۡ يَتَّقُوۡنَ اَوۡ يُحۡدِثُ لَهُمۡ ذِكۡرًا﴾
১১৩) আর হে মুহাম্মাদ! এভাবে আমি একে আরবী কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি ৮৮ এবং এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সতর্কবাণী করেছি হয়তো এরা বক্রতা থেকে বাঁচবে বা এদের মধ্যে এর বদৌলতে কিছু সচেতনতার নিদর্শন ফুটে উঠবে৷ ৮৯ 
﴿ فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَقُّ‌ۚ وَلَا تَعۡجَلۡ بِالۡقُرۡاٰنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ يُّقۡضٰٓى اِلَيۡكَ وَحۡيُهٗ‌ وَقُل رَّبِّ زِدۡنِىۡ عِلۡمًا‏﴾
১১৪) কাজেই প্রকৃত বাদশাহ আল্লাহ হচ্ছেন উন্নত ও মহান৷ ৯০ আর দেখো, কুরআন পড়ার ব্যাপারে দ্রুততা অবলম্বন করো না যতক্ষণ না তোমার প্রতি তার অহী পূর্ণ হয়ে যায় এবং দোয়া করো, হে আমার পরওয়ারদিগার! আমাকে আরো জ্ঞান দাও৷ ৯১ আমি৯২ 
﴿وَلَقَدۡ عَهِدۡنَاۤ اِلٰٓى اٰدَمَ مِنۡ قَبۡلُ فَنَسِىَ وَلَمۡ نَجِدۡ لَهٗ عَزۡمًا‏﴾
১১৫) এর আগে আদমকে একটি হুকুম দিয়েছিলাম৯৩ কিন্তু সে ভুলে গিয়েছে এবং আমি তার মধ্যে দৃঢ় সংকল্প পাইনি৷ ৯৪ 
﴿ وَاِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓٮِٕكَةِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِيۡسَ اَبٰى﴾
১১৬) স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, আদমকে সিজদা করো, তারা সবাই সিজদা করলো কিন্তু একমাত্র ইবলীস অস্বীকার করে বসলো৷  
﴿فَقُلۡنَا يٰۤاٰدَمُ اِنَّ هٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوۡجِكَ فَلَا يُخۡرِجَنَّكُمَا مِنَ الۡجَنَّةِ فَتَشۡقٰى﴾
১১৭) এ ঘটনায় আমি আদমকে বললাম, ৯৫ “দেখো, এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর, শত্রু,৯৬ এমন যেন না হয় যে, এ তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করে দেয় ৯৭ এবং তোমরা বিপদে পড়ে যাও৷  
﴿ اِنَّ لَكَ اَلَّا تَجُوۡعَ فِيۡهَا وَلَا تَعۡرٰىۙ﴾
১১৮) এখানে তো তুমি এ সুবিধে পাচ্ছো যে, তুমি না অভুক্ত ও উলংগ থাকছো  
﴿ وَاَنَّكَ لَا تَظۡمَؤُا فِيۡهَا وَلَا تَضۡحٰى﴾
১১৯) এবং না পিপাসার্ত ও রৌদ্রক্লান্ত হচ্ছো৷ ৯৮ 
﴿ فَوَسۡوَسَ اِلَيۡهِ الشَّيۡطٰنُ قَالَ يٰۤاٰدَمُ هَلۡ اَدُلُّكَ عَلٰى شَجَرَةِ الۡخُلۡدِ وَمُلۡكٍ لَّا يَبۡلٰى﴾
১২০) কিন্তু শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, ৯৯ বলতে থাকলো, “হে আদম! তোমাকে কি এমন গাছের কথা বলে দেবো যা থেকে অনন্ত জীবন ও অক্ষয় রাজ্য লাভ করা যায়?১০০ 
﴿فَاَكَلَا مِنۡهَا فَبَدَتۡ لَهُمَا سَوۡءٰاتُهُمَا وَطَفِقَا يَخۡصِفَانِ عَلَيۡهِمَا مِنۡ وَّرَقِ الۡجَنَّةِ‌ؕ وَعَصٰىۤ اٰدَمُ رَبَّهٗ فَغَوٰى‌ۖ‏﴾
১২১) শেষ পর্যন্ত দু’জন (স্বামী-স্ত্রী) সে গাছের ফল খেয়ে বসলো৷ ফলে তখনই তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং দু’জনাই জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজেকে ঢাকতে লাগলো৷ ১০১ আদম নিজের রবের নাফরমানী করলো এবং সে সঠিক পথ থেকে সরে গেল৷ ১০২ 
﴿ ثُمَّ اجۡتَبٰهُ رَبُّهٗ فَتَابَ عَلَيۡهِ وَهَدٰى‏﴾
১২২) তারপর তার রব তাকে নির্বাচিত করলেন, ১০৩  তার তাওবা কবুল করলেন এবং তাকে পথ নির্দেশনা দান করলেন৷ ১০৪ 
﴿قَالَ اهۡبِطَا مِنۡهَا جَمِيۡعًا‌ۢ بَعۡضُكُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ‌ۚ فَاِمَّا يَاۡتِيَنَّكُمۡ مِّنِّىۡ هُدًى ۙ فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَاىَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشۡقٰى‏﴾
১২৩) আর বললেন, “তোমরা (উভয় পক্ষ অর্থাৎ মানুষ ও শয়তান) এখান থেকে নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু থাকবে৷ এখন যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোন নির্দেশনামা পৌছে যায় তাহলে যে ব্যক্তি আমার সেই নির্দেশ মেনে চলবে সে বিভ্রান্তও হবে না, দুর্ভাগ্য পীড়িতও হবে না৷  
﴿ وَمَنۡ اَعۡرَضَ عَنۡ ذِكۡرِىۡ فَاِنَّ لَهٗ مَعِيۡشَةً ضَنۡكًا وَّنَحۡشُرُهٗ يَوۡمَ الۡقِيٰمَةِ اَعۡمٰى﴾
১২৪) আর যে ব্যক্তি আমার “যিকির (উপদেশমালা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জন্য হবে দুনিয়ায় সংকীর্ণ জীবন১০৫ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে উঠাবো অন্ধ করে৷ ১০৬ 
﴿قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرۡتَنِىۡۤ اَعۡمٰى وَقَدۡ كُنۡتُ بَصِيۡرًا﴾
১২৫) -সে বলবে, “হে আমার রব! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম কিন্তু এখানে আমাকে অন্ধ করে উঠালে কেন?  
﴿ قَالَ كَذٰلِكَ اَتَتۡكَ اٰيٰتُنَا فَنَسِيۡتَهَا‌ۚ وَكَذٰلِكَ الۡيَوۡمَ تُنۡسٰى﴾
১২৬) আল্লাহ বললেন, “হাঁ, এভাবেই তো৷ আমার আয়াত যখন তোমার কাছে এসেছিল, তুমি তাকে ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে৷ ১০৭ 
﴿ وَكَذٰلِكَ نَجزِىۡ مَنۡ اَسۡرَفَ وَلَمۡ يُؤۡمِنۡۢ بِاٰيٰتِ رَبِّهٖ‌ؕ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَةِ اَشَدُّ وَاَبۡقٰى﴾
১২৭) -এভাবেই আমি সীমা লংঘনকারী এবং নিজের রবের আয়াত অমান্যকারীকে (দুনিয়ায়) প্রতিফল দিয়ে থাকি১০৮ এবং আখেরাতের আযাব বেশী কঠিন এবং বেশীক্ষণ স্থায়ী৷  
﴿ اَفَلَمۡ يَهۡدِ لَهُمۡ كَمۡ اَهۡلَكۡنَا قَبۡلَهُمۡ مِّنَ الۡقُرُوۡنِ يَمۡشُوۡنَ فِىۡ مَسٰكِنِهِمۡ‌ؕ اِنَّ فِىۡ ذٰلِكَ لَاَيٰتٍ لِّاُولِىۡ النُّهٰى﴾
১২৮) তাহলে কি এদের ১০৯ (ইতিহাসের এ শিক্ষা থেকে) কোন পথ নির্দেশ মেলেনি যে, এদের পূর্বে আমি কত জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে, যাদের (ধ্বংসপ্রাপ্ত বসতিগুলোতে আজ এরা চলাফেরা করে? আসলে যারা ভারসাম্যপূর্ণ বুদ্ধি-বিবেকের অধিকারী তাদের জন্য রয়েছে এর মধ্যে বহু নিদর্শন৷ ১১০ 
﴿وَلَوۡلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتۡ مِنۡ رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَّاَجَلٌ مُّسَمًّى﴾
১২৯) যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে আগেই একটি সিদ্ধান্ত না করা হতো এবং অবকাশের একটি সময়সীমা নির্ধারিত না করা হতো, তাহলে অবশ্যি এরও ফায়সালা চুকিয়ে দেয়া হতো৷  
﴿ فَاصۡبِرۡ عَلٰى مَا يَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوۡبِهَا‌ۚ وَمِنۡ اٰنَآىِٕ الَّيۡلِ فَسَبِّحۡ وَاَطۡرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرۡضٰى﴾
১৩০) কাজেই হে মুহাম্মাদ! এরা যেসব কথা বলে তাতে সবর করো এবং নিজের রবের প্রশংসা ও গুণকীর্তন সহকারে তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো সূর্য উদয়ের আগে ও তার অস্ত যাবার আগে, আর রাত্রিকালেও প্রশংসা ও মহিমা ঘোষণা করো এবং দিনের প্রান্তগুলোতেও৷১১১ হয়তো এতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে৷১১২ 
﴿وَلَا تَمُدَّنَّ عَيۡنَيۡكَ اِلٰى مَا مَتَّعۡنَا بِهٖۤ اَزۡوَاجًا مِّنۡهُمۡ زَهۡرَةَ الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَا ۙ لِنَفۡتِنَهُمۡ فِيۡهِ‌ؕ وَرِزۡقُ رَبِّكَ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى‏﴾
১৩১) আর চোখ তুলেও তাকাবে না দুনিয়াবী জীবনের শান-শওকতের দিকে, যা আমি এদের মধ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের লোকদেরকে দিয়ে রেখেছি৷ এসব তো আমি এদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করার জন্য দিয়েছি এবং তোমার রবের দেয়া হালাল রিযিকই১১৩ উত্তম ও অধিকতর স্থায়ী৷  
﴿ وَاۡمُرۡ اَهۡلَكَ بِالصَّلٰوةِ وَاصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَا‌ؕ لَا نَسۡـَٔلُكَ رِزۡقًا‌ؕ نَّحۡنُ نَرۡزُقُكَ‌ؕ وَالۡعَاقِبَةُ لِلتَّقۡوٰى‏﴾
১৩২) নিজের পরিবার পরিজনকে নামায পড়ার হুকুম দাও ১১৪ এবং নিজেও তা নিয়মিত পালন করতে থাকো৷ আমি তোমার কাছে কোন রিযিক চাই না, রিযিক তো আমিই তোমাকে দিচ্ছি এবং শুভ পরিণাম তাকওয়ার জন্যই৷ ১১৫ 
﴿ وَقَالُوۡا لَوۡلَا يَاۡتِيۡنَا بِاٰيَةٍ مِّنۡ رَّبِّهٖ‌ؕ اَوَلَمۡ تَاۡتِهِمۡ بَيِّنَةُ مَا فِىۡ الصُّحُفِ الۡاُوۡلٰى﴾
১৩৩) তারা বলে, এ ব্যক্তি নিজের রবের পক্ষ থেকে কোন নিশানী (মুজিযা) আনে না কেন? আর এদের কাছে কি আগের সহীফাগুলোর সমস্ত শিক্ষার সুস্পষ্ট বর্ণনা এসে যায়নি?১১৬ 
﴿وَلَوۡ اَنَّاۤ اَهۡلَكۡنٰهُمۡ بِعَذَابٍ مِّنۡ قَبۡلِهٖ لَقَالُوۡا رَبَّنَا لَوۡلَاۤ اَرۡسَلۡتَ اِلَيۡنَا رَسُوۡلاً فَنَتَّبِعَ اٰيٰتِكَ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّذِلَّ وَنَخۡزٰى‏﴾
১৩৪) যদি আমি তার আসার আগে এদেরকে কোন আযাব দিয়ে ধ্বংস করে দিতাম তাহলে আবার এরাই বলতো, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের কাছে কোন রসূল পাঠাওনি কেন, যাতে আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হবার আগেই তোমার আয়াত মেনে চলতাম?  
﴿ قُلۡ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوۡا‌ۚ فَسَتَعۡلَمُوۡنَ مَنۡ اَصۡحٰبُ الصِّرَاطِ السَّوِىِّ وَمَنِ اهۡتَدٰى‏﴾
১৩৫) হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলো, সবাই কাজেই পরিণামের প্রতীক্ষায় রয়েছে৷১১৭ কাজেই এখন প্রতিক্ষারত থাকো৷ শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে, কারো সোজা-সঠিক পথ অবলম্বনকারী এবং কারা সৎপথ পেয়ে গেছে৷