সঠিকভাবে আরবি দেখার জন্য PDMS Saleem Quran Font ফন্টটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
আমাদের টাইপ করা বইগুলোতে বানান ভুল রয়ে গিয়েছে প্রচুর। আমরা ভুলগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি ক্রমাগত। ভুল শুধরানো এবং টাইপ সেটিং জড়িত কাজে সহায়তা করতে যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে।
<< সূরা তালিকা
আস সফফাত
ভূমিকা (নামকরণ, শানে নুযূল, পটভূমি ও বিষয়বস্তুর জন্য ক্লিক করুন)

﴿وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّاۙ﴾
১) সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মানদের কসম,  
﴿ فَالزّٰجِرٰتِ زَجۡرًاۙ‏﴾
২) তারপর যারা ধমক ও অভিশাপ দেয় তাদের কসম,  
﴿ فَالتّٰلِيٰتِ ذِكۡرًاۙ‏﴾
৩) তারপর তাদের কসম যারা উপদেশবাণী শুনায়, ১ 
﴿ اِنَّ اِلٰهَكُمۡ لَوَاحِدٌ﴾
৪) তোমাদের প্রকৃত মাবুদ মাত্র একজনই-  
﴿ رَّبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَرَبُّ الۡمَشَارِقِؕ‏﴾
৫) যিনি পৃথিবী ও আকাশমণ্ডলীর এবং পৃথিবী ও আকাশের মধ্যে যা কিছু আছে তাদের সবার মালিক এবং সমস্ত উদয়স্থলের ৩ মালিক৷  
﴿ اِنَّا زَيَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡيَا بِزِيۡنَةِ الۡكَوَاكِبِۙ﴾
৬) আমি দুনিয়ার আকাশকে  তারকারাজির সৌন্দর্য দ্বারা সুসজ্জিত করেছি  
﴿ وَحِفۡظًا مِّنۡ كُلِّ شَيۡطٰنٍ مَّارِدٍ﴾
৭) এবং প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে তাকে সুরক্ষিত রেখেছি৷  
﴿ لَّا يَسَّمَّعُوۡنَ اِلَى الۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰى وَيُقۡذَفُوۡنَ مِنۡ كُلِّ جَانِبٍ‌ۖ‏﴾
৮) এ শয়তানরা উর্ধ জগতের কথা শুনতে পারে না,  
﴿ دُحُوۡرًا‌ وَّلَهُمۡ عَذَابٌ وَّاصِبٌۙ‏﴾
৯) সবদিক থেকে আঘাতপ্রাপ্ত ও তাড়িত হয় এবং তাদের জন্য রয়েছে অবিরাম শাস্তি৷  
﴿اِلَّا مَنۡ خَطِفَ الۡخَطۡفَةَ فَاَتۡبَعَهٗ شِهَابٌ ثَاقِبٌ‏﴾
১০) তবুও যদি তাদের কেউ তার মধ্য থেকে কিছু হাতিয়ে নিতে সক্ষম হয় তাহলে একটি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা তার পেছনে ধাওয়া করে৷ 
﴿ فَاسۡتَفۡتِهِمۡ اَهُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَاؕ اِنَّا خَلَقۡنٰهُمۡ مِّنۡ طِيۡنٍ لَّازِبٍ‏﴾
১১) এখন এদেরকে জিজ্ঞেস করো, এদের সৃষ্টি বেশী কঠিন, না আমি যে জিনিসগুলো সৃষ্টি করে রেখেছি সেগুলোর ? এদেরকে তো আমি সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদামাটি দিয়ে৷  
﴿ بَلۡ عَجِبۡتَ وَيَسۡخَرُوۡنَ﴾
১২) তুমি তো (আল্লাহর কুদরাতের মহিমা দেখে) অবাক হচ্ছো এবং এরা তার প্রতি করছে বিদ্রূপ৷  
﴿ وَاِذَا ذُكِّرُوۡا لَا يَذۡكُرُوۡنَ‏﴾
১৩) তাদেরকে বুঝালেও তারা বোঝে না৷  
﴿ وَاِذَا رَاَوۡا اٰيَةً يَّسۡتَسۡخِرُوۡنَ‏﴾
১৪) কোনো নিদর্শন দেখলে উপহাস করে উড়িয়ে দেয়  
﴿ وَقَالُوۡۤا اِنۡ هٰذَاۤ اِلَّا سِحۡرٌ مُّبِيۡنٌ‌﴾
১৫) এবং বলে, “এ তো স্পষ্ট যাদু৷ ১০ 
﴿ ءَاِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظٰمًا اَءِنَّا لَمَبۡعُوۡثُوۡنَۙ‏﴾
১৬) আমরা যখন মরে একেবারে মাটি হয়ে যাবো এবং থেকে যাবে শুধুমাত্র হাড়ের পিঞ্জর তখন আমাদের আবার জীবিত করে উঠানো হবে, এমনও কি কখনো হতে পারে ?  
﴿ اَوَاٰبَآؤُنَا الۡاَوَّلُوۡنَؕ‏﴾
১৭) আর আমাদের পূর্ব-পুরুষদেরকেও কি উঠানো হবে?”  
﴿ قُلۡ نَعَمۡ وَاَنۡتُمۡ دٰخِرُوۡنَ﴾
১৮) এদেরকে বলো, হ্যাঁ, এবং তোমরা (আল্লাহর মোকাবিলায়) অসহায়৷ ১১ 
﴿ فَاِنَّمَا هِىَ زَجۡرَةٌ وَّاحِدَةٌ فَاِذَا هُمۡ يَنۡظُرُوۡنَ﴾
১৯) ব্যস, একটিমাত্র বিকট ধমক হবে এবং সহসাই এরা স্বচক্ষে (সেই সবকিছু যার খবর দেয়া হচ্ছে) দেখতে থাকবে৷ ১২ 
﴿ وَقَالُوۡا يٰوَيۡلَنَا هٰذَا يَوۡمُ الدِّيۡنِ‏﴾
২০) সে সময় এরা বলবে, হায়! আমাদের দুর্ভাগ্য, এতো প্রতিফল দিবস৷  
﴿ هٰذَا يَوۡمُ الۡفَصۡلِ الَّذِىۡ كُنۡتُمۡ بِهٖ تُكَذِّبُوۡنَ‏﴾
২১) “এটা সে ফায়সালার দিন যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে৷” ১৩ 
﴿ اُحۡشُرُوۡا الَّذِيۡنَ ظَلَمُوۡا وَاَزۡوَاجَهُمۡ وَمَا كَانُوۡا يَعۡبُدُوۡنَۙ‏﴾
২২) (হুকুম দেয়া হবে) ঘেরাও করে নিয়ে এসো  
﴿ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰهِ فَاهۡدُوۡهُمۡ اِلٰى صِرَاطِ الۡجَحِيۡمِ‏﴾
২৩) সব জালেমকে, ১৪ তাদের সাথিদেরকে ১৫ এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব মাবুদদের তারা বন্দেগী করতো তাদেরকে ১৬ তারপর তাদের সবাইকে জাহান্নামের পথ দেখিয়ে দাও৷  
﴿ وَقِفُوۡهُمۡ‌ اِنَّهُمۡ مَّسۡـُٔوۡلُوۡنَۙ‏﴾
২৪) আর এদেরকে একটু থামাও, এদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করতে হবে৷  
﴿ مَا لَكُمۡ لَا تَنَاصَرُوۡنَ﴾
২৫) “ তোমাদের কি হয়েছে, এখন কেন পরস্পরকে সাহায্য করো না?  
﴿ بَلۡ هُمُ الۡيَوۡمَ مُسۡتَسۡلِمُوۡنَ‏﴾
২৬) আরে, আজ তো এরা নিজেরাই নিজেদেরকে (এবং একজন অন্যজনকে) সমর্পণ করে দিয়ে যাচ্ছে৷” ১৭১৭ 
﴿ وَاَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍ يَّتَسَآءَلُوۡنَ﴾
২৭) এরপর এরা একে অন্যের দিকে ফিরবে এবং পরস্পর বিতর্ক শুরু করে দেবে৷  
﴿ قَالُوۡۤا اِنَّكُمۡ كُنۡتُمۡ تَاۡتُوۡنَنَا عَنِ الۡيَمِيۡنِ﴾
২৮) (আনুগত্যকারীরা তাদের নেতাদেরকে) বলবে, “ তোমরা তো আমাদের কাছে আসতে সোজা দিক দিয়ে৷”১৮১৮ 
﴿ قَالُوۡا بَل لَّمۡ تَكُوۡنُوۡا مُؤۡمِنِيۡنَ﴾
২৯) তারা জবাব দেবে, “না, তোমরা নিজেরাই মু’মিন ছিলে না৷  
﴿ وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيۡكُمۡ مِّنۡ سُلۡطٰنِ‌ۚ بَلۡ كُنۡتُمۡ قَوۡمًا طٰغِيۡنَ‏﴾
৩০) তোমাদের ওপর আমাদের কোন জোর ছিল না৷ বরং তোমরা নিজেরাই ছিলে বিদ্রোহী৷  
﴿فَحَقَّ عَلَيۡنَا قَوۡلُ رَبِّنَآ‌ ۖ اِنَّا لَذَآٮِٕقُوۡنَ﴾
৩১) শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের রবের এ ফরমানের হকদার হয়ে গেছি যে, আমরা আযাবের স্বাদ গ্রহণ করবো৷  
﴿ فَاَغۡوَيۡنٰكُمۡ اِنَّا كُنَّا غٰوِيۡنَ‏﴾
৩২) কাজেই আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম কারণ আমরা নিজেরাই বিভ্রান্ত ছিলাম৷”১৯ 
﴿ فَاِنَّهُمۡ يَوۡمَٮِٕذٍ فِىۡ الۡعَذَابِ مُشۡتَرِكُوۡنَ﴾
৩৩) এভাবে তারা সবাই সেদিন শাস্তিতে শরীক হবে৷ ২০ 
﴿ اِنَّا كَذٰلِكَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِيۡنَ﴾
৩৪) আমি অপরাধীদের সাথে এমনটিই করে থাকি৷  
﴿ اِنَّهُمۡ كَانُوۡۤا اِذَا قِيۡلَ لَهُمۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُۙ يَسۡتَكۡبِرُوۡنَۙ﴾
৩৫) এরা ছিল এমন সব লোক যখন এদেরকে বলা হতো, “আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই” তখন এরা অহংকার করতো৷  
﴿ وَيَقُوۡلُوۡنَ اَٮِٕنَّا لَتٰرِكُوۡۤا اٰلِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجۡنُوۡنٍؕ‏﴾
৩৬) এবং বলতো, “আমরা কি একজন উন্মাদ কবির জন্য আমাদের মাবুদদেরকে ত্যাগ করবো?”  
﴿ بَلۡ جَآءَ بِالۡحَقِّ وَصَدَّقَ الۡمُرۡسَلِيۡنَ‏﴾
৩৭) অথচ সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং রসূলদেরকে সত্য বলে মেনে নিয়েছিল ২১ 
﴿ اِنَّكُمۡ لَذَآٮِٕقُوۡا الۡعَذَابِ الۡاَلِيۡمِ﴾
৩৮) (এখন তাদেরকে বলা হবে) তোমরা নিশ্চিতভাবেই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করবে  
﴿ وَمَا تُجۡزَوۡنَ اِلَّا مَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَۙ‏﴾
৩৯) এবং পৃথিবীতে তোমরা যে সমস্ত কাজ করতে তারই প্রতিদান তোমাদের দেয়া হচ্ছে৷  
﴿ اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ﴾
৪০) কিন্তু আল্লাহর নির্বাচিত বান্দারা (এ অশুভ পরিণাম) মুক্ত হবে৷  
﴿ اُولٰٓٮِٕكَ لَهُمۡ رِزۡقٌ مَّعۡلُوۡمٌۙ‏﴾
৪১) তাদের জন্য রয়েছে জ্ঞাত রিযিক, ২২ 
﴿ فَوَاكِهُ‌ۚ وَهُمۡ مُّكۡرَمُوۡنَۙ‏﴾
৪২) সব রকমের  
﴿ فِىۡ جَنّٰتِ النَّعِيۡمِۙ﴾
৪৩) সুস্বাদু জিনিস ২৩ এবং নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত, যেখানে তাদেরকে মর্যাদা সহকারে রাখা হবে৷  
﴿ عَلٰى سُرُرٍ مُّتَقٰبِلِيۡنَ‏﴾
৪৪) বসবে তারা আসনে মুখোমুখি৷  
﴿ يُطَافُ عَلَيۡهِمۡ بِكَاۡسٍ مِّنۡ مَّعِيۡنٍۙ‏﴾
৪৫) শরাবের ২৪ ঝরণা ২৫ থেকে পানপাত্র ভরে ভরে তাদেরকে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে৷ ২৬ 
﴿ بَيۡضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشّٰرِبِيۡنَ‌ ۖ‌ۚ‏﴾
৪৬) উজ্জ্বল শরাব, পানকারীদের জন্য হবে সুস্বাদু৷  
﴿ لَا فِيۡهَا غَوۡلٌ وَّلَا هُمۡ عَنۡهَا يُنۡزَفُوۡنَ‏﴾
৪৭) তা তাদের কোন শারীরিক ক্ষতি করবে না এবং তাতে তাদের বুদ্ধিও ভ্রষ্ট হবে না৷ ২৭ 
﴿ وَعِنۡدَهُمۡ قٰصِرٰتُ الطَّرۡفِ عِيۡنٌۙ‏﴾
৪৮) আর তাদের কাছে থাকবে আনত নয়না ২৮ সুলোচনা নারীগণ, ২৯ 
﴿ كَاَنَّهُنَّ بَيۡضٌ مَّكۡنُوۡنٌ﴾
৪৯) এমন নাজুক যেমন হয় ডিমের খোসার নিচে লুকানো ঝিল্লি৷ ৩০ 
﴿ فَاَقۡبَلَ بَعۡضُهُمۡ عَلٰى بَعۡضٍ يَّتَسَآءَلُوۡنَ﴾
৫০) তারপর তারা একজন অন্যজনের দিকে ফিরে অবস্থা জিজ্ঞেস করবে৷  
﴿ قَالَ قَآٮِٕلٌ مِّنۡهُمۡ اِنِّىۡ كَانَ لِىۡ قَرِيۡنٌۙ﴾
৫১) তাদের একজন বলবে, “দুনিয়ায় আমার ছিল এক সংগী  
﴿ يَقُوۡلُ اَءِنَّكَ لَمِنَ الۡمُصَدِّقِيۡنَ﴾
৫২) সে আমাকে বলতো, তুমিও কি সত্য বলে মেনে নেবার দলে? ৩১ 
﴿ءَاِذَا مِتۡنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا اَءِنَّا لَمَدِيۡنُوۡنَ﴾
৫৩) যখন আমরা মরে যাবো, মাটির সাথে মিশে যাবো এবং অস্থি পিঞ্জরই থেকে যাবে তখন সত্যিই কি আমাদের শাস্তি ও পুরস্কার দেয়া হবে?  
﴿قَالَ هَلۡ اَنۡتُمۡ مُّطَّلِعُوۡنَ‏﴾
৫৪) তোমরা কি দেখতে চাও সে এখন কোথায় আছে ?”  
﴿ فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِىۡ سَوَآءِ الۡجَحِيۡمِ‏﴾
৫৫) এ বলে যেমনি সে নিচের দিকে ঝুঁকবে তখনই দেখবে তাকে জাহান্নামের অতল গভীরে৷  
﴿ قَالَ تَاللّٰهِ اِنۡ كِدتَّ لَتُرۡدِيۡنِۙ﴾
৫৬) এবং তাকে সম্বোধন করে বলতে থাকবে, “আল্লাহর কসম, তুই তো আমাকে ধ্বংসই করে দিতে চাচ্ছিলি৷  
﴿ وَلَوۡلَا نِعۡمَةُ رَبِّىۡ لَكُنۡتُ مِنَ الۡمُحۡضَرِيۡنَ‏﴾
৫৭) আমার রবের মেহেরবাণী না হলে আজ আমিও যারা পাকড়াও হয়ে এসেছে তাদের অন্তরভুক্ত হতাম৷ ৩২ 
﴿ اَفَمَا نَحۡنُ بِمَيِّتِيۡنَۙ‏﴾
৫৮) আচ্ছা, তাহলে কি এখন আমরা আর মরবো না?  
﴿ اِلَّا مَوۡتَتَنَا الۡاُوۡلٰى وَمَا نَحۡنُ بِمُعَذَّبِيۡنَ‏﴾
৫৯) আমাদের যে মৃত্যু হবার ছিল তা প্রথমে হয়ে গেছে ? এখন আমাদের কোন শাস্তি হবে না?” ৩৩ 
﴿ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِيۡمُ﴾
৬০) নিশ্চিতভাবেই এটিই মহান সাফল্য৷  
﴿ لِمِثۡلِ هٰذَا فَلۡيَعۡمَلِ الۡعٰمِلُوۡنَ﴾
৬১) এ ধরনের সাফল্যের জন্যই কাজ করতে হবে তাদের যারা কাজ করে৷  
﴿اَذٰلِكَ خَيۡرٌ نُّزُلاً اَمۡ شَجَرَةُ الزَّقُّوۡمِ﴾
৬২) বলো, এ ভোজ ভালো, না যাক্কুম গাছ? ৩৪ 
﴿ اِنَّا جَعَلۡنٰهَا فِتۡنَةً لِّلظّٰلِمِيۡنَ‏﴾
৬৩) আমি এ গাছটিকে জালেমদের জন্য ফিতনায় পরিণত করে দিয়েছি৷ ৩৫ 
﴿ اِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخۡرُجُ فِىۡۤ اَصۡلِ الۡجَحِيۡمِۙ‏﴾
৬৪) সেটি একটি গাছ, যা বের হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে৷  
﴿ طَلۡعُهَا كَاَنَّهٗ رُءُوۡسُ الشَّيٰطِيۡنِ﴾
৬৫) তার ফুলের কলিগুলো যেন শয়তানদের মুণ্ডু৷ ৩৬ 
﴿ فَاِنَّهُمۡ لَاَكِلُوۡنَ مِنۡهَا فَمٰلِئُوۡنَ مِنۡهَا الۡبُطُوۡنَؕ‏﴾
৬৬) জাহান্নামের অধিবাসীরা তা খাবে এবং তা নিয়ে পেট ভরবে৷  
﴿ ثُمَّ اِنَّ لَهُمۡ عَلَيۡهَا لَشَوۡبًا مِّنۡ حَمِيۡمٍ‌ۚ‏﴾
৬৭) তারপর পান করার জন্য তারা পাবে ফুটন্ত পানি৷  
﴿ ثُمَّ اِنَّ مَرۡجِعَهُمۡ لَاِ۟لَى الۡجَحِيۡمِ﴾
৬৮) আর এরপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে৷ এ অগ্নিময় দোজখের দিকে৷৩৭ 
﴿اِنَّهُمۡ اَلۡفَوۡا اٰبَآءَهُمۡ ضَآلِّيۡنَۙ﴾
৬৯) এরা এমনসব লোক যারা নিজেদের বাপ-দাদাদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছে৷  
﴿ فَهُمۡ عَلٰٓى اٰثٰرِهِمۡ يُهۡرَعُوۡنَ‏﴾
৭০) এবং তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে ছুটে চলেছে৷৩৮ 
﴿ وَلَقَدۡ ضَلَّ قَبۡلَهُمۡ اَكۡثَرُ الۡاَوَّلِيۡنَۙ﴾
৭১) অথচ তাদের পূর্বে বহু লোক পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছিল৷  
﴿ وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا فِيۡهِمۡ مُّنۡذِرِيۡنَ‏﴾
৭২) এবং তাদের মধ্যে আমি সতর্ককারী রসূল পাঠিয়েছিলাম৷  
﴿ فَانْظُرۡ كَيۡفَ كَانَ عَاقِبَةُ الۡمُنۡذَرِيۡنَۙ‏﴾
৭৩) এখন দেখো সে সতর্ককৃত লোকদের কি পরিণাম হয়েছিল৷  
﴿اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ﴾
৭৪) এ অশুভ পরিণতির হাত থেকে কেবলমাত্র আল্লাহর সে বান্দারাই রেহাই পেয়েছে যাদেরকে তিনি নিজের জন্য স্বতন্ত্র করে নিয়েছেন৷  
﴿ وَلَقَدۡ نَادٰٮنَا نُوۡحٌ فَلَنِعۡمَ الۡمُجِيۡبُوۡنَ﴾
৭৫) (ইতিপূর্বে) ৩৮ নূহ আমাকে ডেকেছিল, ৪০ তাহলে দেখো, আমি ছিলাম কত ভালো জওয়াবদাতা৷  
﴿ وَنَجَّيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗ مِنَ الۡكَرۡبِ الۡعَظِيۡمِ﴾
৭৬) আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে উদ্ধার করি ভয়াবহ যন্ত্রণা থেকে, ৪১৪১ 
﴿ وَجَعَلۡنَا ذُرِّيَّتَهٗ هُمُ الۡبَاقِيۡنَ﴾
৭৭) শুধু তার বংশধরদেরকেই টিকিয়ে রাখি ৪২ 
﴿ وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِىۡ الۡاٰخِرِيۡنَ‌ۖ‏﴾
৭৮) এবং পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে তারই প্রশংসা ছেড়ে দেই ৷  
﴿ سَلٰمٌ عَلٰى نُوۡحٍ فِىۡ الۡعٰلَمِيۡنَ﴾
৭৯) সমগ্র বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক৷ ৪৩ 
﴿ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏﴾
৮০) সৎকর্মশীলদেরকে আমি এমনই প্রতিদান দিয়ে থাকি৷  
﴿ اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
৮১) আসলে সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তরভূক্ত৷  
﴿ ثُمَّ اَغۡرَقۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَ‏﴾
৮২) তারপর অন্যদলেকে আমি ডুবিয়ে দেই৷  
﴿ وَاِنَّ مِنۡ شِيۡعَتِهٖ لَاِبۡرٰهِيۡمَ‌ۘ‏﴾
৮৩) আর নূহের পথের অনুসারী ছিল ইবরাহীম৷  
﴿ اِذۡ جَآءَ رَبَّهٗ بِقَلۡبٍ سَلِيۡمٍ﴾
৮৪) যখন সে তার রবের সামনে হাজির হয় “বিশুদ্ধ চিত্ত” নিয়ে৷ ৪৪ 
﴿ اِذۡ قَالَ لِاَبِيۡهِ وَقَوۡمِهٖ مَاذَا تَعۡبُدُوۡنَ﴾
৮৫) যখন বলে সে তার পিতা ও তার জাতিকে ৪৫ “এগুলো কি জিনিস যার ইবাদাত তোমরা করছো?  
﴿ اَٮِٕفۡكًا اٰلِهَةً دُوۡنَ اللّٰهِ تُرِيۡدُوۡنَ﴾
৮৬) আল্লাহকে বাদ দিয়ে কি তোমরা মিথ্যা বানোয়াট মাবুদ চাও ?  
﴿ فَمَا ظَنُّكُمۡ بِرَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ﴾
৮৭) সমস্ত বিশ্ব-জগতের রব আল্লাহ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?” ৪৬ 
﴿ فَنَظَرَ نَظۡرَةً فِىۡ النُّجُوۡمِۙ﴾
৮৮) তারপর ৪৭ সে তারকাদের দিকে একবার তাকালো ৪৮ 
﴿فَقَالَ اِنِّىۡ سَقِيۡمٌ﴾
৮৯) এবং বললো, আমি অসুস্থ৷ ৪৯ 
﴿ فَتَوَلَّوۡا عَنۡهُ مُدۡبِرِيۡنَ﴾
৯০) কাজেই তারা তাকে ত্যাগ করে চলে গেলো৷৫০ 
﴿ فَرَاغَ اِلٰٓى اٰلِهَتِهِمۡ فَقَالَ اَلَا تَاۡكُلُوۡنَ﴾
৯১) তাদের পেছনে সে চুপিচুপি তাদের দেবতাদের মন্দিরে ঢুকে পড়লো এবং বললো, “আপনারা খাচ্ছেন না কেন?”৫১ 
﴿ مَا لَكُمۡ لَا تَنۡطِقُوۡنَ﴾
৯২) কি হলো আপনাদের, কথা বলছেন না কেন ?”  
﴿ فَرَاغَ عَلَيۡهِمۡ ضَرۡبًۢا بِالۡيَمِيۡنِ‏﴾
৯৩) এরপর সে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো এবং ডান হাত দিয়ে খুব আঘাত করলো৷  
﴿ فَاَقۡبَلُوۡۤا اِلَيۡهِ يَزِفُّوۡنَ﴾
৯৪) (ফিরে এসে) তারা দৌড়ে তার কাছে এলো৷৫২ 
﴿ قَالَ اَتَعۡبُدُوۡنَ مَا تَنۡحِتُوۡنَۙ﴾
৯৫) সে বললো, “তোমরা কি নিজেদেরই খোদাই করা জিনিসের পূজা করো?  
﴿ وَاللّٰهُ خَلَقَكُمۡ وَمَا تَعۡمَلُوۡنَ﴾
৯৬) অথচ আল্লাহই তোমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যে জিনিসগুলো তৈরি করো তাদেরকেও৷”  
﴿قَالُوۡا ابۡنُوۡا لَهٗ بُنۡيَانًا فَاَلۡقُوۡهُ فِىۡ الۡجَحِيۡمِ﴾
৯৭) তারা পরস্পর বললো, “এর জন্য একটি অগ্নিকুণ্ডু তৈরি করো এবং একে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে দাও৷”  
﴿ فَاَرَادُوۡا بِهٖ كَيۡدًا فَجَعَلۡنٰهُمُ الۡاَسۡفَلِيۡنَ‏﴾
৯৮) তারা তার বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছিল কিন্তু আমি তাদেরকে হেয়প্রতিপন্ন করেছি৷ ৫৩ 
﴿ وَقَالَ اِنِّىۡ ذَاهِبٌ اِلٰى رَبِّىۡ سَيَهۡدِيۡنِ‏﴾
৯৯) ইবরাহীম বললো, ৫৪ “আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, ৫৫ তিনিই আমাকে পথ দেখাবেন৷  
﴿ رَبِّ هَبۡ لِىۡ مِنَ الصّٰلِحِيۡنَ﴾
১০০) হে পরওয়ারদিগার! আমাকে একটি সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দাও৷”৫৬ 
﴿ فَبَشَّرۡنٰهُ بِغُلٰمٍ حَلِيۡمٍ‏﴾
১০১) (এ দোয়ার জবাবে) আমি তাকে একটি ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম৷ ৫৭ 
﴿ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعۡىَ قَالَ يٰبُنَىَّ اِنِّىۡۤ اَرٰى فِىۡ الۡمَنَامِ اَنِّىۡۤ اَذۡبَحُكَ فَانْظُرۡ مَاذَا تَرٰى‌ؕ قَالَ يٰۤاَبَتِ افۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُ‌ سَتَجِدُنِىۡۤ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ مِنَ الصّٰبِرِيۡنَ﴾
১০২) সে পুত্র যখন তার সাথে কাজকর্ম করার বয়সে পৌঁছুলো তখন (একদিন ইবরাহীম তাকে বললো, “ হে পুত্র! আমি স্বপ্নে দেখি তোমাকে আমি যাবেহ করছি, ৫৮ এখন তুমি বল তুমি কি মনে কর?” ৫৯ সে বললো, “ হে আব্বাজান! আপনাকে যা হুকুম দেয়া হচ্ছে ৬০ তা করে ফেলুন, আপনি আমাকে ইনশাআল্লাহ সবরকারীই পাবেন৷”  
﴿ فَلَمَّاۤ اَسۡلَمَا وَتَلَّهٗ لِلۡجَبِيۡنِ‌ۚ‏﴾
১০৩) শেষ পর্যন্ত যখন এরা দু’জন আনুগত্যের শির নত করে দিল এবং ইবরাহীম পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল৷ ৬১ 
﴿ وَنَادَيۡنٰهُ اَنۡ يّٰۤاِبۡرٰهِيۡمُۙ﴾
১০৪) এবং আমি আওয়াজ দিলাম, ৬২ “ হে ইবরাহীম!  
﴿ قَدۡ صَدَّقۡتَ الرُّءۡيَآ‌ ‌ۚ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏﴾
১০৫) তুমি স্বপ্নকে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছো৷ ৬৩ আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷ ৬৪ 
﴿ اِنَّ هٰذَا لَهُوَ الۡبَلٰٓؤُا الۡمُبِيۡنُ‏﴾
১০৬) নিশ্চিতভাবেই এটি ছিল একটি প্রকাশ পরীক্ষা৷” ৬৫ 
﴿وَفَدَيۡنٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِيۡمٍ‏﴾
১০৭) একটি বড় কুরবানীর বিনিময়ে আমি এ শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিলাম ৬৬ 
﴿ وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِىۡ الۡاٰخِرِيۡنَ﴾
১০৮) এবং পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে চিরকালের জন্য তার প্রশংসা রেখে দিলাম৷  
﴿ سَلٰمٌ عَلٰٓى اِبۡرٰهِيۡمَ﴾
১০৯) শান্তি বর্ষিত হোক ইবরাহীমের প্রতি৷  
﴿ كَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏﴾
১১০) আমি সৎকর্মকারীদেরকে এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি৷  
﴿ اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
১১১) নিশ্চিতভাবেই সে ছিল আমার মুসলিম বান্দাদের অন্তরভুক্ত৷  
﴿وَبَشَّرۡنٰهُ بِاِسۡحٰقَ نَبِيًّا مِّنَ الصّٰلِحِيۡنَ﴾
১১২) আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিলাম, সে ছিল সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে একজন নবী৷  
﴿ وَبٰرَكۡنَا عَلَيۡهِ وَعَلٰٓى اِسۡحٰقَ‌ؕ وَمِنۡ ذُرِّيَّتِهِمَا مُحۡسِنٌ وَّظَالِمٌ لِّنَفۡسِهٖ مُبِيۡنٌ‏﴾
১১৩) বরকত দিলাম তাকে ও ইসহাককে, ৬৭ এখন এ দু’জনের বংশধরদের মধ্য থেকে কতক সৎকর্মকারী আবার কতক নিজেদের প্রতি সুস্পষ্ট জুলুমকারী৷ ৬৮ 
﴿وَلَقَدۡ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَ﴾
১১৪) আমি অনুগ্রহ করেছি মূসা ও হারূনের প্রতি৷  
﴿ وَنَجَّيۡنٰهُمَا وَقَوۡمَهُمَا مِنَ الۡكَرۡبِ الۡعَظِيۡمِ﴾
১১৫) তাদের উভয়কে ও তাদের জাতিকে উদ্ধার করেছি মহাক্লেশ থেকে৷ ৬৯ 
﴿ وَنَصَرۡنٰهُمۡ فَكَانُوۡا هُمُ الۡغٰلِبِيۡنَ‌ۚ‏﴾
১১৬) তাদেরকে সাহায্য করেছি, যার ফলে তারাই বিজয়ী হয়েছে৷  
﴿ وَاٰتَيۡنٰهُمَا الۡكِتٰبَ الۡمُسۡتَبِيۡنَ‌ۚ‏﴾
১১৭) তাদের উভয়কে অত্যন্ত সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছি৷  
﴿ وَهَدَيۡنٰهُمَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَ‌ۚ‏﴾
১১৮) উভয়কে সঠিক পথ দেখিয়েছি  
﴿ وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِمَا فِىۡ الۡاٰخِرِيۡنَۙ‏﴾
১১৯) এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে তাদের উভয়ের সম্পর্কে সুখ্যাতি অক্ষুণ্ন রেখেছি৷  
﴿ سَلٰمٌ عَلَىٰ مُوۡسٰى وَهٰرُوۡنَ﴾
১২০) মুসা ও হারূদের প্রতি সালাম৷  
﴿ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏﴾
১২১) সৎকর্মশীলদের আমি অনুরূপ প্রতিদানই দিয়ে থাকি৷  
﴿ اِنَّهُمَا مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
১২২) আসলে তারা আমার মু’মিন বান্দাদের অন্তরভুক্ত ছিল৷  
﴿ وَاِنَّ اِلۡيَاسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ‏﴾
১২৩) আর ইলিয়াসও অবশ্যই রসূলদের একজন ছিল৷ ৭০ 
﴿ اِذۡ قَالَ لِقَوۡمِهٖۤ اَلَا تَتَّقُوۡنَ﴾
১২৪) স্মরণ করো যখন সে তার জাতিকে বলেছিল, “তোমরা ভয় করো না ?  
﴿ اَتَدۡعُوۡنَ بَعۡلاً وَّتَذَرُوۡنَ اَحۡسَنَ الۡخٰلِقِيۡنَۙ‏﴾
১২৫) তোমরা কি বা’আলকে ৭১ ডাকো এবং পরিত্যাগ করো শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহকে,  
﴿اللّٰهَ رَبَّكُمۡ وَرَبَّ اٰبَآٮِٕكُمُ الۡاَوَّلِيۡنَ﴾
১২৬) যিনি তোমাদের ও তোমাদের আগের পেছনের বাপ-দাদাদের রব?”  
﴿ فَكَذَّبُوۡهُ فَاِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَۙ‏﴾
১২৭) কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যা আরোপ করলো কাজেই এখন নিশ্চিতভাবেই তাদেরকে শাস্তির জন্য পেশ করা হবে,  
﴿ اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ﴾
১২৮) তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া৷ ৭২ 
﴿ وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِىۡ الۡاٰخِرِيۡنَۙ﴾
১২৯) আর ইলিয়াসের সম্পর্কে সুখ্যাতি আমি পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে অব্যাহত রেখেছি৷ ৭৩ 
﴿ سَلٰمٌ عَلٰٓى اِلۡ يَاسِيۡنَ﴾
১৩০) ইলিয়াসের প্রতি সালাম৷ ৭৪ 
﴿ اِنَّا كَذٰلِكَ نَجۡزِىۡ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏﴾
১৩১) সৎকর্মশীলদের আমি অনুরূপ প্রতিদানই দিয়ে থাকি৷  
﴿ اِنَّهٗ مِنۡ عِبَادِنَا الۡمُؤۡمِنِيۡنَ‏﴾
১৩২) যথার্থই সে আমার মু’মিন বান্দাদের একজন ছিল৷  
﴿ وَاِنَّ لُوۡطًا لَّمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ‏﴾
১৩৩) আর লূতও তাদের একজন ছিল যাদেরকে রসূল বানিয়ে পাঠানো হয়৷  
﴿ اِذۡ نَجَّيۡنٰهُ وَاَهۡلَهٗۤ اَجۡمَعِيۡنَۙ‏﴾
১৩৪) স্মরণ করো যখন আমি তাকে এবং তার পরিবারের সকলকে উদ্ধার করি,  
﴿ اِلَّا عَجُوۡزًا فِىۡ الۡغٰبِرِيۡنَ﴾
১৩৫) এক বুড়ি ছাড়া যে পেছনে অবস্থানকারীদের অন্তরভূক্ত ছিল৷ ৭৫ 
﴿ ثُمَّ دَمَّرۡنَا الۡاٰخَرِيۡنَ﴾
১৩৬) তারপর বাকি সবাইকে ধ্বংস করে দেই৷  
﴿ وَاِنَّكُمۡ لَتَمُرُّوۡنَ عَلَيۡهِمۡ مُّصۡبِحِيۡنَۙ‏﴾
১৩৭) এখন তোমরা দিনরাত তাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা  
﴿ وَبِالَّيۡلِ‌ؕ اَفَلَا تَعۡقِلُوۡنَ‏﴾
১৩৮) অতিক্রম করে যাও৷ ৭৬ তোমরা কি বোঝ না?  
﴿ وَاِنَّ يُوۡنُسَ لَمِنَ الۡمُرۡسَلِيۡنَؕ‏﴾
১৩৯) আর অবশ্যই ইউনুস রসূলদের একজন ছিল৷ ৭৭ 
﴿ اِذۡ اَبَقَ اِلَى الۡفُلۡكِ الۡمَشۡحُوۡنِۙ﴾
১৪০) স্মরণ করো যখন সে একটি বোঝাই নৌকার দিকে পালিয়ে গেলো, ৭৮ 
﴿ فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الۡمُدۡحَضِيۡنَ﴾
১৪১) তারপর লটারীতে অংশগ্রহণ করলো, এবং তাতে হেরে গেলো৷  
﴿ فَالۡتَقَمَهُ الۡحُوۡتُ وَهُوَ مُلِيۡمٌ‏﴾
১৪২) শেষ পর্যন্ত মাছ তাকে গিলে ফেললা এবং সে ছিল ধিকৃত৷৭৯ 
﴿ فَلَوۡلَاۤ اَنَّهٗ كَانَ مِنَ الۡمُسَبِّحِيۡنَۙ﴾
১৪৩) এখন যদি সে তাস্‌বীহকারীদের অন্তরভুক্ত না হতো, ৮০ 
﴿ لَلَبِثَ فِىۡ بَطۡنِهٖۤ اِلٰى يَوۡمِ يُبۡعَثُوۡنَ‌ۚ‏﴾
১৪৪) তাহলে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এ মাছের পেটে থাকতো৷ ৮১ 
﴿ ‌فَنَبَذۡنٰهُ بِالۡعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيۡمٌ‌ۚ‏﴾
১৪৫) শেষ পর্যন্ত আমি তাকে বড়ই রুগ্ন অবস্থায় একটি তৃণলতাহীণ বিরান প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম৮২ 
﴿ وَاَنۡۢبَتۡنَا عَلَيۡهِ شَجَرَةً مِّنۡ يَّقۡطِيۡنٍ‌ۚ‏﴾
১৪৬) এবং তার ওপর একটি লতানো গাছ উৎপন্ন করলাম৷ ৮৩ 
﴿ وَاَرۡسَلۡنٰهُ اِلٰى مِائَةِ اَلۡفٍ اَوۡ يَزِيۡدُوۡنَ‌ۚ‏﴾
১৪৭) এরপর আমি তাকে এক লাখ বা এরচেয়ে বেশী লোকাদের কাছে পাঠালাম৷ ৮৪ 
﴿فَاٰمَنُوۡا فَمَتَّعۡنٰهُمۡ اِلٰى حِيۡنٍ﴾
১৪৮) তারা ঈমান আনলো এবং আমি একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত তাদেরকে টিকিয়ে রাখলাম৷ ৮৫ 
﴿ فَاسۡتَفۡتِهِمۡ اَلِرَبِّكَ الۡبَنٰتُ وَلَهُمُ الۡبَنُوۡنَۙ‏﴾
১৪৯) তারপর তাদেরকে একটু জিজ্ঞেস করো, ৮৬ (তাদের মন কি একথায় সায় দেয় যে,) তোমাদের রবের জন্য তো হচ্ছে কন্যারা এবং তাদের জন্য পুত্ররা? ৮৭ 
﴿ اَمۡ خَلَقۡنَا الۡمَلٰٓٮِٕكَةَ اِنَاثًا وَّهُمۡ شٰهِدُوۡنَ﴾
১৫০) সত্যই কি আমি ফেরেশ্‌তাদেরকে মেয়ে হিসেবে সৃষ্টি করেছি এবং তারা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করে একথা বলছে ?  
﴿اَلَاۤ اِنَّهُمۡ مِّنۡ اِفۡكِهِمۡ لَيَقُوۡلُوۡنَۙ﴾
১৫১) ভালো করেই শুনে রাখো, আসলে তারা তো মনগড়া কথা বলে যে,  
﴿ وَلَدَ اللّٰهُۙ وَاِنَّهُمۡ لَكٰذِبُوۡنَ‏﴾
১৫২) আল্লাহর সন্তান আছে এবং যথার্থই তারা মিথ্যাবাদী৷  
﴿ اَصۡطَفَى الۡبَنَاتِ عَلَى الۡبَنِيۡنَ﴾
১৫৩) আল্লাহ কি নিজের জন্য পুত্রের পরিবর্তে কন্যা পছন্দ করেছেন?  
﴿ مَا لَكُمۡ كَيۡفَ تَحۡكُمُوۡنَ﴾
১৫৪) তোমাদের কি হয়ে গেছে, কিভাবে ফায়সালা করছো?  
﴿ اَفَلَا تَذَكَّرُوۡنَ﴾
১৫৫) তোমরা কি সচেতন হবে না ?  
﴿ اَمۡ لَكُمۡ سُلۡطٰنٌ مُّبِيۡنٌۙ‏﴾
১৫৬) অথবা তোমাদের কাছে তোমাদের এসব কথার স্বপক্ষে কোন পরিষ্কা প্রমাণপত্র আছে ?  
﴿ فَاۡتُوۡا بِكِتٰبِكُمۡ اِنۡ كُنۡتُمۡ صٰدِقِيۡنَ‏﴾
১৫৭) তাহলে আনো তোমাদের সে কিতাব, যদি তোমরা সত্যবাদী হও৷ ৮৮ 
﴿ وَجَعَلُوۡا بَيۡنَهٗ وَبَيۡنَ الۡجِنَّةِ نَسَبًا‌ وَلَقَدۡ عَلِمَتِ الۡجِنَّةُ اِنَّهُمۡ لَمُحۡضَرُوۡنَۙ‏﴾
১৫৮) তারা আল্লাহ ও ফেরেশ্‌তাদের ৮৯ মধ্যে আত্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছে৷ অথচ ফেরেশ্‌তারা ভালো করেই জানে তাদেরকে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত করা হবে৷  
﴿ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يَصِفُوۡنَۙ﴾
১৫৯) (এবং তারা বলে,) “আল্লাহ সেসব দোষ থেকে মুক্ত  
﴿ اِلَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ﴾
১৬০) যেগুলো তাঁর একনিষ্ঠ বান্দারা ছাড়া অন্যেরা তাঁর ওপর আরোপ করে৷  
﴿ فَاِنَّكُمۡ وَمَا تَعۡبُدُوۡنَۙ‏﴾
১৬১) কাজেই তোমরা ও তোমাদের এ উপাস্যরা  
﴿ مَاۤ اَنۡتُمۡ عَلَيۡهِ بِفٰتِنِيۡنَۙ﴾
১৬২) কাউকে আল্লাহ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারবে না,  
﴿ اِلَّا مَنۡ هُوَ صَالِ الۡجَحِيۡمِ‏﴾
১৬৩) সে ব্যক্তিকে ছাড়া যে জাহান্নামের প্রজ্জ্বীলত আগুনে প্রবেশকারী হবে৷ ৯০ 
﴿ وَمَا مِنَّاۤ اِلَّا لَهٗ مَقَامٌ مَّعۡلُوۡمٌۙ‏﴾
১৬৪) আর আমাদের অবস্থা তো হচ্ছে এই যে, আমাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকের একটি স্থান নির্ধারিত রয়েছে৷ ৯১ 
﴿ وَّاِنَّا لَنَحۡنُ الصَّآفُّوۡنَ﴾
১৬৫) এবং আমরা সারিবদ্ধ  
﴿ وَاِنَّا لَنَحۡنُ الۡمُسَبِّحُوۡنَ‏﴾
১৬৬) খাদেম ও তাসবীহ পাঠকারী৷”  
﴿ وَاِنۡ كَانُوۡا لَيَقُوۡلُوۡنَۙ﴾
১৬৭) তারা তো আগে বলে বেড়াতো,  
﴿ لَوۡ اَنَّ عِنۡدَنَا ذِكۡرًا مِّنَ الۡاَوَّلِيۡنَۙ‏﴾
১৬৮) হায়! পূর্ববর্তী জাতিরা যে “যিকির” লাভ করেছিল তা যদি আমাদের কাছে থাকতো  
﴿ لَكُنَّا عِبَادَ اللّٰهِ الۡمُخۡلَصِيۡنَ﴾
১৬৯) তাহলে আমরা হতাম আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা৷ ৯২ 
﴿فَكَفَرُوۡا بِهٖ‌ فَسَوۡفَ يَعۡلَمُوۡنَ﴾
১৭০) কিন্তু (যখন সে এসে গেছে) তখন তারা তাকে অস্বীকার করেছে৷ এখন শিগ্‌গির তারা (তাদের এ নীতির ফল) জানতে পারবে৷  
﴿وَلَقَدۡ سَبَقَتۡ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الۡمُرۡسَلِيۡنَ ﴾
১৭১) আমার প্রেরিত বান্দাদেরকে আমি আগেই, প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করা হবে৷  
﴿ اِنَّهُمۡ لَهُمُ الۡمَنۡصُوۡرُوۡنَ﴾
১৭২) অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করা হবে৷  
﴿ وَاِنَّ جُنۡدَنَا لَهُمُ الۡغٰلِبُوۡنَ‏﴾
১৭৩) এবং আমার সেনাদলই বিজয়ী হবে৷ ৯৩ 
﴿ فَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتّٰى حِيۡنٍۙ﴾
১৭৪) কাজেই হে নবী! কিছু সময় পর্যন্ত তাদেরকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দাও৷  
﴿وَاَبۡصِرۡهُمۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُوۡنَ‏﴾
১৭৫) এবং দেখতে থাকো, শীঘ্রই তারা নিজেরাও দেখে নেবে৷ ৯৪ 
﴿ اَفَبِعَذَابِنَا يَسۡتَعۡجِلُوۡنَ‏﴾
১৭৬) তারা কি আমার আযাবের জন্য তাড়াহুড়া করছে ?  
﴿ فَاِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمۡ فَسَآءَ صَبَاحُ الۡمُنۡذَرِيۡنَ‏﴾
১৭৭) যখন তা নেমে আসবে তাদের আঙিনায়, সেদিনটি হবে যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্য বড়ই অশুভ৷  
﴿ وَتَوَلَّ عَنۡهُمۡ حَتّٰى حِيۡنٍۙ﴾
১৭৮) ব্যস, তাদেরকে কিছুকালের জন্য ছেড়ে দাও৷  
﴿ وَّاَبۡصِرۡ فَسَوۡفَ يُبۡصِرُوۡنَ﴾
১৭৯) এবং দেখতে থাকো, শিগ্‌গির তারা নিজেরাও দেখে নেবে৷  
﴿ سُبۡحٰنَ رَبِّكَ رَبِّ الۡعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوۡنَ﴾
১৮০) তারা যেসব কথা তৈরি করছে তা থেকে পাক-পবিত্র তোমার রব, তিনি মর্যাদার অধিকারী৷  
﴿ وَسَلٰمٌ عَلَى الۡمُرۡسَلِيۡنَ‌ۚ‏﴾
১৮১) আর সালাম প্রেরিতদের প্রতি  
﴿وَالۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَ﴾
১৮২) এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রব্বুল আলামীনেরই জন্য৷