সুনান আবু দাউদ হতে চয়িত "হাদীস সংকলন"
লিখেছেন .......................   
Sunday, 14 June 2009
بسم الله الرحمن الرحيم

সি হা হ্‌ সি ত্তা’ র অ ন্ত র্ভু ক্ত

সুনান আবু দাউদ

হা দী স গ্র ন্থ হ তে চ য়ি ত

কিতাবুত তাহারাত

১। হযরত আয়েশা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’য়ালার যিকিরে মশগুল থাকতেন। (হাদীস নং-১৮)।

২। মুআয ইবন জাবাল (রা•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিনটি অভিসম্পাতযোগ্য কাজ থেকে দূরে থাকঃ পানিতে থুথু ফেলা, যাতায়াতের পথে এবং ছায়াদার স্থানে মলত্যাগ করা। (হাদীস নং-২৬)।

৩। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যদি আমি মুমিনদের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম, তবে তাদেরকে এশার নামায বিলম্বে (রাত্রির এক-তৃতীয়াংশের পর) পড়তে ও প্রত্যেক নামাযের সময় মেসওয়াক করতে নির্দেশ দিতাম। (হাদীস নং-৪৬)।

৪। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ কুকুর যদি তোমাদের কারও পাত্রে লেহন করে খায় বা পান করে, তবে তা পাক করার নিয়ম এই যে, তা সাতবার পানি দ্বারা ধৌত করতে হবে, প্রথমবার মাটি দ্বারা ঘর্ষণ করতে হবে। (হাদীস নং-৭১)।

৫। ছাওবান (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তিনটি কাজ কারও জন্য বৈধ নয়। (১) যে ব্যক্তি কোন কাওমের ইমামতি করে এবং সে তাদেরকে বাদ দিয়ে কেবল নিজের জন্য দু’আ করে। যদি কেউ এরূপ করে তবে সে নিশ্চয়ই তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। (২) কেউ যেন পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে কোন ঘরের অভ্যন্তরে দৃষ্টি নিক্ষেপ না করে। যদি কেউ এরূপ করে, তবে যেন সে বিনানুমতিতে অন্যের ঘরে প্রবেশ করার মত অপরাধ করল। (৩) মলমূত্রের বেগ চেপে রেখে তা ত্যাগ না করার পূর্ব পর্যন্ত কেউ যেন নামায না পড়ে। (হাদীস নং-৯০)।

 

৬। আলী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ধর্মের মাপকাঠি যদি রায়ের (বিবেক-বিবেচনা) উপর নির্ভরশীল হত, তবে মোজার উপরের অংশে মাসেহ না করে নিম্নাংশে মাসেহ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হত। রাবী হযরত আলী (রা•) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা•) কে তাঁর মোজার উপরের অংশে মাসেহ করতে দেখেছি। (হাদীস নং-১৬২)

৭। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে থাকাকালীন যদি অনুভব করে যে, তার পশ্চাৎ- দ্বার দিয়ে কিছু নির্গত হয়েছে বা হয়নি এবং তা তার মনে সন্দেহের উদ্রেক করে- তবে তার নামায ত্যাগ করা উচিৎ নয়; যতক্ষণ না সে বায়ু নির্গমনের শব্দ শোনে অথবা দুর্গন্ধ অনুভব করে। (হাদীস নং-১৭৭)

৮। হযরত আলী (রা•) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ঘরে ছবি, কুকুর ও অপবিত্র লোক থাকে- সেখানে রহমতের ফেরেশতাগণ (নতুন রহমতসহ) প্রবেশ করেন না। (হাদীস নং-২২৭)

৯। আয়েশা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ফজরে নামায পড়তেন। তাঁকে আমি গোসলের পর আর নতুনভাবে উযু করতে দেখি নাই। (হাদীস নং-২৫০)

১০। আতা (রহ) থেকে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•)-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা দুই ব্যক্তি সফরে বের হয়। পথিমধ্যে নামাযের সময় উপনীত হওয়ায় তারা পানি না পাওয়ায় তায়াম্মুম করে নামায আদায় করে। অতঃপর উক্ত নামাযের সময়ের মধ্যে পানি প্রাপ্ত হওয়ায় তাদের একজন উযু করে পুনরায় নামায আদায় করল এবং অপর ব্যক্তি নামায আদায় করা হতে বিরত থাকে। অতঃপর উভয়েই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমতে হাযির হয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করল। (তিনি (সা•) বলেনঃ তোমাদের যে ব্যক্তি নামায পুনরায় আদায় করেনি সে সুন্নাত মোতাবেক কাজ করেছে এবং এটাই তার জন্য যথেষ্ট। আর যে ব্যক্তি উযু করে পুনরায় নামায আদায় করেছে তার সম্পর্কে বলেনঃ তুমি দ্বিগুণ ছওয়াবের অধিকারী হয়েছ। (হাদীস নং-৩৩৮)

১১। আওস ইবন আওস আছ- ছাকাফী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করাবে (জুমুআর নামাযের পূর্বে স্ত্রী সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা সুগন্ধিযুক্ত দ্রব্রাদি দ্বারা ভালরূপে গোসল করবে, অতঃপর সকাল-সকাল মসজিদে গিয়ে ইমামের নিকটবর্তী স্থানে বসে খুতবা শুনবে এবং যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় ক্রিয়াকর্ম হতে বিরত থাকবে তার মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ সুন্নাত হিসাবে পরিগণিত হবে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এক বছরের দিনের রোযা এবং রাতে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদের নামায আদায়ের ছওয়াবের সমতুল্য হবে। (হাদীস নং-৩৪৫)

কিতাবুস সালাত

১২। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন অত্যধিক গরম পড়বে তখন যুহরের নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা নিশ্চয়ই অত্যধিক গরম জাহান্নামের প্রচণ্ড তাপের অংশ বিশেষ। (হাদীস নং-৪০২)

১৩। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের নামাযের এক রাকাত আদায় করতে সক্ষম হয়েছে, সে যেন পুরা নামায (ওয়াক্তের মধ্যে) আদায় করল (এবং তা কাযা গণ্য হবে না)। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের নামাযের এক রাকাত আদায় করতে পারল সে যেন পুরা নামাযই (ওয়াক্ত থাকতেই) আদায় করল। (হাদীস নং-৪১২)

১৪। ইবন উমার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায হারাল (পড়ল না) সে যেন তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ সব থেকে বঞ্চিত হল। (হাদীস নং-৪১৪)

১৫। আসেম (রহ) থেকে মুআয ইবন জাবাল (রা)- র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা এশার নামায আদায়ের জন্য নবী করীম (সা•)-এর প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি সেদিন এত বিলম্ব করেন যে, ধারণাকারীর নিকট এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আদৌ বের হবেন না। আমাদের কেউ কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়ত তিনি ঘরেই নামায আদায় করেছেন। আমরা যখন এরূপ অবস্থায় ছিলাম, তখন নবী করীম (সা•) বের হলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম যা বলাবলি করছিলেন নবী করীম (সা•)- কে তাই বলেন। নবী করীম (সা•) বলেনঃ তোমরা এই নামায বিলম্বে আদায় করবে। কেননা এই নামাযের কারণেই অন্যান্য উম্মাতগণের উপরে তোমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। ইতিপূর্বে কোন নবীর উম্মাত এই নামায আদায় করেনি। (হাদীস নং-৪২১)

১৬। আবু কাতাদা ইবন রিবঈ (রা•) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন- নিশ্চিত আমি আপনার উম্মাতের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং আমি নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিঃ যে ব্যক্তি তা সঠিক ওয়াক্তসমূহে আদায় করবে- আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাব। আর যে ব্যক্তি তার হেফাজত করে না- তার জন্য আমার পক্ষ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। (হাদীস নং-৪৩০)

১৭। আবু যার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু যার! যখন শাসকগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে- তখন তুমি কি করবে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী নামায আদায় করবে। অতঃপর যদি তুমি ঐ ওয়াক্তের নামায তাদেরকে জামায়াতে আদায় করতে দেখ, তবে তুমিও তাদের সাথে জামায়াতে শামিল হবে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে। (হাদীস নং-৪৩১)

১৮। আনাস (রা•) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লোকেরা মসজিদে পরস্পরের মধ্যে (নির্মাণ ও কারুকার্য নিয়ে) গর্ব না করা পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবে না। (হাদীস নং-৪৪৯)

১৯। আয়েশা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং তা পবিত্র, সুগন্ধিযুক্ত ও পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন রাখারও নির্দেশ দেন। (হাদীস নং-৪৫৫)

২০। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আমার উম্মাতের কাজের বিনিময় (ছওয়াব) আমাকে দেখান হয়েছে- এমনকি মসজিদের সামান্য ময়লা পরিষ্কারকারীর ছওয়াবও। অপরপক্ষে আমার উম্মাতের গুনাহসমূহও আমাকে দেখান হয়েছে। নবী করীম (সা•) বলেনঃ আমি এ থেকে অধিক বড় কোন গুনাহ দেখিনি যে, কোন ব্যক্তি কুরআনের কোন আয়াত অথবা সুরা মুখস্ত করবার পর তা ভুলে গেছে। (হাদীস নং-৪৬১)

২১। আবু কাতাদ (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে পৌঁছে বসার পূর্বেই যেন দুই রাকাত (তাহিয়্যাতুল-মাসজিদ) নামায আদায় করে। (হাদীস নং-৪৬৭)

২২। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যতক্ষণ কোন বান্দা মসজিদে নামাযের জন্য অপেক্ষা করবে, ততক্ষণ সে নামাযী হিসেবে গণ্য হবে। ঐ ব্যক্তির উযু নষ্ট না হওয়া বা ঘরে প্রত্যাবর্তন না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা তার জন্য এইরূপ দু‘আ করতে থাকেঃ “ইয়া আল্লাহ! তাকে মাফ করে দাও! ইয়া আল্লাহ! তার উপর তোমার রহমত নাযিল কর।” আবু হুরায়রা (রা•)কে ‘হাদাছুন’-এর অর্থ জিজ্ঞেস করা হলে- তিনি বলেন, যদি পায়খানার রাস্তা দিয়ে আস্তে বায়ু নির্গত হয়। (হাদীস নং-৪৭১)

২৩। আবু হুরায়রা (রা•) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মসজিদের মধ্যে কাউকে চীৎকার করে হারানো জিনিস তালাশ করতে শুনে সে যেন বলে, আল্লাহ তোমাকে তোমার ঐ জিনিস ফিরিয়ে না দিন। কেননা মসজিদ এইজন্য নির্মাণ করা হয়নি। (হাদীস নং-৪৭৩)

২৪। আবদুল মালিক থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের সন্তানদের বয়স যখন সাত বছর হয়, তখন তাদেরকে নামায পড়ার নির্দেশ দাও এবং যখন তাদের বয়স দশ বছর হবে তখন নামায না পড়লে এজন্য তাদের শাস্তি দাও। (হাদীস নং-৪৯৪)

২৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ যখন তোমরা মুয়াযযিনকে আযান দিতে শুনবে তখন সে যেরূপ বলে- তোমরাও তদ্রুপ বলবে। অতঃপর তোমরা (আযান শেষে) আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে। কেননা যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার উপর দশটি রহমত নাযিল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা কর এবং ওসীলা হল জান্নাতের একটি বিশেষ স্থান। আল্লাহ তা’য়ালার একজন বিশিষ্ট বান্দা ঐ স্থানের অধিকারী হবে এবং আমি আশা করি আমিই সেই বান্দা। অতঃপর যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলার দু‘আ করবে তাঁর জন্য শাফাআত করা আমার উপর ওয়াজিব হবে। (হাদীস নং-৫২৩)

২৬। আবুদ-দারদা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যখন কোন গ্রামে বা বনজঙ্গলে তিনজন লোক একত্রিত হয় এবং জামায়াতে নামায আদায় না করে- তখন শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে। অতএব (তোমরা) অবশ্যই জামায়াতের সাথে নামায আদায় কর। কেননা দলচ্যুত বকরীকে নেকড়ে বাঘে ভক্ষণ করে থাকে। (হাদীস নং-৫৪৭)

২৭। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুআযযিনের আযান শুনে বিনা কারণে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামাআতে নামায আদায় করবে না তার অন্যত্র আদায়কৃত নামায আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না (অর্থাৎ তার নামাযকে পরিপূর্ণ নামায হিসেবে গণ্য করা হবে না)। সাহাবীরা ওজর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে রাসূলুল্লাহ (সা•) বলেনঃ যদি কেউ ভয়ভীতি ও অসুস্থতার কারণে জামায়াতে হাজির হতে অক্ষম হয় তবে তার জন্য বাড়ীতে নামায পড়া দুষনীয় নয়। (হাদীস নং-৫৫১)

২৮। উছমান ইবন আফফান (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি এশার নামায জামায়াতের সাথে আদায় করল সে যেন অর্ধরাত দাঁড়িয়ে ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি ফজর ও এরশাদ নামায জামায়াতে আদায় করল সে যেন সারা রাতব্যাপী ইবাদতে মশগুল থাকল। (হাদীস নং-৫৫৫)

২৯। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মসজিদ হতে যার অবস্থান (বাসস্থান) যতদূরে, সে তত অধিক ছওয়াবের অধিকারী। (হাদীস নং-৫৫৬) (ইবনে মাজা)।

৩০। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামায়াতের সাথে এক ওয়াক্তের নামায- একাকী পঁচিশ ওয়াক্ত নামায (আদায়ের) সমতুল্য। যখন কোন ব্যক্তি মাঠে বা বনভূমিতে সঠিকভাবে রুকু-সিজদা সহকারে নামায আদায় করবে, তখন সে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সমান ছওয়াব পাবে। (হাদীস নং-৫৬০)

৩১। বুরায়দা (রা•) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যারা অন্ধকার রজনীতে মসজিদে হাযির হয়ে জামায়াতে নামায আদায় করে- তাদেরকে কিয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও। (হাদীস নং-৫৬১)

৩২। আবু ছুমামা আল-হান্নাত হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মসজিদে গমনকালে কাব ইবন উজরা (রা•)-র সাথে পথিমধ্যে তাঁর সাক্ষাত হয়। রাবী বলেন, তখন আমি আমার হাতের অংগুলি মটকাচ্ছিলাম। তিনি আমাকে ঐরূপ করতে নিষেধ করে বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ উত্তমরূপে উযু করার পর মসজিদে গমনের ইচ্ছা করে, সে যেন তার হাতের অংগুলী না মটকায়। কেননা ঐ ব্যক্তিকে তখন নামাযী হিসেবে গণ্য করা হয়। (হাদীস নং-৫৬২)

৩৩। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে (জামায়াতের পর) একাকী নামায আদায় করতে দেখে বলেনঃ তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নাই কি- যে এই ব্যক্তিকে সদকা দিয়ে তার সাথে একত্রে নামায পড়তে পারে? (হাদীস নং-৫৭৪)

৩৪। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ তোমাদের মধ্যেকার উত্তম ব্যক্তি যেন আযান দেয় এবং বিশুদ্ধরূপে কুরআন পাঠকারী যেন তোমাদের ইমামতি করে। (হাদীস নং-৫৯০)

৩৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা তিন ব্যক্তির নামায কবুল করেন না। যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের ইমামতি করে, অথচ মুকতাদীরা তার উপর অসন্তুষ্ট। যে ব্যক্তি নামাযের সময় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নামায আদায় করে এবং যে ব্যক্তি স্বাধীন মহিলা অথবা পুরুষ লোককে ক্রীতদাসী বা দাস বানায়। (হাদীস নং-৫৯৩)

৩৬। আবু হুরায়রা (রা•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে কোন মুসলমান ইমামের পেছনে (জামায়াতের) ফরয নামাযসমূহ আদায় করা বাধ্যতামূলক- চাই সে (ইমাম) সৎ হোক অথবা অসৎ- এমনকি সে কবীরা গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে থাকলেও। (হাদীস নং-৫৯৪)

৩৭। হযরত জাবের ইবন আব্দুল্লাহ (রা•) হতে বর্ণিত। হযরত মুআয ইবন জাবাল (রা•) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এশার নামায আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ে ফিরে গিয়ে পুনরায় তাদের ঐ এশার নামাযে ইমামতি করতেন। (হাদীস নং-৫৯৯)

৩৮। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যখন ইমাম নামাযের শেষ পর্যায়ে তাশাহুদের পরিমাণ সময় বসার পর তার উযু নষ্ট হবে তিনি কোন কথা (সালাম) বলার পূর্বে- এমতাবস্থায় নামায আদায় হয়ে যাবে এবং মোক্তাদীদের নামাযও পূর্ণ হয়ে যাবে- যারা ইমামের সাথে পুরা নামায পেয়েছে। (হাদীস নং-৬১৭)

৩৯। ইবন মাসউদ (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নামাযের মধ্যে অহংকার করে স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র (লুংগি, জামা, পাজামা বা প্যান্ট গোছার নীচে পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে, ঐ ব্যক্তির ভাল বা মন্দের ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালার কোন দায়িত্ব নেই । (হাদীস নং-৬৩৫)

৪০। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কোন এক ব্যক্তি তার পাজামা (টাখনু গিরার নীচ পর্যন্ত) ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেনঃ তুমি যাও উযু করে আস! সে গিয়ে উযু করে ফিরে আসে। তিনি তাকে পুনরায় গিয়ে উযু করে আসার নির্দেশ দেন। সে পুনরায় উযু করে আসলে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তাকে (উযু থাকাবস্থায়) কেন পুনরায় উযু করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তি কাপড় ঝুলিয়ে নামায পড়ছিল এবং আল্লাহ তা’য়ালা এরূপ ব্যক্তিদের নামায আদৌ কবুল করেন না। (হাদীস নং-৬৩৬)

৪১। আয়েশা (রা•) থেকে বর্ণিত। নবীর করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারা ওড়না ছাড়া নামায আদায় করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। (হাদীস নং-৬৪১)

৪২। নুমান ইবন বশীর (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমবেত ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত হয়ে তিনবার বলেনঃ তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর। আল্লাহর শপথ! তোমরা কাতার সোজা করে দন্ডায়মান হবে, অন্যথায় আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করবেন। রাবী বলেন, অতঃপর আমি মুসল্লীদেরকে পরস্পর কাঁধে কাঁধ, পায়ে পা এবং গোড়ালির সাথে গোড়ালি মিলিয়ে দাঁড়াতে দেখেছি। (হাদীস নং-৬৬২)

৪৩। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ কাতারের ডানদিকের মুসল্লীদের উপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন। (হাদীস নং-৬৭৬)

৪৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে প্রথম কাতারে গিয়ে দাঁড়াতে দেরী করতে দেখে বলেনঃ তোমরা প্রথম কাতারে এসো এবং আমার অনুসরণ কর। অতঃপর পরবর্তী লোকেরাও তোমাদের অনুসরণ করবে। এক শ্রেণীর লোক সবসময় সামনের কাতার থেকে পেছনে থাকবে। মহান আল্লাহও তাদেরকে পেছনে ফেলে রাখবেন। (হাদীস নং-৬৮০)

৪৫। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ (কোন খোলা স্থানে) নামায আদায় করবে, তখন সে যেন সুতরা হিসাবে তার সামনে কিছু স্থাপন করে। যদি কিছু না পায় তবে সে যেন একটি লাঠি তার সামনে স্থাপন করে। যদি তার সাথে লাঠি না থাকে, তবে সে যেন তার সামনের মাটিতে দাগ টেনে নেয়। অতঃপর কেউ তার সম্মুখভাগ দিয়ে যাতায়াত করলে তার কোন ক্ষতি হবে না। (হাদীস নং-৬৮৯)

৪৬। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ নামাযে রত অবস্থায় তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে যথাসাধ্য বাধা দিবে। যদি সে বাধা উপেক্ষা করে তবে তার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। কারণ সে একটা শয়তান। (হাদীস নং-৬৯৭)

৪৭। সাঈদ ইবন গাযওয়ান থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে গমনকালে তাবূকে অবতরণ করেন। সেখানে তিনি এক খোঁড়া ব্যক্তিকে দেখতে পেয়ে তার কারণ জিজ্ঞেস করেন। ঐ ব্যক্তি বলে, আমি তোমার নিকট এমন একটি বিষয়ের অবতারণা করব যা অন্যের নিকট প্রকাশের যোগ্য নয়। অতঃপর সে বলে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূকে একটি খেজুর গাছের নিকট অবতরণের পর বলেনঃ এটা আমাদের জন্য কিবলা বা সুতরা স্বরূপ। অতঃপর তিনি সেদিকে মুখ করে নামায আদায় করেন। তখন আমার বয়স কম থাকায় আমি তাঁর ও খেজুর গাছের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে দৌড়িয়ে যাই। তখন নবী করীম (সা•) বলেনঃ সে আমাদের নামায নষ্ট করেছে, কাজেই আল্লাহ তার চলার শক্তি রহিত করুন। অতঃপর আমি আজ পর্যন্ত আর দাঁড়াতে সক্ষম হইনি। (হাদীস নং-৭০৭)

৪৮। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায়কালে একটি বকরীর বাচ্চা তাঁর সম্মুখ দিয়ে যেতে চাইলে তিনি তাকে বাধা দেন। (হাদীস নং-৭০৯)

৪৯। আবু সাঈদ (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কোন কিছু নামাযীর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার কারণে নামাযের কোন ক্ষতি হয় না, তবে তোমরা সাধ্যানুযায়ী এরূপ করতে বাধা দেবে। কেননা (নামাযীর সামনে দিয়ে) গমনকারী একটা শয়তান। (হাদীস নং-৭১৯)

৫০। মালিক ইবনুল হুয়ায়রিছ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় হাত উঠাতে দেখেছি। আমি তাঁকে রুকূতে গমনকালে এবং তা হতে উঠার সময় স্বীয় হস্তদ্বয় কানের উপরিভাগ পর্যন্ত উঠাতে দেখেছি। ( রাফউল ইয়াদাইন সম্পর্কে হাদীস) (হাদীস নং-৭৪৫)

৫১। আলকামা (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা•) বলেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায সম্পর্কে শিক্ষা দেব না? রাবী বলেন, অতঃপর তিনি নামায আদায়কালে মাত্র একবার হাত উত্তোলন করেন। ( রাফউল ইয়াদাইন না করা সম্পর্কে হাদীস) (হাদীস নং-৭৪৮)

৫২। আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফরয অথবা নফল নামাযের প্রথমে, মাঝে বা শেষে যে কোন সময়ে দু‘আ পাঠ করা যায়। (হাদীস নং-৭৬৯)

৫৩। আম্মার ইবন ইয়াসির (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ এমন অনেক লোক আছে যারা নামায পড়ে কিন্তু তাদের নামায পুরাপুরি কবুল না হওয়ায় পরিপূর্ণ ছওয়াব প্রাপ্ত হয় না। বরং তাদের কেউ ১০ ভাগের ১ ভাগ, ৯ ভাগের ১ ভাগ, ৮ ভাগের ১ ভাগ, ৭ ভাগের ১ ভাগ, ৬ ভাগের ১ ভাগ, ৫ ভাগের ১ ভাগ, ৪ ভাগের ১ ভাগ, তিনের- একাংশ বা অর্ধাংশ ছওয়াব প্রাপ্ত হয়ে থাকে। (হাদীস নং-৭৯০)

৫৪। আব্দুল্লাহ ইবন আবু কাতাদা থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, সম্ভবতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াতে অধিক লোকের শরীক হওয়ার সুযোগ প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন। (হাদীস নং-৮০০)

৫৫। উবাদা ইবনুস সামিত (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের নামাযের জামায়াতে শরীক ছিলাম। নামাযে কুরআন পাঠের সময় তার পাঠ তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। নামায শেষে তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা ইমামের পিছনে কিরাআত পাঠ করেছ। আমরা বলি, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন তিনি বলেন, তোমরা সূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পাঠ করবে না। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পড়বে না, তার নামায হবে না। (হাদীস নং-৮২৩)

৫৬। আল-বারাআ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদা, রুকু ও দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে প্রায় একই পরিমাণ সময় ব্যয় করতেন। (হাদীস নং-৮৫২)

৫৭। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায যেরূপ সংক্ষেপে কিন্তু পরিপূর্ণভাবে আদায় করতেন, আমি এরূপ নামায আর কারো পেছনে পড়ি নাই। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর এত দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান থাকতেন যে, আমাদের মনে হত হয়ত তিনি ভুলে গেছেন। অতঃপর তিনি তাকবীর বলে সিজদা করতেন এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী সময়ে এত বিলম্ব করতেন যে, আমরা মনে করতাম তিনি হয়ত দ্বিতীয় সিজদার কথা ভুলে গেছেন। (হাদীস নং-৮৫৩)

৫৮। আবু মাসউদ আল-বদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি রুকু হতে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়াবে না এবং দুই সিজদার মধ্যবর্তী বিরতির সময় সোজা হয়ে বসবে না তার নামায যথেষ্ট হবে না। (হাদীস নং-৮৫৫)

৫৯। আবদুর রহমান ইবন শিবলী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাকের ঠোকরের ন্যায় (অর্থাৎ তাড়াতাড়ি) সিজদা করতে, চতুষ্পদ জন্তুর মত বাহু বিছাতে এবং মসজিদের মধ্যে উটের মত নির্দিষ্ট স্থান বেছে নিতে নিষেধ করেছেন। (হাদীস নং-৮৬২)

৬০। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ সিজদাকালীন সময়ে বান্দা আল্লাহ তা’য়ালার সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত হয়। অতএব তোমরা এ সময় অধিক দু‘আ পাঠ করবে। (হাদীস নং-৮৭৫)

৬১। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা যখন নামাযে এসে আমাদের সিজদারত অবস্থায় পাবে, তখন তোমরা সিজদায় শামিল হয়ে যাবে। তবে উক্ত সিজদা নামাযের রাকাত হিসাবে গণ্য করবে না। যে ব্যক্তি রুকু পেয়েছে, সে নামাযও পেয়েছে (অর্থাৎ ঐ রাকাত প্রাপ্ত হয়েছে)। (হাদীস নং-৮৮৯)

৬২। আনাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সঠিকভাবে সিজদা করবে এবং কুকুরের ন্যায় হস্তদ্বয়কে যমীনের সাথে মিলাবে না । (হাদীস নং-৮৯৭)

৬৩। যায়েদ ইবন খালিদ আল-জুহানী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযূ করে একাগ্র চিত্তে নির্ভুলভাবে দুই রাকাত নামায আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (হাদীস নং-৯০৫)

৬৪। আবু যার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বান্দা নামাযের মধ্যে যতক্ষণ এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর দৃষ্টি তার দিকে থাকবে। অপরপক্ষে যখন সে এদিক-ওদিক খেয়াল করবে, তখন আল্লাহও তাঁর দৃষ্টি ফিরিয়ে নিবেন। (হাদীস নং-৯০৯)

৬৫। ওয়াইল ইবন হুজর (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ওয়ালাদ্দাল্লীন” পাঠ করার পর জোরে “আমীন” বলতেন । (হাদীস নং-৯৩২)

৬৬। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন ইমাম আমীন বলবে, তখন তোমরাও আমীন বলবে। কেননা যে ব্যক্তির আমীন শব্দ ফেরেশতার আমীন শব্দের সাথে মিলবে তার পূর্ব জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে । (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজা)। ইবন শিহাব (রহ•) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা•)ও ‘আমীন’ বলতেন। (হাদীস নং-৯৩৬)

৬৭।হযরত আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ নামাযের মধ্যে ইমামের কোনরূপ ত্রুটি-বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে পুরুষেরা “সুবহানাল্লাহ” বলবে এবং স্ত্রীলোকেরা হাতের উপর হাত তালি মেরে শব্দ করবে। (হাদীস নং-৯৩৯)

৬৮। হযরত আবু যার (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি (স•) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে রত হয়, তখন তার সম্মুখভাগ হতে রহমত নাযিল হয়। অতএব নামাযী ব্যক্তি যেন সম্মুখ ভাগের পাথর (ইত্যাদি) অপসারণ না করে। (হাদীস নং-৯৪৫) (নাসাঈ, ইবন মাজা, তিরমিযী)। অন্য হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা নামাযে রত অবস্থায় (সিজদার স্থান হতে) কিছু অপসারিত করবে না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে একবার পাথরকণা সরিয়ে সমতল করতে পার। (হাদীস নং-৯৪৬)

৬৯। ইবন আব্বাস (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (স•) তাশাহুদের পর এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ

اللهم انى اعوذ بك من عذاب جهنم واعوذ بك من عذاب القبر واعوذ بك من فتنة المحيا والممات واعوذ بك من شر فتنة المسيح الدجال.

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবে জাহান্নাম ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবরে, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাত ওয়া আউযু বিকা মিন শার্‌রী ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।”

অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, পানাহ চাই জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ফেতনা থেকে এবং পানাহ চাই মাসীহি দাজ্জালের ফেতনা থেকে। (হাদীস নং-৯৮৪)

৭০। আবু উবায়দা (রহ•) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা ইবন মাসউদ) বলেন, নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম দুই রাকাত নামাযের পর বৈঠক এত সংক্ষেপ করেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন কোন গরম পাথর বা পাথরের টুকরার উপর বসেছিলেন। (হাদীস নং-৯৯৫)

৭১। আল-আরযাক ইবন কায়েস (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমাদের ইমাম আবু রিমছা (রা•) জামাআতে নামায শেষে বলেনঃ একদা আমি এই ফরয নামায নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আদায় করি। নামাযে হযরত আবু বাকর ও উমার (রা•) রাসূলুল্লাহ (স)-এর ডানপাশে সামনের কাতারে দণ্ডায়মান ছিলেন। ঐ সময়ে অন্য একজন সাহাবীও তাকবীরে উলা বা প্রথম তাকবীরের সময় উপস্থিত ছিলেন। ইমাম হিসাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে ডান এবং বামদিকে এরূপভাবে সালাম ফিরান যে, আমরা তাঁর গালের শ্রুভ্র অংশ অবলোকন করি। অতঃপর তিনি (স•) স্বীয় স্থান হতে উঠে দাঁড়ান, যেমন আবু রিমছা (রাবী স্বয়ং) উঠে দাঁড়ালেন। ঐ সময় প্রথম তাকবীর প্রাপ্ত ব্যক্তি নফল নামায আদায়ের জন্য উক্ত স্থানেই দণ্ডায়মান হন। তখন হযরত উমার (রা•) দ্রুত তাঁর নিকট গমন করে তার কাঁধে হাত দিয়ে তাকে একটু ঝাঁকুনি দিয়ে বলেনঃ বস, পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ এ কারণেই ধ্বংস হয়েছে যে, তারা ফরয ও নফলের মধ্যে কোনরূপ ভেদাভেদ করত না। ঐ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিকে দৃষ্টিপাত করে বলেনঃ হে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহ তোমার দ্বারা সঠিক কাজ করিয়েছেন। (এতে বুঝা যায় যে, মসজিদে ফরয নামায আদায়ের স্থান হতে সরে অন্যত্র অন্য নামায আদায় করা উত্তম এবং নবীর সুন্নাত। (হাদীস নং-১০০৭) ।

৭২। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে দণ্ডায়মান হয়, তখন শয়তান তার নিকট এসে তাকে ধোঁকা দিতে দিতে এমন পর্যাযে পৌঁছে দেয় যে, সে কয় রাকাত আদায় করেছে- তা স্মরণ করতে পারে না। তোমাদের কারো যখন এমন অবস্থা হবে, তখন সে যেন বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা দেয়। (হাদীস নং-১০৩০)

৭৩। মুগীরা ইবন শোবা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন ইমাম (তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে) দুই রাকাত আদায়ের পর না বসে দণ্ডায়মান হওয়া কালে সম্পূর্ণ সোজা হওয়ার পূর্বে এটা তার স্মরণ হয়; তখন তিনি সাথে সাথেই বসবেন এবং যদি তিনি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়ে থাকেন তখন তিনি আর না বসে নামায শেষে দুইটি সাহু সিজদা করবেন। (হাদীস নং-১০৩৬)

৭৪। যায়েদ বিন ছাবিত (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ফরয নামায ব্যতীত যে কোন ধরনের নফল নামায আমার এই মসজিদ (মসজিদে নববী) হতে ঘরে পড়াই শ্রেয়। (হাদীস নং-১০৪৪)

৭৫। হযরত আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যেসব দিনে সূর্যোদয় হয় তার মধ্যে জুমুআর দিনই উত্তম। ঐ দিনেই হযরত আদম (আ•) সৃষ্টি হয়েছিলেন, ঐ দিনই তাঁকে দুনিয়াতে পাঠানো হয়, ঐ দিনই তাঁর তওবা কবুল হয় এবং ঐ দিন তিনি ইনতিকাল করেন। ঐ দিনই কিয়ামত কায়েম হবে, এই দিন জিন ও ইনসান ব্যতীত সমস্ত প্রাণীকুল সুবহে সাদেক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত কিয়ামত অনুষ্টিত হওয়ার ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকবে। এই দিনের মধ্যে এমন একটি সময় নিহিত আছে, তখন কোন মুসলিম বান্দাহ নামায আদায়ের পর আল্লাহর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই প্রাপ্ত হবে।

হযরত কাব (রা•) বলেন, এইরূপ দু‘আ কবুলের সময় সারা বছরের মধ্যে মাত্র এক দিন। রাবী বলেন, আমি তাঁকে বললাম, বছরের একটি দিন নয়, বরং এটা প্রতি জুমুআর দিনের মধ্যে নিহিত আছে। রাবী বলেন, অতঃপর হযরত কাব (রা•) তার প্রমাণস্বরূপ তাওরাত পাঠ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল (স•) সত্য বলেছেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা•) বলেন, অতঃপর আমি বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•)- র সাথে সাক্ষাত করি (যিনি ইহুদীদের মধ্যে বিজ্ঞ আলিম ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন) এবং তাঁকে এ ব্যাপারে অবহিত করি। এই সময় হযরত কাব (রা•)- ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, দু‘আ কবুলের সেই বিশেষ সময় সম্পর্কে আমি জ্ঞাত আছি। তখন আবু হুরায়রা (রা•) বলেন, আমাকে ঐ সময় সম্পর্কে অবহিত করুন। আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, তা হল জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময়। আমি বললাম, তা জুমুআর দিনের সর্বশেষ সময় কিরূপে হবে? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে কোন বান্দাহ নামায আদায়ের পর উক্ত সময়ে দু‘আ করলে তার দু‘আ কবুল হবে। অথচ আপনার বর্ণিত সময়ে কোন নামায আদায় করা যায় না। আব্দুল্লাহ ইবন সালাম (রা•) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি যে, কোন ব্যক্তি নামাযের অপেক্ষায় বসে থাকলে- নামায আদায় না করা পর্যন্ত তাকে নামাযে রত হিসাবে গণ্য করা হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ তিনি বলেনঃ তা ঐ সময়টি । (হাদীস নং-১০৪৬)

৭৬। আবু বুরদা ইবন আবু মূসা আল-আশআরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা•) আমাকে বলেন- আপনি আপনার পিতাকে জুমুআর দিনের বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, আমি আমার পিতার সূত্রে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (স•) বলেনঃ “এই বিশেষ মুহূর্তটি হল ইমামের খুতবা দানের জন্য মিম্বরের উপর বসার সময় হতে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত”। (হাদীস নং-১০৪৯)

৭৭। হযরত আবুল জাদ আদ-দামিরী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বিনা কারণে অলসতা হেতু তিনটি জুমুআর নামায পরিত্যাগ করে আল্লাহ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন (যাতে কোন মঙ্গল তাতে প্রবেশ করতে না পারে, ফলে তাতে কল্যাণ ও বরকত প্রবেশের দ্বার বন্ধ হয়ে যায়)। (হাদীস নং-১০৫২)

৭৮। কুদামা ইবন ওয়াবারাহ (রা•) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তির বিনা কারণে জুমুআর নামায পরিত্যক্ত হবে, সে যেন এক দিরহাম বা অর্ধ- দিরহাম অথবা এক সা’ গম, বা অর্ধ-সা গম আল্লাহর ওয়াস্তে সদকা করে। (হাদীস নং-১০৫৪)

৭৯। হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যারা জুমুআর নামাযের আযান শুনতে পাবে তাদের উপর জুমুআর নামায আদায় করা ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। (হাদীস নং-১০৫৬)

৮০। হযরত নাফে (রহ•) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত ইবন উমার (রা•) শীত ও বায়ু প্রবাহের রাতে নামাযের আযানের পর বলেন, শুনে নাও! তোমরা স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় কর। অতঃপর তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড শীত অথবা বৃষ্টির রাতে মুআযযিনকে স্ব-স্ব অবস্থানে নামায আদায় করার ঘোষণা দিতে বলতেন। (হাদীস নং-১০৬৩)

৮১। আবদুল্লাহ ইবনুল হারিছ (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন একদা হযরত ইবন আব্বাস (রা•) বৃষ্টির দিনে তাঁর মুআযযিনকে বলেন, তুমি “আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ” বলার পর ‘হাইয়্যা আলাস সালাত” বল না, বরং বলবে- ‘সাল্লু ফী বাইতিকুম’ (তোমরা নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় কর)। এতদশ্রবণে লোকেরা তা অপছন্দ করেন। তখন তিনি বলেন, তা আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তি করেছেন। জুমুআর নামায আদায় করা ওয়াজিব। এরূপ বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে হেটে এসে তা আদায় করবার জন্য তোমাদেরকে বাধ্য করতে আমি পছন্দ করি না। (হাদীস নং-১০৬৬)

৮২। হযরত আইয়াস ইবন আবু রামলা আশ- শামী (র•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রা) হযরত যায়েদ ইবন আরকাম (রা•) কে কিছু জিজ্ঞাসা করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি (মুআবিয়া) বলেন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময়ে তাঁর সাথে ঈদ ও জুমুআ একই দিনে অনুষ্ঠিত হতে দেখেছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, তিনি (স) কিরূপে তা আদায় করেন ? তিনি বলেন, নবী করীম (স•) প্রথমে ঈদের নামায আদায় করেন, অতঃপর জুমুআর নামায আদায়ের ব্যাপারে অবকাশ প্রদান করে বলেনঃ যে ব্যক্তি তা আদায় করতে চায়, সে তা আদায় করতে পারে। (হাদীস নং-১০৭০)

৮৩। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহইয়া (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কারো পক্ষে বা তোমাদের পক্ষে সম্ভব হলে- নিজেদের সচরাচর পরিধেয় বস্ত্র ছাড়া- জুমুআর নামাযের জন্য পৃথক দু’টি কাপড়ের ব্যবস্থা করে নেবে। ইমাম আবু দাউদ (রহ•) বলেন, আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, ইবন সালাম (রা•) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপরোক্ত হাদীছ মিম্বরের উপর বসে বলতে শুনেছেন। (হাদীস নং-১০৭৮)

৮৪। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ইমামের খুতবা দেয়ার সময় যদি তুমি কাউকে চুপ থাকতেও বল, তবে তুমি বেহুদা কাজ করলে। (হাদীস নং-১১১২)

৮৫। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা•) বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মসজিদে তিন প্রকারের লোক হাজির হয়ে থাকে। এক ধরনের লোক মসজিদে উপস্থিত হয়ে এদিক-ওদিক ঘুরাফেরা করে এবং অনর্থক কথা বলে। আর এক ধরনের লোক মসজিদে হাজির হয়ে খুতবার সময় দু‘আ ইত্যাদিতে মশগুল থাকে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে এদের দু‘আ কবুল করতে পারেন এবং নাও করতে পারেন। আর এক ধরনের লোক মসজিদে হাজির হয়ে খুতবা পাঠের সময় নিশ্চুপ থাকে এবং অন্যের ঘাড়ের উপর দিয়ে চলাফেরা করে না এবং অন্যকে কষ্ট দেয় না। এই ব্যক্তির জন্য বিগত জুমুআ হতে এ পর্যন্ত এবং সামনের তিন দিনের জন্য এই নীরবতা কাফফারা স্বরূপ হবে। তা এইজন্য যে, আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেনঃ “যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করবে সে তার বিনিময়ে এর দশগুণ ছওয়াব পাবে।” (হাদীস নং-১১১৩)

৮৬। আয়েশা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ যখন নামাযের মধ্যে তোমাদের কারো হাদাছ হয় (উযু নষ্ট হয়) তখন সে যেন তার নাক ধরে বের হয়ে যায় (নাক ধরা উযু নষ্টের পরিচায়ক)। (হাদীস নং-১১১৪)

৮৭। ইবন উমার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ যদি মসজিদে কোন ব্যক্তি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়, তবে সে যেন স্বীয় স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র সরে বসে। (হাদীস নং-১১১৯)

৮৮। আবু হুরায়রা (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকাত পেল, সে যেন সম্পূর্ণ নামায প্রাপ্ত হল। (হাদীস নং-১১২১)

৮৯। নাফে ইবন যুবায়ের (রহ•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবন আতা (রহ•) তাঁকে সায়েব (রা•)-র খিদমতে এই সংবাদসহ পাঠান যে, আপনি নামায আদায়কালে মুআবিয়া (রা) আপনাকে কি করতে দেখেছেন? তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদের মেহরাবে তাঁর সাথে জুমুআর নামায আদায় করি। নামাযের সালাম ফিরাবার পর আমি স্বস্থানে অবস্থান করে নামায আদায় করি। এ সময় মুআবিয়া (রা) তাঁর ঘরে গিয়ে আমার নিকট সংবাদ পাঠান যে, তুমি এখন যেরূপ করেছ এরূপ আর কখনও করবে না। জুমুআর ফরয নামায আদায়ের পর, স্থান না বদলিয়ে বা কথা না বলে পুনঃ নামাযে দাঁড়াবে না। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ কেউ যেন এই নামাযের (ফরয) সাথে অন্য নামায না মিলায়, যতক্ষণ না সে ঐ স্থান ত্যাগ করে বা কথা বলে। (হাদীস নং-১১২৯)

৯০। উম্মে আতিয়্যা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য মহিলাদের নির্দেশ দেন। এ সময় তাঁকে হায়েযগ্রস্ত মহিলাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেনঃ ওয়ায নসীহতে ও দু‘আয় তাদেরও হাযির হওয়া উচিত। এ সময় এক মহিলা বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! শরীর ঢেকে ঈদের নামাযে যাওয়ার মত কাপড় যদি কারো না থাকে তবে সে কি করবে? তিনি বলেনঃ তার সাথী মহিলার অতিরিক্ত কাপড় জড়িয়ে যাবে। (হাদীস নং-১১৩৬)

৯১। হযরত আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিনে মারওয়ান খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বর স্থাপন করেন এবং নামাযের পূর্বেই খুতবা দেওয়া শুরু করেন। তখন জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলেন, হে মারওয়ান! তুমি সুন্নাতের বরখেলাপ করছ। তুমি ঈদের দিনে মিম্বর বাইরে এনেছ, যা ইতিপূর্বে কখনও করা হয়নি এবং তুমি নামাযের পূর্বে খুতবা দিয়েছ। তখন আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) বলেন, এই ব্যক্তি কে? তারা বলেন, অমুকের পুত্র অমুক। তিনি বলেন, সে তার দায়িত্ব পালন করেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন শরীয়াত বিরোধী কোন কাজ হতে দেখে, তখন সম্ভব হলে তাকে হাত (শক্তি) দ্বারা বাঁধা দিবে। যদি হাত দ্বারা তাকে বাঁধা দেয়া সম্ভব না হয় তবে মুখ দ্বারা বলবে। যদি তাও সম্ভব না হয় তবে তাকে অন্তরে খারাপ জানবে এবং এটা দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক। (হাদীস নং-১১৪০)

৯২। আবদুল্লাহ ইবনুস সায়েব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈদের নামায আদায় করি। নামায শেষে তিনি বলেনঃ আমি এখন খুতবা দেব। যে তা শুনতে চায়, সে যেন বসে থাকে এবং যে চলে যেতে চায় সে যেতে পারে। (হাদীস নং-১১৫৫)

৯৩। ইবন উমার (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামায আদায়ের জন্য এক রাস্তা দিয়ে যেতেন এবং অন্য রাস্তা দিয়ে প্রত্যাবর্তন করতেন। (হাদীস নং-১১৫৬)

৯৪। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল-ফিতরের নামায আদায়ের জন্য রওনা হয়ে দুই রাকাত ঈদের নামায আদায় করেন। তিনি তার আগে বা পরে কোন নামায আদায় করেননি। অতঃপর তিনি বিলাল (রা)- কে সংগে নিয়ে মহিলাদের নিকট যান এবং তাদেরকে দান- খয়রাতের নির্দেশ দেন। মহিলাগণ তাদের কানের বালা ও গলার হার দান-খয়রাত করেন। (হাদীস নং-১১৫৯)

৯৫। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে নামায আদায় করেন। (হাদীস নং-১১৬০)

৯৬। আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতিসকার নামাযে ব্যতীত অন্য কোন নামাযে হাত তুলে দু‘আ করতেন না। তিনি এই নামাযে হাত এত উপরে উত্তোলন করতেন যে, তাঁর বগলের নীচের সাদা অংশ দেখা যেত। (হাদীস নং-১১৭০)

৯৭। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ চন্দ্র-সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম-মৃত্যুর ফলে হয় না। যখন তোমরা তা এই অবস্থায় দেখবে, তখন আল্লাহর যিকির করবে, দু‘আ করবে এবং দান-খয়রাত করবে। (হাদীস নং-১১৯১)

৯৮। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সফরে ও আবাসে দুই দুই রাকাত নামাযই ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর সফরের সময়ের নামায ঠিক রাখা হয়েছে এবং আবাসের নামায বৃদ্ধি করা হয়েছে (তিন এবং চার রাকাতে)। (হাদীস নং-১১৯৮)

৯৯। ইবন আব্বাস (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় অবস্থানকালে ভয়ভীতি ও বৃষ্টি জনিত কারণ ছাড়াই যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করেছেন। ইবন আব্বাস (রা•)- কে এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাঁর উম্মাত যাতে অসুবিধার সম্মুখীন না হয় সেজন্য তিনি এরূপ করেছিলেন। (হাদীস নং-১২১১)

১০০। হাফস ইবন আসিম (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবন উমার (রা)-র সাথে সফরে গেলাম। তিনি পথিমধ্যে আমাদের সাথে দুই রাকাত (ফরয) নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি মুখ ফিরিয়ে দেখতে পান যে, কিছু সংখ্যক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ এরা কি করছে? আমি বললাম, তারা নফল নামায পড়ছে। তিনি বলেনঃ হে আমার ভ্রাতুস্পুত্র! যদি আমি নফল নামায আদায় করতে পারতাম তবে ফরয নামায চার রাকাতই আদায় করতাম। অতঃপর তিনি বলেন, বহু সফরে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সফরসংগী ছিলাম। কিন্তু আমি কখনও তাঁকে তাঁর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায আদায় করতে দেখিনি। আমি (বহু সফরে) হযরত আবু বাকর (রা)-র সফরসঙ্গী ছিলাম, কিন্তু তাঁকেও তার ইনতিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায পড়তে দেখিনি। তিনি আরও বলেন, আমি উমার (রা•) ও উছমান (রা)-র সফরসঙ্গী ছিলাম। কিন্তু তাদেরকেও তাদের ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত দুই রাকাতের অধিক নামায পড়তে দেখিনি। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেনঃ “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে উত্তম আদর্শ নিহিত রয়েছে”। (হাদীস নং-১২২৩)

১০১। সালিম (রহ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যানবাহনের উপর থাকাকালে যে কোন দিকে মুখ ফিরিয়ে নফল নামায আদায় করতেন এবং বাহনের পিঠে অবস্থান করেই বেতরের নামাযও আদায় করতেন, তবে ফরয নামায আদায় করতেন না (ফরয নামায মাটিতে অবতরণ করে আদায় করতেন)। (হাদীস নং-১২২৪)

১০২। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরকালনি সময়ে তাঁর বাহনের (উষ্ট্রীর) মুখ কিবলার দিকে থাকাবস্থায় নফল নামাযের নিয়ত করতেন, অতঃপর জন্তুযান যেদিকে মোড় নিত তিনি সেদিকে ফিরেই নামায পড়তেন। (হাদীস নং-১২২৫)

১০৩। আতা ইবন আবু রাবাহ (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি হযরত আয়েশা (রা)- কে জিজ্ঞাসা করেন, মহিলাগণ যানবাহনের উপর নামায পড়তে পারবে কি? তিনি বলেন, স্বাভাবিক অথবা অস্বাভাবিক কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য এর অনুমতি নাই। রাবী মুহাম্মদ ইবন শুআয়ব (র) বলেন, এই নির্দেশ কেবলমাত্র ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (হাদীস নং-১২২৮)

১০৪। হযরত উম্মে হাবীবা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি দৈনিক বার রাকাত নফল/সুন্নাত নামায আদায় করবে- এর বিনিময়ে আল্লাহ তা’য়ালা তার জন্য বেহেশতের মধ্যে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন। (হাদীস নং-১২৫০)

১০৫। আবদুল্লাহ ইবন শাকীক (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হযরত আয়েশা (রা)- কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায (সুন্নাত/নফল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, তিনি (স•) যুহরের পূর্বে ঘরে চার রাকাত নামায আদায় করতেন। অতঃপর বাইরে গিয়ে জামায়াতে নামায আদায় করতেন। পুনরায় ঘরে ফিরে এসে তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি মাগরিবের ফরয নামায জামায়াতে আদায়ের পর ঘরে ফিরে এসে দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। তিনি (স•) জামায়াতে ইশার নামায আদায়ের পর ঘরে এসে দুই রাকাত নামায আদায় করতেন।

রাবী বলেন, নবী করীম (স•) রাতে বেতেরের নামায সহ নয় রাকাত নামায পড়তেন। তিনি (স•) রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ও বসে (নফল) নামায পড়তেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকূ-সিজদাও ঐ অবস্থায় করতেন এবং যখন তিনি বসে কিরাআত পাঠ করতেন তখন রুকূ-সিজদাও ঐ অবস্থায় আদায় করতেন। তিনি সুবহে সাদিকের সময় দুই রাকাত (সুন্নাত) নামায আদায় করতেন। অতঃপর তিনি ঘর হতে বের হয়ে (মসজিদে গিয়ে) জামাআতে ফজরের নামায আদায় করতেন। (হাদীস নং-১২৫১)

১০৬। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহুরের ফরযের পূর্বে চার রাকাত এবং ফজরের ফরযের পূর্বে দুই রাকাত নামায কখনও ত্যাগ করতেন না। (হাদীস নং-১২৫৩)

১০৭। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায়ের ব্যাপারে যে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা পালন করেছেন তা অন্য কোন নামাযের (সুন্নাত বা নফল) ব্যাপারে পালন করেননি। (হাদীস নং-১২৫৪)

১০৮। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা কোন সময় ঐ দুই রাকাত নামায (ফজরের সুন্নাত) ত্যাগ করবে না, ঘোড়ায় তোমাদের পিষে ফেললেও। (হাদীস নং-১২৫৮)

১০৯। আবদুল্লাহ ইবন সারজিস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মসজিদে এসে দেখতে পায় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামায়াত শুরু করে দিয়েছেন। লোকটি একাকী দুই রাকাত নামায পড়ার পর নবী করীম (সা•)- এর সাথে জামায়াতে শরীক হয়। নামায শেষে তিনি বলেনঃ তুমি কোন নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে এসেছ- যে নামায একাকী পড়েছ না যা আমাদের সাথে আদায় করেছ? (হাদীস নং-১২৬৫)

১১০। কায়েস ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পান যে, এক ব্যক্তি ফজরের ফরয নামায আদায়ের পর দুই রাকাত নামায আদায় করছে। মহানবী (সা•) বলেনঃ ফজরের নামায দুই রাকাত। তখন এ ব্যক্তি বলেন, আমি ইতিপূর্বে ফজরে দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করতে পারিনি, তা এখন আদায় করছি। তার কথায় রাসূলুল্লাহ (স) নীরব থাকেন। (হাদীস নং-১২৬৭)

১১১। আবু আইয়ূব (রা•) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন যে, যুহরের ফরয নামাযের পূর্বে এক সালামের সাথে যে ব্যক্তি চার রাকাত নামায পড়বে এর বদৌলতে তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হবে। (হাদীস নং-১২৭০)

১১২। আবদুল্লাহ ইবনুল-মুযানী (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমরা যে ইচ্ছা কর মাগরিবের পূর্বে দুই রাকাত নামায আদায় করতে পার। তিনি দুইবার এরূপ বলেন এবং তিনি তা আদায়ে কঠোরতা না করার কারণ এই ছিল, যাতে লোকেরা এটাকে সুন্নাত হিসাবে মনে না করে। (হাদীস নং-১২৮১)

১১৩। আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রা•) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ দুই আযানের (আযান ও ইকামতের) মধ্যবর্তী সমযে যে ইচ্ছা করে, নামায আদায় করতে পারে। তিনি দুইবার এরূপ বলেন। (হাদীস নং-১২৮৩)

১১৪। আবু উমামা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক নামায আদায়ের পর হতে অন্য নামায আদায় করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ কোনরূপ অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত না হয় তবে ঐ ব্যক্তির আমলনামা “ইল্লীন” নামক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে। (হাদীস নং-১২৮৮)

১১৫। নবী করীম (সা)-এর স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনই নিয়মিতভাবে চাশতের নামায পড়েননি। কিন্তু আমি তা আদায় করি এবং তিনি তা আমল করতে পছন্দ করলেও (মাঝে মাঝে) তার পরিত্যাগের কারণ এই ছিল যে, তিনি নিয়মিতভাবে আদায় করলে লোকদের উপর তা ফরয হয়ে যেতে পারে। (হাদীস নং-১২৯৩)

১১৬। সিমাক (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবের ইবন সামুরা (রা)- কে জিজ্ঞেস করি, আপনি কি অধিক সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে থাকতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি বহু সময় তাঁর সাথে থাকতাম। তিনি ফজরের নামাযের পর ঐ স্থানে সূর্যোদয় পর্যন্ত বসে থাকতেন। অতঃপর সূর্য উপরে উঠলে তিনি ইশরাকের নামায আদায় করতেন। (হাদীস নং-১২৯৪)

১১৭। ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দিন ও রাতের (নফল) নামায দুই দুই রাকাত। (হাদীস নং-১২৯৫)

১১৮। ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব (রা)- কে বলেনঃ হে আব্বাস! হে আমার প্রিয় চাচা। আমি কি আপনাকে এমন একটি জিনিস দেব না যার মাধ্যমে আপনি দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন? যখন আপনি এরূপ করবেন, তখন আল্লাহ তা’য়ালা আপনার পূর্বাপরের সমস্ত গুনাহ মাফ করবেন। চাই তা প্রথম বারের হোক বা শেষ বারের পুরাতন হোক কিংবা নতুন হোক, ভুলেই হোক অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে, বড়ই হোক অথবা ছোট, প্রকাশ্যেই হোক অথবা গোপনে- আপনি এই দশটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবেন, যদি আপনি চার রাকাত নামায নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে আদায় করেন। আপনি এর প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠের পর এর সাথে অন্য একটি সূরা মিলাবেন। অতঃপর যখন আপনি কিরাআত পাঠ শেষ করবেন তখন পনের বার দাঁড়ানো অবস্থায় এই দু‘আ পাঠ করবেনঃ ‘সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’। অতঃপর আপনি রুকূ করবেন এবং সেখানেও ঐ দু’আ দশবার পাঠ করবেন। পরে রুকূ হতে মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ঐ দু’আ দশবার পাঠ করবেন। অতঃপর সিজদায় গিয়েও তা দশবার পাঠ করবেন এবং প্রথম সিজদায়ও তা দশবার পাঠ করবেন, পরে সিজদা হতে মাথা তুলে ঐ দু‘আ দশবার পাঠ করা পর্যন্ত বসে থাকার পর দাঁড়াবেন (দ্বিতীয় রাকাতের জন্য)। অতঃপর আপনি প্রতি রাকাতে এরূপ পঁচাত্তর বার ঐ দু‘আ পাঠ করবেন এবং এরূপে চার রাকাত নামায আদায় করবেন। যদি আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তবে আপনি এই নামায দৈনিক একবার আদায় করবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার; যদি তাও সম্ভব না হয় তবে প্রতি মাসে একবার; যদি তাও অসম্ভব হয়, তবে প্রতি বছরে একবার; যদি তাও সম্ভব না হয় তবে গোটা জীবনে অন্ততঃ একবার আদায় করবেন। (হাদীস নং-১২৯৭)

১১৯। হযরত কাব ইবন উজরা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী আব্দুল আশহালের মসজিদে মাগরিবের নামায আদায় করেন। তিনি (সজ্ঝ) এসে নামায শেষে তাদের দেখতে পান যে, তাঁরা আরো নামায আদায় করছে। এতদ্দর্শনে তিনি (সজ্ঝ) বলেনঃ এটা (সুন্নাত) তো গৃহে আদায় করার নামায। (হাদীস নং-১৩০০)

১২০। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমায় তখন শয়তান তার মাথার পেছনের চুলে তিনটি গিরা দিয়ে রাখে এবং প্রত্যেক গিরা দেওয়ার সময় সে বলেনঃ তুমি ঘুমাও রাত এখনও অনেক বাকী। অতঃপর ঐ ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে যদি আল্লাহ তা’য়ালার যিকির করে, তবে একটি গিরা খুলে যায়। অতঃপর সে যখন উযু করে তখন আরেকটি গিরা খুলে যায় এবং সে যখন নামায আদায় করে তখন সর্বশেষ গিরাটিও খুলে যায়। অতঃপর সে ব্যক্তি (ইবাদতের) মাধ্যমে তার দিনের শুভসূচনা করে, অথবা অলসতার মাধ্যমে খারাপভাবে তার দিনটি শুরু করে। (হাদীস নং-১৩০৬)

১২১। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা তাহাজ্জুদের নামায পরিত্যাগ কর না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে কোন সময় পরিত্যাগ করতেন না। যখন তিনি (সা) অসুস্ত হতেন অথবা আলস্য বোধ করতেন তখন তিনি (সা) তা বসে আদায় করতেন। (হাদীস নং-১৩০৭)

১২২। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাত জেগে নামায আদায় করে; অতঃপর সে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগ্রত করে। আর যদি সে ঘুম তে উঠতে না চায় তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয় (নিদ্রাভংগের জন্য)। আল্লাহ ঐ মহিলার উপর রহম করুন যে রাতে উঠে নামায আদায় করে এবং স্বীয় স্বামীকে জাগ্রত করে। যদি সে ঘুম হতে উঠতে অস্বীকার করে, তখন সে তার চোখে পানি ছিটিয়ে দেয়। (হাদীস নং-১৩০৮)

১২৩। আবু সাঈদ ও আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন কোন ব্যক্তি রাত্রিতে স্বীয় স্ত্রীকে ঘুম হতে জাগিয়ে একত্রে নামায আদায় করে অথবা তারা পৃথক পৃথকভাবে নামায আদায় করে, তখন তাদের নাম যিকিরকারী পুরুষ ও যিকিরকারিণী স্ত্রী হিসেবে আমলের খাতায় লিপিবদ্ধ করা হয়। (হাদীস নং-১৩০৯)

১২৪। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ রাত্রিতে তাহাজ্জুদ নামায পাঠের জন্য দণ্ডায়মান হয়, তখন তন্দ্রার কারণে কুরআনের আয়াত পাঠ করা তার জন্য যদি কষ্টকর হয় এবং সে কি পাঠ করছে তা বুঝতে না পারে, এমতাবস্থায় সে নিদ্রার জন্য শয়ন করবে। (হাদীস নং-১৩১১)

১২৫। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নামায আদায়কালে নিদ্রার কারণে তার সম্পূর্ণ বা আংশিক অযীফা পরিত্যক্ত হয; অতঃপর সে যদি তা ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে পাঠ করে, তবে রাত্রিতে পাঠের ফলে যেরূপ ছওয়াব ঐ ব্যক্তির আমলনামায় লেখা হত তদ্রুপ ছওয়াব লেখা হয়। (হাদীস নং-১৩১৩)

১২৬। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাত্রিতে নিয়মিত নামায আদায় করে থাকে সে যদি কোন রাত্রিতে নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কারণে নামায আদায়ে ব্যর্থ হয় তবুও আল্লাহ তা’য়ালা তার আমলনামায় উক্ত নামায আদায়ের অনুরূপ ছওয়াব প্রদান করবেন এবং তার ঐ নিদ্রা সদকাস্বরূপ হবে। (হাদীস নং-১৩১৪)

১২৭। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাত্রির এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয়ে বলতে থাকেনঃ তোমাদের যে কেউ আমার নিকট কোন কিছুর জন্য প্রার্থনা করবে, আমি তার ঐ দু’আ কবুল করব, যে কেউ আমার নিকট কিছু যাঞ্চা করবে, আমি তা তাকে প্রদান করব এবং যে আমার নিকট গুনাহ মাফের জন্য কামনা করবে, আমি তার গুনাহ মাফ করব। (হাদীস নং-১৩১৫)

১২৮। হুযায়ফা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে নামাযে মশগুল হয়ে যেতেন। (হাদীস নং-১৩১৯)

১২৯। রবীআ ইবন কাব আল-আসলামী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি প্রায়ই সফরকালীন সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অবস্থান করে তাঁর উযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করতাম। একদা তিনি (স) আমাকে বলেনঃ তুমি আমার নিকট কিছু চাও? তখন আমি বলিঃ আমি বেহেশতের মধ্যে আপনার সংগী হিসেবে থাকতে চাই। তিনি (সা) বলেনঃ এ ছাড়াও অন্য কিছু চাওঃ আমি বলিঃ এটাই আমার একমাত্র কামনা। তিনি (স) বলেনঃ তুমি অধিক সিজদা আদায়ের দ্বারা তোমার দাবী পূরণে আমাকে সাহায্য কর। (হাদীস নং-১৩২০)

১৩০। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ রাত্রিতে (তাহাজ্জুদ) নামাযের জন্য উঠে তখন সে যেন প্রথমে হালকাভাবে দুই রাকাত (নফল) নামায আদায় করে। (হাদীস নং-১৩২৩) (মুসলিম)। অন্য হাদীসে এসেছে- অতঃপর তুমি তোমার ইচ্ছানুযায়ী দীর্ঘ কিরাআত দ্বারা নামায আদায় করতে পার। (হাদীস নং-১৩২৪)

১৩১। আব্দুল্লাহ ইবন হাবশী আর খাছআমী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উত্তম আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি (সা) বলেনঃ উত্তম আমল হল দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে নামায আদায় করা। (হাদীস নং-১৩২৫)

১৩২। উকবা ইবন আমের আল-জুহানী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কুরআন উচ্চস্বরে পাঠকারী প্রকাশ্যে দান-খয়রাতকারীর অনুরূপ এবং গোপনে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মত। (হাদীস নং-১৩৩৩)

১৩৩। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা সাধ্যানুযায়ী আমল কর। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা তোমাদের কোন আমলকে বন্ধ করেন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেরাই তা বন্ধ কর। কেননা আল্লাহ তাআলার নিকট ঐ আমলই অধিক পছন্দনীয় যা নিয়মিত আদায় করা হয়ে থাকে, যদিও পরিমাণে তা কম হয়। তিনি (সা) যখন কোন আমল শুরু করতেন, তখন তা নিয়মিতভাবে আদায় করতেন। (হাদীস নং-১৩৬৮)

১৩৪। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রমযানের রাত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় গৃহ হতে বের হয়ে দেখতে পান যে, মসজিদের এক পাশে কিছু লোক নামায আদায় করছে। তিনি (সা) জিজ্ঞাসা করেনঃ এরা কি করছে? তাঁকে বলা হয়ঃ এদের কুরআন মুখস্ত না থাকায় তাঁরা উবাই ইবন কাবের (রা) পিছনে (মুক্তাদী হিসেবে) তারাবীর নামায় আদায় করছে। নবী করীম (সা) বলেনঃ তারা ঠিকই করছে। (হাদীস নং-১৩৭৭)

১৩৫। আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি তিন দিনের কম সময়ে কুরআন শরীফ খতম করে, সে তার কিছুই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় না। (হাদীস নং-১৩৯৪)

১৩৬। আব্দুর রহমান ইবন ইয়াযীদ (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি হযরত আবু মাসউদ (রা)- কে বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফকালে কুরআন পাঠ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ আয়াত দু’টি তিলাওয়াত করবে, এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে। (হাদীস নং-১৩৯৭)

১৩৭। আবু হুরায়রা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেনঃ কুরআনের ত্রিশটি আয়াত বিশিষ্ট সূরা তাবারাকাল্লাযী (অর্থাৎ সূরা আল-মূলক) তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে। এমনকি তাকে মাফ করে দেয়া হবে (অর্থাৎ যে ব্যক্তি সূরা তাবারাকাল্লাযী তিলাওয়াত করবে, এটা তার জন্য সুপারিশকারী হবে)। (হাদীস নং-১৪০০)

১৩৮। আলী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ হে কুরআনের অনুসারীগণ! তোমরা বিতিরের নামায আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা বেজোড় (একক), কাজেই তিনি বেজোড় (বিতির)- কে ভালবাসেন। (হাদীস নং-১৪১৬)

১৩৯। হযরত আব্দুল্লাহ ইবন বুরায়দা (রা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ বিতিরের নামায হক (সত্য)। যে ব্যক্তি এটা আদায় করবে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। এই উক্তিটি তিনি (সা) তিনবার করেন। (হাদীস নং-১৪১৯)

১৪০। আবু আইয়ূব আনসারী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ বিতিরের নামায প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হক। যে ব্যক্তি তাকে পাঁচ রাকাত আদায় করতে চায়, সে পাঁচ রাকাত আদায় করবে; যে ব্যক্তি তিন রাকাত আদায়ের ইচ্ছা করে, সে ঐরূপ করবে এবং যে ব্যক্তি এক রাকাত আদায় করতে চায়, সে এক রাকাত আদায় করবে। (হাদীস নং-১৪২২)

১৪১। আবু সাঈদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিদ্রা বা ভুলের কারণে বিতিরের নামায আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয়। (হাদীস নং-১৪২৩)

১৪২। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় হাবীব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তিনটি কাজের জন্য ওসিয়াত করেছেন, যা আমি স্থায়ীভাবে কোথাও অবস্থানকালে এবং সফরের সময়েও ত্যাগ করি না। ১। চাশতের সময় দুই রাকাত নামায, ২। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা) এবং ৩। নিদ্রার পূর্বে বিতিরের নামায আদায় করা। (হাদীস নং-১৪৩২)

১৪৩। আবদুল্লাহ ইবন হাবশী আল- খাছআমী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, উত্তম আমল কোনটি ? তিনি (সা) বলেনঃ নামাযের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ দণ্ডায়মান থাকা। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন সদকা উত্তম? তিনি (সা) বলেনঃ সামর্থ না থাকা সত্ত্বেও দান করা। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, উত্তম হিজরত কোনটি? তিনি (সা) বলেনঃ আল্লাহ তা’য়ালার হারাম বস্তুসমূহ হতে ফিরে থাকাই উত্তম হিজরত। অতঃপর তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন জিহাদ উৎকৃষ্ট ? তিনি (সা) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার জান-মাল দিযে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। অতঃপর তাকে বলা হয়ঃ কোন ধরনের নিহত হওয়া উত্তমঃ তিনি (সা) বলেনঃ যে ব্যক্তি তার ঘোড়াসহ যুদ্ধের ময়দানে নিহত। (হাদীস নং-১৪৪৯)

১৪৪। আয়েশা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সা) বলেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং কুরআনে অভিজ্ঞও- সে ব্যক্তি অতি সম্মানিত ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে পড়ে, তার জন্য দু’টি বিনিময় অবধারিত। (হাদীস নং-১৪৫৪)

১৪৫। উবাই ইবন কাব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়াতটি সর্বাপেক্ষা সম্মানিত? আমি বলি, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ বিষয়ে অধিক অবগত। তিনি (সা) তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, হে আবুল মুনযির! তোমার নিকট কুরআনের কোন আয়াতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ? রাবী বলেন, তখন আমি বলি, আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইউল কাইয়ূম। এতদশ্রবণে তিনি (সা) আমার বক্ষে হাত চাপড়িয়ে (মহব্বতের সাথে) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার জন্য কুরআনের ইলম বরকতময় হোক। (হাদীস নং-১৪৬০)

১৪৬। উকবা ইবন আমের (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুহফা ও আবওয়া নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যে সফরে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ আমাদেরকে ঘোর কৃষ্ণ অন্ধকার ও প্রবল বাতাস আচ্ছন্ন করে ফেলে। তখন তিনি (স) আল্লাহর নিকট “সূরা নাস” ও “সূরা ফালাক” পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং আমাকে বলেনঃ হে উকবা! তুমিও এদের দ্বারা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। এর চাইতে অধিক উত্তম তাবিজ আর কিছুই নাই। আমি নবী করীম (সা)- কে এই দু’টি সূরার দ্বারা নামাযের ইমামতি করতেও শ্রবণ করেছি। (হাদীস নং-১৪৬৩)

১৪৭। আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে, তুমি তা পাঠ করতে থাক এবং উপরে চড়তে (উঠতে) থাক। তুমি তাকে ধীরে সুস্থে পাঠ করতে থাক, যেরূপ তুমি দুনিয়াতে পাঠ করতে। কেননা তোমার সর্বশেষ বসবাসের স্থান (জান্নাত) ঐটিই যেখানে তোমার কুরআনের আয়াত শেষ হবে। (হাদীস নং-১৪৬৪)

১৪৮। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন আল্লাহ তা’য়ালাঃ কোন কিছুই এতটা নিবিষ্টভাবে শুনেন না যেভাবে তিনি কুরআনের পাঠ শুনেন- যখন তাঁর নবী সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে তা পাঠ করেন। (হাদীস নং-১৪৭৩)

১৪৯। সাদ ইবন উবাদা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠের পর তা ভুলে যায়, সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর সাথে খালি হাতে সাক্ষাত করবে। (হাদীস নং-১৪৭৪)

১৫০। নুমান ইবন বাশীর (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সা) বলেনঃ দু’আও একটি ইবাদাত। তোমাদের রব বলেনঃ তোমরা আমার নিকট দু‘আ কর। আমি তা কবুল করব। (হাদীস নং-১৪৭৯)

১৫১। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের প্রত্যেকের দু‘আ কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি তার জন্য তাড়াহুড়া করে এবং এরূপ বলতে থাকে যে, আমি দু‘আ করলাম অথচ তা কবুল হয় নাই। (হাদীস নং-১৪৮৪)

১৫২। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা দেয়ালে পর্দা দিও না। যে ব্যক্তি অন্যের বিনানুমতিতে তার চিঠির প্রতি নজর করে সে যেন দোযখের প্রতি দৃষ্টিপাত করল। তোমরা তোমাদের হাতের তালু উপরের দিকে করে দু‘আ করবে, হাতের পিঠ উপরের দিকে করে নয় এবং দু’আর শেষে (হাত) মুখমণ্ডলে মাসেহ করবে। (হাদীস নং-১৪৮৫)

১৫৩। সালমান (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের রব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। যখন কোন বান্দাহ হাত উঠিয়ে তাঁর নিকট দু‘আ করে, তখন তিনি তার খালি হাত ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। (হাদীস নং-১৪৮৮)

১৫৪। আস-সাইব ইবন ইয়াযীদ (র) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আর সময় তাঁর উভয় হাত উত্তোলন করতেন এবং তার দ্বারা মুখমন্ডল মাসেহ করতেন। (হাদীস নং-১৪৯২)

১৫৫। আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসে ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি নামায শেষে এরূপ দু‘আ করতে থাকেঃ “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি। তুমিই সমস্ত প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া আর কোন দানকারী ইলাহ নাই, তুমিই আসমান ও যমীন সমূহের সৃষ্টিকারী, হে মহান শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ও মহান দাতা, হে চিরঞ্জীব, হে অবিনশ্বর! এতদশ্রবণে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তাঁর মহান নামের মাধ্যমে দু‘আ করেছে এবং যদি কেউ এরূপে দু‘আ করে, তবে তা অবশ্যই কবুল হবে। আর যদি কেউ এরূপে চায়, তবে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। (হাদীস নং-১৪৯৫)

১৫৬। আসমা বিনতে ইয়াযীদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এই দুটি আয়াত হল আল্লাহর “ইসমে আজম”, মহান নাম।

والهكم اله واحد لا اله الا هو الرحمن الرحيم. الـم. الله لا اله الا هو الحي القيوم.

১। অর্থাৎ তোমাদের ইলাহ এক, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, যিনি দাতা-দয়ালু।

২। সূরা আল-ইমরানের প্রথমাংশঃ আলিফ, লাম, মীম, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী। (হাদীস নং-১৪৯৬)

১৫৭। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তাঁর একটি চাদর চুরি হয়ে যায়, তিনি চোরের জন্য বদদুআ করতে শুরু করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি তার জন্য ঐরূপ করে বিষয়টি হালকা কর না (অর্থাৎ তার পাপের বোঝা কমিও না)। (হাদীস নং-১৪৯৭)

১৫৮। মুগীরা ইবন শোবা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযের সালাম ফিরাবার পর কোন দু‘আ পাঠ করতেন এটা জানার জন্য আমীরে মুআবিয়া (রা) মুগীরাকে পত্র লিখেছিলেন। অতঃপর মুগীরা (রা) মুআবিয়া (রা)- র নিকট এই মর্মে পত্রোত্তরে জানান যে, রাসূলুল্লাহ (সা) বলতেনঃ

لا اله الا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير. اللهم لا مانع لما اعطيت ولا معطى لما منعت ولا ينفع ذاالجد منك الجد.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানেআ লিমা আতায়তা, ওলা মুতিয়া লিমা মানাতা, ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল-জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু। (হাদীস নং-১৫০৫)

১৫৯। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম ছাওবান (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সা) যখন নামায শেষ করতেন, তখন তিনি (সা) তিনবার ইস্তিগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) পাঠ করতেন। অতঃপর তিনি (সা) বলতেনঃ আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালে ওয়াল ইকরাম। (হাদীস নং-১৫১৩)

১৬০। আবু বাকর সিদ্দীক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি ইস্তিগফারের (গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা) পরে তওবা করে, তবে তা ইসরার (বারবার) হিসাবে গণ্য হবে না; যদিও সে ব্যক্তি দৈনিক সত্তর বারও এরূপ করে। (হাদীস নং-১৫১৪)

১৬১। আল-আগার আল-মুযানী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ অবশ্য কখনো কখনো আমার ‘কলব’ পর্দাবৃত হয় (অর্থাৎ মানুষ হিসেবে দুনিয়ার কাজকর্মে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহর যিকির হতে গাফিল হয়) এবং আমি আল্লাহর নিকট দৈনিক একশতবার ইস্তিগফার করে থাকি। (হাদীস নং-১৫১৫)

১৬২। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আযাদকৃত গোলাম বিলাল ইবন ইয়াসার ইবন যায়েদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আমার পিতাকে এই হাদীছটি আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি নবী করীম (সা)-কে ইরশাদ করতে শুনেনঃ যে ব্যক্তি

استغقر الله الذى لا اله الا هو الحي القيوم واتوب اليه.

“আস্তাগফিরুলআহাল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আল-হাইয়ুল কাইয়ূম, ওয়াতুবু ইলাইহে” অর্থাৎ আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, যিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর নিকট তওবা করি- পাঠ করবে, যদিও সে ব্যক্তি যুদ্ধের ময়দানে হতে পালিয়ে আসে, তবুও তার গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (হাদীস নং-১৫১৭)

১৬৩। ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার পাঠ করে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সর্ব প্রকার বিপদাপদ হতে মুক্ত করবেন, এবং সব রকম দুশ্চিন্তা হতে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য এমন স্থান হতে রিযিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (হাদীস নং-১৫১৮)

১৬৪। আব্দুল আযীয ইবন সুহায়েব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা কাতাদা (রা) আনাস (রা)- র নিকট জিজ্ঞাসা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন দু‘আ অধিক পাঠ করতেন? তখন তিনি বলেনঃ তিনি (সা) অধিকাংশ সময় এই দু‘আ পাঠ করতেনঃ

اللهم اتنا فى الدنيا حسنة و فى الاخرة حسنة وقينا عذاب النار.

আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ-দুনয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাও ওয়াকিনা আযাবান্নার। (হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে দুনিয়ায় কল্যাণ দিন, আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে নিষ্কৃতি দিন)। (হাদীস নং-১৫১৯)

১৬৫। আবু উমামা ইবন সাহল ইবন হুনায়ফ (রা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে শাহাদাত প্রাপ্তির কামনা করে, এ ব্যক্তি নিজের বিছানায় মারা গেলেও আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদা দান করবেন। (হাদীস নং-১৫২০)

১৬৬। মুআয ইবন জাবাল (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালবাসি। অতঃপর তিনি (সা) বলেনঃ আমি তোমাকে কিছু ওসিয়ত করতে চাই; তুমি নামায পাঠের পর এটা কোন সময় ত্যাগ করবে না। তা হলঃ “আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।” অতঃপর মুআয (রা) আল-সানাবিহীকে এরূপ ওসীয়ত করেন এবং আল-সানাবিহী আবু আব্দুর রহমানকে এরূপ ওসীয়ত করেন। (হাদীস নং-১৫২২)

১৬৭। আবু মূসা আশআরী (রা) হতে বর্ণিত । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে জনগণ! তোমরা নিম্নস্বর ব্যবহার করে তোমাদের নফসের প্রতি সুবিচার কর। (হাদীস নং-১৫২৮)

১৬৮। আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি বলে,

رضيت بالله ربا وبالاسلام دينا وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا.

আমি আল্লাহকে রব হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসাবে পেয়ে সন্তুষ্ট- তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হবে। (হাদীস নং-১৫২৯)

১৬৯। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর এক বার দরূপ দাঠ করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তার উপর দশ বার রহমত বর্ষণ করেন। (হাদীস নং-১৫৩০)

১৭০। আওস ইবন আওস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট দিন হল জুমুআর দিন। তোমরা ঐ দিনে আমার উপর অধিক পরিমানে দরূদ পাঠ করবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পেশ করা হয়ে থাকে। রাবী বলেন, সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা)! আপনার দেহ মোবারক চূর্ণ বিচূর্ণ হযে মাটির সাথে মিশে যাবে, তখন কিরূপে তা আপনার সামনে পেশ করা হবে? জবাবে তিনি (সা) বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা নবীদের শরীরকে যমীনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। (হাদীস নং-১৫৩১)

১৭১। জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমরা নিজেদের অভিশাপ দিও না। তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের অভিশাপ দিও না, তোমরা তোমাদের চাকর-চাকরানীদের বদ-দু’আ কর না এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদের প্রতি বদ-দু’আ কর না। কেননা এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে যখন দু‘আ (বা বদ-দু‘আ) করলে তা কবুল হয়ে যায়। কাজেই তোমার ঐ বদ-দু‘আ যেন ঐ মুহূর্তের সাথে মিলে না যায়। (হাদীস নং-১৫৩২)

১৭২। আবু দারদা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ যখন কেউ তার মুসলিম ভ্রাতার জন্য তার অনুপস্থিতিতে দু‘আ করে তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন! তখন দু‘আকারীর জন্যও অনুরূপ হবে। (হাদীস নং-১৫৩৪)

১৭৩। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ঐরূপ দু‘আ অতি সত্ত্বর কবুল হয়, যদি কেউ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য দু‘আ করে। (হাদীস নং-১৫৩৫)

১৭৪। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তিন ব্যক্তির দু‘আ নিঃসন্দেহে কবুল হয়- পিতা-মাতার দু‘আ (সন্তানের জন্য), মুসাফিরের দু‘আ এবং মযলুম (নির্যাতিত) ব্যক্তির দু‘আ। (হাদীস নং-১৫৩৬)

১৭৫। আবু বুরদা ইবন আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তাঁর পিতা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, যখন তিনি (সা) কোন সম্প্রদায়ের তরফ হতে কোনরূপ বিপদের আশংকা করতেন তখন এরূপ বলতেনঃ

اللهم انا نجعلك في نحورهم ونعوذبك من شرورهم.

(আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফী নুহুরিহিম ওয়া নাউযুবিকা মিন শুরূরিহিম) । “ইয়া আল্লাহ! আমরা আপনাকে তাদের সাথে মুকাবিলার জন্য যথেষ্ট মনে করি এবং তাদের অত্যাচার-অবিচার হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি” (হাদীস নং-১৫৩৭)

১৭৬। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে কুরআনের সূরার মত এই দু’আটি শিক্ষা দিতেনঃ

اللهم انى اعوذ بك من عذاب جهنم واعوذ بك من عذاب القبر واعوذ بك من فتنة المحيا والممات واعوذ بك من شر فتنة المسيح الدجال.

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবে জাহান্নাম ওয়া আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবরে, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাত ওয়া আউযু বিকা মিন শার্‌রী ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।” অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট পানাহ চাই জাহান্নামের আযাব থেকে, পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, পানাহ চাই জীবন ও মৃত্যুর যাবতীয় ফেতনা থেকে এবং পানাহ চাই মাসীহি দাজ্জালের ফেতনা থেকে। (হাদীস নং-১৫৪২)

১৭৭। ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম একটি দু‘আ এই যে,

الهم انى اعوذ بك من زوال نعمتك و تحويل عافيتك وفجاءة نقمتك وجميع سخطك-

ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার নিয়ামত অপসারণ হতে, ভালোর পরিবর্তে মন্দ হতে, আকস্মিক বিপদাপদ হতে এবং ঐ সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ড হতে যা তোমার অসন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়। (হাদীস নং-১৫৪৫)

১৭৮। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দু‘আ করতেনঃ

اللهم انى اعوذبك من الشقاق والنفاق وسوء الاخلاق.

ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই, তোমার বিরুদ্ধাচরণ করা হতে, নিফাক (মুনাফিকী) হতে, অসৎ চরিত্রতা হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (হাদীস নং-১৫৪৬)

১৭৯। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ

اللهم اني اعوذبك من الاربع من علم لا ينفع ومن قلب لا يخشع ومن نفس لا تشبع ومن دعاء لا يسمع.

ইয়া আল্লাহ! আমি চারটি বিষয় হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি- ১। এমন ইলম যা উপকারী নয়; ২। এমন কলব যা (আল্লাহর ভয়ে) ভীত নয়; ৩। এমন নফস হতে যা পরিতৃপ্ত নয় এবং ৪। এরূপ দু‘আ হতে যা কবুল হয় না। (হাদীস নং-১৫৪৮)

১৮০। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপে দু‘আ করতেনঃ

اللهم انى اعوذبك من صلوة لا تنفع-

ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এমন নামায (আদায়) হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি, যা কোন উপকারে আসে না। তিনি (সা) এতদ্ব্যতীত অন্য দু‘আও করতেন। (হাদীস নং-১৫৪৯)

১৮১। ফারওয়া ইবন নাওফাল (র) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রা)- কে জিজ্ঞাসা করি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরূপে দু’আ করতেন ? তিনি বলেন, তিনি (সা) বলতেনঃ

اللهم انى اعوذ بك من شر ما عملت ومن شرما لم اعمل-

ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐ সমস্ত অপকর্ম হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি, যা আমি করেছি এবং যা এখনও করি নাই। (হাদীস নং-১৫৫০)

১৮২। শাকল ইবন হুমায়েদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে আবেদন করি যে, আমাকে দু‘আ শিক্ষা দেন। তখন তিনি বলেনঃ তুমি বল,

اللهم انى اعوذ بك من شر سمعى ومن شر بصرى ومن شر لسانى ومن شر قلبى ومن شر منيي-

ইয়া আল্লাহ! আমি কর্ণের অপকর্ম হতে, চোখের দুষ্টামি হতে, যবানের ধৃষ্টতা হতে, কলবের অপসৃষ্টি হতে, বীর্যের অপব্যবহার হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (হাদীস নং-১৫৫১)

১৮৩। আবুল ইয়ূসরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দু‘আ করতেনঃ

اللهم اني اعوذ بك من الهدم واعوذبك من التردي واعوذبك من الغرق والحرق والهرم واعوذبك ان يتخبطني الشيطن عند الموت واعوذبك ان اموت في سبيلك مدبرا و اعوذبك ان اموت لديغا.

ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঘর-বাড়ী ভেংগে চাপা পড়া হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি, উচ্চ স্থান হতে পতিত হওয়ার ব্যাপার হতে, পানিতে ডুবা, আগুনে জ্বলা ও অধিক বয়োবৃদ্ধি হতে তোমার আশ্রয় কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট মৃত্যুর সময় শয়তানের প্ররোচনা হতে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট যুদ্ধের ময়দান হতে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যু হতে তোমার আশ্রয় কামনা করি এবং আমি তোমার নিকট (সাপ, বিচ্ছুর) দংশনজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করা হতে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (হাদীস নং-১৫৫২)

১৮৪। আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে আবু উমামা (রা) নামক জনৈক আনসার সাহাবীকে দেখতে পান। তিনি (সা) তাঁকে (আনসারীকে) জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবু উমামা! আমি তোমাকে নামাযের সময় ব্যতীত মসজিদে উপবিষ্ট কেন দেখছি? তিনি বলেন, সীমাহীন দুশ্চিন্তা ও ঋণভারে জর্জরিত হওয়ার কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমি এই অসময়ে মসজিদে উপনীত হয়ে তা থেকে আল্লাহর নিকট মুক্তি কামনা করছি। তিনি (সা) বলেনঃ আমি কি তোমাকে এমন বাক্য শিক্ষা দিব না যা তুমি উচ্চারণ করলে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূরীভূত করবেন এবং তোমার কর্জ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন। এতদশ্রবণে আমি বলিঃ হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সা)। তিনি (সা) বলেনঃ তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় এরূপ বলবেঃ

اللهم انى اعوذ بك من الهم والحزن واعوذ بك من العجز والكسل واعوذ بك من الجبن و البخل واعوذبك من غلبة الدين وقهر الرجال-

“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মে ওয়াল হুযনে, ওয়া আউযু বিকা মিনাল আজযে ওয়াল-কাসালে, ওয়া আউযু বিকা মিনাল জুবনে ওয়াল বুখলে, ওয়া আউযু বিকা মিন গালাবাতিদ-দায়নে ওয়া কাহরির রিজাল।” (অর্থাৎ ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার নিকট যাবতীয় চিন্তা- ভাবনা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, আমি তোমার নিকট দুর্বলতা ও অলসতা হতে আশ্রয় কামনা করছি, তোমার নিকট কাপুরুষতা ও কৃপণতা হতে নাজাত কামনা করছি এবং আমি তোমার নিকট ঋণভার ও মানুষের দুষ্ট প্রভাব হতে পরিত্রাণ চাচ্ছি।” আবু উমামা (রা) বলেন, অতঃপর আমি ঐরূপ আমল করি, যার ফলশ্রুতিতে আল্লাহ তা’য়ালা আমার চিন্তা- ভাবনা বিদূরিত করেন এবং ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। (হাদীস নং-১৫৫৫)

কিতাবুয যাকাত

১৮৫। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তিকালের পর হযরত আবু বকর (রা)-কে তাঁর স্থলাভিসিক্ত করা হয়। এই সময়ে আরবের কিছু লোক মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগী) হয়ে যায়। এমতাবস্থায় উমার (রা) আবু বাকর (রা) কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি (মুরতাদ) লোকদের বিরুদ্ধে কিরূপে যুদ্ধ করবেন ? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা) ইরশাদ করেছেনঃ আমি নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছি যে, যতক্ষণ না লোকেরা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বলবে, ততক্ষণ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। অতঃপর যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌” বলবে, তাঁর জান-মাল আমার নিকট নিরাপদ। অবশ্য শরীআতের দৃষ্টিতে তার উপর কোন দণ্ড আসলে তা কার্যকর হবে এবং তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকট। আবু বকর (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, যারা নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল ধন-সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর যুগে যে রশি যাকাত দিত, যদি তাও দিতে তারা অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব। উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) বলেন, আল্লাহর শপথ! তখন আমি উপলব্ধি করতে পারলাম যে, আল্লাহ তা’য়ালা হযরত আবু বকর (রা)- র অন্তর যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। উমার (রা) আরও বলেন, আমি হৃদয়ংগম করলাম যে, তিনিই (আবু বকর) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন। (হাদীস নং-১৫৫৬)

১৮৬। আনাস ইবন মালিক (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যাকাত আদায় করার মধ্যে অতিরঞ্জিতকারী ব্যক্তি যাকাত প্রদানে বাঁধা দানকারীর তুল্য। (হাদীস নং-১৫৮৫)

১৮৭। আব্দুল্লাহ ইবন উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য একটি ঘোড়া দান করেন। অতঃপর তিনি তা বিক্রি হতে দেখে খরিদ করতে মনস্থ করেন। তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি (সা) বলেনঃ তুমি তা খরিদ করো না এবং তোমার সদকার মাল ফেরত লইও না। (হাদীস নং-১৫৯৩)

১৮৮। সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে জমীন বৃষ্টি, নদী ও কুয়ার পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় অথবা যেখানে পানি সেচের আদৌ কোন প্রয়োজন হয় না- এমন ক্ষেত্রের ফসলের যাকাত হল উশর বা উৎপন্ন ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ। আর যে জমিতে কৃত্রিম উপায়ে পানি সিঞ্চিত হয়- তার যাকাত হল নিসফে উশর বা উশরের অর্ধেক। (হাদীস নং-১৫৯৬)

১৮৯। ইবন আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদাকাতুল ফিতর- রোযাকে বেহুদা ও অশ্লীল কথাবার্তা ও আচরণ থেকে পবিত্র করার উদ্দেশ্যে এবং মিসকীনদের খাদ্যের ব্যবস্থার জন্য ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা (ঈদুল ফিতরের) নামাযের পূর্বে দান করে তা কবুল হওয়া যাকাত হিসাবে গণ্য। আর যে ব্যক্তি তা নামাযের পরে পরিশোধ করে তা অন্যান্য সাধারণ দান-খয়রাতের অনুরূপ হিসাবে গণ্য। (হাদীস নং-১৬০৯)

১৯০। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) থেকে বর্ণিত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ধনী ব্যক্তি ও সুঠাম দেহের অধিকারী কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ (বা তাদের যাকাত প্রদান) বৈধ নয়। (হাদীস নং-১৬৩৪)

১৯১। আবু সাঈদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নয়। অবশ্য যারা আল্লাহর রাস্তায় থাকে, অথবা মুসাফির, অথবা কারো দরিদ্র প্রতিবেশী যদি যাকাত হিসাবে কিছু মাল প্রাপ্ত হয়ে তা তার ধনী প্রতিবেশীকে উপঢৌকন হিসাবে দান করে অথবা দাওয়াত করে খেতে দেয়, তবে তা তাদের (ধনীদের) জন্য বৈধ বা হালাল। (হাদীস নং-১৬৩৭)

১৯২। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। আনসারদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কিছু প্রার্থনা করে। তিনি তাদের কিছু দান করলে তারা পুনরায় প্রার্থনা করে। অতঃপর তিনি বারবার তাদের দান করতে থাকায় তাঁর (সম্পদ) শেষ হয়ে যায়। তখন তিনি বলেনঃ আমার নিকট গচ্ছিত আর কোন সম্পদ নাই। আর যে ব্যক্তি অন্যের নিকট প্রার্থনা করা থেকে বিরত থাকবে- আল্লাহ তা’য়ালা তাকে পবিত্র করবেন; যে অমুক্ষাপেক্ষী হবে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবর (ধৈর্য) কামনা করবে- আল্লাহ্‌ তাকে তা দান করবেন। বস্তুতঃ সবরের চাইতে উত্তম জিনিস কাউকে দান করা হয় নাই। (হাদীস নং-১৬৪৪)

১৯৩। ইবন মাসউদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি দারিদ্র্য পীড়িত হয়ে তা মানুষের নিকট প্রকাশ করে- আল্লাহ্‌ তার দারিদ্র্য দূর করেন না। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করে আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন- হয় দ্রুত মৃত্যুর মাধ্যমে অথবা সম্পদশালী করার মাধ্যমে। (হাদীস নং-১৬৪৫)

১৯৪। ইবনুল ফিরাসী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! আমি কি (লোকের নিকট) প্রার্থনা করব? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ না। আর একান্তই যদি তোমাকে কিছু প্রার্থনা করতে হয় তবে অবশ্যই উত্তম লোকদের নিকট চাইবে। (হাদীস নং-১৬৪৬)

১৯৫। আবুল আহওয়াস (র) থেকে তাঁর পিতা মালিক ইবন নাদলা (রা)- র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ হাত তিন প্রকারের- (১) আল্লাহ তা’য়ালার হাত সবার উপরে, (২) অতঃপর দানকারীর হাত এবং (৩) সর্ব নিম্নের হাত হল ভিক্ষুকের হাত। কাজেই তোমরা তোমাদের উদ্বৃত্ত মাল দান- খয়রাত কর এবং নিজেকে নফসের দাবীর কাছে সমর্পণ কর না। (হাদীস নং-১৬৪৯)

১৯৬। আনাস (রা) হতে বর্ণিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে গোশত পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তা কি ধরনের গোশত? লোকেরা বলেন, এই গোশত বারীরাহ (হযরত আয়েশা (রা)- র দাসী- কে সদকা হিসাবে দেয়া হয়েছে। তিনি (সা) বলেনঃ তা তার জন্য সদকা স্বরূপ এবং আমার জন্য উপঢৌকন স্বরূপ। (হাদীস নং-১৬৫৫)

১৯৭। আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন ধরনের সদকা উত্তম? তিনি বলেনঃ যার মালের পরিমাণ কম এবং তা থেকে কষ্ট করে দান করে এবং তোমার পরিবার-পরিজন, যাদের ভরণ-পোষণ তোমার কর্তব্য তাদেরকে প্রথমে দান কর। (হাদীস নং-১৬৭৭)

১৯৮। সাঈদ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা সা‘দ ইবন উবাদা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, কি ধরনের সদকা আপনার নিকট প্রিয় ? তিনি বলেনঃ পানি পান করানো। (হাদীস নং-১৬৭৯)

১৯৯। সা‘দ ইবন উবাদা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতা উম্মে সা‘দ ইনতিকাল করেছেন। কাজেই (তাঁর ঈছালে ছওয়াবের জন্য) কোন ধরনের সদকা উত্তম? তিনি বলেনঃ পানি। অতঃপর সা‘দ (রা) একটি কূপ খনন করেন এবং বলেন, এই কূপের পানি বিতরণের ছাওয়াব উম্মে সা‘দের জন্য নির্ধারিত। (হাদীস নং-১৬৮১)

২০০। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর সম্পদ থেকে ক্ষতির উদ্দেশ্য ব্যতীত কিছু দান করলে সে ঐ দানের ছাওয়াব প্রাপ্ত হবে, তার স্বামী উপার্জনের জন্য এর বিনিময় পাবে এবং এর রক্ষণাবেক্ষণকারীর জন্যও অনুরূপ ছাওয়াব রয়েছে। এমতাবস্থায় তাদের কারো ছাওয়াব অন্যের কারণে কম হবে না। (হাদীস নং-১৬৮৫)

২০১। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার খাদ্যদ্রব্য নষ্ট করছে অথবা যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার উপর- সে তাদের অবজ্ঞা করছে। (হাদীস নং-১৬৯২)

২০২। আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, (দুনিয়াতে তার) রিযিক বৃদ্ধি করে দেয়া হোক এবং তার মৃত্যু বিলম্বিত হোক- সে যেন অবশ্যই তার আত্মীয় সম্পর্ক অটুট রাখে। (হাদীস নং-১৬৯৩)

২০৩। আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্‌ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেনঃ “আমি ‘রহমান’, এর আত্মীয় সম্পর্ক হল ‘রাহেম’। আমি আমার নাম হতে তা বের করেছি। কাজেই যে ব্যক্তি আত্মীয়ের সংগে সম্পর্ক অটুট রাখে, আমি তার নিকটবর্তী হই। আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তা ছিন্ন করে আমি আমার সম্পর্কও তার সাথে ছিন্ন করি। (হাদীস নং-১৬৯৪)

২০৪। যুবায়ের ইবন মুত‘ইম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেনঃ আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না। (হাদীস নং-১৬৯৬)

২০৫। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ আত্মীয় সম্পর্ক সংযুক্তকারী ঐ ব্যক্তি নয়, যে উপকারের বিনিময়ে উপকার দ্বারা দান করে, বরং সেই ব্যক্তি- যখন আত্মীয়তা ছিন্ন হয়, তখন সে আত্মীয়তার সম্পর্ক সংযুক্ত করে নেয়। (হাদীস নং-১৬৯৭)

২০৬। আসমা বিনতে আবু বাকর (রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! যুবায়ের (তাঁর স্বামী) তাঁর ঘরে যে মাল আনেন তা ব্যতীত আমার কোন সম্পদ নাই। আমি কি তা হতে দান-খয়রাত করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ, তুমি তা হতে দান করবে এবং সম্পদ জমা করবে না। কেননা তুমি তা ধরে রাখলে তোমার রিযিকও স্থগিত করে রাখা হবে। (হাদীস নং-১৬৯৯)

২০৭। আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি মিসকীনদের সংখ্যা গণনা করলেন। ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ অন্য রাবীর বর্ণনায় আছে- তিনি সদকার পরিমাণ গণনা করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেনঃ তুমি দান কর এবং তা গণনা কর না। কেননা (যদি তুমি এইরূপ কর) গুণে গুণে প্রাপ্ত হবে। (হাদীস নং-১৭০০)

কিতাবুল লুকতাহ (হারানো প্রাপ্তি প্রসঙ্গ)

২০৮। জাবের ইবন আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাঠি, রশি, চাবুক এবং অনুরূপ পতিত বস্তু ব্যবহারের অনুমতি দেন। (হাদীস নং-১৭১৭)

২০৯। আব্দুর রহমান ইবন উছমান আত-তায়মী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের সময় হাজ্জীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করেছেন। আহমদ- ইবন ওহাব হতে হজ্জের মৌসূমে পতিত মাল (লুকতা) সম্পর্কে বলেছেন, তা পতিত অবস্থায় থাকতে দিবে যেন তার মালিক তা পেতে পারে। (হাদীস নং-১৭১৯)

সর্বশেষ আপডেট ( Sunday, 14 June 2009 )