أخلاق المسلم বা একজন মুসলমানের চারিত্রিক গুণাবলী
লিখেছেন ডঃ আহমাদ আলমাযইয়াদ ও ডঃ আদে'ল আশশিদ্দী   
Sunday, 05 November 2006
সংকলনেঃ

ডঃ আহমাদ আল-মাযইয়াদ

ডঃ আদে'ল আশ-শিদ্দী

অনুবাদঃ

সাইফূল্লাহ আহমাদ কারীম

সম্পাদনায়ঃ

আব্দুন্নূর বিন আব্দুল জব্বার

[লিসান্স মদীনাইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দা'য়ী ও অনুবাদক রাবওয়া ইসলামিক সেন্টার, রিয়াদ]

মুদ্রণেঃ

দারুল ওয়াতান প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন্স

 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সমস্ত প্রশংসা এককভাবে আল্লাহ্র জন্য, সালাত ও সালাম তাঁর উপর নাযিল হউক যার পর আর কোন নবী নেই, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীদের উপর প্রতিদান দিবস পর্যন্ত সালাত ও সালাম নাযিল হউক।

ইসলামী শরীয়ত হচ্ছে একটি পরিপূর্ণ জীবন পদ্ধতি যা সকল দিক থেকে সার্বিকভাবে মুসলমানের ব্যক্তিগত জীবনকে গঠন করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে, এসব দিকের মধ্যে গুণাবলী শিষ্টাচার ও চরিত্রের দিকটি অন্যতম। ইসলাম এদিকে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে। তাইতো আক্বীদা ও আখলাকের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছে, যেমন- নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‌‌‌'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((মুমিনদের মধ্যে পরিপূর্ণ ঈমানদার হচ্ছে সে ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।)) [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযি]

সুতরাং উত্তম চরিত্র হচ্ছে ঈমানের প্রমাণবাহী ও প্রতিফলন, চরিত্র ব্যতীত ঈমান প্রতিফলিত হয় না; বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁকে প্রেরণের অন্যতম মহান উদ্দেশ্য হচ্ছে চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দেয়া। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((আমি তো কেবল চরিত্রের উত্তম দিকসমূহ পরিপূর্ণ করে দিতে প্রেরিত হয়েছি।)) ইমাম আহমাদ ও বুখারী আদাবুল মুফরাদে বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই আল্লাহ্ তা'আলা উত্তম ও সুন্দরতম চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيم

[سورة القلم-4]

অর্থঃ ((এবং নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত।)) [সূরা আল-কলম-৪]

কোথায় এটা বর্তমান বস্তুবাদী মতবাদ ও মানবতাবাদী মানুষের মনগড়া চিন্তা চেতনায় ? যেখানে চরিত্রের দিককে সমপূর্ণরূপে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা শুধু সুবিদাবাদী নীতিমালা ও বস্তুবাদী স্বার্থের উপর প্রতিষ্ঠিত। যদিও তা অন্যদের উপর যুলুম বা নির্যাতনের মাধ্যমে হয়। অন্য সব জাতির সম্পদ লুন্ঠন ও মানুষের সম্মান হানীর মাধ্যমে হয়।

একজন মুসলমানের উপর তার আচার-আচরণে আল্লাহ্র সাথে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে, অন্য মানুষের সাথে এমনকি নিজের সাথে কি করা ওয়াজিব, ইসলাম তার এক অভিনব চকমপ্রদ চিত্র অংকন করে দিয়েছে। যখনই একজন মুসলমান বাস্তবে ও তার লেনদেনে ইসলামী চরিত্রের অনুবর্তন করে তখনই সে অভিষ্ট পরিপূর্ণতার অতি নিকটে পৌঁছে যায়, যা তাকে আরো বেশি আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ ও উচ্চ মর্যাদার সোপানে উন্নীত হতে সহযোগিতা করে। পক্ষান্তরে, যখনই একজন মুসলমান ইসলামের চরিত্র ও শিষ্টাচার হতে দূরে সরে যায় সে বাস্তবে ইসলামের প্রকৃত প্রাণ চাঞ্চল্য, নিয়ম-নীতির ভিত্তি হতে দূরে সরে যায়, সে যান্ত্রিক মানুষের (রবোকব, রোবট) মত হয়ে যায়, যার কোন অনুভূতি এবং আত্মা নেই।

ইসলামে ইবাদতসমূহ চরিত্রের সাথে কঠোরভাবে সংযুক্ত। যে কোন ইবাদতই একটি উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটায় না, তার কোন মূল্য নেই। আল্লাহ্র সামনে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় নামায একজন মানুষকে অশ্লীল অপছন্দ কাজসমূহ হতে রক্ষা করে, আত্মশুদ্ধি ও আত্মার উন্নতি সাধনে এর প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاء وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَصْنَعُونَ

[سورة العنكبوت - 45]

অর্থঃ ((নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল ও অপছন্দনীয় কাজ হতে নিষেধ করে।)) [সূরা আল-আনকাবূতঃ ৪৫]

অনুরূপভাবে সওম বা রোযা তাক্কওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর তাক্বওয়া হচ্ছে মহান চরিত্রের অন্যতম। যেমন- আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

[سورة البقرة-183]

অর্থঃ ((হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার।)) [সূরা আল-বাকারাহ-১৮৩]

রোযা অনুরূপভাবে শিষ্টাচার, ধীরস্থিরতা, প্রশান্তি, ক্ষমা, মুর্খদের থেকে বিমুখতা ইত্যাদির প্রতিফলন ঘটায়। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((তোমাদের কারো রোযার দিন যদি হয়, তাহলে সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা না বলে, হৈ চৈ অস্থিরতা না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াই করে সে যেন বলে আমি রোযাদার।)) [বুখারী ও মুসলিম]

যাকাতও অনুরূপভাবে অন্তরকে পবিত্র করে, আত্মাকে পরিমার্জিত করে এবং তাকে কৃপণতা, লোভ ও অহংকারের ব্যধী হতে মুক্ত করে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا

[سورة التوبة-103]

অর্থঃ ((তাদের সম্পদ হতে আপনি সাদকাহ গ্রহণ করুন যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিমার্জিত করবেন।)) [সূরা আত্-তাওবাহঃ ১০৩]

আর হজ্জ হচ্ছে একটি বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণশালা আত্মশুদ্ধি এবং হিংসা বিদ্ধেষ ও পঙ্কিলতা থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধি ও পরিমার্জনের জন্য। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلاَ رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ

[سورة البقرة-197]

((যে এ মাস গুলোতে নিজের উপর হজ্জ ফরয করে নিল সে যেন অশ্লীলতা, পাপাচার ও ঝগড়া বিবাদ হজ্জের মধ্যে না করে।)) [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৯৭]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((যে ব্যক্তি অশ্লীল কথা-বার্তা ও পাপ কর্ম না করে হজ্জ পালন করল সে তার পাপ রাশি হতে তার মা যেদিন জন্ম দিয়েছে সে দিনের মত (নিষ্পাপ) হয়ে ফিরে এল।)) [বুখারী ও মুসলিম]

ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয় সমূহ

 

১. সত্যবাদিতাঃ

আল্লাহ্ তা'আলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল ইসলামী চরিত্রের আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তার অন্যতম হচ্ছে সত্যবাদিতার চরিত্র। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

[سورة التوبة-119]

((হে ঈমানদারগণ আল্লাহ্কে ভয় কর এবং তোমরা সত্যবাদীদের সাথী হও।)) [সূরা আত্-তাওবাহঃ ১১৯]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((তোমরা সত্যবাদিতা গ্রহণ কর, কেননা সত্যবাদিতা পূণ্যের পথ দেখায় আর পূণ্য জান্নাতের পথ দেখায়, একজন লোক সর্বদা সত্য বলতে থাকে এবং সত্যবাদিতার প্রতি অনুরাগী হয়,ফলে আল্লাহ্র নিকট সে সত্যবাদী হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়।)) [মুসলিম]

 

২. আমানতদারিতাঃ

মুসলমানদের যে সমস্ত ইসলামী চরিত্রের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে আরেকটি হচ্ছে আমানত সমূহ তার অধিকারীদের নিকট আদায় করে দেয়া। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا

[سورة النساء-58]

((নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট আদায় করে দিতে।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ৫৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সমপ্রদায়ের নিকট 'আল আমীন' উপাধী লাভ করেছিলেন, তারা তাঁর নিকট তাদের সম্পদ আমানত রাখতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর অনুসারীদের মুশরিকরা কঠোরভাবে নির্যাতন শুরু করার পর যখন আল্লাহ্ তাকে মক্কা হতে মদীনা হিজরত করার অনুমতি দিলেন তিনি আমানতের সমস্ত মাল তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দেয়া ব্যতীত হিজরত করেননি, অথচ তারা সকলেই কাফের ছিল। কিন্তু ইসলাম তো আমানত তার অধিকারীদের নিকট ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছে যদিও তারা কাফের হয়।

 

৩. অঙ্গিকার পূর্ণ করাঃ

ইসলামী মহান চরিত্রের অন্যতম হচ্ছে অঙ্গিকার পূর্ণ করা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَأَوْفُواْ بِالْعَهْدِ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْؤُولاً

[سورة الإسراء-34]

((আর তোমরা অঙ্গিকার পূর্ণ কর, কেননা অঙ্গিকার সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।)) [সূরা আল-ইসরাঃ ৩৪]

আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেনঃ

الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللّهِ وَلاَ يِنقُضُونَ الْمِيثَاقَ

[سورة الرعد-20]

((যারা অঙ্গিকার পূর্ণ করে এবং প্রদত্ত প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করে না।)) [সূরা রাআদঃ ২০] আর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকরা নেফাকের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে গণ্য করেছেন।

 

৪. বিনয়ঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে একজন মুসলমান তার মুসলিম অপর ভাইদের সাথে ধনী হোক বা গরীব হোক বিনয়ী হবে। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَاخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ

[سورة الحجر-88]

((তুমি তোমার পার্শ্বদেশকে মুমিনদের জন্য অবনত করে দাও।)) [সূরা আল-হিজরঃ ৮৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

((আল্লাহ্ তা'আলা আমার নিকট ওহী করেছেন যে, তোমরা বিনয়ী হও, যাতে একজন অপরজনের উপর গর্ব না করে, একজন অপর জনের উপর সীমালংঘন না করে।)) [মুসলিম]

 

৫. মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারঃ

মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার উত্তম চরিত্রের অন্যতম। আর এটা তাদের হক মহান হওয়ার কারণে, যে হক আল্লাহ্ হকের পর। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَاعْبُدُواْ اللّهَ وَلاَ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئاً وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً

[سورة النساء-36]

((আর তোমরা আল্লাহ্ ইবাদত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না এবং মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ৩৬]

আল্লাহ্ তা'আলা তাদের আনুগত্য, তাদের প্রতি দয়া ও বিনয় এবং তাদের জন্য দো'আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ্ বলেনঃ

وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

[سورة الإسراء-24]

((তাদের উভয়ের জন্য তোমার দয়াবনতির ডানা অবনত করে দাও এবং বল, হে আমার রব তাদের প্রতি আপনি করুণা করুন তারা যেভাবে আমাকে ছোট বেলায় লালন-পালন করেছে।)) [সূরা আল-ইসরাঃ ২৪]

এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলঃ ((হে আল্লাহ্ রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উত্তম সাহচর্যের সব চেয়ে বেশী অধিকারী ব্যক্তি কে ? তিনি বললেনঃ তোমার মা। অতঃপর জিজ্ঞেস করল তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেনঃ তোমার মা। অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? তিনি উত্তর দিলেন তোমার মা। অতঃপর জিজ্ঞেস করল তার পর কে? উত্তর দিলেনঃ তোমার পিতা।)) [বুখারী ও মুসলিম]

মাতা-পিতার প্রতি এ সদ্ব্যবহার ও দয়া অনুগ্রহ অতিরিক্ত বা পূর্ণতা দানকারী বিষয় নয় বরং তা হচ্ছে সকল মানুষের উপর ইজমার ভিত্তিতে ফরযে আইন।

ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয় সমূহ

 

৬. আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখাঃ

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। আর তারা হচ্ছে নিকটাত্মীয়গণ যেমনঃ চাচা, মামা, ফুফা, খালা প্রমূখ। আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ওয়াজিব, আর তা ছিন্ন করা জান্নাতে প্রবেশ হতে বঞ্চিত ও অভিশাপের কারণ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِن تَوَلَّيْتُمْ أَن تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطِّعُوا أَرْحَامَكُمْ - أُوْلَئِكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَأَعْمَى أَبْصَارَهُمْ

[سورة محمد-22-23]

((যদি তোমরা প্রত্যাবর্তন কর তবে কি তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে, তারা তো ঐ সব লোক যাদের প্রতি আল্লাহ্ অভিশাপ করেছেন এতে তিনি তাদেরকে বধির করে দিয়েছেন এবং তাদের অন্তরদৃষ্টি অন্ধ করে দিয়েছেন।)) [সূরা মুহাম্মদঃ ২২-২৩]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবেনা।)) [বুখারী ও মুসলিম]

 

৭. প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহারঃ

প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দরতম ব্যবহার হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। প্রতিবেশী হচ্ছে সে সব লোক যারা তোমার বাড়ীর আশেপাশে বসবাস করে। যে তোমার সবচেয়ে নিকটবর্তী সে সুন্দর ব্যবহার ও অনুগ্রহের সবচেয়ে বেশী হকদার। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَبِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَالْجَارِ ذِي الْقُرْبَى وَالْجَارِ الْجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالجَنبِ

[سورة النساء-36]

((আর মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার কর, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকীন নিকটতম প্রতিবেশী ও পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর প্রতিও।)) [সূরা আন-নিসাঃ ৩৬]

এতে আল্লাহ্ নিকটতম ও দূরবর্তী প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার করতে ওসিয়ত করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনঃ ((জিবরীল আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে ওসিয়ত করতেছিল, এমনকি আমি ধারণা করছি যে প্রতিবেশীকে ওয়ারিশ বানিয়ে দেবে।)) [বুখারী ও মুসলিম]

অর্থাৎ, আমি মনে করেছিলাম যে ওয়ারিশদের সাথে প্রতি বেশীর জন্য মিরাসের একটি অংশ নির্ধারিত করে দেবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে বলেনঃ ((হে আবু যর! যখন তুমি শুরবা পাক কর তখন পানি বেশি করে দাও, আর তোমার প্রতিবেশীদের অঙ্গিকার পূরণ কর।)) [মুসলিম] প্রতিবেশীর পার্শ্বোবস্থানের হক রয়েছে যদিও সে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অবিশ্বাসী কাফের হয়।

 

৮. মেহমানের আতিথেয়তাঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মেহমানের আতিথেয়তা। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীঃ ((যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।)) [বুখারী ও মুসলিম]

 

৯. সাধারণভাবে দান ও বদান্যতাঃ

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম হচ্ছে দান ও বদান্যতা। আল্লাহ্ তা'আলা ইনসাফ, দান ও বদান্যতা কারীদের প্রশংসা করে বলেনঃ

الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللّهِ ثُمَّ لاَ يُتْبِعُونَ مَا أَنفَقُواُ مَنًّا وَلاَ أَذًى لَّهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

[سورة البقرة-262]

((যারা আল্লাহ্ রাস্তায় নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর যা খরচ করেছে তা থেকে কারো প্রতি অনুগ্রহ ও কষ্ট দেয়ার উদ্দেশ্য করে না, তাদের জন্য তাদের প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাও করবে না।)) [সূরা আল বাকারাহঃ ২৬২]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((যার নিকট অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন যার বাহন নেই তাকে তা ব্যবহার করতে দেয়। যার নিকট অতিরিক্ত পাথেয় বা রসদ রয়েছে সে যেন যার রসদ নেই তাকে তা দিয়ে সাহায্য করে।)) [মুসলিম]

 

১০. ধৈর্য ও সহিষ্ণুতাঃ

ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা হচ্ছে ইসলামী চরিত্রের অন্যতম। অনুরূপভাবে মানুষকে ক্ষমা করা, দুর্ব্যবহারকারীকে ছেড়ে দেয়া, ওযর বা বাহানাকারীর বাহানা গ্রহণ করা বা মেনে নেয়াও অন্যতম। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ

[سورة الشورى-43]

((আর যে ধৈর্য্য ধারণ করল এবং ক্ষমা করল তার জন্য, নিশ্চয়ই এটা কাজের দৃঢ়তার অন্তভুর্ক্ত।)) [সূরা আশ শুরাঃ ৪৩]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ((তারা যেন ক্ষমা করে দেয় এবং উদারতা দেখায়, আল্লাহ্ তোমাদের ক্ষমা করে দেয়া কি তোমরা পছন্দ কর না?))

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ((দান খয়রাতে সম্পদ কমে যায় না। আল্লাহ্ পাক ক্ষমার দ্বারা বান্দার মার্যাদাই বৃদ্ধি করে দেন। যে আল্লাহ্র জন্য বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ্ তার সম্মানই বৃদ্ধি করে দেন।)) [মুসলিম]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ ((দয়া কর, তোমাদের প্রতি দয়া করা হবে, ক্ষমা করে দাও তোমাদেরকেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।)) [আহমাদ]

ইসলামী চরিত্রের মৌলিক বিষয় সমূহ

 

১১. মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধনঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি হচ্ছে মানুষের মাঝে সমঝোতা ও সংশোধন করে দেয়া, এটা একটি মহান চরিত্র যা ভালবাসা সৌহার্দ প্রসার ও মানুষের পারষ্পারিক সহযোগিতার প্রাণের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

لاَّ خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِّن نَّجْوَاهُمْ إِلاَّ مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلاَحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتَغَاءَ مَرْضَاتِ اللّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

[سورة النساء-114]

((তাদের অধিকাংশ কানাকানির মধ্যেই কল্যাণ নেই কেবল মাত্র সে ব্যক্তি ব্যতীত যে সাদকাহ, সৎকর্ম ও মানুষের মাঝে সংশোধনের ব্যাপারে নির্দেশ দেয়, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ সন্তুষ্টির লক্ষ্যে এসব করে অচীরেই আমরা তাকে মহা প্রতিদান প্রদান করব।)) [সূরা আন্-নিসাঃ ১১৪]

 

১২. লজ্জাঃ

ইসলামী চরিত্রের অন্যতম আরেকটি চরিত্র হচ্ছে লজ্জা। এটা এমন একটি চরিত্র যা পরিপূর্ণতা ও মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের দিকে আহবান করে। অশ্লীল ও বেহায়াপনা হতে বারণ করে। লজ্জা আল্লাহ্ পক্ষ হতে হয়ে থাকে। ফলে মুসলমান লজ্জা করে আল্লাহ্ তাকে পাপাচারে লিপ্ত না দেখুক। অনুরূপভাবে মানুষের এবং নিজের থেকেও সে লজ্জা করে। লজ্জা অন্তরে ঈমান থাকার প্রমাণ বহন করে।

নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((লজ্জা ঈমানের বিশেষ অংশ।)) [বুখারী ও মুসলিম]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ ((লজ্জা কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই নিয়ে আসে না।)) [বুখারী ও মুসলিম]

 

১৩. দয়া ও করুণাঃ

ইসলামী চরিত্রের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গুণ হচ্ছে দয়া বা করুণা। এ চরিত্রটি অনেক মানুষের অন্তর হতে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। ফলে তাদের অন্তর পাথরের মত অথবা তার চেয়েও শক্ত হয়ে গেছে। আর প্রকৃত মু'মিন হচ্ছে দয়াময়, অনুকৃপাকারী গভীর অনুভূতি সম্পন্ন উজ্জ্বল আবেগের অধিকারী। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

ثُمَّ كَانَ مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ - أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ

[سورة البلد-17-18]

((অতঃপর সে তাদের অন্তভুর্ক্ত হয় যারা ঈমান এনেছে পরস্পর পরস্পরকে ধৈর্য্য ও করুণার উপদেশ দিয়েছে তারা হচ্ছে দক্ষিণ পন্থার অনুসারী।)) [সূরা আল-বালাদঃ ১৭-১৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((মুমিনদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য, করুণা, অনুকম্পার উপমা হচ্ছে একটি শরীরের মত। যখন তার একটি অঙ্গ অসুস্থ হয় গোটা শরীর নিদ্রাহীনতা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়।)) [মুসলিম]

 

১৪. ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতাঃ

ন্যায় পরায়ণতা ইসলামী চরিত্রের আরেকটি চরিত্র। এ চরিত্র আত্মার প্রশান্তি সৃষ্টি করে। সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন প্রকার অপরাধ বিমোচনের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاء ذِي الْقُرْبَى

[سورة النحل-90]

((নিশ্চয়ই আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণতা ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করতে নির্দেশ দেন।)) [সূরা আল-নাহলঃ ৯০]

আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

اعْدِلُواْ هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى

[سورة المائدة-8]

((ইনসাফ কর, এটা তাক্বওয়ার অতীব নিকটবর্তী।)) [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((মুকসেতীনরা আল্লাহ্ নিকট নূরের মিম্বরের উপর বসবে তারা সে সব লোক যারা বিচার ফয়সালা, পরিবার-পরিজন এবং যে দায়িত্ব পেয়েছে তাতে ইনসাফ করে।))

 

১৫. চারিত্রিক পবিত্রতাঃ

ইসলামী চরিত্রের আর একটি অন্যতম দিক হচ্ছে চারিত্রিক পবিত্রতা। এ চরিত্র মানুষের সম্মান সংরক্ষণ এবং বংশে সংমিশ্রন না হওয়ার দিকে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّى يُغْنِيَهُمْ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ

[سورة النور-33]

((যারা বিবাহের সামর্থ পায় না তারা যেন চারিত্রিক পবিত্রতা গ্রহণ করে আল্লাহ্ তার অনুগ্রহে তাদেরকে সম্পদশালী করা পর্যন্ত।)) [সুরা আন-নূরঃ ৩৩]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ ((তোমরা আমার জন্য ছয়টি বিষয়ের যিম্মাদার হও, আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের যিম্মাদার হব, যখন তোমাদের কেউ কথা বলে সে যেন মিথ্যা না বলে। যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন যেন খেয়ানত না করে, যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা যেন ভঙ্গ না করে, তোমরা তোমাদের দৃষ্টি অবনত কর, তোমাদের হস্তদ্বয় সংযত কর, তোমাদের লজ্জাস্থান হেজাফত কর।)) [ হাদীসটি তাবারানী বর্ণনা করে হাসান বলেছেন]

ইসলামের এ সব চরিত্রে এমন কিছু নেই যা অপছন্দ করা যায়। বরং এসব এমন সম্মান যোগ্য ও মহৎ চারিত্রাবলী যা প্রত্যেক নিষ্কলুষ স্বভাবের অধিকারীর সমর্থন লাভ করে। মুসলমানগণ যদি (আজ) এ মহৎ চরিত্র ধারণ করত তাহলে সর্বত্র থেকে তাদের নিকট মানুষ আগমন করত এবং দলে দলে আল্লাহ্ দ্বীনে তারা প্রবেশ করত যেভাবে প্রথম যুগের মুসলমানদের লেন-দেন ও চরিত্রের কারণে যেভাবে মানুষ ইসলামে প্রবেশ করেছিল।

সমাপ্ত

________________________________________

Source: www.islamhouse.com/library ((সম্পূর্ণ অবানিজ্যিক ভিত্তিতে শুধুমাত্র দ্বীন প্রচারের লক্ষ্যে কেউ এই বইয়ের লিংক ব্যবহার ও ছাপাতে পারেন নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে-

১. লেখক ও অনুবাদকের নাম পরিবর্তন না করে এবং উল্লেখ করে।

২. বইয়ের মূল বিষয় ও লেখালেখিতে কোনরূপ পরিবর্তন না এনে।

৩. উত্তম হয় যদি সোর্স-এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আল্লাহ্ আপনাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন।))

 

সর্বশেষ আপডেট ( Thursday, 26 August 2010 )