সুন্নাতে রাসূল আঁকড়ে ধরা এবং বিদ'আত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য
লিখেছেন আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায   
Friday, 20 April 2007

وجوب لزوم السنة والحذر من البدعة

بسم الله الرحمن الرحيم

পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে শুরু করছি

সুন্নাতে রাসূল আঁকড়ে ধরা এবং বিদ'আত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি দ্বীনকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং আমাদের জন্য সকল কল্যাণ বিধান করে ইসলামকে দ্বীন হিসাবে নির্বাচন করেছেন। শান্তি ও করুণা বর্ষিত হউক তাঁরই বিশেষ বান্দাহ ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর যিনি অতিরঞ্জন, বিদ'আত (নব প্রথা) ও পাপাচার হতে মুক্ত থেকে তাঁর প্রভুর আনুগত্য করার প্রতি আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর বংশধর ও সাহাবী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসারী হবে সকলের উপর করুণা বর্ষণ করুন।

অতঃপর ভারতের উত্তর প্রদেশের শিল্প নগরী কানপুর থেকে প্রকাশিত 'ইদারত' নামক এক উর্দু সাপ্তাহিকীর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ সম্পর্কে আমি অবহিত হলাম। এতে প্রকাশ্যভাবে সৌদী আরবের অবলম্বিত ইসলামী আক্বীদা সমূহ এবং বিদ'আত বিরোধিতার উপর আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হয়েছে। সৌদী সরকার কর্তৃক অবলম্বিত সালাফে সালেহীনের আক্বীদাকে সুন্নাহ বিরোধী বলে দোষারোপ করা হয়েছে। লেখক আহলে সুন্নাতের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করে তাদের মধ্যে বিদ'আত ও কুসংস্কারের প্রসার সাধনের দূরভিসন্ধি নিয়েই উক্ত প্রবন্ধটি রচনা করেছেন।

নিঃসন্দেহে এটি একটি জঘন্য আচরণ ও ভয়ানক চক্রান্ত, যার উদ্দেশ্য ইসলাম ধর্মের ক্ষতি এবং ভ্রষ্টতা ও বিদ'আতের প্রসার সাধন। লেখক রাসূলুল্লাহর জন্মানুষ্ঠান বা মীলাদ মহফিল আয়োজনের উপর পরিষ্কার ভাবে জোর দিয়েছেন এবং এ প্রসঙ্গ ধরে সৌদী আরব ও তার নেতৃত্বের বিশুদ্ধ আক্বীদার উপর বিরূপ আলোচনার সূত্রপাত করেছেন। অতএব জনসাধারণকে এ সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় আল্লাহ তা'আলার সাহায্য প্রার্থনা করে আমি নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রদান করছি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা অন্য কারো জন্মোৎসব পালন করা জায়েয নয়, বরং তা বারণ করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা এটি ধর্মে নব প্রবর্তিত একটি বিদ'আত। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও এ কাজ করেননি। তাঁর নিজের বা তাঁর পূর্ববর্তী কোন নবী বা তাঁর কোন দুহিতা, স্ত্রী, আত্মীয় অথবা কোন সাহাবীর জন্মদিন পালনের কোন নির্দেশ তিনি দেননি। খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম (আল্লাহ তা'আলা তাঁদের সকলের উপর সন্তুষ্ট হউন) অথবা তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবেয়ীনদের মধ্যেও কেউই এমন কাজ করেননি। এমনকি, আমাদের পূর্ববর্তী অধিকতর উত্তম যুগে কোন আলেমও এ কাজ করেননি। অথচ তাঁরা সুন্নাহ সম্পর্কে আমাদের চেয়ে অধিকতর জ্ঞান রাখতেন এবং আল্লাহর রাসূল ও তাঁর শরীয়ত পালনকে সর্বাধিক ভালবাসতেন। যদি এ কাজটি এমনই সওয়াবের হতো তাহলে তাঁরা আমাদের আগেই তা করতেন।

দ্বীনে ইসলামী একটি পরিপূর্ণ ধর্ম। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূলের মাধ্যমে যে শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন তা স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধায়, আমাদেরকে তা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিদ'আত বা নতুন কোন প্রথার সংযোজন থেকে নিষেধ করা হয়েছে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়া'ত এই শিক্ষা সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবেয়ীনদের কাছ থেকে সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ করেছেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: ((আমাদের এই ধর্মে যে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।)) এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত অন্য এক হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((কেউ যদি এমন কাজ করে যা আমাদের এই ধর্মে নেই তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত হবে।)) তিনি অন্য এক হাদীসে এরশাদ করেছেন: ((তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত পালন করবে। আর, তা দৃঢ়তার সাথে ধারণ করবে। সাবধান! কখনও ধর্মে নব প্রবর্তিত কোন বিষয় গ্রহণ করবে না। কেননা প্রত্যেক নব প্রবর্তিত বিষয়ই বিদ'আত এবং প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা।)) রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুম'আর দিন খুৎবায় বলতেন: ((নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব আর সর্বোত্তম তরীকা হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকা। সর্ব নিকৃষ্ট বিষয় হলো মনগড়া নব প্রবর্তিত বিষয় বিদ'আত এবং এরূপ প্রতিটি বিদ'আত-ই পথভ্রষ্টতা।))

এই সমস্ত হাদীসে বিদ'আত প্রবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্ক বাণী উচ্চারণ করা হয়েছে এবং উম্মতকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে। আর, এতে লিপ্ত হওয়া থেকে ভীতিপ্রদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে আরো অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

 وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا (7) سورة الحشر

অর্থ: "রাসূল [সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যা তোমাদেরকে দেন তা গ্রহণ কর এবং যা কিছু নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।" [সূরা আল-হাশর: ৭] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

 فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (63) سورة النــور

অর্থ: "যারা তাঁর (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) হুকুমের বিরোধিতা করে তাদের ভয় করা উচিত যে, তাদের উপর কোন ফেৎনা বা কোন মর্মন্তুদ শাস্তি আসতে পারে।" [সূরা আন-নূর: ৬৩] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

 لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا (21) سورة الأحزاب

অর্থ:"প্রকৃতপক্ষে,তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের আশা রাখে এবং আল্লাহকে খুব বেশী করে স্মরণ করে তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবনে এক সর্বোত্তম নমুনা বর্তমান রয়েছে।"[সূরা আল-আহযাব:২১] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

 وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (100) سورة التوبة

অর্থ:"সেসব মুহাজির ও আনসার, যারা সর্ব প্রথম ঈমানের দাওয়াত কবুল করেছিল এবং যারা নিতান্ত সততার সাথে তাদের অনুসরণ করেছিল তাদের উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং তারাও আল্লাহ তা'আলার উপর সন্তুষ্ট। আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্য এমন জান্নাত সমূহ তৈরী করে রেখেছেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা সর্বদা প্রবাহমান। এই জান্নাতে তারা চিরস্থায়ী থাকবে। বস্তুতঃ ইহা এক বিরাট সাফল্য।" [সূরা আত-তাওবাহ: ১০০] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

 الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا (3) سورة المائدة

অর্থ: "আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিলাম, আর, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত পূর্ণ করে ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসাবে পছন্দ করে নিলাম।" [সূরা আল-মায়েদা: ৩]

এই আয়াত দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ এই উম্মতের জন্য প্রবর্তিত দ্বীনকে ও তাঁর নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উপর অর্পিত বালাগে মুবীন বা স্পষ্ট বার্তাকে পৌঁছাবার এবং কথায় ও কাজে শরীয়তকে বাস্তবায়িত করার পরই পরলোক গমন করেন। তিনি এই বিষয়টি পরিষ্কার করে বলে গেছেন যে, তাঁর পরে লোকেরা কথায় বা কাজে যেসব নব প্রথার উদ্ভাবন করে শরীয়তের সাথে সম্পৃক্ত করবে সেসব বিদ'আত বিধায় প্রত্যাখ্যাত হবে। যদিও এগুলোর প্রবক্তার উদ্দেশ্য সৎ থাকবে। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীগণ বিদ'আত থেকে জনগণকে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করেছেন। কেননা এটা ধর্মে অতিরিক্ত সংযোজন যার অনুমতি আল্লাহ তা'আলা কাউকে দেননি এবং ইহা আল্লাহর শত্রু ইয়াহূদী ও খৃষ্টান কতর্ৃক তাদের ধর্মে নব নব প্রথা সংযোজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য স্বরূপ। এরূপ করার অর্থ এই দাঁড়ায় যে, ইসলামকে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার সুযোগ প্রদান করা। এটা যে কত বড় ফাসাদ ও জঘন্য কর্ম এবং আল্লাহর বাণীর বিরোধী তা সর্বজন বিদিত। আল্লাহ বলেন:

 الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ  (3) سورة المائدة

অর্থ: "আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ করে দিলাম।" [সূরা আল-মায়েদা: ৩]

সেই সাথে ইহা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিষ্কার হাদীস সমূহ যেগুলোতে তিনি বিদ'আত থেকে সতর্ক ও দূরে থাকতে বলেছেন সেগুলোরও সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

মীলাদ মহফিল বা নবীর জন্মোৎসব পালন বা এ জাতীয় অন্যান্য উৎসবাদির প্রবর্তনের মাধ্যমে এ কথাই বোঝা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতের জন্য ধর্মকে পূর্ণতা দান করেননি এবং যা যা করণীয় তার বার্তা রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের নিকট পৌঁছাননি। তাই, পরবর্তী কালের এইসব লোকেরা এসে এমন কিছু প্রবর্তন করেছেন যার অনুমতি আল্লাহ তা'আলা তাদের দেননি, অথচ তারা ভাবছেন এতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হবে। নিঃসন্দেহে এতে মারাত্মক ভয়ের কারণ রয়েছে এবং তা আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর আপত্তি উত্থাপনের শামিল। অথচ আল্লাহ তাঁর বান্দাহদের ধর্মকে সর্বাঙ্গীনভাবে পূর্ণ করেছেন ও তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পষ্ট বার্তা যথাযথভাবে পৌঁছিয়েছেন। তিনি এমন কোন পথ যা জান্নাতের পানে নিয়ে যায় এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখে উম্মতকে তা বাতলাতে কসূর করেননি। যেমন; আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আল্লাহ যত নবী পাঠিয়েছেন উম্মতের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব এই ছিল যে, উম্মতের জন্য যা কিছু ভাল জানেন তাই বলবেন আর যা কিছু মন্দ বলে জানেন তা থেকে তাদেরকে সতর্ক করবেন।)) সহীহ মুসলিমে এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

এ কথা সকলের জানা আছে যে, আমাদের নবী সকল নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ। তিনি সবার চেয়ে অধিক পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পয়গাম ও উপদেশ বার্তা পৌঁছিয়েছেন। যদি মীলাদ মহফিল আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত দ্বীনের অংশ হতো তাহলে তিনি নিশ্চয়ই উম্মতের কাছে বর্ণনা করতেন। যেহেতু এমন কিছু পাওয়া যায় না, অতএব, প্রমাণিত হয় যে, ইসলামের সাথে এই মীলাদ মহফিলের কোনই সম্পর্ক নেই বরং এটা বিদ'আত যা থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। যেমন পূর্বোল্লেখিত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

এক দল উলামায়ে কেরাম উপরোক্ত ও অন্যান্য দলীলের উপর ভিত্তি করে মীলাদ মহফিল পালনের বৈধতা অস্বীকার করতঃ এ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। এটা জানা কথা যে, বিরোধপূর্ণ বিষয় এবং হালাল বা হারামের ব্যাপারে শরীয়তের নীতি হলো কুরআন ও হাদীসে রাসূল-এর মীমাংসা অনুসন্ধান করা। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً (59) سورة النساء

অর্থ: "হে ঈমানদারগণ! আনুগত্য কর আল্লাহর, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে কর্তা ব্যক্তিদের। যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মত বিরোধ দেখা দেয় তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও যদি তোমরা আল্লাহ তা'আলা ও কিয়ামতের উপর বিশ্বাস করে থাক। এটাই উৎকৃষ্ট এবং পরিণতির দিক দিয়ে সর্বোত্তম পন্থা। [সূরা আন-নিসা: ৫৯] আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন:

 وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ (10) سورة الشورى

অর্থ: "তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করনা কেন তার মীমাংসা আল্লাহরই নিকট রয়েছে।" [সূরা আশ-শূরা: ১০]

যদি এই মীলাদ মহফিলের বিষয়টি সম্পর্কে কুরআন মজিদের দিকে ফিরে যাই তাহলে দেখতে পাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা আদেশ বা নিষেধ করেছেন আমাদের তা-ই অনুসরণ করার নির্দেশ দেন এবং জানান যে, তিনি এই উম্মতের জন্য ধর্মকে পূর্ণতা দান করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার মধ্যে মীলাদ অনুষ্ঠানের কোন ইঙ্গিত পর্যন্ত নেই। সুতরাং এ কাজ সে দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় যা আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্য পূর্ণ করে দিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে আমাদেরকে তাঁর রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করার নির্দেশ রয়েছে।

এভাবে যদি আমরা এ ব্যাপারে সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাই যে, রাসূল এ কাজ করেননি, এর আদেশও দেননি। এমনকি তাঁর সাহাবীগণও (তাঁদের উপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হউক) তা করেননি। তাই আমরা বুঝতে পারি যে, এটা ধর্মীয় কাজ নয় বরং বিদ'আত এবং ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের উৎসব সমূহের অন্ধ অনুকরণ। যে ব্যক্তির সামান্যতম বিচক্ষণতা আছে এবং হক গ্রহণে ও তা অনুসন্ধানে সামান্যতম বিবেক ও আগ্রহ রাখে তার বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না যে, ধর্মের সাথে মীলাদ মহফিল বা যাবতীয় জন্ম বার্ষিকী পালনের কোন সম্পর্ক নেই। বরং যে বিদ'আত সমূহ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ ও সতর্ক করেছেন এটি সেগুলোরই অন্তর্ভুক্ত।

বিভিন্ন স্থানে অধিক সংখ্যক লোককে এই বিদ'আতী কাজে লিপ্ত দেখে কোন বুদ্ধিমান লোকের পক্ষে প্রবঞ্চিত হওয়া সংগত নয়। কেননা ন্যায় বা হক লোকের সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে জানা যায় না বরং শরীয়তের দলীল সমূহের মাধ্যমে তা অনুধাবন করা হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সম্পর্কে বলেছেন:

 وَقَالُواْ لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَن كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُواْ بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ (111) سورة البقرة

অর্থ: "তারা বলে ইয়াহূদী ও খৃষ্টান ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে কখনও প্রবেশ করবে না। এটা তাদের মিথ্যা আশা। আপনি বলুন, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক তাহলে যুক্তি প্রমাণ নিয়ে এসো।" [সূরা আল-বাকারাহ: ১১১] আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন:

 وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللّهِ (116) سورة الأنعام

অর্থ: "যদি আপনি এই পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের অনুসরণ করেন তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহ তা'আলার পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেবে।" সূরা আল-আন'আম: ১১৬]

এই মীলাদ মহফিল সমূহ বিদ'আত হওয়ার সাথে সাথে অনেক এলাকায় প্রায়শঃ তা অন্যান্য পাপাচার থেকেও মুক্ত হয় না। যেমন নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ, গান-বাজনা ও মাদক দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি। সর্বোপরি এই সব মহফিলে শির্কে আকবর সংঘটিত হয়ে থাকে। আর তা হলো; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য আওলিয়ায়ে কেরামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা, তাদের কাছে দু'আ করা, সাহায্য ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, তাঁরা গায়েব জানেন, ইত্যাদি কাজ যা করলে লোক কাফের হয়ে যায়। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেছেন: ((সাবধান! ধর্মে অতিরঞ্জন করো না। তোমাদের আগে যারা ছিল তারা ধর্মে অতিরঞ্জনের ফলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।))

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: ((তোমরা আমার এমন অতি প্রশংসা করো না যেমন খৃষ্টানগণ ইবনে মারইয়ামের (ঈসা আলাইহিস সালাম) অতি প্রশংসায় লিপ্ত হয়েছিল। আমি একজন বান্দা, তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল বলে উল্লেখ করো।)) ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

অতীব আশ্চর্য ও বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, অনেক লোক এ ধরনের বিদ'আতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য খুবই তৎপর ও সচেষ্ট এবং এর স্বপক্ষে যুক্তি প্রমাণ দাঁড় করাতে স্বতঃ প্রস্তুত। অথচ তারা জামাতের নামাযে ও জুমআর নামাযে অনুপস্থিত থাকতে কুন্ঠাবোধ করে না, যদিও তা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন। এমনকি এ বিষয়ে তারা মস্তক উত্তোলনও করে না এবং এটাও উপলব্ধি করে না যে, তারা একটি মারাত্মক অন্যায় কাজ করছে। নিঃসন্দেহে ঈমানের দূর্বলতা, ক্ষীণ বিচক্ষণতা ও নানা রকম পাপাচার হৃদয়ে আসন করে নেওয়ার ফলেই এ রকম হয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলার কাছে আমাদের এবং সকল মুসলিমের জন্য সংযম ও নিরাপত্তা কামনা করি।

এর চেয়েও বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, অনেকের ধারণা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীলাদ মহফিলে উপস্থিত হন। তাই তারা তাঁকে অভিনন্দন জানাতে দাঁড়িয়ে যায়। এটা মস্ত বড় অসত্য ও হীন অজ্ঞতা বৈ কিছু নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের পূর্বে তাঁর কবর থেকে বের হবেন না, বা কারো সাথে যোগাযোগ করবেন না এবং কোন সমাবেশেও উপস্থিত হবেন না। বরং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত স্বীয় কবরেই অবস্থান করবেন এবং তাঁর পাক রূহ প্রভুর নিকট উর্দ্ধতন ইল্লীয়্যীনের সম্মানজনক স্থানে সংরক্ষিত থাকবে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

 ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ (15-16) المؤمنون

অর্থ: "এরপর তোমাদের অবশ্যই মরতে হবে, অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের অবশ্যই পুনরুজ্জীবিত করা হবে।" [সূরা আল-মু'মিনূন: ১৫-১৬]

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((কিয়ামতের দিন আমার কবরই সর্ব প্রথম খন্ডিত হবে। আমিই প্রথম সুপারিশকারী এবং আমারই সুপারিশ সবার আগে গৃহীত হবে।))

এই আয়াত ও হাদীস শরীফ এবং এই অর্থে যেসব আয়াত ও হাদীস এসেছে তার দ্বারা বুঝা যায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ অন্যান্য সব মৃত লোকগণ শুধুমাত্র কিয়ামতের দিনই তাদের কবর থেকে বের হবেন। সমস্ত মুসলিম আলেমগণের মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্যমত (ইজমা') প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এতে কারো মত বিরোধ নেই। সুতরাং সকল মুসলিমের উচিত এসব বিষয়ে অবহিত হওয়া এবং অজ্ঞ লোকেরা যেসব বিদ'আত ও কুসংস্কার আল্লাহ পাকের নির্দেশ ব্যতিরেকে প্রবর্তন করেছে সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ ও সালাম পড়া নিঃসন্দেহে একটি ভাল আমল এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক উত্তম পন্থা। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:

 إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (56) سورة الأحزاب

অর্থ:"নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং ফেরেশ্তাগণ নবীর প্রতি অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মু'মিনগণ তোমরাও তাঁর প্রতি অনুগ্রহ প্রার্থনা কর ও সালাম পাঠাও।" [সূরা আল-আহযাব: ৫৬]

নবী করীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: ((যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠায় আল্লাহ তা'আলা এর প্রতিদানে তার উপর দশবার রহমত নাযিল করেন।))

সব সময়ই দরূদ পড়ার বৈধতা রয়েছে। তবে নামাযের শেষে পড়ার জন্য বিশেষভাবে তাকিদ করা হয়েছে বরং অনেক আলেমের মতে নামাযের মধ্যে ও শেষে তাশাহহুদের সময় দরূদ পড়া ওয়াজিব। অনেক ক্ষেত্রে এই দরূদ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। যেমন; আযানের পরে, জুম'আর দিনে ও রাতে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ হলে। এ ব্যাপারে অনেক হাদীস রয়েছে। এই বিষয়ে আমি যা সতর্ক করতে চেয়েছিলাম তা করেছি। আশা করি, আল্লাহ তা'আলা যার প্রতি উপলব্ধির দ্বার খুলেছেন ও যার দৃষ্টি শক্তিতে আলো দান করেছেন তার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।

আমার জেনে খুবই দুঃখ হয় যে, এরূপ বিদ'আতী অনুষ্ঠান এমন সব মুসলমান দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে যারা তাদের আকায়েদ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতের ব্যাপারে খুবই দৃঢ়তা রাখেন। যে এই সবের প্রবক্তা তাকে বলছি, যদি তুমি সুন্নী ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারী হওয়ার দাবি রাখ তাহলে বল, তিনি স্বয়ং বা তাঁর কোন সাহাবী বা তাঁদের সঠিক অনুসারী কোন তাবেয়ী কি এ কাজটি করেছেন, না এটা ইয়াহূদী ও খৃষ্টান বা তাদের মত অন্যান্য আল্লাহর শত্রুদের অন্ধ অনুকরণ? এ ধরনের মীলাদ মহফিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালবাসা প্রতিফলিত হয় না। যা করলে ভালবাসা প্রতিফলিত হয় তা হলো তাঁর নির্দেশের অনুসরণ করা, যা কিছু তিনি বলেছেন তা বিশ্বাস করা, যা কিছু নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ করেছেন কেবল সেভাবেই তাঁর উপাসনা করা। এমনিভাবে, রাসূলের উল্লেখ করা হলে, নামাযের সময় ও সদা সর্বদা যে কোন উপলক্ষে তাঁর উপর দরূদ পাঠ করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি ভালবাসা প্রমাণিত হয়।

এই সমস্ত বিদ'আতী বিষয় অস্বীকার করে ওহ্হাবী আন্দোলন (লেখকের ভাষায়) নতুন কিছু করেনি। বস্তুতঃ ওহ্হাবীদের আক্বীদা হলো নিম্নরূপ:

কুরআন ও সুন্নাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আঁকড়ে ধরা এবং রাসূল, তাঁর খুলাফায়ে রাশেদীন ও তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবেয়ীনদের প্রদর্শিত পথে চলা। আল্লাহর মা'রেফাতের ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন, আইম্মায়ে দ্বীন ও ধর্মীয় শাস্ত্রবিদগণের পথ অনুসরণ করা এবং আল্লাহ তা'আলার সিফাতকে (গুণাবলী) সেভাবে গ্রহণ করা যেভাবে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সমর্থন ও গ্রহণ করেছেন। ওহ্হাবীগণ আল্লাহ তা'আলার সিফাতকে অবিকৃত ও দৃষ্টান্তহীন এবং কোন ধরণ ব্যতিরেকে বিনা দ্বিধায় সেভাবে প্রমাণিত ও বিশ্বাস করে চলেন যেভাবে উহা তাদের কাছে পৌঁছেছে। তারা তাবেয়ীন ও তাদের অনুসারী (যারা ছিলেন ইলম, ঈমান ও তাকওয়ার অধিকারী) সালাফে সালেহীন ও আইম্মায়ে দ্বীনের পথই আঁকড়ে ধরে আছেন। তাঁরা এ-ও বিশ্বাস করেন যে, ঈমানের মূল ভিত্তি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।' (আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মা'বূদ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।) এটাই এক আল্লাহর উপর বিশ্বাসের মূল ভিত্তি ও ঈমানের প্রধান কথা। তাঁরা এ-ও বিশ্বাস করেন যে, এই ঈমানী ভিত্তির প্রতিষ্ঠায় ইলম, আমল এবং ইজমায়ে মুসলিমের (সমগ্র মুসলমানদের ঐক্যমত) স্বীকৃতি অপরিহার্য।

এই মৌল বাক্যের অর্থ হলো: একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর এবাদত করা অবশ্য কর্তব্য, আর আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছু বা যে কেউ হোক কারোর উপাসনা করা যাবে না। এই সেই হিকমত যার জন্য জ্বীন ও ইনসানকে সৃষ্টি করা হয়েছে, রাসূলগণকে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আসমানী গ্রন্থ সমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে একমাত্র আল্লাহরই প্রতি বিনয় ও ভালবাসা, আনুগত্য ও সম্মান প্রদর্শন। এরই নাম ইসলাম ধর্ম যা ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন না পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে না পরবর্তীদের কাছ থেকে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। সমস্ত আম্বিয়ায়ে কেরাম দ্বীনে ইসলামের অনুগামী ছিলেন এবং ইসলামের অন্তর্নিহিত আত্মসমর্পণের গুণে গুণান্বিত ছিলেন। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে এবং সেই সাথে অন্যের কাছেও আত্মসমর্পণ করে বা প্রার্থনা করে সে মুশরিক। আর, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে না, সে আল্লাহর এবাদত করতে অহংকারী দাম্ভিক বলে বিবেচিত। আল্লাহ তা'আলা বলেন:

 وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ (36) سورة النحل

অর্থ: "আমি প্রত্যেক জাতির প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত (শয়তান ও অনুরূপ ভ্রান্ত শক্তি) থেকে দূরে থাক।" [সূরা আন-নাহল: ৩৬]

ওহ্হাবী পন্থীরা 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষীর বাস্তবায়নে বিদ'আত, কুসংস্কার এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহর প্রবর্তিত শরীয়ত বিরোধী আচার অনুষ্ঠান বর্জনে দৃঢ় বিশ্বাসী।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহ্হাবের (তাঁর উপর আল্লাহ তা'আলার রহমত বর্ষিত হউক) এই ছিল আক্বীদা। এই আক্বীদার ভিত্তিতেই তিনি আল্লাহর বন্দেগী করেন এবং এর প্রতিই লোকদের আহ্বান জানান। যে ব্যক্তি এ ছাড়া অন্য কিছু তাঁর প্রতি সম্পৃক্ত করে, সে মিথ্যা এবং বানোয়াট বলে স্পষ্ট পাপ করছে। সে এমন কথা বলছে, যা তার জানা নেই। আল্লাহ তাকে এবং তার মত এইরূপ অপবাদকারীদের যথাযথ শাস্তি দিবেন।

শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহ্হাব যেসব মূল্যবান বিবৃতি দিয়েছেন এবং অতি উচ্চমানের অনন্য গবেষণাপত্র ও পুস্তিকাদি রচনা করেছেন তাতে তিনি কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা'র আলোকে তাওহীদ, এখলাস ও শাহাদাতের আলোচনা করে আল্লাহ ছাড়া অন্য সকলের এবাদতের যোগ্যতা খন্ডন করেছেন এবং ছোট বড় সকল প্রকার শির্ক থেকে পাক হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহকেই পূর্ণভাবে এবাদতের যোগ্য বলে স্বীকার করার বিষয়টি প্রমাণ করেছেন। যে ব্যক্তি তাঁর পুস্তিকাদি যথাযথ অধ্যয়ন করেছে এবং তাঁর সুশিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন সহচর ও শিষ্যদের মতাদর্শ সম্পর্কে অবহিত হয়েছে সে সহজেই বুঝতে পারে যে, তিনি সালাফে সালেহীন ও আইম্মায়ে দ্বীনের মতাদর্শেরই অনুসারী ছিলেন। তিনি তাঁদেরই মত একমাত্র আল্লাহর এবাদতের কথা বলতেন এবং কুসংস্কার-বিদ'আতকে প্রত্যাখ্যান করতেন। সৌদী সরকার এই মতের উপরই প্রতিষ্ঠিত এবং সৌদী উলামায়ে কেরামও এই মতাদর্শের উপরই চলেছেন। সৌদী সরকার একমাত্র ইসলাম ধর্ম বিরোধী বিদ'আত ও কুসংস্কার এবং ধর্মীয় ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নিষিদ্ধ সীমাতিরিক্ত ভক্তি ও অতিরঞ্জনের বিরুদ্ধেই কঠোরভাবে সোচ্চার। সৌদী আলেম সমাজ, জনগণ ও শাসকবর্গ প্রতিটি মুসলমানকে অঞ্চল ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। তাদের মনে সবার জন্য রয়েছে গভীর ভালবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও মর্যাদা বোধ। কিন্তু যারা ভ্রান্ত ধর্মে বিশ্বাস রাখে এবং বিদ'আতী ও কুসংস্কার পূর্ণ উৎসবাদি পালন করে তাদের এই কার্যকলাপ তাঁরা অস্বীকার ও নিষেধ করেন। কেননা এসব কাজ ধর্মে নতুন সংযোজন হিসেবে পরিগণিত আর সব নতুন সংযোজনই বিদ'আত।

আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূল এ সবের অনুমতি দেননি। ইসলামী শরীয়ত একটি পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ধর্ম। এতে নতুন কিছু সংযোজনের কোন প্রয়োজন বা অবকাশ নেই। তাই মুসলমানদের শুধুমাত্র অনুকরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে. নব-নব ধর্ম প্রথা প্রবর্তনের জন্য বলা হয় নি। সাহাবা ও তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবে'য়ীন থেকে সকল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এ বিষয়টি সম্যকভাবে সমর্থন ও গ্রহণ করেছেন। এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মোৎসব পালন বা এর সংশ্লিষ্ট শির্ক ও অতিরঞ্জনকে নিষেধ করা কোনরূপ অনৈসলামিক কাজ এবং এতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। বরং এটা তো রাসূলেরই আনুগত্য ও তাঁরই নির্দেশ পালন। তিনি বলেছেন:

((সাবধান! ধর্মে অতিরঞ্জন করো না। তোমাদের আগে যারা ছিল তারা ধর্মে অতিরঞ্জনের ফলেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।)) তিনি আরও বলেছেন: ((তোমরা আমার এমন অতি প্রশংসা করো না যেমন খৃষ্টানগণ ইবনে মারইয়াম (ঈসা আলাইহিস সালাম) এর অতি প্রশংসা করেছে। আমি তো মাত্র একজন বান্দা। তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল বলে উল্লেখ করো।))

উপরোল্লেখিত প্রবন্ধ সম্পর্কে এটুকুই আমার বক্তব্য। আল্লাহ তা'আলার কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদের ও অন্যান্য সকল মুসলমানকে দ্বীন উপলব্ধি করার, এর উপর কায়েম থাকার, সুন্নাতে রাসূল দৃঢ়ভাবে ধারণ করার এবং বিদ'আত থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অশেষ দাতা ও পরম করুণাময়।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীদের উপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

সমাপ্ত

{mospagebreak title=

আল্লামা শায়খ বিন বাযের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

}

আল্লামা শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায রাহেমাহুল্লাহ মুসলিম বিশ্বে এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অনন্য প্রজ্ঞা,অসাধারণ পান্ডিত্ব, উদার চরিত্র এবং ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থে নিরলস খেদমতের জন্য দেশ ও মাযহাব নির্বেশেষে তিনি সকলের কাছে সমাদৃত ছিলেন। বিশ্ব মুসলিমের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার এবং ইসলাম বিরোধী নানা চক্রান্ত কলা-কৌশলের বিরুদ্ধে তাঁর অকুতোভয় জিহাদ সর্বত্র প্রশংসনীয় ছিল। কুরআন ও সুন্নাতে বর্ণিত খাঁটি ইসলামী আক্বীদার প্রচার এবং কাল-পরিক্রমায় মুসলিম সমাজের জটবাঁধা কুসংস্কার ও বিদ'আতের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশের মাধ্যমে উম্মতের কাছে ইসলামের প্রকৃত রূপ পুনঃস্থাপনের চেষ্টায় তিনি নিয়োজিত ছিলেন। তাওহীদের প্রতিষ্ঠা ও সুন্নাতে রাসূলের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় তাঁর লেখনী, বক্তৃতা ও প্রতিষ্ঠানিক ব্যস্ততার মুখ্য অংশ ছিল। হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ধারণে কখনও কোন শংকা বা প্রলোভন তাঁর অকুতোভয় চরিত্রকে প্রভাবিত করতে পারেনি।

আল্লামা শায়খ বিন বায ১৩৩০ হিজরীর যিলহজ্জ মাসে সৌদী আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্র জীবনের প্রথম দিকে তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালই ছিল। ১৩৪৬ সনেই তাঁর চোখে প্রথম রোগ দেখা দেয় এবং এর ফলে তাঁর দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। অতঃপর ১৩৫০ সনের মুহাররাম মাসে অর্থাৎ বিশ বছর বয়সে তাঁর দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরূপে লোপ পায়। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: 'আমার দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও আমি আল্লাহ পাকের সর্ববিধ প্রশংসা জ্ঞাপন করি। আল্লাহ পাকের কাছে দু'আ করি তিনি যেন এর পরিবর্তে দুনিয়াতে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং আখিরাতে উত্তম প্রতিফল দান করেন, যেমন তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় এই সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমি আল্লাহ পাকের কাছে আরো দু'আ করি তিনি যেন দুনিয়াতে ও আখিরাতে আমার শুভ পরিণতি দান করেন।'

বাল্যকাল হতেই শায়খ বিন বায লেখাপড়া শুরু করেন। বালেগ হওয়ার পূর্বেই তিনি কুরআন শরীফ হিফ্জ করে ফেলেন। মক্কার খ্যাতনামা ক্বারী শায়খ সা'দ ওক্কাস আল-বুখারীর নিকট তাজবীদ শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি সৌদী আরবের তৎকালীন গ্রান্ডমুফতী মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বিন আব্দুল লতীফ আলে শায়খ সহ দেশের খ্যাতনামা আলেমগণের নিকট শরীয়তের বিভিন্ন শাস্ত্রে ও আরবী ভাষায় গভীর শিক্ষা লাভ করেন। গ্রান্ডমুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীমের নিকট একাধারে তিনি দশ বছর বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

১৩৫৭ সনে উক্ত শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীমের প্রস্তাব অনুযায়ী তিনি রিয়াদের অদূরে আল-খারজ এলাকার বিচারপতি নিযুক্ত হন। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর বিচারপতির দায়িত্ব পালনের পর ১৩৭২ সনে রিয়াদ প্রত্যাবর্তন করেন এবং রিয়াদ মা'হাদে ইলমীতে শিক্ষকতার কাজে নিয়োজিত হন। এর এক বছর পর তিনি রিয়াদের শরীয়ত কলেজে অধ্যাপনার কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ নয় বছর এই কলেজে তিনি ফিক্হ, তাওহীদ ও হাদীস শাস্ত্রে শিক্ষা দান করেন। ১৩৮১ সনে যখন মদীনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তখন শায়খ বিন বায এর প্রথম ভাইস চান্সেলর পদ অলংকৃত করেন। ১৩৯০ সনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্সেলরের পদে উন্নীত হন এবং ১৩৯৫ সন পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন। অতঃপর ১৩৯৫ সনে বাদশাহী এক ফরমানের অধীনে তাঁকে 'ইসলামী গবেষণা, ফাতওয়া, দাওয়াত ও ইরশাদ' দারুল ইফতা নামক সৌদী আরবের সবের্্বাচ্চ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ করা হয়। শেষ বিদায় পর্যন্ত তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

উক্ত দায়িত্বের পাশাপাশি আরো অনেক সহযোগী সংস্থার সাথে শায়খ বিন বায জড়িত ছিলেন। যেমন:

১। সদস্য, উচ্চ উলামা পরিষদ, সৌদী আরব।

২। প্রধান, স্থায়ী ইসলামী গবেষণা ও ফাতওয়া কমিটি।

৩। প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ও সদস্য, রাবেতায়ে আলামে ইসলামী।

৪। প্রেসিডেন্ট, আন্তর্জাতিক মসজিদ সংক্রান্ত উচ্চ পরিষদ।

৫। সদস্য, উচ্চ পরিষদ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

৬। প্রেসিডেন্ট, ইসলামী ফিক্হ পরিষদ, মক্কা মুকার্রামা।

৭। সদস্য, উচ্চ কমিটি দাওয়াতে ইসলামী, সৌদী আরব।

আল্লামা শায়খ বিন বায ছোট-বড় অনেক মূল্যবান গ্রন্থের রচয়িতা। তন্মধ্যে সঠিক ধর্ম বিশ্বাস ও উহার পরিপন্থী বিষয়, ইসলামের দৃষ্টিতে আরব জাতীয়তাবাদ, আল্লাহর দিকে আহ্বান ও আহ্বানকারীর চরিত্র, সুন্নাতে রাসূল আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত থেকে সতর্ক থাকা অপরিহার্য, হজ্জ, উমরা ও যিয়ারত সম্পর্কিত বিষয়াদির বিশ্লেষণ, আল্লাহর পথে জিহাদ ইত্যাদি। এ ছাড়া শারহ আকীদায়ে তাহাভীয়া ও ফাতহুল বারী শারহ বুখারী সহ কয়েকটি গ্রন্থের উপর তাঁর টীকা রয়েছে।

সমপ্রতি শায়খ বিন বাযের বিভিন্ন বক্তৃতা, রচনা, প্রশ্নোত্তর ও পত্রাবলী একত্রে সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে; 'মাজমু ফাতাওয়া ও মাকালাত মুতানাওয়ীয়া' (مجموع فتاوى و مقالات متنوعة) শিরোনামে ১৯ খন্ড প্রকাশিত হয়েছে। সংকলনের প্রথম ছয় খন্ডই তাওহীদ ও তার আনুসঙ্গিক বিষয়াদির উপর। পরবর্তী খন্ডগুলো যথাক্রমে হাদীস, সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদির শামিল।

'ইসলামী গবেষণা' পত্রিকার সম্পাদক এবং শায়খ বিন বাযের বিশেষ উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মাদ বিন সা'দ আল-শুয়াইর এর তত্ত্বাবধানে আমার উপর এই সংকলনের দায়িত্ব অর্পিত হওয়ায় আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এই মহান দায়িত্ব পালনে আল্লাহ পাকের বিশেষ তাওফীক কামনা করি।

আল্লামা শায়খ বিন বায বিভিন্ন রকমের গুরুদায়িত্বে লিপ্ত থাকা সত্বেও দাওয়াত, দরস ও ওয়াজ নসীহতের কর্তব্য থেকে কখনও বিচু্যত হননি। সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ থেকে কোন উপলক্ষ বাদ পড়েনি। আল-খারজ এলাকায় বিচারপতি থাকা কালীন দরস ও ওয়াজ নসীহতের হালকা প্রবর্তন করেন। রিয়াদ প্রত্যাবর্তনের পর রিয়াদস্থ প্রধান জামে মসজিদে যে দরসের প্রবর্তন করেছিলেন তা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। মদীনায় থাকা কালীন সেখানেও দরসের হালকা প্রবর্তন করেন। এমন কি সাময়িক ভাবে কোন শহরে স্থানান্তরিত হলে সেখানেও তিনি দরসের হালকা জারী করতেন। এতদ্ব্যতীত, সময়ে সময়ে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে সারগর্ভ বক্তৃতা ও উপদেশ প্রদানের সুযোগও তিনি হাত ছাড়া করতেন না।

আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁকে ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে সুপ্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে পরকালে সুখময় স্থান দান করুন। আমীন।

অনুবাদক

মুহাম্মাদ রকীবুদ্দীন হুসাইন

বই পরিচিতিঃ

মূল আরবীঃ

মহামান্য শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহেমাহুল্লাহ) সাবেক,প্রধান ইসলামী গবেষণা,ইফ্তা, দাওয়াত ও এরশাদ বিভাগ, রিয়াদ

ভাষান্তরঃ

মুহাম্মদ রকীবুদ্দীন হুসাইন

সম্পাদনাঃ

আব্দন্নূর বিন আব্দুল জব্বার, জাকির হুসাইন অরাসাতুল্লাহ

সর্বশেষ আপডেট ( Tuesday, 10 November 2009 )